ঘরের মাঠে টেস্ট খেলে সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত সেই চাওয়া পূরণ হয়নি। এরপর আর বাংলাদেশের জার্সিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও কিছু জানাননি সাকিব। আবার কবে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামবেন এই অলরাউন্ডার সেটাও অনিশ্চিত এখন। তিনি নিজেও কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ দল এই মুহূর্তে অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। সেখানে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটের সিরিজই খেলবে টাইগাররা। অন্যদিকে সাকিব ব্যস্ত আবুধাবি টি-টেন লিগে। সেখানে আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলা টাইগার্স।
আরও পড়ুন
| সাকিবে ট্রফি জিতবে বাংলা টাইগার্স? |
|
তাঁর আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব। কবে আবার বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামবে সেই প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাকে। সাকিব অবশ্য এখনই তা নিয়ে ভাবতে রাজি না। আপাতত টি-টেনেই রাখছেন পুরো মনোযোগ। জানিয়েছেন,’ এই টুর্নামেন্টের পরে দেখা যাবে।'
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে নিজেকে একরকম সরিয়েই ফেলেছেন সাকিব। তবে ওয়ানডে ফরম্যাটটা খেলে যাবার কথা সাকিবের। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। তবে সেই আশা পূরণ হবে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলেও তা এড়িয়ে যান সাকিব,
'এখন এই টুর্নামেন্ট (আবুধাবি টি-টেন) নিয়ে পুরো ফোকাস করছি আমি।'
এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও খেলেননি সাকিব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিব মাঠে নামবেন কিনা তাও নিশ্চিত নয়। ফলে আবার কবে সাকিবে বাংলাদেশের জার্সিতে দেখা যাবে সেই ধোঁয়াশা কাটছেই না।
No posts available.
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১১ পিএম
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৬ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাঁচদিন আগে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশটির প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত দলে এসেছে একাধিক পরিবর্তন।
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ দলে কামিন্দু মেন্ডিসকে ফের ডাকা হয়েছে, আর দলে জায়গা পেয়েছেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। এছাড়া ২৩ বছর বয়সী ব্যাটার পাভন রথনায়াকে স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন, সঙ্গে আছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে কাঁধে চোট পাওয়া এশান মালিঙ্গাও। তবে জায়গা হয়নি বোলার প্রমোদ মাদুশানের।
লঙ্কাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে কামিন্দুর ফেরা। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন না বাঁহাতি ব্যাটার এবং ইংল্যান্ডের চলমান সিরিজের আগে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার ফিরলেন তিনি, আর বাদ পড়েছেন ধনঞ্জয়, যিনি সাম্প্রতি ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান সিরিজে তেমন ছন্দে ছিলেন না।
অনেক দিন থেকেই ছন্দে নেই কামিন্দু। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১৯.৮৭ গড় এবং ১৩০.৩২ স্ট্রাইক রেটে মাত্র ১৫৯ রান করেছেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার। ধনঞ্জয়কে মূলত বোলিং বিভাগে শক্তি বাড়ানোর জন্যেই নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দলে একই ভূমিকা পালন করতে পারেন কামিন্দুও। যদিও ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১২ ম্যাচে মাত্র ছয় ওভার বোল করেছেন তিনি।
দলের এমন পরিস্থিতিতে সুযোগ তৈরি হয়েছে বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার ডুনিথ ওয়েলালাগের জন্য। তবে ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় খানিকটা পিছিয়ে আছেন অভিজ্ঞতায়। ওয়ানডেতে নিয়মিত খেলা ওয়েলালাগে টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ছয় ম্যাচ খেলেছেন, নিয়েছেন সাত উইকেট। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ডোমেস্টিক ক্রিকেট অভিজ্ঞতা বেশি তাঁর।
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ দলে আরেক সম্ভাবনাময়ী খেলোয়াড় পাভন রথনায়েকে। গত নভেম্বর পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তাঁর, কিন্তু এক ম্যাচ ব্যাট করার পর বাদ পড়েছিলেন। তবে ইংল্যান্ডের তৃতীয় ওডিআইয়ে সেঞ্চুরি করার পর নির্বাচকদের নজর কাড়েন এবং স্কোয়াডে জায়গা পান। ২৫ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ১০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেনছেন তিনি (রোববার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ বলের ৪০ রানের আগে)।
বোলিং বিভাগ নিয়ে তুলনামূলকভাবে তেমন একটা মাথাব্যথা নেই শ্রীলঙ্কার। দুশ্মন্ত চামীরা, মতিশা পথিরানা ও এশান মালিঙ্গা—পেস আক্রমণে থাকছেন, যদিও কারণে খানিকটা অনিশ্চিত মালিঙ্গা। স্পিন বিভাগে তেমন কোনো চমক নেই। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাহীশ থীকশানা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আর ওয়েলালাগে, আসালঙ্কা ও কামিন্দু তো আছেনই।
বিশ্বকাপের গ্রুপ বি-তে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান ও জিম্বাবুয়ে। গ্রুপের চারটি ম্যাচই ঘরের মাঠে। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ড , ১২ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে ওমান, এরপর ১৬ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার স্কোয়াড :
দাসুন শানাকা (ক্যাপ্টেন), পাথুম নিসানকা, কামিল মিশারা, কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালঙ্কা, কামিন্দু মেন্ডিস, জেনিথ লিয়ানাগে, পাভন রথনায়কে, ডুনিথ ওয়েলালাগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাহীশ থীকশানা, দুশ্মন্ত চামীরা, মাথিশা পাথিরানা, ইশান মালিঙ্গা।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদি। তাঁর মতে, চলমান এই সংকট আইসিসির জন্য পক্ষপাতহীনতা প্রমাণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আফ্রিদি জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখিত হলেও পাকিস্তান সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের পক্ষেই তাঁর অবস্থান। আফ্রিদির ভাষায়, রাজনীতি যেখানে বিভাজন তৈরি করে, ক্রিকেট সেখানে সংযোগ গড়ে তোলার শক্তি রাখে।
আফ্রিদি লেখেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি, রাজনীতি যেখানে দরজা বন্ধ করে দেয়, ক্রিকেট সেখানে দরজা খুলতে পারে। ভারতের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান না খেলাটা দুঃখজনক। তবে আমি আমার সরকারের সিদ্ধান্তের পাশে আছি। এখন আইসিসির উচিত বক্তব্যে নয়, সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণ করা—তারা নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং সব সদস্যের প্রতি ন্যায্য।’
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন বাংলাদেশের প্রতি সংহতির বার্তা হিসেবে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর পরপরই পাকিস্তান সরকার জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবে না।
পাকিস্তান সরকারের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসি এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলে, এমন সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের ক্রিকেটের পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপরও।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচিত কিছু ম্যাচে অংশ নেওয়ার অবস্থান বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যেখানে সব যোগ্য দলকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে বিশ্ব ক্রিকেট। বাংলাদেশের অংশ না নেওয়া এবং পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটি ঘিরে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন। এই সংকটের মূলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দায়ী মনে করছেন আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশন সামি-উল-হাসান বার্নি।
বিশ্ব ক্রিকেটে চলমান অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছে একাধিক সিদ্ধান্ত থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এর শুরুটা হয় বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর হঠাৎই তাঁকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে পাকিস্তান সরকার জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারত ম্যাচে নামবে না পাকিস্তান।
বার্নির মতে, বিসিসিআই সামান্য সতর্ক হলেই এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। আইসিসিতে মেয়াদ শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করা বার্নি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন,
‘খেলার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যদি আরও একটু বিচক্ষণ হতেন এবং বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ দেওয়ার মতো বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনতেন, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।’
৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে ২০২৬ মৌসুমের জন্য মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। তবে রাজনৈতিক দলের নেতা ও কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেয় সাবেক আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের দাবিতে আইসিসিকে দুই দফা চিঠি দেয় বিসিবি। দুই পক্ষের একাধিক আলোচনার পরও সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
বার্নির অভিযোগ, বিসিসিআইয়ের প্রকাশ্য অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। তিনি বলেন,
‘বিসিসিআই চাইলে বিষয়টি গোপনে ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে মিটিয়ে নিতে পারত। প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কখনো কখনো ভুল সিদ্ধান্তের একটি বক্তব্য দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। ৩ জানুয়ারির ঘোষণাটিই এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের পর এবার কী ঘটবে? পাকিস্তান কী আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কিংবা বড় কোনো শাস্তির মুখোমুখি হবে? না কি ক্রিকেটের নিয়ন্তক সংস্থার শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবে পাকিস্তান? এই জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেছেন পাকিস্তানের ‘টিকিটাও ছুঁতে পারবে না’ আইসিসি।
পাকিস্তান সরকার গতকাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে জাতীয় দল অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত হাই–ভোল্টেজ ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার জানায়, তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে, তবে ভারত ম্যাচে দলটি ‘মাঠে নামবে না’।
এ বিষয়ে স্পোর্টস্টারকে এহসান মানি বলেন,
‘সরকারের নির্দেশ মেনে চললে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে ভারত অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ঠিক এই ভিত্তিতেই। এখানে দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। সমস্যার সমাধান না করে আইসিসি কেবল দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে আছে।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মানি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি কার্যত সরকারগুলোর জন্য ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের দরজা খুলে দিয়েছে—বিশেষ করে যখন পিসিবি চেয়ারম্যান নিজেই পাকিস্তান সরকারের একজন মন্ত্রী।
তবে আইসিসি পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সতর্ক করেছে যে, নির্বাচিত ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত শাস্তিমূলক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আইসিসি জানিয়েছে, তারা এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পায়নি, তবে এমন সিদ্ধান্ত একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যেন নিজেদের দেশের ক্রিকেটের ওপর এই সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে। এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে, যার সদস্য ও সুবিধাভোগী পাকিস্তান নিজেই।’
জাতীয় নীতির ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা স্বীকার করলেও আইসিসি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট বা বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের—পাকিস্তানের লাখো ক্রিকেটপ্রেমীদের—স্বার্থে নয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তারা চায় পিসিবি সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এমন একটি “পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান” খুঁজে বের করুক। আইসিসির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করা।
পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডেই হবে পাকিস্তানের সব ম্যাচ।
আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বরাবরই সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াই, যা সর্বোচ্চ বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা, স্পনসরশিপ আগ্রহ ও সম্প্রচার আয়ের বড় উৎস। ম্যাচটি ওয়াকওভার হলে পূর্ণ পয়েন্ট পাবে ভারত, তবে এতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আয়োজক সম্প্রচারকারী সংস্থার বিজ্ঞাপন আয় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
আইসিসির খেলার শর্ত অনুযায়ী, কোনো ম্যাচে ওয়াকওভার দেওয়ার জন্য টসের সময় প্রতিপক্ষ দলকে মাঠে উপস্থিত থাকতে হয়। সে কারণে নির্ধারিত ম্যাচের জন্য ভারতীয় দল কলম্বো সফর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসের জন্য মাঠে নামবেন। তবে যদি পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা টসের সময় উপস্থিত না থাকেন, তাহলে ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকওভার ঘোষণা করবেন এবং ভারতকে দুই পয়েন্ট দেওয়া হবে।
এহসান মানির মতে, এই ঘটনায় পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে আইসিসি এখনও অর্থনৈতিক বা অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে বিকল্প সিদ্ধান্তও বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের তোলা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত ‘স্বাধীন তদন্ত কমিটি’ তাদের কাজ সম্পন্ন করেছে।
আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি তারিক উল হাকিম, সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা ও বিসিবি পরিচালক রুবাবা দৌলা উপস্থিত থেকে প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত জাহানারা আলম একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছিলেন, মঞ্জুরুল তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করেছেন। তিনি আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, তারা তাঁর ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। জাহানারা অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সাল থেকে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি বিসিবির শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।
সাবেক জাতীয় দলের পেসারের অভিযোগের পর বিসিবি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। শুরুতে তাদের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। পরে, জাহানারা আলমের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য কমিটি অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়।
এরপর ৩১ জানুয়ারি স্বাধীন তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।