১২ মে ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

চতুর্থ দিন শেষেই পঞ্চম দিনের রোমাঞ্চের আবহ ছিল শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। টেস্ট ক্রিকেটে সফল চতুর্থ ইনিংসের পরিসংখ্যান চলে এসেছে সামনে। চতুর্থ দিন শেষে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে নামিয়ে আনার ছকঁই একেঁছে নাজমুল হোসেন শান্ত'র দল। ১৫২/৩ স্কোর নিয়ে ব্যাট করতে এসে পঞ্চম দিনের লাঞ্চ ব্রেকের ২৫ মিনিট আগে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ২৪০/৯ স্কোরে। চতুর্থ ইনিংসে ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জ দিয়েছে বাংলাদেশ সফরকারী পাকিস্তান দলকে। পাকিস্তানকে খেলতে হবে ৭৬ ওভার। পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে ৫ম দিনের লাঞ্চের আগে ওপেনিং পার্টনারশিপ বিচ্ছিন্ন করেছেন তাসকিন। ইমাম উল হককে (২) অ্যাঙ্গল ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন তাসকিন। টেস্ট জয়ে বাংলাদেশের দরকার এখন ৯ উইকেটে, পাকিস্তানের দরকার সেখানে ২৬২ রান।
মিরপুরে ৪র্থ ইনিংসে ২০৯রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কারো। ২০১০ সালে ওই রান তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ২০০৮ সালে ২০৫ রান তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছিল ৫ উইকেটে। ২০১৬ সালে ৪র্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ২৭২ রানের টার্গেট দিয়ে ১০৮ রানে এবং ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৪ রানের টার্গেট দিয়ে ২০ রানে বাংলাদেশের জয়ের অতীত থেকে টনিক নিতেই পারে শান্ত'র দল।
৫ম দিনে ১১০ মিনিট ব্যাটিং করে ৮৮ রান যোগ করে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৬ উইকেট। বাঁ হাতি স্পিনার নোমান আলী লম্বা স্পেলে ৩ উইকেট পেয়ে (১৮-১-৭৬-৩) পূর্ণ করেছেন টেস্টে শততম উইকেট। অন্য পেসার হাসান আলী এদিন পেয়েছেন ২ উইকেট। অন্য পেসার শাহিন আফ্রিদি-মুহাম্মদ আব্বাস এই দিনটিতে পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে হাসান আলীর বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন মুশফিক (৩৭ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২২)। শাহিন শাহ আফ্রিদির দ্বিতীয় ওভারে লিটন দাস দিয়েছেন ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ (২৮ বলে ১১)।
২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি (১৪৬ও ১২৩), ২০২৫ সালে গল এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (১৪৮ ও ১২৫) এর পর তৃতীয়বারের মতো একই কৃতির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শান্ত। চতুর্থ দিন শেষে ছিলেন ৫৮ রানে ব্যাটিংয়ে। অপেক্ষা ছিল ৪২ রান। সেঞ্চুরির কক্ষপথেই ছিলেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৩ বছরের ইতিহাসে তিন কৃতিমানের আছে এমন রেকর্ড। সেঞ্চুরিটি পেলে তিন লিজেন্ডারি ভারতের সুনিল গাভাস্কার, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং এবং ডেভিড ওয়ার্নারের পাশে নাম লেখাতে পারতেন শান্ত।
চতুর্থ দিনে সতর্ক ব্যাটিংয়ে নিজের প্রথম বাউন্ডারির জন্য অপেক্ষা করেছেন ১৬টি বল। হাসান আলীর শর্ট বলে স্কোয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পেয়েছেন ছন্দ। তবে অপর এন্ডে পাকিস্তান বোলারদের উপর মিরাজের প্রতি আক্রমন দেখে বড় শট খেলতে প্রলুব্ধ হয়েছেন শান্ত। বাঁ হাতি স্পিনার নোমান আলীকে রিভার্স সুইপ করতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে থেমেছেন নোমান আলী ৮৭ রানে। রিভিউ আপীলে আম্পায়ার ক্যাটেলব্রর সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়নি। আলট্রা এজ-এ ব্যাট কিংবা গ্লাভসের স্পর্শ ধরা পড়েনি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পের দিকে বলের গতিপথ ধরা পড়ায় থামতে হয়েছে শান্তকে। ২৮৪ মিনিট ব্যাটিং করে ৭ বাউন্ডারিতে সাজানো এই ইনিংসে তাঁর আক্ষেপ ১৩ রান।
শান্ত ফিরে যাওয়ার পর নোমান আলীর বলে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন মিরাজ (২৭ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ২৪)। পূর্ণ করেছেন ১০০তম উইকেট। ৩ বল পর তাইজুলকেও (৩) শিকার করেছেন এই বাঁ হাতি স্পিনার। হাসান আলীর বলে স্কোয়ার লেগে তাসকিন (৫ বলে ১১) ক্যাচ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনিংস ঘোষণা (২৪০/৯ডি.) করেছেন শান্ত।
No posts available.

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১১ জুন শুরু হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম সংস্করণ। মেগা এই টুর্নামেন্টে চমক রেখে আজ ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া।
দলের অন্যতম প্রধান পেসার ডার্সি ব্রাউনকে বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার লুসি হ্যামিল্টনকে দলে টেনেছে অজি নির্বাচকরা। ২০২৩ ও ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ছিলেন ব্রাউন। অজিদের জার্সিতে খেলেছেন ৪১ টি-টোয়েন্টি।
ব্রাউনের জায়গায় সুযোগ পাওয়া হ্যামিল্টন গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে খেলেছেন মাত্র ১ ম্যাচ।
ডার্সি ব্রাউনকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক শন ফ্লেগলার জানান, কন্ডিশন এবং দলের ভারসাম্যের কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডার্সি বাদ পড়াটা দুর্ভাগ্যজনক। তবে আমাদের দলে ছয়জন ডানহাতি পেস বোলিং অপশন রয়েছে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে স্রেফ গতির চেয়ে বৈচিত্র্য বেশি কার্যকর হতে পারে ভেবেই আমরা বাঁহাতি পেসার লুসি হ্যামিল্টনকে বেছে নিয়েছি।‘
চোট কাটিয়ে অধিনায়ক হিসেবে ফিরেছেন বাঁহাতি স্পিনার সোফি মলিনিউ। দলে রয়েছেন এলিস পেরি, বেথ মুনি, অ্যাশ গার্ডনার এবং তাহলিয়া ম্যাকগ্রার মতো অভিজ্ঞ তারকারা। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে খেলা পেরি এই সংস্করণে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫০টি ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় আছেন।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ১-এ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডস। আগামী ১৩ জুন ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রেকর্ড ৬ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দল:
সোফি মলিনিউ (অধিনায়ক), নিকোলা ক্যারি, অ্যাশ গার্ডনার, কিম গার্থ, লুসি হ্যামিল্টন, গ্রেস হ্যারিস, আলানা কিং, ফিবি লিচফিল্ড, তাহলিয়া ম্যাকগ্রা, বেথ মুনি, এলিস পেরি, মেগান শুট, অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড, জর্জিয়া ভল, জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম।
রিজার্ভ: তাহলিয়া উইলসন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সিলেটে এই ম্যাচের জন্য স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন আনেননি নির্বাচকেরা। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন ১৬ মে থেকে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু পরিবর্তন হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, আবহাওয়ার কারণে ভেন্যু বদল নিয়ে কিছু মহলে প্রশ্ন উঠলেও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই ম্যাচটি হবে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠ ও উইকেট প্রস্তুতির কাজ চলছে।
স্কোয়াডে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজের মতো অভিজ্ঞরা আছেন। বোলিং আক্রমণে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামদের সঙ্গে গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত নাহিদ রানা। স্পিন আক্রমণে যথারীতি থাকছেন মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। তরুণ অমিত হাসান ও তানজিদ হাসানও নিজেদের প্রমাণের অপেক্ষায় আছেন।
দ্বিতীয় টেস্টের বাংলাদেশ দল:
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান তামিম ও অমিত হাসান।

২০০৫ সালের মে মাসে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক, ২০২৫ সালের নভেম্বরে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট একাদশে নাম লিখিয়ে দারুণ এক মাইলস্টোন পূর্ণ করেছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলেছেন এই ক্রিকেটার।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সব খেলা সম্প্রচারে এদেশের ক্রীড়া প্রেমীদের হৃদয় জয় করে নেয়া টি-স্পোর্টস মুশফিকুর রহিমকে বিশেষভাবে স্মরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর শততম টেস্টকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে দেশের স্পোর্টস টিভি চ্যানেল এবং বিসিবির লম্বা সময়ের মিডিয়া রাইটস পার্টনার টি-স্পোর্টস নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।
মুশফিকুর রহিমের স্কেচ কাঠে খোদাই করে ১০০তম টেস্টের পথে মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ার হাইলাইটস সুদৃশ্য বিশাল এক ফ্রেমে বাঁধাই করেছে টি-স্পোর্টস।
মুশফিকুর রহিমের ১০১তম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারানোর আনন্দ উদযাপন শেষে মুশফিকুর রহিমের হাতে এই স্মারকটি তুলে দিয়েছেন টি-স্পোর্টসের হেড অব রিসার্চ এন্ড ডেভেলপম্যান্ট শামীম চৌধুরী। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন টি-স্পোর্টসের ক্রীড়া সাংবাদিক রিফাত এমিল এবং রাহুল রায়। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টি-স্পোর্টসের ব্যতিক্রমধর্মী এই উপহার পেয়ে টি-স্পোর্টসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুশফিকুর রহিম।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৪ রানের জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ‘ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২৬’- এ অংশ নিতে বর্তমানে তুরস্কের কোনিয়াতে অবস্থান করছেন তিনি।
মঙ্গলবার ঘরের মাঠে প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক অর্জনের পরই নাজমুল হোসেন শান্তদের অভিনন্দন জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
অভিনন্দন বার্তায় আমিনুল হক বলেন, ‘মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয় আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। বিশেষ করে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের এই গৌরবময় অর্জন খেলোয়াড়দের অদম্য মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল।’
অভিনন্দন বার্তায় বিশেষ করে তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার নাম উল্লেখ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট নেওয়া বাংলাদেশি পেসার দ্বিতীয় ইনিংসে নেন আরও পাঁচটি। মূলত তার আগুনে বোলিংয়ে পথ হারায় অতিথিরা।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটসহ বোলারদের ম্যাজিকাল পারফরম্যান্স এবং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদের গর্বিত করেছে।’
বাংলাদেশ দলের এই জয়ের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানান।

টসে জিতে বোলিং নিয়েই কি প্রথম ভুলটা করলেন শান মাসুদ? মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের ঐতিহাসিক হারের পর এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে হারের পর কোনো অজুহাত না খুঁজে ব্যর্থতার সব দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। পাশপাশি শান মাসুদের মতে, কন্ডিশন সিমিং হলেও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তাঁর দল। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে বল ও ব্যাট—উভয় বিভাগেই পিছিয়ে পড়াটাকে পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
এই চরম হতাশার মাঝেও অবশ্য দুটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন মাসুদ। ব্যর্থতার গ্লানির মাঝেও দুই অভিষিক্ত ব্যাটার আজান ও ফজলের লড়াই ছিল পাকিস্তানের অধিনায়কের জন্য সান্ত্বনা। সাবলীল ব্যাটিংয়ে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন আজান, আর দুই ইনিংসেই ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন ফজল।
টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও কন্ডিশনের সুবিধা কেন নিতে পারেননি, সে প্রসঙ্গে মাসু বলেন, ‘পেছনের কথা বলা সহজ। আমরা কন্ডিশন দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সিম বোলারদের জন্য তখন কন্ডিশন আমাদের অনুকূলেই ছিল। আমরা শুরুতে দ্রুত দুটি উইকেটও পেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম ইনিংসে আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারিনি, এমনকি ব্যাটিংয়েও আমরা পিছিয়ে ছিলাম। আমরা আরও বেশি রান করতে পারতাম। সত্যি বলতে, প্রথম ইনিংসে বল এবং ব্যাট—উভয় বিভাগেই আমাদের আরও ভালো করার প্রয়োজন ছিল।’
পাকিস্তান অধিনায়কের মতে, ব্যাটিং বিপর্যয়েই মিরপুরে পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে তাঁদের। রান তাড়ায় ১৫২ রানে পাঁচ উইকেট থেকে স্কোরবোর্ডে ১১ রান যোগ হতেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। চার বিরতির পর হঠাৎ এই ধস নিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, আমার মনে হয় চা-বিরতি পর্যন্ত আমরা বেশ ভালো অবস্থানেই ছিলাম, কিন্তু বিরতির পরপরই আমরা দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলি। গেম সেন্স বা ম্যাচ বোঝার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় কিছু ব্যাটার আরও সচেতন হতে পারত। আমরা লক্ষ্যের খুব বেশি দূরে ছিলাম না, তাই তখন টিকে থাকাটাই জরুরি ছিল। আমরা ভুল সময়ে উইকেট হারিয়েছি; ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমরা আরও বিচক্ষণ হতে পারতাম।’
আগের দিন সালমান আলী আগা বলেছিলেন লক্ষ্য ২৭০-এর নিচে হলে পাকিস্তান জয়ের জন্য খেলবে পাকিস্তান। কিন্তু চা-বিরতির পর দলের হয়ে খেলতে গিয়েই তিনি আউট হয়ে গেলেন। আগা সালমানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বা আউট হওয়াকে আলাদা করে টার্নিং পয়েন্ট মানতে নারাজ মাসুদ।
নির্দিষ্ট কোনো মুহূর্তকে দায়ী না করে সামগ্রিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাসুদ বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি,লক্ষ্য যখন নির্ধারিত হয়েছিলতখন আমাদের মূল ভাবনা ছিলকেবল ব্যাটিং করা এবং পরিস্থিতিবুঝে আগানো। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো বলকে সম্মানদিতেই হবে এবং স্কোরিংসুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। চা-বিরতির সময় আমরা বেশভালো অবস্থানে থাকলেও জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েপড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরিহয়নি। আমাদের আলোকস্বল্পতার কথাও মাথায় রাখতে হয়েছিল; আমার মনে হয়না ওই অবস্থায় ৭৫ওভার খেলা সম্ভব ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আরটার্নিং পয়েন্টের কথা বললে, এইম্যাচে এমন অনেক মুহূর্তছিল; নির্দিষ্ট করে একটিকে দায়ী করা যাবে না। দল হিসেবে আমাদের সামগ্রিকভাবে ভুলগুলো দেখতে হবে।’
পাকিস্তানের এই দল নিয়ে ১৫ টেস্টের মধ্যে ১১টিতেই পরাজয়—এমন লজ্জাজনক পরিসংখ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও আত্মোপলব্ধির কথা জানিয়েছেন মাসুদ, ‘নিজের ভবিষ্যৎ ও দলের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেনআমি এই পরিসংখ্যান মেনে নিচ্ছি। আমি কখনোই কাউকে দোষারোপ করার খেলায় বিশ্বাস করি না; আমি নিজে এই ব্যর্থতার দায় নিচ্ছি। আমার সমস্ত প্রচেষ্টা থাকে আমরা কী ভালো করছি এবং একটি ভালো টেস্ট দল হয়ে উঠতে আমাদের আর কী কী উন্নতি প্রয়োজন—সেদিকে। দল নির্বাচন হোক, আমার ব্যাটিং পজিশন হোক বা দল সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়—আমার একমাত্র লক্ষ্য থাকে কীভাবে পাকিস্তান দলের উন্নতি সম্ভব।’
হেরে যাওয়া ম্যাচে আজান ফয়সালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, ‘এই ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজলে এই দুইজনের পারফরম্যান্স সবার উপরে থাকবে। প্রথম ইনিংসে তারা অসাধারণ খেলেছে, বিশেষ করে মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও আজান যেভাবে লড়েছে। আব্দুল্লাহ তো টেস্ট শুরু হওয়ার আগের রাত পর্যন্ত জানত না যে সে খেলছে। এমনকি আজ সকালেও অনুশীলনের সময় সে মাথায় চোট পেয়েছিল। তবুও তারা মাঠে নেমে যথেষ্ট পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে তারা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে। আরও বেশি টেস্ট খেললে তারা আরও অভিজ্ঞ হবে, তবে এই ম্যাচে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শট সিলেকশন ছিল এক কথায় অনন্য।’