
সাকিব আল হাসানের সাথে কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই ইউনিস খানের। তবে বাংলা টাইগার্সের নতুন প্রধান কোচ ঠিকই জানেন, তার দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একজন বাংলাদেশ তারকা। আর তাই সাকিবদের প্রথম দিনের অনুশীলনে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক আর সাকিবের আলোচনা জমেছে বেশ। দুজনের যুগলবন্দীতে এর আগে চ্যাম্পিয়ন না হওয়া টাইগার্স এবার চাইবে ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে।
দলটিকে সেই কঠিন কাজ করতে হলে অবশ্যই ব্যাটে-বলে চেনা ছন্দে দেখা দিতে হবে সাকিবকে। সাম্প্রতিক সময়ে যে ব্যাটিংয়ে সমস্যা প্রবল। রান পাচ্ছেন না ধারাবাহিকভাবে। দেশের মাটিতে হোক বা বিদেশে, সাাকিবের ব্যাটে বড় নাই। বোলিংটাও যেন কিছুটা অচেনা। নেই সেই চেনা ছন্দ। আবুধাবি টি-টেন তাই সাকিবের জন্য বড় এক পরীক্ষার মঞ্চই হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
| জিম আফ্রো টি-১০ এ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশী মালিকানাধীন জোবার্গ বাংলা টাইগার্স |
|
সাকিব ছাড়াও এবার দলে আছেন রশিদ খান, দাসুন শানাকা, লিয়াম লিভিংস্টোনদের মত আন্তর্জাতিক তারকারা। আছেন সাবেক ভারত কিপার-ব্যাটার দীনেশ কার্তিকও। একই দলে সাকিব ছাড়া থাকার কথা ছিল তাওহীদ হৃদয়েরও। তবে ভিসা জটিলতায় এখনো দলের সাথেই যোগ দেওয়া হয়নি বাংলাদেশ ব্যাটারের।
এরপরও দল নিয়ে দারুণ আশাবাদী বাংলা টাইগার্স টিম ম্যানেজমেন্ট। বড় স্বপ্ন টুর্নামেন্ট শুরুর আগে, অপেক্ষা অধরা শিরোপা জেতার।
আরও পড়ুন
| সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, বাংলা টাইগার্সের রোমাঞ্চকর জয় |
|
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু এবারের আবুধাবি টি টেন। সব ম্যাচ দেখা যাবে দেশের একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল টি-স্পোর্টসে।
টুর্নামেন্টের শুরুর দিনেই মাঠে নামবে সাকিব-রশিদদের বাংলা টাইগার্স। ৬ দলের ৪০ ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ২ ডিসেম্বর।
No posts available.
১ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৫০ পিএম

ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে শেষ বলে পাওয়া জয় সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি উৎসর্গ করেছে সিলেট টাইটান্স। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই খবর।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৬ রানে হারায় সিলেট। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এটিই ছিল বিপিএলের প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর কথা জানায় সিলেট।
“সিলেট টাইটান্স ঢাকার বিপক্ষে তাদের স্মরণীয় জয়টি উৎসর্গ করেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি, যিনি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইন্তেকাল করেন। এই উৎসর্গকে সম্মান ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখছি আমরা।”
ঢাকার বিপক্ষে জয়টি সিলেটের তিন ম্যাচে দ্বিতীয়। ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে আছে তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে সিলেট।

পরপর দুই ম্যাচে টস জিতলেন নুরুল হাসান সোহান। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টস জিতে আগের ম্যাচের মতোই আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে আগে ব্যাট করবে রাজশাহী।
এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলে সহজ জয় পেয়েছে রংপুর। অন্য দিকে তিন ম্যাচে রাজশাহীর জয় দুইটি।
নিজেদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে রংপুর। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিমের জায়গায় তারা নিয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার কাইল মায়ার্সকে।
রাজশাহী দলেও পরিবর্তন একটি। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের পরিবর্তে এসেছে স্পিন অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব হাসান।
রংপুর রাইডার্স একাদশ
নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাহিদ রানা, আলিস আল ইসলাম, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফ, কাইল মায়ার্স, দাভিদ মালান
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স একাদশ
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলি চৌধুরি, এসএম মেহেরব হাসান, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, সাহিবজাদা ফারহান, মোহাম্মদ নাওয়াজ, হুসাইন তালাত, বিনুরা ফার্নান্দো

পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে প্রথম দুই ওভারে ১১ রান দেন রিশাদ হোসেন। তবে শেষ স্পেলে এসে খরুচে বোলিং করলেন বাংলাদেশের এই লেগস্পিনার। রিশাদের মিশ্র বোলিংয়ের দিনে বাকিদের বাজে পারফরম্যান্সে চলতি বিগ ব্যাশে প্রথমবার দুইশর বেশি লক্ষ্য তাড়ায় নামবে হোবার্ট হারিকেন্স।
বেলেরিভ ওভালে প্রথম ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পেয়েছে পার্থ স্কর্চার্স।
চার ওভার বল করে ৩৫ রান দিয়েছেন রিশাদ, ছিলেন উইকেটশূন্য। ৬ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে উইকেট শিকারিদের তালিকায় ৬ নেমে গেছেন তিনি।
ঘরের মাঠে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্বান্ত নেয় হোবার্ট। তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক নাথান এলিসের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান পার্থের ওপেনার ফিন অ্যালেন। পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আসেন রিশাদ হোসেন। নিজের প্রথম ওভারে আঁটসাঁট বোলিংয়ে দেন ৭ রান।
ষষ্ঠ ওভারে মিচেল ওয়েনের বলে দলীয় ৫১ রানে ফিরে যান তিনে নামা কুপার কনোলি। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে ৪ রান দেন রিশাদ।
১৩তম ওভারে রিশাদের হাতে দ্বিতীয় স্পেলে বল তুলে দেন হোবার্ট অধিনায়ক। প্রথম দুই বলে ৮ রান নিয়ে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিচেল মার্শ। ওভারের শেষ চার বলে ৪ রান দেন রিশাদ।
১৪ তম ওভারে বিগ ব্যাশে নিজের দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মার্শ। ২৬ বলে ফিফটি তুলে নেন আরেক ব্যাটার অ্যারন হার্ডি।
১৬তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে আসেন রিশাদ। প্রথম দুই বলে দুটি চার মারেন হার্ডি। শেষ চার বলে ৪ রান দিয়ে ১২ রানে ওভার শেষ করেন রিশাদ। ৪ ওভারের স্পেল পূর্ণ করা বোলারদের মধ্যে রিশাদের ইকোনমি সবচেয়ে কম ৮.৮০।
এদিন ৫৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন মার্শ। সেঞ্চুরির পর দ্রত ফিরে গেলে অ্যারন হার্ডির ভাঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৬৪ রানের জুটি। মার্শের ৫৮ বলে ১০২ রানের ইনিংসে ছিল ১১ টি চার ও ৫টি ছক্কা। ৪৩ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হার্ডি।
জয়ের জন্য রিশাদের হোবার্টের দরকার ২৩০ রান। পাঁচ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হোবার্ট।

১২ বলে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রয়োজন ৪৫ রান। উইকেট বাকি মাত্র ২টি। কঠিন এই সমীকরণে একাই লড়লেন শামীম হোসেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ওভারে ১৮ রানের পর মোহাম্মদ আমিরের শেষ ওভারে তিনি নিলেন ২০ রান। কিন্তু জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না সেটি। রোমাঞ্চকয় জয়ে দুই নম্বরে উঠল সিলেট টাইটান্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ঢাকাকে ৬ রানে হারায় সিলেট। ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৭৩ রানের পুঁজি পায় সিলেট। জবাবে শামীমের লড়াইয়ের পরও ১৬৭ রানের বেশি করতে পারেনি ঢাকা।
ছয় নম্বরে নেমে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শামীম। ১৩৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই বাঁহাতি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংস। একইসঙ্গে এই ফরম্যাটে ২ হাজার রানও পূর্ণ হয়েছে তার।
সিলেটের জয়ের নায়ক আজমতউল্লাহ ওমরজাই। আগের রাতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরে বল হাতেও ৩ উইকেট নেন আফগানিস্তানের পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার।
আরও পড়ুন
| রাতে এসে দুপুরেই ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিং |
|
দুই দিন বিরতির পর এই ম্যাচ দিয়েই আবার শুরু হয় বিপিএল। খেলা শুরুর আগে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল ও মাঠে উপস্থিত বাকিরা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ছয় নম্বরে নামা ওমরজাই। তার ঝড়ে শেষ পাঁচ ওভারে ৭৪ রান পায় সিলেট। এছাড়া ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৪৪ রান করেন ইমন। আর ২৯ রান করতে ৩৪ বল খেলে ফেলেন সাইম আইয়ুব।
২ উইকেটের জন্য ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করেন সালমান মির্জা। তাসকিনও ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান।
রান তাড়ায় শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। ৮ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ৩১ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন সাব্বির রহমান ও শামীম। ১৯ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান সাব্বির।
পরে দলকে একাই টেনে নেন শামীম। তবে শেষ দুই ওভারে ঝড় তুলেও জেতাতে পারেননি তিনি।
তিন ম্যাচের সিলেটের এটি দ্বিতীয় জয়। দুই ম্যাচে ঢাকার প্রথম পরাজয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (সাইম ২৯, রনি ১১, মিরাজ ৬, ইমন ৪৪, আফিফ ১৩, ওমরজাই ৫০*, ব্রুকস ১৩*; ইমাদ ৩-০-১৪-০, তাসকিন ৪-০-৪৬-১, সালমান ৪-০-৪৬-২, নাসির ৩-০-২০-০, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩২-১, সাইফ হাসান ২-০-১৩-১)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (সাইফ ৯, জুবাইদ ১, উসমান ২১, মিঠুন ০, নাসির ৫, শামীম ৮১*, সাব্বির ২৩, ইমাদ ৮, সাইফ উদ্দিন ০, তাসকিন ৩*; আমির ৪-১-৩০-২, নাসুম ৪-০-২৬-২, ওমরজাই ৪-০-৪০-৩, মিরাজ ৩-০-১৯-১, খালেদ ৩-০-২৫-০ সাইম ১-০-১৪-০, আফিফ ১-০-৬-০)
ফল: সিলেট টাইটান্স ৬ রানে জয়ী

নতুন বলে মোহাম্মদ আমিরের প্রথম ওভার যেন বুঝতেই পারলেন না সাইফ হাসান। একের পর এক ডট বল খেলে পুরো মেডেন দিয়ে দিলেন ঢাকা ক্যাপিটালস ওপেনার। আর ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাকিব আল হাসানকে টপকে গেলেন সিলেট টাইটান্সের পাকিস্তানি ওপেনার।
দীর্ঘ টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে আমিরের এটি ২৮তম মেডেন ওভার। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি মেডেন আছে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারিনের, ৩৩টি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগপর্যন্ত ২৭ মেডেন নিয়ে যৌথভাবে দুই নম্বরে ছিলেন আমির ও সাকিব। ঢাকার প্রথম ওভারেই মেডেন করে সাকিবকে তিন নম্বরে ঠেলে এককভাবে দুই নম্বরে উঠে যান আমির।
প্রায় ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৪৪ ম্যাচে আমিরের এটি ২৮তম মেডেন। পেসারদের মধ্যে তার মেডেনই সবচেয়ে বেশি। ৪৫৯ ইনিংসে সাকিবের মেডেন ২৭টি। পেসারদের মধ্যে আমিরের পরে আছেন ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার, ৩১৫ ইনিংসে ২৬টি।
সবার ওপরে থাকা নারিন তার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৬৭ ইনিংসে করেছেন ৩৩টি মেডেন ওভার।