
রহস্য স্পিনার হিসেবেই মূলত তার পরিচিতি। এই বিপিএলেও বল হাতে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বেশ। তবে ব্যাট হাতে আলিস আল ইসলাম বরাবরই নবিশ। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এই ম্যাচের আগে স্ট্রাইক রেট যার ৩৬, তার কাছ থেকে আর কীইবা আশা করতে পারে দল। তবে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে সবার চোখ কপালে তুলে সেই আলিসই চিটাগংকে জিতিয়েছেন অবিশ্বাস্য এক ক্যামিওতে। সেই সময়ে কী চলছিল তার মনে, তা জানলে যেন আরও অবাক হতে হবে।
কারণ, শেষ বলে চার প্রয়োজন - এই সমীকরণে মুসফিক হাসানকে নাকি ছক্কা মেরেই দলকে জেতানোর পরিকল্পনা ছিল আলিসের! যদিও তিনি সেদিকে আর হাটেননি, মিড অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে বাউন্ডারিতে জিতিয়েছেন ম্যাচ। ২ উইকেটের জয়ে তার অবদান ৭ বলে ১৭ রানের ছোট, তবে বিশাল তাৎপর্যপূর্ণ এক ইনিংস, যা তার দলকে নিয়ে গেছে বিপিএলের ফাইনালে। আর একপ্রান্ত আগলে তাকে কার্যকর সমর্থন যোগান আরেক স্পিনার আরাফাত সানি।
ম্যাচ সেরা হয়ে আলিস শোনান শেষ বলের আগে তার ও সানির কথোপকথনের গল্প। “এক রান নিতে গিয়ে যখন চোট পেলাম, তখন সানি ভাল বলল বাইরে যাওয়াটাই বেটার, কারণ আমি দৌড়াতে পারছিলাম না। এরপর শেষ বলে আমি যখন ফিরলাম, তখন আমি সানি ভাইকে বললাম যদি কপালে থাকে তাহলে আমি ছয় মেরে দিব। তো সানি ভাই বলল, ‘ছয় মারার দরকার নাই, তুই চারই মার।’”
১৬৪ রান তাড়া করতে গিয়ে ভালো অবস্থানে থেকেও ২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল চিটাগং। তবে অষ্টম উইকেটে দুই টেল এন্ডার সানি ও আলিস মিলে ফিরিয়ে আনেন দলের জয়ের আশা। তবে শেষ ওভারে তৃতীয়ে বলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আলিসকে। তবে দুই বল বাদে ফেরেন আবার আর এবার মাঠ ছাড়েন বিজয়ীর বেশেই।
আলিস জানালেন, তাকে ক্রমাগত সাহস যুগিয়ে গেছেন সানি। “সানি ভাইয়ের সাথে আমার যখন জুটি হচ্ছিল, তখন সানি ভাই শুধু আমাকে বলছিলেন, ‘আলিস তোর ব্যাটিং দেখছি আমি। তুই পারবি।’ আমি অনেকদিন ধরে চেষ্টা করতেছিলাম ব্যাটিং করার জন্য বা ব্যাটসম্যান হওয়ার জন্য। তবে হচ্ছিল না। আমি পারছিলাম না। তবে সানি ভাইয়া বলছিলেন, ‘বিশ্বাস রাখ, যেকোনো কিছুই হতে পারে।’”
No posts available.
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম

ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত প্রস্তুতি নিয়েও সবশেষ বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। তাই প্রায় ৫ মাস ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাইরে লিটন কুমার দাসের দল। নতুন চেহারার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ১৪৬ দিন পর এই সংস্করণে ফিরবে তারা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যার বদলে দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলা। এই সিরিজ দিয়ে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার পথচলা শুরু হবে বাংলাদেশের।
অথচ ব্যাটে-বলে ও ফিল্ডিংয়ে রেকর্ডময় বছর কাটিয়ে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা দারুণভাবে নিয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হওয়া ওই টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া হয়নি লিটন, তানজিদ হাসান তামিমদের।
আরও পড়ুন
| বিস্ময় বালক সূর্যবংশীর জন্য ‘লারার পথ’ ধরার পরামর্শ |
|
বিশ্বকাপের আগের বছরটি দুর্দান্ত কেটেছিল বাংলাদেশের। ৩০ ম্যাচের ১৫টি জিতেছিল তারা। সিরিজ হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোকে। সব মিলিয়ে ওই বছরে ২৩টি ফিফটির পাশাপাশি ১টি সেঞ্চুরিও করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা যায় ছক্কা মারার সামর্থ্যে। বছরজুড়ে মোট ২০৬টি ছক্কা মারেন ব্যাটাররা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১টি ছক্কা মারেন তামিম। কম যাননি পারভেজ হোসেন ইমন (৩৪), সাইফ হাসান (২৯), লিটনরাও (২৩)।
নির্দিষ্ট বছরে দুইশর বেশি ছক্কা মারা চতুর্থ দেশ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের আগে এই কীর্তি ছিল ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের।
২০২৫ সালে বল হাতেও কম যাননি রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমানরা। সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেট নেন রিশাদ। এছাড়া অন্তত ২০ উইকেট নেন আরও ৪ বোলার- মোস্তাফিজ (২৬) তাসকিন আহমেদ (২৪), তানজিম হাসান সাকিব (২৩) ও শেখ মেহেদি হাসান (২২)।
সব মিলিয়ে যথাযথ প্রস্তুতিই ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার জন্য। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেয়নি তৎকালীন সরকার। আর বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ার দাবি মেনে নেয়নি আইসিসি। ফলে লিটন-সাইফদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়।
সেই তিক্ত স্মৃতি ভুলে এবার নতুন পথচলা শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে হবে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যেখানে বেশিরভাগ উইকেটই হবে ব্যাটিংবান্ধব, পেসারদের জন্যও থাকবে সহায়তা।
চট্টগ্রামে প্রথাগতভাবে মোটামুটি তেমন উইকেটেই খেলে থাকে বাংলাদেশ। যেখানে তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়ক হয় উইকেট। চট্টগ্রামের মাঠে দিনে হওয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় রান ১৬৩। ওয়ানডে সিরিজে ছন্দে থাকা তামিম, লিটনদের জন্য এটি হতে অনুপ্রেরণাদায়ক।
দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে নিউ জিল্যান্ডের অপরিচিত ক্রিকেটাররাও। গত বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ইশ সোধি শুধু আছেন এই সিরিজের দলে।
টম ল্যাথামের নেতৃত্বে রীতিমতো নতুন চেহারার দল নিয়েই ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজটি খেলতে নামবে কিউইরা। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততায় নিয়মিত একাদশের প্রায় কাউকেই পাবে না সফরকারীরা।
আরও পড়ুন
| আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড পাঞ্জাবের |
|
দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে সোধি ছাড়া আছেন ল্যাথাম। বাঁহাতি এই ব্যাটারও গত তিন বছরে খেলেছেন শুধু ৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তাই বলে দলের সামর্থ্যবান ক্রিকেটারের কোনো কমতি নেই তাদের।
ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেই ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৭টি ছক্কা মেরে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। এছাড়া নিক কেলি, নাথান স্মিথরাও ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন দারুণ ছন্দে। এর বাইরে কাটেন ক্লার্কের মতো রোমাঞ্চকর ব্যাটাররাও আছেন দলে।
সব মিলিয়ে নতুন চেহারার প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে নেমে সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই বাংলাদেশের। এছাড়া স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণেও নেই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত তারকারা। বিশ্রাম দেওয়ায় টি-টোয়েন্টি সিরিজটিতে নেই তাসকিন, মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানা।
প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার সামনে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মন্ডল। এছাড়া পেস বিভাগে আছেন তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম। মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে দেখা যেতে পারে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে।
বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হতে পারে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ দুই সিরিজের ফল। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে কিউইদের ৩-২ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। আর ২০২৩ সালের সফরে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে তিন ম্যাচের সিরিজ।
সব মিলিয়ে অবশ্য বেশ এগিয়ে কিউইরা। দুই দলের প্রথম চার সিরিজের সবকটিই জিতেছিল তারা। তবে সবশেষ দুই সিরিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই ২০২৮ বিশ্বকাপের পথচলা শুরুর সিরিজটি ইতিবাচকভাবেই করতে পারবে বাংলাদেশ।

বিস্ময় শব্দটিকে যেন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাত্রা দিচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী। অবিশ্বাস ব্যাটিংয়ের নতুন নতুন অধ্যায় যোগ করে তিনি লিখে চলেছেন নিজের গল্প। বাঁহাতি এই কিশোরের উড়ন্ত পথচলায় স্বাভাবিকভাবেই আসছে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার আলোচনা।
তবে এখনই তার আন্তর্জাতিক অভিষেকের পক্ষে নন কার্লোস ব্রাথওয়েট। বরং ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার মতো করে সূর্যবংশীকে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
আইপিএলের গত আসরে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সূর্যবংশী। সেবার মাত্র ৭ ম্যাচে ২০৬.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ২৫২ রান করে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের এই ওপেনার।
আরও পড়ুন
| আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড পাঞ্জাবের |
|
প্রথম আসর হিসেবে অনেকেই সেটিকে ধরে নিয়েছিলেন এক মৌসুমের চমক। তবে সেই ধারাবাহিকতা সূর্যবংশী ধরে রেখেছেন এবারের আইপিএলেও। এরই মধ্যে ৮ ইনিংসে ২৩৪.৮৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি করে ফেলেছেন ৩৫৭ রান।
শনিবার রাতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছেন সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আইপিএলে তার সেঞ্চুরি এখন ২টি। আর সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি ওপেনারের সেঞ্চুরি ৪টি।
মাত্র ২৬ ইনিংসে ৪টি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করে সূর্যবংশীই সবচেয়ে দ্রুততম। এত দিন এই রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের উসমান খানের। প্রথম ৪ সেঞ্চুরি করতে ৩৩ ইনিংস লেগেছিল তার।
দুরন্ত এই ব্যাটিংয়ে এর মধ্যে আলোচনায় এসেছে, আয়ারল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেতে পারেন সূর্যবংশী। এর বিপক্ষে নন ব্রাথওয়েট। তবে এখনই অভিষেকের পক্ষে নন তিনি। বরং ব্রায়ান লারার মতোই, জাতীয় দলের সঙ্গে রেখে সূর্যবংশীকে তৈরি করার পরামর্শ ব্রাথওয়েটের।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর আলোচনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক।
“আমি দুঃখিত, বৈভব। তবে আপনি যদি দেখেন ব্রায়ান লারাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কীভাবে সামলেছিল। তিনি ছিলেন এক প্রজন্মের সেরা প্রতিভা- এটা সবাই জানত। তারপর তারা তাকে নিয়ে কী করেছিল?”
“তারা তাকে ভিভ রিচার্ডসের মতো সিনিয়রদের সঙ্গে দলে রেখেছিল, তবে তখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় নামায়নি। তখন সময়টা ভিন্ন ছিল- অনেক ট্যুর ম্যাচ হতো। আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগে সে (লারা) সিনিয়রদের সঙ্গে খেলতে খেলতে নিজেকে তৈরি করে নিয়েছিল। এরপর অভিষেকের পর তার ক্যারিয়ার কীভাবে গড়িয়েছে, তা তো আমরা সবাই জানি।”
তাই সূর্যবংশীকেও তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে রেখে প্রস্তুত করার পরামর্শ ব্রাথওয়েটের।
“তাই হয়তো দুই দিকই মিলিয়ে একটা সেরা পথ হতে পারে। যেখানে তাকে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে রাখা যায়, যেন সে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবদের কাছ থেকে শিখতে পারে। তার কাছাকাছি বয়সী তরুণ খেলোয়াড়রাও আছে, যাদের কাছ থেকেও সে শিখতে পারবে, সরাসরি তাকে গভীর জলে ঠেলে দেওয়ার আগে।”

হঠাৎ দেখে মনে হবে বুঝি হাইলাইটস চলছে। দুই দলের ৩৯ ওভারে রান হলো ৫২৯। কেবল বাউন্ডারি থেকেই এলো ৩৯৪ রান। মোট ছক্কা ৩৩, চার ৪৯। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে আজ চার-ছক্কার মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়ে আনল দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংস।
প্রথমে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে হয়তো বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিল দিল্লি। তবে ব্যাটারদের রান উৎসবের দিনে পাঞ্জাব তো আর বসে থাকবে না! আইপিলের রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট করে দিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করল তারা।
আইপিএলে রেকর্ড বন্যার দিনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ২৬৪ রান করে দিল্লি। জবাবে ৬ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। এর আগের রেকর্ডটিও অবশ্য পাঞ্জাবেরই। এর আগে ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি।
বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ৬ চার আর ৯ ছক্কায় সাজানো দিল্লির এই ব্যাটারের টর্নেডো ইনিংসই আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু আইপিএলই নয়, টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেই ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস ইনিংস আর কারও নেই। আইপিএলে এর আগে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ ছিল অভিষেক শর্মার ১৪১।
রাহুলকে যোগ্য সঙ্গ দেন ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলা নিতিশ রানা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রানার সঙ্গে রাহুল গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা আইপিএলের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
দিল্লির রান পাহাড়ের জবাবটা যেন হেসেখেলেই দিল পাঞ্জাব। যেখানে পাওয়ার প্লেতে দিল্লির স্কোরবোর্ডে ছিল ৬৮ রান, সেখানে ৬ ওভার শেষেই ১১৬ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। ২৯২ স্ট্রাইকরেটে ২৬ বলে ৭৬ করেন প্রাভসিমরান সিং। আরেক ওপেনার প্রিয়ানশ আরিয়ার ব্যাট থেকে আস ১৭ বলে ৪৩ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাঞ্জাবকে পথ দেখান শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৬ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

আইপিএলে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আজ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফিল্ডিং করার সময় মাথায় মারাত্মক চোট পান দিল্লির দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিডি। মারাত্মক এই চোটের পরপরই মাঠের আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ম্যাচ। দ্রুত মেডিকেল টিম মাঠে প্রবেশ করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং পরে পরীক্ষার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় পুসা রোডের ম্যাক্স হাসপাতালে।
ঘটনা পাঞ্জাব কিংসের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। অক্ষর প্যাটেলের একটি স্লোয়ার ডেলিভারি মিড-অফের ওপর দিয়ে তুলে মারেন ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য। বলটি লুফে নিতে এনগিডি পেছনের দিকে দৌড়ান এবং হাত বাড়িয়েও বলের নাগাল পাননি। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে বেশ বাজেভাবে পিঠের ওপর আছড়ে পড়েন এবং মাথা সজোরে মাটিতে আঘাত করে তাঁর।
মাটিতে পড়ার পর এনগিডি বেশ কিছুক্ষণ নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন, যা সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। তবে স্বস্তির খবর হলো, মেডিকেল টিম যখন তাকে দেখছিল, তখন কিছুটা সাড়া দিচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী প্রোটিয়া পেসার । মাঠে প্রাথমিক শুশ্রূষার পর তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এনগিডি মাঠ ছাড়ার পর বিকল্প ফিল্ডার হিসেবে দুশমন্ত চামিরা মাঠে নামেন।
এবারের আইপিএলে নিলামে ২ কোটি টাকায় দলে এনগিডিকে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। চলতি মৌসুমে দিল্লির হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এনগিডি। ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে এই পেসারই ছিলেন দলের সেরা বোলার। আইপিএল ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংস, আরসিবি এবং দিল্লির হয়ে মোট ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যেখানে ৮.৫৭ ইকোনমি রেটে শিকার করেছেন ৩৬টি উইকেট।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএল ইতিহাসের এক রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স উপহার দেয়। কে এল রাহুল মাত্র ৬৭ বলে ১৫২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তাঁর অসাধারণ ইনিংস দিল্লিকে আইপিএলের ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২৬৪/২-এ পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নিতিশ রানার (৪৪ বলে ৯১ রান) সঙ্গে গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা ফ্রাঞ্চাইজিটির ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।

টানা তিন ওয়ানডে
সিরিজ জয়—বাংলাদেশ দলের জন্য অসাধারণ অর্জনই বটে। তার পরও কিছুটা দুশ্চিন্তা ভর করেছে
টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণও বেশ স্পষ্ট—হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ে বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ছিল পেসারদের, কয়েক সিরিজ ধরেই সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না স্পিনাররা।
নিউ জিল্যান্ড
সিরিজেও উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ-শরিফুলরা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ কিপটে বোলিং করলেও
তিন ওয়ানডে মিলে উইকেট পেয়েছেন ৩টি। পুরো সিরিজে বোলিং করেছেন ২৮.৫ ওভার। বোলিং গড়
৪২.৬৬, স্ট্রাইক রেট ৫৭.৬৬। রিশাদ প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে নেন ৩ উইকেট। তৃতীয় ওয়ানডের
একাদশেই জায়গা হারান।
শেষ ম্যাচে
রিশাদের জায়গায় সুযোগ পাওয়া তানভীরও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১০ ওভারে ৭০ রান
দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তান সিরিজেও মাঝের ওভারে মিরাজ-রিশাদরা ভালো অবদান রাখতে
পারেননি।
নিউ জিল্যান্ডের
বিপক্ষে আগামী পরশু থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং পরামর্শক
মুশতাক আহমেদের আশা, কুড়ি ওভারের সিরিজে স্পিন আক্রমণকেও দেখা যাবে সেরা ছন্দ, ‘আমি
বিশ্বাস করি মাঝের ওভারে স্পিনারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্পিনাররা রান আটকে
দিয়ে উইকেট নিতে পারে, তবে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।’
ওয়ানডে সিরিজের
আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) চার ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি উইকেট পেয়েছিলেন রিশাদ।
প্রত্যেক ম্যাচেই দিয়েছেন ৩৫ কিংবা তার বেশি রান। রিশাদও গা জুড়ানোর সময় নিচ্ছেন না,
নিজেকে আরও শাণিত করতে মুশতাকের বিশেষ ক্লাসে ঘাম ঝরিয়ে চলছেন।
রিশাদের বোলিংয়ে আরো বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং গুগলি আয়ত্ত নেওয়ার দীক্ষা দিচ্ছের মুশতাক,
‘হ্যাঁ, আমরা তার বৈচিত্র্য এবং ক্রিজের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছি, বিশেষ করে তার গুগলির জন্য। তার গুগলিটা আরও একটু উন্নত করতে হবে। গুগলির অ্যাঙ্গেল কেমন হবে, ডানহাতি ব্যাটারদের কোন দিকে বল করতে হবে—স্টাম্পের কাছ থেকে নাকি দূর থেকে, সেসব নিয়ে কাজ চলছে।’
মুশতাকের নিজের দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন,
‘আমি সবসময় একটি কথা বলি, একটি শক্তিশালী এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য অ্যাকশনের সঙ্গে ক্রিজ ব্যবহার করা একজন লেগ স্পিনারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন, লেগ স্পিনাররা কিছুটা খরুচে হতে পারে। তাই আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছি যাতে সে কেবল ভালো বল নয়, বরং ভালো ওভার করতে পারে। সে অনেক উন্নতি করেছে।’
ওয়ানডে সিরিজ
জয়ের পর অধিনায়ক মিরাজ বলেছিলেন, মুশতাক আহমেদের সঙ্গে - সেশনগুলো তাঁর খুব কাজে লেগেছে।
তিনি ভালো বল করছেন, তবে অনেকে মনে করেন তিনি রান আটকে রাখার বোলার। আধুনিক ক্রিকেটে
স্পিনারদের আরও বৈচিত্র্য দরকার। মিরাজ কি সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন?
মুশতাকও মনে করেন বোলিংয়ে বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ,
‘সে সেটি করে দেখিয়েছে। মাঝের ওভারে সে উইকেট পাচ্ছে। গত ম্যাচে সে লাথামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। মিরাজ উন্নতি করছে। তার কাজ এখন শুধু রান আটকে রাখা নয়। সে তার বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছে এবং এর কৃতিত্ব তার। স্পিন কোচ হিসেবে আমি মনে করি বৈচিত্র্য থাকতেই হবে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাটারদের হাত খুব দ্রুত চলে, তাই গতির পরিবর্তন করে তাদের পরাস্ত করতে হয়। ক্রিকেট হলো অ্যাঙ্গেলের খেলা। যদি আপনি ট্যাকটিক্যাল মুভ এবং ফিল্ডিং পজিশন দিয়ে ব্যাটারকে রান করা থেকে আটকাতে পারেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে আপনার জেতার সুযোগ বাড়বে।’