
গুঞ্জনটা বাতাসে ভাসছে বেশ কিছুদিন ধরেই, হামজা চৌধুরী ছাড়তে যাচ্ছেন লেস্টার সিটি। সেটার যে সত্যি হওয়ার পথে, তা এবার একরকম নিশ্চিতই করে দিলেন কোচ রুড ভেন নিস্তেলরয়। সাবেক এই ডাচ স্ট্রাইকার জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হামজা লেস্টার ছেড়ে যোগ দেবেন চ্যাম্চিয়নশিপের ক্লাব শেফিন্ড ইউনাইটেডে।
গত রোববার ইতিলিয়ান জনপ্রিয় সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানো জানান হামজার দল ছাড়ার খবর। তার দাবি, এরই মধ্যে দুই পক্ষের মাঝে নাকি মৌখিক চুক্তি হয়ে গেছে। আপাতত মৌসুমের বাকি সময়টা হামজা ধারের চুক্তিতে যাচ্ছেন শেফিল্ডে। এরপর তাদের সামনে সুযোগ থাকবে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ তারকাকে দলে নেওয়ার।। এর আগে শুক্রবার একই তথ্য প্রকাশ করেছিন দ্য আ্যথলেটিকও।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত হামজার লেস্টারে থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে চোট পড়ে বেশ কিছু দিন মাঠের বাইরে ছিলেন হামজা। তারপর থেকেই একাদশে সুযোগ পাওয়াই যেন দায় হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। নিস্তেলরয় আসার পর তো বেঞ্চই যেন স্থায়ী ঠিকানা হয়ে পড়েছে তার জন্য। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে হামজা ম্যাচ খেলেছেন মোটে ৬টি। তাও বেশিরভাগ ম্যাচেই নেমেছেন বদলি হিসেবে।
গত ডিসম্বরে হামজা ঘোষণা দেন জাতীয় দলে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার। সব ঠিক থাকলে মার্চে লালা-সবুজ জার্সিতে অভিষেক হওয়ার কথা এই মিডফিল্ডারের। তাই তার লেস্টার সিটি ছাড়ার ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বাংলাদেশি সমর্থকরা। শেফিল্ডে গেলে যে নিয়মিত খেলার সুযোগটা পাবেন তিনি। আর দেশের জার্সিতে মাঠে নামার আগে সুযোগ পাবেন নিজেকে আবারও পুরনো রূপে।
No posts available.
১ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২১ পিএম
১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ এম

আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ হওয়ার পর আরেক দফা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উত্থান-পতন দেখা গেল। কদিন আগের হালনাগাদে একধাপ করে নিচে নেমে যায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। পাশপাশি র্যাঙ্কিংয়ে পেছায় বাংলাদেশও। এবার আবারও র্যাঙ্কিংয়ে পতন হলো আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের, রেটিং কমল বাংলাদেশের। আর স্পেনকে হটিয়ে শীর্ষে উঠে এলো ফ্রান্স।
ভিয়েতনামের কাছে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলে হারের পর একধাপ নিচে নেমে ১৮১ নম্বরে অবস্থান করে বাংলাদেশ। এরপর এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর ৯.১৮ রেটিং কমে হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের। লাল-সবুজ বাহিনীদের বর্তমান রেটিং ৮৯৯.৫৩।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে দু’টিই জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে দুই জয়ের পরও র্যাঙ্কিংয়ে পেছাল আলবিসেলেস্তারা। দুই থেকে তিনে নেমে গেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে হারের পর ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারানো ব্রাজিল পাঁচ থেকে ছয়ে নেমে গেল। আন্তর্জাতিক বিরতিতে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পাওয়া পর্তুগাল পাঁচে উঠে এলো।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসা ফ্রান্স ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে চূড়া দখল করে। সাত বছরেরও বেশি সময় পর আবার শীর্ষে ওঠার স্বাদ পেল দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বড় পয়েন্ট অর্জন করায় ‘লে ব্লু’রা শীর্ষে উঠেছে। ফ্রান্স এর আগে মাত্র দু’বার এক নম্বরে ছিল—২০০১ সালের মে থেকে ২০০২ সালের মে পর্যন্ত এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর অল্প সময়ের জন্য।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শীর্ষে ছিল স্পেন। প্রীতি ম্যাচে সার্বিয়াকে হারালেও মিশরের সঙ্গে ড্র করে ‘লা রোজারা’। এই সময়সূচিতে স্পেনের আর্জেন্টিনার সঙ্গে ‘লা ফিনালিসিমা’ খেলার কথা থাকলেও ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় দুই দলই শেষ মুহূর্তে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে। র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ড চতুর্থ স্থানেই রয়েছে। নেদারল্যান্ডস, মরক্কো, বেলজিয়াম ও জার্মানি নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে, আর ১১ নম্বরে আছে ক্রোয়েশিয়া।
১২ নম্বরে রয়েছে এমন একটি দল, যারা বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না—ইতালি। প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করছে আজ্জুরিরা। তবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ফাইনাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ায় সেনেগালের পতনের সুযোগে ইতালি এক ধাপ এগিয়েছে।
বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে মেক্সিকো, তাদের অবস্থান ১৫ নম্বরে। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শীর্ষ দলের সঙ্গে ড্র করায় তাদের র্যাঙ্কিং উন্নতি করেছে তারা। বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে তারা, যুক্তরাষ্ট্র নেমে গেছে ১৬ নম্বরে। আরেক সহ-আয়োজক কানাডা রয়েছে ৩০ নম্বরে।

আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির পেনাল্টি নেওয়ায়ই অলিখিত নিয়ম। তবে আজ ভোরে জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। ডি-বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন থিয়াগো আলমাদা। তারপর দেখা যায় হাতের ইশারায় কাকে যেন ডাকছেন মেসি। সে আর অন্য কেউ নয়, নিকোলাস ওতামেন্ডি। দীর্ঘদিনের সতীর্থ বা বন্ধুর ‘বিশেষ’ ম্যাচটা রাঙাতে আলবিসেলেস্তাদের কিংবদন্তি আরও একবার ‘উদারতার’ অনন্য নজির উপহার দিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ। অবসরের আগে নিজের শেষ হোম ম্যাচে ওতামেন্ডি যাতে গোল করতে পারেন, সেজন্যই মূলত মেসির এই মহানুভবতা। নিখুঁত শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ওতামেন্ডি।
আরও পড়ুন
| ‘বিশ্বকাপের টিকিট প্রাপ্য ছিল’, বাদ পড়ে বললেন ইতালি কোচ |
|
বুয়েন্স আয়ার্সে জাম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৫-০ ব্যবধানের জয়ের রাতে গোল পেয়েছেন মেসি নিজেও। প্রথময়ার্ধের শেষদিকে অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টারের চমৎকার কারিকুরিতে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ১১৬ তম গোল করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সেই সঙ্গে জাম্বিয়া ৪০তম ভিন্ন দেশ যাদের বিপক্ষে গোল করলেন মেসি।
জাম্বিয়ার বিপক্ষে গোল করে মেসির ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৯০২টিতে। অবশ্য আর্জেন্টিনার অধিনায়ক চাইলেই আজ পেনাল্টি নিয়ে নিজের গোলের সংখ্যা বাড়াতে পারতেন। কিন্তু প্রকৃত অধিনায়কের ভূমিকাতেই দেখা গেল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরাকে। আর এই কারণেই যে ওতামেন্ডির মতো বাকি সতীর্থরাও মেসিকে এতোটা শ্রদ্ধা করেন, এমনকি শরীরে মেসির ট্যাটুও আঁকেন।
প্রীতি ম্যাচে প্রস্তুতি সেরে নেওয়ার পর মেসিদের আর কোনো ম্যাচ নেই। জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বমঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপে তাদের পরের দুই ম্যাচ অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে।

অন্য সব দিনের চেয়ে ব্যতিক্রম ইতালির বুধবারের সকাল। তাদের দিনটি শুরু হলো পুরোনো হতাশা ও একরাশ ক্ষোভে। আরেকটি বিশ্বকাপ তাদের ছাড়া- টানা তৃতীয়বারের মতো। ফুটবল-পাগল দেশটির জন্য এটি এখন আর কেবল ব্যর্থতা নয়, এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের নাম।
মঙ্গলবার রাতে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাওয়ার আগেই ছিটকে পড়ে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর ভাগ্য নির্ধারণে ব্যর্থ আজ্জুরিরা।
এর আগে সুইডেনের কাছে হেরে ২০১৮ ও উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে প্লে-অফে হেরে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ মিস করেছিল ইতালি। এবার সেই হতাশার ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘ হলো।
এমন ব্যর্থতার পর ইতালির শীর্ষ দৈনিক করিয়ের দেল্লা সেরা শিরোনাম করেছে, ‘বিশ্বকাপের অভিশাপ।’ তাদের মতে, ২০০৬ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে বিশ্বকাপে ইতালির অর্জন বলতে মাত্র একটি ম্যাচ জয়- এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, সমস্যাটা কত গভীরে।
ক্রীড়া পত্রিকা লা গ্যাজেট্টা দেল্লো স্পোর্ট ও করিয়ের দেল্লো স্পোর্ট একই সুরে লিখেছে, ‘আমরা সবাই ঘরে বসে থাকব।’ যার মানে আরেকটি বিশ্বকাপ দর্শক হয়েই কাটবে ইতালির জন্য।
রোমের এক পাবে খেলা দেখা সমর্থক দাভিদে কালদারেত্তার কণ্ঠে ধরা পড়েছে হতাশা, ‘শুরু থেকেই সব কিছু খারাপ হয়েছে। ফর্মে নেই এমন খেলোয়াড়দের খেলানো- এর কোনো মানে হয় না। আমি সত্যিই হতবাক।’
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষদিকে। ৪২ মিনিটে আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। তখন এগিয়ে থাকা ইতালি ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে।
আরেক সমর্থক এদোয়ার্দো সেট্তেমব্রের মন্তব্য, ‘সমস্যাটা হয়তো যুব কাঠামোতে, না হলে এমন ফলের ব্যাখ্যা মেলে না।’
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি সর্বশেষ বিশ্বকাপে খেলেছিল ২০১৪ সালে। এরপর একের পর এক ব্যর্থতা এখন তাদের ফুটবল কাঠামো নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
হতাশ সমর্থক মেলানি কারদিল্লোর কণ্ঠে যেন পুরো ইতালিরই প্রতিধ্বনি, ‘মন ভেঙে গেছে। তবুও আশা ছিল… কিন্তু টানা তৃতীয়বার- এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।’
এক সময় যে দেশ বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করেছে, আজ তারা খুঁজছে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া পরিচয়। এখন প্রশ্ন একটাই- ইতালি কি আবার উঠে দাঁড়াতে পারবে? নাকি ‘বিশ্বকাপ অভিশাপ’ আরও দীর্ঘ হবে?
মূল প্রতিবেদন: রয়টার্স

মঙ্গলবার রাতে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল স্পেন ও মিশর। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও মাঠের পরিস্থিতি ছিল বেশ উত্তপ্ত। ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে বারবার মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান আসায় দর্শকদের কয়েক দফায় সতর্ক করা হয়।
ম্যাচ শেষে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) ও স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত চলাকালীন সজোরে দুয়োধ্বনি দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। অনেক সমর্থক ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম‘ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।
আরও পড়ুন
| চূড়ান্ত হলো বিশ্বকাপের ৪৮ দল, দেখে নিন ১২ গ্রুপ |
|
মিশরের কিছু খেলোয়াড় যখন মাঠে সিজদা দিচ্ছিলেন তখনও গ্যালারি থেকে অসম্মানজনক চিৎকার শোনা যায়।
বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে একটি বিশেষ বার্তা প্রদর্শিত দেখা যায়। সেখানে সমর্থকদের উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার থাকার জন্য মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
এই ঘটনায় দ্রুতই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। স্পেনের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, 'আরএফইএফ ফুটবলে বর্ণবাদের ঘোর বিরোধী ও স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরণের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।'
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সমর্থকদের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন
“আমি যেকোনো ধরণের ঘৃণা বা বর্ণবাদকে ঘৃণা করি- এটি পুরোপুরি অসহনীয়। আমি জানি না এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রোটোকল কী। তবে জায়ান্ট স্ক্রিনে সতর্কবার্তা দেখানো ও মাইকে ঘোষণা দেওয়াটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।”
আরও পড়ুন
| ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ইরাক |
|
ঘৃণা ছড়ানো ব্যাক্তিদের উদ্দেশ্যে ধিক্কার জানান স্প্যানিশ কোচ।
“যারা এসব করছে তারা কলঙ্ক। স্টেডিয়ামের অধিকাংশ সাধারণ দর্শক কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারা ফুটবলের কেউ নয়। তারা স্রেফ ফুটবলের সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এদের সমাজ থেকে যত দূরে রাখা যায় ততই মঙ্গল।”

প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। এর মধ্যে ৪২টি দেশ নির্ধারিত হয়েছিল আগেই। বাকি ছিল ৬টি টিকিট। বুধবার সবশেষ দল হিসেবে ইরাকের বিশ্বকাপে ওঠার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেল ৪৮টি দেশ।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনাল শেষে মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
বুধবার ভোরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জ্যামাইকার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে ৪৭তম দল হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)।
আরও পড়ুন
| ৪ মিনিটে দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল |
|
সবশেষ স্পটের জন্য বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টায় লড়াইয়ে নামে ইরাক ও বলিভিয়া। মেক্সিকোর মন্টেরি শহরের এস্তাদিও বিবিভিএ স্টেডিয়ামে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে ইরাক।
২০২৬ সালের টুর্নামেন্ট দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক হবে জর্ডান, উজবেকিস্তান, কুরাসাও ও কেপ ভার্দের। এছাড়া ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে হাইতি ও কঙ্গো। আর ৪০ বছর বিরতি দিয়ে ফিরছে ইরাক।
এক নজরে বিশ্বকাপের ৪৮ দল ও ১২ গ্রুপ
গ্রুপ এ: মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চেক প্রজাতন্ত্র
গ্রুপ বি: কানাডা, সুইজারল্যান্ড, কাতার,বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
গ্রুপ সি: ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি
গ্রুপ ডি: যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক
গ্রুপ ই: জার্মানি, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও
গ্রুপ এফ: নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া,সুইডেন
গ্রুপ জি: বেলজিয়াম, ইরান, মিশর, নিউ জিল্যান্ড
গ্রুপ এইচ: স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দে
গ্রুপ আই: ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ইরাক
গ্রুপ জে: আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া, জর্ডান
গ্রুপ কে: পর্তুগাল, কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান, ডি.আর. কঙ্গো
গ্রুপ এল: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা, ঘানা
আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর সঙ্গে সহ আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের বিশ্বকাপের।
মরক্কোর বিপক্ষে আগামী ১৩ জুনের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে ব্রাজিল। আর ১৬ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।