
একাদশে মাত্র দুই বিদেশী ক্রিকেটার রেখে শুরুতেই চমক দেখানো দুর্বার রাজশাহীর ভরসার জায়গা ছিল দেশি ব্যাটাররা। সাব্বির হোসেন ও এনামুল হক বিজয় সেই কাজটা ভালোই করলেন শুরুতে। তবে মূল তাণ্ডব দেখালেন ইয়াসির আলি। পাঁচে নেমে প্রায় ১৮৮ স্ট্রাইক রেটের এক ইনিংসে এলোমেলো করে দিলেন ছন্দে থাকা রংপুর রাইডার্স বোলারদের। তবে তার বিদায়ের পর ঘুরে দাঁড়াল নুরুল হাসান সোহানের দল। সম্ভাবনা জাগিয়েও রাজশাহী পারল না বড় স্কোর গড়তে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ৩১তম ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করা রাজশাহী পেয়েছে ৯ উইকেটে ১৭০ রানের পুঁজি। সর্বোচ্চ ৬০ রান এসেছে ইয়াসিরের ব্যাট থেকেই।
কয়েকটি চারের মারে আশা জাগালেও মোহাম্মদ হারিস পারেননি ইনিংস টেনে নিতে। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানের শিকার হওয়ার আগে করতে পারেন ১৯ রান। শুরুতে কিছুটা দেখেশুনে খেলা সাব্বির চড়াও হন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ওপর। পঞ্চম ওভারে টানা তিন বলে বলে হাঁকান একটি ছক্কা ও দুটি চার।
আরও পড়ুন
| রংপুরকে ভুলতে বসা হারের স্বাদ দিল রাজশাহী |
|
এরপর নাহিদ রানাকেও ওড়ান ছক্কায়। ক্রমেই যখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন রংপুরের জন্য, সেই সময়েই তাকে থামান খুশদিল শাহ। তবে তার আগে সাব্বির উপহার দেন ৪টি চার ও ৩ ছক্কায় ৩৯ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস। তবে ওই ওভারেই রায়ান বার্লকেও ফিরিয়ে রাজশাহীর চাপ বাড়ান খুশদিল।
এরপর কিছুটা কমে যায় রানের গতি। সেটা সচল হয় ইয়াসিরের হাত ধরে। মাহেদি হাসানের এক ওভারে চার ও ছক্কার পর আগ্রাসন দেখান আরেক স্পিনার রাকিবুলের ওভারেই। লং-অন ও ডিপ মিড উইকেট দিয়ে পরপর দুই বলে মেরে দেন দুই ছক্কা। পরের ওভারে সাইফউদ্দিনেরও হয় একই অভিজ্ঞতা।
মাত্র ২৭ বলে ফিফটিতে পা রাখেন ইয়াসির। ফিরতি স্পেলে এসে এক ছক্কা হজমের পর তাকে শেষ পর্যন্ত বিদায় করেন খুশদিল। ডানহাতি এই ব্যাটার তার ৩২ বলের ইনিংস সাজান ৬ ছক্কা ও ২ চারে।
১৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৫৩ রান করা রাজশাহীর ইনিংসে লাগাম এরপরই টেনে ধরেন রংপুরের বোলাররা। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সেভাবে রানই বের না করতে দিয়ে নিয়মিত বিরতিতে শিকার করেন উইকেট।
আরও পড়ুন
| রঞ্জিতেও হাসল না রোহিতের ব্যাট |
|
৩১ বলে ৩৪ রানের মন্থর ইনিংসে খেলে রান আউটে কাঁটা পড়েন এনামুল হক। আরও একবার দলকে হতাশ করেন আকবর আলি। নিজের শেষ দুই ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন আকিফ জাভেদ, যা রাজশাহীর জন্য শেষের ঝড় তোলার কাজটা করে তোলে ভীষণ কঠিন। সব মিলিয়ে ২৩ রানে ৩ উইকেট তার নামের পাশে।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম

সহজ লক্ষ্য—১২৯ রান। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্ম-আপ সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া সাদামাটা টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২০ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সালমান আলী আগা নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান।
বুধবার ডাম্বুলায় টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। শুরুতেই শ্রীলঙ্কার ওপর পেস আক্রমণ শানায় সালমান মির্জা ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। পাশাপাশি স্পিন বিষে ছাড়েন আবরার আহমেদ ও সাদাব খান। পেস ও স্পিন দুই সেকশন থেকে সমান ৫টি করে উইকেট নেয়া হয়। তাতেই ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা।
৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর স্বাগতিকদের হয়ে হাল ধরেন জনিথ লিয়ানাগে। তিনি সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিস খেলেন। দলের সাত ব্যাটার দুই অংকের রান নিলেও একমাত্র ইনিংস বড় করতে পারেন লঙ্কান এই ব্যাটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল চারিথ আসালাঙ্কা ও ওয়েনিন্দু হাসারাঙ্গার। দুজন ১৮ করে রান করেন। লোয়ার অর্ডার ভেঙে পড়ে সালমান মির্জার ষাড়াশি অভিযানে। সবমিলিয়ে কোটার ২০ ওভার খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১৯.২ ওভারে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
জবাব দিতে নেমে শাহিবজাদা ফারহান ৩৬ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে যাত্রা শুভ করেন। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও ১৮ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলেন। আর শেষটা ইতি টেনে দেন সাদাব খান। এই স্পিনার হাত ঘুরিয়ে দুই উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ বলে করেন ১৮ রান।

দুই ইনিংসে নেই কারো ফিফটি। অথচ, এমন এক ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ১৯৮/৫-এর জবাবে সিলেট টাইটান্সের স্কোর ১৮৪/১০। ১৪ রানে চট্টগ্রাম রয়্যালসের জয়ের ম্যাচেও শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছিল সিলেট টাইটান্স।
চলমান বিপিএলে এ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া সর্বোচ্চ স্কোরের ম্যাচে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কী ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংই না দেখেছে দর্শক। শেষ ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম যোগ করেছে ৬৬, সেখানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিলেট টাইটান্স যোগ করেছে ৫৯ রান।
শেষ পাওয়ার প্লে-তে বোলারদের চুল ছিঁড়ে ফেলার দশা করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালস মিডল অর্ডার শেখ মেহেদী (১২ বলে ৪ বাউন্ডারি, ১ ছক্কায় ৩১*)। জবাব দিতে এসে শেষ ১২ বলে ৪২ রানের টার্গেটের মুখে দাঁড়িয়েও সিলেট টাইটান্স টেল এন্ডার খালেদের বেপোরোয়া ব্যাটিং দেখেছে দর্শক (৯ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ২৫)।
১৯তম ওভারে শেখ মেহেদী চড়াও হয়েছিলেন পেস বোলার খালেদের উপর। মেরেছেন সেই ওভারে ২ চার, ১ ছক্কা, একটি ২ রান। জবাব দিতে এসে ১৯ তম ওভারে পেস বোলার শরীফুলকে খালেদ মেরেছেন ২ ছক্কা, ১ চার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলারদের বধ্যভূমি বানিয়ে ফেলা ম্যাচে সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছেন সিলেট টাইটান্স পেসার খালেদ (৪-০-৫৫-০)। দলের অন্য দুই পেসার রুয়েল মিয়া (৪-০-৪১-৩) এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই (৪-০-৪৭-১)ও ছিলেন অমিতব্যয়ী। প্রশংসা প্রাপ্য শুধু বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম ( ৪-০-২৪-০)।
টানা চতুর্থ ম্যাচে ফিফটির কক্ষপথে ছিলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অ্যাডাম রশিংটন। তবে ফিফটি থেকে যখন মাত্র ১ রান দূরে, তখন রুয়েল মিয়াকে পুল করতে যেয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন রশিংটন ( ৩৮ বলে ৬ চার, ১ ছক্বায় ৪৯)। এই ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রকৃত টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মাহামুদুল হাসান জয় (২১ বলে ৩ চার, ৪ ছক্বায় ৪৪)। রুয়েল মিয়াকে পর পর ২টি ছক্কা মেরে আর একটি ছক্কার শটে প্রলুব্ধ হয়ে এক্সট্রা কভারে দিয়েছেন ক্যাচ। রশিংটনের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ২য় উইকেট জুটিতে ৩৮ বলে ৬০ রানে রেখেছেন মাহামুদুল হাসান জয় বিশেষ অবদান।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫০ উঠতে ৩ উইকেট হারিয়েও ম্যাচে সিলেটকে রাখতে প্রানান্ত চেষ্টা করেছেন আফিফ। তবে বাঁ হাতি স্পিনার তানভিরের বলে এলবিডাব্লু হয়ে থেমেছেন ৪৬ রানে ( ৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কা)। এই ম্যাচে দুদলের মধ্যে ব্যবধান গড়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের পাকিস্তানি পেসার আমের জামাল (৪-০-৩৪-৪)।
সিলেটের জামাই মঈন আলী ইকোনমি বোলিংয়ে (৪-০-২৩-১) নাঈম শেখ-কে শিকার করেছেন। তবে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে বোল্ড হয়েছেন (১১ বলে ১৩)।
এই ম্যাচে ব্যবধান গড়েছে ডট বল এবং বাউন্ডারির সংখ্যা। চট্টগ্রামের (৪৩) চেয়ে ৫টি বেশি ডট করেছে সিলেট (৪৮)। চট্টগ্রামের ১৯টি বাউন্ডারির বিপরীতে ৯টি বাউন্ডারি মেরেছে সিলেট। ৩টি বেশি ছক্কা (১২টি) মেরেও তাই হেরে গেছে সিলেট।
৬ষ্ঠ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় রংপুরের সঙ্গে শীর্ষে উঠে এসেছে (৮ পয়েন্ট)। সিলেট নেমে গেছে পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে (৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট)।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের সংস্করণের সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস (টিপিটি)। তাদের আয়োজনে এবার মোট ১১ জন দেশি-বিদেশি ধারাভাষ্যকার দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চারজন দেশি ধারাভাষ্যকার রয়েছেন।
ধারাভাষ্য প্যানেলে এবার যুক্ত হলো নতুন তারা। বিদেশী কণ্ঠে যুক্ত হচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার নিক কম্পটন। ৪২ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার ও বর্তমানে বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার কম্পটন স্কাই স্পোর্টস, বিবিসি এবং ইএসপিএনের মতো প্লাটফর্মে কাজ করছেন।
কিংবদন্তি ইংলিশ অলরাউন্ডার ডেনিস কম্পটন-এর নাতি নিক কম্পটন। ক্রিকেট পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটার ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কম্পটন ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১২ থেকে ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। ১৬ টেস্টে ৭৭৫ রান করেছেন তিনি।
অবশ্য ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ হয়নি কম্পটনের। ২০১৮ সালের শেষে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেন তিনি। বর্তমানে ক্রিকেটে ধারাভাষ্যকার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ক্রিকেটে তাঁর বিশ্লেষণী দক্ষতা টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় বেশ পরিচিত।
এবারের বিপিএলে দেশি ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় আছেন ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’ খ্যাত আতহার আলী খান। তাঁর সঙ্গে ধারাভাষ্য আছেন শামীম চৌধুরী, সমন্বয় ঘোষ ও মাজহার উদ্দিন অমি।
বিদেশীদের মধ্যে আছেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনুস ও রমিজ রাজা। রমিজ রাজা এর আগেও বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেও ওয়াকার ইউনিসের জন্য এটি প্রথম। এছাড়া ধারাভাষ্য প্যানেলে আছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ফারভেজ মাহরুফ। মাঝে ওয়াকার ইউনুস বাংলাদেশ ছাড়লে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন গফ যোগ দেন।

ঘরের মাঠে আবার হারল সিলেট টাইটান্স। রংপুর রাইডার্সের কাছে হারের পরের ম্যাচেই জয়ে ফিরল চট্টগ্রাম রয়্যালস। একইসঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ফিরে পেল বিসিবি পরিচালিত দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে সিলেটকে ১৪ রানে হারায় চট্টগ্রাম। চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে ৫ উইকেটে ১৯৮ রানে থামে চট্টগ্রাম। জবাবে ১৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি সিলেট।
ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর নেট রান রেটের সৌজন্যে এখন এক নম্বরে চট্টগ্রাম। রংপুর রাইডার্স সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে। আর সাত ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে সিলেট।
রান তাড়ায় শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি সিলেট। দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ২৪ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তৌফিক খান তুষার ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আমির জামালের বলে বড় ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান তুষার। ওই ওভারেই ক্রিজে গিয়ে প্রথম বল ছক্কায় ওড়ান রনি তালুকদার। তবে ওভারের শেষ বলেই তাকে চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন জামাল।
এরপর কমে আসে রানের গতি। তিন নম্বরে ফিফটির সম্ভাবনা জাগালেও পারেননি আফিফ। ৩৩ বলে ৪৬ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটার। বেশি কিছু করতে পারেননি মইন আলি (১৩) ও আজমতউল্লাহ (১৮) ওমরজাই।
পরে ইথান ব্রুকস আশা দেখান। কিন্তু ১০ বলে ২০ রান করে ফিরে যান ইংলিশ তরুণ। আট নম্বরে নামা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও তেমন কিছু করতে পারেননি।
শেষ দিকে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা আনেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। বিপিএল ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ইনিংসে ৩টি ছক্কা মারেন সিলেটের পেসার। তবে তার ৯ বলে ২৫ রানে পরাজয়ের ব্যবধান ছাড়া আর কোনো ফায়দা হয়নি।
চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ উইকেট নেন জামাল। শরিফুল ইসলামের শিকার ২টি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো ছিল না চট্টগ্রামের। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৫ রানে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮)। এরপর তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন জয়। অ্যাডাম রসিংটনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৬০ রান।
ফিফটির আগেই অবশ্য ফিরে যান ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারা জয়। মাত্র ১ রানের জন্য টানা চতুর্থ ফিফটি করতে পারেননি রসিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৯ রান। পরে হাসান নাওয়াজ (২০ বলে ২৫) ও আসিফ আলি (৮ বলে ১৩) তেমন কিছু করতে পারেননি।
তবে ফিনিশিংটা দুর্দান্ত করেন মেহেদি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আমির জামালকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ১৭ বলে ৩৯ রান। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ায় সিলেট দলে নেই মোহাম্মদ আমির। তার জায়গায় খেলতে নেমে ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (নাঈম ১৮, রসিংটন ৪৯, জয় ৪৪, নাওয়াজ ২৫, আসিফ ১৩, মেহেদি ৩৩*, জামাল ৬*; রুয়েল ৪-০-৪১-১, খালেদ ৪-০-৫৫-০, মইন ৪-০-২৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, ওমরজাই ৪-০-৪৭-১)
সিলেট টাইটান্স: ১৯.৪ ওভারে ১৮৪ (তুষার ২৩, ইমন ২, আফিফ ৪৬, রনি ৬, মইন ১৩, ওমরজাই ১৮, ব্রুকস ২০, মিরাজ ১৭, খালেদ ২৫, নাসুম ০, রুয়েল ০*; শরিফুল ৪-০-৩৯-২, রনি ৪-০-৩৫-১, মেহেদি ৪-০-৩০-০, জামাল ৪-০-৩৪-৪, নাওয়াজ ১-০-৮-১, তানভির ২.৪-০-৩৮-২)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ১৪ রানে জয়ী

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল পাকিস্তানের। অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) খেলতে গিয়ে হাঁটুর চোটে পড়েন দলের অন্যতম সেরা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপর ফিরে আসেন দেশে। ডান হাঁটুর এই চোটে ঠিক কতদিনের জন্য তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তা ছিল সবার। তবে বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে ভালো খবর দিলেন আফ্রিদি।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসায় দ্রুতই আফ্রিদির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে দ্রুত পুনর্বাসন শুরু হওয়া সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি এই পেসার আশা করছেন আগামী সপ্তাহ থেকেই আবার বোলিংয়ে ফিরবেন।
লাহোর কালান্দার্সের ট্যালেন্ট হান্ট ইভেন্টে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আফ্রিদি নিজের চোট নিয়ে কথা বলেন। এর আগেও একবার হাঁটুর চোটে পড়েছিলেন তিনি। তবে এবার হাঁটুর এই চোট আগের মতো গুরুতর নয় বলে জানান আফ্রিদি, ‘আমার পুনর্বাসন চলছে, পিসিবি মেডিকেল টিম দেখাশোনা করছে। আমি জিম করছি এবং ব্যাটিং অনুশীলন করছি। আগামী সপ্তাহ থেকে বোলিং শুরু করব।’
আফ্রিদি আরও যোগ করেন, ‘এবারের চোট আগের মতো গুরুতর নয়। হাড়ে সামান্য ফোলাভাব আছে। এমআরআই রিপোর্ট খুব উদ্বেগজনক ছিল না, তাই এটা এক মাস নেবে না, সম্ভবত এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।’
এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় একটি টেস্ট ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় ‘পোস্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট’ চোট পান। এই চোটে প্রায় ছয় মাস মাঠের বাইরে ছিলেন পাকিস্তানি তারকা পেসার। সেই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম অংশও খেলতে পারেননি। পরে পাকিস্তানের দলের শেষপর্যায়ের খেলায় ফিরলেও, ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবার চোট পান।
বিগ ব্যাশে এবার ব্রিসবেন হিটের হয়ে আফ্রিদি চারটি ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে প্রতি ওভারে ১১.১৯ রান খরচ করে মাত্র দুই উইকেট নিয়েছেন। তবে দেশের হয়ে তিনি ভালো ছন্দেই ছিলেন। গত বছর পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ ও আবরার আহমেদ-এর পর তিনি কুড়ি ওভারের সংস্করণে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন।
আফ্রিদির দল বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় আছে। বিশ্বকাপের আগে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে আজ মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। ভারত-শ্রীলঙ্কার হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপের আগে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ।