
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) এখন পর্যন্ত ট্রাভিস হেড দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে তারচেয়েও অনেক বড় হয়ে উঠেছে এই ৩০ বছর বয়সীর ব্যাটিং স্ট্রাইকরেট। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের এই ওপেনার প্রায় প্রতি ম্যাচে রীতিমতো ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালাচ্ছেন। বোলারদের জন্য যেন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
আরও পড়ুন: নতুন রেকর্ড গড়ে ২০ ওভারে ৩০০ রানের দিকে চোখ হেডের
হায়দ্রাবাদ ওপেনার ছয় ম্যাচ খেলে করেছেন ৩২৪ রান। ব্যাটিং করছেন ২১৬ স্ট্রাইকরেটে। গতকাল দিল্লি ক্যাপিটালসের সাথে মাত্র ৩২ বলে করেন ৮৯ রান। তার আগের ম্যাচে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৪১ বলে ১০২ রান। প্রায় প্রতি ম্যাচেই গড়ছেন একের পর এক রেকর্ড।
কীভাবে ব্যাট হাতে এমন হিংস্র হয়ে উঠলেন হেড সে কথাই জানিয়েছেন দিল্লির বিপক্ষে ম্যাচের পর। শান্ত থেকে ব্যাটিং করেই এমন সাফল্য পাচ্ছেন বলে মনে করেন এই ব্যাটার।

“এটা দারুণ, আমরা ভালো সময় কাটাচ্ছি। শান্ত থেকে বল মারার চেষ্টা করেছি। বিষয়গুলো সহজভাবে দেখা, বলের মেধা অনুযায়ী খেলাটাই জরুরি। ছন্দ ধরে রাখতে পেরে সন্তুষ্ট।”
এই ব্যাটার দারুণ ছন্দে আছেন তার দেশ অস্ট্রেলিয়ার হয়েও। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতানোর নায়কও ছিলেন এই ব্যাটার। ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন হেড। এমনকি এর আগে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও করেছিলেন দারুণ সেঞ্চুরি।
No posts available.
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়ে শুরুর। এরপর আরও ১০ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের কাঁপিয়ে ও নাচিয়ে ছাড়লেন শরিফুল ইসলাম। চমৎকার বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিই হলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। একইসঙ্গে তার হাতেই উঠল টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার।
তবু সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তরুণ বাঁহাতি পেসার। কারণ, ফাইনাল ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি শরিফুল, শেখ মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ নাঈম শেখরা। তাই ব্যক্তিগত সাফল্যে খুশি হলেও, দল হারায় সবার কাছে ক্ষমা চান শরিফুল।
চট্টগ্রামের জার্সিতে সব মিলিয়ে এবারের বিপিএলে ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন মাত্র ৫.৮৪ রান, বোলিং গড় মাত্র ১০.০৭! নোয়াখালীর বিপক্ষে ৯ রানে ৫ উইকেট তার সেরা বোলিং।
বিপিএলের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড এটি। গত আসরে ২৫ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ডটি ছিল তাসকিন আহমেদের। এবার সেটি ভেঙে দিয়েছেন শরিফুল। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে ৫ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার পান বাঁহাতি পেসার।
এমন পারফরম্যান্সের পর শরিফুলের হাতেই ওঠে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। বিপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম বিশেষজ্ঞ কোনো বোলার পেলেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। সুদৃশ্য ট্রফির পাশাপাশি ১০ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কারও জেতেন তিনি।
পুরস্কার গ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপের কথা বলেন শরিফুল।
“সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ও টুর্নামেন্টসেরা হয়ে খুব ভালো লাগছে। তবে আমরা যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম, তাহলে আরও বেশি ভালো লাগত।”
একইসঙ্গে ভক্ত-সমর্থকদের কাছেও ক্ষমা চেয়ে নেন বাঁহাতি পেসার।
“সরি চট্টগ্রামবাসী, আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। আপনারা আমাদের সাপোর্ট করবেন। আমাদের কোচিং স্টাফ, নাফীস ভাই, সুমন স্যার, বাবুল স্যার- সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা পুরো দল হিসেবে খেলেছি। সবাইকে ধন্যবাদ।
বিপিএলের টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন যারা
১. সাকিব আল হাসান (খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস, ২৮০ রান ও ১৫ উইকেট)
২. সাকিব আল হাসান (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ৩২৯ রান ও ১৫ উইকেট)
৩. আসহার জাইদি (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, ২১৫ রান ও ১৭ উইকেট)
৪. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (খুলনা টাইটান্স, ৩৯৬ রান ও ১০ উইকেট)
৫. ক্রিস গেইল (রংপুর রাইডার্স, ৪৮৫ রান)
৬. সাকিব আল হাসান (ঢাকা ডায়নামাইটস, ৩০১ রান ও ২৩ উইকেট)
৭. আন্দ্রে রাসেল (রাজশাহী রয়্যালস, ২২৫ রান ও ১৪ উইকেট)
৮. সাকিব আল হাসান (ফরচুন বরিশাল,২৮৪ রান ও ১৬ উইকেট)
৯. নাজমুল হোসেন শান্ত (সিলেট স্ট্রাইকার্স, ৫১৬ রান)
১০. তামিম ইকবাল (ফরচুন বরিশাল, ৪৯২ রান)
১১. মেহেদী হাসান মিরাজ (খুলনা টাইগার্স, ৩৫৫ রান ও ১৩ উইকেট)
১২. শরিফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস, ২৬ উইকেট)

চিটাগং রয়্যালসের ইনিংসের ১৮তম ওভারে আবদুল গাফফার সাকলাইনের পঞ্চম বলে মুকিদুল মিডউইকেট বাউন্ডারিতে এস এম মেহরবের হাতে ক্যাচ দিতেই মাঠে উল্লাস। বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রথমবার শিরোপা জয়ের উল্লাস।
সাকলাইনের এটাই প্রথম বিপিএল। প্রথম বিপিএলেই চ্যাম্পিয়ন তার দল। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের শিরোপা উৎসবের দিনে ম্যাচে ৩.৫ ওভারে ২৪ রান খরচায় এক উইকেট নিয়েছেন সাকলাইন। দ্বাদশ আসরে নয় ম্যাচে তার উইকেট ৯টি। ব্যাট হাতেও অবদান রাখার চেষ্টা ছিল তাঁর, করেছেন ৫৪ রান।
চট্টগ্রামের উইকেট তুলে সাকলাইন ইতিহাসের সাক্ষী হলেন। আর এমন ইতিহাসময় দিনে স্মৃতিচারণও করলেন তিনি। ম্যাচ শেষে জানান, তাঁর বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলের খেলা টিভিতে দেখবেন। বাবার জীবদ্দশায় সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
সাকলাইন বলেন,
‘সর্বপ্রথম আল্লাহপাকের কাছে শুকরিয়া যে আল্লাহপাক এত সুন্দর একটা সুযোগ দিয়েছেন। আর বোলিংয়ে আমি সবসময় চেষ্টা করি নিজের স্ট্রেংথে থাকার। পুরো টুর্নামেন্ট কন্টিনিউ করে গেছি। আর আল্লাহপাকের রহমতে সাকসেসফুল।’
এ সময় প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে তিনি বলেন,
‘আসলে উনার একটা ইচ্ছা ছিল যে আমি টিভিতে খেলবো, উনি দেখবেন। তো উনি নাই এখন, উনার দোয়া আমার সঙ্গে আছে। আল্লাহপাক উনাকে জান্নাতবাসী করুক। আপনারা সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন। আর তিনি অনেক দোয়া করতেন, তাই আল্লাহ এত সুন্দর একটা রেজাল্ট দিয়েছেন। তো কী বলব, আলহামদুলিল্লাহ—আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আল্লাহপাক উনার জন্য তাওফিক করুক।’

বিপিএল আসে, যায়—কিন্তু রেখে যায় স্মৃতি, সম্ভাবনা আর ভবিষ্যতের ইশারা। বাংলাদেশের অনেক তরুণ ক্রিকেটারের জন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি সম্ভাবনার মঞ্চ, ক্যারিয়ার বদলে দেওয়ার সুযোগ। বয়সভিত্তিক দল বা ঘরোয়া ক্রিকেটে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণরা এই আসরকেই সিঁড়ি হিসেবে পান। একই সঙ্গে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পাইপলাইন গড়ার সুযোগ পান নির্বাচকরাও।
ছয় দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ বিপিএলে উঠে এসেছে একাধিক তরুণ নাম। কেউ কেউ নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, আবার কেউ প্রত্যাশার ভার বইতে না পেরে হতাশ করেছেন। এমনও আছেন, যারা দলে থেকেও খুব বেশি সুযোগ পাননি মাঠে নামার।
দ্বাদশ আসরে তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম রিপন মণ্ডল। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলা এই ডানহাতি পেসারের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকতে পারে দ্বাদশ বিপিএল। আট ম্যাচে তাঁর শিকার ১৭ উইকেট। ফাইনালে একাদশে না থাকলেও টুর্নামেন্টজুড়ে নিজের সামর্থ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
শুরুর দুই ম্যাচে বেঞ্চে থাকলেও রাজশাহীর তৃতীয় ম্যাচেই নজর কাড়েন রিপন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। ওই ম্যাচ থেকেই নিয়মিত উইকেটের খোঁজ দেন তিনি। নোয়াখালীর বিপক্ষেই ছিল তাঁর সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
চলতি বিপিএলে তার আগে হ্যাটট্রিকের দেখা পান নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মেহেদি হাসান রানা (সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে) ও রংপুর রাইডার্সের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে)। সব মিলিয়ে বিপিএল ইতিহাসে ১১তম হ্যাটট্রিক করেছেন রিপন৷ তবে এই ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মোট ১০ জন বোলার। একমাত্র বোলার হিসেবে দুটি হ্যাটট্রিক করেছেন মৃত্যুঞ্জয়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের আরেক পেসার আবদুল গাফফার সাকলাইনও কয়েকটি ম্যাচে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। নয় ম্যাচে নিয়েছেন ৯ উইকেট। ব্যাট হাতেও অবদান রাখার চেষ্টা ছিল তাঁর, করেছেন ৫৪ রান।
ফাইনালে চমক দেখিয়েছেন স্পিনার হাসান মুরাদ। টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা ছয়। তবে ফাইনালেই ছিল তাঁর সেরা দিন—চার ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। পুরো আসরে ১৫ ওভার বোলিং করে তাঁর ইকোনমি ছিল ৬.৪৬।
স্পিন অলরাউন্ডার এস এম মেহরব ধারাবাহিক হতে না পারলেও নিজের দিনে সেরাটা দেখিয়েছেন। নয় ম্যাচে নিয়েছেন চার উইকেট, ব্যাট হাতে করেছেন ২৭ রান।
অনেক তরুণ ক্রিকেটার খুব বেশি সুযোগই পাননি। তাদের মধ্যে রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ উল্লেখযোগ্য। বাঁহাতি এই স্পিন অলরাউন্ডার সিলেট টাইটান্সের হয়ে মাত্র এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ওই ম্যাচে ২৯ রান দিয়ে একটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি খেলেন ১৭ রানের অপরাজিত ইনিংস।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে খেলেছেন মাহফিজুল ইসলাম ও মারুফ মৃধা। মাহফিজুল চার ম্যাচে সুযোগ পেলেও পারফরম্যান্সে ছাপ রাখতে পারেননি। মারুফ মৃধা খেলেছেন দুটি ম্যাচ, উইকেট নিয়েছেন একটি। তবে দুটিতেই ৪০–এর বেশি রান দেওয়ায় পরে আর সুযোগ মেলেনি।
তালিকায় আরও রয়েছেন অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য আরিফুল ইসলাম, জিসান আলম ও মুশফিক হাসান। ২৩ বছর বয়সী মুশফিক হাসান মাত্র এক ম্যাচ খেলেছেন। রংপুরের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ৪৭ রান খরচ করে উইকেটশূন্য থাকায় আর সুযোগ পাননি।
আরিফুল ইসলাম খেলেছেন চার ম্যাচ। তিনটিতে দুই অঙ্কের রান করলেও রাজশাহীর বিপক্ষে সিলেটের বিদায়ের ম্যাচে শূন্য রানে ফিরতে হয় তাঁকে। তাঁর সতীর্থ জিসান আলম পুরো আসরেই মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
দ্বাদশ বিপিএল তাই তরুণদের জন্য ছিল সম্ভাবনা আর হতাশার মিশ্র গল্প। কেউ আলোয় এসেছেন, কেউ অপেক্ষায় রইলেন আরও একটি সুযোগের।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হার এবং দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতেই হতো যুবাদের। আজ ৭ উইকেটের দাপুটে জয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছেন আজিজুল হাকিম তামিমরা।
হারারেতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ৫১ বল হাতে রেখেই জয় পায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ মিলে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। এরপর দুজনেই ফিরে যান দ্রুত জাওয়াদ (৪৭) ও রিফাত (৩০)।
অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৬৪ রান। তামিম আউট হবার পর বাকি কাজটুকু সারেন রিজান হাসান (৩০*) ও কালাম সিদ্দিকী (২০*)।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রানে দুই উইকেট হারায় যুক্তরাষ্ট্র। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন আদনিত জাম্ব। অধিনায়ক উৎকর্ষ শ্রীভাস্তবের ৩৯ ও সাহিল গার্গের ৩৫ রানে বাংলাদেশকে দুইশ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা ইকবাল হোসেন ইমন। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন আল ফাহাদ, রিজান হাসান ও শাহরিয়ার আহমেদ।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ভারত।
দিনের অন্য ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৯ উইকেটের জয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ধারাবাহিক বোলিংয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন শরিফুল ইসলাম। তার হাতেই উঠেছে বিপিএলের এবারের আসরের সেরা বোলারের পুরস্কার।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল, ইকোনমি ৫.৬০। মাত্র ৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট এবারের বিপিএলে শরিফুলের সেরা বোলিং।
ফাইনাল ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে উঠে এসেছেন বিনুরা ফার্নান্দো। ১১ ম্যাচে তার শিকার ১৮ উইকেট। ফাইনালে নেওয়া ৯ রানে ৪ উইকেটই তার এবারের সেরা।
তালিকার তিনে রয়েছেন সিলেট টাইটানসের স্পিনার নাসুম আহমেদ। ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ১৮ উইকেট, ইকোনমি ৫.৯৭। ৭ রানে ৫ উইকেট তার সেরা বোলিং।
এক হ্যাটট্রিকসহ ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে তালিকার চার নম্বরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের পেসার রিপন মন্ডল। ১৩ রানে ৪ উইকেট রিপনের সেরা বোলিং।
তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছেন নোয়াখালীর পেসার হাসান মাহমুদ। ১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার, নজরকাড়া ইকোনমি ৬.০০! ২৬ রানে ৪ উইকেট তার সেরা বোলিং।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছেন শরিফুল। ২০২৩ সালে টুর্নামেন্টের ২২ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন তিনি।
বিপিএলের প্রতি আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি
১. ইলিয়াস সানি (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস) - ১২ ম্যাচে ১৭ উইকেট, সেরা বোলিং ১৭ রানে ৩ উইকেট (প্রথম আসর)
২. আলফনসো থমাস (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস) - ১২ ম্যাচে ২০ উইকেট, সেরা বোলিং ১৯ রানে ৩ উইকেট (দ্বিতীয় আসর)
৩. কেভন কুপার (বরিশাল বুলস) - ৯ ম্যাচে ২২ উইকেট, সেরা বোলিং ১৫ রানে ৫ উইকেট (তৃতীয় আসর)
৪. ডোয়াইন ব্রাভো (ঢাকা ডায়নামাইটস) - ১৩ ম্যাচে ২১ উইকেট, সেরা বোলিং ১০ রানে ৩ উইকেট (চতুর্থ আসর)
৫. সাকিব আল হাসান (ঢাকা ডায়নামাইটস) - ১৩ ম্যাচে ২২ উইকেট, সেরা বোলিং ১৬ রানে ৫ উইকেট (পঞ্চম আসর)
৬. সাকিব আল হাসান (ঢাকা ডায়নামাইটস) - ১৫ ম্যাচে ২৩ উইকেট, সেরা বোলিং ১৬ রানে ৪ উইকেট (ষষ্ঠ আসর)
৭. মোস্তাফিজুর রহমান (রংপুর রেঞ্জার্স) - ১২ ম্যাচে ২০ উইকেট, সেরা বোলিং ১০ রানে ৩ উইকেট (সপ্তম আসর)
৮. মোস্তাফিজুর রহমান (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) - ১১ ম্যাচে ১৯ উইকেট, সেরা বোলিং ২৭ রানে ৫ উইকেট (অষ্টম আসর)
৯. তানভির ইসলাম (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) - ১২ ম্যাচে ১৭ উইকেট, সেরা বোলিং ৩৩ রানে ৪ উইকেট (নবম আসর)
১০. শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - ১২ ম্যাচে ২২ উইকেট, সেরা বোলিং ২৪ রানে ৪ উইকেট (দশম আসর)
১১. তাসকিন আহমেদ (দুর্বার রাজশাহী) - ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট, সেরা বোলিং ১৯ রানে ৭ উইকেট (একাদশ আসর)
১২. শরিফুল ইসলাম (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) - ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট, সেরা বোলিং ৯ রানে ৫ উইকেট (দ্বাদশ আসর)