৮ নভেম্বর ২০২৪, ৬:০০ পিএম

সময় যখন খারাপ যায়, সবদিক থেকেই যায়। কিলিয়ান এমবাপের বেলায় এই মুহূর্তে ঠিক সেটাই চলছে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে খুব একটা খারাপ না খেললেও প্রত্যাশার পাহাড়ের কারণে সমালোচনা হচ্ছে অহরহ। দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে যে জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন, সেই পথও হয়ে গেছে আপাতত বন্ধ। চলতি মাসের দুটি ম্যাচের জন্য তিনি খেলতে চাইলেও ফরাসি তারকাকে দলের বাইরেই রেখেছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশম। তবে কী দ্বন্দে জড়িয়ে পড়েছেন দুজন? স্পষ্ট না বললেও কিছু বিষয়ে অমত যে হচ্ছে, তার আভাস ঠিকই দিয়েছেন দেশম।
গত মাসে আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিজেই ফ্রান্সের হয়ে খেলা থেকে বিরত থাকেন এমবাপে। যদিও ঠিক তার আগে চোট কাটিয়ে রিয়ালের হয়ে খেলেন কিছু ম্যাচ। সেই কারণে নিজ দেশে প্রবল তোপের মুখে পড়েন তিনি। তবে চলতি মাসে ইউয়েফা নেশন্স লিগে ইসরায়েল ও ইতালির বিপক্ষে তিনি খেলতে চেয়েছিলেন। তবে এবার তার অনুরোধ উপেক্ষা করে রিয়াল ফরোয়ার্ডকে দলের বাইরে রেখেছেন দেশম।
আরও পড়ুন
| নৈশক্লাবে এমবাপে কী করছেন, তা নিয়ে চিন্তা নেই ফ্রান্স কোচের |
|
দলের অধিনায়ক ফিট থাকার পরও দলে জায়গা না পাওয়ায় তাই উঠছে নানা প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সেই পালে হাওয়া না দিলেও বাতাসে যা ভাসছে, তার কিছুটা যে সত্যি তা ফুটে উঠেছে ফ্রান্স কোচের কণ্ঠে-
“আমি তার সাথে কথা বলেছি। কিলিয়ান আসতে চেয়েছিল। এটা এমন একটা সিদ্ধান্ত যা আমি শুধুমাত্র এই দুই ম্যাচের জন্য নিয়েছি। কাইলিয়ান আসতে চেয়েছিল।”
পিএসজি থেকে রিয়ালে এই মৌসুমে নাম লেখানো এমবাপে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে গোল করেছেন ছয়টি। তবে এল ক্লাসিকো ও এসি মিলানের বিপক্ষে টানা দুটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার মলিন পারফরম্যান্স স্পেনে জন্ম দিয়েছে তীব্র সমালোচনার। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচে গোলের দেখা না পাওয়া এমবাপে অফসাইড হন ৮ বার, যা গত ১৫ বছরে লা লিগায় এক ম্যাচে একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ অফসাইড হওয়ার রেকর্ড।
আরও পড়ুন
| এমবাপের জায়গায় ফ্রান্সের অধিনায়কত্ব পেলেন রিয়াল মিডফিল্ডার |
|
কঠিন সময়ে বরাবরই এমবাপেকে আগলে রাখা দেশমও যেন কিছুটা দূরত্বে চলে গেছেন-
“আমরা সবকিছুতেই একমত নাও হতে পারি। আমি খেলোয়াড়দের সাথে আলোচনা করতেই পারি। আমি এখানে খেলোয়াড়দের এটা বলার জন্য আসিনি যে, ‘আমি সেরা এবং সবচেয়ে সুদর্শন।’ আমি তাদের কথাও শুনি। আর এই আলোচনাগুলো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবদিক বিবেচনায় এরপর আমি সেই সিদ্ধান্তগুলি নিই, যা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো বলে মনে হয়।”
No posts available.
৬ মে ২০২৬, ৬:০৪ পিএম

আসন্ন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এবার লাল-সবুজের দলকে নেতৃত্ব দেবেন আফঈদা খন্দকার প্রান্তি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের প্রস্তুতি, প্রত্যাশা এবং সাম্প্রতিক সমালোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজের ফর্ম এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আফঈদা বলেন,
‘আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁর অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা হয়।’
সিনিয়র পর্যায়ে নিজের পারফরম্যান্সের উত্থান-পতন এবং ফর্মে ফেরার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আফঈদা বলেন,
'আসলে একজন খেলোয়াড়ের সব সময় ভালো সময় যায় না। আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁর অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা করা হয়। আমি চাই মানুষের এই চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসুক, তারা যেন খেলোয়াড়দের সবসময় উৎসাহিত করেন।’
এবারের সাফের দলে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে। তার মধ্যে আছেন মমিতা খাতুন এবং অর্পিতা বিশ্বাস অর্পিতা। গত সাফের ২৩ জনের স্কোয়াডে থাকা এবারের সফরে এসেছে বড় পরিবর্তন। নতুন করে এই সাফে যাচ্ছেন ১০জন ফুটবলার। বড় মঞ্চে এই তরুণদের নিয়ে প্রত্যাশার চাপ কতটা, এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, দলে নতুন বলতে আসলে কিছু নেই। খেলোয়াড়রা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে নিবিড় অনুশীলন করছেন এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াও দারুণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার ভারতের গোয়ায় মাঠে নামবে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। স্বাগতিক ভারত নিজেদের মাটিতে নিশ্চিতভাবেই চাইবে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা রুখে দিতে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার। ভারত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আফঈদা জানান,
‘সাফে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল তিনটি দলই অনেক শক্তিশালী। ভারত চাইবে না বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক করুক, তবে দল তাদের হারানোর পুরো প্রস্তুতি নিয়েই যাচ্ছি আমরা। যেকোনো দেশের মাটিতেই হোক না কেন, নিজেদের সেরাটা দিয়ে জেতার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
শিরোপা ধরে রাখার বাড়তি কোনো মানসিক চাপ নেই জানিয়ে আফঈদা বলেন,
‘মাঠে নামার পর হ্যাটট্রিকের চিন্তা মাথায় থাকে না। প্রত্যাশার চাপ ওরকম কিছু না। আমরা যখন মাঠে নামি তখন আমাদের মাথায় থাকে না যে হ্যাটট্রিক করতে হবে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামি। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।’
সম্প্রতি এএফসি কাপে দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে ৩ গোল হজম করার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে আফঈদা বলেন,
‘হার-জিত খেলার অংশ এবং এএফসিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে দল শিখেছে যে, এই পর্যায়ের ফুটবলে পুরোটা সময় একাগ্রতা ধরে রাখা কতটা জরুরি। একাগ্রতা হারানোর কারণেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোলগুলো হজম করতে হয়েছিল।’
এবার
ছোট ছোট ভুল শুধরে সাফের
মঞ্চে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ
করতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ।

ইউরোপীয় ফুটবলের মানচিত্রে আজ রাতটি হয়তো হতে যাচ্ছে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী। পার্ক দে প্রাঁসে ফুটবলপ্রেমীরা যা দেখেছি, তাকে ফুটবল নয় বরং এক রোলারকোস্টার রাইড বলাই শ্রেয়। ৫-৪ গোলের সেই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই কেবলই ছিল এক রোমাঞ্চকর নাটকের প্রথমাংশ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগের সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতি সতেজ থাকতেই আজ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফিরতি লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি। মাত্র ৬৮ মিনিটে ৯ গোলের সেই মহোৎসব ফুটবল বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে, রক্ষণের খোলসে বন্দি না থেকে বুক চিতিয়ে আক্রমণ করাই বায়ার্ন মিউনিখ-পিএসজির ডিএনএ। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতায় গোল উন্মাদনায় মেতেই ফাইনাল নিশ্চিতের মঞ্চ কাঁপাতে মুখিয়ে আছে দুই দল।
২০২২ সাল থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে কোনো ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়ম নেই। এর অর্থ হলো, ফাইনালে যেতে বায়ার্নকে দ্বিতীয় লেগে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে জিততে হবে; অথবা এক গোলের ব্যবধানে জিতে টাইব্রেকারে পিএসজিকে হারাতে হবে। যদি ম্যাচটি ড্র হয় কিংবা বায়ার্ন হেরে যায়, তবে পিএসজি সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে যাবে এবং বিদায়ঘন্টা বাজবে বায়ার্নের।
দ্বিতীয় লেগ কি প্রথম লেগের মতোই আক্রমণাত্মক হবে? ভিনসেন্ট কম্পানির বার্তা ছিল বেশ ভীতিকরই— ‘আরও বেশি, আরও আক্রমণাত্মক।’ বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা মূলত অন্য কোনো ঢঙে খেলতে অভ্যস্তই নয়; প্রতি ম্যাচেই তারা তাদের আক্রমণভাগের পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্যদিকে, পিএসজিও তাদের ধরনে খুব একটা বদল আনবে বলে মনে হয় না। এগিয়ে থাকায় লুইস এনরিকের শিষ্যরা কিছুটা রক্ষণাত্মক হওয়ার বিলাসিতা দেখাতে পারলেও, মিউনিখে তারা যে বিধ্বংসী গতিতেই খেলবে তা নিশ্চিত।
ফাইনালে যাওয়ার এই লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও বায়ার্নকেই অনেকে এগিয়ে রাখছেন। ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার গগনবিদারী সমর্থন বড় প্রভাব ফেলবে, যেখানে চলতি মৌসুমে মাত্র তিনটি ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি বাভারিয়ানরা। বুধবারের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দুই দলের মধ্যে এই হোম অ্যাডভান্টেজই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
প্রথম লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পিএসজি জয় পেলেও মাঠের পরিসংখ্যানে কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের দাপটই ছিল বেশি স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে ৫৭ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা বাভারিয়ানরাই গোলের সুযোগ বেশি তৈরি করেছে। বিশেষ করে পিএসজির রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে রেকর্ড ৫২ বার বল স্পর্শ করেছে বায়ার্ন।
মিউনিখের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা তাদের ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত ২৯টি হোম ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হারের রেকর্ড থাকা বায়ার্ন নিজেদের দুর্গে এক অদম্য শক্তি। যেখানে চলতি মৌসুমের ২৩ ম্যাচের ২০টিতেই তারা মাঠ ছেড়েছে বিজয়ী বেশে।
বায়ার্নের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস হতে পারেন হ্যারি কেইন। ইউরোপীয় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার শীর্ষে থাকা এই ইংলিশ স্ট্রাইকার চলতি মৌসুমে ৪৭ ম্যাচে করেছেন অবিশ্বাস্য ৫৪ গোল। বিপরীতে পিএসজির হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা মাত্র ১৮। পাশপাশি ডানপাশে ঝড় তোলার জন্য মাইকেল ওলিসে তো আছেনই। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৫২ গোলে অবদান রাখা ফরাসি এই উইঙ্গার মুহূর্তেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে একাই তছনছ করে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।
লিগ শিরোপা আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বুন্দেসলিগায় হেইডেনহাইমের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া গত ম্যাচে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার বিলাসিতা দেখাতে পেরেছে বায়ার্ন। পিএসজির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে নতুন কোনো চোটের সমস্যাও নেই তাদের শিবিরে।
অবশ্য রাফায়েল গেরেইরো এবং সার্জ গ্যানাব্রি এখনও মাঠের বাইরে রয়েছেন। গ্যানাব্রি তো ছিটকে গেছেন পুরো মৌসুম এবং এমনকি বিশ্বকাপ থেকেও। এছাড়া তরুণ উদীয়মান প্রতিভা লেনার্ট কার্লের খেলা নিয়ে পেশির চোটের কারণে কিছুটা সংশয় রয়েছে। প্যারিসে হারের তেতো স্বাদ পাওয়া সেই একাদশে খুব একটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই ছয়বারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ীদের। তাদের সেই বিধ্বংসী আক্রমণভাগ আরও একবার রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়াতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
তবে পিএসজি প্রথম লেগ থেকে পুরোপুরি অক্ষত ফিরতে পারেনি। ম্যাচের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন আশরাফ হাকিমি, আর এই চোটই মরক্কোর এই ফুল-ব্যাককে মিউনিখ সফর থেকে ছিটকে দিয়েছে। এই মরক্কান তারকার জায়গায় দেখা যেতে পারে মাঝমাঠের ওয়ারেন জায়ের-এমেরি খেলবেন, এই মৌসুমে নিয়মিতই রাইট ব্যাক পজিশনের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
জায়ের-এমেরি রক্ষণভাগে চলে আসলে মাঝমাঠ ফিরছেন ফাবিয়ান রুইজ। চোট কাটিয়ে ফেরা এই স্প্যানিশ তারকা গত সপ্তাহে লরিয়েন্টের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। এছাড়া প্রথম লেগের একাদশে আর কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, ফলে পিএসজির সেই তারকাখচিত আক্রমণভাগ অপরিবর্তিতই থাকছে।
বায়ার্ন মিউনিখ বনাম পিএসজি—লড়াইটা এখন আভিজাত্যের। ২০১৯-২০ এর ফাইনালে পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়ে বায়ার্ন জয়োল্লাস করলেও, পিএসজি এখন আর সেই 'আন্ডারডগ' দল নেই। গত বছরের মে মাসে মিউনিখের এই মাঠেই ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে প্যারিসের ক্লাবটি। অনেক ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, এই সেমিফাইনালটি কার্যত 'অঘোষিত ফাইনাল'; কারণ আজ যারা শেষ হাসি হাসবে, তাদের হাতেই টুর্নামেন্টের শিরোপা দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ৪০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন উজবেকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার ফ্যাবিও ক্যানাভারো। বিশ্বকাপের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন ক্যাম্পের জন্য এই দল চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৬ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তাসখন্দে তিন সপ্তাহের ক্যাম্প হবে।
তালিকায় থাকা ১১ জন খেলোয়াড় রয়েছেন যাঁরা রাশিয়ার প্রিমিয়ার লিগ বা রুশ ক্লাবগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাঁদের মধ্যে আছেন তারকা ফরোয়ার্ড এলদোর শমুরোদভ, আব্বোসবেক ফয়জুল্লায়েভ ও ওস্টন উরুনভ। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভও আছেন স্কোয়াডে। অধিনায়ক এলদোর শোমুরোদভ।
২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নোদির আবদুরাজ্জাকভ ও প্রতিভাবান মিডফিল্ডার শেরজোদ এসানভসহ বেশ কয়েকজন অনভিষিক্ত খেলোয়াড় চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবেন।
চোট কাটিয়ে ফেরার পথে থাকা কয়েকজন খেলোয়াড়কেও দলে রেখেছেন ক্যানাভারো। যার মধ্যে ফরোয়ার্ড খুসাইন নরচায়েভ ও জালোলিদ্দিন মাশারিপভও আছেন।
কোচ ক্যানাভারো আপাতত হাতে থাকা সব বিকল্প যাচাই করে দেখার সুযোগ নিতেই এই বড় তালিকার করেছেন। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যাওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী এই তালিকা থেকে ২৩ থেকে ২৬ জন খেলোয়াড়কে চূড়ান্ত স্কোয়াডের জন্য রাখা হবে। বর্তমান দলের একটি বড় অংশকে মূল টুর্নামেন্টের আগে বাদ পড়তে হবে।
উজবেকিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৭ জুন মেক্সিকো সিটিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। এরপর ছয় দিন পর হিউস্টনে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে তারা এবং ২৭ জুন আটলান্টায় কঙ্গো ডিআরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে।
কোচ: ফ্যাবিও ক্যানাভারো
গোলকিপার
ভ্লাদিমির নাজারভ, উৎকির ইউসুপভ, বতিরালি এরগাশেভ, আবদুভোখিদ নেমাতভ
ডিফেন্ডার
ইব্রোখিমখালিল ইউলদোশেভ, আভাজবেক উলমাসালিয়েভ, জাখঙ্গির উরোজভ, রুস্তমজন আশুরমাতভ, মুখাম্মাদকোদির হামরালিয়েভ, উমারবেক এশমুরোদভ, আবদুকোদির খুসানভ, আবদুল্লাহ আবদুল্লাহয়েভ, ফারুখ সায়ফিয়েভ, খোজিয়াকবার আলিজোনভ, শেরজোদ নাসরুল্লায়েভ, মুহাম্মাদরাসুল আবদু মাজিদভ, বেহরুজ করিমভ, দিয়র ওরতিকবোয়েভ
মিডফিল্ডার
কুভান্দিক রুজিয়েভ, শেরজোদ এসানভ, নদিরবেক আবদুরজোকভ, ওদিলজন খামরোবেকভ, উমারালি রাখমোনালিয়েভ, আলিশের ওদিলভ, সাদরোরবেক বাখরোমভ, আকমাল মজগোভয়, ওতাবেক শুকুরভ, জামশিদ ইস্কান্দারভ, জাসুরবেক জালোলিদ্দিনভ, আজিজজন গানিয়েভ
ফরোয়ার্ড
আব্বোসবের ফায়জুল্লায়েভ, জালোলিদ্দিন মাশারিপভ, দোস্তনবেক খামদামভ, ওস্টন উরুনভ, রুসলানবেক জিয়ানভ, আজিজবেক আমোনভ, খুসাইন নরচায়েভ, শেরজোদ তেমিরভ, ইগর সের্গিয়েভ, এলডোর শমুরোদভ।

নারী সাফে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এবার মেয়েদের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সুযোগ। ২০২২ এবং ২০২৪ সালে নেপালে জেতা সাফ টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন স্বপ্না রানী মন্ডল। সর্বশেষ সাফে খেলেছেন মুনকি আক্তারও। এবার ভারতে হতে যাওয়া সাফে নেই এই দুই মিডফিল্ডার। পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়েছেন তাঁরা।
এছাড়া বাদ পড়েছেন সিনিয়র দল খেলা নিয়মিত মুখ আরেক মিডফিল্ডার পূজা দাস। ইনজুরির কারণে জায়গা হয়নি নবিরণ খাতুনের। নতুন করে দলে ঢুকেছেন মমিতা খাতুন এবং ডিফেন্ডার অর্পিতা বিশ্বাস। দুজনেই বয়সভিত্তিক দলে পারফরম্যান্স করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দলে সুযোগ পাওয়াদের নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, ‘নতুন বলতে কিছু নেই, কারণ আমরা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে অনুশীলন করছি। সবার মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো। আশা করি সবাই মিলে ভালো কিছুই করতে পারব।’
বাদ পড়া স্বপ্না এবং মুনকি আক্তারকে নিয়ে কোচ বাটলার বলেছেন, ‘স্বপ্না এবং মুনকির ক্ষেত্রে কারণ হলো, খারাপ পারফরম্যান্স। তারা সেই পর্যায়ে পারফর্ম করেনি, কথা শোনেনি এবং আশা করি একদিন তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে। আশা করি তারা উপলব্ধি করবে যে আমি তাদের ভালোর জন্যই এটি করছি। তাই তাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা দলের সঙ্গে অনুশীলন করছে না, এমনকি প্রশিক্ষণ দলেও নেই। আর এর কারণ স্পষ্ট- খারাপ পারফরম্যান্স।’
২০২৪ সালের সাফের স্কোয়াড থেকে এবার সাফে নেই মোট ১০ জন। সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, সুমাইয়া মাতসুশিমা, কৃষ্ণা রানী সরকার ও সানজিদা আক্তার ছিলেন সাফজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মিয়ানমারে হওয়া এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পর থেকেই তারা আর বাটলারের বিবেচনায় নেই। এছাড়াও ওই আসরে খেলেছেন নিলুফা ইয়াসমিন নিলা, গোলকিপার ইয়ারজান বেগম, আইরিন খাতুন, স্বপ্না রানী ও মুনকি আক্তার।
গত সাফে ছিলেন না এবার দলে ঢুকেছেন তারা হলেন- সুরমা জান্নাত, হালিমা আক্তার, সুরভী আক্তার আরফিন, উন্নতি খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, মমিতা খাতুন, উমেহ্লা মারমা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, সৌরভী আকন্দ প্রীতি এবং স্বর্না রানী মন্ডল।
সাফের জন্য ২৩ সদস্যের বাংলাদেশ দল: রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, সুরমা জান্নাত, হালিমা আক্তার, সুরভী আক্তার আরফিন, উন্নতি খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, মোসাম্মৎ মমিতা খাতুন, উমেহ্লা মারমা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, সৌরভী আকন্দ প্রীতি, স্বর্না রানী মন্ডল, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, শামসুন্নাহার জুনিয়ার, শামসুন্নাহার সিনিয়র, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, শাহেদা আক্তার রিপা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মোসাম্মৎ সাগরিকা, তহুরা খাতুন, শিউলি আজিম।

আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা নিয়ে বড় ধরণের শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, ইরানের বিশেষ সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কে কোনো প্রকার অপমান করা হবে না—ফিফাকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।
গত সপ্তাহে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে কানাডা সীমান্ত থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয় মেহেদি তাজের নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধি দল। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, সেখানে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে তারা অপমানের শিকার হয়েছেন। যদিও কানাডার ইমিগ্রেশন মন্ত্রী পরবর্তীকালে পার্লামেন্টে জানান, আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে মাঝ আকাশে থাকাকালীনই মেহেদি তাজের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।
২০২৪ সালে কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে প্রথম দেশ হিসেবে আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। মেহেদি তাজ ফুটবল প্রশাসনে আসার আগে ইসফাহান প্রদেশে আইআরজিসির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তেহরানে এক সরকারি সমাবেশে যোগ দিয়ে তাজ বলেন, ‘আমাদের জাতীয় প্রতীক এবং বিশেষ করে আইআরজিসি-কে অপমান করার অধিকার তাদের নেই। যদি ফিফা এ বিষয়ে আমাদের শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবেই আমরা যাব। তা না হলে কানাডার মতো পরিস্থিতি আবারও হতে পারে।‘
আরও পড়ুন
| কাল দেশ ছাড়ছে নারী ফুটবল দল |
|
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। তবে সেই কালো মেঘ এখন অনেকটাই কেটে গিয়েছে। ইরানের ফুটবল প্রধান বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি কারণ আমরা যোগ্যতা অর্জন করেছি। বিশ্বকাপে আমাদের আয়োজক ফিফা, ডোনাল্ড ট্রাম্প বা আমেরিকা নয়। তারা যদি আমাদের আতিথেয়তা দিতে রাজি হয়, তবে আমাদের সামরিক সংস্থাকে অপমান না করার বিষয়টিও তাদের মানতে হবে।‘
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরানি ফুটবলারদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের কোনো আপত্তি নেই। তবে আইআরজিসির সাথে কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা থাকা কাউকে তাদের মাটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ইরানি প্রতিনিধিদলকে ২০ মে-র মধ্যে ফিফা সদর দপ্তরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হবে।