
রহস্য স্পিনার হিসেবেই মূলত তার পরিচিতি। এই বিপিএলেও বল হাতে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বেশ। তবে ব্যাট হাতে আলিস আল ইসলাম বরাবরই নবিশ। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এই ম্যাচের আগে স্ট্রাইক রেট যার ৩৬, তার কাছ থেকে আর কীইবা আশা করতে পারে দল। তবে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে সবার চোখ কপালে তুলে সেই আলিসই চিটাগংকে জিতিয়েছেন অবিশ্বাস্য এক ক্যামিওতে। সেই সময়ে কী চলছিল তার মনে, তা জানলে যেন আরও অবাক হতে হবে।
কারণ, শেষ বলে চার প্রয়োজন - এই সমীকরণে মুসফিক হাসানকে নাকি ছক্কা মেরেই দলকে জেতানোর পরিকল্পনা ছিল আলিসের! যদিও তিনি সেদিকে আর হাটেননি, মিড অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে বাউন্ডারিতে জিতিয়েছেন ম্যাচ। ২ উইকেটের জয়ে তার অবদান ৭ বলে ১৭ রানের ছোট, তবে বিশাল তাৎপর্যপূর্ণ এক ইনিংস, যা তার দলকে নিয়ে গেছে বিপিএলের ফাইনালে। আর একপ্রান্ত আগলে তাকে কার্যকর সমর্থন যোগান আরেক স্পিনার আরাফাত সানি।
ম্যাচ সেরা হয়ে আলিস শোনান শেষ বলের আগে তার ও সানির কথোপকথনের গল্প। “এক রান নিতে গিয়ে যখন চোট পেলাম, তখন সানি ভাল বলল বাইরে যাওয়াটাই বেটার, কারণ আমি দৌড়াতে পারছিলাম না। এরপর শেষ বলে আমি যখন ফিরলাম, তখন আমি সানি ভাইকে বললাম যদি কপালে থাকে তাহলে আমি ছয় মেরে দিব। তো সানি ভাই বলল, ‘ছয় মারার দরকার নাই, তুই চারই মার।’”
১৬৪ রান তাড়া করতে গিয়ে ভালো অবস্থানে থেকেও ২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল চিটাগং। তবে অষ্টম উইকেটে দুই টেল এন্ডার সানি ও আলিস মিলে ফিরিয়ে আনেন দলের জয়ের আশা। তবে শেষ ওভারে তৃতীয়ে বলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আলিসকে। তবে দুই বল বাদে ফেরেন আবার আর এবার মাঠ ছাড়েন বিজয়ীর বেশেই।
আলিস জানালেন, তাকে ক্রমাগত সাহস যুগিয়ে গেছেন সানি। “সানি ভাইয়ের সাথে আমার যখন জুটি হচ্ছিল, তখন সানি ভাই শুধু আমাকে বলছিলেন, ‘আলিস তোর ব্যাটিং দেখছি আমি। তুই পারবি।’ আমি অনেকদিন ধরে চেষ্টা করতেছিলাম ব্যাটিং করার জন্য বা ব্যাটসম্যান হওয়ার জন্য। তবে হচ্ছিল না। আমি পারছিলাম না। তবে সানি ভাইয়া বলছিলেন, ‘বিশ্বাস রাখ, যেকোনো কিছুই হতে পারে।’”
No posts available.
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ এম
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৮ এম
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করে পাকিস্তান। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে জন্য ১৫ সদস্যের দল দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে নির্বাচক কমিটি হারিস রউফ এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বাদ দেওয়া নিয়ে চলছে আলোচনা। এই দুই তারকাকে দলের বাইরে রেখে ছন্দহীনতা ভোগা বাবর আজমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সব আইসিসির টুর্নামেন্টেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তবে এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কেবল বাবরের ওপর আস্থা রেখেছে।
পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন দলের নির্বাচনের কারণ এবং বাদ দেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাবর আজম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা বাবরকে ওপেনিং করতে দেখব না। ও আমাদের জন্য ওপেনিং করেনি, কারণ পাওয়ার প্লেতে আক্রমণ করার ক্ষমতা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাবরের অবশ্যই মাঝের দিকের ওভার নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা আছে। প্রয়োজনে সঠিক খেলোয়াড়কে স্ট্রাইক দিতে পারবে। যদি আমরা কম রান তাড়া করি, সেটা করতে সে সক্ষম।’
সম্প্রতি বিগ ব্যাশে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি বাবর। ১১ ম্যাচে ১১ ইনিংসেই ব্যাট করেছেন। বল খেলেছেন ১৯৬টি। ফিফটি দুটি। ২২.৪৪ গড়ে ২০২ রান করায় স্ট্রাইক রেট ১০৩.০৬। এবার বিগ ব্যাশে অন্তত ১০ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুধু মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্ট্রাইক রেটই বাবর আজমের চেয়ে কম।
তবে পাকিস্তানের কোচ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে বিশ্বকাপের আয়োজক শ্রীলঙ্কার তুলনা করতে নারাজ, ‘অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ আমাদের সামনে আসন্ন শ্রীলঙ্কার পরিবেশের চেয়ে ভিন্ন, তাই আমরা সব বিষয় বিবেচনা করেছি।’
পাকিস্তান দল নাফায় ও উসমান খানকে উইকেটকিপার হিসেবে দলে নিয়েছে, জায়গা হারিয়েছেন রিজওয়ান। এ প্রসঙ্গে হেসন বলেন, ‘উসমান খান ফিরে আসার পর থেকে দারুণ খেলছেন। অভিজ্ঞতা যেমন দেখিয়েছেন, উইকেটকিপিংও প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় তার পারফরম্যান্স সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।’
রিজওয়ানকে দলে না রাখার ব্যাখ্যায় পাকিস্তান কোচ আরও বলেন, ‘আমাদের কিপারের ভূমিকা হলো মিডল-অর্ডারে ব্যাটিং করা, প্রায় ৫ বা ৬ নম্বরে। রিজওয়ান একজন টপ-অর্ডার ব্যাটার, তাই এই ভূমিকার জন্য তাঁর স্থান নেই।’
ফাস্ট বোলার হারিস রউফের বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়াও অনেককে অবাক করেছে। হেসন জানিয়েছেন, হারিস রউফকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল, তবে তিনি দলে জায়গা করে নিতে পারেননি। কারণ পাকিস্তানের নির্বাচিত পেস আক্রমণ ম্যাচের তিনটি পর্যায়েই কার্যকরভাবে বল করতে সক্ষম। অর্থাৎ শুরু, মাঝে এবং শেষে,‘আমরা হারিস রউফ, ওয়াসিম জুনিয়র এবং আহমেদ দানিয়ালকে বিবেচনায় নিয়েছিলাম, কিন্তু তারা দলে জায়গা করে নিতে পারেনি। কারণ অন্য তিনজন—শাহিন, সালমান এবং নাসিম—তিনটি পর্যায়েই বল করতে পারছেন।’
পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জমান, খাওয়াজা নাফায় (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ নওয়াজ, সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটকিপার), উসমান তারিক।

বার্সেলোনার এই ম্যাচকে স্পষ্টভাবে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ছন্নছাড়া, হতশ্রী আর বিদঘুটে পারফরম্যান্সের প্রথামার্ধ। আর ঘরের মাঠে নিজেদের দুর্দান্ত নিজেদের আসল রূপে ফেরা দ্বিতীয়ার্ধ। পরের অর্ধে চেনা রূপে ফিরেই পয়েন্ট টেবিলের তলানির দলের বিপক্ষে পঁচা শামুকে পা কাটা থেকে বেঁচে ফিরে কাতালনরা, সঙ্গে ফিরে পায় চূড়ার রাজত্ব।
লা লিগায় গতকাল রিয়াল ওভেইদোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠ ক্যাম্প নূতে তিনটি গোলই এসেছে বিরতির পর। দানি ওলমোর গোলে ডেডলক ভাঙার পর ব্যবধন বাড়ান রাফিনহা। তারপর দৃষ্টিনন্দন এক ওভারহেড গোলে ব্যবধান ৩-০ করেন লামিনে ইয়ামাল। এ নিয়ে লিগে চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে খেলা সবগুলো ম্যাচেই জয় পেল বার্সেলোনা—ঘরের মাঠে স্প্যানিশ জায়ান্টদের এটি দশম জয়।
এই জয়ে ২৪ ঘন্টা শেষ হওয়ার আগেই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল বার্সা। লিগে ২১ ম্যাচে ১৭ জয়, ১ ড্র ও তিন হারে হান্সি ফ্লিকের দলের পয়েন্ট ৫১। সমান ম্যাচে এক পয়েন্ট পিছিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আর মৌসুমের ১২তম হারে তলানিতে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত হলো রিয়াল ওভেইদোর। ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগায় উঠে আসা ক্লাবটি ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ২০ নম্বরে।
নিজেদের ডেরায় মাঝমাঠে পেদ্রির অনুপস্থিতি বেশ ভুগিয়েছে বার্সাকে। প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের নির্বিষ আক্রমণভাগ লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। পুরো ম্যাচে মোট ১২টি শট নেওয়া ফ্লিকের দল গোলমুখে রাখে সাতটি শট, যার সবকটিই দ্বিতীয়ার্ধে।
দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমো ও রাফিনিয়া ওভিয়েদোর রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ লুফে নেন। ৫২ মিনিটে ওলমোর গোলের পর পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। ওভিয়েদো রক্ষণভাগ বক্সের ভেতরে বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন ওলমো। আর সফরকারীদের ডিফেন্ডার ডেভিড কস্তাস গোলকিপার অ্যারন এসকানদেলের কাছে বল ফেরাতে গিয়ে পাসটা ছোট করে ফেলেন। সুযোগ বুঝে রাফিনিয়া বল কেড়ে নিয়ে লব শটে এসকানদেলের ওপর দিয়ে জালে পাঠান।
তারপর ৭৩তম মিনিটে চোখধাঁধানো এক বাইসাইকেল কিকে জাল কাঁপান ইয়ামাল। পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি থেকে ওলমোর ক্রস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠান দূরের কোণায়। চলতি বছরে স্প্যানিশ তারকা উইঙ্গারের প্রথম গোল এটি এবং মৌসুমের অষ্টম গোল।
ম্যাচ শেষে শিষ্যদের প্রথামার্ধের পারফরম্যান্সের নিয়ে বার্সা কোচ ফ্লিক বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না, তবে সেটা আমি বুঝতে পারছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি, সঠিক পরিবর্তন এনেছি, আর সেটাই কাজে লেগেছে।’

এসএ টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের একার রাজত্ব বললেও কোনো ভুল হবে না। এই টুর্নামেন্টের চার আসরের তিনবারই যে চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। সবশেষ প্রোটিয়া ক্যাপিটালসকে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা নিশ্চিত করল দলটি।
কেপ টাউনে রোববার রাতের ফাইনালে প্রোটিয়া ক্যাপিটালসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সানরাইজার্স। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের সেঞ্চুরির পরও আগে ব্যাট করা ক্যাপিটালস ১৫৮ রানের বেশি করতে পারেনি। জবাবে ট্রিস্টান স্টাবস ও ম্যাথু ব্রিটস্কির ঝড়ে ৪ বল বাকি থাকতে জিতে গেছে সানরাইজার্স।
এসএ টোয়েন্টির চার আসরের মধ্যে সানরাইজার্সের এটি তৃতীয় শিরোপা। গত আসরের ফাইনালে এম আই কেপ টাউনের কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল তারা।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্রেভিস ছাড়া ক্যাপিটালসের আর কোনো ব্যাটার বড় রানের দেখা পাননি। মাত্র ১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল তারা। সেখান থেকে ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে উদ্ধার করেন ব্রেভিস ও ব্রাইস পারসনস।
ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করে আউট হন পারসনস। ইনিংসের ১০ বল বাকি থাকতে ফেরেন ব্রেভিস। তার ব্যাট থেকে আসে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৫৬ বলে ১০১ রানের ইনিংস। ১২৪ ম্যাচে ক্যারিয়ারে ব্রেভিসের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।
বল হাতে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ১০ রান খরচ করে ৩ উইকেট নেন মার্কো ইয়ানসেন।
পরে রান তাড়ায় সানরাইজার্সের শুরু ছিল বেশ বাজে। পাওয়ার প্লের মধ্যে আউট হয়ে যান দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও জনি বেয়ারস্টো। পঞ্চাশ রানের আগে একই পথ ধরেন জর্ডান হারমান ও জেমস কোলস।
সেখান থেকে দলকে মনে রাখার মতো জয় এনে দেন স্টাবস-ব্রিটস্কি। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৬৫ বলে ১১৪ রান। ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪১ বলে ৬৩ রান করেন অধিনায়ক স্টাবস। ব্রিটস্কির ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ বলে ৬৮ রান।

লাহোরে ফেব্রুয়ারিতে বসবে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নিলাম। তার আগে আজ একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি উপস্থিত ছিলেন।
খেলোয়াড়দের মধ্যে পিএসএলের ইতিহাসে দুই সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক বাবর আজম ও ফখর জামান এবং সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি দুই বোলার হাসান আলি ও শাহিন শাহ আফ্রিদিও কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় পিএসএল ব্যবস্থাপনা দল খেলোয়াড় ধরে রাখা (রিটেনশন) ও অকশন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পিএসএল নিলাম বসবে।
এ সময় জানানো হয়, খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য। নিলামের সব মূল্য পাকিস্তানি রুপিতে নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ রুপি। অন্য ক্যাটাগরিগুলোর ভিত্তিমূল্য ২ কোটি ২০ লাখ, ১ কোটি ১০ লাখ এবং ৬০ লাখ রুপি।
নূন্যতম ইনক্রিমেন্টাল বিড বা বাড়তি দরও নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ রুপির নিচে বিডের ক্ষেত্রে বাড়তি দর হবে ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি, ২ কোটি ২০ লাখ রুপির নিচে ৫ লাখ রুপি, ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির নিচে ১০ লাখ রুপি এবং ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির ওপরে বিডের ক্ষেত্রে ১৫ লাখ রুপি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চাইলে এই নূন্যতম সীমার চেয়েও বেশি দর হাঁকাতে পারবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি দলের স্কোয়াডে সর্বনিম্ন ১৬ জন ও সর্বোচ্চ ২০ জন খেলোয়াড় থাকতে পারবে। স্কোয়াডের আকার অনুযায়ী বিদেশি খেলোয়াড় রাখা যাবে ৫ থেকে ৭ জন। একাদশে ন্যূনতম ৩ জন এবং সর্বোচ্চ ৪ জন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো বাধ্যতামূলক।
প্রতিটি দলে অন্তত দুজন অনক্যাপড (অনিভিষিক্ত) অনূর্ধ্ব–২৩ খেলোয়াড় থাকতে হবে এবং একাদশে অন্তত একজনকে খেলাতে হবে। অকশন বা রিটেনশনের মাধ্যমে দলে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি হবে। পিএসএলের একাদশ সংস্করণ শেষে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ সাতজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে ১২তম আসরের জন্য।
পিএসএল-১২ শেষে একটি ‘গ্র্যান্ড অকশন’ হবে, যেখানে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগ পাবে। যেসব খেলোয়াড় ছেড়ে দেওয়া হবে, তারা আবার অকশন পুলে ফিরে আসবেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সরাসরি একজন বিদেশি খেলোয়াড় সাইন করতেও পারবে, যিনি পিএসএল দশম আসরে খেলেননি। এ ক্ষেত্রে দলের মূল পার্স ৪৫ কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কোটি ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত করা যাবে। এলিট বিদেশি খেলোয়াড় আনতে পিসিবিও আর্থিক সহায়তা দেবে।
পিএসএল নিলামের জন্য নাম জমা দিয়েছেন
বাংলাদেশের ১০ জন ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, তানজিদ
হাসান তামিমরা রয়েছেন তালিকায়।
কর্মশালা শেষে উজ্জ্বল পিএসএলের কথা বললেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি,
‘আজ ফ্র্যাঞ্চাইজি, খেলোয়াড় ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি ফলপ্রসূ ও পরামর্শভিত্তিক আলোচনা হয়েছে। এর ফলে যে কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তা পিএসএলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। প্লেয়ার অকশন মডেল এইচবিএল পিএসএলের জন্য একটি মাইলফলক। এতে খেলোয়াড়রা বাড়তি আর্থিক সুযোগ পাবে, একই সঙ্গে লিগ আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’
লিগের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির অপেক্ষায় রোমাঞ্চকর পিএসএলের,
‘এইচবিএল পিএসএলের নতুন যুগ শুরু হলো। অকশন পদ্ধতি খেলোয়াড় দলে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বাজারভিত্তিক করবে। আজকের কর্মশালায় পাওয়া মতামতগুলো আমরা সফল একটি প্লেয়ার অকশন আয়োজনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব। সমর্থকদের জন্য সামনে আরও রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে।’

জয় এবং ‘অস্ট্রেলিয়া’ হওয়ার সুযোগ—বিগ ব্যাশ ফাইনালে সিডনি সিক্সার্সের মুখোমুখির আগে এই দুই সমীকরণ মেলানোর সুযোগ ছিল পার্থ স্কোর্চার্সের। দুটিই নিজেদের করে নিতে পেরেছেন অ্যাস্টন টারনার ও মিচেল মার্শরা।
বিগ ব্যাশের প্রথম ১৪ আসরে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন ছিল পার্থ স্কোর্চার্স। এবার শিরোপা জিতলে ৬টি শিরোপা হতো তাদের। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সফলতম দল অস্ট্রেলিয়াও ট্রফি জিতেছে ছয় বার। এবার বিগ ব্যাশের অস্ট্রেলিয়া হওয়ার সুযোগ ছিল পার্থের। সেটা ধাপ ভালোভাবেই পেরিয়েছে তারা। টুর্নামেন্টে তিন বারের চ্যাম্পিয়ন সিক্সার্সের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে পার্থ।
আজ পার্থ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় সিডনি। মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলেছে পার্থ।
১৩২ রানের জবাব দিতে পার্থের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন মিচেল মার্শ ও ফিন অ্যালন। ৮০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে, ৩৬ রানে মিচেল স্টার্কের বলে অ্যালন ফিরলে। নিউ জিল্যান্ড ডান হাতি ব্যাটার ফেরান মাত্র ৫ রান দুরত্বে অ্যারন হার্ডির উইকেট নেন শন অ্যাবট। হার্ডি করতে পারেন মাত্র ৫ রান। বল মোকাবিলা করেন ৫টি।
৫ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট পতনের পর জস ইংলিসকে নিয়ে দেখে শুনে পথ চলেন মার্শ। শুরু থেকেই ধীরে ও ধরে খেলা মার্শ শেষ পর্যন্ত অ্যাবটকে উইকেট বিলিয়ে দেন। ৪৩ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। ৪টি চার এবং ২টি ছক্কা হাঁকান অজি অলরাউন্ডার।
মার্শ যখন ফিরেন তখন পার্থের দলীয় রান ১১৮। জয় থেকে ১৪ রান দূরে ছিল দল। তবে এরমধ্যে ক্যাপ্টেন অ্যাসটন কেবল বিড়ম্বনা বাড়িয়েছেন। এডওয়াডর্সের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। শেষটা অসুন্দর হতে দেননি জস ইংলিশ। কোপার কনলিকে নিয়ে জয় বন্দরে পৌঁছান তিনি।
সিডনির হয়ে অ্যাবট সর্বোচ্চ দুটি এবং মিচেল স্টার্ক, জ্যাক এডওয়াডর্স একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারে ড্যান হিউজকে হারায় সিডনি। ষষ্ঠ ওভারে একই পথ ধরেন তারকা ব্যাটার স্মিথ। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বল ২৪ রান।
এরপর আর কোনো ব্যাটার তেমন লম্বা সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি। স্মিথের ২৪ রানের বেশিও করতে পারেননি কেউ। জশ ফিলিপ ২৪ রান করতে খেলে ২৪ বল। আর ২৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন সিডনি অধিনায়ক ময়সেস হেনরিকস।
পরে লাচলান শ ১২ বলে ১৪ ও জোয়েল ডেভিস ১৪ বলে ১৯ রান করলে একশ পেরিয়ে যেতে পারে সিডনি। তবে শেষ পর্যন্ত বড় হয়নি তাদের পুঁজি।
৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ডেভিড পেইন। ঝাই রিচার্ডসন ৩ উইকেটের জন্য খরচ করেন ৩২ রান। আর মাহ্লি বেয়ার্ডম্যানের ঝুলিতে জমা পড়ে ২ উইকেট।