
৮৪, ১৩১* ও ১৩৭। ওয়াডেতে ড্যারি মিচেলের সবশেষ তিন ইনিংস। ভারতের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নায়ক এভাবে ব্যাট হাতে রাজত্ব করেন। ভারতের মাটিতে কিউইদের প্রথমবার ৫০ ওভারের সিরিজ জয়ে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৫২ রান, হন সিরিজসেরা। ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা বিরাট কোহলি থেকে মাত্র এক পয়েন্ট দূরে আছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থেকে ভারত জয় করা এই মিচেল একসময় ভারতেই পথ হারিয়েছিলেন। পথ খুঁজে পেতে তাঁর লেগেছিল কঠিন ছয়টি বছর। উপমহাদেশে স্পিনারদের সামনে খাবি খাওয়া মিচেল কোন মন্ত্রে বদলে গেলেন?
২০১৩ সাল। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম মৌসুমে ভালো করার পর নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফর সুযোগ পান ড্যারিল মিচেল। সেখান থেকেই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন ডানহাতি ব্যাটারের। স্পিনে ধারাবাহিকভাবে পরাস্ত হতে থাকেন। ভারতের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে যিনি কুলদীপ যাদবকে মাঠের চারদিকে অনায়েসে খেলছিলেন, সেই ব্যাটসম্যানই তখন স্পিনের সামনে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তারপর নিউজিল্যান্ডের মূল দলে জায়গা করে নিতে তাঁর লেগে যায় দীর্ঘ ছয় বছর। একসময় যে ভারত তাঁকে আটকে দিয়েছিল, আর আজ সেই ভারতেই বিজয়গাঁথা লিখছেন। ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটারের ইস্পাত কঠিন মানসিকতায় মুগ্ধ খোদ ভারতই।
বর্তমান ক্রিকেটে এমন ব্যাটার খুব কমই আছেন, যারা ড্যারিল মিচেলের মতো ‘ভি’ অঞ্চলে—সোজা মাঠের মাঝখান দিয়ে—এত ধারাবাহিকভাবে শট খেলতে পারেন, সেটা স্পিন হোক বা পেস। যেখানে একটা সময় বলের দিকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়তেন, আগেভাগেই স্পিনারদের আন্দাজ করার চেষ্টা করতেন—আর তাতেই বারবার ধরাও পড়তেন।
আরও পড়ুন
| ২৬৪ স্ট্রাইক রেটে স্বর্ণার ছক্কার রেকর্ড |
|
ইউটিউব চ্যানেল ক্রিকেট মেন্টরিং-এ একবার মিচেল বলেনছিলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে বড় হওয়া, এরপর পার্থে (অস্ট্রেলিয়া) খেলা—এই দুই জায়গায় এমন কন্ডিশনের মুখোমুখি আমি কখনো হইনি। ওই সফর আমার চোখ খুলে দিয়েছিল। বুঝেছিলাম, আলাদা পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে; সব জায়গায় একভাবে খেললে চলবে না। আমি খুব একগুঁয়ে ছিলাম। ভাবতাম—এই আমার টেকনিক, এভাবেই আমি খেলি, এটাই আমি।’
মিচেল আরও যোগ করেন, ‘ভালো স্পিন বোলারের সামনে যদি আপনি ক্রিজে স্থির থাকেন এবং পায়ের ব্যবহার না জানেন, তাহলে আপনি শেষ। এটা বুঝতে আমার কয়েক বছর লেগে গেছে।’
বাবার কাছ থেকেই হয়তো এমন একগুঁয়েমি স্বভাব পেয়েছেন মিচেল। বাবা ছিলেন অল ব্ল্যাকসের রাগবি খেলোয়াড় এবং ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের একজন জনপ্রিয় কোচ। বাবার কোচিং ক্যারিয়ারের কিছুটা খারাপ সময়ই ছেলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
২০০০ সাল। মিচেলর বাবা তখন সিক্স নেশনস লিগে জয়ী ইংল্যান্ড দলের কোচিং টিমের অংশ ছিলেন, কিন্তু তিনি যে পদটির আশা করেছিলেন—হেড কোচ—সেটি পাননি, তখন তিনি নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসেন। নতুন স্কুলে তখন ৯ বছরের মিচেল ক্রিকেট কোচকে মুগ্ধ করেছিলেন।
সংক্ষেপে, বাবার কঠোরতা ও ব্যাটসম্যান তৈরি করার ধৈর্যই ড্যারিল মিচেলের খেলোয়াড়ি মানসিকতার বীজ বোনা।
মিচেলকে গড়তে শুরু হলো বাবার কর্মযজ্ঞ। বাড়ির পেছনের লনে একটি ক্রিকেট নেট বসানো হলো, এবং নিয়মগুলো ঠিক করা হলো। নেটের স্লিপে ক্যাচ হলে আউট। অন-সাইড বাউন্ডারির জন্য বল অবশ্যই হিপের নিচে হিট করতে হবে, পুরো বাড়ি মারলে চলবে না।
ছেলেকে একটি লক্ষ্য দিলেন, ১২ বলে ১৫ রান করা। ‘ছয়টি ফাস্ট, ছয়টি স্লো বল। কল্পনা করতে পারো, ব্যাটগুলো লাউঞ্জে উড়ছে!’, সিনিয়র মিচেল হাসতে হাসতে বললেন।
মিচেলর বাবার ভাষায়, ‘আমি শুধু তাকে নিজেই আবিষ্কার করতে দিয়েছি। যেখানে পারতাম উপস্থিত থেকেছি। সম্প্রতি মারা যাওয়া তার দাদাও থাকতেন। আমি মাঝে মাঝে চলে গিয়ে দেখতাম—ভাল দিন হোক বা খারাপ দিন। তাকে নিজের পথ খুঁজে নিতে হতো। সে তার কৌশল আয়ত্ত করতে শিখেছে। ফিজিওলজি-তে তাঁর একটি এক্সারসাইজ ডিগ্রি আছে—মানসিক প্রস্তুতির দিকে সে বেশ মনোযোগি।’
এককথায় মিচেলের বাবা শুধু তাকে শেখাননি বরং নিজে খুঁজে বের করার সুযোগও দিয়েছেন—ড্যারিল মিচেলের স্বতঃসিদ্ধ এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
ড্যারিল মিচেলের দ্বিতীয় বড় উত্থান ঘটল তখন, যখন নিউজিল্যান্ড রাগবি দল বাবাকে কোচ হিসেবে ছেড়ে দেয় সেমিফাইনাল থেকে ব্যর্থ হওয়ার পর। খুব শিগগিরই তিনি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থে একটি রাগবি দলের কোচের চাকরি নিলেন। তখন ১২ বছরের মিচেল পুরোনো মাঠ আর ঘাস ছেড়ে যেতে মোটেও রাজি ছিল না। কিন্তু নতুন স্কুলের ক্রিকেট মাঠ একবার দেখার পর—সে উত্তেজিত হয়ে উঠল।
আরও পড়ুন
| উইজডেনের বর্ষসেরা টি–টোয়েন্টি একাদশে মোস্তাফিজ |
|
সেখানে মিচেলের বন্ধুত্ব হয়ে গেল মার্কাস স্টোইনিস ও মার্কাস হ্যারিসের সঙ্গে, যারা পরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন। পাশাপাশি প্রায়ই দেখা হতো জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও তার কোচ নডি হোল্ডারের সঙ্গে, যারা মিচেলের ব্যাটিংয়ের মূল নীতি ঠিকমতো বোঝাতেন।
সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, যতক্ষণ না ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের ভারত সফরে হোঁচট খেলেন। মিচেল বলেন, ‘সব দল আমার বিপক্ষে শুধু স্পিনারদের কাজে লাগাতে শুরু করল।’ তখন ধীরে ধীরে মিচেল নিজের পথ খুঁজতে শুরু করলেন—স্পিন বোলে কীভাবে আগেভাগে আন্দাজ করা থেকে বেরোনো যায়, পা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, বলকে কিভাবে জায়গা দিতে হয় যাতে সিঙ্গল সহজ হয়, এবং শেষ পর্যন্ত কিভাবে স্পিনারদের বিরুদ্ধে শট খেলার উপায়।
২০১৮-১৯ মৌসুম নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্ট দলে অভিষেক হয় মিচেলের। আর ২০২১ এ ওয়ানডেতে।ক্যারিয়ারে বহু চড়াই উৎরাই পা করে মিচেল শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরা ব্যাটার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ওয়ানডেতে তাঁর গড় এখন ৫৮.৪৭। এ সংস্করণে ৫৪ ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৬৯০ রান। সেঞুরি নয়টি, ফিফটি ১২। এরমধ্যে প্রায় ৭০ গড়ে ১২৫৯ রান এসেছে স্পিনারদের বিপক্ষে। ৪৯ ইনিংসে স্পিনারদের নিজের উইকেট দিয়েছেন মাত্র ১৮বার।
এভাবেই নিজের দূর্বলতাকে শক্তিমত্তার জায়গায় পরিণত করেছেন ড্যারিল মিচেল। নিজেকে ভেঙে আবার গড়ে সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছেন, আর ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছেন ঘুরে দাড়ানোর দারুণ এক অনুপ্রেরণার গল্প।
No posts available.
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম

বিপিএলের বিগত আসরগুলোর তুলনায় এবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে কম ম্যাচ হয়েছে। পিচ পেয়েছে বিশ্রাম। তারপরও মিরপুরের পিচের চরিত্র ক্ষণে ক্ষণে গেছে বদলে। মঙ্গলবার দিনের আলোয় এলিমিনেটর রাউন্ডের ম্যাচে দুদলের পেসারদের গর্জন দেখেছে দর্শক। ফ্লাড লাইটের আলোয় প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচের প্রথম ইনিংসে সেখানে চট্টগ্রাম রয়্যালস স্পিনাররা ঘুরিয়েছে ছড়ি। দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের ১১১/৯-এর জবাব দিয়ে শেষ বল থ্রিলারে ওকসের ছক্কায় জিতেছে সিলেট টাইটান্স। প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচটিও লো স্কোরিং। রাজশাহী ওরিয়র্সের ১৩৩/১০ স্কোরের জবাবটা দিতে শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। শেষ ওভার থ্রিলারে ৩ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতে ফাইনালে উঠেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। অধিনায়ক শেখ মেহেদীর অলরাউন্ড পারফরমেন্সে (৪-০-২০-২ ও ৯ বলে ১৯*) লো স্কোরিং ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
এক সময়ে শ্রীলঙ্কান পিচ কিউরেটর গামিনি সিলভাকে নিয়ে উঠতো সমালোচনা। অস্ট্রেলিয়ান টনি হেমিংয়ে গামিনির স্থলে দায়িত্ব দিয়েও যে-ই লাউ, সেই কদু। মিরপুর স্টেডিয়ামের পিচ তার চেনা রূপেই অপরিবর্তিত।
কোয়ালিফাইয়ার-ওয়ান-এ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে পেসার মুকিদুল মুগ্ধকে শাহিবজাদা ফারহান এবং তানজিদ হাসান তামিম মিলে ৩টি বাউন্ডারি মেরে বড় স্কোরের আভাস দিয়েছিলেন। অথচ, এমন শুরুর ইনিংসটা থেমেছে ১৩৩/১০-এ।
বাঁ হাতি স্পিনার তানভিরের ২ ওভারের স্পেলে (২-০-১৩-১) ব্যাটিং পাওয়ার প্লে শেষে রাজশাহী ওরিয়র্সের স্কোর ৩৭/১। ইনিংসের মাঝের ৯ ওভারে অফ স্পিনার শেখ মেহেদীর ৩ ওভারের স্পেলে (৩-০-১৬-২) স্কোরশিটে ৩৮ যোগ করতে ৪ উইকেট হারিয়েছে রাজশাহী। এমন এক ইনিংসের শেষ পাওয়ার প্লে-তে আবদুল গাফফার সাকলায়েন ২১৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে আমির জামালকে খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেয়ার আগে করেছেন ১৫ বলে ২ চার, ৩ ছক্কায় ৩২ রান। যে ছক্কা দুটি মেরেছেন তিনি মীজা বেগ-কে পর পর দুই বলে।
রাজশাহীর ইনিংসে ৩ ব্যাটার সুইপ-রিভার্স সুইপে নিজের উইকেট দিয়ে এসেছেন। মুশফিকুর রহিম ইনিংসের প্রথম বল ফেস করতে যেয়ে শেখ মেহেদীকে রিভার্স সুইপ করতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে (১ বলে ০) দিয়েছেন ক্যাচ। হাসান নেওয়াজের বলে সুইপ করতে যেয়ে তানজিদ হাসান তামিম দিয়েছেন ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ (৩৭ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৪১)। মীর্জা বেগ-কে রিভার্স সুইপ করতে যেয়ে জিমি নিশাম দিয়েছেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ।
১২০ টি বলের মধ্যে ৫১টি ডট করেছে রাজশাহী। ৭টি বাউন্ডারির পাশে ছক্কার সংখ্যা ৬টি। এমন এক ম্যাচে শরীফুল ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী (৪-০-১৬-১)। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৬টি দিয়েছেন ডট। তার প্রথম স্পেলটি (২-০-২-০) ছিল এক কথায় অসাধারণ। প্রথম স্পেলে ১২টি ডেলিভারির মধ্যে ১০টি দিয়েছেন ডট শরীফুল। দ্বিতীয় স্পেলে রায়ার্ন বার্ল-কে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে চলমান আসরে শিকারসংখ্যা ২৩-এ উন্নীত করেছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে সাকিব আল হাসানের শিকারসংখ্যাকে (১৫ ম্যাচে ২৩ উইকেট) ছুঁয়েছেন শরীফুল। এক আসরে (২০২৪-২৫) সর্বাধিক উইকেট (২৫ টি) শিকারী তাসকিনকে ছুঁতে বাকি আর ২টি উইকেট।
১৩৪ রানের জবাব দিতে এসে শুরু থেকে সতর্ক ব্যাটিং করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ওপেনিং পার্টনারশিপে নাঈম শেখ-মির্জা তাহির বেগ এর ৬৯ বলে ৬৪ রানের পরও সহজ হয়নি ম্যাচটি। শেষ ৩০ বলে ৪০, শেষ ২৪ বলে ৩৪, ১৮ বলে ২৩, ১২ বলে ১৯, এমন রোমাঞ্চকর খেলাই দেখেছে দর্শক। ১৯তম ওভারের ৫ম বলে বিনুরু ফার্নান্ডোকে লং অনের উপর দিয়ে খেলতে যেয়ে মির্জা তাহির বেগ ক্যাচ দিলে (৪৭ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৪৫) শেষ ওভার থ্রিলারের মুখোমুখি হয় দল দুটি। কাকতালীয়ভাবে দিনের প্রথম ম্যাচের মতো শেষ ৬ বলে ৯ রানের চ্যালেঞ্জে পড়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। তবে এমন এক পরিস্থিতিতে শেষ বল থ্রিলার পর্যন্ত নিতে দেননি চট্টগ্রাম রয়্যালস অধিনায়ক শেখ মেহেদী। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অফের উপর দিয়ে ছক্কা এবং তৃতীয় বলে লং লেগ দিয়ে ২ রান নিয়ে ফিনিশার শেখ মেহেদী। ৩ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতে ফাইনালের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে বিসিবির মালিকানাধীন দল চট্টগ্রাম রয়্যালস।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন হঠাৎই মালিকানা ছেড়ে দেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজি। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় তাদের অংশগ্রহণ। সেখান থেকে বিসিবি মালিকানা নিলে মজা করে দলটির নাম হয়ে যায় 'কমিটির দল।' সেই কমিটির দলই এখন সবাইকে টপকে সবার আগে চলে গেল ফাইনালে।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ৬ উইকেটে হারায় চট্টগ্রাম। ১৩৪ রানের লক্ষ্য ৩ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে চট্টগ্রাম।
বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৯ বলে ১৯ রানের ইনিংস খেলে চট্টগ্রামের জয়ের কারিগর অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান। এই জয়ে সরাসরি ফাইনালে চট্টগ্রাম। আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বুধবার সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজশাহী।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই মন্থর ব্যাটিং করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মির্জা বেগ। দুজনের ওয়ানডে ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে আসে মাত্র ৩১ রান। পরে ১২তম ওভারে নাঈমের বিদায়ে ভাঙে ৬৪ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৩০ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার।
তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলার চেষ্টা করেন হাসান নাওয়াজ। তবে ১৪ বলে ২০ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এরপর আসিফ আলি ফিরে যান ৮ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলে। শুরু থেকে ধীর ব্যাটিং করে ১৯তম ওভারে আউট হন ৪৭ বলে ৪৫ রান করা মির্জা।
পরে শেষ ওভারে রিপন মন্ডলের বলে ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করে দেন শেখ মেহেদি হাসান। মাত্র ৯ বলে ১৯ রানের ইনিংস খেলেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
রাজশাহীর পক্ষে ২০ রানে ২ উইকেট নেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রয়েসয়ে শুরু করেন সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আউট হন ১৯ বলে ২১ রান করা সাহিবজাদা। পরে নবম ওভারে পরপর দুই বলে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমকে আউট করেন শেখ মেহেদি হাসান।
এরপর আকবর আলি, জিমি নিশাম, রায়ান বার্লরাও হতাশ করেন। একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলতে থাকা তামিমও ৩৭ বলে ৪১ রান করে আউট হয়ে যান। মাত্র ৯৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী।
পরে শেষ দিকে তাণ্ডব চালান আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ২ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কায় ১৫ বলে তিনি খেলেন ৩২ রানের ইনিংস। রিপন মন্ডলের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। রাজশাহী পেয়ে যায় লড়াই করার পুঁজি।
চট্টগ্রামের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদি হাসান ও আমির জামাল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৩৩ (সাহিবজাদা ২১, তানজিদ ৪১, শান্ত ৮, মুশফিক ০, আকবর ২, নিশাম ৬, বার্ল ৩, সাকলাইন ৩২, রিপন ১০, মুরাদ ১*, বিনুরা ৩; শরিফুল ৪-০-১৬-১, মুগ্ধ ২-০-২০-১, তানভির ৩-০-২৩-১, মেহেদি ৪-০-২০-২, মির্জা ৩-০-২৩-১, জামাল ৩-০-২৭-২, নাওয়াজ ১-০-৩-১)
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৯.৩ ওভারে ১৩৪/৪ (মির্জা ৪৫, নাঈম ৩০, নাওয়াজ ২০, আসিফ ১১, মেহেদি ১৯*, জামাল ২*; বিনুরা ৪-০-২৪-১, রিপন ৩-৩-০-৩৩-০, নিশাম ৪-০-২৬-০, সাকলাইন ৪-০-২০-২, মুরাদ ৪-০-২৬-১)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ৬ উইকেটে জয়ী

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ২৮ রানের ইনিংস খেলেছেন শারমিন আক্তার। বাংলাদেশের ৩০ রানের জয়ের পর সুখবর পেলেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় উন্নতি করেছেন শারমিন। আইসিসির সবশেষ হালনাগাদকৃত র্যাঙ্কিংয়ে ১৩ ধাপ এগিয়ে ৫৭ নম্বরে উঠে এসেছেন ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
নেপালে চলমান নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে ৬৩ রান করেছেন শারমিন। তাঁর ইনিংসের ওপর ভার করে ২১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।
র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন আয়ারল্যান্ডের অলরাউন্ডার অরলা প্রেন্ডারগাস্টেরও। পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ব্যাটারদের তালিকায় চার ধাপ এগিয়ে ২০ নম্বরে উঠেছেন তিনি। অলরাউন্ডারদের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে ছয়ে উঠেছেন প্রেন্ডারগাস্টে।
আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক গ্যাবি লুইস ব্যাটারদের র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ১৬ নম্বরে উঠে এসেছেন। বোলারদের তালিকায় উন্নতি হয়েছে আয়ারল্যান্ডের আর্লিন কেলির।
নেপালের বিপক্ষে অপরাজিত ৫৭ রান করে থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার নাত্তাকান চানথাম দুই ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৩১ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন।
আয়ারল্যান্ডের পেসার আর্লিন কেলি টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে ৪৩তম স্থানে উঠেছেন। পাপুয়া নিউ গিনির অভিজ্ঞ পাউকে সিয়াকা ১৩ ধাপ এগিয়ে ৫৩তম স্থানে উঠেছিলেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল বৃষ্টির ঘেরাটোপে আটকা। লাল-সবুজ দলের প্রথম ম্যাচে গুণে গুণে তিনবার বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছিল। শেষবার বৃষ্টি নামার পরেই হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ ভারতের ভাগে চলে যায়। রেসে টিকে থাকতে বুলাওয়েতে আজ দ্বিতীয় ম্যাচটি জয়ে রাঙানো অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছিল আজিজুল হাকিমদের জন্য।
বুলাওতে আজ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচটিও বৃষ্টির পেটে চলে গেছে। এক পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে আজিজুলদের। এতে সুপার সিক্সে পা রাখতে শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয় ছাড়াও যদি-কিন্তুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে তাঁদের।
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে তিন। তবে পরবর্তী ২৪ তারিখে নিউ জিল্যান্ড ও ভারত ম্যাচের দিকে চেয়ে থাকতে হবে দেশের যুবাদের। এ ম্যাচে কিউইরা জিতলে গ্রুপ থেকে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড যাবে সুপার সিক্সে। আর যদি ভারত জেতে এবং বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে হারায় তবে ভারতের সঙ্গী হবে প্রতিবেশি দেশ।
এদিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় নিউ জিল্যান্ড। ইকবাল হোসেন ইমনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে সাজঘরে ফেরেন হুগো ভোগ। ৮ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ১১ রানের উদ্বোধনী জুটি।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় কিউইরা। আরিয়ান মানকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক টম জুনস দলকে ভিত গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। শুরুর পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫১ রান তুলে তারা।
পাওয়ার প্লের পরপরই ম্যাচে হানা দেয় বৃষ্টি। এরপর কয়েক দফা বৃষ্টি কমলে মাঠ কর্মীরা মাঠ প্রস্তুত করার চেষ্টা করেন। তবে থেমে থেমে বৃষ্টি আসায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি।
‘বি’ গ্রুপে দুই ম্যাচে এক পয়েন্ট বাংলাদেশের। পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান তিনে। শীর্ষে ভারত। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট তাদের। দ্বিতীয়তে থাকা কিউইদের পয়েন্ট দুই। তাদের দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

মনোবিজ্ঞানে 'দেজা ভ্যু' শব্দ দুইটি প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। এটি এমন একটি অনুভূতি যেখানে কোনো ঘটনা দেখলে মনে হয়, একই জিনিস আপনার সঙ্গে আগেও ঘটেছে। মঙ্গলবার বিপিএলের ম্যাচে তেমনই অনুভূতি হয়েছে লিটন কুমার দাসের। তার মনে পড়েছে সাত বছর আগের এক ঘটনা।
মিরপুরে এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে জয়ের জন্য সিলেট টাইটান্সের প্রয়োজন ছিল ১ বলে ৬ রান। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে ফুল লেংথ ডেলিভারি করলেন ফাহিম আশরাফ। চমৎকার শটে কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দিলেন ক্রিস ওকস।
সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে সিলেট ডাগআউট আর হতাশার সাগরে ডুবে যান লিটন ও তার দলের ক্রিকেটাররা। আর লিটনের তখন মনে পড়ে যাচ্ছিল, ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের কথা। সেদিনও শেষ বলের ছক্কায় হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের শিরোপা জয়ের জন্য শেষ বলে দরকার ছিল ৫ রান। ব্যাট হাতে ছিলেন দিনেশ কার্তিক আর বোলিংয়ে তখন সৌম্য সরকার। ফাহিমের মতো তিনিও করেন অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথে। আর ওকসের মতো কার্তিকও সেদিন ছক্কা মারেন কাভারের ওপর দিয়ে।
দুই ম্যাচেই দলের পরাজয় ফিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন লিটন। তাই তো সাত বছর পরের বিপিএলের ম্যাচে তার মনে পড়ে গেছে সেই ম্যাচের কথা। সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ হারের কষ্টের কথা জিজ্ঞেস করা হলে নিদাহাসের ম্যাচের কথা টেনে আনেন লিটন।
“শেষ বলে ছক্কা খাওয়া...একইভাবে... তখন আমার নিদাহাস ট্রফির কথাটা মনে পড়ে গেছে। একইভাবে কাভারের ওপর দিয়েই ছয়। না! ঠিক আছে। এটাই ক্রিকেট, এইভাবেই জীবন চলে। উত্থান আর পতন থাকবেই। জিততে পারলে তো ভালো হতো। এখন পারি নাই, কিছু করার নেই।”
অথচ ওই ওভারের প্রথম পাঁচ বলে মাত্র ৩ রান দিয়েছিলেন ফাহিম। কিন্তু শেষ বলে ৬ রান আর বাঁচাতে পারেননি। তার ফুল লেংথ ডেলিভারিটিই কাল হয় রংপুরের জন্য। ছক্কা মেরে ম্যাচের নায়ক ক্রিস ওকস বললেন, স্লোয়ার ডেলিভারির আশায় ছিলেন তিনি।
“আমার আসলে বলটি খুব ভালো লেগেছে। অফ স্টাম্পের বাইরে দেখলাম আমি। আসলে তখন আমি স্লোয়ার ডেলিভারির কথা ভাবছিলাম। বা হয়তো কাটার। এরপর যখন দেখলাম গতিময় ডেলিভারি, তখন যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখানো ছাড়া আর কিছু করার নেই।”
প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসে প্রথম ম্যাচেই শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতানোর উচ্ছ্বাসটাও খোলামেলাই জানান দিলেন ওকস।
“এটি রোমাঞ্চকর। শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতানো অবশ্যই বিশেষ ব্যাপার। আগে কখনও এমন ছক্কা মেরে জেতাইনি আমি। এর আগে এমন হয়েছে যে, ছক্কা মারতে গিয়ে পারিনি। তো এবার দলকে জেতাতে পেরেছি, অনেক দিন মনে থাকবে। বিপিএলে এটিই আমার প্রথম ম্যাচ। তো এটি আরও বিশেষ।”