
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন সাইম আইয়ুব।টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে আবারও শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার।
আজ আইসিসির সবশেষ হালনাগাদকৃত র্যাঙ্কিংয়ে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে হটিয়ে শীর্ষে ওঠেন এই অলরাউন্ডার।
সাইমের রেটিং পয়েন্ট ২৯০, এক পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছেন রাজা। সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখার পুরস্কারই পেলেন সাইম। সিরিজে তিন ম্যাচে করেছেন ১১৯ রান, সঙ্গে নিয়েছেন তিন উইকেট।
র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি করেছেন পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার। স্পিনার আবরার আহমেদ দুই ধাপ এগিয়ে টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় উঠে এসেছেন দুই নম্বরে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে ছয় উইকেট নেওয়ার সুবাদে শীর্ষে থাকা ভারতের বরুণ চক্রবর্তীর থেকে মাত্র ২৮ রেটিং পয়েন্ট পিছিয়ে আবরার।
বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজও বড় উন্নতি করেছেন। শেষ ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর আট ধাপ এগিয়ে বোলারদের তালিকায় সপ্তম স্থানে নওয়াজ। অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়েও এক ধাপ উন্নতি করে নওয়াজ উঠে এসেছেন চতুর্থ স্থানে।
টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের তালিকায়ও পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটারের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। সাইম আইয়ুব আট ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২৭ নম্বরে উঠেছেন, আর অধিনায়ক সালমান আলী আগা ১২ ধাপ এগিয়ে এখন ২৯ নম্বরে।
ব্যাটসম্যানদের শীর্ষ দশে পরিবর্তন এসেছে। তালিকার শীর্ষে থাকা অভিষেক শর্মা নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। জস বাটলার, পাথুম নিশাঙ্কা, সূর্যকুমার যাদব ও টিম শেফার্ট প্রত্যেকেই এক ধাপ করে এগিয়েছেন।
ব্যাটসম্যানদের তালিকায় বড় লাফ দিয়েছেন কয়েকজন তারকা। অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিন ১৬ ধাপ এগিয়ে ১৪ নম্বরে উঠেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক ১৫ ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ২২ নম্বরে। ভারতের ইশান কিশান ৩২ ধাপ এগিয়ে এখন ৩২ নম্বরে, ১৩ ধাপ এগিয়ে নিউ জিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন ৩৬ নম্বরে আর দক্ষিণ আফ্রিকার রায়ান রিকেলটন ৪২ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন ৪০ নম্বরে।
বোলারদের তালিকায় ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ দুই ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠেছেন। নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার আট ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ২৩ নম্বরে অবস্থান করছেন। এক ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে বাংলাদেশের স্পিনার মাহেদি হাসান।
ব্যাটারদের ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১৭ ধাপ এগিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক। পাঁচ ধাপ এগিয়ে ৩৫ নম্বরে বেন ডাকেট। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে আদিল রশিদ ৬ ধাপ এগিয়ে পঞ্চম, শ্রীলঙ্কার দুনিথ ওয়েলালাগে ১৪ ধাপ এগিয়ে ২৯ তম।
No posts available.
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:২৩ পিএম

‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’ মাঠে গড়াচ্ছে আগামীকাল। টুর্নামেন্টে তরুণদের নিয়ে গড়া দল দুরন্ত একাদশের হেড কোচ হান্নান সরকার। ইতোপূর্বে ডিপিএল ও বিপিএলজয়ী এই কোচ এবার ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্নের কথা জানালেন।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ টুর্নামেন্ট পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন হান্নান সরকার। কাগজে-কলমে দুরন্ত একাদশকে তিন নম্বর দল বলা হলেও মাঠের ক্রিকেটেই ফল নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস কোচের।
‘কাগজে কলমে রেজাল্ট হয় না, রেজাল্ট হয় মাঠে। তরুণ দল অনেক সময় এক্সট্রা কিছু পাওয়ার জেনারেট করতে পারে। সেই জিনিসটা করার অপেক্ষায় আমরা।’
নিরাপত্তা শঙ্কায় এবার ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে না রাখতেই বিসিবির এই উদ্যেগ। অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপকে ভালো প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চ হিসেবে দেখছেন দুরন্ত একাদশের কোচ,
‘বিশ্বকাপ খেলছি না-এই ভাবনা থেকে নয়, এটাকে একটা ভালো কম্পিটিশন হিসেবেই দেখছি। তিনটা দলকে যেভাবে ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছে, তাতে বোঝা যায় পরিকল্পনাটা সিরিয়াস।’
সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারির্সকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন হান্নান সরকার। তাঁর আগে গত বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডও জাতীয় দলের এই সাবেক ওপেনারের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
ডিপিএল ও বিপিএলে সাফল্যের পর এবার ‘ট্রেবল’ জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী হান্নান সরকার,
‘কনফিডেন্স একা কোচের হলে হবে না। টিম বয় থেকে প্লেয়ার-সবার বিশ্বাস থাকতে হবে। এই দলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা সবারই আছে।’
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা ক্রিকেটারদের জন্য এই টুর্নামেন্টকে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন হান্নান সরকার,
‘ওরা শুধু অনূর্ধ্ব-১৯ খেলেই আসেনি-বিপিএল, ডিপিএল খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। তাই এই স্টেজে পারফর্ম করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।’
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ধূমকেতু একাদশের বিপক্ষে মাঠে নামবে দুরন্ত একাদশ। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬ টায়, সরাসরি দেখা যাবে টি-স্পোর্টসের পর্দায়।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের খেলোয়াড়দের রিটেনশন ফি ঘোষণা করেছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় পিএসএলের ১১তম সংস্করণের নিলামের আগে প্রকাশ করা হয়েছে রিটেইন তালিকা।
পেশাওয়ার জালমি মূল খেলোয়াড়দের ধরে রাখার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। ফ্রাঞ্চাইজিটির অধিনায়ক বাবর আজমকে প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ৭০ মিলিয়ন রুপি-তে। ডায়মন্ডে সুফিয়ান মক্বীম পাবেন ৪৪.৮ মিলিয়ন, গোল্ডে থাকা আব্দুল সামাদ পাবেন ২৮ মিলিয়ন, এবং ইমার্জিং ক্যাটাগরিতে থাকা সাদ বেইগ পাবেন ১৯.৬ মিলিয়ন রুপি। এই রিটেনশনের পর জালমি তাদের মোট বাজেট থেকে ১৬২.৪ মিলিয়ন রুপি খরচ করেছে।
রিটেনশনের আগে জালমি মোট ১৪ জন খেলোয়াড়কে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করেছিল। প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে ছিলেন বাবর আজম ও সাইম আয়ুব, ডায়মন্ডে ছিলেন শুধুমাত্র সুফিয়ান মক্বীম। গোল্ড ক্যাটাগরিতে ছিলেন মোহাম্মদ হারিস, মোহাম্মদ আলি, আব্দুল সামাদ, হুসাইন তালাত, আহমেদ দানিয়াল ও ইহসানুল্লাহ। সিলভার ক্যাটাগরিতে ছিলেন আরিফ ইয়াকুব ও মেহরান মু্মতাজ, আর ইমার্জিং ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত ছিলেন মাজ সাদাকাত, আলী রাজা ও আব্দুল্লাহ ফজল।
করাচি কিংসের রিটেইন খেলোয়াড়দের তালিকায় প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে হাসান আলি, আর ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে রিটেইন হয়েছেন আব্বাস আফ্রিদি। গোল্ড ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে অলরাউন্ডার খুশদিল শাহকে, এবং ইমার্জিং ক্যাটাগরিতে রয়েছেন সাদ বেইগ। ফ্রাঞ্চাইজিটি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, হাসান আলিকে ৪৭.৬ মিলিয়ন রুপি দিয়ে রিটেইন করা হয়েছে। আফ্রিদি পাবেন ৩০.৮ মিলিয়ন রুপি, খুশদিল শাহ ৩৩.৬ মিলিয়ন, আর সাদ বেইগ ৬ মিলিয়ন রুপি আয় করবেন।
ইসলামাবাদ ইউনাইটেড তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে যে, রিটেনশন অনুযায়ী তারকা অলরাউন্ডার শাদাব খানকে প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ৭০ মিলিয়ন রুপি-তে। গোল্ড ক্যাটাগরিতে থাকা ফাস্ট বোলার সালমান ইরশাদ পাবেন ১২ মিলিয়ন, এবং সিলভার ক্যাটাগরিতে থাকা মার্কিন উইকেটকিপার অ্যান্ড্রিস গাউস পাবেন ১৪ মিলিয়ন রুপি। এই রিটেনশনের পর ইসলামাবাদ ইউনাইটেড তাদের মোট বাজেট থেকে ৯৬ মিলিয়ন রুপি খরচ করেছে।
আগামী ১১ চলবে ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত হতে যাওয়া পিএসএলের এই সংস্করণে প্রথমবারের মতো প্রথাগত ড্রাফট সিস্টেমের বদলে নিলাম মডেল গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই মডেলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে তাদের বাজেট ও মূল খেলোয়াড় বাছাই নতুনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। আগের প্রথম ১০ মৌসুমে, দলগুলি সর্বোচ্চ ৮ জন খেলোয়াড় রিটেইন করতে পারত, কিন্তু এবারের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দল শুধুমাত্র চারজন খেলোয়াড় রাখতে পারবে। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে মোট ৪৫০ মিলিয়ন রুপি বাজেট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লিগের নতুন নিলামভিত্তিক মডেল অনুসারে ৫৫ মিলিয়ন রুপি অতিরিক্ত সরাসরি সাইনিং-এর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক কারণে নির্বাসিত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরাতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া, ফিক্সিং ইস্যুতে তৈরি বিতর্ক ও একজন প্রভাবশালী পরিচালকের পদত্যাগের আলোচনার মাঝে হুট করে দেশের সফলতম ক্রিকেটারকে ফেরানোর কথা জানায় বোর্ড। শিগগিরই কী সাকিবকে বাংলাদেশের জার্সিতে দেখা যাবে? এমন জল্পনার মধ্যে অলরাউন্ডারের ফেরা নিয়ে কথা বললেন জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।
আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া অদম্য বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টিতে তিনি আছেন ধূমকেতু একাদশের প্রধান কোচের দায়িত্বে। আজ মিরপুরে সাকিবের ফেরা নিয়ে মুখ খুলেন সালাহউদ্দিন। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বয়স আর অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখে সাকিব কী আদৌ বাংলাদেশ দলে খেলতে পারবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
‘দেখুন যদি কেউ যে সাকিবকে আমি টিমে চাই না। তাহলে আমার মনে হয় যে আমরা এখনও বোকার রাজ্যে বাস করছি।’
দলে সাকিবের মতো অলরাউন্ডার যে ভারসাম্য তৈরি করে সেটা মনে করিয়ে দিলেন সালাহউদ্দিন,
‘সাকিবের মতো ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে যে দলে ব্যালেন্স চলে আসে। একজন বোলার ও ব্যাটসম্যান দুইদিকেই পাবেন। দিন শেষে সাকিবও যদি ফিট থাকে সেটাও একটা বড় ব্যাপার। এটা যে কেউ চাবে। এটা আসলে প্রশ্ন করার মতো আমার মনে হয় কোন বিষয় না।’
অবশ্য এ দেলে ফেরা প্রসঙ্গে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না তা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি সালাহউদ্দিন।
এর আগে কদিন আগে বিসিবির বোর্ডসভায় পরিচালক আসিফ আকবর জানান, সাকিবকে আবারও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকবেন ২৭জন। সাকিব ফিট থাকলে তাকে বিবেচনা করতে নির্বাচকদের সায় দেবেন তারা। আসিফ আকবর বলেন,
'বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, সাকিব আল হাসানের এভেলেবিলিটি (উপলব্ধতা), ফিটনেস এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকলে নির্বাচক প্যানেল তাকে অবশ্যই সিলেকশনের জন্য বিবেচনা করবে। এছাড়া গ্লোবাল টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য বোর্ড তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান করবে।'
সাকিবের আইনি জটিলতা নিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানানো হয়। আরেক পরিচালক আমজাদ হোসেনও বলেন, সাকিব যাতে দেশের মাঠে খেলে বিদায় নিতে পারেন, তেমনটাই তারা চান।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় বেশ নড়েচড়ে বসেছে আইসিসি। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় সম্প্রচারকারীদের জন্য বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশাল অঙ্কের এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে উপায় একটাই, পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি খেলতে রাজি করানো। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে আলোচনায় নামতে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।
সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ইমরান খাজাকে আইসিসির ভেতরে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়, যিনি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠেয় ভারত–পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানকে রাজি করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছিল, আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। বাংলাদেশকে সমর্থন ছাড়াও পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পেছনে আরও কিছু কারণ ছিল। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা এ সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে মাঠে না নামতে পাকিস্তান দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ছিল ‘প্রতিবাদের একটি রূপ’।
একই সূত্র আরও অভিযোগ করেছে, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কার্যত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সম্প্রসারিত রূপে পরিণত হয়েছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত ন্যায্যতা ও সমতার নীতিকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং আইসিসি ভিন্ন ভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করছে।
পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর আইসিসি এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো সমাধানের পথে এগোবে। দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তের অধিকার স্বীকার করলেও আইসিসি প্রকাশ্যে পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। সংস্থাটির যুক্তি, এই বয়কট সিদ্ধান্ত খেলাটির স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক সমর্থকদের জন্যও ক্ষতিকর।
আইসিসি আরও জানায়, খেলাটির সব অংশীজনের স্বার্থ রক্ষা করে এমন একটি সমাধানের দিকে এগোনো প্রয়োজন, কারণ এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট কিংবা পাকিস্তানসহ কোটি কোটি সমর্থকের কল্যাণের পক্ষে নয়।
‘বিশ্বকাপে পাকিস্তানের গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপপর্বে পাকিস্তানের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে, ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই একটি ম্যাচ থেকেই মূলত সম্প্রচারমূল্য, স্পনসরশিপ চুক্তি ও বিজ্ঞাপন আয়ের বড় অংশ আসে।
বাণিজ্যিক হিসাবে, একটি ভারত–পাকিস্তান টি–টোয়েন্টি ম্যাচের মোট মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপনমূল্য, স্পনসরশিপ কার্যক্রম, টিকিট বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। ভারত–পাকিস্তান টি–টোয়েন্টি ম্যাচে ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্পটের মূল্য ২৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ রুপি, যা ভারতের অন্য শীর্ষ দলের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের চেয়ে কয়েকগুন বেশি।
সবচেয়ে বেশি আর্থিক প্রভাব পড়বে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল সম্প্রচারস্বত্বধারীর ওপর। ভারতীয় মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপন আয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩০০ কোটি রুপি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাৎক্ষণিকভাবে আনুমানিক ২০০ কোটি রুপি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে বড় আর্থিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সতর্ক করেছে, ম্যাচটি না হলে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল সম্প্রচারক জিওস্টার আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। তবে এখনো এই সিদ্ধান্তের কারণ লিখিতভাবে আইসিসিকে জানানো হয়নি।
পিসিবি সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারত ম্যাচ বর্জনের ফলে আইসিসি পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব অংশীদারিত্ব থেকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার কেটে নিতে পারে। সেই অর্থ দিয়ে সম্প্রচারককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পিটিআইকে পিসিবি সূত্র জানিয়েছে, ‘পাকিস্তান যদি অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, সম্প্রচারকের পক্ষ থেকে মামলার মুখেও পড়তে হতে পারে। আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটিতে (ডিআরসি) গেলেও পিসিবির পক্ষে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।’
চার বছরের সম্প্রচার চুক্তিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোকে বড় আকর্ষণ হিসেবে ধরে অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। তাই এই ম্যাচ না হলে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আইসিসি ও পিসিবি-দুই পক্ষকেই আইনি ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম সংস্করণ শুরু শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি)। ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে থাকলেও দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা টুর্নামেন্টের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।