৪ মে ২০২৬, ১২:৪৮ এম

গতির বোলিংয়ে মুগ্ধতা ছড়াতে এসেছেন নাহিদ রানা। গতিতে প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটারদের পর্যুদস্ত করে একটার পর একটা উৎসবের উপলক্ষ এনে দিচ্ছেন বাংলাদেশের এই পেসার। দেশের মাটিতে পর পর ২টি ওডিআই সিরিজ জয়ের নায়কের পারফরমেন্সে দুটি সিরিজ জয়ে হেসেছে বাংলাদেশ।হোমে ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে উপরের সারির দল পাকিস্তান-নিউ জিল্যান্ডকে ২-১ এ সিরিজ হারিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে পিএসএলের ট্রফিতেও দিলেন হাত নাহিদ রানা!
গত ১১ মার্চ থেকে ৩ মে, সময়ের হিসাবে ৫৩ দিন। এই সময়টা কী দারুণই না কেটেছে পেস বোলার নাহিদ রানার। চাঁপাই-নবাবগঞ্জের এই ছেলেটি এই ৫৩ দিনে খেলেছেন ১১টি ম্যাচ, ৬টি ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশে ৫টি ফ্রাঞ্চাইজি টি-২০। এই ১১টি ম্যাচের মধ্যে একটি মাত্র ম্যাচ বাদ দিলে প্রতিটি ম্যাচেই দেখেছেন উইকেটের মুখ। ঘন্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে বিশ্বসেরা পেসারদের পর্যন্ত বিস্মিত করেছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে গত মার্চে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট (৫/২৪), এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ৫ উইকেট (৫/৩২)! দুটি সিরিজেই নামতা গুনে ৮টি করে উইকেট এবং উভয় সিরিজে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার জিতেছেন লম্বা ছিপছিপে গড়নের এই ছেলেটি।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) মাত্র ৬০ লাখ রুপির (বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৩৮১ টাকা) বেজ প্রাইসে পেশোয়ার জালমি নাহিদ রানাকে কিনে করেছে বাজিমাত। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের আগে ৪ ম্যাচ, নিউ জিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর শেষে পিএসএল-এর ফাইনালে খেলার অনাপত্তিপত্র পাওয়া এই ছেলেটি ১১তম পিএসএলএ সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। দেশের বাইরে এই প্রথম কোনো ফ্রাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগকে স্মরনীয় করে রেখেছেন। পিএসএলে ৫ ম্যাচে ১০.৮৮ গড়ে ৯ উইকেট। ওভারপ্রতি তাঁর খরচ মাত্র ৫.৪৪, পিএসএলের এই আসরে সবচেয়ে মিতব্যয়ী।
পিএসএলে তার অভিষেকটা হয়নি প্রত্যাশিত, উইকেটহীন ৩০ রান খরচা নিজের কাছেও লাগেনি ভাল। দ্বিতীয় ম্যাচে বিস্ময়কেও হার মানিয়েছে তার বোলিং (৪-১-৭-৩)। করাচি কিংসের সাদ বেগ, খুশদিল শাহ, অ্যাডাম জাম্পাকে শিকারের ওই ম্যাচে ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ২০টি দিয়েছেন ডট! পিএসএলের তৃতীয় ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে ৪-০-১৫-২, চতুর্থ ম্যাচে মুলতানস সুলতানের বিপক্ষে ৪-০-২৪-২।
এমন এক বোলারকে না নিয়ে ফাইনালে খেলার কথা কল্পনা করবে কী করে পেশোয়ার জালমি। তাই নাছোড়বান্দার মতো বিসিবিতে জ্বালাতন করে ফাইনালের জন্য নাহিদ রানাকে নিয়েই ছেড়েছে বাবর আজমের দল। লাহোরে দর্শক ভর্তি স্টেডিয়ামে নাহিদ রানার প্রথম ডেলিভারিটি ছিল ঘন্টায় ১৪৭.৪ কিলোমিটার। শেষ ডেলিভারিটি তাঁর ঘন্টায় ১৪৫ কিলোমিটার। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৪৮। ঘন্টায় তার বোলিংয়ের গড় গতি ছিল কতো জানেন ? ১৪১.২ কিলোমিটার।
কমেন্ট্রি বক্সে বসে মাইক্রোফোন হাতে গ্রেট পেস বোলার ওয়াসিম আকরাম পর্যন্ত নাহিদ রানার গতি, সুইং, বাউন্স, ইয়র্কার ডেলিভারি দেখে মুগ্ধ।
ফাইনালে প্রথম ওভারটি তাঁর ভাল হয়নি, সাইম আইয়ুবের হাতে পর পর ২ ডেলিভারিতে ছক্কা এবং চার খাওয়া সেই ওভারে নাহিদ রানার খরচা ১৩ রান। দ্বিতীয় স্পেলে (১-০-৫-১) ছন্দ ফিরে পাওয়া নাহিদ রানা অজি টি-টোয়েন্টি সেনসেশন ম্যাক্সওয়েলকে বানিয়েছেন বোকা। ওই ওভারের প্রথম ডেলিভারিটি ছিল তাঁর শর্ট, সেই বলে মিড অফ ফিল্ডার ফারহান ইউসুফের হাতে ক্যাচ প্র্যাকটিস করে গোল্ডেন ডাক পেয়েছেন ম্যাক্সওয়েল (১ বলে ০)। ইনিংসের ১৪তম ওভারে তৃতীয় স্পেলটি ছিল স্বপ্নময় (১-১-০-১)। মেডেন উইকেটের ওই ওভারের ৫ম বলে হুনাইন শাহকে ব্লকহোলে ইয়র্কার ডেলিভারিতে মিডল স্ট্যাম্পে আঘাত হেনেছেন। পরের ডেলিভারিটিও ছিল ইয়র্কার।
ইনিংসের ১৭ তম ওভারে তার শেষ স্পেলটি ছিল ১-০-৪-০। ওই ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে ইয়র্কারে কোনোমতে বেঁচে গেছেন ফাইনাল ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান (৫০ বলে ৫৪) সাইম আইয়ুব। আম্পায়ার আহসান রাজা দিয়েছিলেন এলবিডাব্লুউর সিদ্ধান্ত। তবে বল ট্র্যাকিংয়ে পিচিং আউটসাইড লেগ বলে তৃতীয় উইকেট হাতছাড়া হয়েছে নাহিদ রানার।
ফাইনাল ম্যাচে পেশোয়ার জালমির অ্যারন হার্ডি পেয়েছেন সর্বাধিক ৪ উইকেট (৪-০-৭-৪)। তবে পিএসএলের ফাইনালে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং (৪-১-২২-২) করেছেন নাহিদ রানা। ওভারপ্রতি খরচ মাত্র ৫.৫০। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৫টি দিয়েছেন ডট। প্রথম ওভারে ১৩ রান খরচায় যার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলার কথা, সেই নাহিদ রানা শেষ তিন ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৯ রান। নাহিদ রানার এমন মিতব্যয়ী বোলিংয়ে হায়দারাবাদ কিংসম্যান পাড়ি দিতে পারেনি ২০ ওভার। ১৮ ওভারে থেমেছে তাঁদের ইনিংস (১২৯/১০)। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে যে দলটির ৬৯/২, সেই দলটি অবশিষ্ট ১২ ওভারে ৬০ রানে হারিয়েছে ৮ উইকেট!
ফাইনালে ম্লান হতে বসেছিল নাহিদ রানার দ্যুতি। গোল্ডেন ডাক পেয়ে (১ বলে ০) ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়া অধিনায়ক বাবর আজমের হতাশা আচ্ছন্ন করেছিল দলটির উপর। স্কোরশিটে ৪০ উঠতে ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে ফ্যাকাশে হয়ে পড়া নাহিদ রানার মুখচ্ছবিটা বদলে দিয়েছেন আবদুল সামাদ-অ্যারন হার্ডি। ৫ম উইকেট জুটিতে তাদের ৫৯ বলে ৮৫ রানে ২৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতে ট্রফি জয়ের উল্লাস করেছে নাহিদ রানার দল পেশোয়ার জালমি। ফিনিশার অ্যারন হার্ডি (৩৮বলে ৯চার-এ ৫৬*) দলকে জিতিয়ে ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। আবদুল সামাদ থেমেছেন ফিফটি থেকে ২ রান আগে ( ৩৩ বলে ৩ চার, ৪ ছক্কায় ৪৮)।
No posts available.

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। নানান অনিশ্চয়তায় পড়ে কিছুটা পিছিয়ে গেলেও, অবশেষে বেশ কিছু নতুনত্ব নিয়ে শুরু হচ্ছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট।
ছয়টি ভিন্ন ভেন্যুতে সোমবার একসঙ্গে শুরু হবে প্রিমিয়ার লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুম। প্রিমিয়ার লিগে এবার প্রতিদিন ভিন্ন ৪ মাঠ থেকে ৪টি ম্যাচ টি স্পোর্টস টেলিভিশন ও টি স্পোর্টস ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
প্রিমিয়ার লিগে আগের মৌসুমগুলোতে প্রতিদিন খেলা হতো ৩টি করে। এবার বৃষ্টির মৌসুম মাথায় রেখে অল্প সময়ের মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করার জন্য ৬টি ভিন্ন মাঠে একসঙ্গে ১২টি দলের খেলা হবে। এতে করে এক দিনে শেষ হয়ে যাবে এক রাউন্ডের খেলা।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্স মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে খেলবে প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা ঢাকা লেপার্ডস। মাঠে থেকে লিগের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালও উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনী দিনে বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে লড়বে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও সিটি ক্লাব। বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে মুখোমুখি হবে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। পিকেএসপিতে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ও গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, ক্রিকেটার্স একাডেমিতে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব ও ইউল্যাব মাঠে খেলবে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
প্রথমবারের মতো লিগ পর্বের প্রতিটি ম্যাচের জন্যই রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। বৃষ্টি বা আলোকস্বল্পতায় প্রথম দিন খেলা শেষ করা সম্ভব না হলে পর দিন একই জায়গা থেকে আবার হবে খেলা। তবে এবার সুপার লিগ ও রেলিগেশন লিগ নেই।
ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি মাঠের জন্য তাৎক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স রাখার কথা জানিয়েছে তামিম ইকবালের অ্যাড-হক কমিটি। এছাড়া ফিক্সিং সংক্রান্ত যে কোনো ইস্যু মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতোই প্রটোকল অনুসরণ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ক্রিকেটারদের ফিটনেসের কথা বিবেচনায় রেখে দুপুরে বোর্ডের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ করবে বিসিবি। এর বাইরে প্রতিটি ক্লাবকে পরিচালন খরচ বহনের জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ২৫ লাখ টাকা।

জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন প্রায় ৫ বছর আগে। আইপিএলেও আর নিয়মিত দেখা যায় মানিশ পান্ডেকে। তবে এর মাঝেই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ড গড়লেন ৩৬ বছর বয়সী ব্যাটার। যা এত দিন ছিল শুধু বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ১৯ মৌসুমের প্রতিটি খেলার কৃতিত্ব দেখালেন মানিশ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে রোববার বিকেলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে নেমে এই রেকর্ড গড়েন তিনি।
মানিশের আগে রোহিত ও কোহলিই শুধু আইপিএলের সবগুলো আসরে খেলার কৃতিত্ব দেখান। এছাড়া মহেন্দ্র সিং ধোনির সামনেও আছে হাতছানি। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত নামেননি চেন্নাই সুপার কিংসের তারকা। একটি ম্যাচ খেললেও রোহিত, কোহলি ও মানিশের পাশে বসবেন তিনি।
এমনিতে আইপিএলে মানিশের কীর্তি কম নয়। ২০১৪ সালের ফাইনালে কিংস এলেভের পাঞ্জাবের হয়ে কলকাতার হয়ে ৫০ বলে ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন মিডল-অর্ডার ব্যাটার। যা কলকাতাকে এনে দেয় দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা।
এছাড়া ২০০৯ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে ৭৩ বলে ১১৪ রানের ইনিংস খেলেন মানিশ। যার সৌজন্যে আইপিএলে সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হয়ে যান তিনি।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আইপিএলে ১৭৪ ম্যাচ খেলে ২৯.৪১ গড়ে ৩ হাজার ৯৪২ রান করেছেন মানিশ। ২২ ফিফটির পাশাপাশি করেছেন একটি সেঞ্চুরি।

ইন্ডিয়ান
প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) অন্যতম পুরোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানায়
এলো বড় পরিবর্তন। রেকর্ড দামে বিক্রি হওয়ার দেড় মাসের মধ্যে বদলে গেল আইপিএলের প্রথম
আসরের চ্যাম্পিয়নদের মালিকানা।
এবার
আরও চড়া মূল্যে দলটি কিনে নিয়েছে ভারতীয় শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তাল ও ভ্যাকসিন ব্যবসায়ী
আদার পুনাওয়ালার নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে
( প্রায় ১৫ হাজার ৬৬০ কোটি রুপি) দলটির নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে তারা।
রোববার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্তমান প্রধান মালিক মনোজ বাদালের
কাছ থেকে পুরো ‘রয়্যালস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পোর্টফোলিও অধিগ্রহণে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছে
মিত্তাল ও পুরানওয়ালার নতুন কনসোর্টিয়াম।
এই
পোর্টফোলিওর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটি-টোয়েন্টি লিগে পার্ল রয়্যালস ও ক্যারিবিয়ান
প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) বার্বাডোজ রয়্যালসের মালিকানাও রয়েছে।
নতুন
চুক্তি সম্পন্ন হলে রাজস্থান রয়্যালসের প্রায় ৭৫ শতাংশ মালিকানা থাকবে মিত্তাল পরিবারের
হাতে। পুনাওয়ালার অংশ হবে প্রায় ১৮ শতাংশ। বাকি ৭ শতাংশ শেয়ার থাকবে বাদালে-সহ বিদ্যমান
কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে।
গত ২৫ মার্চ রাতে এবারের আইপিএল শুরুর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের
একটি গ্রুপকে ১.৬৩৫ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১৫ হাজার ২৯০ কোটি রুপি) বিনিময়ে রাজস্থান
রয়্যালসের মালিকানা দেওয়ার কথা জানিয়েছে টুর্নামেন্ট আয়োজকরা।
অ্যারিজোনাভিত্তিক
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কাই সোমানির নেতৃত্বাধীন সেই কনসোর্টিয়ামে ছিলেন এনএফএল দল
ডেনভার ব্রঙ্কোসের মালিক রব ওয়ালটন ও ডেট্রয়েট লায়ন্সের মালিক পরিবারের
সদস্য মাইকেল হ্যাম্প।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক ধাপের বিডিংয়ে এগিয়ে কাই সোমানির এই কনসোর্টিয়াম এগিয়ে
থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেন তারা চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি, তা স্পষ্ট নয়।
২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম মৌসুমে মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস।
১৮ বছরের ব্যবধানে দলটির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৫৮ গুণ।
নতুন মালিকানা কাঠামোতে অদিত্য মিত্তাল, ভানিশা মিত্তাল-ভাটিয়া, পুনাওয়ালা ও বাদালে
ফ্র্যাঞ্চাইজির বোর্ডে যুক্ত হবেন। ২০২৬ সালের তৃতীয় কোয়ার্টারে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার
কথা রয়েছে। যা নির্ভর করছে বিসিসিআই ও ভারতের কম্পিটিশন কমিশনের অনুমোদনের ওপর।
চলতি
আইপিএলে এখন পর্যন্ত ভালো ছন্দেই রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। ১০ ম্যাচের ৬টি জিতে পয়েন্ট
টেবিলের ৪ নম্বরে অবস্থান করছে তারা।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে
পেশাওয়ার জালমি ও হায়দরাবাদ কিংসম্যান। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবারের ফাইনালে থাকছে
পুরস্কারের ছড়াছড়ি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড(পিসিবি) প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি
ও খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
পিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্র্যাঞ্চাইজি
পাবে ৫ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা)। রানার্স-আপ দল
পাবে ৩ লাখ ডলার ((প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা)।
প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের জন্য আলাদাভাবে
রাখা হয়েছে আরও ৫ লাখ ডলারের বিশাল প্রাইজ পুল। ক্রিকেটের তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন ও
খেলোয়াড় তৈরির প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি হিসেবে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেওয়া হবে ২ লাখ ডলার
((প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা)। সব মিলিয়ে মোট পুরস্কারের অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে ১৫ লাখ মার্কিন
ডলারে (প্রায় ১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা)।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে
৭০ রানে হারায় পেশাওয়ার। অধিনায়ক বাবর আজম টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে
ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের গতি তারকা নাহিদ রানার অন্তর্ভুক্তি দলটির
বোলিং আক্রমণকে আরও ধারালো করেছে।
হায়দরাবাদ এবারের টুর্নামেন্টের সারপ্রাইজ প্যাকেজ। টুর্নামেন্টের
শুরুতে ৪ ম্যাচ হেরে তারা। ঘুরে দাঁড়িয়ে লিগ পর্বে চতুর্থ হয়েও এলিমিনেটরে শক্তিশালী
মুলতান সুলতানস এবং দ্বিতীয় এলিমিনেটরে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে।
লিগ পর্বের একমাত্র দেখায় অবশ্য পেশাওয়ারের কাছে শেষ বলের থ্রিলারে হেরেছিল মার্নাস
লাবুশেনের হায়দরাবাদ।
এর আগে চারবার ফাইনাল খেলে একবার শিরোপা ঘরে তুলেছে পেশাওয়ার।
তাদের দ্বিতীয় শিরোপা নাকি হায়দরাবাদের প্রথম নির্ধারিত হবে আজকেই। লাহোরের গাদ্দাফি
স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে আজ বাংলাদেশ রাত ৯ টায়।

আইসিসি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোন ফরম্যাটে জয় দিয়ে অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের, জানেন ? এর উত্তর টি-টোয়েন্টি। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত বাংলাদেশকে এই ফরম্যাটের ক্রিকেটের জন্য যথার্থ, এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেকে সময়ের সেরা প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের ধারনাকে সত্যি বলে জানিয়ে দিয়েছে আশরাফুল-আফতাব-সাকিব-মাশরাফি-রাজ্জাক-সৈয়দ রাসেলরা।
অবচেনতমনে বাংলাদেশের সব ব্যাটারের প্রতিটি বলে খেলার প্রবনতা যখন দৃশ্যমান, তখন ২০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য আদর্শ, এমন বিশ্লেষনই ছিল বিশেষজ্ঞদের। তবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২ দশকে দাঁড়িয়ে পরিসংখ্যান কিন্তু বলছে উল্টোটা। হয়ে যাওয়া ২১৪টি ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৮৪টি। সাফল্যাঙ্ক ৪০.৬৫%।
আশ্চর্য হলেও সত্য, টেস্ট-ওডিআই-টি-টোয়েন্টি, আইসিসির সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের অবস্থান ৯ নম্বর। অর্থাৎ সব ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের একটা অভিন্ন বেঞ্চ মার্ক দাঁড়িয়ে গেছে। এবার মহাসুযোগ ছিল টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৯ থেকে ৮-এ উঠে আসা। নিউ জিল্যান্ডকে সিরিজের শেষ ম্যাচে হারিয়ে দিতে পারলেই শ্রীলঙ্কাকে হটিয়ে ৮-এ উঠতে পারতো বাংলাদেশ। শনিবার সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ দল। এই জয়টা পেলে মাহমুদউল্লাহ (৪৩ ম্যাচে ১৬ জয়), সাকিব আল হাসানকে ( ৩৯ ম্যাচে ১৬ জয়) টপকে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক জয়ের রেকর্ডটা গড়তে পারতেন লিটন দাস। এখন এই মাইলস্টোনে প্রতীক্ষা বেড়েছে তাঁর।
সত্যি বলতে কী, সাদা বলের দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটেই বাংলাদেশ দলকে ভরসা দিচ্ছে বোলিং সাইড। ২ পেসার, ৩ স্পিনার ফর্মূলা থেকে বেরিয়ে এসে তিন পেসার, দুই স্পিনারে কম্বিনেশন সেট করেও এই ডিপার্টমেন্টটা বিশ্বমানের। ফিল্ডিং কখনো কখনো প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেলেও অধিকাংশ সময়ে গড়পড়তা। স্ট্যাম্পিং মিস, হাত থেকে ক্যাচ ফসকে যাওয়া-এটাও দর্শকের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
ব্যাটিংটা বড্ড বেশি অধারাবাহিক। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পরাশক্তিদের কাতারে দাঁড়ানোর মতো নয়। প্রথমে ব্যাট করে ২শ স্কোর করতে পেরেছে বাংলাদেশ ৫টি-তে। ২শ' প্লাস রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ১টি।
এই ২০ বছরে ৯৩ ক্রিকেটারের মাথায় উঠেছে টি-টোয়েন্টি ক্যাপ। যাদের মধ্যে ব্যাটিং গড়ে নুরুল হাসান সোহান এবং তানজিদ হাসান তামিম ছাড়া ৩০-এর ঘরে গড় নেই কারো। ক্যারিয়ার রেকর্ডসে স্ট্রাইক রেট ১৩০-এর ঘরে মাত্র দু'জন, মাশরাফি এবং পারভেজ হোসেন ইমন।
কেনো বাংলাদেশের ব্যাটিং সাইড টি-টোয়েন্টির পরাশক্তিদের কাতারে আসতে পারছে না ? হোমে তাদের জন্য অনুকূল উইকেট দিতে পারছে না বিসিবি, এটা হতে পারে একটা কারন। আইপিএল, পিএসএল-এর চলমান আসরে যেখানে নামতা গুনে স্কোর ২শ হচ্ছে, ২শ-আড়াইশ' রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড অহরহ, সেখানে বিপিএলে ২শ কালে ভদ্রে।
পাওয়ার হিটিং কোচের দাওয়াইয়েও কাজ হয়নি। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে, শেষ পাওয়ার প্লে-তে স্কোর হচ্ছে না প্রত্যাশিত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের ডট বলের সংখ্যাটাও একটু বেশি। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বোলিং অলরাউন্ডারের অভাবটাও টের পেয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। সাইফউদ্দিন, তানজিদ হাসান তামিমের বিগ হিটের ক্ষমতা আছে। তারপরও মাঠে সেই সক্ষমতার ধারাবাহিকতা নেই। স্পিনার ক্যাটাগরিতে একাদশে থাকবেন যারা, তাদেরকে অলরাউন্ডার ভূমিকায় দেখতে চান লিটন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাম্প্রতিক এবং নিকট অতীতের প্রেক্ষাপটে এই অভাবটাই অনুভব করছেন তিনি। রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদীর ব্যাটে সেই দায়িত্ববোধটা দেখতে চাইছেন অধিনায়ক লিটন দাস।
বছরওয়ারী হিসেবে গত বছর রেকর্ড ৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এই ৩০ ম্যাচে ১৫ জয়ও ছিল মোটামুটি প্রশংসিত। ওই বছরটিতে চিনিয়েছেন টপ অর্ডার তানজিদ হাসান তামিম (২৭ ম্যাচে ৭৭৫ রান, ৩২.২৯ গড় , ১৩৫.২৫ স্ট্রাইক রেট)। লেগ স্পিনার রিশাদও ৩৩ উইকেট পেয়ে ছিলেন বছরসেরা টি-টোয়েন্টি বোলারদের শীর্ষ তালিকায়।
তবে এ বছরের শুরুটা হয়েছে হতাশা দিয়ে। সরাসরি কোয়ালিফাই করেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি বাংলাদেশ দলকে দেয়নি অন্তবর্তীকালীন সরকার। ফলে এই বছরে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা কমে গেছে অনেক। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টি একটি ম্যাচ খেয়ে ফেলায় ৩ থেকে সিরিজটি নেমে এসেছে ২-এ। আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে এ বছর বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ আর মাত্র ৬টি ম্যাচ।
তবে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করেও ২ বছর পর অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছে বাংলাদেশ। সরাসরি কোয়ালিফাইড ১২ দলে নাম আছে বাংলাদেশের। সুতরাং স্বস্তি নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিক বাংলাদেশ দল, এটাই সবার প্রত্যাশা। ২০২৮ সালটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আর একটি মাইলস্টোনের সামনে দাঁড়িয়ে। ১২৮ বছর পর অলিম্পিকে যুক্ত হচ্ছে ক্রিকেট। যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসে একটু হিসাব করে খেলতে পারলেই পদকের সম্ভাবনা। অলিম্পিকে পদকহীন থাকার অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জটা ক্রিকেটারদের মাথায় ঢুকলেই মঙ্গল। এশিয়ান গেমসে একমাত্র স্বর্ণপদক জয়ের সুখবর দিয়েছে ক্রিকেটাররা ২০১০ সালে, চীনের গুয়াংজু-তে। আশরাফুলদের সেই অতীত থেকে টনিক নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের সামনে গ্রেটেশ শো অন আর্থ থেকে দারুণ কিছু অর্জনের স্বপ্ন দেখতেই পারি আমরা। লক্ষ্য পূরণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির পরিকল্পনা নিতে হবে বিসিবিকে।