
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততায় দীর্ঘ একটা সময় খেলেননি ঘরোয়া ক্রিকেটে। তবে ভারতের জার্সিতে লাল বলের ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময় পেছনে ফেলতে সেখানেই ফিরতে হয়েছে রোহিত শর্মাকে। তবে রঞ্জি ট্রফিতে ফেরার ম্যাচেও যথারীতি ব্যর্থ ভারত অধিনায়ক। এক ডিজিটেই আউট হয়ে দীর্ঘায়িত হল তার রান খরা।
রঞ্জি ট্রফিতে মুম্বাইয়ের বিকেসি-তে শরদ পাওয়ার একাডেমিতে জম্মু ও কাশ্মীরের বিপক্ষে গ্রুপ ‘এ’ ম্যাচে সকালেই ব্যাট করতে নামেন রোহিত। তবে সবাইকে হতাশ করে টিকতে পারেন মাত্র ১৯ বল, আর রান আসে মোটে তিন।
আরও পড়ুন
| অবসর সিদ্ধান্ত কোহলি-রোহিতের ওপরই ছেড়ে দিলেন গম্ভীর |
|
এর মধ্য দিয়ে অব্যাহত রইল লাল বলের ক্রিকেটে রোহিতের লম্বা সময় ধরে চলা বাজে ফর্ম। গত বছর ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচটি টেস্ট টেস্টে মাত্র একটি ফিফটি করেন রোহিত। দশ ইনিংসের চারবার আউট হন এক ডিজিটে।
এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে পাঁচ ইনিংসে তার মাত্র একটি দুই অঙ্কের স্কোর ছিল, যেখানে তিনি পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে অংশ নিয়েছিলেন। অধিনায়ক হলেও শেষ টেস্টে থেকে নিজের নাম সরিয়েও নেন রোহিত।
সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুম রোহিত শেষ করেন টেস্টে মাত্র ১০.৯৩ গড় নিয়ে। ১৬ ইনিংসে তার এই গড় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২০০৬ সালের পর থেকে কমপক্ষে ১৫ ইনিংস ব্যাট করা (শীর্ষ ছয়ে ব্যাট করা) খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন গড়। তার ওপরে আছেন কেবল ইংল্যান্ডের হাসিব হামিদ, ২০১৮ মৌসুমে ১৮ ইনিংসে তার গড় ছিল মাত্র ৯.৪৪।
আরও পড়ুন
| রোহিতের চোখে অশ্বিন সত্যিকারের ‘ম্যাচ উইনার’ |
|
No posts available.
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫২ পিএম
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:১২ পিএম

রান তাড়ায় এমন বাংলাদেশকেই তো চায় সমর্থকরা। পাওয়ার প্লে’ এর যথাযথ ব্যবহার, উইকেট হারানোর পরও রানের গতি সচল রাখা। রান তাড়ায় এবার আর ভুল হলো না বাংলাদেশের। অধিনায়ক লিটন দাসের ফিফটিতে আয়াল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ।
শুরুতে ব্যাটিং নেমে ৬ উইকেটে ১৭০ করে আয়ারল্যান্ড। জবাবে ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরল স্বাগতিকরা। তাতে আগামী মঙ্গলবার সিরিজের শেষ ম্যাচটি রূপ নিল অঘোষিত ফাইনালে।
রান তাড়ায় যে বাংলাদেশ কতটা দূর্বল সেটা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় ঘরের মাঠে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের করা ১৬৩ রান তাড়া ছিল নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। আর সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে কলোম্বোতে লঙ্কাদের করা ২১৪ রান পাঁচ উইকেট বাকি রেখে জেতে বাংলাদেশ।
চ্যালেঞ্জিং রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা হয় ইতিবাচক। ২ ওভারে স্কোরবোর্ডে উঠে ২০ রান। বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিসের করা প্রথম ওভারে চার–ছক্কায় ১০ রান আসে পারভেজ হোসেনের ব্যাট থেকে। তবে হঠাৎ এক ভুলে ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
বোলার ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরে ফেলেছেন বল, তবু কী মনে করে রানের জন্য ছুটেন ব্যাটার তানজিদ হাসান। পড়িমরি করে ফেরার চেষ্টা করেও পারেননি। আইরিশ পেসার ব্যারি ম্যাকার্থি সরাসরি থ্রোতে রানআউট রান আউট হন ১০ বলে ৭ করা তানজিদ হাসান।
উইকেট হারালেও পথ হারায়নি বাংলাদেশ। আইরিশরা পাওয়ার প্লেতে করেছিল ১ উইকেট ৭৫ রান। বাংলাদেশ করে ১ উইকেটে ৬৬ রান। পারভেজ হোসেন-লিটন দাসের ব্যাটে লক্ষ্যে দিকে ছুটতে থাকে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ৬০ রানের জুটি শেষ হয় পারভেজ ফিরলে। দারুণ খেলতে থাকা পারভেজকে ফেরান গ্যারেথ ডেলানি। এই ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৫ চার ও ২ ছয়ে ২৮ বলে ৪৩ রান।
১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৮৬। এরপর সাইফ হাসানকে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখান অধিনায়ক লিটন। দু’জনই জীবন পেয়েছেন, জশ লিটলের বলে কঠিন ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন সাইফ আর পরের বলেই পরের বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান লিটন দাস। ডিপ মিডউইকেটে লাফ দিয়ে বল ঠেকান গ্যারেথ ডেলানি। তবে সে সময় তার রুমাল ছুঁয়েছিল সীমানা দঁড়ি। বেঁচে যান লিটন, পেয়ে যান ছক্কা।
ম্যাথু হামফ্রিসকে ছক্কা মেরে ফিফটি করেন লিটন। ১১৯ ম্যাচের আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে স্টাইলিশ এই ব্যাটারের এটি ১৬তম ফিফটি। তবে দলের জয় নিশ্চিত করে আসতে পারেননি অধিনায়ক। ফিফটির পর আরও ৭ রান করে বিদায় নেন লিটন, শেষ হয় সাইফের সঙ্গে তাঁর ৫২ রানের জুটি। ৩ চার ও ৩ ছয়ে ৩৭ বলে ৫৭ রান করা লিটন ফিরেন মার্ক অ্যাডাইরের বলে এলবিডব্লু হয়ে। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।
১৫ ওভারে ১৩৮ রানে তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশ হঠাৎ বিপদে পড়ে পরের ওভারে সাইফও আউট হলে। ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরার আগে করেন ১৭ বলে ২২ রান।
শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাড়ায় ২৫। ১৮ ওভারে তাওহিদ হৃদয়কে রানআউট করে ম্যাচে খানিকটা রোমাঞ্চ ফেরায় আয়ারল্যান্ড। ওভারে চতুর্থ বলটাকে কাভারে ঠেলেই ১ রান নিতে চেয়েছিলেন নুরুল হাসান। ফিল্ডারের ছোড়া বল ধরে লোরকান টাকার যখন উইকেট ভাঙলেন তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটের সামনের অংশ শূন্যে ভেসে ছিল। হৃদয় ফেরেন ৯ বলে ৬ রান করে।
১৯তম ওভারে নুরুল হাসান সোহানকে বোল্ড করে বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন মার্ক অ্যাডাইর। তবে একই ওভারে ছক্কা আর চার মেরে শেষ ওভারে লক্ষ্যটা তিন রান করে ফেলেন সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী হাসান।
এর আগে টসে হেরে প্রথম ম্যাচের মতোই ফিল্ডিংয়ে নামে লিটন দাসের দল। শেখ মেহেদী হাসানের প্রথম ওভারেই ১৩ রান তুলে তাণ্ডবের আভাস দিয়ে রাখে আয়ারল্যান্ড। নাসুম আহমেদের ওভার থেকে আসে ১৪ রান। আইরিশদের বেদম পিটুনির ভয়ে বুঝি স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটও ভয় পেয়ে যায়। তৃতীয় ওভারে এক বল হওয়ার পর ফ্লাডলাইড–বিভ্রাটে খেলা বন্ধ থাকে। ১০ মিনিট বন্ধ থাকার পর শুরু হয় খেলা।
তবে আয়ারল্যান্ডের ঝড় থামার যেন কোনো নাম-গন্ধই নেই। পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে ৭৫ রান তুলে তারা। টি–টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে আয়ারল্যান্ডের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর, বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ।
পল স্টার্লিংয়ের বিদায়ে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও রানের ফোয়ারায় বাঁধ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪ বলে ২৯ রান করেন অধিনায়ক স্টার্লিং। আয়ারল্যান্ডে দলীয় রান যখন ৮৮, নবম ওভারের প্রথম বলে মেহেদী হাসানের বলে স্টাম্পড হন টিম টেক্টর। ২৫ বলে ৩৮ রান করেন টিম।
দ্বিতীয় উইকেট পতনের পরই রানের গতি অনেকটা ধীর হয়ে আসে আয়ারল্যান্ডের। মেহেদী হাসানের একই ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন টিম টেক্টরের ভাই হ্যারি টেক্টরও। ১০ ওভারে আয়ারল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৯৭।
১১ ওভারে আয়াল্যান্ডের আরেকটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ৯ বলে ৭ রান করা বিন কালিৎজকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান মেহেদী। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা সাবধানী ব্যাটিং করেন পঞ্চম উইকেটে লর্কান টাকার- জর্জ ডকরেল জুটি। তাদের ৫৬ রানের জুটি শেষ সাইফউদ্দিনের বলে তানজিদ হাসানের তালুবন্দি হয়ে ২১ বলে ১৮ করা ডকরেল ফিরলে।
১৮ ওভারে ১৫০ পার করা আয়ারল্যান্ড শেষ দুই ওভারে তুলে ২৪ রান। ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে টাকার করেন আইরিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ বলে ৪১ রান।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মেহেদী হাসান। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন ৩০ বছর বয়সী ডানহাতি স্পিনার।

আগামী ২০২৬ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজের নাম না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফাফ দু প্লেসি। সম্প্রতি দিল্লি ক্যাপিটালস আগামী আইপিএলের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটারকে ছেড়ে দেয়। ডু প্লেসি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি আসন্ন মেগা নিলামে নিজের নাম রাখবেন না।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবিতে হবে আইপিএলের মেগা নিলাম। বিশ্বের সেরা এই ফ্রাঞ্চাইজি লিগে কয়েকটি দলের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন ডু প্লেসি। তবে ডানহাতি এই ব্যাটার ‘নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে’ আছেন। আর সেই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)।
৪১ বছর বয়সী দু প্লেসিস গতকাল সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় লিখেছেন,
‘আইপিএলে ১৪ মৌসুম খেলার পর, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমার নাম নিলামে দেব না। এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত, এবং পেছন ফিরে তাকালে আমি কৃতজ্ঞ। এই লিগটি আমার ক্রিকেট যাত্রার একটি বিশাল অংশ। আমি ভাগ্যবান বিশ্বমানের সহকর্মী, চমৎকার ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং এমন ভক্তদের সামনে খেলার জন্য, যাদের আবেগ তুলনাহীন। ভারত আমাকে বন্ধুত্ব, শিক্ষা এবং স্মৃতি দিয়েছে, যা আমাকে একজন ক্রিকেটার এবং একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।’
আইপিএলের বদলে এবার পিএসএলে মাঠ মাতানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ডু প্লেসি আরও জানিয়েছেন,
‘এই বছর আমি নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি এবং আগামী মৌসুমে পিএসএল খেলব। এটি আমার জন্য একটি রোমাঞ্চকর পদক্ষেপ—নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার, একজন খেলোয়াড় হিসেবে উন্নতি করার এবং একটি লিগের অংশ হওয়ার, যা অসাধারণ প্রতিভা ও সামর্থে ভরা। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, নতুন চ্যালেঞ্জ। আমি পাকিস্তানের আতিথ্য উপভোগ করার জন্য মুখিয়ে আছি।’
আইপিএলের সবশেষ মৌসুমে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন না ডু প্লেসি। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ৯ ম্যাচে ২২.৪৪ গড়ে মাত্র ২০২ রান করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই দিল্লি তাকে ধরে রাখার না করার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে প্রত্যাশিত ছিল।
আইপিএলের ইতিহাসে বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের মালিক ডু প্লেসি। দিল্লির পাশাপাশি মারকুটে এই ব্যাটার চেন্নাই সুপার কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর এবং রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের হয়ে খেলেছেন। সিএসকে’এর হয়ে দু’বার চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন তিনি।
পিএসএলে এবারই প্রথম নয়, আগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে ডু প্লেসির। পাকিস্তানের এই লিগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পেশাওয়ার জালমি ও গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়ছে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কান দল যখন মাঠে ব্যস্ত, তখন দেশটির মানুষ লড়ছে জীবনের সঙ্গে। ‘দিতওয়া’ নামের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড দ্বীপরাষ্ট্রটি। পাকিস্তান সফরের সব অর্থ বন্যদুর্গতদের সহাতায় দেওয়ার ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা।
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২৩ জনের, নিখোঁজ আরও ১৩০ জন। ঘরছাড়া হয়েছেন ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ।
সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ সানৎ জয়সুরিয়া বলেন
‘দেশে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আমরা সবাই মর্মাহত। পাকিস্তান সফরের ম্যাচ ফি এবং সব আয় বন্যার্তদের জন্য দিচ্ছি। দেশে ফিরে আরও সহায়তা করার চেষ্টা করব। কঠিন সময়ে আমাদের একে অপরের পাশে দাঁড়াতেই হবে।’
প্রচণ্ড বৃষ্টিতে শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। জলাধারগুলো উপচে পড়ায় আরও বন্যার আশঙ্কা করছে সেচ বিভাগ। বিপদের মুখে রাজধানী কলম্বোও। প্রবল বর্ষণের পর সৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে দেশজুড়ে জরুরী অবস্থা জারি করেছেন।

ব্যাটিংয়ে নেমেই চার ছক্কার মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়ে আনল আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের বোলারদের ছাতুপেটা করে বাউন্ডারির তুমুল বৃষ্টিতে বিশাল সংগ্রহের দিকে ছুটছিল সফরকারীরা। একটা সময় মনে হচ্ছিল আগের ম্যাচের ১৮১ রানেরও বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে হবে লিটন দাসদের। তবে মাঝের দিকে আইরিশদের লাগাম টেনে ধরে লক্ষ্য অন্তত ধরাছোঁয়ার মধ্যেই রাখল বাংলাদেশ। ছয় উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান করেছে তাঁরা। তাতে সিরিজ হার ঠেকানোর ম্যাচে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৭১ রান।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তিন পরিবর্তন নিয়ে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ খেলা জাকের আলী, রিশাদ হোসেন ও শরীফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে সুযোগ পান নুরুল হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মেহেদী হাসান। টসে হেরে প্রথম ম্যাচের মতোই ফিল্ডিংয়ে নামে লিটন দাসের দল।
শেখ মেহেদী হাসানের প্রথম ওভারেই ১৩ রান তুলে তাণ্ডবের আভাস দিয়ে রাখে আয়ারল্যান্ড। নাসুম আহমেদের ওভার থেকে আসে ১৪ রান। আইরিশদের বেদম পিটুনির ভয়ে বুঝি স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটও ভয় পেয়ে যায়। তৃতীয় ওভারে এক বল হওয়ার পর ফ্লাডলাইড–বিভ্রাটে খেলা বন্ধ থাকে। ১০ মিনিট বন্ধ থাকার পর শুরু হয় খেলা।
তবে আয়ারল্যান্ডের ঝড় থামার যেন কোনো নাম-গন্ধই নেই। পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে ৭৫ রান তুলে তারা। টি–টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে আয়ারল্যান্ডের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর, বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ।
পল স্টার্লিংয়ের বিদায়ে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও রানের ফোয়ারায় বাঁধ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪ বলে ২৯ রান করেন অধিনায়ক স্টার্লিং। আয়ারল্যান্ডে দলীয় রান যখন ৮৮, নবম ওভারের প্রথম বলে মেহেদী হাসানের বলে স্টাম্পড হন টিম টেক্টর। ২৫ বলে ৩৮ রান করেন টিম।
দ্বিতীয় উইকেট পতনের পরই রানের গতি অনেকটা ধীর হয়ে আসে আয়ারল্যান্ডের। মেহেদী হাসানের একই ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন টিম টেক্টরের ভাই হ্যারি টেক্টরও। ১০ ওভারে আয়ারল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৯৭।
১১ ওভারে আয়াল্যান্ডের আরেকটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ৯ বলে ৭ রান করা বিন কালিৎজকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান মেহেদী। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা সাবধানী ব্যাটিং করেন পঞ্চম উইকেটে লর্কান টাকার- জর্জ ডকরেল জুটি। তাদের ৫৬ রানের জুটি শেষ সাইফউদ্দিনের বলে তানজিদ হাসানের তালুবন্দি হয়ে ২১ বলে ১৮ করা ডকরেল ফিরলে।
১৮ ওভারে ১৫০ পার করা আয়ারল্যান্ড শেষ দুই ওভারে তুলে ২৪ রান। ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে টাকার করেন আইরিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ বলে ৪১ রান।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মেহেদী হাসান। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন ৩০ বছর বয়সী ডানহাতি স্পিনার।

পার্থ টেস্টে বিধ্বস্ত হওয়া ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টের আগে বড় হোঁচট খেল। ব্রিসবেন টেস্টে মার্ক উডকে পাচ্ছে না ইংলিশরা। বাঁ হাঁটুর চোটের কারণে তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেবে না ইংল্যান্ড।
গত সপ্তাহে পার্থে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে নয় মাসের দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেছিলেন উড। বাঁ হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর প্রথম মাঠে নেমেছিলেন ইংলিশ গতি তারকা। ৮ উইকেটে হেরে যাওয়া টেস্টে ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার মাত্র ১১ ওভার বল করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র তিন ওভার বল করেন উড।
শনিবার সকালে ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের প্রথম অনুশীলনে দেখা যায়নি উডকে। কুইন্সল্যান্ডে দলের ১৩ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনিই একমাত্র অনুপস্থিত ছিলেন। তাতে ইংল্যান্ড এই ফাস্ট বোলারকে বিশ্রামে রাখছে, অনেকটা নিশ্চিতই।
ব্রিসবেনে দিবা-রাত্রির টেস্টে ইংল্যান্ডের একাদেশে উডের জায়গায় দেখা যেতে পারে জশ টাংকে। ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রী একাদশের বিপক্ষে ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে খেলছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১৬ ওভার বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন ডানহাতি পেসার।
প্রথম টেস্টের আগেই উডের খেলা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে লিলাক হিলে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে আট ওভার বল করে তিনি বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করেছিলেন। পরে নেটে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করেন। প্রথম টেস্টের প্রথম দিন দুর্দান্ত গতিতে বলও করেন উড।
২০২৪ সালের আগস্টে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টের পর পার্থে প্রথম মাঠে নামা উডকে নিয়ে ইংল্যান্ডের সতর্কতা একেবারেই যুক্তিযুক্ত। নিজের সেরা ছন্দে থাকলে তিনি বিশ্বের দ্রুততম বোলার। তবে তার ইনজুরি ইতিহাসই বড় মাথাব্যথার কারণ। বিশেষ করে বাঁ হাঁটুর চোট বেশ ভোগাচ্ছে বাঁহাতি এই পেসারকে। পার্থ টেস্ট চলাকালীন ফক্স ক্রিকেটকে উড নিজেই বলেছিলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই পাঁচটি টেস্ট খেলবেন না।’
আগামী বৃহস্পতিবার হবে অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্ট।