৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:২৭ পিএম

এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে চমকে দেওয়া নাসুম আহমেদ ফিরতি স্পেলে যখন ফিরলেন, ততক্ষণে খাওয়াজা নাফায় ও হোসেন তালাত ক্রিজে পুরোপুরি সেট। হাতে উইকেট থাকায় ম্যাচ অনেকটাই হেলে পড়ল চিটাগং কিংসের দিকেই। তবে বাঁহাতি স্পিনের ভেল্কিকে দারুণ এক স্পেলে খুলনা টাইগার্সকে ম্যাচে ফেরালেন নাসুম। ইনিংসের মাঝপথে দিক হারানো চিটাগংকে জয়ের সুবাস দিলেন টেল এন্ডাররা। সেখান থেকে শেষ বলে চার মেরে চিটগংকে ফাইনালে নিয়ে গেলেন আলিস আল ইসলাম। তাতে বিফলেই গেল শিমরন হেটমায়ারের বিধ্বংসী এক।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে চিটাগং জিতেছে ২ উইকেটে। মেহেদি হাসান মিরাজের দল আগে ব্যাটিং করে দাঁড় করিয়েছিল ৬ উইকেটে ১৬৩ রানের স্কোর। আশা জাগিয়েও চিটাগং সেই রান তাড়া করেছে ম্যাচের শেষ বলে।
এর ফলে ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মত বিপিএলে ফিরেই ফাইনালের টিকিট পেয়েছে চিটাগং। আগামী শুক্রবার শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল।
নিজেদের শেষ তিন ম্যাচ ধরেই খুলনার জন্য প্রতিটি ম্যাচই ছিল ফাইনালের মতোই। সেই পরীক্ষায় তারা ভালোভাবেই উতরে যায়। এলিমিনেটর ম্যাচে তো স্রেফ উড়িয়ে দেয় তারকায় ঠাসা রংপুরকে। তবে চিটাগংয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দিনের শুরুটা ভুলে যাওয়ার মতোই ছিল খুলনার।
এই ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ৫০০ রান করেন নাঈম। ৫১১ রান নিয়ে এই আসরের সর্বোচ্চ রানও তার। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে হতাশই করেন তিনি। চারটি চার মারলেও ডট বল খেলে ফেলেন বেশ কিছুই। ফলে বাড়ে চাপ, আর সেটা সরাতে গিয়েই আউট হওয়ার আগে ২২ বলে করতে পারেন মাত্র ১৯ রান।
আরেক ওপেনার মিরাজ, অ্যালেক্স রস বা আফিফ হোসেনদের কেউই পারেননি হাল ধরতে। ফলে নয় ওভারের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে দলীয় ফিফটিও (৪২) করতে পারেনি খুলনা।
ওই অবস্থা থেকে পঞ্চম উইকেটে পাল্টা লড়াইয়ের সূচনা করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও হেটমায়ার। দুজনেই জুটিতে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করলেও, দ্রুত রান বের করতে পারছিলেন না। বিশেষ করে হেটমায়ার, প্রথম ২২ বলে করেন মাত্র ২৯ রান।
তবে এরপরই চেনা ছন্দে দেখা যায় এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটারকে। চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে ঝড় তোলেন শেষ চার ওভারে। সাথে অঙ্কন দেন যোগ্য সঙ্গ। এই দুজনের প্রয়াসে ১৬০ রান পার করে ফেলে খুলনা।
৩৩ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৩ রান করেন হেটমায়ার। ৪১ রান করেন অঙ্কন।
এই রান তাড়ায় চিটাগংয়ের শুরুটাও হয়নি আদর্শ। অল্পেই ফেরেন দুই ফর্মে থাকা ব্যাটার পারভজ হোসেন ইমন ও গ্রাহাম ক্লার্ক। এরপরই ওই জুটি গড়েন নাফায় ও তালাত। দেখেশুনে খেলেই ম্যাচটা ক্রমেই খুলনার হাত থেকে বের করে নিচ্ছিলেন দুজন।
নাফায় তুলে নেন ফিফটি। তালাতও এগিয়ে যাচ্ছিলেন ভালোভাবেই। তবে আক্রমণে এসেই নাসুম দেখান তার ভেল্কি। লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের টার্ন করা ডেলিভারিতে সীমানা পার করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে বিদায় ডেকে আনেন ৫৭ করা নাফায়। এরপরই নামে একটা ছোটখাটো ধস।
১২ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জোরাল করে খুলনা। তবে অষ্টম উইকেটে নাসুম আহমেদ ও আলিস আল ইসলাম মিলে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন কার্যকর এক জুটিতে, যা ম্যাচকে নিয়ে যায় শেষ ওভারে।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। মুসফিক হাসানের করা প্রথম বলে চার মেরে দেন আরাফাত সানি। তিন বলে ৮ রানে নেমে আসা সমীকরণে ক্রিজে নেমেই চার মারেন শরিফুল ইসলাম। তবে পরের বলেই তাকে ক্যাচ আউটে ফেরান মুসফিক। এক বলে চার রান প্রয়োজন, এমন টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে উড়িয়ে মেরে চার হাঁকান আলিস, উল্লাসে ফেটে পড়ে চিটাগং শিবির। আর একরাশ হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয় খুলনাকে।
ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলা আলিস খেলেন মাত্র ৮ বলে ২১ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস।
No posts available.
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:২৬ পিএম

নিজেদের মাঠে ক্রিকেট খেলার অনুভূতি কেমন? ক্রিকেট খেলুড়ে প্রায় সব দেশের খেলোয়াড়ই সেটা জানেন। কিন্তু সাধারণ মনে হওয়া এই আবেগ কেমন সেটা জানা নেই আফগানিস্তানের। ২০০১ সালে আইসিসির সহযোগী আর ২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্য হওয়া দক্ষিণ এই দেশে এখন পর্যন্ত দেখেনি কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। এই হতাশা, যন্ত্রণা কতটা তীব্র সেটা খুব ভালো করেই জানেন আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খান। যেখানে ক্রিকেটার মাত্রই স্বপ্ন থাকে অন্তত একবার বিশ্বকাপের সোনালি শিরোপা তুলে ধরবেন, সেখানে রশিদ খানের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন নিজ জন্মভূমিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অনুভূতি পাওয়ার।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে একটি সাক্ষাৎকার দেন রশিদ খান। ক্রিকেটের এই সংস্করণে আফগানদের অধিনায়ক নানান প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন। তবে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই লেগ স্পিনারের কণ্ঠে বেশ আবেগ ঝরে পড়ে ঘরের মাঠে খেলতে না পারার কথা বলতে গিয়ে।
আফগানিস্তান ক্রিকেটের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে রশিদ বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশি ক্রিকেট নেই, বিশেষ করে ছোট ফরম্যাটে। চার দিনের ক্রিকেট আছে, কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেট খুব কম। একজন অধিনায়কের জন্য এটা কঠিন, কারণ খুব বেশি বিকল্প নেই। ভারতের মতো দেশে প্রতিদিন অনেক টুর্নামেন্ট হচ্ছে, প্রচুর প্রতিভা দেখা যায়, অনেক বিকল্প, অনেক প্রতিযোগিতা। আমরা যে অভাব অনুভব করছি তা হলো টুর্নামেন্ট এবং এটা প্রতিটি দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতা থাকলে আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, কঠোর পরিশ্রম করবেন।
রশিদ আরও বলেন,
‘যদি আফগানিস্তানে কেউ স্পিনার হতে চায়, সে জানে কী করতে হবে, মান কোথায়। আমার সঙ্গে, নুর আহমদ বা মুজিব উর রহমানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আসতে হবে। কঠোর পরিশ্রম না করলে চলবে না।’
আফগানিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট অবকাঠামো নিয়ে রশিদ বলেন,
‘ব্যাটিংয়ে যদি এমন প্রতিযোগিতা হয়, আমরা একেবারে অন্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব। তবে এটা আসবে তখনই, যখন আমাদের দেশে শক্তিশালী ডোমেস্টিক ক্রিকেট কাঠামো থাকবে। যেখানে প্রচুর প্রতিযোগিতা হবে, সেখান থেকে প্রতিভা আসবে। আমি আশা করি আমরা আমাদের ডোমেস্টিক ক্রিকেটে আরও মনোযোগ দেব, যাতে তরুণরা সুযোগ পায় তাদের প্রতিভা দেখানোর, এবং পরে জাতীয় দলে আসে। আশা করি সেটা হবে।’
আফগানিস্তানকে একদিন নিজেদের মাঠে খেলতে দেখবেন, এই স্বপ্ন ধারণ করে আসছেন রশিদ। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়—আপনি বা আপনার দল কি কখনও কাবুলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করেন? জবাবে রশিদ বলেন, ‘সত্যি বলতে, সেটা বিশ্বকাপ জেতার চেয়ে বড়—আমার জন্য, আমাদের দলের জন্য এবং আফগানিস্তানের প্রতিটি মানুষের জন্য—যে আমরা আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলব।’
এরপর সেই মুহূর্ত যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল রশিদের,
‘সব সংবাদমাধ্যম, সবাই দেখবে আফগানিস্তানে মানুষ কেমন, তারা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের কীভাবে স্বাগত জানাচ্ছে, ক্রিকেট উপভোগ করছে। এটা শুধু খেলার স্বপ্ন নয়; এটা অনেক বড়। যখন আমরা এখানে আইপিএল খেলি ,যখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে থাকি, দেখি স্থানীয় সমর্থকরা তাদের আন্তর্জাতিক তারকাদের কতটা সমর্থন করে, কতটা ভালোবাসা দেয়।’
নিরাপত্তার কারণে নিজেদের মাঠে ক্রিকেট খেলা থেকে বঞ্চিত রশিদ খানদের স্বপ্ন হয়তো কখনোই পূরণ হবে না। তবে রশিদ খানরা অবশ্যই চাইবেন ভবিষ্যতের কোনো ‘রশিদ’কে যেন এমন যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।

ফাইনালে উঠলে শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে- এমনই ছিল আকবর আলিদের জন্য সমীকরণ। কিন্তু বড় ব্যবধান তো নয়ই, জিততেও পারেনি দুরন্ত একাদশ। তাদের উড়িয়ে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠল নাজমুল হাসান শান্তর দুর্বার একাদশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সন্ধ্যায় অদম্য কাপে দুরন্ত একাদশকে ৭ উইকেটে হারায় দুর্বার একাদশ। ১৪৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে ১৭.৩ ওভারের বেশি লাগেনি হাবিবুর রহমান সোহান, মাহমুদুল হাসান জয়দের।
দুর্বারের জয়ে নিশ্চিত হয়েছে ফাইনালিস্ট দুই দল। দুই ম্যাচের দুইটিই জেতা দুর্বার খেলবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। সোমবার তাদের প্রতিপক্ষ উদ্বোধনী ম্যাচে দুরন্তকে হারানো ধুমকেতু একাদশ। তারা জিতেছে এক ম্যাচ। আর কোনো ম্যাচ না জিতেই টুর্নামেন্ট শেষ করল দুরন্ত একাদশ।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি দুরন্ত। প্রথম চার ব্যাটারের সবাই হতাশ করেন। ৮ রান করতে ২২ বল খেলেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। জিসান আলম (০), জাওয়াদ আবরার (৬), আজিজুল হাকিম তামিমও (৬) অল্পে আউট হন।
পরে আরিফুল ইসলাম ও এসএম মেহেরব হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় আকবর আলির দল। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩২ বলে ৪১ রান করেন আরিফুল। ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৩ বলে ৩৬ রান করেন মেহেরব। আকবরের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১৩ রান।
শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ৯ বলে ১৮ রান করলে দেড়শর কাছে যায় দুরন্ত একাদশ।
৪ ওভারে ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচ করে নেন ১ উইকেট।
রান তাড়ায় শুরুতেই ঝড় তোলেন হাবিবুর রহমান সোহান। পাওয়ার প্লেতে তাণ্ডব চালিয়ে ১ চারের সঙ্গে ৫টি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ১৭ বলে তিনি করেন ৩৯ রান। এরপর দ্রুতই ফিরে যান শান্ত (৯ বলে ৫)।
তবে দলের জয়ে কোনো বাধা আসতে দেননি মাহমুদুল হাসান জয় ও নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ৬৮ রানের জুটিতে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যায় দুর্বারের। দলের জয়ের খুব কাছে গিয়ে ৫১ বলে ৫৮ রান করে আউট হন জয়।
পরে নুরুল হাসান সোহান ২৮ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ১১ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
চমৎকার বোলিং করে ৩ উইকেট নেন সাকলাইন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দুরন্ত একাদশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৫ (রবিন ৮, জিসান ০, জাওয়াদ ৬, তামিম ০, আরিফুল ৪১, মেহেরব ৩৬, আকবর ১৩, অঙ্কন ১০*, সাকলাইন ১৮, রকিবুল ৫, রিপন ১; হাসান ৩.৫-১-২৭-২, খালেদ ৪-০-২৩-৪, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩২-১, আলিস ৪-০-১৪-১, তানভির ২-০-২৩-০, মিরাজ ২-০-২৪-০)
দুর্বার একাদশ: ১৭.৩ ওভারে ১৪৯/৩ (জয় ৫৮, হাবিবুর ৩৯, শান্ত ৫, নুরুল ২৮*, আফিফ ১১*; নাহিদ ৩-০-৩৫-০, রিপন ২-০-৩১-০, ইমন ১-০-১৭-০, রকিবুল ৪-০-১৭-০, সাকলাইন ৩.৩-০-২৩-৩, মেহেরব ৩-০-১৯-০, তামিম ১-০-৭-০)
ফল: দুর্বার একাদশ ৭ উইকেটে জয়ী

নতুন স্পেলে বোলিংয়ে ফিরে দ্বিতীয় বলেই রিচি বেরিংটনকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙলেন জেসন হোল্ডার। একইসঙ্গে পূর্ণ করলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একশ উইকেট আর বসে গেলেন সাকিব আল হাসান, লাসিথ মালিঙ্গাদের পাশে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের একশ উইকেট পূর্ণ করেছেন হোল্ডার। এদিন ৩০ রানে তার শিকার ৩টি উইকেট। ১৪তম ওভারে তার শততম শিকার হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন বেরিংটন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একশ উইকেট নেওয়ার আগেই টেস্ট ও ওয়ানডেতে উইকেটের সেঞ্চুরি করেছেন হোল্ডার। ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই একশ উইকেট নেওয়া বিশ্বের ষষ্ঠ বোলার ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার।
হোল্ডারের আগে তিন সংস্করণেই একশ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা, টিম সাউদি, সাকিব আল হাসান, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও জাসপ্রিত বুমরাহ।
প্রায় ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৬৯ টেস্টে ১৬২ উইকেট, ১৩৮ ওয়ানডেতে ১৫৯ উইকেট ও ৮৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১০১টি উইকেট নিয়েছেন হোল্ডার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ পাওয়া স্কটল্যান্ডের শুরুটা হলো হার দিয়ে। ইডেন গার্ডেনে এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে নিরাপত্তাজনীত কারণে ভারতে খেলতে রাজি না হওয়া বাংলাদেশের পরিবর্তে হঠাৎ বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যাওয়া স্কটিশরা আজ ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে নুন্যতম লড়াইও করতে পারেনি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্কটল্যান্ড হেরেছে ৩৫ রানে। শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা উইন্ডিজরা শিমরন হেটমায়ারের ৩৬ বলে ৬৪ রানের বিধংসী ইনিংসে ২০ ওভাররে পাঁচ উইকেটে ১৮২ রান তোলে। এরপর পাঁচ উইকেট নেওয়া রোমারিও শেফার্ডের তোপে ১৮.৫ ওভারে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় স্কটল্যান্ড।
রান তাড়ায় ১৬ ওভার শেষেও জয়ের আশা কিছুটা টিকে ছিল স্কটল্যান্ডের। ২৪ বলে তাদের লাগতো ৫১ রান। তবে ১৭তম ওভারে অনেকটা একাই ম্যাচ করে দেন শেফার্ড। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক আসে ডানহাতি পেসারের নৈপুণ্যে। নিজের তৃতীয় ওভারে একে একে চার স্কটিশ ব্যাটারকে ফেরান তিনি।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় সর্বোচ্চ ২৪ বলে ৪২ করেন স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক রিচি বেরিংটন। ৩৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলা দলের হাল ধরেছিলেন তিনি। টম ব্রুসকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রানের জুটি। তাদের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ বলে ৩৫ করেন ব্রুস।
শেফার্ডের পাঁচ উইকেটের সঙ্গে তিনটি উইকেট নেন জেসন হোল্ডার। অবশ্য ম্যাচ সেরা হন বিধংসী ফিফটি করা হেটমায়ার।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল শম্বুক গতির। ক্যারিয়দের ইনিংসকে মোটাদাগে দুইভাগে ভাগ করা যেতে পারে। ১০ ওভারের প্রথমাংশ ছিল শম্বুক গতির। আর পরের ১০ ওভারে রান উঠেছে মুড়িমুড়কির মতো। ইনিংসের অর্ধেক ওভার পর ক্যারিবিয়দের সংগ্রহ দাড়ায় ৬৬/২। ব্র্যান্ডন কিং-শাই হোপের ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি শেষ হয় ২২ বলে ১৯ করা অধিনায়ক হোপ ফিরলে। স্কোরবোর্ডে ৪ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফিরেন আরেক ওপেনার কিংও। ৩১ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার করেন ৩০ বলে ৩৫।
এরপরই শুরু শিমরন হেটমায়ার ঝড়। স্কটিশ বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান এই ব্যাটার। ফিফটি তুলতে হাঁকিয়েছেন ছয়টি ছক্কা, একটি চার। ২২ বলে ফিফটি করে গড়েন রেকর্ড। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড এখন ২৯ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটারের। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৬৪ করে আউট হন হেটমায়ার। তৃতীয় উইকেটে রোভমান পাওয়েলের সঙ্গে তাঁর ৩৭ বলে ৮২ রানের জুটি বড় রানের ভিত গড়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
শেষদিকে শেরফেন রাদারফোর্ড খেলেন ১৩ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংস। ১৪ বলে ২৪ করেন রোভমান পাওয়েল।
বল হাতে ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে দুই উইকেট নেওয়া ব্র্যাড কুরি স্কটল্যান্ডের সফলতম বোলার। সবচেয়ে খরুচে ছিলেন সাফিয়ান শরিফ। ডানহাতি পেসারের চার ওভার থেকে ৪৬ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
‘সি’ গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরের ম্যাচ বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হবে ইতালির।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই আলো ছড়ালেন রোমারিও শেফার্ড। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তার চমৎকার বোলিংয়ে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ক্যারিবিয়ানরা।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শনিবার বিকেলে স্কটিশদের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের ১৭তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেছেন শেফার্ড। সব কিছু ঠিক থাকলে ম্যাচটি খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে নানান ঘটনাপ্রবাহে তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের শিকার স্কটল্যান্ড।
১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াইড ইয়র্কার ডেলিভারিতে ম্যাট ক্রসকে ক্যাচ আউট করেন শেফার্ড। পরের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন মাইকেল লিস্ক। আর হ্যাটট্রিক বলে ওলিভার ডেভিডসনকে বোল্ড করে দেন শেফার্ড।
ওই ওভারে শেষ বলে সাফিয়ান শরিফকেও ফেরান ৩১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। পাঁচ বলে চার উইকেট নেওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্ণ হয় শেফার্ডের ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে ২০ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শেফার্ডের এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে শেফার্ডের এটি দশম হ্যাটট্রিক। ৯ জন বোলার মিলে করেছেন এই ১০টি হ্যাটট্রিক। প্যাট কামিন্সের একা রয়েছে জোড়া হ্যাটট্রিকের কীর্তি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একাধিক হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ বোলার শেফার্ড। তার আগে লাসিথ মালিঙ্গা, টিম সাউদি ও কামিন্সের আছে একাধিক হ্যাটট্রিক।