
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আগেই জেমস নিশাম জানান দিয়েছিলেন, আসছেন বাংলাদেশে। তবে সেটা কোন দলে, তা জানা গেল ফরচুন বরিশাল ও চিটাগং কিংসের প্রথম কোয়ালিফায়ারের পর। ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া বরিশালে হয়ে শিরোপার লড়াইয়ে অংশ নেবেন এই কিউই অলরাউন্ডার।
এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় বার বিপিএল খেলতে আসছেন নিশাম। গতবার ছিলেন রংপুর রাইডার্স দলে। ব্যাটে ও বলে উপহার দিয়েছিলেন স্মরণীয় কিছু পারফরম্যান্স। ৭ ম্যাচে প্রায় ১৬৮ স্ট্রাইক রেটে করেন ২৯১ রান। আর উইকেট নেন চারটি। এবার তিনি মাতাবেন বরিশালের জার্সি।
মঙ্গলবার বরিশাল স্কোয়াডে যোগ দেবেন নিশাম। তার আগমনে আগে থেকেই শক্তিশালী বরিশালের শক্তিমত্তা বেড়ে গেল আরও। প্রথম কোয়ালিফায়ারে চার বিদেশী হিসেবে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে কাইল মায়ার্স ও মোহাম্মদ আলি বল হাতে উজ্জ্বল। দাভিদ মালান আছেন দারুণ ছন্দে। জেমস ফুলারকে বেঞ্চে রেখে এই ম্যাচ খেলানো হয় আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবিকে।
ফলে ফাইনালে বরিশালের চার বিদেশী কে কে হবেন, তা নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দলটিকে। তবে ফাইনালের জন্যই আসায় নিশামের খেলাটা একরকম নিশ্চিতই বলা যায়।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে বরিশালের প্রতিপক্ষ হবে চিটাগং কিংস ও খুলনা টাইগার্সের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের জয়ী দল।
No posts available.
২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১৭ পিএম
২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ এম

ফুটবলে যে তর্ক নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। যাদের নিয়ে গোটা ফুটবলবিশ্বই প্রায় দু’ভাগ হয়ে যায়। সেরার বিতর্কে ভক্তরা নিজ নিজ যুক্তি দিয়ে লিওলেন মেসি কিংবা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ‘গোট’ স্বীকৃতি দিয়ে আসছেন। শুধু সমর্থকরাই নয়, সাবেক-বর্তমান ফুটবলার থেকে কোচরা পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই সর্বকালের সেরা বিতর্কে জড়িয়ে গেছেন। এবার এ আলোচনায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের এক কিংবদন্তি বেছে নিলেন ‘সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে।
সচরাচর ক্লাবের সতীর্থ কিংবা নিজ ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখা যায়। তবে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেজ ক্লাবের আবেগ একপাশে রেখে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার বেছে নিয়েছেন। রিয়ালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এই কিংবদন্তির চোখে রোনালদো নয়, বরং মেসিই ইতিহাসের সেরা।
স্পেনের সাবেক এই ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৭১৪ ম্যাচে ৩২৩ গোল করেছেন। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটিতে নিজের সময়ে খেলেছেন বহু রথী-মহারথীদের সঙ্গে। জিদান, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ব্রাজিলিয়ান রোনালদো, লুইস ফিগোর মতো কিংবদন্তিদের সতীর্থ ছিলেন তিনি। তবু তাঁদের সবার ওপরে রাউলের পছন্দ একজনই—লিওনেল মেসি।
আরও পড়ুন
| নতুন ক্লাবে এন্দ্রিককে সতর্কবার্তা, সবুজ রঙ ব্যবহারে বারণ |
|
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাউল ব্যাখা করেন কেন তাঁর কাছে আর্জেন্টিনার মহাতারকা মেসি সেরা। রিয়ালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এই ফরোয়ার্ড রোনালদো ও জিনেদিন জিদানের চেয়েও এগিয়ে রাখছেন।
রাউলের মতে, মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—অনেকের জন্য যেটা অসম্ভব বা অন্যদের পক্ষে যা কল্পনাও করা কঠিন, সেই কাজটাই অনায়েসে করেন মেসি। আর সেই অনন্য দক্ষতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে এবং রোনালদো ও জিদানের মতো কিংবদন্তিদের মাঝেও রাউলের চোখে মেসিকে শীর্ষে স্থান দেয়, ‘জিদান, ক্রিশ্চিয়ানো, রোনালদো, ফিগোর মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়, মেসিই সেরা। সে একেবারেই আলাদা। অসম্ভব বলে মনে হওয়া কাজগুলোকে এমন সহজ করে ফেলে, যেন রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলছে।’
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্ত আছেন মেসি-রোনালদো দু’জনই। অবশ্য বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে এখনও মাঠে নামলে গোল-অ্যাসিস্টে দলের হয়ে নিয়মিত অবদান রাখছেন ইন্টার মায়ামি ও আল নাসরের মহাতারকা। আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ দু’জনেরই ‘লাস্ট ডান্স’। আর্জেন্টিনার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর ‘গোট’ বিতর্কে অনেকটাই এগিয়ে যান মেসি। পুরো ক্যারিয়ারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির সঙ্গে প্রায় সমানতালে লড়ে যাওয়া রোনালদো কী এবার বিশ্বকাপ জিতে সর্বকালের সেরা বিতর্ক আরও উশকে দিতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।

বিপিএলে গতকাল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সুপার ওভারে দুর্দান্ত এক জয় পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। রিপন মন্ডলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাওয়া জয়ের পর দারুণ এক সুখবরও পেল রাজশাহী। ফ্রাঞ্চাইজিটির মালিকপক্ষ থেকে বোনাস পেয়েছেন ক্রিকেটাররা।
প্রায় হারতে বসা ম্যাচে জয় পাওয়া রাজশাহীর জয়ের নায়ক রিপন মন্ডল। ম্যাচসেরা হওয়া ডানহাতি এই পেসার ১ লাখ টাকা বোনাস পান। এছাড়া ওই ম্যাচে ৪৬ বলে ৬৫ রান করা পাকিস্তানি ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা বোনাস। ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নেওয়া মেহরাব হাসানও পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা বোনাস।
এছাড়া দলের সব ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের ১৫ হাজার টাকা করে বোনাস দিয়েছে রাজশাহী। ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে রাজশাহী।
সিলেটে মূল ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান করে রাজশাহী। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ঠিক ১৫৯ রানই করে রংপুর।
শেষ ওভারে মাত্র ৭ রানের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয় রংপুর। রিপন মন্ডলের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যায় রাজশাহী। এরপর সুপার ওভারে ‘সুপারম্যান’ মন্ডল আবার ভেলকি দেখান। মাত্র ৬ রান দিয়ে রংপুরের তিন ব্যাটারকে আউট করেন ২২ বছর বয়সী পেসার। তারপর রান তাড়ায় তিন বলেই জয় তুলে নেয় রাজশাহী।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম সংস্করণের নিলামে বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে মোস্তাফিজকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে বাংলাদেশি পেসারের এই ফ্রাঞ্চাইজি খেলা নিয়ে হঠাৎ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে নেওয়ায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউড তারকা ও ফ্রাঞ্চাইজিটির স্বত্বাধিকার শাহরুখ খান। এই ইস্যুতে তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন একাধিক হিন্দু ধর্মগুরু ও বিজেপি নেতা। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস বিষয়টিকে ভারতের বহুত্ববাদে আঘাত বলে আখ্যা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের তুলে আইপিএলে কেকেআর বাংলাদেশি খেলোয়াড় কেনায় অভিনেতা শাহরুখ খানের তীব্র সমালোচনা করেছেন উত্তর প্রদেশের এক বিজেপি নেতা। রাজ্য বিধানসভার সাবেক সদস্য সংগীত সোম ‘কাটার মাস্টারকে’ কেনার জন্য শাহরুখ খানকে ‘গাদ্দার বা দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সমালোচকদের মধ্যে সবার আগে মন্তব্য করেন ভারতের হিন্দু ধর্মগুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার প্রেক্ষাপটে কেকেআরের উচিত মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া।’ পাশপাশি তিনি দাবি করেন, ওই ক্রিকেটারকে দেওয়া ৯.২ কোটি রুপি ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হোক, যাতে ‘ক্ষমা’ প্রকাশ পায়।
আরও পড়ুন
| বর্ণবাদের স্বীকার হওয়া খাজা বললেন, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম’ |
|
এই বিতর্কে যোগ দেওয়া বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি দেশের খেলোয়াড়ের পেছনে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে সোম বলেন, যেকোনো মূল্যে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া হবে না এবং তিনি নাকি বিমানবন্দর থেকেই বেরোতে পারবেন না।
অবশ্য তীব্র সমালোচনার মধ্যে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মানিকম ঠাকুরকে পাশে পাচ্ছেন শাহরুখ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন,‘ সুপারস্টার শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা ভারতের বহুত্ববাদে আঘাত। ঘৃণা কখনোই জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা হতে পারে না।’ একই সঙ্গে তিনি আরএসএসকে সমাজে বিভাজন ছড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান।
তবে এমন আলোচনার মধ্যে মোস্তাফিজের আইপিএল খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক কর্মকর্তা। ইনসাইডস্পোর্টকে ওই কর্তা বলেছেন, 'এটা একটা সংবেদনশীল বিষয়, আমরা তা বুঝি। আমরা সবসময় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার মতো কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি। বাংলাদেশ তো আমাদের শত্রু দেশ নয়। তাই মুস্তাফিজ অবশ্যই আইপিএল খেলবেন।'
২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএল অভিষেক মোস্তাফিজের। শুরুর আসরেই জেতেন শিরোপা, হয়েছিলেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। এরপর খেলছেন নিয়মিত । সানরাইজার্সের পর রাজস্থান রয়্যালস, চেন্নাই সুপার কিংস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেছেন তিনি। ৬ষ্ঠ দল হিসেবে এবার নামবেন কলকাতার জার্সিতে।

ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন উসমান খাজা। পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম এই ব্যাটরের পরিবারকেও বর্ণবাদের বিষবাষ্পে জর্জরিত হতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সৈকতের সেই কাপুরুষোচিত হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় ‘ইসলামফোবিয়া’ ও ‘অ্যান্টি-ইসলাম’ মনোভাব হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। পাশাপাশি ছন্দহীন ছিলেন খাজা। তাতে তাঁর ওপর আক্রমণের তীব্রতা দ্বিগুণ হয়।
গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন খাজা। আগামী রোববার শুরু হতে যাওয়া সিডনি টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে। স্ত্রী র্যাচেল আর দুই মেয়েকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার। ক্রিকেটের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বর্ণবাদী আচারণ নিয়েই অনেকটা সময় কথা বলেন তিনি।
খাজা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো সন্তুষ্টি। আমি খুব ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এত ম্যাচ খেলতে পেরেছি, যেভাবে করেছি। আশা করি, এই পথে আমি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি।’
খুব ছোটোবেলায় ইসলামাবাদ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হন খাজা। তারপর নানা বাধার মুখোমুখি হয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এবং প্রথম মুসলিম হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পান। এক সময় উসমান খাজা অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র এশিয়ান ফার্স্ট-ক্লাস খেলোয়াড় ছিলেন এবং অন্যদের জন্য সুযোগ খুলে দেওয়ার কারণে তিনি একজন আর্দশ হিসেবে স্বীকৃত।
কিন্তু পুরো ক্যারিয়ারেই অনেকবার বর্ণবাদের শিকার হতে হয়েছে খাজাকে। তবে দমে যাননি তিনি। ক্যারিয়ারের শেষদিকে বরং নিজেকে অন্যদের অনুপ্রেরণা মনে করছেন তিনি, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ছেলে, যাকে বলা হয়েছিল সে কখনো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে পারবে না। এখন আমাকে দেখুন—আপনিও এখন আমার মতো একইরকম করতে পারেন।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টড গ্রিনবার্গ খাজার অবসর নিয়ে বলেন, ‘উসমান অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বিশাল অবদান রেখেছেন। একদিকে তিনি আমাদের সবচেয়ে স্টাইলিশ ও সহনশীল ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে ১৫ বছর আগে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। অন্যদিকে মাঠের বাইরে উসমান খাজা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের পক্ষ থেকে তার সব অর্জনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।’
খাজার ফাউন্ডেশন শরণার্থী, অভিবাসী, আদিবাসী এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা তরুণদের জন্য ক্রিকেটের প্রাথমিক প্রোগ্রাম এবং শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করে।
সিডনি টেস্টসহ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে খাজার মোট ম্যাচ সংখ্যা হবে ৮৮। টেস্টে ৬,২০৬ রান করেছেন, আছে ১৬টি শতক, গড় ৪৩.৩৯। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩২ রানের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেছিলেন। তবে এরপর আর তিন অঙ্কের দেখা পাননি বাঁহাতি ব্যাটার।
চলতি অ্যাশেজ সিরিজটি উসমান খাজার জন্য অগ্নিপরীক্ষার মতো। পার্থে প্রথম টেস্টে পিঠের চোট পান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে তাঁর জায়গায় নামেন ট্রাভিস হেড। এরপর খাজা ব্রিসবেনের পরবর্তী ম্যাচে খেলেননি এবং তৃতীয় টেস্টে এডিলেডে দল থেকে বাদ পড়েন। তবে স্টিভেন স্মিথ টসের ঠিক আগে অসুস্থ হওয়ায় খাজা শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান। ওই টেস্টে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৮২ ও ৪০ রান করেন।
তারপর মেলবোর্নের চতুর্থ টেস্টে আবার ব্যর্থ হন খাজা। অস্ট্রেলিয়ার সিরিজে প্রথম হারের এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ডাক মারেন। তাতে তাঁর ওপর অবসরের নেওয়ার চাপ আরও তীব্রতর হয়। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তেই নিলেন খাজা।

রান পাচ্ছিলেন না। বাড়ছিল চাপ। অবসরের ঘোষণা অনুমেয়ই ছিল। শেষ পর্যন্ত আলোচনা-সমালোচনার সমাপ্তি ঘটিয়ে অবসরের ঘোষণা দিলেন উসমান খাজা। অ্যাশেজে সিডনি টেস্টই হবে অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটারের শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ।
গতকাল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে পাশে রেখে অবসরের ঘোষণা দিয়ে খাজা বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করতে এসেছি যে এসসিজি টেস্ট ম্যাচের পর আমি সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। ঈশ্বর ক্রিকেটের মাধ্যমে আমাকে যা কিছু দিয়েছেন তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। তিনি আমাকে এমন স্মৃতি দিয়েছেন যা আমি চিরকাল মনে রাখব, এমন বন্ধুত্ব যা খেলার বাইরে গিয়ে প্রভাব ফেলে, এবং এমন শিক্ষা যা আমাকে গড়ে তুলেছে—যে আমি মাঠের বাইরে যেমন আছি।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা যেখান থেকে করেছিলেন, সেই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডকেই বিদায়লের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিলেন খাজা। সিডনিতে ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল ৩৯ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটারের। আবার এই মাঠেই খাজা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার দ্বিতীয় দফা শুরু করেছিলেন ৩৫ বছর বয়সে।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ স্মরণ করাল রংপুর রাইডার্স |
|
খাজা তাঁর শেষ টেস্টে নামবেন ৮৭টি ম্যাচ খেলে। যেখানে এই ওপেনারের সংগ্রহ ৬২০৬ রান, সেঞ্চুরি ১৬টি, ফিফটির সংখ্যা ২৮। সাদা জার্সিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪৩.৩৯ গড়ে রান করা খাজার সর্বোচ্চ ইনিংস ২৩২। ওয়ানডেতে ৪০ ম্যাচে তাঁর রান ১৫৫৪, সেঞ্চুরি দু’টি ফিফটি ১২।
শেষদিকে অধরাবাহিক খাজা অবসর নিয়ে অনেকদিনই ভাবছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ব্যাটার বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে ভাবছিলাম, পুরোপুরি নয় তবে বেশ কিছুদিন ধরেই।এই সিরিজে আসার সময় আমার মাথায় কাজ করছিল যে সম্ভবত এটাই হতে যাচ্ছে আমার শেষ সিরিজ।’
অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে খাজা আরও বলেন, ‘আমি রেচেলের (খাজার স্ত্রী) সাথে এটা নিয়ে বেশ আলোচনা করেছি এবং আমি জানতাম যে এটাই বড় সুযোগ। আমি দরজা একেবারে পুরোপুরি বন্ধ করে দিইনি, কারণ আমি জানতাম যে খেলা চালিয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকতে পারে। এমনকি কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, যখন আমি কয়েক দিন আগে তাকে জানালাম তিনি তখনও ভাবছিলেন কীভাবে আমাকে (২০২৭ সালের) ভারত সফর পর্যন্ত দলে রাখা যায়।’
তিনি বললেন, ‘আমি খুশি যে আমি নিজের মতো করে বিদায় নিতে পারছি, কিছুটা মর্যাদা নিয়ে এবং আমার প্রিয় এই এসসিজিতেই শেষ করতে পারছি। তবে আমার মনে হয় এই সিরিজের শুরুটা বেশ কঠিন ছিল। এরপর অ্যাডিলেডে গিয়ে যখন দেখলাম শুরুতে আমি একাদশে নেই, সেটাই সম্ভবত আমার জন্য সংকেত ছিল যে—ঠিক আছে, এবার এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।’
চলতি সিরিজে পার্থে চোট পেয়ে ব্রিসবেন টেস্ট থেকে বাদ পড়েন খাজা। এরপর অ্যাডিলেডের একাদশ থেকেই ছিটকে পড়েন। তবে স্টিভ স্মিথ অসুস্থ হয়ে বাদ পড়ায় আবার সুযোগ পেয়ে কাজে লাগান। তবে মেলবোর্নে দুই ইনিংসে ২৯ ও ডাক মারায় তাঁর অবসরের দাবি তোলেন সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের কাছ থেকে।
আরও পড়ুন
| তহুরা-শামসুন্নাহারের জোড়া হ্যাটট্রিকে বড় জয়ে শুরু ফরাশগঞ্জের |
|
খাজা বললেন, ‘সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় ছিল এটাই যে, আমার মনে হচ্ছিল মানুষ আমাকে আক্রমণ করছে। আমার মনে হচ্ছিল তারা বলছে আমি দলে টিকে থাকার জন্য স্বার্থপরতা করছি। কিন্তু আমি নিজের জন্য দলে থাকছিলাম না।’
আরও আগেই অবসরের চিন্তা মাথায় এসেছিল তার, ‘অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড কার্যত আমাকে বলেছিলেন- না, আমি চাই তুমি থাকো। শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তোমাকে আমাদের প্রয়োজন। আমি চাই তুমি খেলা চালিয়ে যাও। আর তাই আমি থেকে গিয়েছিলাম।’
অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ব্রিসবেন হিটের হয়ে বিগ ব্যাশ খেলা চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেন খাজা। গ্রীষ্মে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে শেফিল্ড শিল্ড ক্রিকেটও খেলার ইচ্ছা তাঁর।