
বৈশ্বিক ইভেন্ট বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বেশ আগে থেকেই বাংলাদেশ দলে সহ-অধিনায়ক কে, তা নিয়ে চলে আসছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা। কে ডেপুটির দায়িত্বে আছেন, সেটা নিয়ে ধোয়াশায় থাকেন খেলোয়াড়রাও। আসছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলেও দেখা মিলেছে একই চিত্রের। স্কোয়াডে উল্লেখ করা হয়নি সম-অধিনায়কের নাম। দলের সব ব্যাপারে ব্যাখা দিলেও এই প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক গাজি আশরাফ হোসেন বল ঠেলে দিয়েছেন বোর্ডের কোর্টে।
সহ-অধিনায়ক হতে পারেন যে দুজন, সেই মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ দুজনই আছেন স্কোয়াডে। জাতীয় দলে এই দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে তাদের। নাজমুল হোসেন শান্ত ক্যারিবিয়ান সফর মিস করলে তার জায়গায় ওয়ানডে নেতৃত্ব দেন মিরাজ। ফলে অনায়াসেই সহ-অধিনায়ক হিসেবে তার বা অন্য একজনের নাম দল ঘোষণার সময়ই দিতে পারত বিসিবি।
আরও পড়ুন
| লিটন-তানজিদের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ঢাকা পেল প্রথম জয় |
|
সহ-অধিনায়ক কেন নেই, মিরপুরে রোববারের সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের জবাবে গাজি আশরাফ শোনালেন নির্বাচকদের সীমাবদ্ধতার কথা।
“আসলে আমাদের কাজের অধীনে রয়েছে শুধু দল নির্বাচন করাটা। আমরা দল দেওয়ার পর এটা বোর্ডের তরফ থেকে ঠিক করা হয় যে কে অধিনায়ক থাকবেন আর কে সহ-অধিনায়ক হবেন। শান্ত তো আগে থেকেই অধিনায়কত্ব করছে। সহ-অধিনায়ক কেন নেই, আমার মনে হয় এটা ক্রিকেট অপারেশন্স বা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো ভালো। কারণ, সঠিক উত্তরটা তারাই দিতে পারবেন।”
অধিনায়কের ডেপুটি কে থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার না থাকলেও খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে সতর্ক থাকার কাজটা করতেই পারেন নির্বাচক। এই কারণেই সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে গতিময় পেসার নাহিদ রানার প্রসঙ্গ। কারণটা স্পষ্ট, জাতীয় দলে তিন ফরম্যাটেই খেলা এই তরুণ ক্রিকেটার বিপিএলেও খেলছেন টানা ক্রিকেট। ফলে তার চোটে পড়ার চিন্তা পেয়ে বসছে অনেককেই।
আরও পড়ুন
| সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ নেই সাইফের, আরও ভালো করার প্রত্যয় |
|
প্রধান নির্বাচক অবশ্য জানিয়েছেন, নাহিদকে নিয়ে তারা সচেতনতা অবলম্বন করছেন।
“আমার ১০ মাসের চাকরির সময়ে আমি দেখেছি যে কোচিং প্যানেলের এটা একটা চিন্তার জায়গা হল বোলারদের ওয়ার্কলোড, যা নিয়ে তারা যথেষ্ট কাজ করেন। বিশেষ করে নাহিদ রানার দিকে তাদের বাড়তি নজর আছে। আমরা চাই না যাতে তার ওপর বাড়তি চাপ পড়ুক। এই ব্যাপারে ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে আমাদের যোগাযোগ আছে।”
No posts available.
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় সিডনি থান্ডার। ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন সিক্সার্স আগে ব্যাট করে তোলে ১৮৯ রান। অধিনায়কের ব্যাট থেকেই আসে বিগ ব্যাশ লিগে তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। জবাবে থান্ডার জয়ের চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্টিভ স্মিথের ব্যাট।
প্লে-অফের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে যাওয়া থান্ডারের সামনে ম্যাচটি ছিল সম্মান রক্ষার। তবে স্মিথ ছিলেন অন্য মেজাজে। মাত্র ৪১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, যা বিগ ব্যাশ লিগের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। তাঁর এই ইনিংসেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
ম্যাচের এক পর্যায়ে রায়ান হ্যাডলিকে এক ওভারে ৩২ রান নেন স্মিথ। ওভারের শুরুতেই চারটি টানা ছক্কা হাঁকান তিনি। পঞ্চম বলে চার পেলেও সেটি ছক্কা হয়নি। চাপের মুখে হ্যাডলি একটি ওয়াইড দেন, ফলে চার বলেই উঠে আসে ৩০ রান। শেষ দুই বলে মাত্র দুই রান দিলেও ওভার শেষে স্মিথের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২। এই ওভারেই মূলত থান্ডারের জয়ের ভিত গড়ে যায়।
তবে স্মিথের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের আগেই মাঠে তৈরি হয় এক নাটকীয় পরিস্থিতি। ইনিংসের দশম ওভারে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজম টানা চারটি ডট বল খেলেন। ওভারের শেষ বলে একটি সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন বাবর। কিন্তু স্ট্রাইকে থাকার উদ্দেশ্যে সেই রান নেননি স্মিথ।
পাওয়ার সার্জের সময় স্ট্রাইকে থাকতে চাওয়ায় স্মিথের এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হন বাবর। ওভার শেষেই দুজনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তাও হয়। পরবর্তী ওভারে পুরো পাওয়ার সার্জ খেলেন স্মিথ। এরপর বাবর আবার স্ট্রাইকে এলে দ্রুতই আউট হয়ে যান তিনি। আউট হওয়ার পর বাবরের হতাশা ছিল চোখে পড়ার মতো—সঙ্গীর দিকে না তাকিয়েই ড্রেসিংরুমে ফেরেন এবং বাউন্ডারি কুশনে আঘাত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সেই দৃশ্য।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন স্টিভ স্মিথ। ক্রিকেট সেভেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
'দশ ওভারের মাথায় আমাকে পাওয়ার সার্জ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমি বলেছিলাম, ছোট বাউন্ডারির দিকে আরেকটা ওভার আমাকে দিতে, আমি চেষ্টা করব ৩০ রান তুলতে। শেষ পর্যন্ত আমরা ৩২ রানই তুলেছি। তবে সিঙ্গেল না নেওয়ায় বাবর আজম আমার ওপর খুব খুশি ছিল না—এটা নিশ্চিত।'
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, বাবর আজম অপমানিত হয়েছেন। এর আগেও বিগ ব্যাশে পাকিস্তানের আরেক তারকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ‘রিটায়ার্ড আউট’ করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বাবর–স্মিথ ঘটনা নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে দেখলে, সিডনি ডার্বিতে স্মিথের ব্যাটিংই শেষ পর্যন্ত আলো কাড়ে। বিতর্কের বাইরে গিয়ে তাঁর ৪১ বলের সেঞ্চুরি ও এক ওভারের ৩২ রান—বিগ ব্যাশ লিগের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

ইনিংসের প্রথম বলেই কিছুটা ওভারপিচড ডেলিভারি করলেন শরিফুল ইসলাম। সুযোগ পেয়ে বাউন্ডারি মেরে দিলেন হাসান ইসাখিল। গুছিয়ে নিতে একদমই সময় নিলেন না শরিফুল। তার পরের সাত বলে মাত্র ২ রান নিতে পারলেন ইসাখিল। আর অষ্টম বলে হারালেন নিজের উইকেট।
ইসাখিলের এই উইকেট দিয়ে শুরু। পরে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আরও দুর্বার শরিফুল। পুরোনো বলে ডেথ ওভারে ১.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার। সব মিলিয়ে মাত্র ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
এমন বোলিংয়ের পর শরিফুল জানালেন, বিপিএলে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে তার এক ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট সাব্বিব বিন সাত্তার রাহুলের বড় অবদান। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের পর থেকেই রাহুলের পরামর্শ নিচ্ছেন শরিফুল। নিয়মিত পাচ্ছেন সুফলও।
উদাহরণ হিসেবে আনা যায় ইসাখিলের উইকেটের কথাই। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে আসেন শরিফুল। দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পান ইসাখিল। টানা ৪টি বল ১৩০ কিমি. প্রতি ঘণ্টার চেয়ে বেশি গতিবেগে করেন বাঁহাতি পেসার। মাত্র ২ রান নিতে পারেন ইসাখিল।
পরে ওভারের শেষ বল গতি কমিয়ে কিছুটা টেনে করেন শরিফুল। তাতেই ভড়কে যান ইসাখিল। গতির তারতম্য বুঝতে না পেরে ক্যাচ তুলে দেন আফগান ব্যাটার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাকে আউট করার পরিকল্পনা খোলাসা করেন শরিফুল।
"আমি লক্ষ্য করছিলাম, আমি একটু পেছনে পেছনে বল করলে, ও আগেভাগে সরে যাচ্ছিল। তখন আমি আর কি মাথায় নিয়েছি যে, একটু স্লোয়ার মারলে হয়তোবা চান্স থাকবে। তো সামনে ওই জায়গার মতো পড়ছিল, তাই আর কি (আউট হয়েছে)।"
এসময় ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট রাহুলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শরিফুল।
"অবশ্যই (রাহুলের অবদান অনেক)। প্রতি ম্যাচের পরে তিনি আমাকে সব কিছু পাঠিয়ে দেন। যেখানে ভুল করি, সেগুলো আর কি আমি পরের ম্যাচে যাতে না করি, সেগুলো নিয়ে ম্যাচের আগে সেগুলো আর কি দেখে আসি বা ঠিক করে আসি।"
বিপিএলের প্রথম ম্যাচে ১৪ রানে ২ উইকেট পেয়েছিলেন শরিফুল। ওই ম্যাচ থেকে শুরু হয় তাকে নিয়ে রাহুলের বিশ্লেষণ। প্রতি ম্যাচের পরই নানান ইনপুট দিয়ে থাকেন তিনি। এর ছাপ পড়ছে শরিফুলের বোলিংয়েও।
পরের ৭ ম্যাচে ১৬ শিকার ধরে এখন পর্যন্ত চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার। শরিফুলের সঙ্গে কী বিষয়ে কাজ করছেন সেসব বিষয়ে ধারণা দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহুল।
“আমরা প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। যেমন, কোনো একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের জন্য আমরা এমনকি ফিল্ড সেটআপও ঠিক করি- এই ব্যাটসম্যানের জন্য ফিল্ডিং হবে এমন।”
“শুরু থেকেই আমরা যা লক্ষ্য করেছি, তা হলো শরিফুলের নতুন বলের ওভারগুলোতে লাইন ও লেংথে সামান্য পার্থক্য ছিল। সে যা করছিল, প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি ফুল লেংথ বল করা।”
ফুল লেংথে বল করে শুক্রবার ইসাখিলের কাছেও শুরুতেই বাউন্ডারি হজম করেন শরিফুল। পরে সেটি শুধরে নিয়ে পান সাফল্য। রাহুলও বললেন, ব্যাটারদের ড্রাইভ বন্ধ করে দিয়ে উইকেটের সুযোগ বাড়ানোর কথা।
“পাওয়ার প্লেতে ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্কোরিং শটগুলোর একটি হলো ড্রাইভ। টি-টোয়েন্টিতে যদি আমরা ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে ড্রাইভ শটটা কেড়ে নিতে পারি- গুড লেংথ বা শর্ট অব গুড লেংথ বল করে- তাহলে ড্রাইভ খেলা কঠিন হয়ে যায়। তখন ব্যাটসম্যান স্কয়ার দিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। পাওয়ার প্লেতে যদি ব্যাটসম্যান স্কয়ার দিয়ে খেলেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।”
মাঝের ওভারগুলোতে পরিকল্পনা সাজানোর বিষয়টিও খোলাসা করেন রাহুল।
“মিডল ওভার ও ডেথ ওভারগুলোতে আমরা যে বিষয়টা ঠিক করার চেষ্টা করেছি, তা হলো বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে তার বল প্যাডের দিকে ড্রিফট করছিল। তাই আমরা সেটাকে একটু ফিরিয়ে এনে মিডল ও মিডল–অফে আক্রমণ শুরু করি। এর ফলে যেসব বল আগে রান দিত, সেগুলো এখন হয় উইকেট দিচ্ছে, না হয় এজ হচ্ছে বা ব্যাটসম্যানকে বিট করছে।”
“লেগ সাইডে ড্রিফট হওয়ার ব্যাপারে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তুমি যদি রিলিজ পয়েন্টটা ক্রিজের ডান দিকের দিকে সামান্য সরাও, তাহলে বিষয়টা ঠিক হয়ে যাবে। তাই যখনই আমরা কোনো সমস্যা দেখি, সেভাবেই আলোচনা করি।”
এছাড়া শেষ দিকে ইয়র্কারে জোর দেওয়া নিয়েও কাজ করছেন শরিফুল, এমনটাই জানালেন তার ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট।
“ডেথ ওভারের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট বোলিং প্যাটার্ন তৈরির কাজও করেছি। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ইয়র্কার, কিন্তু সে সেটা করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন সে আবার ইয়র্কার বল করছে, সঙ্গে ডেথ ওভারে একটি ঠিকঠাক প্যাটার্ন মেনে বল করছে।”

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছে আইসিসি। ভেন্যু সরানো ইস্যুতে এখনও সিদ্ধান্তে অনড় বিসিবি। সমাধানের অংশ হিসেবে আগামীকাল বাংলাদেশে আসছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার দুই প্রতিনিধি, যাঁরা বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু জানিয়েছেন, আইসিসির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করবে বিসিবি। ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সঙ্গেও একটি মিটিং হতে পারে। মিরপুরে আজ সাংবাদিকদের এমনটাই জানালেন মিঠু।
বিসিবি পরিচালক বলেন,
“আমি জানি কাল আইসিসি প্রতিনিধি দল আসছে। প্রোগ্রাম সম্পর্কে সভাপতির জানা। প্রোগ্রামে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকবেন। আশা করি, মিটিং থেকে সন্তোষজনক ফল আসবে।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন কিংবা অংশ না নেওয়া ইস্যুতে আইসিসির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বিসিবি। যদিও বারবারই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, ভেন্যু পরিবর্তন না হলে প্রতিনিধি পাঠাবে না বোর্ড। তারপরও আইসিসির প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশে আগমন। এতে ভিন্ন কিছু নির্দেশ করছে কিনা।
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মিঠু বলেন,
“আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। বোর্ড বলেন আর সরকার—আমরা মনে করি, আমাদের টিম, খেলোয়ার এবং সমর্থকরা নিরাপদ না সেখানে। এটা নিয়েই আলাপ হবে। এটা সভাপতি নিজেই হ্যান্ডেল করছেন। দেখি কাল কি ফল হয়। আমাকে যদি মিটিংয়ে থাকতে বলে, থাকব। নয়তো উনি (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) যাদের নিয়ে মিটিংয়ে বসবেন, তাঁরা এ বিষয়ে আলাপ করবেন। ভালো সাইন যে, তারা (আইসিসি প্রতিনিধি দল) আসছে। দেখা যাক বিষয়টি কোথা থেকে কোথায় যায়।”
আইসিসি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিসিবির মিটিং হবে, এটা অনেকটাই নিশ্চিত। শোনা যাচ্ছে, মিটিংয়ে ক্রীড়া মন্ত্রীও উপস্থিত থাকতে পারেন। যদিও মিঠু জানালেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট জানা নেই তাঁর।
তিনি বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা নেই। এটা গতকাল শুনেছি। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে। জানা থাকলে আপনাদের বলতাম। যে একটা মিটিং হবে, সেখানে ক্রিকেট বোর্ড কর্তারা থাকবে। আমাদের স্পোর্টস মিনিস্ট্রির সাথেও হয়তো মিটিং হবে। এটা জানলে আপডেট করতে পারব।”
দফায় দফায় মিটিং। এখন পর্যন্ত আইসিসি থেকে কোনো পজিটিভ হিন্ট পেয়েছে বিসিবি? উত্তরে মিঠু বলেন,
“এটা একটা প্রসেসে গেছে। প্রথমে আমরা একটা মেইল দিয়েছি, তারা উত্তর দিয়েছে, আমরা আবার মেইল দিয়েছি। তারপরে একটা জুম মিটিং হয়েছে। জুম মিটিংয়ের পরে এখন তারা সামনা-সামনি বসে আলাপ করতে চায়। কিন্তু বোর্ডের স্ট্যান্ড একটাই।”

বিপিএলে দারুণ ছন্দে রয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আজ নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে বিদায় করে ৮ ম্যাচে নিজদে ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে তারা। শরিফুল ইসলামের তোপেরমুখে একদমই সুবিধা করতে পারেনি নোয়াখালী। অসাধারণ বোলিংয়ে ৩.৫ ওভারে এক মেডেনসহ ৯ রানে শরিফুল নিয়েছেন ৫ উইকেট। ১৫২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ইনিংসে এটিই তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট।
দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ম্যাচ সেরা পুরস্কার হাতে তুলেছেন শরিফুল। তবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলন জানিয়েছেন, ম্যাচ সেরার প্রাইজমানি দিয়ে দুস্থদের সহায়তা করবেন। এটাই তাঁকে অন্যরকম তৃপ্তি দেয়। বোলিং স্পেলটা বেশ উপভোগ করেছেন শরিফুল। সে প্রসঙ্গে বললেন,
'অবশ্যই, অনেক এনজয় করছি। বিশেষ করে আমার ভালো লাগছে, আমরা ম্যাচ জিততে পেরেছি।'
তারপরই অসচ্ছল মানুষদের সহায়তায় ম্যাচ সেরা প্রাইজমানি দেওয়ার ঘোষণা শরিফুলের,
'আরেকটা বিষয়, আমি বলেছিলাম যতদিন ক্রিকেট খেলব, আমি ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হলে সেই টাকাটা আমার এলাকার যারা একটু অভাব-অনটনে থাকে তাদেরকে দেব। সেই হিসেবে আমার খুবই ভালো লাগছে এই টাকাটা তাদের কাছে যাবে ইনশাআল্লাহ।'
প্রথমবার ৫ উইকেট শিকার করে উচ্ছসিত শরিফুল,
'আলহামদুলিল্লাহ অবশ্যই ভালো লাগছে। একজন ফাস্ট বোলার বলেন, স্পিনার বলেন—প্রতিটা বোলারের স্বপ্ন থাকে ৫ উইকেট নেওয়া, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। আলহামদুলিল্লাহ।'
ইনিংসের প্রথম বলে বাউন্ডারি হজম করলেন শরিফুল। তারপর তিনি করলেন আরও ২২টি বল। কিন্তু তার বলে আর একটিও বাউন্ডারি মারতে পারল না নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটাররা। উল্টো দারুণ বোলিংয়ে ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ উইকেট নিয়ে ফেললেন বাঁহাতি পেসার।
গত বছরের বিপিএলে ৫ রানে ৪ উইকেট ছিল এত দিন তাঁর সেরা বোলিং ফিগার। সব মিলিয়ে চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত শরিফুলের শিকার ১৮ উইকেট, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

সকালের সূর্য সবসময় দিনের আভাস দেয় না- এই কথাটিরই যেন আরেকবার প্রমাণ দিলেন শরিফুল ইসলাম। ম্যাচের প্রথম বলে বাউন্ডারি হজম করলেও পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫ উইকেট নিলেন বাঁহাতি পেসার। আর এই সাফল্যের ভবিষ্যদ্বাণী তাকে আগেই করেছিলেন এক মাঠকর্মী।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে মাত্র ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। ১৫২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই তার প্রথম ৫ উইকেট। এমন পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
যে কোনো ম্যাচ শুরুর আগে নিজেদের পছন্দমতো রান-আপ মাপ দিয়ে চিহ্ন রেখে দেন পেসাররা। এই ম্যাচের আগেও রুটিন মেনে তেমন করছিলেন শরিফুল। তখনই এখন মাঠকর্মী তাকে ৫ উইকেট পাওয়ার ব্যাপারে ভরসা দেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই গল্প শোনালেন শরিফুল।
“আসলে আমি যখন রান-আপ মাপছিলাম, একজন গ্রাউন্ডসম্যান ভাইয়া আমাকে বলতেছিল, ‘ভাইয়া কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি আজকে ৫টা উইকেট পাবেন।’ তো আমি বলছি, ‘ভাই এটা তো মানে এত সহজ না। তবে আল্লাহ দিলে হতে পারে।’ তো যখন খেলছিলাম, ভালো বল করছিলাম... আমি শেষ উইকেট পর্যন্ত চিন্তা করিনি যে, পাঁচ উইকেট পাব। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ হয়তো কপালে লিখে রেখেছিল, তাই হয়ে গেছে।”
বিপিএলের সিলেট পর্ব থেকেই উইকেট নেওয়ার পর নাচের মাধ্যমে ভিন্নধর্মী এক উদযাপন করছেন শরিফুল। ব্যতিক্রম ঘটেনি ঢাকার ম্যাচেও। হাসান ইসাখিলকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেট নেওয়ার পরই নাচ দেন বাঁহাতি পেসার।
তবে এদিনের উদযাপনটি ছিল তারই এক সতীর্থের পরামর্শে।
“(নাচের উদযাপনের) কোনো প্ল্যান ছিল না। আমি মাথায় হাত দিয়েছিলাম। নাঈম (নাঈম শেখ) আমাকে এসে বলতেছে, ‘দে দে ড্যান্স দে, ড্যান্স দে।’ পরে ঝোঁকে হয়ে গেছে আর কি। সত্যি কথা। নাঈম আমার ভালো বন্ধু। আমরা সবসময় একসঙ্গে খেলছি। তো ওই তালে তালে হয়ে গেছে।”
চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে আছেন শরিফুল। তিনিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকার। ৮ ইনিংসে মাত্র ১০.১১ গড়ে তিনি নিয়েছেন ১৮ উইকেট। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন মাত্র ৬.৩১ রান।
এই ছন্দ ধরে রেখে টুর্নামেন্ট শেষেও শীর্ষে থাকার আশা দেখেন কিনা জিজ্ঞেস করা হলে, সব কিছু সময়ের হাতে ছেড়ে দেন ২৪ বছর বয়সী পেসার।
“এখন পর্যন্ত ১৮ উইকেট পেয়েছি। পরের ম্যাচগুলোতে নাও পেতে পারি। তো আমার মনে হয় খেলতে থাকি, যদি আসে তো আলহামদুলিল্লাহ। না এলেও চিন্তিত হওয়ার কিছু নাই।”