১২ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:০৪ পিএম

আগে ব্যাটিং করা ঢাকা ক্যাপিটালস চড়ল রানের চূড়ায়, লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম খুনে ব্যাটিংয়ে করলেন সেঞ্চুরি। রেকর্ড গড়া ওপেনিং জুটিতে বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোর পেল টানা ছয় ম্যাচ হারা ঢাকা। একপেশে ম্যাচে প্রথম বল থেকেই জয়ের লড়াইয়ে না থাকা দুর্বার রাজশাহী বরণ করল বিশাল পরাজয়। থিসারা পেরেরার দল পেল সপ্তম ম্যাচে এসে প্রথম জয়।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা জিতেছে ১৪৯ রানে। ঢাকার করা ১ উইকেটে ২৫৪ রানের জবাবে রাজশাহী গুটিয়ে গেছে স্রেফ ১০৫ রানেই।
আরও পড়ুন
| ইতিহাস গড়া জুটিতে সবাইকে পেছনে ফেললেন লিটন-তানজিদ |
|
ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষেই অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় ফলাফল। ২৫৪ রান তাড়া করে জিততে হলে রাজশাহীকে ঘটাতে হত মিরাকেল। তবে বাস্তবতা ছিল প্রথম থেকেই ভিন্ন। পাহাড়সম টার্গেটের পেছনে ছুটে পাওয়ার প্লেতেই চার উইকেট হারিয়ে বড় হার নিশ্চিত হয়ে যায় দলটির।
ব্যাটিং ভরাডুবির মধ্যে সাতে নেমে ৪৭ রানে অপরাজিত ইনিংস খেলে রাজশাহীর মান কিছুটা রক্ষা করেন রায়ান বার্ল। ঢাকার চার বোলার নেন দুটি করে উইকেট।
অবশ্য ঢাকার ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, এ যেন রানবন্যার এক উইকেট। আগের ম্যাচে ফিফটি করা লিটন প্রথম থেকেই ছিলেন রুদ্ররূপে। মাত্র ৪২ বলে করে ফেলেন সেঞ্চুরি, যা বিপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম শতক এখন। তানজিদও কম যাননি। তাতে রাজশাহীর বোলারদের ভুলে যাওয়ার মত দিনই কাটে। ১৯.৩ ওভারে যখন তানজিদ আউট হন ১০৮ রানে, তখন ঢাকার বোর্ডে রান ২৪১!
আরও পড়ুন
| সিলেটের টানা দ্বিতীয় জয় |
|
বিপিএলের ইতিহাসের তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড এটিই। আর সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটেই লিটন-তানজিদের ২৪১ এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শীর্ষে আছে জাপানের ইয়ামামোটো-লেক ও কে কাদোওয়াকি-ফ্লেমিংয়ের ২৫৮। ওপেনিং জুটিতে চীনের বিপক্ষে তারা এই রান করেছিলেন ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে।
লিটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১২৫ রানে, ৬৫ বলের ইনিংস সাজান ১০ চার ও ৯ ছক্কায়। তাতে ঢাকা পায় বিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর, যা তাদের এনে দেয় স্মরণীয় এক জয়।
No posts available.
৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম
৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

২০ রানে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার—আন্দ্রে ফ্লেচার, টম বেন্টন ও সঞ্জয় কৃষানমূর্তিকে হারিয়ে বিপদে পড়ে দল। চতুর্থ উইকেটে ব্যাট হাতে নামেন সাকিব আল হাসান। তাতে দল পায় দিশা, ফেরে ট্র্যাকে। মোহাম্মদ ওয়াসিমের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। নিজেও করেন ৩৬ রান।
সাকিবের বাইশগজ ছাড়া হওয়ার পরই ফের পথহারা হয়ে পড়ে এমআই এমিরাটস। শেষ পর্যন্ত ৪৬ রানে হারতে হয় আই এল টি টোয়েন্টির সাবেক চ্যাম্পিয়নদের।
দুবাইয়ে আজ আইএল টি টোয়েন্টির ২০২৫-২৬তম মৌসুমের ফাইনালে ডেজার্ট ভাইপার্সের মুখোমুখি হয় এমআই এমিরাটস। প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রান সংগ্রহ দাঁড় করায় ভাইপার্স। রান তাড়া করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় কাইরন পোলার্ড নেতৃত্বাধীন এমিরাটস।
টুর্নামেন্টে কোয়ালিফায়ার ‘এ’ এর ম্যাচে রেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে হেরেছিল এমিরাটস। তবে শুক্রবার এলিমিনেটর ম্যাচে আবু ধাবি নাইট রাইডার্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে সাকিবরা। ফাইনালে সেই আগের শত্রুর কাছেই হারল তারা।
এমিরাটসের ফল বিপরীতে গেলেও নক আউটের দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে প্রতিদান দিয়েছেন সাকিব। এলিমিনেটর ম্যাচে ৩৮ রান করেছিলেন সাকিব। আর আজ করলেন ৩৬ রান। ব্যক্তি সাকিব সফল হলেও দ্বিতীয় ট্রফি জেতার সুযোগ মিস করে এম আই এমিরাটস।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন দলগুলোর কৌশলগত কারণে হরহামেশাই দেখা যায় ট্যাকটিক্যাল রিটায়ার্ড আউট। সেটিকে এবার নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে নিউ জিল্যান্ডের সুপার স্ম্যাশের দিল নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস। এক ইনিংসে দুই ব্যাটারকে রিটায়ার্ড আউট করিয়েছে তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে টাই।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে রোববার ওটাগোর বিপক্ষে এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে নর্দার্ন। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ইনিংসে দুই ব্যাটারের রিটায়ার্ড আউট হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। দলের ডাকে বাধ্য হয়ে ফিরে যাওয়া দুই ব্যাটার জিত রাভাল ও জাভিয়ের বেল।
এর আগে ২০২২ সালের ভাইটালিটি ব্লাস্টে একই ম্যাচে রিটায়ার্ড আউট হয়েছিলেন কার্লোস ব্রাথওয়েট ও সামিত প্যাটেল। তবে তারা দুজন ছিলেন দুই দলে এবং দুই দলের নিজ নিজ ইনিংসে রিটায়ার্ড আউট হয়েছিলেন।
ওটাগোর বিপক্ষে রাভাল ও বেলকে রিটায়ার্ড আউট করার সুফল বেশ ভালোভাবেই পেয়েছে নর্দার্ন। এই ম্যাচে ১৬৭ রানের লক্ষ্যে ১৬ ওভারে মাত্র ১০৯ রান নিয়ে ধুঁকছিল নর্দার্ন। ২৪ বলে ৫৮ রান বাকি থাকতে তারা ডেকে নেয় ২৮ বলে ২৩ রান করা রাভালকে।
পরের ওভারে উঠিয়ে নেওয়া হয় ১৩ বলে ৯ রান করা বেলকেও। তাদের জায়গায় নেমে মাত্র ১০ বলে ২০ রান করেন বেন পোমার আর ১২ বলে ৩৪ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন স্কট কুগলেইন। তাদের দুজনের সৌজন্যে ওটাগোর সমান ১৬৬ রান করে নর্দার্ন। টাই হয় ম্যাচ।
টুর্নামেন্টের নিয়মে না থাকায় সুপার ওভার হয়নি খেলায়। তাই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দুই দল। তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় দলের মধ্যে সবার নিচে নর্দার্ন। সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে ওটাগো।

শেষ ৬ বলে ১০, টি-টোয়েন্টিতে খুব কী কঠিন টার্গেট ? তবে বোলার যখন মোস্তাফিজ, তখন তো এই টার্গেটটা সহজ হওয়ার কথা নয়। ডেথ ওভারে ভরসার নাম মোস্তাফিজ, এটা তার পরিচিত বৈশিষ্ট্য। তবে গত দুই দিন তাকে ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে তার ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়াই দূরুহ হয়ে পড়ার কথা। ভারতের উগ্র হিন্দুদের হুমকিকে কে কে আর-এর হয়ে আইপিএল খেলা হচ্ছে না। বিসিসিআই-এর অনুরোধে কে কে আর প্লেয়ার্স লিস্ট থেকে বাদ দিয়েছে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনা মোস্তাফিজকে। শনিবারের ওই ঘোষণার পাল্টা জবাব দিতে বিসিবিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে আইসিসির কাছে।
যাকে নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের কুটনৈতিক অবস্থার টানাপোড়েন, তার বিন্দুমাত্র সংক্রমিত হয়নি মোস্তাফিজের মধ্যে। রোববার রাতে সিলেটে চেনা মোস্তাফিজকেই দেখেছে সবাই। তার শেষ স্পেলই (২-০-৬-১) রংপুর রাইডার্সকে হাসিয়েছে। ১৮তম ওভারে মাত্র ২ রান খরচায় শামীম পাটোয়ারীকে শিকার করেছেন। শেষ ওভারে ৪ রানের বেশি খরচা করেননি। তাতেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতে উৎসব করেছে রংপুর রাইডার্স।
মিতব্যয়ী বোলিংয়ে (৪-০-২৩-১) ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১১টি দিয়েছেন মোস্তাফিজ। কুয়াশা ভেদ করে তার এই রাতটি আলোকিত করেছেন মাহমুদউল্লাহ। আর ৩১ দিন পর ৪০ বছর পূর্ণ হবে তাঁর। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে জানিয়েছেন গুডবাই। পরের বছরের একই মাসে সব ধরণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে জানিয়েছেন গুডবাই মাহামুদউল্লাহ। এবারের বিপিএলের নিলামে প্রথম রাউন্ডে অবিক্রিত থাকা মাহামুদউল্লাহকে পরের রাউন্ডে রংপুর রাইডার্স কিনে জানিয়ে দিতে চেয়েছিল, ফুরিয়ে যাননি এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। শুক্রবার রাতে সিলেটের বিপক্ষে ১৬ বলে ৩৪ রানের হার না মানা ইনিংসে রংপুরের ম্যাচ উইনার মাহামুদউল্লাহ রোববার রাতেও ম্যাচ উইনার। তাঁর ৪১ বলে ৭ বাউন্ডারিতে শোভিত ৫১ রানের ইনিংস এবং ৪র্থ উইকেট জুটিতে ডেভিড মালানকে সঙ্গে করে ৫৪ বলে ৭৪ রানের পার্টনারশিপের কল্যানেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর ( ১৫৫/৫) পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। অথচ, এই ম্যাচে জিয়াউর রহমান (১-০-১-২) এবং সাইফউদ্দিনের (২-০-৭-১) প্রথম স্পেলে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে দুর্যোগে পড়তে হয়েছে (৩১/৩)। সেখান থেকে শেষ পাওয়ার প্লে-তে ১ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান যোগ করতে পেরেছে রংপুর রাইডার্স।
১৫৬ রানের টার্গেট তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ওপেনিং পার্টনারশিপে রাহমানুল্লাহ গুরবাজ-মিঠুনের ৫৪, ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে উইকেটহীন ৫৩ সহজ জয়ের আবহ দিয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালসকে। তবে কাইল মায়ার্সের বলে কাউ কর্নারে গুরবাজ ক্যাচ দিলে (২২ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৩১) ম্যাচটা ধীরে ধীরে হাতে আসে রংপুরের। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাইফ হাসানের ধীরগতির ব্যাটিং (২৪ বলে ১৫) ঢাকা ক্যাপিটালসের টার্গেটটা ক্রমশ কঠিন করে দিয়েছে।
শেষ ৩০ বলে ৪৫, শেষ ১২ বলে ২৩-এসব চ্যালেঞ্জে জয়ের কক্ষপথেই ছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ১৯তম ওভারে পাকিস্তানী পেসার আকিফ জাভেদকে সাব্বির রহমান রুম্মান ১ চার, ১ ছক্কায় ১৩ রান আদায় করলে শ্বাসরুদ্ধকর সমাপ্তির দিকে ধাবিত হয় ম্যাচটি। তবে শেষ ওভারে মোস্তাফিজের কৌশলে বোতলবন্দি হয়েছেন সাব্বির-মিঠুন। বিফলে গেছে মিঠুনের হার না মানা ফিফটি (৩৮ বলে ৬ চার, ১ ছক্কায় ৫৬*)-সাব্বিরের ৮ বলে হার না মানা ১২ রান।

মাঠের বাইরে গত ৩৬ ঘণ্টায় অনেক কিছুই হয়ে গেছে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। তবে মাঠের ভেতরে এসবের বিন্দুমাত্র ছাপ পড়তে দেননি কাটার মাস্টার। দুর্দান্ত বোলিংয়ে দলকে জিতিয়েছেন তিনি। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানও বলেছেন, বিন্দাস আছেন বাঁহাতি এই পেসার।
ঘটনা মূলত মোস্তাফিজের আইপিএল খেলা নিয়ে। গত ১৬ ডিসেম্বর আইপিএলের নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে কিনে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবু ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা হবে না বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসারের।
কারণ সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে শনিবার মোস্তাফিজকে আইপিএলে বাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড। সেই ঘটনার জের ধরেই ভারতের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
তবে এসব ঘটনার ঝাপটা মাঠের পারফরম্যান্সে লাগতে দেননি মোস্তাফিজ। রোববার সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে চমৎকার বোলিং করেন বাঁহাতি পেসার। ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান খরচায় ১ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের বড় নায়ক তিনি।
বিশেষ করে শেষ ৩ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। সেখান থেকে ১৮তম ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে শামীম হোসেনের উইকেট নেন মোস্তাফিজ। পরে শেষ ওভারে ১০ রানের সমীকরণে তিনি খরচ করেন মাত্র ৪ রান। অর্থাৎ শেষ ২ ওভারে কোনো বাউন্ডারিই দেননি তিনি।
এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।
“অবশ্যই দেখেন, মুস্তাফিজ বিশ্বমানের বোলার। সেটাও অনেকদিন ধরে প্রুভ করে আসতেছে এবং ওই বিশ্বাসটা সবার আছে ওর উপরে। আর অবশ্যই আমার কাছে মনে হয় যে, ওরে নিয়ে বলার কিছু নাই। ও সবসময় মুগ্ধ করে।”
এসময় সোহানের কাছে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে তিনি জানান, সব সামলে বিন্দাস আছেন মোস্তাফিজ।
“অবশ্যই ও (মোস্তাফিজ) বিন্দাস আছে। তবে একইসঙ্গে খারাপ লাগা তো থাকতেই পারে। কারণ ও যেটা ডিজার্ভ করে... আমার মনে হয় যে এর আগেও আরও বেশি ডিজার্ভ করত। অবশ্যই ওই জায়গা থেকে আমার মনে হয় যে... ইট'স ফাইন। ইটস ফাইন।”
রংপুর অধিনায়কের কাছে আবার তোলা হয় এই প্রসঙ্গ। এবার জিজ্ঞেস করা হয়, বাইরের ঘটনায় কোন প্রভাব পড়েছে কিনা মোস্তাফিজ বা দলের ওপর। উত্তরে একই কথা বলেন সোহান।
“সত্যি কথা বলতে সোশ্যাল মিডিয়া বা এগুলা খুব একটা ফলো করি না. বাইরে কি হচ্ছে আমি খুব একটা বেশি জানি না। তবে হ্যাঁ, দলের ভেতরে আমাদের কথা হচ্ছিল।”
“তবে যেটা বললাম মোস্তাফিজের অবশ্যই খারাপ লাগা থাকতে পারে, সে (আরও ভালো কিছু) ডিজার্ভ করতে পারে। তবে আমার মনে হয় যে, ও সবসময় স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের হয়ে সেরাটা দেওয়া এবং আমার কাছে মনে হয়, ও বিন্দাস আছে।”

পাওয়ার প্লের মধ্যে ড্রেসিং রুমে ফিরে গেলেন রংপুর রাইডার্সের তিন ব্যাটার। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৩১ রান। সেখান থেকে হাল ধরলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পাল্টা আক্রমণে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করায় শেষ পর্যন্ত তিনিই জিতলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪১ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৯ বছর ৩৩৪ বছর বয়সে ফিফটি করে বিপিএলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ফিফটি করা ব্যাটার এখন তিনি।
চাপের মুখে তার এমন ইনিংসের পর খুশদিল শাহর ঝড়ে ১৫৫ রানের পুঁজি পায় রংপুর। এরপর বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমানের জাদুতে ৫ রানে জেতে রংপুর। তবে প্রথম ইনিংসে রংপুরকে ভিত গড়ে দেওয়া পারফরম্যান্স মাহমুদউল্লাহই নির্বাচিত হন ম্যান অব দা ম্যাচ।
বিপিএলে এ নিয়ে ১৩ বার ম্যাচ সেরা হলেন মাহমুদউল্লাহ। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তার ২৫তম ম্যান অব দা ম্যাচ পুরস্কার।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এই পুরস্কার পেয়ে ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা।
“আলহামদুলিল্লাহ! প্রথমত সর্বশক্তিমান আল্লাহকে ধন্যবাদ আমাকে এমন ইনিংস খেলার শক্তি দেওয়ার জন্য। তবে দিন শেষে আমার মনে হয়, এটি আরও একবার প্রমাণ হলো যে ক্রিকেট আনপ্রেডিক্টেবল।”
এর আগের ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ১৬ বলে ৩৪ রান করে দলকে জিতিয়ে তিনি হয়েছিলেন ম্যান অব দা ম্যাচ। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এত ভালো ব্যাটিং আর কখনও করেছেন কিনা।
উত্তরে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার আশার কথা বলেন মাহমুদউল্লাহ।
“সম্ভবত হ্যাঁ! এর আগে কয়েকবার এমন ব্যাটিং করেছি। তবে আলহামদুলিল্লাহ। ব্যাটিংয়ে ভালো একটা মোমেন্টাম পাচ্ছি। আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও এমন খেলতে পারব ইনশাআল্লাহ্।”