
এগিয়ে থেকেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে পিএসজির মাঠ থেকে হার নিয়েই ফিরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তাতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ যাওয়ার শঙ্কা জেগেছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের। এমন কঠিন সময়ে সিটি সমর্থকদের মিলেছে কিছুটা খুশির রশদ। ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে পেপ গার্দিওলার দলে যোগ দিয়েছেন মিশরীয় স্ট্রাইকার ওমর মারমুশ।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মারমুশকে দলে টানার খবর নিশ্চিত করেছে সিটি। সাড়ে চার বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তরুণ এই স্ট্রাইকার। ট্রান্সফার ফি অবশ্য জানায়নি সিটি। তবে এপি বলছে, প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো গুনতে হয়েছে সিটিকে।
আরও পড়ুন
| ব্রাজিল কিংবদন্তির গোলের রেকর্ড ভাঙতে চান ভিনিসিয়ুস |
|
গত মৌসুমে ফ্রাঙ্কফুটের হয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন মারমুশ। সেই ফর্ম টেনে ধরে রেখেছে চলতি মৌসুমেও। অর্ধেক মৌসুম শেষে জার্মান ক্লাবটার হয়ে ২৬ ম্যাচে ২০ গোলের পাশাপাশি করেছেন ১৪ অ্যাসিস্টও। তাতে হুলিয়ান আলভারেজের অভাব মেটাতে মারমুশকে বেছে নিয়েছে সিটি।
২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারও সিটিতে যোগ দিতে ভাসছেন রোমাঞ্চে।
“এই দিনটা আমি কখনো ভুলব না। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে খেলতে পারবো এই অনুভূতি প্রকাশ করার মত না। আমার পরিবার এই নিয়ে গর্বিত। আমরা দারুণ খুশি ম্যানচেস্টারে আসতে পেরে।”
মারমুশ ছাড়াও জানুয়ারির এই দলবদলে সিটি নতুন করে দলে যুক্ত করেছেন আরও দুই ফুটবলার। পালমেইরাস থেকে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে ব্রাজিলিয়ান তরুণ ডিফেন্ডার ভিতর রেইসকে। এছাড়া লেন্স থেকে তারা দলে টেনেছে উজবেকিস্তান ডিফেন্ডার আব্দুকাদির খুশানভকে।
No posts available.
২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫ এম
২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ এম
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

উড়তে থাকা প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) মাটিতে নামাল লিওঁ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ জেতার পর ঘরের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসে হারল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
রোববার রাতে ব্রাজিলের উদীয়মান তারকা এনড্রিকের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লিওঁ। এই হারের ফলে লিগ ওয়ান শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে কিছুটা হোঁচট খেল লুই এনরিকের দল।
ক্লান্তি ভর করেছে পিএসজিকে
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গত সপ্তাহে দুই লেগে লিভারপুলকে হারায় পিএসজি। সেই ক্লান্তি দূর করতে লুই এনরিকে মূল দলের বেশ কিছু তারকাকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দিয়েছিলেন। যার প্রভাব মাঠে ছিল স্পষ্ট। পিএসজির ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস প্রথমার্ধেই পেনাল্টি মিস করেন, অন্তীম মুহূর্তে খভিচা কভারাৎস্খেলিয়া একটি গোল করে কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছেন।
লুই এনরিকের দলের জন্য এটি এই মৌসুমে লিগ ওয়ানে পঞ্চম পরাজয়। বর্তমানে তারা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লঁসের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে আছে। যদিও তাদের হাতে একটি ম্যাচ বেশি আছে। আগামী সপ্তাহে নঁতের বিপক্ষে স্থগিত হওয়া ম্যাচটি জিতলে তারা চার পয়েন্ট এগিয়ে যাবে।
লুই এনরিকের কথা
‘আপনারা একটি জমজমাট লিগ চেয়েছিলেন, এখন সেটাই পাচ্ছেন। লঁস টানা জিতছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াইটা কঠিন হবে। এটাই ফুটবল, এখন আমাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতি তিন দিন অন্তর ম্যাচ খেলতে হবে এবং সেই চাপ সামলানোর ক্ষমতা রাখতে হবে।’
লিওঁর ফেরা
২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়ার পর দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অনুপস্থিত লিওঁ। এই জয়ের ফলে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় ফেরার দৌড়ে তারা বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল। পাওলো ফনসেকার দল এখন ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে লিলের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
এনড্রিকের চমক
রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা এই তরুণ তুর্কি ম্যাচের সপ্তম মিনিটে গোলকিপার মাতভে সাফোনভকে পরাস্ত করে দলকে লিড এনে দেন। জানুয়ারিতে যোগ দেওয়ার পর এটি লিওঁর হয়ে তাঁর সপ্তম গোল। ১৮ মিনিটে তাঁরই বাড়ানো বল থেকে আফনসো মোরিরা গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। কোচ পাওলো ফনসেকা এনড্রিকের প্রশংসা করে বলেন,
‘এনড্রিক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে, তবে রক্ষণে সে যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে তাতে আমি বেশি খুশি।’
দেম্বেলেও পারলেন না
বিরতির ঠিক আগে লুকাস হার্নান্দেজ ফাউলের শিকার হলে পিএসজি পেনাল্টি পায়, কিন্তু রামোসের শটটি সেভ করে দেন লিঁও গোলকিপার। ৫৯ মিনিটে ভিতিনিয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তাঁর বদলি হিসেবে নামা উসমানে দেম্বেলের একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়ে দারুণ গোল করেন কাভারাৎস্খেখেলিয়া। যদিও তা হারের গ্লানি মোচনের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

আর্সেনাল যেন মগডালের হাতি, যেকোনো মুহূর্তে ‘ধপাস’ হওয়ার শঙ্কায়। ২০২৫-২৬ প্রিমিয়ার লিগের রেস দেখে মনে হচ্ছিল গানারদের ধারেকাছে কেউ নেই। অথচ এখন মাত্র তিন পয়েন্টের ব্যবধানে মিকেল আরতেতার দলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ম্যানচেস্টার সিটি।
সোমবার ইতিহাদে আর্সেনালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপার লড়াই জমিয়ে দিয়েছে ম্যানসিটি। আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৭০, আর এক ম্যাচ কম খেলা সিটির পয়েন্ট ৬৭। জয়ের পর স্বস্তি ঝরছে পেপ গার্দিওলার কণ্ঠে। বিবিসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন,
‘আমাদের আশা এখনও টিকে আছে। তবে সত্য এটাই যে, আমাদের সূচি ছিল ভয়াবহ এবং আমরা টেবিলের শীর্ষে নেই। এখন পর্যন্ত ওরাই ইংল্যান্ডের সেরা দল, তবে আমরা লড়াইটা শেষ পর্যন্ত টেনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছি।’
সম্প্রতি কারাবাও কাপেও সিটির কাছে হেরেছিল গানাররা। সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষুধা আজ আর্সেনালের খেলায় দেখা যায়নি বললেই চলে। গার্দিওলা এ প্রসঙ্গে বলেন,
‘ওরা আগের হারের ক্ষুধা নিয়ে এখানে এসেছিল, কিন্তু জয়টা আমাদেরই হলো। ওরা কতটা লড়াকু তা আমরা জানি, তবে আমরাও কম নই।’
ইতিহাদে সিটির জয়ের নায়ক রায়ান চেরকি ও আর্লিং হলান্ড। ম্যাচের পুরোটা সময় পজিশন ও আক্রমণে এগিয়ে থাকা শিষ্যদের অভিনন্দন জানিয়ে গার্দিওলা যোগ করেন, ‘পয়েন্ট টেবিলই সব বলে দিচ্ছে। তবে ফোকাস হারানো চলবে না। বুধবার আমাদের হাতে থাকা ম্যাচটি জিততে পারলে আমরা ওদের সমকক্ষ হতে পারব। যদিও সামনে এভারটন, ব্রেন্টফোর্ড বা ভিলার মতো কঠিন প্রতিপক্ষ রয়েছে। সামনের পথটা আরও কঠিন হতে যাচ্ছে।’

স্টুটগার্টকে হারিয়ে ৩৫তম বারের মতো বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতল বায়ার্ন মিউনিখ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকা বাভারিয়ানদের শিরোপা নিশ্চিত করতে আজ প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট। তবে ড্র নয়, সরাসরি জয়েই উৎসবে মাতল ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে হারের মুখ দেখা বায়ার্নের কাজটা অবশ্য সহজ হয়ে গিয়েছিল আগেই। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ড শনিবার রাতে হফেনহেইমের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হওয়ায় বাভারিয়ানদের শিরোপার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। আজ স্টুটগার্টের বিপক্ষে জয় সেই পথে সোনায় সোহাগা হিসেবে ধরা দিল।
সোমবার অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা স্টুটগার্ট ম্যাচের ২১তম মিনিটে ক্রিস ফুহরিচের গোলে লিড আদায় করে। এরপরই মূলত দুঃস্বপ্ন নেমে আসে দলটির ওপর। একের পর এক আক্রমণে স্টুটগার্ট সমর্থকদের চুপ করিয়ে দেন জ্যাকসন-কেইনরা।
স্বাগতিকদের প্রথম গোলের ১০ মিনিট পর সমতায় ফিরে বাভারিয়ানরা। রাফায়েল গেরেইরো দলকে উৎসব এনে দেন, ফেরান ম্যাচে। এর ঠিক দুই মিনিট পর হ্যারি কেনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া চেলসি থেকে ধারে আসা ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন বায়ের্নকে এগিয়ে দেন।
বিরতির ৯ মিনিট আগে ব্যবধান ৩-১ করেন আলফোনসো ডেভিস। লুইস দিয়াসের পাস থেকে বক্সের ভেতর দারুণ বুদ্ধিমত্তায় আলেকজান্ডার নুবেলকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জামাল মুসিয়ালার পরিবর্তে মাঠে নামেন কেইন। মাঠে নামার মাত্র সাত মিনিটের মাথায় আসরে নিজের ৩২তম গোলটি করে দলের চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
এই জয়ের মাধ্যমে গত ১৪ মৌসুমের মধ্যে ১৩তম বুন্দেসলিগা শিরোপা নিশ্চিত করল বায়ের্ন। সেই সাথে তাদের ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্নও টিকে রইল। চলতি মাসের শেষের দিকে ডিএফবি-পোকাল সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেন এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মুখোমুখি হবে তারা।

প্রিমিয়ার লিগে আবার কিসের ফাইনাল? ২০ দলের ৩৮টি করে ম্যাচ। যে দল টেবিলের শীর্ষে থাকবে, তাদের শোকেসে উঠবে ট্রফি। তবে এমন কিছু ম্যাচ এবং তথা বাঁক থাকে, যা ফাইনালতুল্য । ২০২৫-২৬ মৌসুমে আর্সেনাল-ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচটি অনেকটা তেমনই। ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচটি ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়ে রাঙিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। তাতে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে সিটিজেনদের পয়েন্ট ব্যবধানে কমে দাঁড়াল কেবল তিন।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার হাই ভোল্টেজ ম্যাচের আগে ২২ কঠিন এক সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যানসিটি। হারের কোনো অপশনই ছিল, না জিতলে আর্সেনাল থেকে পয়েন্ট ব্যবধানে দুরত্ব আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হতো। এমন এক নির্দয় লক্ষ্যের ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছেন রায়ান চেরকি ও আর্লিং হলান্ডরা।
প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৭০। ৩৩ ম্যাচ অর্থাৎ একটি কম খেলা সিটিজেনদের ৬৭। তিনে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৫৮ পয়েন্ট। রাতের অন্য ম্যাচে এভারটনের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের গোলে লিভারপুল পোক্ত করেছে পঞ্চম স্থান। কাজের কাজ করেছে অ্যাস্টন ভিলা। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় এক জয়ে ম্যান ইউনাইটেডের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ভিলা পার্কের ক্লাব।
ইতিহাদে ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন রায়ান চেরকি। মিডফিল্ড থেকে ম্যাথিয়াস নুনেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে জাদুকরে পরিণত হন ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তার সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রতিপক্ষের তিন-তিনজন ডিফেন্ডার। চোখের পলকে শরীরের নিখুঁত মোচড়ে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গোলের উদ্দেশ্যে ছুটে যান তিনি।
বক্সের ভেতরে ঢুকেই নিলেন এক মাপা শট—বলটি নিখুঁত নিশানায় আছড়ে পড়ে গোলপোস্টের নিচের বাঁ- কোণে। গোলরক্ষক ডেভিড রায়া ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পাননি বল। আসলে কিছুই করার ছিল না তার। এই অবিশ্বাস্য গোলের সৌজন্যে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে ১-০ গোলে পেছনে ফেলে লিড নেয় ম্যানসিটি!
সুখ বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সিটি শিবিরে। লিড নেওয়ার মিনিটে দুয়েক পর সব আলো কেড়ে নেন কাই হার্ভাটজ। সিটির গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুমা বল নিয়ে নিজের সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের ভেতর একটু বেশিই সময় অপচয় করে ফেললেন। আর সেই সুযোগটি নিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি হার্ভাটজ।
চিতার গতিতে স্প্রিন্ট টেনে হার্ভাটজ যখন দোনারুমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, তখন ইতালিয়ান গোলকিপারের আর কিছুই করার ছিল না। হার্ভাটজের দুর্দান্ত স্লাইডিং ব্লকে বলটি সরাসরি আছড়ে পড়ে সিটির ফাঁকা জালে! চোখের পলকে ১-১ সমতায় ফিরে গানাররা।
৪৮তম মিনিটে সাড়াষি আক্রমণের শিকার হয় আর্সেনাল। রায়া যেন নিজের পরিচয়টাই প্রদর্শন করলেন একের পর এক শট ঠেকিয়ে। শেষ পর্যন্ত বারের একদমই সামনে থেকে আর্লিং হালান্ডের শটটি ছিল প্রায় নিশ্চিত গোলের। তবে রায়া ছিলেন যেন লড়াকু এক যোদ্ধা।
রায়ার পর বীরত্ব দেখালেন ম্যানচেস্টার গোলকিপার। শাপমোচনও হলো তার! মিডফিল্ডে এজে এবং ওডেগার্ডের দারুণ মেলবন্ধনে বল পান হার্ভাটজ। একদম কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন এই আর্সেনাল ফরোয়ার্ড—যা হতে পারত প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী গোল। কিন্তু চিতার মতো ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে গোললাইন থেকে বল রুখে দেন দোনারুমা!
কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পোস্টে লেগে ফিরে আসে বল। অল্পের জন্য গোল পেল না আর্সেনাল! বক্সের ঠিক বাইরে ওডেগার্ডের পাস থেকে বল পান এজে। নিখুঁত দুটি টাচে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে পোস্টের নিচের বাঁ কোণ লক্ষ্য করে বুলেট গতির এক নিচু শট নেন তিনি। দুর্ভাগ্য গানারদের। বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ইতিহাদে হঠাৎ করেই যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে আর্সেনাল। আক্রমণের পর আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে সিটি ডিফেন্স।
মিনিট দুয়েক পর হলান্ড লিড উপহার দেন ম্যানসিটিকে। দোনারুমার হাত দিয়ে ছুঁড়ে মারা বল নিয়ে ছুটে যান বার্নাদো। তিনি পাস দেন এজেকে। সুযোগ বুঝে এজে বল পাঠান নরওয়েজিনা স্ট্রাইকারের কাছে। এক মুর্হূত দেরি না করে জাল কাঁপান হালান্ড। লিগে এটি তার ২৩তম গোল। শেষ পর্যন্ত এই স্কোর লাইনে শেষ হয় খেলা।
ম্যাচে ৫৯ শতাংশের মতো বল নিজেদের দখলে রেখেছ সিটি। ১৫টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রেখেছে তারা। বিপরীতে ৯টি শটের মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে রাখে আর্সেনাল। সিটি বড় সুযোগ তৈরি করে ৫টি। সমপরিমান সুযোগ তৈরি করে গানাররা। বড় ৪টি সুযোগ মিস করে সফরকারীরা, তিনটি স্বাগতিকরা।

কানাডায় ফুটবলের পরীক্ষামূলক নতুন ‘ডে-লাইট’ অফসাইড নিয়মের অধীনে প্রথম গোলটি করা হয়েছে। শনিবার হ্যালিফ্যাক্স ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে প্যাসিফিক এফসির ফরোয়ার্ড আলেজান্দ্রো দিয়াস ঐতিহাসিক গোলটি করেন।
আইএফএবির প্রচলিত নিয়মে এই গোলটি অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়ে যেত। তবে ফিফার সহযোগিতায় কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) চলমান বিশেষ ট্রায়ালের কারণে গোলটি বৈধ বলে গণ্য হয়।
‘ডে-লাইট’ অফসাইড আসলে কী: ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন আক্রমণকারীকে তখনই অফসাইড ধরা হবে যখন তার এবং প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্ডারের (গোলরক্ষক বাদে) শরীরের মধ্যে একটি স্পষ্ট ফাঁকা বা ব্যবধান থাকবে। বর্তমান নিয়মে শরীরের সামান্য অংশ এগিয়ে থাকলেও যেখানে অফসাইড হয়, নতুন নিয়মে সেখানে আক্রমণকারীর পুরো শরীর ডিফেন্ডারকে ছাড়িয়ে গেলে তবেই তা অফসাইড হবে।
কেন এই পরীক্ষা: আর্সেনালের সাবেক কোচ এবং বর্তমানে ফিফার ফুটবল উন্নয়ন প্রধান আর্সেন ভেঙ্গার দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মের পক্ষে কথা বলে আসছেন। অফসাইড নিয়ে সূক্ষ্ম বিতর্ক কমাতে এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগই প্রথম শীর্ষ স্তরের লিগ হিসেবে এই নিয়মটি পরখ করে দেখছে। এর আগে ২০২৩ সালে ইতালির অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং নেদারল্যান্ডসের যুব লিগেও এর ছোট পরিসরে ট্রায়াল হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ: তবে সমালোচকদের মতে, এই নিয়ম আক্রমণকারী দলকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সুবিধা দেবে। যা রক্ষণভাগের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এই বছরের শেষ নাগাদ আইএফএবির কাছে এই ট্রায়ালের ফলাফল উপস্থাপন করা হবে। যদি এই পরীক্ষা সফল হয়, তবে ২০২৭-২৮ ইউরোপীয় মৌসুম থেকে সারা বিশ্বে ফুটবলের এই অফসাইড আইন চিরতরে বদলে যেতে পারে।