১ মার্চ ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

লক্ষ্যটা ছিল বেশ বড়। অলিখিত কোয়ার্টার-ফাইনাল জিততে ভারতের গড়তে হতো রেকর্ড। সেই মিশনে শুরুতেই তারা খায় জোড়া ধাক্কা। তবে চাপ আসতে দেননি সাঞ্জু স্যামসন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে জিতিয়ে তিনি নিজেও গড়েছেন রেকর্ড।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে রোববার সন্ধ্যায় সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। ১৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্য ৪ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলেছে তারা। একইসঙ্গে চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে পেয়েছে সেমি-ফাইনালের টিকেট।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭৩ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা।
দলের জয়ে মূল কারিগর স্যামসন। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি। তবে ১২ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।
কলকাতায় আগামী ৪ মার্চ প্রথম সেমি-ফাইনালে লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ড। পরদিন মুম্বাইয়ে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও ইংল্যান্ড।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। পাওয়ার প্লের মধ্যে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন অভিষেক শর্মা (১১ বলে ১০) ও ইশান কিষান (৬ বলে ১০)।
তবে দলের ওপর চাপ আসতে দেননি সাঞ্জু স্যামসন। তৃতীয় উইকেটে সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে তিনি গড়েন ৩৫ বলে ৫৮ রানের জুটি। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি করেন স্যামসন।
সূর্যকুমার অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেননি। দলের একশ হওয়ার আগেই ১৬ বলে ১৮ রান করে ফেরেন ভারতের অধিনায়ক।
পরে ঝড় তোলার আভাস দিলেও শিমরন হেটমায়ারের দারুণ ক্যাচে বিদায়ঘণ্টা বাজে তিলক ভার্মার। ফেরার আগে ৪ চার ও ১ ছক্কায় খেলেন ১৫ বলে ২৭ রানের ইনিংস। তখনও জয়ের জন্য বাকি ছিল ৩২ বলে ৫৫ রান।
একের পর এক সঙ্গী হারালেও অন্য প্রান্তে অবিচল থাকেন স্যামসন। চমৎকার ব্যাটিংয়ে তিনি গড়েন বিশ্বকাপে রান তাড়ায় ভারতের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড। এত দিন যা ছিল বিরাট কোহলির (৮২)।
শেষ দুই ওভারে ১৭ রানের সমীকরণে শামার জোসেফের বলে ক্যাচ আউট হয়ে যান হার্দিক পান্ডিয়া (১৪ বলে ১৭)। তার বিদায়ে ভাঙে ২২ বলে ৩৮ রানের জুটি।
শামারের ওভারের বাকি চার বলে দুটি বাউন্ডারি মারেন নতুন ব্যাটার শিবাম দুবে। সব মিলিয়ে ওভার থেকে আসে ১০ রান। শেষ ওভারের জন্য বাকি ৭ রান।
রোমারিও শেফার্ডের প্রথম দুই বলে ছক্কা-চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন স্যামসন। ১২ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মেরে ৫০ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন উইকেটকিপার ব্যাটার।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪৫ রান করে তারা। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরও রানের গতি বাড়াতে পারেননি অধিনায়ক শাই হোপ।
নবম ওভারে ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ৩৩ বলে ৩২ রান করেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়ে রস্টোন চেজ অবশ্য ঝড় তোলেন। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৫ বলে ৪০ রান করেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
তিন নম্বরে নামা শিমরন হেটমায়ার তাণ্ডব চালানোর আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১ চার ও ২ ছক্কায় ১২ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিনি। এতেই অবশ্য এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কার (১৯) রেকর্ড হয়ে যায় তার।
শেষ দিকে ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব নেন জেসন হোল্ডার ও রভম্যান পাওয়েল। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুজন মিলে মাত্র ৩৫ বলে যোগ করেন ৭৬ রান। তাদের তাণ্ডবে শেষ ৫ ওভারে ৭০ রান করে ক্যারিবিয়ানরা।
৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৪ রান করেন পাওয়েল। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২২ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন হোল্ডার।
ভারতের পক্ষে ৩৬ রানে ২ উইকেট নেন জাসপ্রিত বুমরাহ।
No posts available.
১ মার্চ ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
১ মার্চ ২০২৬, ৭:০০ পিএম
১ মার্চ ২০২৬, ৬:৫১ পিএম

বরুন চক্রবর্তীর বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কায় ওড়ালেন শিমরন হেটমায়ার। একইসঙ্গে গড়ে ফেললেন ছক্কার দারুণ এক রেকর্ড। তিনি ফেরার পর ছক্কার আরেকটি রেকর্ড গড়েন রভম্যান পাওয়েল।
কলকাতায় রোববার সন্ধ্যায় অলিখিত কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতে বড় অবদান ছক্কার রেকর্ড গড়া হেটমায়ার ও পাওয়েলের।
তিন নম্বরে নেমে ১ চার ও ২ ছক্কায় ১২ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলেন হেটমায়ার। বরুনের আগে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ছক্কা মারেন তিনি। এর সৌজন্যে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক এখন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত হেটমায়ারের ছক্কা ১৯টি। তিনি ভেঙেছেন সাহিবজাদা ফারহানের রেকর্ড। এক দিন আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া পাকিস্তানি ওপেনার এই বিশ্বকাপে মেরেছেন ১৮টি ছক্কা।
আর এবারের বিশ্বকাপের আগে এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড ছিল নিকোলাস পুরানের। ২০২৪ সালের আসরে ১৭টি ছক্কা মেরেছিলেন ক্যারিবিয়ান বাঁহাতি ব্যাটার। এছাড়া ১৬টি করে ছক্কা আছে ক্রিস গেইল (২০১২) ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের (২০২৪)।
হেটমায়ার ফেরার পর পাঁচ নম্বরে নেমে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৪ রান করেন পাওয়েল। এই দুই ছক্কায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক হন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৫০টি ছক্কা মেরেছে পাওয়েল। এত দিন ১৪৯ ছক্কা নিয়ে রেকর্ডটি ছিল পুরানের, ১৪৯টি।
এছাড়া সব মিলিয়ে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ মেরেছে ৭৬টি ছক্কা। বিশ্বকাপের এক আসরে যা বিশ্ব রেকর্ড। সব মিলিয়ে এক সিরিজে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড বুলগেরিয়ার, ৭৮টি (২০২৫ সালে এক ত্রিদেশীয় সিরিজে)।

ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়া মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার সকালেই দেশে ফিরে আসবেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার।
কিছু দিন আগে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুশফিক। ওমরাহ শেষ করে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার জন্য বিমানেও উঠেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
এর মাঝেই ইরানে আক্রমণ করে বসে ইসরায়েল। যে কারণে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবার জেদ্দায় ফিরে যায় মুশফিকদের বহনকারী বিমান। একদিন বিরতি দিয়ে আজ (রোববার) রাতের ফ্লাইটে আবার রওনা দেবেন তিনি।
রোববার কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে মুশফিকের ফেরার ব্যাপারে এই তথ্য জানিয়েছেন আমিনুল হক।
“আমি পরিপূর্ণভাবে এটি ওয়াকিবহাল ও নিজেই ব্যক্তিগতভাবে এটাকে মনিটর করছি। এরই মধ্যে আমার সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের কথা হয়েছে, আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি, আজকের রাতের ফ্লাইটে মুশফিকুর রহিম আগামীকাল সকালেই দেশে ফিরতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করছি।”
“এখন পর্যন্ত মুশফিক ভালো আছে, সুস্থ আছে। আমাদের অন্যান্য যারা বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে আমাদের খেলোয়াড়রা বা আমাদের যারা বাংলাদেশিরা বিভিন্নভাবে যারা এই জটিলতার কারণে আটকে আছেন, আমরা সকলকেই আহ্বান করছি, যাতে সুস্থ শরীরে সবাই দেশে ফিরে আসতে পারে। সবার প্রতি আমাদের শুভকামনা।”
এসময় মুশফিকের দেশে ফেরার ব্যাপারে আবারও নিশ্চয়তা দেন আমিনুল।
“স্পেশালি মুশফিকুর রহিমের যে স্ট্যাটাসের ওপরে যেটা আপনারা সকলেই অবগত হয়েছেন, আমরাও হয়েছি। ইনশাআল্লাহ আগামীকাল সকালবেলায়, আজকের রাতের ফিরটি ফ্লাইটে ইনশাআল্লাহ মুশফিকুর রহিম আগামীকালকে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে ফিরে আসবে সুস্থভাবে।”
এর আগে শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পোস্টে দোয়ার ইমোজি জুড়ে দিয়ে দোয়া চান মুশফিক, ‘সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’
একই পোস্টে সার্বিক পরিস্থিতিও জানান দেন তিনি।
‘সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। কয়েক দিন আগে আমি উমরাহ হজ পালনের জন্য মক্কায় এসেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, হজ সম্পন্ন করেছি এবং আজ এমিরেটস হয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম।’
‘আজ সকালে জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ইকে ০৮০৬ ফ্লাইটে উড়াল দিই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সব ফ্লাইট জেদ্দায় ফিরে এসেছে। এখন আমি হাজারো যাত্রীর সঙ্গে জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছি।’
‘সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন, কবে এবং কীভাবে আমরা অন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গে ঢাকায় ফিরতে পারব। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’

আগের দিন বিরাট কোহলির এক যুগ পুরোনো এক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান। এর ২৪ ঘণ্টা না যেতেই ভারতীয় কিংবদন্তির আরেক রেকর্ড নতুন করে লিখেছেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার ব্রায়ান বেনেট।
অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসগড়া বিশ্বকাপের বড় কারিগর বেনেট। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে তিনি করেছেন ২৯২ রান। তার গড় প্রায় অবিশ্বাস্য, ১৪৬.০০! টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক আসরে অন্তত ১০০ রান করা ব্যাটারদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড।
এত দিন এই রেকর্ডটি ছিল কোহলির। এক দশক আগে ভারতের মাঠেই হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ ইনিংসে ১৩৬.৫০ গড়ে ২৭৩ রান করেছিলেন আধুনিক ক্রিকেটের এই ব্যাটিং গ্রেট। সেবার ৩ ইনিংসে অপরাজিত থাকায় এমন অবিশ্বাস্য ছিল তার গড়।
এবার বেনেটের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। টুর্নামেন্টের ছয় ইনিংসের ৪টিতেই অপরাজিত ছিলেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার। তাই প্রায় দেড়শর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তার ব্যাটিং গড়।
প্রথম রাউন্ডের তিন ম্যাচে তাকে আউটই করতে পারেনি ওমান, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা। ওমানের বিপক্ষে ৪৮, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৪ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন বেনেট।
পরে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ রান করে আউট হন বেনেট। পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে তিনি খেলেন ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। আর শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আউট হয়েছেন ১৫ রান করে।
পুরো টুর্নামেন্টে দুবার মাত্র আউট হওয়ায় তার সার্বিক গড় ১৪৬.০০! যা ভেঙে দিয়েছে কোহলির রেকর্ড।
অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোহলির এমন অতিমানবীয় গড় ছিল আরও দুই আসরেও। ২০১৪ সালে ৬ ইনিংসে ১০৬.৩৩ গড়ে ৩১৯ রান করেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। আর ২০২২ সালে ৬ ইনিংসে ৯৮.৩৩ গড়ে তিনি করেছিলেন ২৯৬ রান।

প্রথমে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন সিকান্দার রাজা। দলকে এনে দিলেন লড়াইয়ে পুঁজি। বোলিংয়েও নিজের কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে নিলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে তিনি গড়লেন রেকর্ড। তবে তার একার লড়াই সামলে স্বস্তির জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নই হলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
দিল্লিতে রোববার বিকেলের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। রাজার বিধ্বংসী ফিফটিতে ৭ উইকেটে ১৫৩ রানের সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। জবাবে ১৩ বল বাকি রেখে ম্যাচ জেতে প্রোটিয়ারা।
সুপার এইটের প্রথম গ্রুপে তিন ম্যাচের সবকটি জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমি-ফাইনাল খেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী বুধবার প্রথম সেমি-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় গ্রুপের রানার্স-আপ নিউ জিল্যান্ড।
আগের দুই ম্যাচে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতকে ব্যাটিং করতে পাঠিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই দুই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫৪ ও ভারত করেছিল ২৫৬ রান। তাই নিজেদের শেষ ম্যাচে টস জেতার পর ফিল্ডিং করার ঝুঁকি নেয়নি জিম্বাবুয়ে।
ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ছন্দে থাকা ব্রায়ান বেনেট এদিন ১৩ বলে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে ১৪৬ গড়ে ২৯২ রান করেন বেনেট। টুর্নামেন্টের এক আসরে অন্তত ১০০ রান করা ব্যাটারদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড।
বাকিদের ব্যর্থতার দিনে একাই দলকে টেনে নেন সিকান্দার রাজা। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ বলে ফিফটি করার পরও আরও এগিয়ে যান জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ১৭তম ওভারে থামে তার ৮ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো ৪৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস।
শেষ দিকে ক্লাইভ মাদান্ডে ২৬ রান করলে দেড়শ পেরোয় জিম্বাবুয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন কিউনা মাফাকা ও করবিন বশ।
রান তাড়ায় শুরুতেই রাজার স্পিন পরীক্ষায় পড়ে প্রোটিয়ারা। প্রথম ওভারে কুইন্টন ডি কক ও পরের ওভারে এইডেন মার্করামকে আউট করে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দেন রাজা।
তবে রায়ান রিকেল্টন ২২ বলে ৩১ ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস মাত্র ১৮ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। ব্রেভিসকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন রাজা। ১০১ রানে ৫ উইকেটে কিছুটা চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ষষ্ঠ উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন ট্রিস্টান স্টাবস (২৪ বলে ২১) ও জর্জ লিন্ডা (২১ বলে ৩০)।
ব্যাট হাতে ৭৩ রানের পর বোলিংয়ে ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন রাজা। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ৭০+ রান ও ৩ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। ২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে ৭২ রানের পাশাপাশি ৩ উইকেট নিয়েছিলেন শেন ওয়াটসন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোবার্টে দুঃস্বপ্নের এক দিন কাটালেন ভারতের বোলাররা। নারী ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্পেলের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের দুই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার শ্রী চরানি ও দীপ্তি শর্মা। এর মধ্যে চরানি হয়ে গেলেন এক ইনিংসে ১০০–এর বেশি রান হজম করা প্রথম ভারতীয় নারী ক্রিকেটার।
হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৭ উইকেটে ৪০৯ রান—তাদের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। বিদায়ী ওয়ানডেতে অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি ৯৮ বলে ১৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যা নারী ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম ১৫০। অন্য প্রান্তে অপরাজিত ১০৬ (৮৪ বলে) করেন বেথ মুনি।
ভারতের পাঁচ বোলারই ওভারপ্রতি এক রানের বেশি খরচ করেন। সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন শ্রী চরানি—১০ ওভারে ১০৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। দীপ্তি ১০ ওভারে দেন ৯০ রান, নেন ১ উইকেট। এর আগে এক ইনিংসে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৮ রান দিয়েছিলেন প্রিয়া মিশ্রা, সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড পেরিয়ে এখন শীর্ষ দুই স্থানে শ্রী চরানি ও দীপ্তি।
নারী ওয়ানডেতে সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্পেলের তালিকায় শীর্ষে আছেন আয়ারল্যান্ডের কারা মারে—২০১৮ সালে ডাবলিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ওভারে ১১৯ রান দেন তিনি। তালিকার প্রথম দশটির সাতটিই আয়ারল্যান্ডের বোলারদের দখলে, যার বেশির ভাগই ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই সিরিজে।
ম্যাচে ৪০৯ রান তাড়ায় ভারত গুটিয়ে যায় ২২৪ রানে (৪৫.১ ওভার)। ১৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় তারা। ম্যাচসেরা হন হিলি।
২০২৫ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতের দলে থাকা শ্রী চরানি ও দীপ্তির জন্য দিনটি ছিল হতাশার। তবে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বোলিং কৌশল এবং অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী ব্যাটিং—দুই মিলেই তৈরি হয়েছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যান।