
আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের অনুমোদনক্রমে ও বাহরাইন টেনিস ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় আাগমী ১৮-২৪ নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ইছা টাউন, বাহরাইনে ‘২০২৪ ডেভিস কাপ এশিয়া/ওশানিয়া গ্রুপ-৫’ টেনিস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল আগামী ১৮ নভেম্বর ২০২৪ বাহরাইনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শেষে ২৪ নভেম্বর ২০২৪ দেশে ফেরার জন্য রওনা দেবে বাংলাদেশ দল।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার, কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন জনাব খালেদ আহমেদ, নির্বাহী সদস্য জনাব আখতারুজ্জামান মুকুল ও জনাব শেখ মো: আসলাম এবং ফেডারেশনের কাউন্সিলর জনাব ত্রিনাথ দাস।
আরও পড়ুন
| টেনিসে ইতিহাস গড়া মাসফিয়া এগিয়ে যেতে চান নতুনদের অনুপ্রেরণা হয়ে |
|
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় যে, এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাহরাইনসহ বাংলাদেশ, ভূটান, ব্রুনাই, লাওস, ম্যাকাও, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, ইয়েমেন, নেপাল, তাজিকিস্তান, গুয়াম, তূর্কমেনিস্তান, নর্দার্ন ম্যারিনা আইল্যান্ড ও ফিলিপাইন ডেভিস কাপ দল অংশগ্রহণ করবে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নিম্নবর্ণিত বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়েছে।
জারিফ আবরার :
জনাব খালেদ আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ, বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন (অধিনায়ক), সেনানিবাস অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা, মো: হানিফ মুন্না - জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, মোহাম্মদ রুস্তম আলী, আমেরিকান ক্লাব, ঢাকা, মো: দ্বীন ইসলাম - ইন্টারন্যশনাল ক্লাব, ঢাকা, মে: আলমগীর হোসেন - জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স।
আরও পড়ুন
| ঢাকায় শুরু হল ‘বাংলাদেশ আইটিএফ ওয়ার্ল্ড টেনিস মাস্টার্স ট্যুর’ |
|
আগামী ১৯ নভেম্বর ক্যাপ্টেনস মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, ক্যাপ্টেনস মিটিং এ অংশগ্রহণকারী দলসমূহকে ৪টি গ্রুপে বিভক্ত করে রাউন্ড রবীন লীগ ভিত্তিতে গ্রুপ পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে খেলার মাধ্যমে দুটি দলকে গ্রুপ-৪ এ উন্নীত করা হবে এবং দল দুটি ২০২৫ ডেভিস কাপ এশিয়া/ওশানিয়া অঞ্চল গ্রুপ-৪ এর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম
৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৭ পিএম

যৌন হয়রানির অভিযোগকে ঘিরে কয়েক মাস ধরেই অস্থির দেশের শুটিং অঙ্গন। এর মধ্যেই গত ১ জানুয়ারি অভিযুক্ত যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একই দিনে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশন সাময়িক বহিষ্কার করে জাতীয় তারকা শুটার কামরুন নাহার কলিকে। এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ফেডারেশন, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম (আলেয়া ফেরদৌস)। তবে বক্তব্য শেষ হতেই সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নে চাপে পড়েন তিনি। মূলত সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে গণমাধ্যমকে উদ্দেশ করে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।
আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়, ‘ফেডারেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা শুটিংয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।’ সাংবাদিকরা জানতে চান কোন গণমাধ্যমের কোন প্রতিবেদন মিথ্যা বা ভিত্তিহীন? এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে ব্যর্থ হন সাধারণ সম্পাদক। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘শুটারদের দেওয়া তথ্য যাচাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে।’সাংবাদিকরা সঙ্গে সঙ্গে এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।
আমন্ত্রণপত্রের শেষাংশে গণমাধ্যমকে ‘যোগ্য প্রতিনিধি’পাঠানোর আহ্বান জানানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। দীর্ঘদিনের ক্রীড়া সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেকেই এমন ভাষাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক দায় এড়িয়ে বলেন, ‘অফিস থেকে হয়েছে, খেয়াল করা হয়নি।’ পরে ফেডারেশনের সদস্য সারোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের সামনে দুই হাত জোড় করে ভুল ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের সময় ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে লাইভ সম্প্রচারের বিষয়টিও সাংবাদিকদের আপত্তির কারণ হয়। অনুমতি ছাড়া লাইভ করায় আবারও প্রতিবাদ জানান তারা। এরপর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমা চায় ফেডারেশন। এর আগে শুটিং ফেডারেশনের বহু সংবাদ সম্মেলন হলেও কখনো লাইভ সম্প্রচার হয়নি বলে জানান সাংবাদিকরা, যা এদিনের ঘটনার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারেও ছিল বিতর্কিত বার্তা ‘বিএসএসএফ-এর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার: দালিলিক সত্যের উন্মোচন’। তবে ‘দালিলিক সত্য’তুলে ধরার দাবি করা হলেও কোনো নথি উপস্থাপন করা হয়নি। ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির একাধিক সদস্য পূর্ববর্তী সরকার আমলেও দায়িত্বে ছিলেন এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২০১২ সালের আগে ছিলাম, তখন কোনো দুর্নীতি হয়নি।’
চার পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে শুটার তাসমায়াতি এমা, সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না ও কামরুন নাহার কলির অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়। অথচ এনএসসির তদন্ত কমিটি বেশ কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে এবং জিএম হায়দার সাজ্জাদকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সুপারিশও করেছে। এরপরও এমন সংবাদ সম্মেলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বলেন, ‘সংস্থার ভাবমূর্তি ও প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতেই এই আয়োজন।’
সাংবাদিকদের আরও প্রশ্ন ছিল সাজ্জাদের অব্যাহতির আগে শুটাররা মানববন্ধন, মামলা ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় চিঠি দেওয়ার সময় ফেডারেশন কেন নীরব ছিল? এখন সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগকারীদের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কি সাজ্জাদের পক্ষ নেওয়ার শামিল নয়? সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, ‘এটা কোনো ব্যক্তির পক্ষে নয়, বরং শুটিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ ধরে রাখার জন্য।’
তবে সংবাদ সম্মেলনের দিনও ফেডারেশনে সাজ্জাদের উপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তোলে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজের জন্যই তিনি এসেছেন।’ যদিও তিনি স্বীকার করেন, এনএসসি থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো পাননি বলে সাজ্জাদকে পুরোপুরি কার্যক্রমের বাইরে রাখা হয়নি।

ম্যাচ শেষ করার কয়েক ঘণ্টা পর মস্কোগামী ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন। এরপর হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন ব্রাজিলের ফুটসাল খেলোয়াড় ফেলিপে অ্যালেক্স। মৃত্যুকালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী এই খেলোয়াড়ের বয়স ছিল ৩২ বছর।
রাশিয়ান ক্লাব নরিলস্ক নিকেলের হয়ে খেলা ফেলিপে ব্রাজিল আন্তর্জাতিক ফুটসালের ম্যাচ খেলার পর উখতা বিমানবন্দরে মৃত্যুবরণ করেন। ২০২৫–২৬ মৌসুমের রাশিয়ান ফুতসাল কাপের সেমিফাইনালে এমএফকে উখতার বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর মস্কোগামী ফ্লাইটের জন্য চেক-ইন করার সময় তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। এরপর জরুরি চিকিৎসকর্মীরা দ্রুত তাকে সহায়তা দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সেখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রাশিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের সংবাদ সংস্থা অ্যালেক্সের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘আজ উখতার বিপক্ষে ম্যাচের পর নরিলস্ক নিকেলের খেলোয়াড় ফেলিপে আলেক্স হঠাৎ মারা গেছেন। দলের দেশে ফেরার ফ্লাইটের আগে বিমানবন্দরে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়টি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জরুরি চিকিৎসক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসা শুরু করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং সেখানেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
ইউয়েফাও এক্সে (টুইটার) এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে লিখেছে,
‘২০১৮–১৯ মৌসুমের ইউয়েফা ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী ৩২ বছর বয়সী অ্যালেক্স ফেলিপের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, বন্ধু ও সতীর্থদের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও আন্তরিক শোক।’
আলেক্স ব্রাজিলে ক্যাসকাভেল ও করিন্থিয়ান্সের হয়ে ফুতসাল ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে তিনি স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক ক্লাব মুভিস্তারের ইন্টার ফুতবল সালায় যোগ দেন, যেখানে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা জেতেন। এরপর তিনি জয়নভিলের হয়ে খেলতে ব্রাজিলে ফেরেন এবং আবার করিন্থিয়ান্সে একটি অধ্যায় শেষ করার পর পর্তুগালের স্পোর্টিং সিপিতে যোগ দেন।
স্পোটিং সিপিতেই ২০১৮–১৯ মৌসুমে ইউয়েফা ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেন ফেলিপে অ্যালেক্স । পাশাপাশি জিতেছিলেন লিগা পাউলিস্তা, পর্তুগিজ ফুতসাল কাপ ও পর্তুগিজ ফুতসাল সুপারকাপ।
স্পোর্টিং সিপি নিজেদের সাবেক খেলোয়াড়কে স্বরণ করে এক বার্তা লিখেছে,
‘ফুটসাল ও ক্রীড়াজগৎ আজ আরও গৌরব হারাল। আবার দেখা হবে, চ্যাম্পিয়ন।’
বর্তমান ক্লাব নরিলস্ক নিকেলে যোগ দেওয়ার পর ফেলিপে ২০২৩–২৪ মৌসুমে রাশিয়ান ফুটসাল কাপ জয়ের স্বাদ পান।

ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে অ্যাডহক কমিটি বিদ্যমান। প্রায় দুই মাস আগে থেকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৪৯টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনে চিঠি দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। কিন্তু তেমন কোন সাড়া নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান। জানা গেছে গলফ ও আর্চারি ফেডারেশন থেকে কেবল নির্বাচন আয়োজনের চিঠি পেয়েছে এনএসসি।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর দেশের সকল জেলা ও বিভাগীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ভেঙ্গে অ্যাডহক কমিটি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দেশের সকল ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। তবে নির্বাচনের বিষয়ে তখনো কোন নির্দেশনা ছিল না ক্রীড়া পরিষদের। যার ফলে গত দেড় বছর ধরেই বিভিন্ন ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম চলছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। তবে গত বছরের ৩০ অক্টোবর পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসানের সই করা চিঠিতে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দিলেও তেমন কোন সাড়া মিলছে না।
এনএসসির চিঠিতে উল্লেখ ছিল,
‘দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য ৪৯টি জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার (ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন/সংস্থা) আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধির নিকট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। সে প্রেক্ষিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ করা হলো।’

ব্রিসবেনে মৌসুমের শুরুতেই নিজের শক্তিমত্তার বার্তা দিলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। নিক কির্গিওসের বিপক্ষে সমালোচিত প্রদর্শনী ম্যাচ যে একেবারেই বৃথা যায়নি, সেটির প্রমাণ দিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালে। মাত্র ৪৮ মিনিটে স্প্যানিশ প্রতিপক্ষ ক্রিস্টিনা বুকসাকে উড়িয়ে দিয়ে সহজ জয় তুলে নিলেন নারী এককের বর্তমান বিশ্ব নম্বর ওয়ান।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বুকসার বিপক্ষে ৬-০, ৬-১ ব্যবধানে জয় পান সাবালেঙ্কা। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৫০ নম্বরে থাকা বুকসার জন্য ম্যাচটি ছিল একতরফা। প্রথম সেট শেষ করতে সাবালেঙ্কার সময় লাগে মাত্র ২২ মিনিট, দ্বিতীয় সেটে আরও ২৬ মিনিটে কাজ সেরে ফেলেন ২৭ বছর বয়সী এই বেলারুশিয়ান তারকা।
এই দাপুটে জয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে সাবালেঙ্কার প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি শুরু হওয়া বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সামনে রেখে দারুণ ছন্দেই আছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সাবালেঙ্কা জানান, মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই এমন পারফরম্যান্সের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ২৮ ডিসেম্বর দুবাইয়ে নিক কির্গিওসের বিপক্ষে খেলা প্রদর্শনী ম্যাচটি। সেই ম্যাচটি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তিনি এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
সাবালেঙ্কা বলেন, 'যখন আপনি একজন পুরুষ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলেন, তখন ম্যাচের তীব্রতা একেবারেই ভিন্ন হয়। বিশেষ করে নিকের মতো খেলোয়াড়, যে প্রায় প্রতি শটে ড্রপ শট খেলে। তখন অনেক বেশি দৌড়াতে হয়, ফিটনেসের দারুণ পরীক্ষা হয়।'
প্রদর্শনী হলেও চ্যালেঞ্জ ছিল বললেন সাবালেঙ্কা , 'আজ মনে হচ্ছিল, চল দৌড়াই। ওই প্রদর্শনী ম্যাচটা মজার ছিল, বড় চ্যালেঞ্জও ছিল।'
কির্গিওসের সঙ্গে ম্যাচটি নিয়ে সাবালেঙ্কার আরেকটি মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তাঁর মতে, ওই ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য ছিল টেনিসকে আরও বেশি দর্শকের সামনে তুলে ধরা। বললেন, 'এটা কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার বিষয় ছিল না। আমরা দেখাতে চেয়েছি, টেনিস কতটা বড় হতে পারে।'
ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের তৃতীয় রাউন্ডে সাবালেঙ্কার প্রতিপক্ষ হতে পারেন জেলেনা অস্টাপেঙ্কো অথবা সোরানা কিরস্তেয়া। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ম্যাডিসন কিজ। এটি হলে গত বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালের পুনরাবৃত্তি দেখা যেতে পারে, যেখানে কিজ শিরোপা জিতেছিলেন।
এরই মধ্যে ব্রিসবেনে তৃতীয় রাউন্ডে উঠে গেছেন ম্যাডিসন কিজ। তিনি ৬-৪, ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়েছেন স্বদেশি ম্যাকার্টনি কেসলারকে। সাবালেঙ্কার মতো কিজও দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে খেলতে নেমেছিলেন। ম্যাচ শেষে কিজ স্বীকার করেন, শুরুতে নিজের ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। 'প্রতিপক্ষ আগে থেকেই একটি ম্যাচ খেলে এলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। একটু মরচে ঝাড়তে সময় লাগে', বলেন কিজ।
এদিকে পুরুষ এককের ড্রতে এসেছে বড় দুটি অঘটন। দ্বিতীয় বাছাই স্পেনের আলেহান্দ্রো দাভিদোভিচ ফোকিনা এবং পঞ্চম বাছাই কানাডার ডেনিস শাপোভালভ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন।
আমেরিকান ব্র্যান্ডন নাকাশিমা ৭-৬ (৭/৪), ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়েছেন ফোকিনাকে। অন্যদিকে বেলজিয়ান কোয়ালিফায়ার রাফায়েল কোলিনিওন ৬-৪, ৬-২ ব্যবধানে শাপোভালভকে বিদায় করে দেন।
সব মিলিয়ে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের শুরুতেই জমে উঠেছে লড়াই, আর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে সাবালেঙ্কার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে টেনিসবিশ্বের।

জাতীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে পুরুষ বিভাগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং নারী বিভাগে বাংলাদেশ পুলিশ শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে হয় এই প্রতিযোগিতা।
শনিবার পুরুষ বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ৩৩-২৮ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিজিবি। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধে সেনাবাহিনী আধিপত্য বিস্তার করে ১২-৯ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
বিরতির পর খেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয় বিজিবি। দলের তারকা খেলোয়াড় আল আমিনের দুর্দান্ত তিন পয়েন্টের রেইডে বিজিবি ম্যাচে সমতা ফেরায়। এরপর তারা সেনাবাহিনীকে অল-আউট করে তিন পয়েন্টের লিড নেয়।
শেষ দিকে একটি ‘সুপার রেইড’ থেকে আরও তিন পয়েন্ট অর্জন করে বিজিবি নিজেদের জয় নিশ্চিত করে। সেনাবাহিনী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও বিজিবির সুসংগঠিত ডিফেন্সের সামনে তারা হার মানতে বাধ্য হয়।
নারী বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশ ৩৬-৩১ পয়েন্টে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এই দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান।
প্রথমার্ধের শেষে ১৭-১২ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল পুলিশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আনসারের স্মৃতি একটি চমৎকার ‘সুপার রেইড’ করলে পয়েন্ট দাঁড়ায় ১৯-১৯-এ। এই উত্তেজনাকর মুহূর্তে পুলিশ পুনরায় আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং আনসারকে দ্বিতীয়বার অল-আউট করে বড় ব্যবধান তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পুলিশের মেয়েরা।
ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফকির এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, বিজিবির পরিচালক ক্রীড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবি এম শাহ রেজা ও কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ।
নারী বিভাগে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হয়েছেন রংপুরের অন্তরা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাহিদা। আর পুরুষ বিভাগের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় বিকেএসপির জুলফিকার আকাশ। নারী বিভাগের সেরা ডিফেন্ডার আনসারের স্মৃতি আক্তার আর পুরুষ বিভাগে সেরা ডিফেন্ডার হয়েছেন বিজিবির সবুজ মিয়া। নারী বিভাগে সেরা রেইডার বিজিবির বৃষ্টি বিশ্বাস আর পুরুষ বিভাগে সেরা রেইডার সেনাবাহিনীর রোহান মিয়া। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন নারী বিভাগে পুলিশের শ্রাবনী মল্লিক ও পুরুষ বিভাগে বিজিবির আল আমিন।