
অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রাফায়েল নাদাল। আসছে নভেম্বরে মালাগায় ডেভিস কাপ খেলে টেনিসকে বিদায় জানাবেন স্প্যানিশ এই কিংবদন্তি।
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় নাদাল নিশ্চিত করেন তার অবসরের খবর। অবসরের কারণ হিসেবে মূলত চোটের দিকে ইঙ্গিত নাদালের,
“আমি সবাইকে জানাতে চাচ্ছি পেশাদার টেনিস খেলা থেকে অবসরে যাচ্ছি। বাস্তবতা হচ্ছে গত দুই বছর বেশ কঠিন সময়ই পার করতে হয়েছে আমাকে। সীমাবদ্ধতা ছাড়া আমার মনে হয় না খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
গত দুই বছর থেকেই চোটের সাথে লড়াই করে চলছেন নাদাল। খুব একটা খেলার সুযোগও পাননি। তাতে অবসর যে তিনি নিবেন তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল কিছুটা আগে থেকেই। বৃহস্পতিবার সেই ঘোষণাটাই তিনি দিয়ে দিয়েছেন।
গ্র্যান্ডস্ল্যামের দিক থেকে নাদাল পিছিয়ে আছেন কেবল নোভাক জোকোভিচের থেকে। সবমিলে ২২ গ্ল্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন নাদাল, এর ভেতর রেকর্ড ১৪বার জিতেছেন ফরাসি ওপেন। অস্ট্রেলিয়ান আর উইম্বলডন জিতেছেন দুইবার করে।
No posts available.
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২৫ পিএম

বছরের শুরুতে কোর্টে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ বাছাই কার্লোস আলকারাজ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন গ্রান্ড স্ল্যাম শিরোপা দিয়ে বছর শুরু করার পর শনিবার রাতে জিতেছেন কাতার ওপেনের শিরোপা।
খলিফা আন্তর্জাতিক টেনিস কমপ্লেক্সে ফ্রান্সের আর্থার ফিলসকে সরাসরি ৬-২, ৬-১ সেটে হারান আলকারাজ। এই স্প্যানিশ তারকার চলতি মৌসুমে টানা ১২তম জয় ও ক্যারিয়ারের ২৬তম শিরোপা।
২১ দিন আগে মেলবোর্নে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম সম্পূর্ণ করা ইতিহাসের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হন আলকারাজ। দোহায় ফাইনালেও শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন। প্রথম গেমেই ফিলসের সার্ভ ভেঙে দেন এবং ২৮ মিনিটে প্রথম সেট শেষ করেন।
দ্বিতীয় সেটেও আধিপত্য বজায় রাখেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা। টানা ডাবল ব্রেকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলে হতাশায় র্যাকেট ভেঙে ফেলেন ফিলস। যদিও পরের সার্ভিস গেমে পয়েন্ট তুলতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত ২৪ মিনিটেই দ্বিতীয় সেট জিতে ম্যাচ শেষ করেন আলকারাজ। ম্যাচটি আলকারাজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে সমাপ্ত ফাইনাল।
ম্যাচ শেষে ২২ বছর বয়সি আলকারাজ বলেন, ‘এ বছর আরও ক্ষুধার্ত হয়ে শুরু করেছি। মৌসুমের শুরুটা দারুণ হয়েছে। মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হয়েছে। এই ট্রফিটা আমার জন্য অনেক অর্থবহ।’

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। মঙ্গলবার শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩-২ সেটে হারিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় নারী এককে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাদিয়া রহমান মৌ। টুর্নামেন্টসেরা রামহিম বম লিয়ন। প্রতিযোগিতায় দেশসেরা ৩০টি পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুইশ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অংশ নেন।
পুরুষ দলগততে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩-০ সেটে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। পুরুষ এককে প্লেট পর্বে সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩-১ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। প্লেটে আমিরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে (এআইউবি) হারিয়ে তৃতীয় ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি।
মহিলা এককে এলিট গ্রপে চ্যাম্পিয়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাদিয়া রহমান মৌ। মৌ ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নওরীন সুলতানা মাহিকে ৩-১ সেটে পরাজিত করেন। ঢাবির ইতিহাস বিভাগের সামান্তা হোসেন তুশী আইইউবির ইম্পা খাতুনকে ৩-০ সেটে পরাজিত করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
মহিলা এককে প্লেট পর্বে এআইইউবি’র মার্শিয়া মাহিদ ৩-২ সেটে সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির সাদিয়া ইসলাম জুথিকে পরাজিত করে প্রথমস্থান অর্জন করেন। প্লেট পর্বে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সানজিদা আহমেদ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তাসমিয়া হুদাকে ৩-০ সেটে পরাজিত করে তৃতীয়স্থান অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর উর্মি গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) বদরুল আমিন ফাইনাল পর্বের ম্যাচগুলো উপভোগ করেন এবং পুরুস্কার বিতরণ করেন।
সামানী অনুষ্ঠানে পস্থিত ছিলেন ইভেন্টের থিংট্যাঙ্ক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এম এ মাকসুদ আহমেদ সনেট।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের সামনে ৬ষ্ঠ ইসলামিক সলেডরাটি গেমসে মিশ্রদ্বৌতে রৌপ্যজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল দলের জাভেদ আহমেদ এবং খই খই সাই মারামার হাতে ফেডারেশনের পূর্বঘোষিত ১ লাখ টাকা টাকা করে ২ লাখ টাকার বিশেষ সম্মানার চেক তুলে দেওয়া হয়।
সলেডটরাটি গেমসের বাংলাদেশ দলের সোনাম সুলতানা সোমা, মুহতাসিন আহমেদ হৃদয়, রামহিম লিয়ন বম এবং দলের ম্যানেজার ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য কাজী আসিফ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে এবং স্পোর্টস অ্যাপারেলস ব্র্যান্ড তুরাগ অ্যাক্টিভ এর পৃষ্ঠপোষকতায় আগামীকাল সোমবার এবং পরের দিন মঙ্গলবার হতে যাচ্ছে জমজমাট আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেবিল টেনিস ফেস্ট।
গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একমি টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই দিনব্যাপী আরেকটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
সারাদেশ থেকে ৩০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। মূলত পুরুষ দলগত এবং মহিলাদের মধ্যে একক টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা হবে।
অংশগ্রহণকারী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, বুয়েট, কুয়েট, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, বিইউপি, এমআইএসটি, কি গাজীপুর এবং শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, আইইউবি, এআইইউবি, আইইউটি, ড্যাফোডিল, ইউল্যাব, ইস্ট ওয়েস্ট এবং স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিচ্ছে।
আরও পড়ুন
| সমালোচকদের শক্তিতে ইতিহাসের সামনে জোকোভিচ |
|
এবারের টুর্নামেন্টটি অধিক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে দেশের শীর্ষ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয়, মৌ, তুশি, আইইউবি’র রামহিম, সাব্বির, নর্দানের ইমন, ড্যাফডিলের সজিব, প্রমিত, তুবা এবং মাহির মতো তারকারা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে এই ফেস্টে অংশ নিচ্ছেন।
ফেডারেশন আশা করছে, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে টেবিল টেনিসের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি হবে।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

গতবার যেখানে ছিল স্বপ্নভঙ্গে আক্ষেপ, এবার সেখানেই ইতিহাস গড়লেন কার্লোস আলকারাজ। গ্র্যান্ড স্লামের তিনটি টুর্নামেন্ট জিতলেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা হয়নি টেনিসের নম্বর ওয়ান বাছাইয়ের। মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনাতে আজ সেটাও নিজের করে নিলেন স্পেন তরুণ। তাতেই সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা হলো আলকারাজের।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জেতার পর আলকারাজ বলেন,
‘আমি নোভাকের সঙ্গে কথা বলতি চাই। সে সত্যিকার অর্থে সম্মান পাওয়ার যোগ্য। আপনি (নোভাক) বলছেন আমি অসাধারণ কিছু করছি, কিন্তু আসল কথা হলো আপনি যা করছেন তা প্রেরণাদায়ক—শুধু টেনিস খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদদের জন্য এবং আমার জন্যও।’
তিনি যোগ করেন, ‘আপনি প্রতিদিন আপনার টিমের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং আমি আপনার খেলা উপভোগ করি। আপনার সঙ্গে লকার রুম ও কোর্ট শেয়ার করা আমার জন্য সম্মানের । আপনি যা করছেন তার জন্য ধন্যবাদ, কারণ তা সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।’
আলকারাজ আরও বলেন,
‘আমার টিম আপনার পাশে আছে। কেউ জানে না আমি এই ট্রফি জেতার জন্য কত কঠোর পরিশ্রম করেছি। প্রি-সিজন একটু আবেগের দিক থেকে রোলারকোস্টারের মতো ছিল।’

‘ঊরুর চোট’ আর ‘ক্র্যাম্প’—দুই কঠিন প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে একজন পা রেখেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে। অন্যজনের ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর থেকেই গ্র্যান্ড স্লাম না জেতার আক্ষেপ।
মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারিনাতে আজ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে অভিন্ন লক্ষ্যে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই প্রজন্মের টেনিস তারকা—নোভাক জোকোভিচ ও কার্লোস আলকারাজ। যেখানে শেষ হাসি হাসলেন নম্বর ওয়ান বাছাই আলকারাজ। ৩ ঘণ্টার মহাকাব্যিক যাত্রা ছিল ২-৬, ৬-২, ৬-৩ ও ৭-৫ সেটের।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে ২২ বছর বয়সী আলকারাজ গড়লেন ইতিহাস। ওপেন যুগে সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা পুরুষ খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী। এই বয়সে তিনি ফ্রেড পেরি, ডন বাডজ, রয় এমারসন, আন্দ্রে আগাসি এবং এমনকি রজার ফেদেরার, নাদাল ফেদারার ও জোকোভিচ থেকে এগিয়ে গেলেন।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের শুরুটা অবশ্য জোকোভিচের দখলেই ছিল। প্রথম সেটে অভিজ্ঞতার ঝলক দেখিয়ে তিনি ৬–২ গেমে সেটটি নিজের করে নেন। তবে দ্বিতীয় সেট থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে শুরু করে। আক্রমণাত্মক রিটার্ন ও দীর্ঘ র্যালিতে আধিপত্য দেখিয়ে আলকারাজ ৬–২ গেমে দ্বিতীয় সেট জিতে সমতায় ফেরেন।
তৃতীয় সেটে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখান স্প্যানিশ তরুণ। চতুর্থ সেট জমে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত ৭-৫ ব্যবধানে বিজয়ের হাসি আসেন আলকারাজ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ১০টি ফাইনালেই অপরাজিত ছিলেন জকোভিচ।