১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা বললেন সাবেক তারকা গোলরক্ষক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা'- এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সারা দেশে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তার।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে চান নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আর সবাইকে খেলাধুলার শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতি উপজেলায় ১৫ জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার আশা তার। যারা হবেন মূলত সাবেক ক্রীড়াবিদ।
মিরপুরে নিজ বাসভবনে মঙ্গলবার রাতে দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা বলেন আমিনুল।
নিচে আমিনুল হকের বক্তব্যের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো
আমি প্রথমেই মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি যে মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে আজকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে... আমি এই দায়িত্ব আমার সততা, নিষ্ঠার সহিত এবং আপনারা যারা প্রিয় সাংবাদিক রয়েছেন, আমার যারা প্রিয় সংগঠক রয়েছেন, ক্রীড়াবিদ রয়েছেন, খেলোয়াড় রয়েছেন, সকলকে একসাথে নিয়ে আমরা আগামীর একটি সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন গড়তে চাই।
যেই ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি সেক্টরে ঐক্যবদ্ধভাবে, সুসংগঠিতভাবে আগামীর বাংলাদেশ স্পোর্টসকে কীভাবে বিশ্ব মানচিত্রে আরও উচ্চ জায়গায় আমরা পৌঁছে দিতে পারি, সেই পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে আপনারা জানেন যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আগামীর ক্রীড়াঙ্গনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামীর দেশ গড়ার স্পোর্টসের যে কর্মপরিকল্পনা আমরা তৈরি করেছেন, আমি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা প্রতিটি সেক্টরকে আমরা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই।
আমাদের পরিকল্পনার ভেতরে অন্যতম 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা।' আমরা খেলাধুলাকে প্রথমে পেশার আওতায় আনতে চাই। জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে চাই।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে, আনাচে-কানাচে যে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা রয়েছে, তাদের অন্বেষণ করে আমরা আমাদের যে বিকেএসপিগুলো রয়েছে, সেখানে বা অন্যান্য বিভাগীয় শহরে বিকেএসপি শাখা যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পড়াশোনা এবং খেলাধুলার সকল দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করব। সর্বোপরি খেলাধুলাকে আমরা পেশা হিসেবে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
আমাদের ঢাকা মহানগর, উত্তর-দক্ষিণসহ সারা বাংলাদেশে খেলার মাঠের অভাব রয়েছে আপনারা সকলেই জানেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই... ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ১০০টি ওয়ার্ড রয়েছে, আমরা চেষ্টা করব প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের মধ্যে যদি আমরা করতে নাও পারি, দুটি ওয়ার্ডের মাঝখানে আমরা সরকারিভাবে তিন থেকে চার বিঘা জায়গা অধিগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেলার মাঠ আমরা তৈরি করতে চাই। সেই খেলার মাঠের চারপাশে আমরা ওয়াকওয়ে তৈরি করতে চাই যেখানে আমাদের বয়োবৃদ্ধ বাবা-মায়েরা হাঁটার মাধ্যমে তাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে পারেন।
যেহেতু আমি একজন খেলোয়াড় ছিলাম, আমি দেখেছি যে খেলা চলাকালীন সময়ে খেলোয়াড়দের অনেক বেশি কদর থাকে। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরে আমার অনেক খেলোয়াড়রা রয়েছে তারা হতাশাগ্ৰস্ত হয়ে যায়। আমি সেই খেলোয়াড়দের আশান্বিত করতে চাই যে, আমরা খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরও আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। আমরা এরই মধ্যে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমরা বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেব।
যদিও প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হবে না কারণ আমাদের প্রায় বাংলাদেশের সকল মাধ্যমিক থেকে শুরু করে প্রাইমারি, উচ্চমাধ্যমিক এবং আমাদের যে কারিগরি শিক্ষা রয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা রয়েছে, বিভিন্ন সেক্টর মিলে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজারের ওপরে আমাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে যদি আমরা পাঁচটি খেলাকে বাধ্যতামূলক করি, সেই বাধ্যতামূলক করতে গিয়ে দেখা যাবে যে আমাদের প্রায় সাড়ে ৭ লাখের ওপরে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। তবে এই পর্যায়ে আমাদের এত ক্রীড়া শিক্ষক বাংলাদেশে নাই।
যেহেতু আমি অগ্রাধিকার দিব হচ্ছে আমাদের খেলোয়াড়দেরকে, যারা স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ডের তাদেরকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে করতে চাই, সেই কারণে আমাদের যে পরিকল্পনাটি রয়েছে, আমরা সারা বাংলাদেশের ৪৯৫টি উপজেলায় রয়েছে, প্রত্যেকটি উপজেলায় আমরা একজন ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ দিব। পাশাপাশি প্রত্যেকটি উপজেলায় আমরা যেহেতু ৬টি ইভেন্টকে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি, সেখানে প্রত্যেকটি ইভেন্টের জন্য আমরা ৩ জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেব।
এর মানে একজন হচ্ছে ক্রীড়া অফিসার এবং ১৫ জন হচ্ছে আমাদের ক্রীড়া শিক্ষক। এইভাবে প্রায় আমাদের ৭ হাজার ৯২০ জনের মতো আমাদের ক্রীড়া শিক্ষক আমরা প্রথম পর্যায়ে আমরা আশা করি ইনশাআল্লাহ প্রথম বছরই আমরা চেষ্টা করব আস্তে আস্তে করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। যাতে আমাদের যারা প্রাক্তন খেলোয়াড় রয়েছে তাদেরও একটি নতুন কর্মসংস্থানের রাস্তা তৈরি হয়।
পাশাপাশি আমাদের খেলোয়াড়দেরকে আমরা প্রতি মাসে সরকারিভাবে তাদের জন্য যাতে একটি পেশাদার মনোভাব তৈরি হয়, তাদেরকে বেতনের আওতায় নিয়ে আসা। এরই মধ্যে সেটি আমাদের আগে থেকেই আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, আমরা ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে আমাদের প্রত্যেকটি ফেডারেশনে যারা ন্যাশনাল প্লেয়ার রয়েছে, প্রতিবছর এটা চেঞ্জ হতে পারে... যারা ন্যাশনাল টিমে থাকবে তাদেরকে সরকারিভাবে বেতনের কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসা। এই হচ্ছে আমাদের মোটামুটি একটি পরিকল্পনা। পাশাপাশি আরও অনেক কিছু পরিকল্পনা রয়েছে সেটা পর্যায়ক্রমে আপনাদের সাথে আলোচনা করব।
No posts available.
১৩ মে ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
১৩ মে ২০২৬, ৯:২৫ পিএম
১৩ মে ২০২৬, ৬:১০ পিএম
১৩ মে ২০২৬, ৪:২১ পিএম

ইংল্যান্ডের সাবেক নারী উইকেটকিপার সারাহ টেইলরকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের জন্য ইংল্যান্ড পুরুষ টেস্ট দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে প্রথম নারী হিসেবে ইংল্যান্ডের কোনো পুরুষ জাতীয় দলের কোচ হয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন তিনি।
৩৬ বছর বয়সী টেইলর ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার মনে করা হয় তাকে। এর আগে সাসেক্স, ম্যানচেস্টার অরিজিনালস এবং গত শীতকালীন মৌসুমে ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে পুরুষ ক্রিকেটে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
ইংল্যান্ড পুরুষ ক্রিকেটের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি বলেন,
‘নিজের কাজে তিনি এই মুহূর্তে সেরাদের একজন।’ টেইলরের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘তিনি অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। ইংল্যান্ড লায়ন্সের প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ এবং পারফরম্যান্স ডিরেক্টর এড বার্নির সঙ্গে তিনি অনেক কাজ করেছেন। তারা সারাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আমাদের দৃষ্টিতেও তিনি এই পেশার অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব।’
কার্ল হপকিনসন বর্তমানে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দায়িত্বে থাকায় এই সুযোগটি পেয়েছেন সারাহ টেইলর। হপকিনসন চলতি বছরের শুরুর দিকে ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে ফিরেছিলেন। ইংল্যান্ডের ছেলেদের ক্রিকেটের ডিরেক্টর রব কি আভাস দিয়েছেন, টেইলর এবং হপকিনসন—উভয়েই ভবিষ্যতে দলের সঙ্গে কাজ করা চালিয়ে যাবেন।
এর আগে বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেইলর বলেছিলেন,
‘আমি এখনো এমন কেউ নই যে প্রচারের আলোয় থাকতে চায়; আমি শুধু আমার কাজে সেরা হতে চাই। আমি আসলে এভাবেই আমার কোচিং ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে চাই।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘আমি মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু না হয়েও পথপ্রদর্শক হতে ভালোবাসি। আমি দেখতে চাই আমি কতদূর যেতে পারি এবং সেরা খেলোয়াড়দের সাথে কাজ করতে চাই।’
পুরুষদের খেলাধুলায় নারীদের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নিয়োগের মধ্যে রয়েছে গত এপ্রিলে বুন্দেসলিগার দল ইউনিয়ন বার্লিনের অন্তর্বর্তীকালীন বস হিসেবে মারি-লুইস ইটার নিয়োগ। ২০২৩ সালে ফরেস্ট গ্রিনের কেয়ারটেকার ম্যানেজার হিসেবে হ্যানা ডিংলির সংক্ষিপ্ত সময় এবং ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাবেক ব্রিটিশ টেনিস কিংবদন্তি অ্যান্ডি মারের কোচ হিসেবে আমেলি মরেসমোর দায়িত্ব পালন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৪ জুন লর্ডসে। অ্যাশেজে শোচনীয় পরাজয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে এই ফরম্যাটে তাদের প্রথম ম্যাচ। সেই অ্যাশেজ অভিযানে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগসহ দলের পেশাদারিত্ব, কৌশলগত অবস্থান এবং রব কি ও কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
গত জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজের সময় চালু করা সান্ধ্য আইন (কারফিউ) নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্যও বহাল থাকবে। গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে বিরতিতে থাকা কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আবারও দলের সাথে যোগ দিচ্ছেন। ২৫ মে থেকে লাফবরোতে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের অনুশীলন ক্যাম্পে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডের সাথে উপস্থিত থাকবেন তিনি। এই ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন বোলার অলি রবিনসন এবং এখনও আন্তর্জাতিক অভিষেক না হওয়া তিন তরুণ ক্রিকেটার—জেমস রিউ, এমিলিও গে ও সনি বেকার।

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে এবং টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ম্যাচের সূচিও এখন চূড়ান্ত। বিশ্বকাপ শুরুর ৩০ দিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। আগামী ৬ থেকে ১০ জুনের মধ্যে হবে ১২টি ম্যাচ। গত আসরের ফাইনালিস্ট নিউ জিল্যান্ড ও বাছাই পেরিয়ে আসা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
ডার্বি, লফবরো এবং কার্ডিফে মোট ১২টি প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। লাফবরায় আগামী ৬ জুন নিউ জিল্যান্ড ও এর তিন দিন পর আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দল এবারের বিশ্বকাপে 'এ' গ্রুপে লড়বে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
আসর শুরু হবে ১২ জুন। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর ১৭ জুন লিডসে খেলা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে, ২০ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে, একই মাঠে পরের ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে এবং ২৮ জুন লর্ডসে লড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে।
বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলবে বাংলাদেশ। দেশ ছাড়বেন তারা আগামী ২৫ মে।
নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড—এই চারটি দল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার খেলে মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে। মূল মঞ্চের লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিতে এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো কার্যকর মহড়া হিসেবে কাজ করবে।

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম টেস্টে এই হারের পর পাকিস্তান দলের নেতৃত্বের মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ব্যাটার আহমেদ শেহজাদ।
২৬৮ রান তাড়া করতে নেমে চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায়। এই হারের পর কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অধিনায়ক হওয়ার মাপকাঠি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় সাবেক ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ পাকিস্তান ক্রিকেটে অধিনায়ক নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, অধিনায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে মাঠের পারফরম্যান্স কি আদৌ এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয় কি না।
শেহজাদ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন,
‘আপনারা যদি ৩০ গড়ের ওপর ভিত্তি করে অধিনায়ক নিয়োগ দেন, তবে ভালো ইংরেজি বলতে পারাকেই’ একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে ঘোষণা করে দিন।’
শেহজাদ ব্যঙ্গ করে আরও যোগ করেন যে, অধিনায়ক হওয়ার তালিকায় এখন সম্ভবত ব্যক্তিত্ব এবং বাহ্যিক রূপকেও অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। শেহজাদের ভাষায়, ‘হয়তো আমরা এখন আসল ক্রিকেটীয় প্রতিভার কথা ভুলেই যেতে পারি।’
শেহজাদ আরও মন্তব্য করেন, তরুণ ক্রিকেটাররা এখন হয়তো ভাবছে নেতৃত্বের সুযোগ পাওয়ার জন্য ক্রিকেটীয় দক্ষতার চেয়ে যোগাযোগ দক্ষতা (ইংরেজি বলা) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শেহজাদ বলেন,
‘এখন আমাদের উচিত বাচ্চাদের এটা শেখানো যে, পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হতে চাইলে শুধু ইংরেজি বলা শিখলেই হবে। কারণ ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর বাইরে আর কিছুরই এখন আর গুরুত্ব নেই।’
পাকিস্তানের এই হারের ম্যাচে অধিনায়ক শান মাসুদ রান তাড়ায় নেমে দ্রুত আউট হওয়ার আগে করেছেন মাত্র ২ রান। বিপরীতে বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। পাঁচ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার তছনছ করে দেন তিনি। বিশেষ করে চা-বিরতির পর এক বিধ্বংসী স্পেলে সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও নোমান আলীকে ড্রেসিংরুমের পাঠান গতি তারকা নাহিদ।
এই জয়ের ফলে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, আর পাকিস্তান নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ১৬ মে থেকে সিলেটে শুরু হবে।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের চতুর্থ রাউন্ডে দাপট দেখালেন বোলাররা। আগুনঝরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। বাঁহাতি স্পিনের মায়াজালে আবাহনী লিমিটেডের মাহফুজুর রহমান রাব্বির শিকার ৫ উইকেট।
পিকেএসপিতে মৃত্যুঞ্জয়ের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৮০ রানে গুটিয়ে গেছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। পরে ১০ উইকেটেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে মোহামেডান। সব মিলিয়ে ম্যাচে খেলা হয়েছে মোটে ৩২ ওভার।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ২২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা মৃত্যুঞ্জয়। এর আগের ম্যাচেও ৪১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
বসুন্ধরার পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করতে পারেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ছোট লক্ষ্যে ৮.১ ওভারে জিতে যায় মোহামেডান। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ২৮ বলে ৫০ রান করেন এনামুল হক বিজয়। মোহাম্মদ নাঈম শেখ করেন ২১ বলে ৩১ রান।
লিগের চার ম্যাচের সবকটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মোহামেডান।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে রুপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। আগে ব্যাট করে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় রুপগঞ্জ টাইগার্স। জবাবে ২৫.৪ ওভারে জিতে যায় লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
রুপগঞ্জ টাইগার্সের ব্যাটারদের নাচিয়ে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২৫ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন মাহফুজুর রাব্বি। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে এটি তার দ্বিতীয় ৫ উইকেট।
শাকির হোসেন শুভ্র দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন। এছাড়া কালাম সিদ্দিকি এলিনের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান।
রান তাড়ায় ভালো শুরু করেও ৩০ বলে ২৯ রান করে আউট হয়ে যান জিসান আলম। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ বলে ৬৫ রান করেন সৌম্য সরকার। জাকের আলি অনিক ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৪০ বলে ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
চার ম্যাচে আবাহনীর এটি দ্বিতীয় জয়। পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে তারা।

পরপর দুই বলে সালমান হোসেন ও মাহফুজুল ইসলামকে বোল্ড করে সম্ভাবনা জাগালেন আলিস আল ইসলাম। ওভার শেষ হয়ে যাওয়ায় বাড়ল অপেক্ষা। তবে নতুন ওভার শুরু করে কোনো ভুল করলেন না আলিস। আরিদুল ইসলাম আকাশকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন এই রহস্য স্পিনার।
ইউ ল্যাব ক্রিকেট মাঠে বুধবার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে শুধু হ্যাটট্রিকই নয়, সব মিলিয়ে ৬ উইকেট নেন আলিস। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) চতুর্থ রাউন্ডে তার রহস্য স্পিনে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ১৯৮ রানে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩০৩ রানের পুঁজি পায় প্রাইম ব্যাংক। জবাবে আলিসের রহস্যে কাবু হয়ে ১০৫ রানের বেশি করতে পারেনি গাজী গ্রুপ। ৯.২ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক আলিস।
আরও পড়ুন
| বিসিবি নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কমিশন |
|
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের ১৫তম বোলার আলিস। আর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাকে নিয়ে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পাওয়া বোলার হলেন মোট ১১ জন। এদের মধ্যে শুধু মোহাম্মদ শরীফের রয়েছে একাধিক হ্যাটট্রিকের রেকর্ড।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৪৬ রান যোগ করেন প্রাইম ব্যাংকের দুই ওপেনার শাহাদাত হোসেন দীপু ও আজিজুল হাকিম তামিম। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৮ বলে ৭১ রান করেন দীপু। তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৩টি করে চার-ছক্কায় ১০৭ বলে ৭৮ রান।
এরপর চার নম্বরে নেমে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সামলান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ বলে ৫১ রান করেন তিনি।
শেষ দিকে আবু হায়দার রনি ২ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ১৭ বলে ৪২ রান করলে তিনশ পার করে প্রাইম ব্যাংক।
৫১ রানে ৪ উইকেট নেন মাহফুজুল ইসলাম।
পরে আলিসের স্পিনে কাবু হয়ে জয়ের কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি গাজী গ্রুপ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নিয়ে দলকে জেতান ২৯ বছর বয়সী রহস্য স্পিনার।
এ নিয়ে চার ম্যাচের সবকটিই জিতল প্রাইম ব্যাংক। নেট রান রেটে পিছিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে তারা। সমান ম্যাচে ২ জয়ে পাঁচ নম্বরে গাজী গ্রুপ।