৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:২৭ পিএম

এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে চমকে দেওয়া নাসুম আহমেদ ফিরতি স্পেলে যখন ফিরলেন, ততক্ষণে খাওয়াজা নাফায় ও হোসেন তালাত ক্রিজে পুরোপুরি সেট। হাতে উইকেট থাকায় ম্যাচ অনেকটাই হেলে পড়ল চিটাগং কিংসের দিকেই। তবে বাঁহাতি স্পিনের ভেল্কিকে দারুণ এক স্পেলে খুলনা টাইগার্সকে ম্যাচে ফেরালেন নাসুম। ইনিংসের মাঝপথে দিক হারানো চিটাগংকে জয়ের সুবাস দিলেন টেল এন্ডাররা। সেখান থেকে শেষ বলে চার মেরে চিটগংকে ফাইনালে নিয়ে গেলেন আলিস আল ইসলাম। তাতে বিফলেই গেল শিমরন হেটমায়ারের বিধ্বংসী এক।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে চিটাগং জিতেছে ২ উইকেটে। মেহেদি হাসান মিরাজের দল আগে ব্যাটিং করে দাঁড় করিয়েছিল ৬ উইকেটে ১৬৩ রানের স্কোর। আশা জাগিয়েও চিটাগং সেই রান তাড়া করেছে ম্যাচের শেষ বলে।
এর ফলে ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মত বিপিএলে ফিরেই ফাইনালের টিকিট পেয়েছে চিটাগং। আগামী শুক্রবার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল।
নিজেদের শেষ তিন ম্যাচ ধরেই খুলনার জন্য প্রতিটি ম্যাচই ছিল ফাইনালের মতোই। সেই পরীক্ষায় তারা ভালোভাবেই উতরে যায়। এলিমিনেটর ম্যাচে তো স্রেফ উড়িয়ে দেয় তারকায় ঠাসা রংপুরকে। তবে চিটাগংয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দিনের শুরুটা ভুলে যাওয়ার মতোই ছিল খুলনার।
এই ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ৫০০ রান করেন নাঈম। ৫১১ রান নিয়ে এই আসরের সর্বোচ্চ রানও তার। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে হতাশই করেন তিনি। চারটি চার মারলেও ডট বল খেলে ফেলেন বেশ কিছুই। ফলে বাড়ে চাপ, আর সেটা সরাতে গিয়েই আউট হওয়ার আগে ২২ বলে করতে পারেন মাত্র ১৯ রান।
আরেক ওপেনার মিরাজ, অ্যালেক্স রস বা আফিফ হোসেনদের কেউই পারেননি হাল ধরতে। ফলে নয় ওভারের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে দলীয় ফিফটিও (৪২) করতে পারেনি খুলনা।
ওই অবস্থা থেকে পঞ্চম উইকেটে পাল্টা লড়াইয়ের সূচনা করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও হেটমায়ার। দুজনেই জুটিতে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করলেও, দ্রুত রান বের করতে পারছিলেন না। বিশেষ করে হেটমায়ার, প্রথম ২২ বলে করেন মাত্র ২৯ রান।
তবে এরপরই চেনা ছন্দে দেখা যায় এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটারকে। চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে ঝড় তোলেন শেষ চার ওভারে। সাথে অঙ্কন দেন যোগ্য সঙ্গ। এই দুজনের প্রয়াসে ১৬০ রান পার করে ফেলে খুলনা।
৩৩ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৩ রান করেন হেটমায়ার। ৪১ রান করেন অঙ্কন।
এই রান তাড়ায় চিটাগংয়ের শুরুটাও হয়নি আদর্শ। অল্পেই ফেরেন দুই ফর্মে থাকা ব্যাটার পারভজ হোসেন ইমন ও গ্রাহাম ক্লার্ক। এরপরই ওই জুটি গড়েন নাফায় ও তালাত। দেখেশুনে খেলেই ম্যাচটা ক্রমেই খুলনার হাত থেকে বের করে নিচ্ছিলেন দুজন।
নাফায় তুলে নেন ফিফটি। তালাতও এগিয়ে যাচ্ছিলেন ভালোভাবেই। তবে আক্রমণে এসেই নাসুম দেখান তার ভেল্কি। লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের টার্ন করা ডেলিভারিতে সীমানা পার করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে বিদায় ডেকে আনেন ৫৭ করা নাফায়। এরপরই নামে একটা ছোটখাটো ধস।
১২ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জোরাল করে খুলনা। তবে অষ্টম উইকেটে নাসুম আহমেদ ও আলিস আল ইসলাম মিলে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন কার্যকর এক জুটিতে, যা ম্যাচকে নিয়ে যায় শেষ ওভারে।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। মুসফিক হাসানের করা প্রথম বলে চার মেরে দেন আরাফাত সানি। তিন বলে ৮ রানে নেমে আসা সমীকরণে ক্রিজে নেমেই চার মারেন শরিফুল ইসলাম। তবে পরের বলেই তাকে ক্যাচ আউটে ফেরান মুসফিক। এক বলে চার রান প্রয়োজন, এমন টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে উড়িয়ে মেরে চার হাঁকান আলিস, উল্লাসে ফেটে পড়ে চিটাগং শিবির। আর একরাশ হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয় খুলনাকে।
ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলা আলিস খেলেন মাত্র ৮ বলে ২১ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৩৭ পিএম

২০২৬ সালটা শুরুই হলো দুর্দান্ত এক ইনিংস দিয়ে। অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম টেস্টে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অসাধারণ সেঞ্চুরিতে দারুণ কিছুর বার্তা দিলেন জো রুট। ১৬০ রানের ইনিংস খেলে আবারও জানিয়ে রাখলেন, টেস্ট ক্রিকেটে সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার তিনি।
লাল বলের ক্রিকেটে রুটের পারফরম্যান্স ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে তাঁর সামনে হাতছানি দিচ্ছে একাধিক ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক মাইলফলক—
টেস্টে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ড
টেস্টে সর্বোচ্চ ফিফটির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন জো রুট। ২৯৭ ইনিংসে তাঁর ফিফটি ৬৬টি। শীর্ষে রয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার, যিনি ৩২৯ ইনিংসে ৬৮টি ফিফটি করেছিলেন।
ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করার হার বেশ ভালো রুটের। তবে চলতি বছরেই তিনি শচীন ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ড নিজের করে নিতে পারেন।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ৭ হাজার রান
এ পর্যন্ত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সব চক্রেই খেলেছেন রুট। এই প্রতিযোগিতায় ১৩৫ ইনিংসে তাঁর রান ৬৪৭৪, গড় ৫২.৬৩। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মার্নাস লাবুশেন, যাঁর রান ৪৪৪৭।
আরও পড়ুন
| বেথেলের সেঞ্চুরির পরও পরাজয়ের শঙ্কায় ইংল্যান্ড |
|
৭ হাজার রানে পৌঁছাতে রুটের প্রয়োজন ৫২৬ রান। সাম্প্রতিক ফর্ম ও ম্যাচসংখ্যা বিবেচনায় ২০২৬ সালেই তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছানোর দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।
ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরি
ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটি আছে কিংবদন্তি ওয়ালি হ্যামন্ডের নামের পাশে। তিনি ১৪০ ইনিংসে করেছিলেন ৭টি দ্বিশতক। রুটের ডাবল সেঞ্চুরি এখন ৬টি, খেলেছেন ২৯৭ ইনিংস।
২০২৪ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৬২ রানের ইনিংসটি এখনো রুটের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। চলতি বছর তিনি হ্যামন্ডের রেকর্ডে ভাগ বসাতে কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় ওপরে ওঠার সুযোগ
সিডনির টেস্টে শতরান করে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৪১তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন রুট। এই তালিকায় তিনি এখন যৌথভাবে তিন নম্বরে রয়েছেন—অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে।
দ্বিতীয় স্থানে আছেন জ্যাক ক্যালিস (৪৫টি সেঞ্চুরি) এবং শীর্ষে শচীন টেন্ডুলকার (৫১টি)। ক্যালিসকে ছাড়িয়ে যেতে রুটের প্রয়োজন আরও পাঁচটি শতক, আর শীর্ষে উঠতে হলে করতে হবে আরও ১১টি সেঞ্চুরি।
টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার সম্ভাবনা
টেস্টে জো রুটের রান ১৩৯৩৭। এই তালিকায় তিনি দ্বিতীয়, শীর্ষে থাকা শচীন টেন্ডুলকারের রান ১৫৯২১। শচীনকে ছাড়িয়ে যেতে রুটের প্রয়োজন আরও ১৯৮৫ রান।
২০২৬ সালের প্রথম টেস্টেই তিনি করেছেন ১৬০ রান। তবে এক ক্যালেন্ডার এত রান করা রুটের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাটার এক বছরে ১৭৮৮ রানের বেশি করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে বয়স ৩৫ বয়সী রুটের সামনে ২০২৬ সাল হতে পারে ইতিহাস গড়ার বছর। ফর্ম আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ইংল্যান্ডের এই ব্যাটার নতুন করে লিখতে পারেন টেস্ট ক্রিকেটের একাধিক রেকর্ড।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর একমাস। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার আগে ভারতীয় ভিসার জটিলতায় পড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, ইতালি, কানাডার একাধিক ক্রিকেটার।
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়ায় এসব খেলোয়াড়ের ভিসা আবেদন এখনও অনুমোদন দেয়নি ভারত। এই বিষয়টি নিয়ে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনও কোনো সমাধান মেলেনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ অন্য দেশের নাগরিক হলেও যদি তিনি নিজে বা তার বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তাহলে তাকে পাকিস্তানি পাসপোর্টে ভিসার আবেদন করতে হয়। এতে যাচাই-বাছাইয়ের সময় দীর্ঘ হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিসা অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন
| বেথেলের সেঞ্চুরির পরও পরাজয়ের শঙ্কায় ইংল্যান্ড |
|
খেলাধুলার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট জানিয়েছে, ভিসা সংকট নিয়ে প্রথমে আইসিসির দ্বারস্থ হয় আরব আমিরাত। দলটির অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিমসহ ছয়জন ক্রিকেটার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
যুক্তরাষ্ট্র দলেও এমন কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন। আইসিসির হস্তক্ষেপ না হলে ভিসা পাওয়া কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো।
এর আগেও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ভারতীয় ভিসা পেতে সমস্যার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের স্পিনার শোয়েব বশির এবং রেহান আহমেদের ভিসা পেতে দেরি হয়েছিল। ২০২৩ সালে ভারতের সফরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার উসমান খাজাও একই সমস্যায় পড়েন।
২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসের সিকান্দার ও সাকিব জুলফিকারের ভিসা আটকে গিয়েছিল। নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া এই দুই ভাইয়ের কোনো দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল না। তা সত্ত্বেও তাদের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে তাদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের ভারত সফর বাতিল করতে হয়।

বোলারদের হাত ধরে দিনের শুরুটা ভালো করল ইংল্যান্ড। এরপর দলকে এগিয়ে দিলেন জ্যাকব বেথেল। কিন্তু বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় পরাজয়ের শঙ্কা ঠিকই রয়ে গেল তাদের। অ্যাশেজের শেষ ম্যাচে এখন দাপট অস্ট্রেলিয়ার।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চতুর্থ দিন শেষে শেষ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩০২ রান। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র ১১৯ রানে এগিয়ে তারা। হাতে রয়েছে স্রেফ ২ উইকেট।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রানে অলআউট হয় ইংলিশরা। জবাবে ৫৬৭ রান করে স্বাগতিকরা। তাই ১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ইংল্যান্ড।
বুধবার ৭ উইকেটে ৫১৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। এদিন ব্যাট হাতে একদম সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাত্র ৯.৫ ওভারের মধ্যে বাকি ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৪৯ রান।
আরও পড়ুন
| বিপিএল একাদশে জায়গা নেই বাংলাদেশের সহ-অধিনায়কের |
|
আগের দিন ১২৯ রানে অপরাজিত থাকা স্টিভ স্মিথ এদিন আর ৯ যোগ করে ১৩৮ রানে ফেরেন। তবে বাউ ওয়েবস্টার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেলেন ৭১ রানের ইনিংস।
ইংল্যান্ডের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন ব্রাইডন কার্স ও জশ টাং।
১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না ইংল্যান্ডের। জ্যাক ক্রলি (১), বেন ডাকেট (৪২) ও জো রুট (৬) বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
চতুর্থ উইকেটে ১০২ রান যোগ করেন জ্যাকব বেথেল ও হ্যারি ব্রুক। ওয়েবস্টারের বলে এলবিডব্লিউ হন ৪২ রান করা ব্রুক। এরপর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেন বেথেল। চমৎকার ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেন তরুণ এই ব্যাটার।
টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে দিন শেষে ১৪২ রানে অপরাজিত ২২ বছর বয়সী ব্যাটার।
চোট নিয়ে খেলতে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বেন স্টোকস। অহেতুক রান আউট হয়ে ফেরেন জেমি স্মিথ। শেষ দিনে তাই বেথেলের সঙ্গে খেলতে নামবেন ম্যাথু পটস।

চলতি বিপিএলের শুরু থেকেই একদমই ছন্দে নেই সাইফ হাসান। এর আগে বাংলাদেশের হয়েও পরপর দুই সিরিজে অফ ফর্মে ছিলেন টপ-অর্ডার ব্যাটার। এর খেসারত দিয়ে এবার ঢাকা ক্যাপিটালসের একাদশে জায়গা পেলেন না সাইফ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুরের ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা। নিজেদের একাদশে একটিই পরিবর্তন এনেছে তারা। সাইফের জায়গায় দলে নেওয়া হয়েছে ইরফান শুক্কুরকে।
এই পরিবর্তনের ব্যাপারে চোট বা অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ঢাকা ক্যাপিটালস।
অবশ্য সাইফের বাদ পড়া অনেকটা অনুমেয়ই ছিল। কারণ টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে ৪৯ বল খেলে মাত্র ২৪ রান করতে পেরেছেন সাইফ। স্ট্রাইক রেট পঞ্চাশেরও নিচে। তার এই অফ ফর্ম শুধু বিপিএলেই নয়, বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়েও গত দুই সিরিজে রান পাননি সাইফ।
আরও পড়ুন
| গণমাধ্যমের খবর মিথ্যা, আইসিসি কোনো আল্টিমেটাম দেয়নি: বিসিবি |
|
গত অক্টোবরের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩৮ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ৮, ৫ ও ২৩ রান।
পরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও রান পাননি সাইফ। ওই সিরিজের তিন ম্যাচে তিনি করেন যথাক্রমে ৬, ২২ ও ১৯ রান। সব মিলিয়ে সবশেষ ১০ ম্যাচে সাইফের সংগ্রহ মাত্র ১০৯ রান। স্ট্রাইক রেট মাত্র ৮১.৯৫! টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা বড্ড বেমানান।
অথচ আগামী মাসে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক সাইফ। বৈশ্বিক ওই টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার আগে তার অফ ফর্ম ও একাদশ থেকেই বাদ পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য চিন্তার কারণই হতে পারে।

অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টে চাপের মুখে চমৎকার সেঞ্চুরি করলেন জ্যাকব বেথেল। টেস্ট ক্রিকেট তো বটেই, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি। এর আগে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরিও আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতেই করেছিলেন ইংল্যান্ডের তরুণ ব্যাটার।
প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি আন্তর্জাতিক মঞ্চেই করা বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ব্যাটার বেথেল। এই তালিকায় তার আগে রয়েছেন কপিল দেব (ভারত), মারলন স্যামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মেহেদী হাসান মিরাজ (বাংলাদেশ) ও কার্টিস ক্যাম্ফার (আয়ারল্যান্ড)।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অ্যাশেজের শেষ টেস্টের চতুর্থ দিনে ১৩ চারে ১৬২ বলে সেঞ্চুরি করেন বেথেল। ২৮ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ৯৬ রান। সেটিও করেছিলেন আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচে।
এছাড়া পেশাদার ক্যারিয়ারে বেথেলের সেঞ্চুরি আছে আর মাত্র একটি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন ৮২ বলে ১১০ রানের ইনিংস। বেথেলের পুরো পেশাদার ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি এই দুটিই।
ক্রিকেট ইতিহাসে সবার আগে প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে নিজের প্রথম দুই সেঞ্চুরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব। এরপর এই তালিকায় নাম তোলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যামুয়েলস।
২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন মিরাজ। সেটিই ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার প্রথম সেঞ্চুরি। এরপ্র ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে তিনি খেলেন ৮৩ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস। সেটি ছিল লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে তার প্রথম সেঞ্চুরি।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পেশাদার ক্যারিয়ারে ৫টি সেঞ্চুরি করেছেন মিরাজ। এর চারটিই আন্তর্জাতিক মঞ্চে- টেস্টে ও ওয়ানডেতে দুইটি করে।