২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১০ পিএম

মাঠের লড়াইয়ে নূন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বীতার ছাপ না থাকলেও আরও একবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ গড়ল ইতিহাস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের আলোচিত ম্যাচটি ডিজিটাল ও ব্রডকাস্ট বিভাগে সম্প্রচারে রেকর্ড গড়েছে।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডিজিটাল ও ব্রডকাস্টের অফিসিয়াল অংশীদার জিওস্টার জানিয়েছে, দর্শক সংখ্যায় রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট করে দিয়েছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি। এমনকি ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের ফাইনাল ম্যাচটির দর্শকসংখ্যাকেও ছাপিয়ে গেছে এই ম্যাচ।
মোবাইল প্ল্যাটফর্মের দর্শকসংখ্যায় পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লিগ পর্বের যেকোনো ম্যাচে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের তুলনায় ১.২ গুণ বেশি দর্শক পেয়েছে। ম্যাচটি ২ হাজার কোটি মিনিট দেখা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের সংস্করণের তুলনায় দর্শক বৃদ্ধির হার দাড়িয়েছে ৪২ শতাংশ।
বিশ্বকাপের এবারের আসরে সহযোগী দেশগুলোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও দর্শকসংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশ্বকাপের এবারের আসরের মোট ডিজিটাল রিচ আগের সংস্করণের চেয়েও অনেকটাই বেশি।
জিওস্টার–এর হেড অব সেলস (স্পোর্টস) অনুপ গোবিন্দন বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে তৈরি উত্তেজনা এবং ম্যাচটিই ছিল দৃষ্টিনন্দন এক পরিপূর্ণ শো। রেকর্ডভাঙা এই দর্শকসংখ্যা প্রমাণ করে, পুরো বিশ্বজুড়ে সমর্থকরা এই টুর্নামেন্টকে কতটা অনুসরণ করছে।’ তিনি আরও যোগ করেন,
‘এই টুর্নামেন্ট ইতিমধ্যেই দর্শকদের জন্য রোমাঞ্চকর মুহূর্ত এনে দিয়েছে, এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে যে, এই বিশ্বকাপে আরও রোমাঞ্চকর সময় অপেক্ষা করছে।’
জিওস্টারের–এর হেড অব কনটেন্ট (স্পোর্টস) সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন,
‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অভূতপূর্ব দর্শকসংখ্যা এবং আগ্রহ প্রমাণ করে দেশের সমর্থকরা কতটা বিশ্বকাপের প্রতি উন্মুখ।’
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে সুপার এইটের মহারণ শুরু হবে আগামীকাল। এই ধাপে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ডের।
No posts available.
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৭ পিএম
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম

গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার দিন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য লেখা হয়ে যায়। আইরিশরা জিতলে এবং গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে বড় জয়ে ‘যদি-কিন্তুর’ ওপর ভর করে সুপার এইটের সম্ভাবনা তৈরি হতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
দুইটি সম্ভবনার একটি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গেলেও আরেকটির অবস্থান ভিন্ন মেরুতে। ফলে দুঃখ বুকে চাপা দিয়েই বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ মিচেল মার্শদের। আজ তারা ওমানের বিপক্ষে ৯ উইকেটে জিতলেও বাস্তবে এই জয় কেবল পরিসংখ্যানই সমৃদ্ধ করেছে।
পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে আজ টস জিতে ওমানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান মার্শ। আগে ব্যাটিং করে সর্বসাকুল্যে ১০৪ রান তুলতে পারে ওমান। জবাব দিতে নেমে ৯.৪ ওভারে এবং ৯ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচের ইতি টেনে দেয় অস্ট্রেলিয়া।
ওমানের দেওয়া টার্গেট টপকাতে নামা অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি ভাঙে শতকের ৭ রান আগে। ৩২ রানে হেড ফিরলে ইস্পাত-লৌহ জুটি ফাটল ধরে। এরপর জস ইংলিসকে নিয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দেন ক্যাপ্টেন মার্শ। মার্শ ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ৭টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংস।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নামা ওমানকে বড় স্কোর করার সুযোগ দেননি মার্কাস স্টোনিস, অ্যাডাম জাম্পা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
পেসার জেভিয়ার বার্টলেট শুরুতেই দুই ওপেনারকে ফেরান। তার সঙ্গে যোগ দেন দুই স্পিনার জাম্পা ও ম্যাক্সওয়েল। ১০ উইকেটের ৬টি ছিল দুই স্পিনারের দখলে।
চার উইকেট নেয়া জাম্পা আজ দারুণ কীর্তি গড়েছেন। বিশ্বকাপে কোনো অস্ট্রেলিয়ান স্পিনারের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ চারবার চার উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন। এতদিন সাকিব আল হাসান, সাইদ আজম, রাশিদ খান ও এনরিখ নরকিার পাশে ছিলেন তিনি। আজ তাদের ছাড়িয়ে গেলেন। বিশ্বকাপে অসি স্পিনার চারবার চার উইকেট নিয়েছেন।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের মধ্যেও সাকিবের কাছাকাছি চলে গেছেন জাম্পা। ওমানের বিপক্ষে নামার আগে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ৪০টি। বাংলাদেশের সাকিবের ৫০টি।
ওমানের হয়ে সর্বোচ্চ রান ছিল ওয়াসিম আলির। ৩৩ বলে ৩২ রান করেন তিনি। হামিদ মির্জা ১৩ বলে ১৬ রান এবং ওপেনার জাতিন্দ্রার সিংহের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ১৭ রান।
ওমানের মাত্র ৪ জন ব্যাটার দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পারেন। বাকি সাতজন ব্যাটারের ব্যক্তিগত স্কোর ছিল ১০ রানের নিচে। এর মধ্যে দুজন শূন্য রানে ফিরেছেন।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ শেষে সুপার এইটে জায়গা পোক্ত করেছে আট দল। আগামীকাল শুরু সুপার এইট লড়াই। যেখানে ম্যাচ অফিসিয়ারদের নাম ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি।
শনিবার কলম্বোতে নিউ জিল্যান্ড ও পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সুপার এইটের গ্রুপ ‘২’ এর খেলা। এই ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন রডনি ট্যাকার ও পল রিফেল। আল্লাহউদ্দিন পালেকার থাকবেন টিভি আম্পায়ার এবং স্যাম নোগাজস্কি চতুর্থ আম্পায়ার।
২৮ ফেব্রুয়ারি ক্যান্ডিতে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান ম্যাচে মাঠে থাকবেন ট্যাকার ও নোগাজস্কি। ২৪ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান ম্যাচও পরিচালনা করবেন অস্ট্রেলিয়ান নোগাজস্কি। তাঁর সঙ্গে থাকবেন নিতীন মেনন।
২২ ফেব্রুয়ারি ক্যান্ডিতে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা ম্যাচে আহসান রাজার সঙ্গে মাঠের দায়িত্বে থাকবেন এড্রিয়ান হোল্ডস্টক। পাঁচ দিন পর নিউ জিল্যান্ড ম্যাচেও একই দায়িত্ব সামলাবেন তিনি।
২৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে শ্রীলঙ্কা ও নিউ জিল্যান্ড ম্যাচ পরিচালনা করবেন পালেকার ও আসিফ ইয়াকুব।
কো-হোস্ট ভারতের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে ‘১’ গ্রুপের ম্যাচ শুরু হবে ২২ ফেব্রুয়ারি। ম্যাচ পরিচালনা করবেন অভিজ্ঞ রিচার্ড কেটলবারো ও ক্রিস গাফেনি। টিভি আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন অ্যালেক্স ওয়ার্ফ এবং চতুর্থ আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউন।
১ মার্চ কলকাতায় সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে মাঠে থাকবেন গাফেনি ও ওয়ার্ফ। ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারত ও জিম্বাবুয়ে ম্যাচে দায়িত্বে থাকবেন ওয়ার্ফ ও কেটলবারো।
গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য জিম্বাবুয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে। ম্যাচটি পরিচালনা করবেন রিচার্ড ইলিংওর্থ ও জয়ারামণ মাদানাগোপাল।
২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে মাঠে থাকবেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ ও কুমার ধর্মসেনা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অংশ না নিলেও ঠিকেই দেশের একজন প্রতিনিধিকে দেখা যাবে মাঠের দায়িত্বে।
পহেলা মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ম্যাচে ধর্মসেনা ইলিংওর্থের সঙ্গে মাঠের দায়িত্বে থাকবেন।
ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব ভাগাভাগি করবেন রঞ্জন মাডুগালে, অ্যান্ড্রু পাইক্রফট, রিচি রিচার্ডসন এবং জাভাগাল শ্রীনাথ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যস্ত পাকিস্তান। বিপরীতে কদিন পরই ঘরোয়া ক্রিকেটে নামতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এরপরই দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দল। আগামী মাসে পাকিস্তান সিরিজের জন্য আজ সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আগামী ৯ মার্চ ঢাকায় পা রাখবে সালমান আলি আগার দল। এরপর ১১, ১৩ এবং ১৫ মার্চ মিরপুর শেরে-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সবকটি ম্যাচই শুরু হবে বেলা ২.১৫ মিনিটে।
আইসিসির টুর্নামেন্টের বাইরে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৯টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। পিএসএল শেষে এপ্রিলে আবার বাংলাদেশ সফরে আসবে পাকিস্তান।
সবশেষ গত বছরের জুলাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেই সিরিজে পাকিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে ধবলধোলাই হয় লিটন দাসের দল।

নিউ জিল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্ব দেবেন বাঁ-হাতি স্পিনার কেশভ মহারাজ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরই অনুষ্ঠিত হবে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজ।
আজ দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড পাঁচজন নতুন খেলোয়াড় নিয়ে দল ঘোষণা করেছে। নতুনদের মধ্যে রয়েছেন—কনর এসটারহুজেন, ডিয়ান ফোরেস্টার, জর্ডান হারমান, ইথান বশ ও এনকোবানি মকোএনা। জর্ডান হারমান হলেন রুবিন হারমানের ভাই, যিনি আগে থেকেই দলে রয়েছেন। আর ইথান বশ কারবিন বশের ছোট ভাই।
১৯ বছর বয়সী এনকোবানি মকোএনা ২০২৬ দক্ষিণ আফ্রিকা টি২০ লিগে যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন। তিনি পার্ল রয়্যালসের হয়ে ১৩ উইকেট নিয়েছেন, স্ট্রাইক রেট ১৪.৭৬।
দক্ষিণ আফ্রিকার হেড কোচ শুকরি কনরাড বলেন,
“এই সিরিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর হওয়ায় মূল দল বাড়ি ফিরবে। ফলে নতুনরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দেখানোর সুযোগ পাবে।”
পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শুরু হবে ১৫ মার্চ এবং শেষ হবে ২৫ মার্চ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে থাকা বেশিরভাগ দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় এই ট্যুরে থাকছেন না।
দক্ষিণ আফ্রিকা দল: কেশভ মহারাজ (অধিনায়ক), ওটনেইল বার্টম্যান, ইথান বশ, জেরাল্ড কোয়েৎজি, টনি ডি জর্জি, কনর এসটারহুজেন, ডিয়ান ফোরেস্টার, জর্ডান হারমান, রুবিন হারমান, জর্জ লিন্ডে, এনকোবানি মকোএনা, আন্দিলে সিমেলান, লুথো সিপামলা, প্রেনেলান সুব্রায়েন ও জেসন স্মিথ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের সব দল নিশ্চিত হয়েছে। আগামীকাল থেকে শুরু হবে টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনালে যাওয়ার লড়াই। এর আগে অবশ্য সুপার এইটের ফরম্যাট নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশ্বকাপে প্রি-সিডিং’ ফরম্যাটের কারণে চারটি গ্রুপ সেরা দল সুপার পড়েছে এইট গ্রুপে, আর চারটি রানার-আপ দলকে রাখা হয়েছে দ্বিতীয় গ্রুপে। এই ব্যবস্থার কারণে দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যহীনতা।
প্রি-সিডিং সিস্টেম হচ্ছে মূলত টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই শীর্ষ দলগুলিকে নির্দিষ্ট স্লট ঠিক করে দেওয়া। অর্থাৎ এ ওয়ান, বি ওয়ান, সি ওয়ান ও ডি ওয়ান সুপার এইটে গ্রুপ-১ এ খেলবে। ভারত, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজ নিজ গ্রুপে সেরা দল। বিপরীতে গ্রুপ ২–তে রয়েছে শুধু রানার-আপ দলগুলো — পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড।
এই কাঠামোর কারণে প্রথম রাউন্ডের দুইটি সেরা দলই সেমিফাইনালের আগে ছিটকে যেতে বাধ্য। অন্যদিতে আর যারা গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে, তাদের এখন সেরা চার–এ পৌঁছানোর পথ তুলনামূলকভাবে সহজই হয়ে গেল। সাধারণত যেকোনো খেলায় টুর্নামেন্টে গ্রুপ জয়ীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, কিন্তু এই ফরম্যাটে শীর্ষে থাকা কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।
উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে উঠলেও প্রি-সিডিংয়ের কারণে তারা কম গুরুত্বপূর্ণ সীড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যেখানে নিউজিল্যান্ড — যারা তাদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছিল — আগে থেকেই উচ্চ র্যাঙ্ক পেয়েছে। তাতে শীর্ষ ৮ দল নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচগুলো গুরুত্বই হারিয়েছে।
যেভাবে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করল প্রি-সিডিং
আইসিসি টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই টিম স্লট নির্ধারণ করেছিল (গ্রুপ স্টেজের জন্য যেমন এ ওয়ান, বি ওয়ান, সি ওয়ান ও ডি ওয়ান এবং সুপার এইটের জন্য এক্স ওয়ান ও এক্স টু) র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। শীর্ষ দলগুলো যেমন ভারত (এক্স ওয়ান), ইংল্যান্ড (ওয়াই ওয়ান), অস্ট্রেলিয়া (এক্স টু – এই জায়গায় জিম্বাবুয়ে), নিউজিল্যান্ড (ওয়াই টু), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (এক্স থ্রি), পাকিস্তান (ওয়াই থ্রি), দক্ষিণ আফ্রিকা (এক্স ফোর) এবং শ্রীলঙ্কা (ওয়াই ফোর)–কে আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছিল।
যদি কোনো সিডেড দল সুপার এইটে উঠতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার পরিবর্তক তার প্রি-সেট জায়গা নিত। তাই এক গ্রুপে পড়েছে গ্রুপ জয়ী ভারত, জিম্বাবুয়ে (অস্ট্রেলিয়ার জায়গায়), ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, আর রানার-আপ দলগুলো যায় অন্য গ্রুপে।
সমালোচকেরা আরও বলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার জন্য সুবিধাজনক নয়। পুরো টুর্নামেন্টে তারা এখন পর্যন্ত নিজেদের দেশে খেললেও, যদি তারা সেমিফাইনালে পৌঁছায়, প্রি-সিডিংয়ের জন্য তাদের ভারত যাত্রা করতে হবে, ফলে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলার সুযোগ হারাচ্ছে লঙ্কানরা।
আইসিসি এমন সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক করার চেষ্টা করেছে, লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার দোহাই দিয়ে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হয়, এবং ক্রিকেটের নিয়ন্তক সংস্থা জানায় যে, ভেন্যু ও সূচি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রি-সিডিং সিস্টেম জরুরি ছিল। ভারত ও শ্রীলঙ্কা–তে সহ আয়োজনের জন্য ভেন্যু, সূচি, সম্প্রচার, টিকিট এবং সমর্থকদের যাতায়াতের আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হয়। আগে থেকেই গ্রুপ ঠিক করা হলে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন এড়ানো যায় এবং বড় ম্যাচগুলো সুবিধাজনক সময়ে সম্প্রচার করা সম্ভব হয়।
অবশ্য এবারই প্রথম নয়, এই নিয়ম ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে চালু হয়েছে এবং এবারও ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে চালু রাখা হয়েছে। তবুও অনেকের মতে, ক্রীড়ার ন্যায্যতা লজিস্টিকের আগে আসা উচিত। সুপার এইট ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে, সকলের নজর এখন এই অসম গ্রুপগুলোতে।