২৬ মার্চ ২০২৪, ৭:৫৬ এম

ঘরের মাঠে ম্যাচ হলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স ছিল ভীষণ হতাশাজনক৷ উইকেটের আচরণ যেন ধরতেই পারছিলেন না তারা৷ দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় তাই হারতে হয়েছে বিশাল ব্যবধানে। এমন পরাজয়ের কারণ কী হতে পারে? সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মনে করছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে কম খেলাটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের।
আরও পড়ুন: সব ফরম্যাট থেকে লিটনকে বিশ্রাম দেওয়ার পক্ষে পাপন
সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষকে ২৮৮ রানে অলআউট করে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় বাংলাদেশ। ব্যর্থ হন টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা। নাইট-ওয়াচম্যান হিসেবে ওপরের দিকে নামা স্পিনার তাইজুল ইসলামের ৪৭ ও শেষের দিকে অন্য বোলারদের ব্যাট হাতে অবদানে ১৮৮ রান করতে সমর্থ হয় স্বাগতিকরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১৪ রানের টার্গেটে লিটন-জাকিররা প্যাকড হয় মাত্র ১৮২ রানে। মুমিনুল হক করেন অপরাজিত ৮৭।

মঙ্গলবার স্বাধীনতা দিবসের প্রদর্শনী ম্যাচের পর বাশারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সিলেট টেস্ট নিয়ে। সাবেক নির্বাচকের মতে, উইকেটে মানিয়ে নিতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা৷ “জাতীয় দলে যারা নিয়মিত খেলেন, তারা খুব একটা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান না৷ তারা যদি এই ধরনের উইকেটে বেশি বেশি খেলেন, তাহলে কিন্তু ভালো করতে পারত। মুমিনুল ভালো করেছে, কারণ তার ঘরোয়া ক্রিকেটটা খেলার সুযোগ বেশি হয়। এই উইকেটে ব্যাটিং করে কিন্তু মুমিনুল হক অভ্যস্ত, কিন্তু বাকি যারা আছেন, তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক ব্যস্ত থাকায় এই ধরনের উইকেটে ব্যাটিং করতে অভ্যস্ত নন।”
দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষ বেলায় ভূতুড়ে ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই স্বীকৃত ব্যাটাদের রানের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে। এর থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দিয়েছেন বাশার। “আমার মনে হয় না স্কিল লেভেলে তারা খুব একটা পিছিয়ে আছে, এই ম্যাচে যে ধরনের উইকেটে খেলা হয়েছে, সেখানে তারা খুব বেশি একটা খেলে না। গত ২-৩ বছর ধরে কিন্তু এই ধরনের উইকেটেই খেলা হচ্ছে৷ অনেক ফাস্ট বোলার এই কারণেই উঠে আসছে৷ আমার মনে হয় জাতীয় দলে যারা আছেন, তাদের সুযোগ পেলে ঘরোয়াতে খেলা উচিত।”
No posts available.
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০০ এম
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৪ পিএম

নানা নাটকীয়তার পর গত রোববার পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা দেয় দেশটি। এই ইস্যুতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। জানান, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি যে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। খেলাধুলার মাঠে রাজনীতি থাকা উচিত নয়।’
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের পাশে পুরোপুরি দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করি, আর এটা খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’
এর আগে রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পাকিস্তান সরকার জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলবে না তাঁরা। তবে তখন কোনো কারণ জানানো হয়নি।
বিশ্বকাপে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে দল পাঠাতে রাজি ছিল না বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু স্থানান্তর করার অনুরোধ জানালেও সেটি আমলে না নিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। সে সময় আইসিসির ‘দ্বৈত নীতির’কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। বাংলাদেশের দাবি মেনে বিশ্বকাপ খেলতে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে আইসিসি জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাঁরা পিসিবির কাছ থেকে সমাধানের পথ খোঁজার আশা করছে।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে তারা।

২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হওয়া আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নয়টি আসর ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ছয়টি ভিন্ন চ্যাম্পিয়ন এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড প্রত্যেকে দুইবার ট্রফি জিতেছে, আর পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা একবার করে সাফল্য উদযাপন করেছে।
প্রথম আসরে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ভারত ইতিহাস গড়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিবার জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে মাত্র পাঁচ রানের ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। এরপর ভারতকে প্রায় ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল পুনরায় শিরোপা জয়ের জন্য। অবশেষে ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার দল বার্বাডোসের ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সাত রানের ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ভারত। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নও ভারত। আর এই প্রতিযোগিতায় ঠিক এ দু’টি বিষয়ই যে অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে সূর্যকুমার যাদবের দলের জন্য। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অমীমাংসিত এক রহস্য, এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক আর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা শিরোপা জিততে পারেনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা (২০০৭), ইংল্যান্ড (২০০৯), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১০), শ্রীলঙ্কা (২০১২), বাংলাদেশ (২০১৪), ভারত (২০১৬), সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান (২০২১), অস্ট্রেলিয়া (২০২২), এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০২৪)। এক জায়গায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব সংস্করণে অদ্ভুত মিল আছে। চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি কোনো স্বাগতিক দেশই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ম আসর ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। আর বড় প্রশ্ন এখনো অপরিবর্তিত — এবার কি কোনো হোস্ট দেশ কিংবা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অভিশাপ ভাঙতে পারবে?
চলুন ফিরে দেখা যাক প্রথম নয়টি আসরের ফাইনালের মুহূর্তগুলোতে:
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ :
চ্যাম্পিয়ন : ভারত
রানার্স আপ : পাকিস্তান
আয়োজক : দক্ষিণ আফ্রিকা
ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে উন্মত্ত সমর্থকদের সামনে পাকিস্তানকে মাত্র পাঁচ রানের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে ম্যাচ শেষে মহেন্দ্রো সিং ধোনি বলেছিলেন, ‘এটি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলোর একটি।’
২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ :
চ্যাম্পিয়ন: পাকিস্তান
রানার্স-আপ: শ্রীলঙ্কা
আয়োজক: ইংল্যান্ড
২০০৭ সালে অল্প ব্যবধানে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর পাকিস্তান এবার সুযোগ হাতছাড়া করেনি। দুই বছর আগে যেই দল শিরোপার কাছাকাছি গিয়েছিল, এবার লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি উঁচিয়ে নেয়। পাকিস্তানের ব্যাটার শহীদ আফ্রিদি ৫৪* রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবং দলকে জয় এনে দেন। পাকিস্তানের অধিনায়ক ইয়োনিস খান উল্লসিত লর্ডস ভক্তদের সামনে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন।
২০১০ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন: ইংল্যান্ড
রানার্স-আপ: অস্ট্রেলিয়া
আয়োজক: ওয়েস্ট ইন্ডিজ
২০০৯ সালে স্বাগতিক হয়ে নকআউট পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইংল্যান্ড তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিল এবং ২০১০ সালের আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল। পল কলিংউডের নেতৃত্বে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তারা প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি জিতলো।
২০১২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন: ওয়েস্ট ইন্ডিজ
রানার্স-আপ: শ্রীলঙ্কা
আয়োজক: শ্রীলঙ্কা
মারলন স্যামুয়েলস ও ড্যারেন স্যামি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯৭৯ সালের পর প্রথম কোনো বৈশ্বিক শিরোপা জিততে সাহায্য করলেন। কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৭/৬ রানে থামে। স্যামুয়েলস ৫৬ বলে ৭৮ রান ও স্যামি ১৫ বলে অপরাজিত ২৬ রান করেন। এরপর সুনিল নারিনের ৩/৯ ও ড্যারেন স্যামির ২/৬ বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১০১ রানে অলআউট করে ৩৬ রানের জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবিয়রা।
২০১৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন: শ্রীলঙ্কা
রানার্স-আপ: ভারত
আয়োজক: বাংলাদেশ
ভারত তাদের ২০০৭ সালের সাফল্য পুনরাবৃত্তির আশা নিয়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছায়। শ্রীলঙ্কা প্রথমে ফিল্ডিং করে ভারতকে ১৩০/৪ রানে আটকে রাখে। বিরাট কোহলি ৫৮ বলে ৭৭ রান করে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন। জবাবে কুমার সাঙ্গাকারার ৩৫ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংসে ট্রফি জিতে শ্রীলঙ্কা।
২০১৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন: ওয়েস্ট ইন্ডিজ
রানার্স-আপ: ইংল্যান্ড
আয়োজক: ভারত
২০১৬ সালের ফাইনাল টি–টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল হিসেবে মনে করা হয়। ইংল্যান্ড ১৫৫/৯ রানে পৌঁছালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খারাপ শুরু করে, মাত্র ১১ রানে জনসন চার্লস, ক্রিস গেইল ও লেন্ডল সিমন্স আউট হন। মারলন স্যামুয়েলস ৮৫* রান করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। শেষ ওভারে ৬ বল বাকি থাকতেই ব্র্যাথওয়েট ৪টি সিক্স মেরে জয় নিশ্চিত করেন।
২০২১ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন: অস্ট্রেলিয়া
রানার্স-আপ: নিউজিল্যান্ড
আয়োজক: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান
প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতার লক্ষ্যে ফাইনালে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ড করে ১৭২/৪, কেইন উইলিয়ামসন ৪৮ বলে ৮৫ রান করেন। জবাবে, ডেভিড ওয়ার্নারের ৫৩ ও মিচেল মার্শ ৭৭* রানের ইনিংসে ফাইনাল জিতে অজিরা।
২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন: ইংল্যান্ড
রানার্স-আপ: পাকিস্তান
আয়োজক: অস্ট্রেলিয়া
দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতার শেষ ধাপে এসে পৌঁছায় ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। পাকিস্তানকে ১৩৭ রানে আটকে দিয়ে বেন স্টোকসের ৫২* রানের ইনিংসে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
চ্যাম্পিয়ন: ভারত
রানার্স-আপ: দক্ষিণ আফ্রিকা
হোস্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে রোমাঞ্চকর ফাইনালে ভারত ৭ রানের জয় নিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে। এই জয়ে ভারত ১১ বছরের টানা শিরোপা অপেক্ষা শেষ করে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও রবিন্দ্র জাদেজা টি–টোয়েন্টি থেকে অবসর ঘোষণা করেন।

জাহানারা আলমের তোলা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি দু’দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। আজ বিসিবি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, কমিটি জাহানারা আলমের যাচাই করে দেখেছে, এর মধ্যে সত্যতা মিলেছে দু’টি অভিযোগের। চারটি অভিযোগের মধ্যে প্রমাণিত হয়নি বাকি দুটি অভিযোগ।
গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশ্যে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রারীসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তোলেন জাহানারা। যার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্রিকেটাঙ্গন। এমতাবস্থায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। প্রায় ৫০ দিনের তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন বিসিবির হাতে তুলে দেয় দায়িত্বশীলরা।
আজ বিসিবি বিবৃতিতে লিখেছে,
‘কমিটি জাহানারা আলমের চারটি অভিযোগ যাচাই করে দেখেছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে, কমিটি বাংলাদেশ নারী দলের তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মনজুরুল ইসলামের অশোভন আচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। তার আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না, এবং কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী দমন ও হয়রানির আওতায় পড়ে। বিসিবির-এর সঙ্গে তাঁর চুক্তি ৩০ জুন ২০২৫-এ শেষ হয়।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোর্ড আইনি দলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যাতে হেনেস্তা ও অনৈতিক আচরণের শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বোর্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, নিয়ম ও প্রযোজ্য আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে বিসিবি। ২০০৯ সালের হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী রুবাবা দোলাকে প্রধান করে বিসিবি অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির দায়িত্ব হলো স্বাধীন অভিযোগ প্রক্রিয়া গঠন করা এবং সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা, যাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত হয়।
বিসিবি আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুসারে ভবিষ্যতে আরও আপডেট দেওয়া হবে।

আগামীকাল দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে শুরু হচ্ছে অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। দেশসেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া তিন দলের এ টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশের কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার ও হোম কেয়ার পণ্যের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড।
৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শেষ হবে ৯ ফেব্রুয়ারি। লিটন দাসের নেতৃত্বে ধূমকেতু একাদশ, নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দুর্বার একাদশ এবং আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন দুরন্ত একাদশ অংশ নিচ্ছে এই প্রতিযোগিতায়।
অদম্য টি-টোয়েন্টির পৃষ্ঠপোষক রিমার্কের অধীনে রয়েছে দেশসেরা ও জনপ্রিয় একাধিক ব্র্যান্ড—লিলি, অরিক্স, নিওর, টাইলক্স, সানবিট, সিওডিলসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড। ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে রিমার্ক দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলা, তারুণ্য এবং ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ‘অদম্য বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট ‘ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত হলো প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিযোগিতায় লিগ পর্বে প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। লিগ পর্ব শেষে শীর্ষ দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ১ কোটি টাকা। এই অর্থ গড়ে ভাগ করলে প্রতিজন ক্রিকেটারের আয় দাঁড়াবে প্রায় ৫ লাখ টাকা, আর সব মিলিয়ে একজন ক্রিকেটারের মোট আয় হতে পারে কমপক্ষে ৭ লাখ টাকা।
সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে ৫ ফেব্রুয়ারি ধূমকেতু একাদশ মুখোমুখি হবে আকবর আলীর দুরন্ত একাদশের। ৬ ফেব্রুয়ারি ধূমকেতুর প্রতিপক্ষ নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্বার একাদশ। ৭ ফেব্রুয়ারি লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুর্বার ও দুরন্ত একাদশ। আর ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। প্রতিটি ম্যাচই শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ মাঠে বসে বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ক্লাব হাউজ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে এই বিশেষ সুবিধা। তবে বিনামূল্যে খেলা দেখার জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নিজ নিজ স্কুল বা কলেজের ইউনিফর্ম অথবা আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’ মাঠে গড়াচ্ছে আগামীকাল। টুর্নামেন্টে তরুণদের নিয়ে গড়া দল দুরন্ত একাদশের হেড কোচ হান্নান সরকার। ইতোপূর্বে ডিপিএল ও বিপিএলজয়ী এই কোচ এবার ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্নের কথা জানালেন।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ টুর্নামেন্ট পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন হান্নান সরকার। কাগজে-কলমে দুরন্ত একাদশকে তিন নম্বর দল বলা হলেও মাঠের ক্রিকেটেই ফল নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস কোচের।
‘কাগজে কলমে রেজাল্ট হয় না, রেজাল্ট হয় মাঠে। তরুণ দল অনেক সময় এক্সট্রা কিছু পাওয়ার জেনারেট করতে পারে। সেই জিনিসটা করার অপেক্ষায় আমরা।’
নিরাপত্তা শঙ্কায় এবার ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে না রাখতেই বিসিবির এই উদ্যেগ। অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপকে ভালো প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চ হিসেবে দেখছেন দুরন্ত একাদশের কোচ,
‘বিশ্বকাপ খেলছি না-এই ভাবনা থেকে নয়, এটাকে একটা ভালো কম্পিটিশন হিসেবেই দেখছি। তিনটা দলকে যেভাবে ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছে, তাতে বোঝা যায় পরিকল্পনাটা সিরিয়াস।’
সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারির্সকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন হান্নান সরকার। তাঁর আগে গত বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডও জাতীয় দলের এই সাবেক ওপেনারের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
ডিপিএল ও বিপিএলে সাফল্যের পর এবার ‘ট্রেবল’ জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী হান্নান সরকার,
‘কনফিডেন্স একা কোচের হলে হবে না। টিম বয় থেকে প্লেয়ার-সবার বিশ্বাস থাকতে হবে। এই দলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা সবারই আছে।’
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা ক্রিকেটারদের জন্য এই টুর্নামেন্টকে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন হান্নান সরকার,
‘ওরা শুধু অনূর্ধ্ব-১৯ খেলেই আসেনি-বিপিএল, ডিপিএল খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। তাই এই স্টেজে পারফর্ম করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।’
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ধূমকেতু একাদশের বিপক্ষে মাঠে নামবে দুরন্ত একাদশ। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬ টায়, সরাসরি দেখা যাবে টি-স্পোর্টসের পর্দায়।