৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম

ফাইনালে উঠলে শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে- এমনই ছিল আকবর আলিদের জন্য সমীকরণ। কিন্তু বড় ব্যবধান তো নয়ই, জিততেও পারেনি দুরন্ত একাদশ। তাদের উড়িয়ে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠল নাজমুল হাসান শান্তর দুর্বার একাদশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সন্ধ্যায় অদম্য কাপে দুরন্ত একাদশকে ৭ উইকেটে হারায় দুর্বার একাদশ। ১৪৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে ১৭.৩ ওভারের বেশি লাগেনি হাবিবুর রহমান সোহান, মাহমুদুল হাসান জয়দের।
দুর্বারের জয়ে নিশ্চিত হয়েছে ফাইনালিস্ট দুই দল। দুই ম্যাচের দুইটিই জেতা দুর্বার খেলবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। সোমবার তাদের প্রতিপক্ষ উদ্বোধনী ম্যাচে দুরন্তকে হারানো ধুমকেতু একাদশ। তারা জিতেছে এক ম্যাচ। আর কোনো ম্যাচ না জিতেই টুর্নামেন্ট শেষ করল দুরন্ত একাদশ।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি দুরন্ত। প্রথম চার ব্যাটারের সবাই হতাশ করেন। ৮ রান করতে ২২ বল খেলেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। জিসান আলম (০), জাওয়াদ আবরার (৬), আজিজুল হাকিম তামিমও (৬) অল্পে আউট হন।
পরে আরিফুল ইসলাম ও এসএম মেহেরব হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় আকবর আলির দল। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩২ বলে ৪১ রান করেন আরিফুল। ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৩ বলে ৩৬ রান করেন মেহেরব। আকবরের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১৩ রান।
শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ৯ বলে ১৮ রান করলে দেড়শর কাছে যায় দুরন্ত একাদশ।
৪ ওভারে ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচ করে নেন ১ উইকেট।
রান তাড়ায় শুরুতেই ঝড় তোলেন হাবিবুর রহমান সোহান। পাওয়ার প্লেতে তাণ্ডব চালিয়ে ১ চারের সঙ্গে ৫টি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ১৭ বলে তিনি করেন ৩৯ রান। এরপর দ্রুতই ফিরে যান শান্ত (৯ বলে ৫)।
তবে দলের জয়ে কোনো বাধা আসতে দেননি মাহমুদুল হাসান জয় ও নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ৬৮ রানের জুটিতে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যায় দুর্বারের। দলের জয়ের খুব কাছে গিয়ে ৫১ বলে ৫৮ রান করে আউট হন জয়।
পরে নুরুল হাসান সোহান ২৮ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ১১ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
চমৎকার বোলিং করে ৩ উইকেট নেন সাকলাইন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দুরন্ত একাদশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৫ (রবিন ৮, জিসান ০, জাওয়াদ ৬, তামিম ০, আরিফুল ৪১, মেহেরব ৩৬, আকবর ১৩, অঙ্কন ১০*, সাকলাইন ১৮, রকিবুল ৫, রিপন ১; হাসান ৩.৫-১-২৭-২, খালেদ ৪-০-২৩-৪, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩২-১, আলিস ৪-০-১৪-১, তানভির ২-০-২৩-০, মিরাজ ২-০-২৪-০)
দুর্বার একাদশ: ১৭.৩ ওভারে ১৪৯/৩ (জয় ৫৮, হাবিবুর ৩৯, শান্ত ৫, নুরুল ২৮*, আফিফ ১১*; নাহিদ ৩-০-৩৫-০, রিপন ২-০-৩১-০, ইমন ১-০-১৭-০, রকিবুল ৪-০-১৭-০, সাকলাইন ৩.৩-০-২৩-৩, মেহেরব ৩-০-১৯-০, তামিম ১-০-৭-০)
ফল: দুর্বার একাদশ ৭ উইকেটে জয়ী
No posts available.
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম

লড়াকু পুঁজি নিয়ে ইংল্যান্ডকে কঠিন চ্যালেঞ্জই জানিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে গেলেন হ্যারি ব্রুক। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ইতিহাসগড়া এক সেঞ্চুরি করে দলকে জয় ও সেমি-ফাইনালের টিকেট এনে দিলেন ইংলিশ অধিনায়ক।
পাল্লেকেলেতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার ম্যাচে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ১৬৪ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জবাবে শেষ দিকে কিছুটা জমে উঠলেও ৫ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় ব্রুকের দল।
দলকে জেতানো দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৫১ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলেছেন ব্রুক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো অধিনায়কের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। এত দিন কোনো অধিনায়কের সর্বোচ্চ ছিল ৯৮ রান, ক্রিস গেইলের।
তিন অঙ্ক ছুঁতে ৫০ বল খেলেছেন ব্রুক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি। ২০১৬ সালের আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল। এছাড়া ২০০৭ সালে ৫০ বলেও সেঞ্চুরি করেছিলেন ইউনিভার্স বস।
সুপার এইটে দুই ম্যাচে একটি পরিত্যক্ত ও একটি হেরে বিদায়ের খুব কাছে এখন পাকিস্তান। শেষ ম্যাচে শুধু জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের দিকেও। বিপরীতে দুই ম্যাচের দুটিই জিতে প্রথম দল হিসেবে সেমি-ফাইনালে উঠে গেল ইংল্যান্ড।
এই জয়ের সৌজন্যে টানা পাঁচ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এই সেঞ্চুরির সৌজন্যে ইংল্যান্ডের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিন সংস্করণেই তিন অঙ্কের স্বাদ পেলেন ব্রুক। তার আগে এই কৃতিত্ব ছিল শুধু জস বাটলার ও ডেভিড মালানের। বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করা ইংল্যান্ডের তৃতীয় ব্যাটার তিনি। আগের দুজন- বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস।
এ নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ ম্যাচের সবকটি জিতল ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে এই সংস্করণে সবশেষ ৬ ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারাল তারা।
অথচ রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল বেশ বাজে। পাওয়ার প্লেতে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান ফিল সল্ট, জস বাটলার ও জ্যাকব বেথেল। মাত্র ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়ে যায় ইংলিশরা।
সেখান থেকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিন নম্বরে নেমে নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেন ব্রুক। পাল্টা আক্রমণে মাত্র ২৭ বলে ফিফটি করেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটার। একই ছন্দে এগিয়ে ৫০ বলে করে ফেলেন সেঞ্চুরি।
তিন অঙ্ক ছুঁয়ে অবশ্য টিকতে পারেননি। পরের বলেই তাকে বোল্ড করেন শাহিন শাহ আফ্রিদ। তবে ওই সময়ের মধ্যে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তাই মোহাম্মদ নাওয়াজ ১৯তম ওভারে ২ উইকেট নিলেও লাভ হয়নি পাকিস্তানের।
ব্রুকের সেঞ্চুরি ছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন শুধু দুই ব্যাটার- উইল জ্যাকস (২৩ বলে ২৮) ও স্যাম কারান (১৫ বলে ১৬)। আর বাকি কেউই দশ রানও করতে পারেননি।
পাকিস্তানের পক্ষে ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন শাহিন আফ্রিদি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪০ ম্যাচ পর ৪ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। আলোচিত স্পিনার উসমান তারিক ৩১ রানে নেন ২ উইকেট।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের পক্ষে বড় রানের করেন শুধু সাহিবজাদা ফারহান। ১৬তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন মারকুটে এই ওপেনার।
চলতি বিশ্বকাপে ফারহানের এটি দ্বিতীয় ফিফটি। এর সঙ্গে আছে একটি সেঞ্চুরি। ৫ ইনিংসে ২৮৩ রান নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনিই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
এছাড়া ফাখার জামান ১৬ বলে ২৫, বাবর আজম ২৪ বলে ২৫ ও শাদাব খান শেষ দিকে ১১ বলে ২৩ রান করলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় পাকিস্তান। যা শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।
ইংল্যান্ডের হয়ে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন লিয়াম ডসন। এছাড়া জফ্রা আর্চার ও জেমি ওভারটন নেন ২টি করে শিকার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক অভিযান শেষ হতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে ইতালিয়ান ক্রিকেট। দেশটির ক্রিকেট ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন নারী দলের এক ক্রিকেটার।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে নারী ক্রিকেট সমন্বয়ক প্রবাথ একনেলিগোদা। ইতালির ক্রিকেট ফেডারেশন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। বোর্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ফেডারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্তাধীন।
বোর্ডের ভাষ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে সভাপতির নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সব ধরনের ফেডারেল দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
একই সঙ্গে বোর্ড বলেছে, ক্রীড়াঙ্গনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা, গুজব ঠেকানো এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত মর্যাদা, ন্যায় বিচার এবং নির্দোষের ধারণার নীতিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বিবিসি স্পোর্টেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একনেলিগোদার আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এর পেছনে ‘ভিন্ন উদ্দেশ্য’ থাকার দাবি তুলেছেন। একনেলিগোদার মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে।
বরখাস্তাদেশ বহাল থাকলেও ইতালির মিডিয়া ম্যানেজার রাকবির হাসান নিশ্চিত করেছেন, একনেলিগোদা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি কোনো সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না; বোর্ড সভাপতি মারিয়া লোরেনা হাজ পাজের সফরসঙ্গী হিসেবে ভারতে গিয়েছিলেন।
বোর্ড আরও জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে।
এর মধ্যেই বোর্ডে চলছে অস্থিরতা। ইতালির বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর সভাপতি হাজ পাজ পদচ্যুত হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী লুকা ব্রুনো মালাসপিনা জানিয়েছেন, ছয়জন বোর্ড সদস্যও পদত্যাগ করেছেন, ফলে ফেডারেল কাউন্সিল ভেঙে গেছে। তবে এসব পদত্যাগের সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে দাবি বোর্ডের।
মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য ইতালির পুরুষ দল নজর কেড়েছে। বিশ্বকাপে নেপালের বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয়, ইংল্যান্ডের কাছে মাত্র ২৪ রানে হার- দুই ম্যাচই প্রশংসা কুড়িয়েছে। যদিও সুপার এইটে ওঠা হয়নি, তবু প্রথমবারের অংশগ্রহণেই ইতালির লড়াকু পারফরম্যান্স আলোচনায় ছিল।
মাঠের সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রশাসনিক অস্থিরতা ও গুরুতর অভিযোগে ইতালিয়ান ক্রিকেট এখন কঠিন এক পরীক্ষার মুখে।

আফগানিস্তান ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের পর দলটির প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইংলিশ কোচ । তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন চার বছর ধরে দায়িত্বে থাকা জোনাথন ট্রটের জায়গায়।
কোচিং ক্যারিয়ারে পাইবাসের ঝুলিতে রয়েছে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা ছিল তার। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবেও দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন তিনি।
২০১৬ সালে তার তত্ত্বাবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরুষ, নারী ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়।
২০১৮ সালে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরের বছর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের ভূমিকাও পালন করেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবেও স্বল্প সময় কাজ করেছিলেন পাইবাস, যদিও সেই অধ্যায় ছিল বিতর্কিত।
আফগানিস্তানের সঙ্গে পাইবাসের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাদা বলের সিরিজ। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ১৩ মার্চ শারজাহতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন কোচের অধীনে আফগানিস্তান টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরবর্তী পুনর্গঠনের পথে কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটিই দেখার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে দেখা যায় ওপেনার অভিষেক শর্মার সঙ্গে বেশ সিরিয়াস বিষয়ে আলোচনায় মত্ত।
খবর অনুযায়ী, ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে ভারতীয় দলের বাসের ভেতরে। ক্লিপে দেখা যায়, বাসের সামনের অংশে বসে গম্ভীর পুরো সময় মন দিয়ে কোচের কথা শুনছেন। আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয় জানা না গেলেও, দুজনের শরীরী ভাষা থেকে বোঝা যায় গুরুত্বপুর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন তারা। পরে সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটও আলোচনায় যোগ দেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনলাইনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ভক্তের ধারণা, টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অভিষেকের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়েই এই আলোচনা। ব্যাট হাতে তাঁর ধারাবাহিক ব্যর্থতার সময়েই এই কথোপকথন হওয়ায় বিষয়টি আরও নজর কাড়ছে।
ভারত দল এখন চেন্নাইয়ে। যেখানে সুপার এইট পর্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের পরের ম্যাচ। ম্যাচটি হবে চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম ।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্সের পর বড় প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন অভিষেক শর্মা। কিন্তু মূল মঞ্চে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুপার এইট ম্যাচেই প্রথম রান পান তিনি—১২ বলে ১৫ রান। তার আগে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হন এবং অসুস্থতার কারণে একটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। টুর্নামেন্টে ভালোভাবে শেষ করতে চাইলে এবার ব্যাট হাতে জবাব দিতে হবে অভিষেককেই।

দ্য হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার গুঞ্জন¬ নিয়ে সরব হয়েছেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার মঈন আলী। জানিয়েছেন, এমন কিছু ঘটলে খেলোয়াড়েরা চুপ করে থাকবেন না, প্রয়োজন হলে কথা বলবেন।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দ্য হান্ড্রেডের নিলামে আইপিএল মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিবেচনায় নাও নিতে পারে। ফাঁস হওয়া একটি বার্তালাপ থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানানো হয়। যদিও গত সপ্তাহে প্রকাশিত দীর্ঘ তালিকায় ৬৭ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের নাম রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মঈন আলী বলেন,
‘যুক্তরাজ্যে এমন কিছু ঘটতে পারে বলে আমি মনে করি না—আর আশা করি, এমনটা হবে না। এটা হওয়া উচিত নয়। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা আমাদের অপেক্ষা করে দেখতে হবে। তবে এমন কিছু হলে তা ভীষণ হতাশাজনক হবে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড নিশ্চয়ই বিষয়টি নজরে রাখবে।’
তিনি আরও বলেন,
‘খেলোয়াড়দের একটি অংশ অবশ্যই কথা বলবে। এ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারও যদি এ ধরনের বিষয়ে উদ্বেগ থাকে—সে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হোক বা না হোক, তার কথা বলা উচিত।’
২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর থেকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আর দেখা যায়নি। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা এসএ-টোয়েন্টিতে চার মৌসুমে কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড় অংশ নেননি, যেখানে ছয়টি দলেরই মালিক ভারতীয়।
মঈন বলেন,
‘খবরটি একেবারেই নতুন। এখনো কারও সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই একই অবস্থানে থাকবে বলে মনে করি। অন্য দেশগুলো তাদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু যুক্তরাজ্যে আমাদের মতামতের মূল্য আছে।’
এর আগে ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন,
‘পাকিস্তান বহু বছর ধরে শক্তিশালী ক্রিকেট জাতি। তাদের দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। দ্য হান্ড্রেডে তাদের না দেখা গেলে সেটি দুঃখজনক হবে।’
সব মিলিয়ে নিলামের আগেই বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কোন দিকে গড়ায় এবং খেলোয়াড়দের অবস্থান কতটা প্রভাব ফেলে।