
সান্তোস নামটি শুনলে ফুটবলপ্রেমীদের মনে সবার আগে ভেসে ওঠে একটি নাম - পেলে। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের কল্যাণে বিশ্ব মানচিত্রে পরিচিতি পাওয়া ব্রাজিলের এই ক্লাবটিতে তার পরবর্তী সময়ের সেরা প্রতিভাবানদের একজন নেইমার। পেশাদার ক্যারিয়ার এখানে শুরু করার পর ছেড়েছেন ঠিকানা। তবে এক বছর বাদে দেশটির শীর্ষ লিগে ফিরে সাবেক বার্সেলোনা তারকাকে ক্লাবে টানার জন্য বেশ আশাবাদী হয়ে উঠছে সান্তোস।
২০২৩ সালে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ থেকে রেলিগেটেড হয় সান্তোস। তবে গত সোমবার রাতে সেরি বি-এর ম্যাচে করিতিবাতেকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলের সেরি আ-তে তার স্থান নিশ্চিত করেছে আবার।
আরও পড়ুন
| নেইমারের চুক্তি বাতিলের ‘চিন্তা করছে’ আল হিলাল! |
|
২০১১ সালে নেইমারের হাত ধরেই সান্তোস তাদের প্রথম কোপা লিবার্তাদোরেস শিরোপা জিতেছিল। ২০১৩ সালে যোগ দেন বার্সেলোনায়। এরপর সেখান থেকে পিএসজি ঘুরে এখন আছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে, যেখানে তার চুক্তি শেষ আগামী বছরের জুনে।
গত মঙ্গলবার সান্তোসের সভাপতি মার্সেলো তেক্সেইরা বলেছেন, তিনি নেইমারকে ফেরানোর আশা ছাড়ছেন না-
“আমরা নিজেদের লক্ষ্যের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট আছি। তার (নেইমারের) বাবা এবং তার কর্মীরাও এটা জানেন। তারা আমাকে চেনেন, তারা সান্তোসকেও ভালোভাবে জানেম। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, কারণ (আল হিলালে) তার একটি চুক্তি আছে।"
তেক্সেইরা আরও বলেছেন, আগামী রোববার সান্তোস ও সিআরবির ম্যাচে নেইমারকে তাদের স্টেডিয়ামে স্বাগত জানানো হবে। এই ম্যাচে জয় পেলে তা সান্তোসের সেরি বি শিরোপা নিশ্চিত করবে।
আরও পড়ুন
| মাঠে ফিরে আনন্দের সীমা নেই নেইমারের, ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরবেন কবে? |
|
গত বছরের অক্টোবরে এসিএল চোটের শিকার হন নেইমার। সেরে উঠে মাঠে ফেরেন গত মাসে। তবে মাত্র দুটি ম্যাচ বদলি হিসেবে খেলার পর আবার পেশীতে চোট পেয়েছেন। ডিসেম্বরের আগে তার আর মাঠে ফেরার সম্ভাবনা নেই।
দুই বছরের চুক্তির একটা বড় সময় নেইমার চোটের কারণে খেলতে না পারায় আল হিলালের মালিকপক্ষ তাকে আগেই ছেড়ে দিতে চান বলে খবর। গুঞ্জন রয়েছে, আগামী জানুয়ারিতে দুই পক্ষের সম্মতিতে বাতিল হতে পারে ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের চুক্তি।
আরও পড়ুন
| ১ বছর পর প্রস্তুত নেইমারের ফেরার মঞ্চ |
|
আর এই কারণেই উঠে আসছে সান্তোসের নাম। কারণ, এসিএল চোট থেকে সেরে ওঠার পর নেইমার বারবার সান্তোসের ম্যাচ দেখার এবং দলের খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলার ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যে। সব দিক মিলিয়ে তাই বাস্তবিকভাবেই তার আগামী বছর সান্তোসে ফেরার সম্ভাবনা জোড়াল বলেই ধরা হচ্ছে।
No posts available.
৩ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১৯ পিএম
৩ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪১ পিএম
৩ এপ্রিল ২০২৬, ২:২৩ পিএম

ইতালির ফুটবলে টালমাটাল অবস্থা। মঙ্গলবার প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠতে ব্যর্থ আজ্জুরিরা। এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল পদত্যাগ করেছেন ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা।
গ্রাভিনার পর আজকে পদত্যাগ করেছেন ফুটবল প্রতিনিধি দলের প্রধান ও কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফন। তাঁর পদত্যাগের পর ইতালির কোচের পদ থেকে জেনেরো গাত্তুসোর প্রস্থান এখন সময়ের ব্যাপার বলে জানিয়েছে স্কাই স্পোর্ট ইতালি ও যুক্তরাজ্যের টকস্পোর্টস।
গাত্তুসোর সঙ্গে ইতালির চুক্তি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে ইতালি যদি বিশ্বকাপের টিকিট পেত, সেটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হত। গাত্তুসোর পর ইতালির পরবর্তী সম্ভাব্য কোচের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে স্কাই স্পোর্ট ইতালি ও টকস্পোর্টস। যেখানে নাম এসেছে আন্তোনিও কন্তে, ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি এবং রবার্তো মানচিনির।
আরও পড়ুন
| রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে মন্তব্য, চেলসির স্কোয়াডে জায়গা হারালেন এনজো |
|
সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে মানচিনিকে। আল সাদ্দ-এর বর্তমান এই কোচ এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ইতালির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মানচিনির অধীনে ২০২০ ইউরো ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। তবে তাঁর অধীনে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় ইতালি। সৌদি আরবের দায়িত্ব পালন করার পর মানচিনি গত নভেম্বরে কাতারি ক্লাব আল সাদ্দ-এর সঙ্গে আড়াই বছরের চুক্তি করেন।
আলোচনায় থাকা কন্তেও এর আগে জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। ২০১৪ সালে ইতালির সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে ইউরো ২০১৬ কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। বর্তমান সিরি আ চ্যাম্পিয়ন নাপোলির সঙ্গে কন্তের চুক্তি চলতি বছর জুন পর্যন্ত।
আরও পড়ুন
| ফ্রান্স থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এমবাপে |
|
অ্যালেগ্রি বর্তমানে এসি মিলানের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। গত গ্রীষ্মে দুই বছরের চুক্তিতে মিলানে যোগ দেন তিনি।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইতালির আর কোনো ম্যাচ নেই। আগামী মৌসুমের প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশনস লিগে তারা বেলজিয়াম, তুরস্ক এবং ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।
বিশ্বকাপের মূল আসরে না থাকলেও, জুনের শুরুতে মাসে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেওয়া অন্য দলগুলোর বিপক্ষে ইতালি কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।

সময়টা এমনিতেই ভালো যাচ্ছে না চেলসির। সবশেষ চার ম্যাচেই হেরেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি। এরমধ্যে ‘ব্লুজদের’ সহ-অধিনায়কের এক মন্তব্য একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি ক্লাবটি। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের বিরুদ্ধে কঠিন এক সিদ্ধান্তই নিল চেলসি। ক্লাবটির পরের দুই ম্যাচের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এনজোকে। এমনটাই জানিয়েছেন চেলসির কোচ লিয়াম রোসেনিওর।
ঘটনার সূত্রপাত আন্তর্জাতিক বিরতিতে। বেশ কদিন এনজো ফার্নান্দেজের চেলসি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার গুঞ্জনে সরব হয়ে ওঠে ইউরোপিয় ফুটবল। গুঞ্জন আছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটিও এই মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী। এরমধ্যে চেলসিতেও সময়টা ভালো যাচ্ছে না তাঁর।
সবকিছু মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতির সময় রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের সম্ভাবনা আর চেলসির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নে মুখোমুখি হয়েছিলেন এনজো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মাদ্রিদকে সত্যিই পছন্দ করি, এটি বুয়েন্স আইরেসের মতো’। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে অন্য দেশে বসবাস করা সম্ভব কি না। মাদ্রিদকে ‘ঘর’ হিসেবে ভাবার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে ২৫ বছর বয়সী এই তারকা উত্তর দিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’
আরও পড়ুন
| ফ্রান্স থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এমবাপে |
|
চেলসির বাজে সময়ের মধ্যে এমন মন্তব্য করে মূলত কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটাই যেন দিয়েছেন এনজো। কদিন আগেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় চেলসি। পরের ম্যাচেই লিগে এভার্টনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় তারা। এরমধ্যেই টকস্পোর্টকে এনজো জানান, মৌসুম শেষে মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ আছে তাঁর, তবে তিনি সরাসরি চেলসিকে জানাননি যে তিনি ক্লাব ছাড়তে চান।
দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের এমন মন্তব্যে বেশ চটেছে চেলসি। ক্লাবটির কোচ রোসেনিওর জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে ১ কোটি ৬ লাখ পাউন্ড খরচ করে দলে ভেড়ানো মিডফিল্ডারকে আনুষ্ঠানিকভাবে শাস্তি দিয়েছে ক্লাব। এনজো আগামীকাল এফএ কাপে পোর্ট ভেলের বিপক্ষে ম্যাচ এবং প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে স্কোয়াডের বাইরে থাকবেন।
এফ এ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে রোসেনিওর বলেন,
‘আমি এক ঘণ্টা আগে এনজোর সঙ্গে কথা বলেছি। ক্লাবের অংশ হিসেবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—সে আগামীকাল এবং পরের রোববারের ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচে খেলবেন না।’
চেলসি কোচ আরও বলেন,
‘এনজোর জন্য এটা হতাশাজনক যে এমন মন্তব্য করেছে সে। তাঁর চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তবে আমাদের ক্লাবের সংস্কৃতি ও কাঠামোর সীমা পার করা হয়েছে। তাই আমরা শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের একদিন আগে মাঠে নামবে পর্তুগাল |
|
চেলসিতে সহ-অধিনায়ক এনজোর ভবিষ্যত সম্পর্কে রোসেনিওর বলেন,
‘আমি তাঁর পক্ষ হয়ে কথা বলতে পারব না। যা আমি জানি তা হলো, সে মাঠে থাকাকালীন এভার্টনের বিপক্ষে আমরা হেরে গিয়েছিলাম এবং পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল—তার মধ্যে কোনো কমিটমেন্টের অভাব ছিল না, তার মধ্যে ক্লাবের হয়ে ভালো করার ইচ্ছার কোনো অভাব ছিল না। তার ভবিষ্যৎ বা সে কী চায়, তা আমার পক্ষে বলা ঠিক নয়। আমি চাই আগামীকালের বড় ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে, যে ম্যাচ আমরা জিতলে এফ এ কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারব। পাশাপাশি আমাদের দৃষ্টি এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা ধরে রাখা, যে সম্ভাবনা এখনও ভালোভাবেই টিকে আছে।’
প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চেলসি। লিগে ৩১ ম্যাচে ১৩ জয় ৯ ড্র ও ৯ হারে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে আছে ক্লাবটি। লিগ জয়ের আশা অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ক্লাবটির লক্ষ্য এখন শীর্ষ চারে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা নিশ্চিত করা।

শুধু ফ্রান্স নয়, অনেকের মতে ফুটবলবিশ্বে বর্তমানে সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপে। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। আরেকটি বিশ্বকাপে খেলেছেন ফাইনাল। জাতীয় দল কিংবা ক্লাব ফুটবল—সমানতালেই নিয়মিত সাফল্য পাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। যেকোনো দলের জন্য এমন একজন খেলোয়াড় পাওয়া তো সোনার হরিণ থেকেও বেশি কিছু। তবে হীরের টুকরো এমবাপেকেই হারাতে বসেছিল ফ্রান্স। বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়ে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় বলতে চেয়েছিলেন তিনি।
ইউরোপে বর্ণবাদ নতুন কিছু নয়। বর্ণবাদী আক্রমণের থাবায় জর্জরিত হতে হয় ফুটবলকেও। প্রায়ই উগ্রবাদী সমর্থকদের কারণে অনাঙ্খিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় ফুটবলারদের। অনেক সময় বিশ্বের সেরা তারকা ফুটবলারও বর্ণবাদী আচারণের লক্ষ্য হওয়া থেকে বাঁচতে পারেন না। শক্ত মনোবলের অধিকারী অনেক খেলোয়াড় এমন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই কর টিকে থাকলেও , অনেকেই ভেঙে পড়েন।
সমর্থকদের তীব্র বণর্বাদী আক্রমণ সহ্য করতে না পেরে কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিতে বসেছিলেন এমবাপে। ফ্রান্স জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। তবে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতির নোয়েল লে গ্রায়েতের হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এমবাপে।
ঘটনা মূলত ২০২০ ইউরোর পর। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতার শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করেন এমবাপে। এরপরই তীব্র ফ্রান্সের সমর্থকদের সমালোচনা ও বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন তিনি। রিয়ালের ফুটবলারের কাছে এটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অন্ধকার সময়গুলোর একটি। এমবাপের ভাষায় ওই সময়টায় তিনি যেন ‘জীবন্ত লাশ’ হয়ে ছিলেন।
‘দ্য ব্রিজ’ পডকাস্টে নিজের ক্যারিয়ারের সেই কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে এমবাপে বলেন,
‘আমাকে “বানর” বলে ডাকা শুরু হয়েছিল… আমার কাছে জাতীয় দলই ছিল সবকিছু। কিন্তু এখানে এমন কিছু মানুষ আছে, যারা তুমি গোল না করলে তোমাকে একেবারে ওপর থেকে নিচে ফেলে দেবে। এতে জাতীয় দলের সঙ্গে আমার সম্পর্কটাই বদলে যায়।’
এমবাপে যোগ করেন,
‘এক জায়গায় সব আশা বেঁধে রাখা উচিত নয়; কারণ সেটাই পরে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে। সময়টা ছিল ভয়াবহ কঠিন। ছুটিতে গিয়ে নিজেকে হাঁটতে থাকা মৃত মানুষ মনে হচ্ছিল। অনেক উঁচু থেকে ধপ করে পড়ে গিয়েছিলাম। অথচ অল্প সময়েই জাতীয় দলে নায়ক হয়ে উঠেছিলাম।’
ফ্রান্সের ২০১৮ বিশ্বকাপের নায়ক ইউরোর পর বর্ণবাদী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হলেন—এই নির্মম রূপ পরিবর্তন ২২ বছর বয়সী এমবাপেকে ঠেলে দেয় জাতীয় দল ছাড়ার দ্বারপ্রান্তে। তৎকালীন ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নোয়েল লে গ্রা’র সঙ্গে এক উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠকের কথা স্মরণ করে এমবাপে বলেন,
‘আমি লে গ্রার সঙ্গে দেখা করে বলেছিলাম, আমি আর খেলব না। মনে হচ্ছিল—আমি যাদের জন্য খেলছি, তারা যদি আমি গোল না করি, আমাকে ‘বানর’ ভাববে। আমি ভেবেছিলাম, “এমন মানুষের জন্য আমি খেলতে পারি না।” আমি বলেছিলাম, “আমি প্যারিসে ফিরে যাচ্ছি, সেখানে আমার কোনো সমস্যা নেই।”
ফ্রান্স জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেও এমবাপেকে তো আর সহজে ছাড়ার কথা নয় ফ্রান্সের। ফরাসি ফরোয়ার্ডকে সহজে ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন না লে গ্রা। এমবাপের ভাষায়,
‘তিনি আমাকে বলেছিলেন, “তুমি কি ভাবছো এভাবে অফিস থেকে বেরিয়ে চলে যাবে? এটা ভুলে যাও।” এই দৃঢ় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত এমবাপেকে নিজের সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
অন্ধকার সময়টা পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন এমবাপে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আবারও দলকে ফাইনালে তোলার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তাঁর। ফাইনালে তো একাই ফ্রান্সকে জিতিয়ে দিচ্ছিলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওই হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্স।
জাতীয় দলে এমবাপের গুরুত্ব কতটা সেটা সবারই জানা। বর্তমানে ফ্রান্সের অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও উঠেছে তাঁর হাতে। আর গোলের হিসেবে তিনি এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার অপেক্ষায়। ৯৬ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৫৬। ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করা ওলিভার জিরুদের সমান গোল করতে তাঁর প্রয়োজন মাত্র এক গোল।

আগামী ১১ জুন শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তার ঠিক একদিন আগে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। আজ পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এই ম্যাচের কথা নিশ্চিত করেছে।
ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যুর নাম ঘোষণা না করলেও পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ম্যাচটি পর্তুগালের লেইরিয়াতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ৬ জুন ওইরাসের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে চিলির বিপক্ষে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা।
বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত মিশ্র। গত রোববার আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল রবার্তো মার্তিনেজের দল। এরপর বুধবার ভোরে আটলান্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগিজরা।
চোটের কারণে দুই ম্যাচেই অনুপস্থিত ছিলেন পর্তুগালের নিয়মিত অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’ তে রয়েছে পর্তুগাল। ১৭ জুন হিউস্টনে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে রোনালদোরা।
এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল। ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মায়ামিতে কলম্বিয়াকে মোকাবিলা করতে হবে মার্তিনেজ শিষ্যদের।

ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে শুক্রবার ভোরে রেমোকে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে সান্তোস। এই জয়ের রাতে ভালো অভিজ্ঞতা হয়নি দলটির প্রাণভ্রমরা নেইমার জুনিয়রের। মৌসুমের তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখায় পরের ম্যাচে নামতে পারবেন না তারকা এই ফরোয়ার্ড।
২-০ ব্যবধানে পাওয়া জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নেইমার। তার অ্যাসিস্ট থেকেই ম্যাচের ৪০ মিনিটে থাসিয়ানোর গোলে এগিয়ে যায় সান্তোস। ৮২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের পেছনেও ছিল নেইমারের অবদান।
৮৬ মিনিটে মাঝমাঠে ডিয়েগো হার্নান্দেজের ফাউলের শিকার হন নেইমার। উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে এগিয়ে গেলে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান।
লিগের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় তিনটি হলুদ কার্ড পেলে পরবর্তী ম্যাচে এক ম্যাচের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হন। ফলে পরের ম্যাচে নেইমারকে পাচ্ছে না সান্তোস।
ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নেইমার বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমাকে বারবার ফাউল করা হচ্ছিল, এটি ছিল চতুর্থ বা পঞ্চম ফাউল। আমি শুধু প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম আর আমাকেই হলুদ কার্ড দেওয়া হলো।’
রেফারি সাভিও সাম্পাইও কে নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন ব্রাজিলের পোস্টার বয়, ‘সাভিও এমনই। সে সব সময় ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু হতে চায়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার চরম সম্মানবোধের অভাব রয়েছে। সে কারো সাথে কথা বলতে চায় না, কোনো যোগাযোগ করতে চায় না। সে মনে করে সেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক এবং খেলাটিকে নিজের মতো করে চালাতে চায়।’
৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে সান্তোস। আগামী রোববার ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ক্লাবটিকে।