২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ৫:৪৭ পিএম

মিডফিল্ডার হলেও রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গোলের সামনে ছন্দময় ফুটবল উপহার দিয়ে চলেছেন জুড বেলিংহাম। সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সালজবার্গের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে নজর কেড়েছেন ইংলিশ তারকা। এর মধ্য দিয়ে তিনি গড়েছেন নতুন এক রেকর্ড। ছুঁয়েছেন ২১ বছর বয়সে করা আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির করা এক রেকর্ডও।
রিয়ালের হয়ে সালজবার্গের বিপক্ষে প্রথম দুই গোল করেন রদ্রিগো। সেই দুই গোলেরই অ্যাসিস্ট করেন বেলিংহাম। দ্বিতীয় গোলে বেলিংহামের করা ব্যাকহিল তো বেশ নজরই কেড়েছে। অবশ্য তারচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে রদ্রিগোর ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং। বা পায়ের কোনাকুনি শটে যেভাবে এই ব্রাজিলিয়ান জাল খুঁজে নিয়েছেন, তা লম্বা সময়ই রিয়াল সমর্থকদের মনে রাখার কথা।
আরও পড়ুন
| বায়ার্ন সেরা ক্লাবের কাতারে নেই, মানছেন কিমিখও |
|
আর সেই অ্যাসিস্টে বেলিংহাম ছুঁয়েছেন ২১ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসির ২৪টি গোল ও অ্যাসিস্টের ‘কন্ট্রিবিউশন’। মেসি এই বয়সে বার্সেলোনার জার্সিতে করেছিলেন ১৭ গোল আর সাত অ্যাসিস্ট। আর ২১ বছর বয়সী বেলিংহামের গোলের সংখ্যা ১১, আর অ্যাসিস্ট ১৩টি।
২১ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রাখা ফুটবলার বেলিংহামের রিয়াল সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপে। মোনাকো ও পিএসজির জার্সিতে এই বয়সে তিনি সব মিলিয়ে ইউরোপের শীর্ষ এই প্রতিযোগিতায় অবদান রেখেছিলেন ৩৭ গোলে। তারপরেই রয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটি তারকার ২১ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের অবদান ছিল ২৬টি।
No posts available.
১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ এম
১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৩২ এম
১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪ এম

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখা তো হলোই না, উল্টো আরেকবার লজ্জার পরাজয় মেনে নিতে হলো চেলসিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দুই লেগে পিএসজির (প্যারিস সেন্ট জার্মেই) কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিল ব্লুজরা।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মঙ্গলবার রাতে চেলসিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। প্রথম লেগে চেলসির পরাজয় ছিল ৫-২ গোলের। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-২ ব্যবধানে ফরাসি ক্লাবটির কাছে হেরেছে লিয়াম রোসেনিয়রের দল।
আরও পড়ুন
| নেইমারকে দলে নিতেই হবে, কোনো বিতর্ক নেই, বলছেন সিলভা |
|
এদিন ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে খিচিভা কাভারেৎস্খেলিয়ার গোলে লিড নেয় পিএসজি। ৯ মিনিট পর ব্রাডলি বারকোলার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অতিথিরা। আর ৬২ মিনিটে চেলসির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সেনি মায়ুলু।
ঘুরে দাঁড়াতে ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই মাঠে নামে চেলসি। প্রতিপক্ষের জাল কাঁপাতে শুরু থেকে মরিয়া হয়ে ওঠে দলটি। তবে বল পজেশন ধরে রেখে খেলার শুরুর খানিক পরই চেলসি শিবিরে বড় আঘাত হানে পিএসজি। ব্যবধান আরও বাড়লেও দমে যায়নি ব্লুজরা। ম্যাচে মোট ১৮টি শট নেয় তারা। যার মধ্যে ৯টি ছিল অন টার্গেটে। কিন্তু মোট ৮ শটের ৫টি লক্ষ্যে রেখে তিন গোল আদায় করে নেয় অতিথিরা। আর বিফলে যায় চেলসির মোট ১৮ শট।
শেষ আটে শিরোপাধারী পিএসজি খেলবে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাই কিংবা লিভারপুলের বিপক্ষে। আজ রাতে দ্বিতীয় লেগে অ্যানফিল্ডে মুখোমুখি হবে দুই দল। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে তুরস্ক থেকে ১-০ গোলে হেরে আসে অল রেডরা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ঐতিহাসিক যাত্রা থামলো বোদো/গ্লিমটের। নরওয়ের ক্লাবটির রূপকথা থামিয়ে প্রতিযোগিতার শেষ আটে উঠেছে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং লিসবন।
শেষ ষোলোর ম্যাচে মঙ্গলবার রাতে বোদো/গ্লিমটকে দ্বিতীয় লেগে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হরিয়েছে স্পোর্টিং লিসবন। কেউ-ই একের অধিক গোল পাননি, দলীয় প্রচেষ্টাতেই নরওয়ের ক্লাবটিকে বিধ্বস্ত করেছে তারা। প্রথমার্ধে এক গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে আরও ২ গোল। দুই লেগ মিলে ম্যাচ যখন ৩-৩ সমতায়, খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আরও দুই গোল হজম করে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় বোদো/গ্লিমট।
বোদো/গ্লিমট এই মৌসুমে তাদের দেশ থেকে অভিষেকে নকআউট পর্যায়ে ওঠা প্রথম দল। প্লে‑অফে গতবারের ফাইনালিস্ট ইন্টার মিলানকে হারায় তারা। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা জেগেছিল যখন ঘরের মাঠে ক্লাবটি স্পোর্টিং লিসবনকে উড়িয়ে দেয় ৩-০ গোলে। কিন্তু বড় ব্যবধানে হেরে আসা সেই দলটিই এদিন নিজেদের ঘরের মাঠে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে নরওয়েজিয়ানদের।

২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে মরক্কোকে। দুই মাস আগে এই আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। এবার ফল পাল্টে মরক্কোকে শিরোপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
গত ১৮ জানুয়ারি ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে পরাজিত করে সেনেগাল। ঘটনাবহুল সেই ফাইনালের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি পায় মরক্কো। এরপর প্রায় ১৭ মিনিটের বিলম্ব। পেনাল্টির প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান সেনেগালের ফুটবলাররা। পরে তারা মাঠে ফিরে এলেও পেনাল্টি মিস করেন ব্রাহিম দিয়াজ।
এরপর অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের পেপ গুইয়ের গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। তবে দুই মাস পরে এসে আফ্রিকার ফুটবলের শাসক সংস্থা এখন সেই ফলাফল পাল্টে দিয়েছে। সিএএফ এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ‘সেনেগাল ‘ফাইনাল ম্যাচটি বাতিল’ ঘোষণা করেছে এবং ফাইনালের ফলাফল মরক্কোর পক্ষে ৩-০ রেকর্ড করা হলো।’

পরের রাউন্ডে যেতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ফাইনাল লেগে দারুণ কিছু করতে হতো প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটিকে। এমন ম্যাচে শুরুটা আশাজাগানিয়া ছিল আকাশি-নীলদের। কিন্তু বের্নার্দো সিলভার এক ভুলের মাশুল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখা হলো না পেপ গার্দিওলার দলের। প্রথম লেগের পর দ্বিতীয় লেগেও রিয়ালের কাছে হেরেছে ইংলিশ জায়ান্টরা।
মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ফাইনাল লেগে নিজেদের ঘরের মাঠ ইতিহাদে রিয়ালকে আতিথেয়তা দেয় ম্যানসিটি। খেলায় ২-১ গোলের জয় পেয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। দুই লেগ মিলে ৫-১ গোলের এগ্রিগেটে প্রতিযোগিতার ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা উঠেছে শেষ আটে। এ নিয়ে সবশেষ পাঁচ মৌসুমের চারবার সিটিজেনদের প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় করে দিল রিয়াল মাদ্রিদ।
আরও পড়ুন
| নেইমারকে দলে নিতেই হবে, কোনো বিতর্ক নেই, বলছেন সিলভা |
|
এদিন রিয়াল মাদ্রিদকে পেনাল্টি থেকে লিড এনে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যানসিটির হয়ে সমতায় ফেরানো গোলটি করেন আর্লিং হলান্ড। এরপর ব্রাজিলিয়ান তারকার আরেকটি গোলে ইংল্যান্ড থেকে জয় নিয়ে ফেরে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা।
সিটির আক্রমণাত্ম শুরুর পর ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সুযোগ প্রথম তৈরি করে রিয়াল। ১৭ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলে শট নেন ভিনিসিয়ুস। পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ভিনির ফিরতি শটে বল লাগে বের্নার্দো সিলভার হাতে। পেনাল্টির আবেদন করে রিয়ালের খেলোয়াড়রা। ভিএআরে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। একই সঙ্গে ম্যানসিটি অধিনায়ক সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। সফল স্পটকিকে দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস।
খেলার ২৪ মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পান ভিনিসিয়ুস। বক্সের ভেতরে নেওয়া তাঁর শট অবশ্য লক্ষ্যে থাকেনি। পরের মিনিটে হলান্ডের শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। বেশ কিছু সুযোগ হারানোর পর ৪১ মিনিটে হলান্ডের গোলে সমতা টানে ম্যানসিটি।
বিরতির পর ১০ জনের দল নিয়ে পাহাড় টপকানোর মতো কিছু করতে হতো ম্যানসিটিকে। কিন্তু রিয়ালের রক্ষণদেয়াল টপকানো সম্ভব হয়নি তাদের। উল্টো শেষ আরেক গোল হজম করে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়ার সঙ্গে হারের তেতো স্বাদও নিতে হয় স্বাগতিকদের।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাস তিনেক। মেগা এই ইভেন্টকে সামনে রেখে চলতি মাসে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই দুই ম্যাচের জন্য গতকাল ২৬ সদস্যের ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি নেইমার জুনিয়রের।
বিশ্বকাপের আগে শেষ অ্যাসাইনমেন্টেও নেইমার দল না পাওয়ায় ব্রাজিল সমর্থকদের মনে তাই একটাই প্রশ্ন, দলের পোস্টার বয়ের বিশ্বকাপ কি তবে এখানেই শেষ?
ব্রাজিল দলে ফেরার জন্য নেইমারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে তাঁর শরীর। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি চোট এবং সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫০০ দিনেরও বেশি মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাঁকে।
সবশেষ ২০২৩ এর অক্টোবরে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থেকে ফেরেন নেইমার। ২০২৪ সালের শেষদিকে আল হিলাল ছেড়ে সান্তোসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ফিটনেস নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দানা বেঁধেছে। সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট এড়াতে নেইমারকে টানা ম্যাচ না খেলিয়ে বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হচ্ছে।
গত ১০ মার্চ মিরাসোল বনাম সান্তোসের ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন কোচ আনচেলত্তি। মূলত নেইমারের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স যাচাই করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচে নেইমার মাঠে নামেননি। কোচিং স্টাফরা সতর্কতামূলক বিশ্রাম হিসেবে দেখলেও ব্রাজিল কোচ এবং ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেননি।
গত বছরের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তি এর আগে অনেকবারই বলেছেন, দলে সুযোগ পেতে শতভাগ ফিট থাকার কোন বিকল্প নেই। গতকাল দল ঘোষণায় নেইমারকে না রাখার কারণ হিসেবে আবারও সেটিই মনে করিয়ে দেন এই ইতালিয়ান কোচ, ‘নেইমার পুরোপুরি ফিট নয় বলেই তাকে ডাকা হয়নি।‘
দলে জায়গা না পেয়ে নিজের মনের কষ্ট চেপে রাখতে পারেননি নেইমার। আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের পর জনসমক্ষে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন এই তারকা। ব্রাজিল কোচ অবশ্য জানিয়েছেন নেইমারের সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
তবে নেইমারের ফেরাটা সহজ হবে না। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামা হয়নি এই তারকার। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই কোচ আনচেলত্তির মন জয় করতে হবে নেইমারকে।
১৯ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। এর মাঝে নেইমারের হাতে সময় আছে দুই মাস। এই সময়ে সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান লিগ, কোপা দো ব্রাজিল এবং কোপা সুদামেরিকানা মিলিয়ে অন্তত ১৬টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ফ্লাইট ধরতে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হবে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা এই তারকাকে।