
গত দুই মৌসুম ধরেই বায়ার্ন মিউনিখ পার করছে কঠিন এক সময়। সবশেষ মৌসুম তো তাদের কেটেছে কোনো শিরোপা ছাড়াই। চলতি মৌসুমে বুন্দেসলিগা জেতার দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে নেই খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে। বুধবার রাতে ডাচ ক্লাব ফেয়ুনুর্দে কাছে হেরে সেরা আটে জায়গা পাওয়ার সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে গেছে তাদের। দলের এমন পারফরম্যান্সে ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেছেন দলটির মিডফিল্ডার জশয়া কিমিখ।
এদিন বলের দখল কিংবা গোলের সুযোগ তৈরি সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল বায়ার্ন। ৮০ শতাংশ বলের দখল ছিল ভিনসেন্ট কোম্পানির দলের। ৯ টি সহজ সুসোগ তারা হাতছাড়া করেছে তারা। অন্যদিকে ফেয়ুনুর্দ তিন শট নিয়ে সবগুলোই জালে পাঠিয়েছে। তাতেই ধরা দিয়েছে ৩-০ গোলের দারুণ এক জয়। আর তাতে পয়েন্ট টেবিলের ১১ নম্বরে উঠে এসেছে তারা।
আরও পড়ুন
| ব্রাজিল কিংবদন্তির গোলের রেকর্ড ভাঙতে চান ভিনিসিয়ুস |
|
অন্যদিকে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বায়ার্নের অবস্থান ১৫ নম্বরে। দলের এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স নিয়ে ম্যাচ শেষে হতাশা ঝড়ে পড়ল কিমিখের কণ্ঠে।
“আমাদের এটার স্বীকার করে নিতে হবে যে, আমরা বর্তমানে সেরা দলগুলোর মধ্যে নেই। তবে দলের মধ্যে এখনো একতা আছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আমরা বাজে অবস্থায় আছি। আমরা অনেক ভুল করছি, যার শাস্তিও পাচ্ছি মাঠে। ম্যাচ হারায় নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তবে আমাদের এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
আর একের পর এক গোল মিস করায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বায়ার্ন কোচ কোম্পানি।
“সত্যি বলতে ফেয়ুনুর্দ জয়টার দাবীদার। তারা বেশ ভালো লড়াই করেছে ম্যাচজুড়ে। আমরা অনেকগুলো সুযগ তৈরি করেছি। কয়েকটা গোল করতে পারতাম। আমরা না পারলেও তারা ঠিকই সেটা কাজে লাগিয়েছে।”
No posts available.

ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা চাপ সামলাতে লিগ আঁতে পিএসজি ম্যাচের সূচি বদল- এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল লিগ আয়োজক কর্তৃপক্ষ- এলএফপি।
আগামী ১১ এপ্রিল লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পিএসজি ও লেন্সের। কিন্তু সেটি প্রায় এক মাস পিছিয়ে এখন ১৩ মে তারিখে নেওয়া হয়েছে।
এর কারণ মূলত ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের দুই লেগের ম্যাচের মাঝে যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় পিএসজি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সূচি অনুযায়ী, ৮ এপ্রিল প্যারিসে প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে পিএসজি ও লিভারপুল। আর ১৪ এপ্রিল অ্যানফিল্ডে হবে ফিরতি লেগ। দুই ম্যাচের মাঝখানেই ছিল পিএসজি ও লেন্সের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।
ওই ম্যাচটি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। আলোচনার শুরু থেকেই এই ম্যাচ স্থগিতের বিরোধিতা করে আসছিল লেন্স। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানায়, সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তারা সেটি মেনে নিচ্ছে ও নিজেদের লক্ষ্য পূরণে লড়াই চালিয়ে যাবে।
লিগ আঁর পয়েন্ট তালিকাতেও এই ম্যাচের গুরুত্ব বেশ। বর্তমানে শীর্ষে থাকা পিএসজির চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে দুই নম্বরে রয়েছে লেন্স। তবে পিএসজি একটি ম্যাচ কম খেলেছে। তাই ব্যবধান কমাতে লেন্সের জন্য ম্যাচটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু এই ম্যাচই নয়, ইউরোপিয় প্রতিযোগিতার কারণে স্ট্রাসবুর্গ ও ব্রেস্টের ম্যাচও পিছিয়ে ১৩ মে নেওয়া হয়েছে। ইউরোপা কনফারেন্স লিগে জার্মান ক্লাবের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলবে স্ট্রাসবুর্গ, তাদেরও বিশ্রাম দেওয়ার যুক্তি দেখিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
এলএফপি জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ফরাসি ক্লাবগুলোর ভালো ফল নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ। তাদের বিশ্বাস, এতে লিগের মর্যাদা বাড়বে ও ভবিষ্যতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চারটি দলের জায়গা ধরে রাখা সহজ হবে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে- কোনো দলের সুবিধার জন্য সূচি বদল কি লিগের প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে? এই বিতর্কের উত্তর মিলবে হয়তো মৌসুমের শেষেই।

নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতে অর্ধেক কাজ আগেই সেরে রেখেছিল বাংলাদেশ। এবার বাকি অর্ধেক কাজ করে দিল ভারত। পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের সেমি-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দিল প্রতিবেশি দেশটি।
মালদ্বীপে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ভারত। তাদের জয়ে 'বি' গ্রুপ থেকে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের। আর সবার আগে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে পাকিস্তানের।
গত মঙ্গলবার এই গ্রুপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। নিজের অভিষেক ম্যাচে চমৎকার দুইটি গোল করেছিলেন রোনান সুলিভান। ওই জয়েই সেমি-ফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
এবার ভারতের কাছেও পাকিস্তানের পরাজয়ে নিশ্চিতই হয়ে গেছে সেমি-ফাইনালের টিকিট। কারণ 'বি' গ্রুপে দুই ম্যাচের দুটিই হেরেছে পাকিস্তান। অন্য দিকে একটি ম্যাচ খেলে সেটিই জিতে গেছে বাংলাদেশ ও ভারত।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচে তৃতীয় মিনিটে ভারতের হয়ে প্রথম গোল করেন বিশাল যাদব। আর দ্বিতীয়ার্ধে ৬৪ ও ৮৮ মিনিটে বাকি দুই গোল করেন ওমাং দদুম।
এখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে শনিবার বিকেলে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। এই ম্যাচের জয়ী দল সেমি-ফাইনালে খেলবে 'এ' গ্রুপের রানার্স-আপের সঙ্গে। আর 'এ' গ্রুপের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে খেলতে হবে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের পরাজিত দলের।

স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা ও কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় পরিকল্পনা পাল্টাতে হয়েছে আর্জেন্টিনার। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি সারতে লিওলেন স্কালোনির দল আফ্রিকার দু’টি দেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে। মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়া ম্যাচ ছাড়া বিশ্বকাপের আগে আরও দুটি ম্যাচ খেলতে পারে লিওনেল মেসি-লাউতারো মার্তিনেজরা।
বর্তমান মার্চ উইন্ডোর বাইরে জাতীয় দলগুলির জন্য আর একটি চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক উইন্ডো থাকবে। যেখানে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে উত্তর আমেরিকায় প্রীতি ম্যাচ খেলা হবে। বেশিরভাগ ফেডারেশন ইতিমধ্যেই সেই উইন্ডোর জন্য প্রতিপক্ষ নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এখনও তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেনি।
টিএনটি স্পোর্টসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা বর্তমানে হন্ডুরাস এবং সার্বিয়ার সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে ৬ জুন, আর আলবিসেলেস্তারা ইউরোপের দল সার্বিয়ার মুখোমুখি হতে পারে ৯ জুল অ্যালাবামায়।
জুনের উইন্ডোতে মেসির বিপক্ষে মেক্সিকোর খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি এবং বাতিল হয়ে যায়। হন্ডুরাসের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচও মার্চের আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় একটি বিকল্প হিসেবে ভাবা হয়েছিল, তবে উভয় ফেডারেশনই এটি পিছিয়ে জুনকে বেশি উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেয়।
আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলিতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের অভাব অনেক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ চূড়ান্ত হওয়ার পরই এই আলোচনা আরও প্রকট হয়। মৌরিতানিয়া ১১৫তম এবং জাম্বিয়া ৯১তম দল। অর্থাৎ প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার এই দুই প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের শক্তির পার্থক্য আকাশ-পাতাল।
সার্বিয়া (৩৯) ও হন্ডুরাস (৬৫) যদিও শীর্ষ-২০ দেশের মধ্যে নেই, তবুও এই ম্যাচগুলো মেসি ও তার সতীর্থদের জন্য বিশ্বকাপের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ হবে।
ফিনালিসিমা বাতিল হওয়া এবং কাতার সফর ভেস্তে যাওয়ায় আর্জেন্টিনাকে মার্চ উইন্ডোর জন্য দ্রুত একটি সূচি তৈরি করতে হয়েছে। জুনের প্রীতি ম্যাচগুলো এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য। বিশেষ করে সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি, যা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের অভিযান শুরুর এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ আলজেরিয়ার বিপক্ষে। গ্রুপপর্বে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক শেষ করে লিভারপুল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ক্লাবের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ। চলতি মৌসুম শেষে অল রেডদের জার্সিতে আর দেখা যাবে না সালাহকে। দীর্ঘসময় অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির আক্রমনভাগের প্রাণভোমরা মিশরীয় রাজপুত্র এবার পাড়ি দিবেন নতুন ঠিকানায়। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলের সালাহর পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হতে যাচ্ছে?
৩৩ বছর বয়সী এই মিশরীয় ফরোয়ার্ডের সামনে এখন তিনটি প্রধান পথ খোলা রয়েছে। সৌদি প্রো লিগ, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার ও ইউরোপেরই শীর্ষ কোন ক্লাবে নাম লেখানো।
সালাহর সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবকে থাকবে তালিকার সবার ওপরেই। আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইকন এবং বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর মুসলিম ফুটবলার হিসেবে সালাহ সৌদি প্রো লিগের জন্য এক বিশাল সম্পদ।
আর্থিক সক্ষমতার দিক থেকেও সৌদি প্রো লিগ এখন বেশ এগিয়ে। সালাহর বর্তমান বেতন ২০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা সৌদির ক্লাবগুলোর কাছে কোনো বিষয়ই না। পিআইএফের মালিকানাধীন আল-আহলি, আল-হিলাল, আল-ইত্তিহাদ ও আল-নাসর ছাড়াও ব্রেন্ডন রজার্সের আল-কাদসিয়া সালাহকে দলে নিতে আগ্রহী হতে পারে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সালাহকে দলে নিতে ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছিল আল-ইত্তিহাদ। যদিও সেসময় লিভারপুল সরাসরি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর আরও বেশ কয়েকবার সালাহকে পেতে সৌদি ক্লাবগুলোর দৌড়ঝাপের খবর সামনে এসেছে। সালাহর লিভারপুর ছাড়ার ঘোষণায় তাই এই তারকাকে পেতে মরিয়া হতে পারে সৌদি প্রো লিগের ক্লাবগুলো।
২০২৩ সালে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে দলে ভিড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামি। এরপর একে একে যুক্তরাষ্ট্রের লিগটিতে যোগ দিয়েছেন লুইস সুয়ারেজ, সার্জিও বুস্কেটস ও জর্দি আলবা, থমাস মুলারের মতো তারকারা। দুদিন আগে নতুন করে নাম লিখিয়েছেন ফরাসি তারকা অঁতোয়ান গ্রিজম্যান।
ইন্টার মিয়ামিতে লিওনেল মেসি যেভাবে ব্র্যান্ড ভ্যালু (অ্যাডিডাস ও অ্যাপল-এর সাথে চুক্তি) থেকে আয় করছেন, সালাহর জন্যও তেমন বিশেষ কোনো প্রজেক্ট তৈরি করা হতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে সালাহর মতো তারকাকে পাওয়া এমএলএসের জন্য বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারও তাই সালাহর জন্য দারুণ বিকল্প হতে পারে। গত ডিসেম্বরে এমএলএস কমিশনার ডন গারবার সরাসরি সালাহকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
প্রিমিয়ার লিগের অন্য কোনো ক্লাবে সালাহর যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ইউরোপের অন্য ক্লাবগুলোর মধ্যে পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদ বা বার্সেলোনা সালাহর বেতন দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। তবে বার্সেলোনায় লামিন ইয়ামাল বা রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান তারকাবহুল স্কোয়াডে সালাহর জায়গা হওয়াটা কঠিন সমীকরণ।
চলতি মৌসুমে সালাহর পারফরম্যান্স অবশ্য কিছুটা পড়তির দিকে থাকলেও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১০ গোল এবং ৯টি অ্যাসিস্ট। গত মৌসুমে ২৯ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি ছিলেন প্রিমিয়ার লিগের সেরা পারফর্মার।
এদিকে সালাহর লিভারপুল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর তাঁর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার ও প্রতিনিধি রামি আব্বাস ইসা ভক্তদের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি জানিয়েছেন, সালাহ আগামী মৌসুমে কোথায় খেলবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘ আমরা নিজেরাও জানি না সালাহ আগামী মৌসুমে কোথায় খেলবেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, লড়াইটা এখন মূলত সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই মেরুর মধ্যে। সালাহ কি কাড়ি কাড়ি অর্থের টানে আরবে যাবেন, নাকি মেসির মতো বিলাশবহুল মার্কিন জীবন বেছে নেবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

হামজা, সামিত সোমরা এসে বাংলাদেশ ফুটবল দলের আমূল পরিবর্তন এনেছেন, গত বছরে হংকংয়ের মাটিতে হংকংকে রুখে দিয়ে, এবং ভারতকে হারিয়ে সে বিশ্বাসটাই করেছেন এদেশের ফুটবল ভক্তরা। তবে চার মাস আগেও যারা বিশ্বাস করেছেন এমনটা, মহান স্বাধীনতা দিবসে হ্যানয়ে ভিয়েতনামের কাছে ০-৩ গোলে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশ দলকে নিয়ে গড়ে ওঠা বিশ্বাসে খেয়েছে ধাক্কা! ২৫ বছর আগে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ( সৌদি আরবের দাম্মাম) যে দলটির সঙ্গে ৯০ মিনিটের লড়াই ০-০ থেকে থেমেছে, সেই দলটির কাছে কী না পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ দল ?
কেউ কেউ হয়তবা টেনে আনবেন র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানকে। বাংলাদেশের চেয়ে ৭২ ধাপ উপরে থাকা ভিয়েতনামকে রাখবেন অনেক অনেক এগিয়ে। এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে 'এফ' গ্রুপে টানা ৫ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় সবার উপরে থেকে নিশ্চিত করেছে ভিয়েতনাম মূল পর্বে খেলার টিকিট। মালয়েশিয়াকে পর্যন্ত অ্যাওয়ে ম্যাচে হারিয়েছে তারা ৩-০ গোলে। এমন একটা দলের বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলী ম্যাচে বাংলাদেশের মাঠের লড়াইটা হয়েছে অসম। ০-৩ গোলে হেরেও পরিচ্ছন্ন ফুটবল খেলায় বাংলাদেশ দল শিখেছে অনেক কিছু।
৪-৩-৩ ফরমেশনে বাংলাদেশকে এই ম্যাচে সবচেয়ে ভুগিয়েছে চার ডিফেন্ডার তপু, জায়ান, তারিক কাজি, সাদউদ্দিন। প্রতিপক্ষের সেট পিস থেকে বল ক্লিয়ারে ব্যর্থতায় ১৮ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ দলকে হজম করতে হয়েছে ২ গোল। খেলা গুছিয়ে নেয়ার আগে প্রথম গোলটি হজম করেছে বাংলাদেশ আত্মঘাতি থেকে। গোল খেয়ে বসেছে বাংলাদেশ।
প্রতিপক্ষের প্রথম কর্নার থেকে ভিয়েতনাম স্ট্রাইকার তুয়ান হাই-কে ছাঁয়ার মতো অনুসরন করছিলেন জায়ান আহমেদ। কিন্তু জটলার মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে যেয়ে উল্টো তার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল স্পর্শ করেছে জাল (১-০)।
দ্বিতীয় গোলটিও হজম করেছে প্রতিপক্ষের সেট পিস থেকে। খেলার ১৮ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত থেকে নেয়া ফ্রি কিক থেকে উড়ে আসা বল বাংলাদেশ দলের ডিফেন্ডাররা অফসাইড ট্র্যাপ করতে যেয়ে বিপদ ডেকে আনেন। ভিয়েতনামের ফাম জুয়ান মান গোলের সংখ্যা দ্বিগুনে উন্নীত করেন (২-০)।
৩৮ মিনিটের মাথায় পরিকল্পিত আক্রমন থেকে ডি বক্সের বাঁ প্রান্তে তারিক কাজির মার্কিং এড়িয়ে ভিয়েতনামের স্ট্রাইকার এনগুয়েন হাই লং কোনাকুনি শটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক হাসান প্রিতম মাহফুজকে পরাস্ত করেন (৩-০)।
এই গোলরক্ষককে করতে হবে প্রশংসা। কারণ, দ্বিগুন ব্যবধানে ভিয়েতনামের জয়ের সম্ভাবনা নাস্যাৎ করেছেন বাংলাদেশের এই নুতন গোলরক্ষক।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের মিডফিল্ড ছিল পুরোপুরি অগোছালো। অধিনায়ক সোহেল রানা, সামিত সোম উইং অ্যাটাক করতে পারেননি। ইংল্যান্ড থেকে দলের সঙ্গে যোগ দেয়া হামজা চৌধুরী ভ্রমন ক্লান্তির কারণে ছিলেন এদিন নিষ্প্রভ। সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার রাকিবকে একটি বারের মতো পরিচিত একক নৈপূণ্যে বল নিয়ে দৌড় দিতে দেখা যায়নি। গোলপোষ্ট লক্ষ্য করেও শট মারতে পারেননি। ২০ এবং ২৬ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দুবার গোলপোষ্ট লক্ষ্য করে শট নিয়েছেন ফাহিম, জায়ান। ফাহিমের শটটি অসাধারণ দক্ষতায় বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বাংলাদেশকে গোল বঞ্চিত করেছেন ভিয়েতনাম গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধে ০-৩ গোলে পিছিয়েও দ্বিতীয়াধে প্রতি আক্রমন করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। উল্টো তিনটি গোল খেতে খেতে বেঁচে গেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে একটি গোলক্ষক হাসান প্রিতম ঝুঁকি নিয়ে গোলপোষ্ট ছেড়ে বাইরে এসে ভিয়েতনামের বদলী মিডফিল্ডার পাম থান লং-এর পা থেকে বল লুফে নিয়েছেন। এই বদলি মিড ফিল্ডারের একটি তীব্র শট ক্রস পিচে লেগে প্রতিহত হয়েছে।
আগামী ৩১ মার্চ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে 'এফ' গ্রুপের শেষ ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অবতীর্ন হওয়ার আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচটি ছিল ভিয়েতনামের কাছে প্রস্তুতি ম্যাচতূল্য। একই দিনে সিঙ্গাপুরের মাঠে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলও অবতীর্ন হওয়ার আগে বৃহস্পতিবার হ্যানয়ে ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচটিও প্রস্তুতি ম্যাচে গণ্য হয়েছে। তবে ভিয়েতনামের কাছে যেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ দল, তাতে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে কী 'সি' গ্রুপে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৫ দিন পর অবতীর্ন হচ্ছে না ক্যারবেরার দল ? এটাই প্রশ্ন।
২৫ বছর আগের স্মৃতি চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে যায়নি। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের দাম্মামে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের ম্যাচ কভার করেছি আমরা ৪ সাংবাদিক ( দৈনিক ইনকিলাব থেকে আমি শামীম চৌধুরী, প্রথম আলো থেকে পবিত্র কুণ্ডু, জণকণ্ঠ থেকে মশিউর রহমান টিপু এবং দৈনিক দিনকাল থেকে আবুল বাকি)। সৌদি আরব ফুটবল দল সম্পর্কে ধারনা থাকলেও ভিয়েতনাম এবং মঙ্গোলিয়া ফুটবল দল সম্পর্কে ধারণা ছিল না তখন।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো হোম এন্ড অ্যাওয়ে হওয়ার রেওয়াজটা সেবার ভেঙ্গেছিল এই ৪টি দেশ। যেহেতু এই গ্রুপের ৪টি দলের মধ্যে সৌদি আরবের দাম্মামে খেলতে চাইলে সেখানকার ধনাঢ্য ফুটবল ফেডারেশন থেকে পাওয়া যাবে বাড়তি অর্থ সুবিধা, এই প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মঙ্গোলিয়া ফুটবল ফেডারেশন সম্মতি দিয়েছিল। বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক তখন স্ট্রাইকার আলফাজ। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তখন বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক। এবং সম্ভবত সে সময়ে অংশগ্রহনকারী ৪ দেশের গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা।
২৫ বছর আগে দাম্মামে ভিয়েতনামের কাছে প্রথম দেখায় গোলশুণ্য ড্র'র পর কোচ জর্জ কোটানের মুখটা ভরে উঠেছিল খুশিতে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে টনিক নেয়া ভিয়েতনামের প্রকৃত শক্তিটা জেনে গেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল এক সপ্তাহ পরে, সেই দাম্মামে। ফিরতি দেখায় ০-৪ গোলে হারের সেই দুঃসহ স্মৃতিটাই যেনো বৃহস্পতিবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে।