
একের পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার জিতে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ লিগটিকেই বানিয়ে ফেলেছিল একঘেয়ে। সেই ম্যানচেস্টার সিটি এই মৌসুমে যেন একেবারেই অচেনা। জিততেই যেন ভুলে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। আগের ম্যাচেই জয়ের ধারায় ফিরলেও সবশেষ ক্রিস্টাল প্যালেসের সাথে ড্রয়ের পর পেপ গার্দিওলা তাই মেনে নিতে চাইলেন বাস্তবতা। স্প্যানিশ কোচের সহজ স্বীকারোক্তি, এই মৌসুমের জন্য তারা শিরোপার লড়াইয়ের বাইরে চলে গেছেন এরই মধ্যে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচ জয়বঞ্চিত থাকার পর গত সপ্তাহে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে স্বস্তির সুবাতাস ছিল সিটি শিবিরে। তবে প্যালেসের সাথে আরও একবার জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হয়ে ড্র করতে হয়েছে ২-২ তে। এই ম্যাচের পর শীর্ষে থাকা লিভারপুলের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে তাদের চেয়ে ৮ পয়েন্টে পিছিয়ে গত চারবারের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের পর রাখঢাক না রেখে গার্দিওলা বলে দিয়েছেন, শিরোপার আশা শেষ তাদের।
“আমরা একটি পয়েন্ট পেয়েছে। আমরা অবিশ্বাস্যভাবে লড়াই করেছি এবং দুইবার ম্যাচে ফিরে এসেছি। এটা একটা লড়াই করার মৌসুম। আমরা দেখবে যে সামনের মাসগুলোতে কী হয়। টানা চারটি ম্যাচে হার এবং এরপর এই ড্রয়ের পর আমরা শিরোপার জন্য লড়াইয়ের কথা বলতে পারি না। আমরা খেলোয়াড়দের সেরা ছন্দে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।”
এই মৌসুমে সময়ের অন্যতম সেরা কোচ গার্দিওলার এমন সব অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা তার হয়নি আগে। যার মধ্যে রয়েছে প্রথমবারের মত টানা চার ম্যাচে হার, টানা চারটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে হার ও টানা সাত ম্যাচ জয়বঞ্চিত থাকার মত তেতো অভিজ্ঞতা। কঠিন এই সময়ে চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনেককেই পায়নি সিটি। বিশেষ করে ভোগাচ্ছে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রদ্রির না থাকা, যিনি আগামী বছরের আগে ফিরতে পারবেন না।
আর সেই কারণেই প্যালেসের সাথে ড্র নিয়েও যেন সন্তুষ্ট সিটি কোচ।
“আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় চোট পেয়েছে, অনেক খেলোয়াড়ের সেই ফিটনেসটা নেই। তবে আমরা সেখানে জয়ের জন্য লড়ে গিয়েছিলাম এবং আমরা জয়ের জন্য সবকিছু করেছি। আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট এবং গর্বিত।”
No posts available.
৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৪ পিএম

প্রিমিয়ার লিগে চলছে কোচ ছাঁটাই-পদত্যাগর মহাযজ্ঞ। চারদিনের ব্যবধানে বিশ্বের বড় দুই ক্লাব চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচকে ছাঁটাই করে কর্তৃপক্ষ। যদিও এনজো মারেস্কার বিষয়টি ভিন্ন। দুপক্ষের সমাঝোতার ভিত্তিতেই ক্লাব ছেড়েছেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগের ছাঁটাইয়ের আঁচ লেগেছে স্কটল্যান্ড ঘরোয়া লিগেও। মাত্র ৮ ম্যাচে দল পরিচালনা করার পর ছাঁটাই হয়েছেন ক্লাবটির ফরাসি কোচ উইলফ্রিড ন্যান্সি। আজ এক বিবৃতিতে ৪৮ বছর বয়সী কোচের বরখাস্তের কথা জানায় চেল্টিক।
এর আগে এমএলএসের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব মন্ট্রিয়লের কোচ ছিলেন ন্যান্সি। ২০২৩ সালে তাঁর অধীনে কলম্বাস এমএলএস কাপ জেতে। এরপর মেক্সিকান ও আমেরিকান দলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত লিগস কাপও জেতে তারা। সেই মৌসুমে লিগে রানার্সআপ হয় কলম্বাস।
তবে ২০২৪ সালে এমএলএসের বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হলেও পরের বছর তাঁর দল ইস্টার্ন কনফারেন্সে সপ্তম এবং সামগ্রিকভাবে ১২তম স্থানে নেমে যায়।
চেল্টিক ছাড়ার সময় ন্যান্সির সাম্প্রতিক কোচিং পরিসংখ্যানও খুব একটা স্বস্তির নয়—শেষ ২০ ম্যাচে তিনি জিতেছেন মাত্র পাঁচটিতে। আর চেল্টিকের হয়ে ৮ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় দেখেছেন ন্যান্সি।

১৪ মাসেই শেষ হলো রুবেন আমোরিমের ওল্ড ট্রাফোর্ড অধ্যায়। টপ ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে সম্পর্ক ফাটলের জেরে বরখাস্ত হয়েছেন পর্তুগিজ কোচ। রবিবার প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেড ম্যাচে রেড ডেভিলদের হয়ে সবশেষ ডাগআউটে দাঁড়ান আমোরিম। বুধবার বার্নলির বিপক্ষে লিগের ম্যাচে ডাগআউটে দেখা যাবে ক্লাবের ঘরের ছেলে ড্যারেন ফ্লেচারকে।
আমোরিমের বিদায়ের ঘণ্টার চারদিন আগে ক্লাবের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে দায়িত্ব ছেড়ে দেন চেলসি কোচ এনজো মারেস্কা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ৪৫ বছর বয়সী কোচের বিদায়ের কথা জানিয়েছে ক্লাব। চেলসির সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি ছিল মারেস্কার।
ইংলিশ-স্পেন কিংবা বুন্দেসলিগা ফুটবলের প্রায় প্রতি মৌসুমেই পদত্যাগ কিংবা ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটে। প্রিমিয়ার লিগ ও লা লিগার বড় কয়েকটি ক্লাবের কোচের আছেন ছাঁটাই ঝুঁকিতে।
প্রিমিয়ার লিগে বড় নামটি আর্নে স্লট। লিগে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে ১৪ পয়েন্ট দূরে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। ২০ ম্যাচে ১০ জয় অল রেডদের। ৬টি ম্যাচে হেরেছে, চারটিতে ড্র করেছে তাঁরা। সবশেষ দুটি ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে অ্যানফিল্ডের ক্লাব।
চ্যাম্পিয়নস লিগেও একই দশা লিভারপুলের। ৬ ম্যাচের চারটিতে জিতে নবমে স্থান তাদের। ২০২৪-২৫ মৌসুমে শেষ ষোলেতে বাদ পড়েছিল লিভারপুল।
দলের ভঙ্গুর দশা ছাড়াও দামি প্লেয়ারদের খেলায় ফিরতে না পারা, চোট—সবমিলিয়ে ভীষণ চাপে নেদারল্যান্ডস কোচ। বেশ কয়েকবার ইংলিশ মিডিয়ায় প্রচার হয়—ছাঁটাই ঝুঁকিতে রয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী স্লট। এরমধ্যে মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে মনোমালিন্য ও দলের বাজে পারফরম্যান্সের মূলে স্লটকেই দায়ী করা হচ্ছে।
বলা তো যায় না, কোচ ছাঁটাইয়ের বাতাস তাঁকেও মাড়িয়ে যায় কি না। লিভারপুলের ইতিহাস যদিও অন্য কথা বলে। হুটহাট কোচ ছাঁটাই কিংবা প্লেয়ার সাইনিংয়ে বরাবরই মুন্সিয়ানা দেখায় ইংলিশ জায়ান্টরা।
ক্রিস্টাল প্যালেসের অলিভার গ্লাসনারও রয়েছেন বেশ চাপে। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত প্যালেসের সঙ্গে চুক্তি অস্ট্রিয়ান কোচের। এরপর চুক্তি নবায়ন অথবা নতুন ঠিকানা হওয়ার কথা ৫১ বর্ষী কোচের। তাঁকে নিয়ে কথা হচ্ছে বেশ। গুঞ্জণ উঠেছে, মাঝপথে ছাঁটাই হয়ে যেতে পারেন গ্লাসনার।
প্রিমিয়ার লিগে ২০ ম্যাচে সাত জয় ক্রিস্টাল প্যালেসের। সাতটি ম্যাচ হেরেছে এবং অপর ছয়টি ম্যাচ ড্র করেছে তাঁরা। সবশেষ ৫ ম্যাচের চারটিতেই হার তাঁদের।
বেশ রাখডাক করে নটিহ্যাম ফরেস্ট থেকে ওয়েস্ট হ্যামের হেড কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নুনো এস্পিরিটো সান্তো। অথচ লিগে দ্য হ্যামারসদের ফল যাচ্ছে তাই। ১৮তম স্থানে তাদের অবস্থান। ২০ ম্যাচে মাত্র তিনটি ম্যাচ জিতেছে ওয়েস্ট হ্যাম। হেরেছে ১২টি। সবশেষ ৫ ম্যাচের কোনোটিতে জয় নেই।
দলের এমন অবস্থায় বেশ চাপে ৫১ বর্ষী পর্তুগিজ কোচ। তিন বছরের জন্য ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও মনে হচ্ছে বছর না ঘুরতেই চাকরি নিয়ে টান পড়তে পারে নুনোর।
প্রিমিয়ার লিগে আরও যারা শঙ্কায় আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ড্যানিয়েল ফার্কে ও স্কট পার্কার। টাইটেল রেসে তলানিতে দুই ক্লাব।
লা লিগায় ঘুরে ফিরে আলোচনা হচ্ছে জাবি আলোনসোকে নিয়ে। স্প্যানিশ মিডিয়ায় বেশ ক’দিন ঢালাওভাবে প্রচার হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ কোচের নাম।
গোটা ডিসেম্বরজুড়ে একটা দফারফার মধ্যে দিয়ে যায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব। জিরানোর বিপক্ষে ড্র, সেলতিা ভিগোর বিপক্ষে হার কিংবা ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয়েছিল রিয়ালকে।
মৌসুমের শুরুতে লা লিগায় শীর্ষে ছিল রিয়াল। পরে তা দখলে নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। এখনও তা ক্লাব ন্যুয়ের ক্লাবের দখলে। এমন হাপিত্যেশের মধ্যে প্রায় প্রতি ম্যাচে খবরের শিরোনাম হতেন জাবি।
জাবির অনেকটাই ভাগ্য ভালো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং মৌসুম পুরোনো হতে হতে লিগে তার ক্লাব ফিরেছে ছন্দে। ১১ ডিসেম্বর ম্যানসিটির বিপক্ষে হারের পর সবশেষ চার ম্যাচের সবকটিতে জিতেছে রিয়াল। সাময়িকভাবে এটি জাবির জন্য স্বস্তির হলেও কিছুটা হলেও শঙ্কায় স্প্যানিশ কোচ।

বয়স ৪১ বছর। এ বয়সে ক্যারিয়ার ইতি টেনে বুটজোড়া আলমারিতে তুলে রাখার কথা। বড়জোর সৌদি প্রো লিগ কিংবা মেজর লিগ সকারের ছোট কোনো ক্লাবে ঢুঁ মারার কথা। তারচেয়েও কোচিং ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করাটাও যুক্তিযুক্ত। অথচ এই বয়সেই কিনা ইউরোপের ক্লাব পোর্তোতে নাম লেখালেন ব্রাজিলের সেন্টারব্যাক থিয়াগো সিলভা।
থিয়াগো সবশেষ খেলেছেন স্বদেশি ক্লাব ফ্লুমেন্সে। ক্যারিয়ার দীর্ঘ এই সেন্টারব্যাকের। খেলেছেন এসি মিলান, প্যারিস সেন্ট জার্মেইন ও চেলসির মতো ক্লাবে। অবশ্য পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোতে ছিলেন দুই বছর। আবারও পুরোনো ক্লাবে ফিরলেন তিনি।
থিয়াগোর শর্ট টাইম চুক্তি কিংবা পোর্তোতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে বড় ভূমিকা ছিল ক্লাবের কোচ ফ্রান্সিসকো ফেরাইরোলির। তার অনুরোধেই ব্রাজিল সেন্টারব্যাককে ভিড়ায় পোর্তো ম্যানেজম্যান্ট।
সংবাদ মাধ্যমের খবর, সিলভাকে ভিড়ানোর ব্যাপারে পোর্তোকে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করেছেন ফেরাইরোলি। ইতালিয়ান এই কোচের চাওয়া তার ক্লাবের তরুণদের অনেক কিছুই শেখার রয়েছে সিলভা থেকে। সেন্টারলাইন মজবুত করতে বড় ভূমিকা রাখবেন তিনি।
ইতোমধ্যে পোর্তোতে পৌঁছেছেন সিলভা। এসেই ভক্তদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ব্রাজিল সেন্টারব্যাক লিখেছেন, ‘হ্যালো পোর্তোস, ২২ বছর পর আমি আবারও পোর্তোতে।আমি খুবই খুশি। শিগগিরই দেখা হচ্ছে।’
থিয়াগোর জন্য এখন থেকে পুত্র ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করারটা সহজ হবে। তাঁর দুই সন্তান—লাগো ও ইসগো চেলসির একাডেমিতে রয়েছেন।
বর্তমানে পর্তুগালের ঘরোয়া লিগা পর্তুগালে শীর্ষে রয়েছে পোর্তো। ১৭ ম্যাচে ১৬ জয় ও একটি হার ফেরাইরোলির ক্লাবে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হয়েছেন রুবেন আমোরিম। ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে সম্পর্ক ফাটল ছাঁটাইয়ের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ গণমাধ্যম।
দায়িত্বপ্রাপ্তির ১৪ মাসের মাথায় বরখাস্ত করা হয়েছে ৪০ বছর বয়সী আমোরিমকে। তার অধীনে ৬৩ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২৪টিতে জয় পেয়েছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাব। শতাংশের হারে ৩৮.৭১। ইউনাইটেডের ইতিহাসে এটি অন্যতম দুর্বল কোচিং রেকর্ড। সবশেষ ১৯৭১ সালে ফ্রাঙ্ক ও’ফ্যারেলের সময় এর চেয়েও খারাপ রেকর্ড দেখা গিয়েছিল, যিনি একইভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন।
প্রিমিয়ার লিগে রবিবার ম্যান ইউনাইটেডের হয়ে শেষ কোচিং ছিল আমোরিমের। ম্যাচটিতে সবদিক দিয়েই আধিপত্য ছিল রেড ডেভিলদের। বল দখল কিংবা অনটার্গেট শট—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল আমোরিমের দল। অথচ শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাঁদের। প্রাপ্ত ফল মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে পর্তুগিজ কোচের।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে আমোরিম জানিয়েছিলেন, তাঁর দল আরেকটু ভালো কিছু ডিজার্ভ করে। পাশাপাশি তিনি এও জানান, একজন ম্যানেজার হিসেবেই আমি এখানে এসেছিলাম।
রুবেন আমোরিম বলেন,
‘আমি শুধু কোচই নয়। বরং এই দলের ম্যানেজার হতে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে খুব স্পষ্ট ছিলাম। এই দায়িত্বের মেয়াদ ১৮ মাসে শেষ হবে, এরপর সবাই নিজের পথে এগিয়ে যাবে। এটাই ছিল চুক্তি। এটাই আমার কাজ—কোচ হওয়া নয়।’
রবিবার লিডসের মাঠে বল দখলের লড়াইয়ে ৫৫ শতাংশ ছিল ম্যান ইউনাইটেডের দখলে। ১৫টি শট নিয়ে দুইটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বড় সুযোগ পায় তিনটি। মিস করে তিনটি। ১০টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা।
আমোরিম বলেন,
‘যদি আপনি ম্যাচটি দেখে থাকেন, বেশিরভাগই আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, ভালোভাবে খেলে নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। আমাদের জয়ের সুযোগ ছিল, কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে পারিনি। কঠিন পরিস্থিতিতে এটা সত্যিই কঠিন ম্যাচ ছিল।’
আমোরিম যোগ করেন,
‘ম্যাচ প্ল্যান ছিল আগের ম্যাচে (ওলভসের বিপক্ষে) আমরা কোথায় ভুল করেছি তা বোঝা। আমরা অনেক উন্নতি করেছি কারণ এবার আমরা সঠিক অবস্থানে ছিলাম। আগের ম্যাচের তুলনায় আমরা উন্নতি করেছি।’
সর্বোপরি আমোরিম বলেন,
‘আমরা আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি এবং পরবর্তী গোলের সুযোগও তৈরি করেছি। আমি মনে করি, আমরা আরও ভালো ফলের যোগ্য ছিলাম।’

দীর্ঘদিনের চোট–সংকটে পড়ে ফুটবল ছাড়ার কথাও ভেবেছিলেন নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলারের বাবা নেইমার সিনিয়র এমন তথ্য জানিয়েছেন। সান্তোসে ফেরার পরও একের পর এক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য সময়টা ছিল মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যন্ত ক্লান্তিকর।
নেইমারের হাঁটুর লিগামেন্টের গুরুতর চোটের কারণে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলালের সঙ্গে তাঁর চুক্তি বাতিল হয়। পরে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে এলেও পুরোপুরি ফিটনেস সমস্যার বাইরে আসতে পারেননি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে হাঁটুর মেনিসকাসে আবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।
নেইমার সিনিয়র জানান, দীর্ঘ চিকিৎসা, পুনর্বাসন আর মাঠের বাইরে থাকতে থাকতে একসময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর ছেলে। তিনি বলেন, ‘একসময় ও আমাকে বলেছিল—আমি আর নিতে পারছি না। জানি না অপারেশন করানোটা আদৌ সার্থক হবে কি না। আমার জন্য মনে হয় এখানেই শেষ। তখন বুঝেছিলাম, মানসিকভাবে ও কতটা চাপে আছে।’
নেইমারের বাবা আরও জানান, সংবাদমাধ্যমে অস্ত্রোপচারের খবর আগেভাগে প্রকাশ পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়ে যায়, অথচ তখনো আমরা ওকে কিছু জানাইনি। তখন ওর মাথা একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। মানুষ বলতে থাকে—নেইমার এ বছর আর খেলবে না। এসব ওকে ভীষণভাবে আঘাত করে।’
তবে সব কিছুর পরও অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন নেইমার। ২০২৫ সালে সান্তোসকে অবনমন ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে ব্যথা নিয়েই মাঠে নামেন। পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন এখনো ধরে রেখেছেন দেশটির সর্বোচ্চ ৭৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ড।
নেইমার সিনিয়র জানান, বিশ্বকাপের লক্ষ্যই ছেলেকে আবার মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি ওকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি—কিছু মানুষ খুব জোরে কথা বলে, তারা চায় তুমি হাল ছেড়ে দাও। কিন্তু যদি আমরা এখন ছেড়ে দিই, তাহলে আর খুব বেশি কিছু বাকি থাকে না। বিশ্বকাপটা সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।’
সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন নেইমার। আপাতত অবসরের চিন্তা স্থগিত রেখেছেন তিনি। ইউরোপ বা এমএলএসে যাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরও এক মৌসুম সান্তোসে থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার পরিকল্পনাই এখন অগ্রাধিকার নেইমারের সামনে।