৮ অক্টোবর ২০২৪, ৯:৪৫ পিএম

গত কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি খবর– বাংলাদেশে আসছেন নেইমার। কয়েকটি প্রথম সারির গণমাধ্যমও সে সংবাদ প্রচার করেছে। যার দেওয়া তথ্যমতে এই সংবাদটা প্রচার হয়েছে, সেই রবিন মিয়া আসলে নেইমারের বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে কী বলছেন?
বছরখানেক আগে নেইমারের বাংলাদেশে আসা নিয়ে বেশ কয়েকদিন গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। সেবারও এই রবিন মিয়ার বরাত দিয়েই নেইমারের দেশে আসার ব্যাপারটি প্রচার করা হয়, যদিও ব্যাপারটি আলোর মুখ দেখেনি। সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে নেইমারের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারে বর্ননা করা রবিন এবার বাংলাদেশের মাটিতে নেইমারের পা রাখার ব্যাপারে প্রচণ্ড আশাবাদী, বলেছেন দায়িত্ববোধ থেকেই নেইমারকে তিনি বাংলাদেশে আনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন।
“নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই নেইমারকে দেশে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছি। আগের বছর ঘোষণা দেওয়ার পরও অবশ্য তাঁকে আনা যায়নি, কিন্তু মানুষ আসলে জানে একটা উদ্যোগের পেছনে কত ঘটনা থাকে। গতবার হয়নি, কারণ বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে ওর শিডিউলই ছিল না। আর বাংলাদেশে যারা আয়োজন ছিল, তাদের দিক থেকে ঠিক মতো ব্যবস্থাপনাটা হয়নি। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার আমরা এজেন্সির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। আর নতুন সরকারও এসেছে, আশা করছি তাদের সহায়তাও পাবো।”
যেহেতু গতবার হয়নি, এবার নেইমারের আসার নিশ্চয়তা কতটুকু, সে প্রশ্নের জবাবে রবিন মিয়ার আশ্বাস-
“কেউ বিশ্বাস করুক কি না করুক, সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি এবার করবো, করে দেখাবো। এটা আমি আমার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বলছি।”
নেইমারকে দেশে আনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আরো অনেক ব্যবস্থাপনা, অনুমতির জায়গা আছে; সেটা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কিংবা সরকার পর্যায়েও অনেক বিষয় আছে। সেসব জায়গায় অনুমতি মিলেছে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন-
“তাঁদের সঙ্গে বসবো, বসে কথা বলবো। আমি দুইদিন পর দেশ থেকে আবার চলে যাবো, তবে আমার আইনজীবীরা রয়েছেন, তারা কথা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তবে নেইমার এবার আসবেই, সেটা আমি দায়িত্ব নিয়েই জানাচ্ছি।”
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে আসতে পারে, সে প্রশ্নের জবাবে রবিন জানান-
“আশা করছি সামনের বছরের শুরুর দিকে, একটি কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে। চেষ্টা করছি একটা চ্যারিটি ইভেন্ট আয়োজন করার, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যেদিন ঘোষণা দিব, সেদিন জানতে পারবেন।”
নেইমারের দেশে আসার ইভেন্টে কী কী থাকছে? সাধারণ মানুষ কী নেইমারের সাক্ষাৎ পাবেন– এমন প্রশ্নেরও সরল জবাব তাঁর-
“যারা ইভেন্টটা দেশে আয়োজন করবেন, বা যারা নেইমারকে দেখতে আসবেন– সবাইকে অনুরোধ করবো, একজন স্টারকে দেখতে হলে তো দুটা পয়সা খরচ করতেই হবে। আর এটাতো হবে চ্যারিটি ইভেন্ট, আয়োজন থেকে আসা অর্থের বড় অংশ চলে যাবে চ্যারিটিতে। আর যদি এরকম কিছু না হতো, তবে নেইমারইবা দেশে কেন আসবেন? বাংলাদেশে হুট করে আসার তো আর কোনো কারণ নেই যদি এর সঙ্গে চ্যারিটি যুক্ত না থাকে।”
নেইমারের বাংলাদেশে আসার ব্যাপারটাকে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ভালো হবেই বলে মনে করছেন রবিন, জানিয়েছেন ফুটবল নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা-
“বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামে একটা করে মাঠ হোক, সেটাই আমি চাই। বাংলাদেশে অনেক ট্যালেন্ট পড়ে আছে, তাদেরও সুযোগ করে দিতে হবে। দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে,চিলির মতো দেশে প্রত্যেক পাঁচটা বাড়ির সঙ্গে একটা করে মাঠ আছে। আর আমার দায়িত্ব তো আমাকেই পালন করতে হবে। আমার রক্ত বাংলাদেশি। আমি একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। আমি যা করবো, দায়িত্ববোধ থেকেই করবো।”
No posts available.
২ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম

ইতালিতে এখন কেবল শোক চলছে। টানা তিন বিশ্বকাপ ‘ট্রেজেডি’র জন্ম দেওয়া ‘আজ্জুরিদের’ শোকে পাথরই হয়ে যাওয়ার কথা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন পরিণতি ফুটবলেরই কালো ইতিহাস হয়ে থাকবে। পুরো জাতি যখন শোকে মূহ্যমান, তখন আলৌকিক কিছুর আশাও হয়তো দেখতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলার ক্ষীণ একটা আশা এখনও টিকে আছে তাদের।
বিশ্বকাপের প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ দরজা বন্ধ হয়ে যায় ইতালির। তবে অনেক যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলে গেলে বিশ্বকাপে যেতেও পারে ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধই গড়ে দিতে পারে জেনেরো গাত্তুসোদের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। গত মাসে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দাবি করেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলেও ইরান ও ইরাক—দুই দলই বিশ্বকাপে খেলার কথা রয়েছে। ফিফা সভাপতিও নিশ্চিত করেছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।
দু’পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফার নিয়মের ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের জায়গা পূরণ করা হবে ‘মনোনীত বিকল্প দল দিয়ে’। যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে-অফের রানারআপ বা ওই কনফেডারেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কিন্তু কোয়ালিফাই করতে না পারা দল হয়ে থাকে।
এই হিসেবে ইরানের বিশ্বকাপ খেলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ তারা এশিয়ান প্লে-অফ পর্যন্ত উঠেছিল, যদিও পরে ইরাকের কাছে হেরে যায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি ফিফার হাতে—তারা নিজেদের ‘স্বাধীন বিবেচনা’ অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে।
সেখান থেকেই একটি খুবই ক্ষীণ, এখনো পুরোপুরি কাল্পনিক সম্ভাবনাও তৈরি হয়—যদি ফিফা ভিন্ন পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দলকে ডাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সামনে আসতে পারে ইতালির বিষয়টি।
অবশ্য ইতালিকে সুযোগ দেওয়া এতটাও সহজ হবে না ফিফার জন্য। এতে অন্যান্য মহাদেশের ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—কারণ এর ফলে অতিরিক্ত একটি ইউরোপীয় দল সুযোগ পাবে।
এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক রিজার্ভ দলের কোচ রেনে মিউলেনস্টিনের মন্তব্য থেকে, যিনি বর্তমানে ইরাক দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
গত মাসে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের আগে টকস্পোর্টকে মিউলেনস্টিন বলেছিলেন,
‘এএফসির হিসাবে আমরাই সবচেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দল। তাই ইরানের জায়গায় আমাদেরই যাওয়ার কথা। আর আমাদের জায়গা পূরণ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলবে সুরিনাম ও বলিভিয়ার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে।’
মিউলেনস্টিন আরও যোগ করেন,
“তবে এমন গুঞ্জনও আছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদি ফিফা নেয়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলকে ডাকতে পারে, আর সেটা হতে পারে ইতালি।’

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েল গ্রাভিনা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইতালি জায়গা করতে না পারায় তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে যায় ইতালি। চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো মূল পর্ব থেকে বাদ পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন গ্রাভিনা।
আজ্জুরিদের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে ফুটবল ফেডারেশন এবং ইতালি দল বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ফুটবল ইতালিয়া।
ফুটবল সংবাদ পরিবেশক ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়েছে, ইতালির হেড কোচ জেনেরো গাত্তুসো ও ম্যানেজার জিয়ানলুইজি বুফন পদত্যাগ করতে পারেন।
জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সিরি আ প্রেসিডেন্ট ইজিও সিমোনেল্লি, সিরি বি প্রেসিডেন্ট পাওলো বেডেন, সিরি সি প্রেসিডেন্ট মাতেও মারানি, অ্যামেচার লিগ প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো আবিতি, খেলোয়াড় ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট উমবার্তো ক্যালকানো, অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট রেনজো অলিভিয়েরি।

অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের শুরুটা ভালো হয়েও হলো না; থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও দিনশেষে পরাজিতের কাতারে বাংলাদেশ। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে রাখার মতো একটা দিনই ছিল মোসাম্মৎ সাগরিকার জন্য। বুধবার শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জেতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। তবে এই ফরোয়ার্ড গোলের কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। আজ দলের সহকারী কোচ আবুল হোসেনও জানালেন দলের প্রত্যেককে সমান চোখে দেখা হয়। তিনি জানান, গতকাল সাগরিকা গোল করেছে, পরের দিন অন্য কেউ করবে। এভাবেই তারা মেয়েদেরকে উজ্জীবিত রাখেন।
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ শনিবার, চীনের বিপক্ষে। আগের ম্যাচে করা ভুল নিয়ে আজ কাজ করেছে কোচিং স্টাফ। থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো ভিডিও বার্তায় আবুল হোসেন বলেন,
‘গতকাল আমরা প্রথম ম্যাচ খেলেছি। ৭০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম। সামান্য ভুলের কারণে আমরা জিততে পারিনি। কারণ এমন ভুল তো আর সচরাচর হয় না। কিন্তু হয়ে গেছে। আজ সেই ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেছি। পরের ম্যাচ চীনের বিপক্ষে। তাদের সঙ্গে যেন একই ভুল না হয় তা নিয়ে কাজ করছি। মেয়েদের বলেছি যা হয়েছে সেটা এখন অতীত। এ নিয়ে তাদের চিন্তা করতে হবে না।’
সাগরিকাকে নিয়ে আলাদা করে প্রশংসা ঝরেছে সহকারী কোচের কণ্ঠে। বলেছেন,
‘সাগরিকা অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। সে বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে জাতীয় দলেও সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরে।’ তবে আবুল হোসেন সেই সঙ্গে এটাও বলেন যে তারা সবাইকে সমান চোখে দেখেন, ‘আমরা প্রতিটি খেলোয়াড়কে মূল্যায়ন করি। কে কখন জ্বলে উঠবে তা বলা যায় না, সেভাবেই আমরা মেয়েদের মোটিভেট করি। সবাইকে সমান নজরে দেখি।’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ৪৮ দল চূড়ান্ত। ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর শুরুর অপেক্ষায়। যেখানে অনেকে অভিজ্ঞ তারকা ফুটবলারকে গ্যালারিতে বসেই দেখতে হবে খেলা।
আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে বুধবার সকালে সবশেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ইরাক। আগের রাতে ইউরোপয়ীয় প্লে অফ থেকে জায়গা নিশ্চত করে সুইডেন, তুরস্ক, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
কোয়ালিফায়ার ফাইনালে হেরে বাড়ির টিকিট কাটতে হয়েছে জিয়ানলুইজি দোনারুমা, রবার্ট লেভানডফস্কি, কালাফিওরির মতো তারকাদের।
ইতালির চার তারার অসহায়ত্ব: বাছাইপর্বে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির পালে। বসনিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা হচ্ছে না আজ্জুরিদের। বিশ্বকাপে দেখা যাবে না দলটির চার তারকা দোনারুমা, রিকার্দো কালাফিওরি, সান্দ্রো টোনালি ও নিকোলো বারেল্লাকে।
পোলান্ডের ব্যর্থতায় কপাল পুড়ল রবার্ট লেভানডফস্কির: ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে শেষ মূহুর্তে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পোল্যান্ড। এর মাধ্যমে ৩৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি লেভানফস্কির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হয়ে যায়।
হাঙ্গেরির বিদায়ে স্বপ্ন ভাঙল সোবোসলাইয়েরও: বিশ্বকাপের বাছাইয়ে হাঙ্গেরির বিদায় ছিল ট্র্যাজিক। রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চলত তাদের। কিন্তু ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-১ এ এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ট্রয় প্যারটের হ্যাটট্রিকে স্বপ্ন ভাঙে হাঙ্গেরির। লিভারপুলের হয়ে দূরপাল্লার শট আর নিখুঁত পাসের জন্য পরিচিত সোবোসলাইকে মিস করবেন ভক্তরা।
কঙ্গোতে বাঁধা ব্রায়ান এমবেউমোর উচ্চাশা: ব্রেন্টফোর্ড থেকে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া এমবেউমো গত মৌসুমে ২০ গোল করে নজর কাড়েন। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর কাছে ৯১ মিনিটের গোলে ক্যামেরুন হেরে যাওয়ায় এই উইঙ্গারকেও গ্যালারিতে বসেই বিশ্বকাপ দেখতে হবে।
কাভারাস্কেইয়ার ড্রিবলিং মিস করবে বিশ্ব: ইউরো ২০২৪-এ নজরকাড়া জর্জিয়া এবার মূল পর্বে জায়গা করতে পারেনি। ফেলে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী কাভারস্কেইয়ারের জাদুকরী ড্রিবলিং দেখার সুযোগ এবার হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।
অপেক্ষা বাড়ল হইলুন্দের: চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছে ডেনমার্ক। যেখানে হইলুন্দ পেনাল্টি মিস করে খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। গত বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার অভাবে দলে জায়গা পাননি তিনি, এবার দলের ব্যর্থতায় তাঁর অপেক্ষা আরও বাড়ল।

এএফসি উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে পরাজয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তার আগে জেতার আশা জাগিয়েছিল মেয়েরা। কিন্তু জোড়া গোলের লিডের পরও পরাজয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পিটার বাটলারের দলকে। বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোলই করেছেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। সামনে এবার চীন। শনিবারের ওই ম্যাচে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছেন জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড।
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৩৬ ও ৫০ মিনিটে গোল দুটি করেন সাগরিকা। এরপর ৬৭ মিনিট পর্যন্ত লিড ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। এরপরই ডিফেন্ডারদের ভুলে পরপর দুটি পেনাল্টি গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। আর ৭৯ মিনিটের মাথায় তৃতীয় গোল করে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে থাইল্যান্ড।
ওই ম্যাচে জোড়া গোল করার পর আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাধ্যমে মিডিয়াকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সাগরিকা। বলেছেন,
‘আমি বলব থাইল্যান্ড অনেক ভালো দল। প্রথমার্ধে আমরাও ভালো করেছি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেটি ধরে রাখতে পারিনি। যখন একটা গোল হজম করে ফেলি, তখন সবার মন মানসিকতা একটু খারাপ হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে ওমনটা হয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি কামব্যাক করতে। কিন্তু পারিনি, ৩-২ গোলে হেরে গেছি।’
ম্যাচে জোড়া গোল করলেও সাগরিকা কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। বলেন,
‘এখানে আমাদের প্রথম ম্যাচ, আর আমি দুইটা গোল করেছি। সত্যি খুব ভালো লাগছে, টিম সাপোর্ট করছে বিধায় পেরেছি। যদি ওরা বল সাপ্লাই দিতে না পারত তবে গোল করতে পারতাম না।’
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেও ভালো কিছুর প্রত্যাশা ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল থেকে উঠে আসা সাগরিকার,
‘পরের ম্যাচের জন্য আমরা সবাই প্রস্তুত আছি, চেষ্টা করব ভালো কিছু করার জন্য। ইনশা আল্লাহ ভালো ফল নিয়ে মাঠ থেকে ফিরব।’
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্সের পর প্রশংসায় ভাসছেন সাগরিকা। সহকারী কোচ আবুল হোসেন ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে নিয়ে বলেন,
‘সাগরিকা অসাধারণ করেছে। সে সবখানেই সুযোগ পেলে ভালো খেলে।’