
হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলের দলের ফেসবুক পেজ। ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফুটবল টিম’ নামে ফেসবুকে থাকা এই পেজটি হ্যাক হয় শনিবার। এরপর থেকে সেখানে পোস্ট করা হচ্ছে বিভিন্ন বিদেশি চলচ্চিত্রের ক্লিপ। হ্যাক হওয়ার পর সবশেষ ১৯ ঘণ্টায় সেখানে অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে ৭টি। সবশেষ বাফুফে থেকে পেজে পোস্ট করা হয়েছিলো ১৯ নভেম্বর।
রোববার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া বিভাগ থেকে হ্যাকিংয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়েছে। পেজটি ফিরে পেতে বাফুফে কাজ করছে বলেও জানানো হয়। বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব টি স্পোর্টসকে বলেন,
“আমাদের পেজে অপ্রত্যাশিত কিছু ভিডিও আপলোড হচ্ছে। সেটা দেখার পর আমরা বুঝতে পারি পেজটি হ্যাক হয়েছে। ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, সাপোর্ট টিমের সাথে আমাদের কথাও হয়েছে। ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন। পেজটি এখনো ভেরিফাইড হয়নি, সে কারণে সময় লাগছে।”
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পেজটি চালু করে বাফুফের মিডিয়া বিভাগ। যেখানে পুরুষ ও নারী দলের আপডেট দেয়া হতো। গেল ১০ মাসে পেজটির ফলোয়ার হয়েছিলো ৭৮ হাজার। এর আগেও একবার হ্যাকারদের কবলে পড়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
No posts available.
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১:১০ পিএম

উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে জয়ে ফেরানো ম্যাচে বড় ভূমিকা ছিল ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোর। মোনাকোর বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন আর্জেন্টাইন ফারোয়ার্ড। জয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি জানিয়েছেন, তাঁর সম্পর্কে বলা কঠোর কথাগুলো ‘ভুলে যাননি’ তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ঠাসা দলে যোগ দেওয়ার পর গেইম টাইম নিয়ে প্রায়ই আফসোস করতে দেখা গেছে মাস্তানতুয়ানোকে। বদলি হিসেবেই বেশিরভাগ ম্যাচে নামতে হয়েছে তাঁকে। পর্যাপ্ত সুযোগ কিংবা চোটের কারণে বাইরে থাকায় নামের সুবিচার করতে পারেননি সেভাবে। এসময় মাস্তানতুয়ানোকে কটুক্তি করে নিন্দুকরা বলেছিলেন, রিয়ালের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে সাইনিং তিনি।
মাস্তানতুয়ানো নিজেকে প্রমাণে বেশি সময় নেননি। কোপা দেল রে তে আলবাসেতের বিপক্ষে গোলের পর এবার মোনাকো ম্যাচে গোল পেলেন তিনি। ম্যাচে ৭১ মিনিট খেলেছেন। লিগে তার এটাই প্রথম গোল। তাতেই ইতিহাস তৈরি করেছেন মাস্তান। আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মধ্যে দ্বিতীয় কম বয়সী হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করেছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে কমবয়সী ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ১৮ বছর ৪ মাস বয়সে গোল করেছেন এলএমটেন। আর মাস্তানতুয়ানো করলেন ১৮ বছর ৫ মাস বয়সে। তাছাড়া দুজনই একই পজিশন-রাইট উইঙ্গে খেলে থাকেন।
মোনাকোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলে মিক্স জোনে সাংবাদিকদের মাস্তানতুয়ানো বলেন,
‘যখন আমি তরুণ ছিলাম, সবাই আমার খেলা নিয়ে কথা বলতো। তারা বলতো আমি নতুন মেসি, একই সময় বলা হতো দুর্দান্ত ও ভয়ংকর ফরোয়ার্ড। অথচ এরপর আমাকে বলা হচ্ছিল, আমি নাকি রিয়ালের সবচেয়ে বাজে সাইনিং।’
তিনি বলেন,
‘আমি কখনও মনে করি না আমি মেসি। এমনকী আমি কখনও এও মনে করি না, রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বাজে সাইনিং আমি। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি সবসময়। আমি জানি আমি কি করতে পারি।’
নিন্দুকদের বাজে আচরণ কিংবা অপমানে কিছুতেই ভেঙে পড়েননি মাস্তানতুয়ানো। বরং ধৈর্য্য ধরে নিজেকে সুনিপন দক্ষতার তৈরি করেছেন। প্রস্তুত করেছেন ভবিষ্যতের জন্য।
মাস্তানতুয়ানো বলেন, ‘আমাকে নিয়ে বলা অপমানগুলো আমি ভুলিনি। বরং এগুলো আমাকে স্ট্রং করেছে।’

জীবন বোধহয় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। যে আঙিনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গারের নামে স্লোগান উঠত, সেখানেই শুনতে হয়েছে তীব্র দুয়োধ্বনি। কটুক্তি, শিস আর দুয়োধ্বনি হজম করা ভিনির মতো আবেগপ্রবণ ফুটবলারদের জন্য কঠিনই বটে। তবে কঠিন মানসিক আঘাতকে পেছনে ফেলে আবার চেনারূপে ফিরেছেন তিনি।
গতকাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মোনাকোর বিপক্ষে দলের ৬-১ গোলের বড় জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভিনিসিয়ুস। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানোর সঙ্গে নিজে বল জালে পাঠিয়েছেন একবার। এবার অবশ্য গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। ২৫ বছর বয়সী তারকা ফুটবলারকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়ে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচ শেষে রিয়ালে সম্প্রতি দুঃস্বপ্নের মতো সময়ের কথা বললেন ভিনিসিয়ুস। পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ ঘিরে চলা গুঞ্জন এবং ক্লাবের সাম্প্রতিক কোচিং পরিবর্তন নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এখনও এক বছরের একটু বেশি সময় বাকি থাকলেও, নতুন চুক্তি নিয়ে তিনি একেবারেই শান্ত ও নিশ্চিন্ত বলে ভিনি।
আরও পড়ুন
| এবার শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ |
|
মোনাকোর বিপক্ষে রিয়ালের বড় জয়ে পর একটি সাক্ষাৎকারে নিজের রাগ-অভিমান-দুঃখ সব মন খুলে বলেন ভিনিসিয়ুস। মোভিস্টার প্লাসকে রিয়াল তারকা বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাবের জন্য খেলা খুবই জটিল, দাবিও অত্যন্ত বেশি। কিন্তু আমিও একজন মানুষ। আমি চাই না আমার নিজের ঘরে আমাকে শিস দেওয়া হোক, যেখানে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। শেষ কয়েকটি ম্যাচে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করিনি, কারণ যখনই আমি কিছু ভুল করেছি, তখন আমাকে শিস দেওয়া হয়েছে।’
অবশ্য অনেক দাম দিয়ে টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের শিস আর দুয়ো দেওয়ার অধিকার আছে মানছেন ভিনিসিয়ুস।
রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জাবি আলোনসোর বিদায়ে ভিনিসিয়ুসের যোগসূত্র আছে, এমনটাই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিনিসিয়ুস স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি জাবির প্রস্থানে কোনো প্রভাব ফেলেননি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সঙ্গে টাচলাইনে আলিঙ্গন করেন এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে চাইছেন না তিনি। ভিনিসিয়ুস দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমি সবসময় সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকি, কিন্তু আমি চাই না পিচের বাইরে ঘটছে এমন বিষয়গুলোর জন্য আমার ওপর দৃষ্টিপাত করা হোক। আমি এখানে থাকতে চাই আমি এই ক্লাবের জন্য যা করেছি তার জন্য।’
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাত ম্যাচে এক গোলের সঙ্গে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস। লা লিগায় ২০ ম্যাচে সমান পাঁচটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস। বিদায়ী কোচ জাবি আলোনসোর কোচিংয়ে একেবারেই নিজের ছায়া হয়েছিলেন। এবার নতুন কোচের অধীনে চিরচেনা রূপে ফেরার দারুণ বার্তাই যেন দিলেন ভিনি। মাঠের এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটাই এখন সাম্বা তারকার আসল চ্যালেঞ্জ।

সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে এবার শ্রীলঙ্কাকে বাগে পেয়েছে বাংলাদেশ। লঙ্কান নন্দিনীদের উড়িয়ে টুর্নামেন্টে তৃতীয় জয় পেল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে বুধবার শ্রীলঙ্কাকে ছয় ৬-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে চার ম্যাচে সাঈদ খোদারাহমির দলের পয়েন্ট ১০।
ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র করেছিল। তৃতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে জিতেছিল ৩-০ গোলে।
দ্বাদশ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বাংলাদেশ। একটু পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় শ্রীলঙ্কা।
অষ্টাদশ মিনিটে ম্যাচে ফেরার গোল পায় বাংলাদেশ। কৃষ্ণার সঙ্গে দুবার বল দেওয়া নেওয়া করে নিখুঁত শটে গোল করেন সাবিনা খাতুন।
প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে বাইলাইনের ওপর থেকে কৃষ্ণার কাটব্যাক থেকে সাবিনার গোলে সমতার স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য করা বাংলাদেশ তৃতীয় গোল পায় মাতসুশিমা সুমাইয়ার নৈপুণ্যে। ২৮তম মিনিটে সাবিনার কর্নারে সুমাইয়া বা পায়ে প্লেসিং শটে জাল কাঁপান।
৩৫ মিনিটে সাবিনার পাসে গেলমুখে আলতো টোকায় কৃষ্ণা রানী সরকার জাল খুঁজে নেন। তিন মিনিট পর সাবিনার বা প্রান্তে ক্রসে গোলকিপার সেভ করলে ফিরতি বলে মাসুরা পারভীনের প্লেসিং শটে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ।
শেষ মিনিটে ষষ্ঠ সাবিনার পাসে কৃষ্ণা দারুণ গোল করলে নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়।
রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় শুক্রবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

গোলের খেলা ফুটবল এমনই। পুরো ৯০ মিনিট কোনো দল যতই ভালো খেলুক, গোল না পেলে বৃথা যায় সবই। বিপরীতে যে খেলা দেখতে মোটেও ভালো লাগে না, যে খেলায় নেই কোনো ফুটবলীয় সৌন্দয্য, এমন খেলা খেলে শুধু জালে বল জড়িয়েই হাসিমুখে মাঠ ছাড়তে পারে যেকোনো দলই।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গতকাল পিএসজি ছিল প্রথম দলে। পুরো ম্যাচে খেলেছে মূলত ফরাসি ক্লাবটিই, তবে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপি। প্রতিপক্ষের মাঠে চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ বল ছিল লুইস এনরিকের দলের পায়ে। সফরকারীরা শট নিয়েছে মোট ২৮টি, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ছয়টি। যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ বল পজিশন নিয়ে ১০টি শট নিয়ে চারটি গোলমুখে রেখেছে সফরকারী দল।
এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট ম্যাচজুড়ে স্পোর্টিং সিপি ব্যস্ত ছিল কেবল পিএসজির আক্রমণ ঠেকাতে। আর এই বিষয়টিই বেশ পীড়া দিচ্ছে পিএসজির কোচ লুইস এনরিককে। প্রতিপক্ষের উপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়া একেবারেই মানতে পারছেন না চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কোচ।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পিএসজি কোচ বলেন, ‘এই ফল খুবই হতাশাজনক, এটা অন্যায়, দুঃখজনক, কারণ পুরো ম্যাচ জুড়ে আমি মাত্র এক দলের ফুটবল দেখেছি। আমরা প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেক শক্তিশালী ছিলাম, যদিও তারা ভালো দল। তারা শুধু রক্ষণই সামলেছে। কিন্তু আমরা অনেক এগিয়ে ছিলাম। ফুটবল নিয়ে এখন কথা বলাটা এই মুহূর্তে কঠিন, কারণ ম্যাচের ফল খুবই হতাশাজনক এবং একেবারেই অন্যায্য। হায় ফুটবল!’
আরও পড়ুন
| আর্সেনালের সাতে সাত, সিটি-পিএসজি কুপোকাত |
|
নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই পিএসজির কোচের। বরং প্রতিপক্ষের খেলার ধরনকেই বাজে বলছেন এনরিকে, ‘সমস্যা তো সবসময়ই থাকে, চিন্তা করবেন না, এটা কোচের দায়িত্ব, আমি এখানেই সব উত্তর দেব। এটা আমার দায়িত্ব। তবে আমি যা দেখেছি তাতে অনেক উৎসাহিত। শেষ হতাশা হলো, কারণ আমি বুঝতে পারি, আমার খেলোয়াড়রাও প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো ছিলেন। আমরা অনেক ভালো ফুটবল দেখেছি। আজ মাঠে কেবল এক দল ছিল – প্যারিস সেন্ট জার্মেইন। আমরা হেরেছি কারণ এটা বাজে ফুটবল! এটা বাজে খেলা! এমন রাতগুলো অবিশ্বাস্য। আর যখন আপনি কোচ, তখন দেখেন এই খেলা কতটা অন্যায্য হতে পারে। কিন্তু এটা মেনে নিতে হবে। আমি অনেকবার এইভাবে হেরেছি।’
পিএসজির মতো বল ধরে রেখে আক্রমণভাগে আগ্রাসী ক্লাবের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে রক্ষণ সামলে প্রতি-আক্রমণের কৌশল বেছে নেয় স্পোর্টিং সিপি। লো ব্লক খেলা এমন দলের বিপক্ষে দূরপাল্লার শট খেলাই বেশি কার্যকর। পিএসজির কোচ নাকি এমন কৌশলের আশ্রয়েই নিয়েছিলেন, ‘ম্যাচের আগে আমরা আলোচনার মাধ্যমে লো ব্লক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কিভাবে খেলব তা ঠিক করেছি, আর শট নেওয়াই এর একটি উপায়। আমি মনে করি আমরা খুব বেশি শট নিইনি, কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল জেতার জন্য। সাধারণত লো ব্লকের বিপক্ষে আপনাকে উইংস দিয়েই এগোতে হয়, যাতে ক্রসিং করা যায়। অবশ্যই, এই ম্যাচে উন্নতির বিষয় আছে, হয়তো শট নেওয়াই একটিমাত্র সমাধান নয়।
এমন হতাশার ম্যাচের পরও নিজের দল নিয়ে গর্বিত এনরিকে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষকেও অভিনন্দন জানাতেও কার্পণ্য করেননি পিএসজি কোচ, ‘তবুও আমি আজ যা দেখেছি, আমার দলের ব্যক্তিত্ব—তার জন্য আমি গর্বিত। আমি খুবই উৎসাহিত কিভাবে আমাদের দল প্রতিযোগিতায় খেলছে তা দেখে। কিন্তু ফুটবল এমনই। আমরা স্পোর্টিং পর্তুগালকে অভিনন্দন জানাই। তবে আমার কাছে এটি একটা খুবই, খুবই অন্যায্য ফল।’
এই হারের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে গেল পিএসজির। সাত ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছে সবশেষ মৌসুমের ট্রেবল জয়ী ক্লাবটি। আগামী ২৮ জানুয়ারি ঘরের মাঠে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই এনরিকের দলের।

২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রীতিমতো উড়ছে আর্সেনাল। শতভাগ জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রেখেছে ইংলিশ ক্লাবটি। এবার মিকেল আরতেতার দলের কাছে ধরাশায়ী হলো ইন্টার মিলান।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গতকাল ইন্টার মিলানের মাঠ স্তাদিও গিওসেপ্পে মেজ্জা থেকেই ৩-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে আর্সেনাল। গানারদের হয়ে জোড়া গোল করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। অন্য গোলটি আসে বদলি নামা ভিক্টর গিওকেরেসের নৈপুণ্যে। স্বাগতিক ইন্টারের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন পিতার সুসিচ।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরের লিগপর্বে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে দুইয়ে থেকে শেষ করা নিশ্চিত হলো আর্সেনালের। ৭ ম্যাচের সাতটিতেই জিতে গানারদের পয়েন্ট ২১। বিপরীতে ৪ জয় ও তিন হারে ১২ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে ক্রিস্তিয়ান লাউতারো মার্তিনেজের ইন্টার মিলান। এই প্রতিযোগিতায় সবশেষ তিন ম্যাচেই হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ইতালিয়ান জায়ান্ট ক্লাবটিকে।
নিজেদের দূর্গে সব পরিসংখ্যানে এগিয়ে থেকেও ফল বের করতে ব্যর্থ হয় ইন্টার। ৫১ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখে ১৮টি শট নেয় তারা, লক্ষ্যে ছিল ৪টি। অবশ্য প্রতিপক্ষ থেকে একটি শট কম নিলেও গোলমুখে আর্সেনালের শট ছিল ছয়টি।
প্রথম মিনিটেই আর্সেনালের দুটি শট ঠেকিয়ে দেয় ইন্টার। চতুর্থ মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে আরতেতার দল। তবে ডি-বক্স থেকে ইন্টারের গোলকিপার ইয়ান সমেরকে পরাস্ত করতে পারেননি বুকায়ো সাকা। যদিও গোল পেতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের।
ম্যাচের ১০ মিনিটে লিড নেয় আর্সেনাল। ইউরিয়েন টিম্বার ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি, তবে বলের গতি পথে থাকা জেসুস দিক পাল্টে জাল কাঁপান। আট মিনিট পর দারুন এক গোলে সমতায় ফিরে ইন্টার। মার্তিনেজের বাড়ানো বলে মাহকুশ টুহামের শট প্রতিহত হওয়ার পর, নিকোলো বারেল্লার শটও ফিরে আসে। ফিরতি বলে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কাছের পোস্ট দিয়ে গতিময় শটে লক্ষ্যভেদ করেন ক্রোয়েট মিডফিল্ডার সুসিচ।
৩১ মিনিটে জেসুসের আরেকটি গোলে ফের এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বুকায়ো সাকার কর্নারে দূরের পোস্টে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের হেড ক্রসবার ছুঁয়ে ফিরলে হেডেই ঠিকানা খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৪৩ মিনিটে ফেদেরিকো দিমার্কোর গতিময় শট ঠেকিয়ে ব্যবধান ধরে রাখেন আর্সেনাল গোলররক্ষক দাভিদ রায়া। ফিরতি শটও চমৎকার রিফ্লেক্সে প্রতিপক্ষকে রুখে দেন স্প্যানিশ গোলকিপার।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে এবেরেচি এজের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ইন্টার গোলরক্ষক সমের। ৬৭ মিনিটে লুইস এইহিকের কাছ থেকে বল পেয়ে একটুর জন্য শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ফ্রান্সেসকো পিও এস্পোজিতো।
আর্সেনালের আক্রমণের জবাবে পাল্টা আক্রমণও করে ইন্টার। তবে স্বাগকিতদের আরেক দফা আঘাত করে ৮৪ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করেন ইয়োকেরেস। সাকার বাড়ানো বল থেকে গতিময় শটে লক্ষ্যভেদ করেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড। এরপর আর কোনো দলই জালের ঠিকানা না পেলে নিশ্চিত হয় আর্সেনালের জয়যাত্রা।
‘পুঁচকে’ ক্লাবের কাছে নাস্তানাবুদ ম্যানচেস্টার সিটি
নরওয়ের একটি ছোট্ট একটি শহর বোডো। ৫৫ হাজার জনসংখ্যার এ শহরের মানুষ মাছ শিকার করে জীবনযাপন করে। ম্যানচেস্টার সিটিকে তারা যে মাঠে আতিথেয়তা দিয়েছে তার ধারণক্ষমতা মাত্র ৮ হাজার। এই ছোট শহরের ছোট ক্লাবটিই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মৌসুমে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টদের হারিয়ে।
নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়ে ম্যান সিটির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে বোডো/গ্লিমট। নরওয়ের ক্লাবটির অসাধারণ এই জয়ে জোড়া গোল করেছেন ড্যানিশ ফরোয়ার্ড কাস্ফার হগ, একটি গোল করেছেন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড জেন্স পিটার হউগে। সিটির হয়ে একটি গোল শোধ করেছেন ফরাসি উইঙ্গার রায়ান চের্কি।
এ নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ সাত ম্যাচে মাত্র দু’টিতে জয় দেখেছে ম্যান সিটি। বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া পেপ গার্দিওলার দল বোডো/গ্লিমটের বিপক্ষে হারের পর ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বরে আছে। ইউরোপে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতার এবারের আসরে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত কঠিন হয়ে গেল তাদের জন্য। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে গালাতাসারায়ের বিপক্ষে ফলের ওপর নির্ভর করছে সিটির প্লে অফ ভাগ্য।
অন্যদিকে আগের ছয় ম্যাচের তিনটি হার ও অন্য তিনটিতে ড্র করা বোডো প্রথম জয় নিয়ে ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে ২৭ নম্বরে অবস্থান করছে।
শক্তিমত্তায় সিটি থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা দলের কাছে হারের পর সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু সবকিছুই যেন আমাদের বিপক্ষে যাচ্ছে—ছোট ছোট অনেক বিষয়েই। এটা বাস্তবতা, আর আমাদের সেটি বদলানোর চেষ্টা করতে হবে। খেলোয়াড়রা মাঠে ছিল এবং আমরা চেষ্টা করেছি।’
চোটের ধাক্কাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিটির জন্য, বিশেষ করে রক্ষণভাগে। সেন্টার ব্যাক রুবেন দিয়াস, জন স্টোনস ও ইওস্কো গভার্দিওল সবাই চোটে কারণে মাঠের বাইরে। এছাড়া রাইট ব্যাক মাতেউস নুনেস অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি।
পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রাখলেও প্রথমার্ধেই জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ২২ ও ২৪; মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে গোলমুখে সতীর্থ ব্লোমবার্গের থেকে দুবার বল পেয়ে দুবারই জালে জড়ান ড্যানিশ ফরোয়ার্ড কাস্ফার হগ। ম্যাচে ফিরতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সিটি উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে। সন্দ্রে ব্রান্সটাড ফেটের থেকে বল পেয়ে এবার ব্যবধান ৩-০ করেন জেন্স হউগে।
অনেক চেষ্টার পর ৬০তম মিনিটে প্রথম সাফল্যের দেখা পায় সিটি। ও’রেইলির বাড়ানো বল জালে জড়ান রায়ান চের্কি। কিন্তু পরের মিনিটেই দলকে বিপদে ফেলেন মিডফিল্ডার রদ্রি। জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এ স্প্যানিশ। তাতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সিটি। তার পরও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন ওমর মারমুশ, ফিল ফোডেন আর আর্লিং হলান্ডরা। তাতে ৩-১ গোলের হারের চরম হতাশা নিয়ে ঘরে ফেরা নিশ্চিত হয় সিটির।
পিএসজিকে হারিয়ে চমকে দিল স্পোটিং সিপি
প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ইউরোপীয়ান প্রতিযোগিতায় ৩০০ ম্যাচ খেলার দারুণ মাইলফলকে নাম লিখিয়ে মাঠে নামে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। তবে এই বিশেষ ম্যাচটিতে পিএসজি হেরে গেল স্পোর্টিং সিপির কাছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গতকাল পর্তুগিজ ক্লাব স্পোটিং সিপি ২-১ গোলে জিতেছে পিএসজির বিপক্ষে। জোড়া গোল করে ক্লাবটির জয়ের নায়ক কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইজ সুয়ারেজ। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের একবার সমতায় ফিরিয়েছিলেন খাভিচা কাভারাস্কেলিয়া।
ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় চলতি মৌসুমে পিএসজির এটি দ্বিতীয় হার। সাত ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছে পিএসজি। সমান পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে স্পোর্তিং।
অপ্রত্যাশিত হারে প্রথমার্ধে ১৫টি শট নেয় পিএসজি, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে এবং ৭৮ শতাংশ বল ছিল নিজেদের দখলে। তবে প্যারিসের ক্লাবটি মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও গোল করার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
ভোঁতা আক্রমণের সঙ্গে পিএসজির রক্ষণে দুর্বলতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ৭৪তম মিনিটে ‘ডেডলক’ ভাঙেন সুয়ারেজ। কর্নারের পর ডি-বক্স থেকে জাল খুঁজে নেন ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
পাঁচ মিনিট পর ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের সমতায় ফেরান খাভারেস্কেলিয়া। এই গোলেরও উৎস কর্নার। ৯০ মিনিটে ফের স্পোর্টিকে এগিয়ে নেন সুয়ারেজ। এবার ডি-বক্স থেকে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। তারপর ব্যবধান ধরে রেখে বাকি সময় কাটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা।
প্রতিযোগিতার অন্য ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে টটেনহ্যাম হটেম্পার। ১৪ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ডমিনিচ সোলাঙ্কের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংলিশ ক্লাবটি। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে আয়াক্স। কাজাখস্তানের ক্লাব কাইরত আলমাতিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজ। ডেনমার্কের ক্লাব এফসি কোবেনহেগের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে নাপোলি। বায়ান লেভারকুজেন ২-০ গোলে হেরেছে গ্রিসের ক্লাব অলিম্পয়াকোসের বিপক্ষে।