
ওয়ানডে রান তাড়ায় বিরাট কোহলি জ্বলে উঠবেন না, এটা যেন কোনোভাবেই হওয়ার নয়। দুবাইয়ের স্লো উইকেটে ভারতের এই ব্যাটিং তারকা আরও একবার জানান দিলেন, কেন তাকে ‘চেজ মাস্টার’ বলা হয়। স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স কেরির ফিফটিতে অবশ্য লড়াকু পুঁজিই পেয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে দুই ওপেনার হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়া ভারতের ইনিংস একাই টানলেন সেই কোহলিই। সেঞ্চুরি মিস করলেও তার ইনিংস ভর করে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। অজিরা গুটিয়ে গিয়েছিল ২৬৪ রানে, শেষের দিকে কিছুটা লড়াই ছাপিয়ে রোহিত শর্মার দল সেই টার্গেট পাড়ি দিয়েছে ১১ বল হাতে রেখে।
আইসিসি ইভেন্টের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি এখন সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। আগেরটিও ছিল ভারতেরই।
আরও পড়ুন
| সেমিফাইনালে মার্করামের খেলা নিয়ে সংশয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা |
|
রান তাড়ায় বেন ডুয়ারসুইসের করা ইনিংসে দ্বিতীয় বলেই চার হাঁকান রোহিত। এরপর ন্যাথান এলিসকে মারেন ছক্কা। তবে ওই ওভারেই ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তার দেওয়া সহজ ক্যাচ ফেলে দেন কুপার কনোলি। এরপর ডুয়ারসুইসের বলে আরও একবার উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক, তবে এবার ক্যাচ ফেলে দেন মার্নাস লাবুশেন।
অন্যপ্রান্তে অস্বস্তিতে থাকা শুবমান গিল ইনসাইড-এজ হয়ে বোল্ড হয়ে যান ডুয়ারসুইসের বলে। দারুণ ছন্দে ব্যাট করা রোহিতকে এরপর আক্রমণে এসেই ফিরিয়ে দেন কনোলি। তার বাঁহাতি স্পিনে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে আউট হন ২৮ রানে।
এই উইকেটে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে জাগে জয়ের আশা। তবে শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ক্রমেই ম্যাচে ফিরে আসে ভারত। দুজন মিলে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের সামাল দেন দারুণ দক্ষতায়। এরই মধ্যে ফিফটি হয়ে যায় কোহলি। এরপর একটা সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি একটা, তবে কনোলির বলে মিড-অফে ডাইভ দিয়েও ক্যাচ নিতে পারেননি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই জুটির ইতি টানেন শেষ পর্যন্ত অ্যাডাম জাম্পা। অভিজ্ঞ এই লেগ স্পিনার আইয়ারকে ৪৫ রানে বোল্ড করে ভাঙেন ৯১ রানের জুটি। পাঁচে নামা আকসার প্যাটেল খেলেন কার্যকর এক ক্যামিও ইনিংস। তবে সেট হওয়ার পর তাকে বোল্ড করে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনেন এলিস।
শেষ ১২ ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৭২ রান। কোহলি ও লোকেশ রাহুল ভালোভাবেই সেট হওয়ায় ম্যাচ ক্রমেই হেলে যাচ্ছিল ভারতের দিকে। আরও একবার আক্রমণে এসে দারুণ এক গুগলিতে কোহলিকে বিভ্রান্ত করে ক্যাচ বানান জাম্পা। তবে এর আগে মাত্র ৫ চারে ৯৮ বলে ৮৪ রানের ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়া ইনিংস উপহার দেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার।
আরও পড়ুন
| অধিনায়কত্ব হারিয়ে টি-টোয়েন্টি দল থেকেই বাদ রিজওয়ান, নেই বাবরও |
|
ওই উইকেটের পর ম্যাচে ফের রোমাঞ্চের সম্ভাবনা জাগলেও, রাহুল ও হার্দিক পান্ডিয়া মিলে ভারতকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। জাম্পার করা শেষ ওভারে টানা দুই ছক্কায় হার্দিক দ্রুত ম্যাচ শেষের কাজ সেরে ফেলেন। শেষ মুহূর্তে ২৮ রানে তিনি আউট হলেও ভারতের জয়ে এর প্রভাব আর পড়েনি। রাহুল অপরাজিত থাকেন ৪২ রানে।
এর আগে দিনের শুরুতে আগে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের বড় হাইলাইট ছিলেন ট্রাভিস হেড। ভারতের বিপক্ষে বারবার সেরা সব ইনিংস খেলা এই মারকুটে ওপেনার এদিনও উড়ন্ত ছন্দেই ব্যাট করছিলেন। চার-ছক্কার মারে আভাস দিচ্ছিলেন বড় কিছুর। তবে এবার তিনি আর পারেননি। আক্রমণে এসেই তাকে ৩৯ রানে ফিরিয়ে দেন ভারুন চক্রবর্তী।
অন্য ওপেনার কনোলি রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন। এরপর ভারতের চার স্পিনার দিয়ে সাজানো আক্রমণ সামলে ইনিংস এগিয়ে নেন স্পিনের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সেরা দুই ব্যাটার স্মিথ ও লাবুশেন। জমে ওঠা এই জুটির ভাঙন ধরান রবীন্দ্র জাদেজা। তার শিকার হন লাবুশেন (২৯)।
স্মিথ একপ্রান্ত আগলে খেলেন দুর্দান্ত এক ইনিংস, যেখানে সম্ভাবনা ছিল তার সেঞ্চুরির। তবে ফিরতি স্পেলে এসে মোহাম্মদ শামি তাকে বোল্ড করে দেন ৭৩ রানে। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ইনিংস সাজান মাত্র ৪টি চার ও এক ছক্কায়।
২০৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে একটা ফাইটিং স্কোরের দিকে একাই টেনে নেন কেরি। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৬১ রানের লড়িয়ে এক ইনিংস। ৪৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার ছিলেন পেসার শামি।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:১২ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:২৭ পিএম

বিরাট কোহলির জনপ্রিয়তা কতটা ব্যাপক, তা নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঠে–মাঠের বাইরে, যেখানে যান সেখানেই ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যান ভারতের সাবেক অধিনায়ক। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ভাদোদরা পৌঁছানোর সময়ও ব্যতিক্রম হয়নি।
১১ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া সিরিজকে সামনে রেখে ভাদোদরা বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের তীব্র ভিড়ে পড়ে যান কোহলি। সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম—সেখানে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ‘মবের’ মতো। নিরাপত্তাকর্মীরাও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন। কোহলিকে নিরাপদেই বের করে এনেছেন তাঁরা।
লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর ভারতে কোহলিকে খুব একটা দেখা যায় না। ফলে দেশে এলেই তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য ভক্তদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। ভাদোদরায়ও ঠিক সেটাই দেখা গেছে। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুহূর্তে বিপুলসংখ্যক ভক্ত কোহলিকে ঘিরে ধরেন। চারদিক থেকে ভেসে আসে তার নামের ধ্বনি। মোবাইল ফোন উঁচিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
তীব্র ভিড়ের কারণে নিজের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতেই বেশ বেগ পেতে হয় কোহলিকে। কিছু সময়ের জন্য তাঁকে বিরক্ত ও মুখাবয়বে ছিল হতাশার প্রতিচ্ছবি। ভক্তদের চাপে কার্যত থমকে যায় তাঁর এগোনো, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার ভক্তদের ভিড়ে পড়েছেন কোহলি। কয়েক দিন আগেই বিজয় হাজারে ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে পৌঁছালে একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি। কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও সেবারও তাঁকে ঘিরে ধরেন অসংখ্য ভক্ত। তখন ভক্তরা তাঁর ফর্ম, সফরের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করেন, সেলফির আবদারও করেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখার অনুরোধ জানিয়ে কোহলি সেলফিতেও রাজি হন এবং পুরো সময়টাতেই তাঁকে হাসিখুশি দেখা যায়।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে দারুণ ছন্দেই আছেন কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর দ্রুতই নিজের চেনা রূপে ফেরেন তিনি। সিডনির ওয়ানডেতে করেন ফিফটি, তারপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা দুটি সেঞ্চুরি। সিরিজের শেষ ম্যাচেও করেন ফিফটি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পুরো সিরিজে কোহলির ব্যাট থেকে আসে ৩০২ রান। টানা চার ওয়ানডেতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কোহলি এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জে নামছেন। মাঠের পারফরম্যান্স যেমন আলোচনায়, তেমনি মাঠের বাইরে তার জনপ্রিয়তাও যে এখনও অটুট—ভাদোদরার বিমানবন্দর সেই ছবিই আবার স্পষ্ট করে দিল।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে সামনের মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এই বিষয়ে পরামর্শ করতে ও সরকারি আদেশপত্রের ব্যাপারে সবশেষ তথ্য জানতে বুধবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে দেখা করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ।
সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথাই আবারও জোর দিয়ে বলেন বুলবুল। সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মিটিংয়ের মূল ফলাফল কী? আপনাদের কি কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে আপনারা কীভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হবেন?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল: আমরা আইসিসির কাছে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে লিখেছি। আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব খেলোয়াড়দের দেখাশোনা করা হলেও, এর বাইরে সাংবাদিক, স্পন্সর এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। যেহেতু বিদেশ ভ্রমণের জন্য সরকারি আদেশের (গভর্নমেন্ট অর্ডার) প্রয়োজন হয়, তাই আমরা এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা নিচ্ছি।
যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না হয়, তবে আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়ে যাব। এটি একটি অত্যন্ত যৌক্তিক কারণ। আমরা এর আগে অনেক বিশ্বকাপ খেললেও কখনও এমন নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলিনি।
প্রশ্ন: অন্যান্য দেশও সেখানে খেলতে যাবে। তারা যদি কোনো অভিযোগ না করে, তবে আপনাদের অভিযোগ কি টিকবে বলে আপনি মনে করেন?
বুলবুল: আমরা একটি অত্যন্ত যৌক্তিক বিষয় নিয়ে কথা বলছি। উদাহরণস্বরূপ, মোস্তাফিজের মতো একজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে যখন দেখা গেল যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অসুবিধা হচ্ছে, তখন তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুরো বাংলাদেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী যখন খেলা দেখতে যাবে, সেটি একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
প্রশ্ন: এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেমন হতে পারে বলে আপনি মনে করছেন?
বুলবুল: আমরা আমাদের জাতীয় দল প্রস্তুত করছি। এরই মধ্যে স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান বিপিএল আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমাদের দলকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সঙ্গে অভ্যস্ত করা। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমরা কোনো ছাড় দিচ্ছি না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে আইসিসি আপনাদের কিছু জানিয়েছে?
বুলবুল: শ্রীলঙ্কায় খেলা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়- এমন একটি অপপ্রচার চলছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আইসিসির সঙ্গে আমাদের একবার যোগাযোগ হয়েছে। তারা জানতে চেয়েছে আমাদের সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো কী। আমরা এখন সেই বিষয়গুলো লিখিতভাবে জানাচ্ছি।
প্রশ্ন: আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। যদি নতুন সরকার আসে, তবে এর প্রভাব কী হবে?
বুলবুল: আমরা একটি ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে কাজ করি। আইসিসি বা ফিফার মতো সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। আমরা আমাদের যৌক্তিক কারণগুলো তাদের কাছে তুলে ধরি এবং সেভাবেই কাজ পরিচালনা করি।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার পরিণতি বাংলাদেশ যদি না যায় তবে তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। বিসিবি কি এই বিষয়টি বিবেচনা করবে?
বুলবুল: বিসিবি অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবে। অতীতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় ভারত পাকিস্তানে যায়নি এবং পাকিস্তানও গত কয়েকটি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসেনি। সুতরাং, আমরা একটি সঠিক সমাধানের আশা করছি। ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে যদি বিশ্বকাপ নিয়ে আপস করতে হয়, তবে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকব।

এক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফিনিশার হিসেবে দেখা হত নাসির হোসেনকে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা খুব লম্বা করতে পারেননি তিনি। অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপনে ২০১৮ সালে থমকে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। সেই থেকে নির্বাচকদের নজরে নেই নাসির হোসেন। বিপিএলের চলমান আসরে সেই নাসির ৫ম রাউন্ডে এসে সমর্থকদের দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস (৫০ বলে ১৪ চার, ২ ছক্কায় ৯০*) উপহার। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশে ইমাদ ওয়াসিমের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৪র্থ উইকেট জুটিতে ৪০ বলে ৬১ রানে ৩৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বিশাল জয় উদযাপন করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস। ৫ম ম্যাচে এটি ঢাকা ক্যাপিটালসের দ্বিতীয় জয়।
এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ড পারফরমেন্সে (২৫.১৪ গড় এবং ১১৫.৭৮ স্ট্রাইক রেটে ১৭৬ রান এবং ২৫.৮৩ গড়ে ৬ উইকেট) উজ্জীবিত নাসির হোসেন এবারের বিপিএলকে করেছেন টার্গেট। প্রথম ৪ ম্যাচের ১ টি তে পাননি ব্যাটিংয়ের সুযোগ। ৫ম রাউন্ডে এসে সতর্ক শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যাটটা করেছেন চওড়া। দ্বিতীয় ওভারে হাসান মাহামুদকে ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি পেয়ে হয়েছেন চাঙ্গা। ৪র্থ ওভারে আফগান অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীকে মেরেছেন লং অফ, লং অন, ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ এবং কাউ কর্নার দিয়ে চারটি বাউন্ডারি। রেজাউর রহমান রাজাকে লং অন দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মাত্র ২১ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১০ম ফিফটি উদযাপন করেছেন। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস ছিল ৮০, তা ছাপিয়ে বুধবার সিলেটে করেছেন ৫০ বলে ৯০। বলে-কয়ে ১৪টি বাউন্ডারি মেরেছেন। মাজ সাদাকাতকে কাউ কর্নার দিয়ে এবং জহির খানকে একই জায়গা দিয়ে তাঁর ছক্কা দুটিও ছিল অসাধারণ।
পার্টনার ইমাদ ওয়াসিম একটু হিসেবি হলে এদিন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির দেখাও পেতে পারতেন নাসির। কিন্তু ১৩তম ওভারে আফগান পেসার জহির খানকে ২ ছক্কা ১ বাউন্ডারি মেরে ইমাদ ওয়াসিম নাসিরের সেঞ্চুরির পথে বাধা হয়ে দাড়িঁয়েছেন। ইমাদ ওয়াসিম ১৬ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বিপিএলের চলমান আসরে ক্রমশ লজ্জা ভারী হচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। টানা ৫টি ম্যাচে হারের বৃত্তে সমর্থকদের এই দলটি। প্রতিটি ম্যাচেই নোয়াখালীর সহজ আত্মসমর্পন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বুধবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে দুর্যোগের কবলে (১৯/৩) পড়ে নোয়াখালী। স্কোরশিপের চেহারা এক পর্যায়ে ছিল ৪০/৫! সেখান থেকে ৬ষ্ঠ জুটিতে মোহাম্মদ নবী-হায়দার আলী যোগ করেছেন ৬৪ বলে ৯০। এই জুটির ব্যাটিংয়ে শেষ পাওয়ার প্লে-এর ৩০ বলে যোগ হয়েছে ১ উইকেটের বিপরীতে ৫০ রান।
পয়েন্টহীন কাটানো নোয়াখালী এক্সপ্রেস ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৫ম ম্যাচে ১৩৩/৬ স্কোর করেছে। আশ্চর্য হলেও সত্য, স্থানীয় ব্যাটারদের কেউ ডাবল ফিগারের দেখা পাননি! ৩৬ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় হায়দার আলীর ৪৭, ৩৩ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় মোহাম্মদ নবীর হার না মানা ৪২ এবং মাজ সাদাকাতের ১৯ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ২৪, এই তিন ব্যাটারই তাদের বিদেশী রিক্রুট।
আবু হাশিম নামের এক বাঁ হাতি স্পিন অলরাউন্ডার এদিন বিপিএলের চলমান আসরে প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ব্যাটিংয়ে তার অবদান ১ বলে ০*, বোলিংয়ে ২-০-৮-০। যেখানে প্রিমিয়ার ডিভিশনের অনেক ক্রিকেটার পায়নি বিপিএলে দল, সেখানে প্রথম বিভাগের দল উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড় আবু হাশিম পেয়েছেন ৫ম রাউন্ডে এসে খেলার সুযোগ! বিপিএলে অংশগ্রহনই কী তাহলে বড় কথা, নাকি অন্য কিছু। হারের বৃত্তে থাকা নোয়াখালী এক্সপ্রেসই এ প্রশ্নের ভাল উত্তর দিতে পারবে।

নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ বাছাইপর্বের সূচি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নেপালে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ১০টি দল। আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বাছাইপর্ব, যেখানে চারটি দল জায়গা করে নেবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে জুন–জুলাইয়ে নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে।
বাছাইপর্ব শুরুর আগে ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি তিনটি ভেন্যুতে প্রস্তুতি ম্যাচ হবে। ভেন্যুগুলো হলো—ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও লোয়ার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। গ্রুপ পর্ব শুরু হলে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচগুলো হবে শুধু ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ও আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
গ্রুপ পর্ব শুরু হবে ১৮ জানুয়ারি। উদ্বোধনী দিনে সকালের ম্যাচে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় নেপাল মুখোমুখি হবে থাইল্যান্ডের, একই সময়ে আপার মুলপানিতে বাংলাদেশ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচগুলোতে দুপুর ১টায় জিম্বাবুয়ে খেলবে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে এবং আয়ারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি।
গ্রুপ পর্বে চার দিন টানা চারটি করে ম্যাচ হবে। এই পর্ব শেষ হবে ২৬ জানুয়ারি। গ্রুপ ‘এ’ ও গ্রুপ ‘বি’ থেকে সেরা তিনটি করে মোট ছয় দল উঠবে সুপার সিক্সে। সুপার সিক্স পর্বের ম্যাচগুলো হবে ২৮ জানুয়ারি, ৩০ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি। এই পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে চারটি বিশ্বকাপ টিকিট।
‘এ’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে নেপাল, থাইল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। ২০ জানুয়ারি পাপুয়া নিউগিনি, ২২ জানুয়ারি নামিবিয়ার এবং ২৪ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ২৬ জানুয়ারি।
২০২৬ নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে। বাছাইপর্বের এই প্রতিযোগিতা সেই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়ার শেষ সুযোগ। কঠিন গ্রুপেই পড়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে তারা এখন ১০ নম্বরে, তাদের গ্রুপে আছে ৯ নম্বরে থাকা আয়ারর্যান্ড ও ১৩ নম্বরে থাকা পাপুয়া নিউগিনি।
নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ বাছাইপর্ব
ভেন্যু: নেপাল
তারিখ: ১৮ জানুয়ারি–১ ফেব্রুয়ারি
ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ: ১৪ ও ১৬ জানুয়ারি
গ্রুপ পর্বের সূচি
গ্রুপ ‘এ’: বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, পাপুয়া নিউগিনি
১৮ জানুয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
আয়ারল্যান্ড-পাপুয়া নিউগিনি — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
২০ জানুয়ারি
পাপুয়া নিউগিনি-বাংলাদেশ — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
নামিবিয়া-যুক্তরাষ্ট্র — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
২২ জানুয়ারি
আয়ারল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
বাংলাদেশ-নামিবিয়া — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
২৪ জানুয়ারি
পাপুয়া নিউগিনি-নামিবিয়া — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
২৬ জানুয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র-পাপুয়া নিউগিনি — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
নামিবিয়া-আয়ারল্যান্ড — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
গ্রুপ ‘বি’: নেপাল, থাইল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড
১৮ জানুয়ারি
নেপাল-থাইল্যান্ড — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
জিম্বাবুয়ে বনাম নেদারল্যান্ডস — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
২০ জানুয়ারি
জিম্বাবুয়ে-থাইল্যান্ড — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
স্কটল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
২২ জানুয়ারি
নেপাল-নেদারল্যান্ডস — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
স্কটল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
২৪ জানুয়ারি
থাইল্যান্ড-স্কটল্যান্ড — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
নেপাল-জিম্বাবুয়ে — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
২৬ জানুয়ারি
নেপাল-স্কটল্যান্ড — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
নেদারল্যান্ডস-থাইল্যান্ড — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
সুপার সিক্স পর্বের সূচি
(গ্রুপ ‘এ’ ও ‘বি’ থেকে শীর্ষ তিন দল)
২৮ জানুয়ারি
‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল-‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় দল গ্রুপ -‘এ’ গ্রুপের প্রথম দল — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
‘এ’ গ্রুপের তৃতীয় দল- ‘বি’ গ্রুপের প্রথম দল — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
৩০ জানুয়ারি
গ্রুপ ‘এ’-এর প্রথম দল বনাম গ্রুপ ‘বি’-এর দ্বিতীয় দল — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
গ্রুপ ‘এ’-এর দ্বিতীয় দল বনাম গ্রুপ ‘বি’-এর প্রথম দল — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
গ্রুপ ‘এ’-এর তৃতীয় দল বনাম গ্রুপ ‘বি’-এর তৃতীয় দল — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
১ ফেব্রুয়ারি
গ্রুপ ‘এ’-এর দ্বিতীয় দল বনাম গ্রুপ ‘বি’-এর তৃতীয় দল — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
গ্রুপ ‘এ’-এর প্রথম দল বনাম গ্রুপ ‘বি’-এর প্রথম দল — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, সকাল ৯টা
গ্রুপ ‘বি’-এর দ্বিতীয় দল বনাম গ্রুপ ‘এ’-এর তৃতীয় দল — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুপুর ১টা
ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের সূচি
১৪ জানুয়ারি
সকাল
বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
জিম্বাবুয়ে-পাপুয়া নিউগিনি — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
নেপাল-আয়ারল্যান্ড — লোয়ার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
দুপুর
নামিবিয়া-থাইল্যান্ড — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
যুক্তরাষ্ট্র-স্কটল্যান্ড — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
১৬ জানুয়ারি
সকাল
আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
পাপুয়া নিউগিনি-স্কটল্যান্ড — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
নেদারল্যান্ডস বনাম নামিবিয়া — লোয়ার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
দুপুর
নেপাল-যুক্তরাষ্ট্র — ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড
থাইল্যান্ড-বাংলাদেশ — আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ড

জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক বাদ পড়ায় তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেলেন নাসির হোসেন। আর কী দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন সেই সুযোগ। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে তিনি খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। সহজ জয় পেল ঢাকা ক্যাপিটালস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুরের ম্যাচে নোয়াখালীকে ৭ উইকেটে হারায় ঢাকা। আগে ব্যাট করে মাত্র ১৩৩ রান করে নোয়াখালী। জবাবে নাসিরের তাণ্ডবে মাত্র ১৪.১ ওভারে ম্যাচ জিতে যায় ঢাকা।
এ নিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচের সবকয়টি হারল নোয়াখালী। বিপিএল ইতিহাসে পঞ্চম দল হিসেবে আসরের প্রথম পাঁচ ম্যাচ হারল তারা। বিপরীতে পাঁচ ম্যাচে ঢাকার এটি দ্বিতীয় জয়।
ঢাকার সহজ জয়ের কারিগর নাসির। তিন নম্বরে নেমে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তিনি খেলেন ৫০ বলে ৯০ রানের ইনিংস। ১৫৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই নাসিরের সেরা ইনিংস। পাশাপাশি বল হাতেও নেন ১ উইকেট।
রান তাড়ায় তিন ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের উইকেট হারায় ঢাকা। তিন নম্বরে নেমে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন নাসির।
তিন ওভার শেষে ৯ বলে ১২ রানে ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। সেখান থেকে পরের ৮ বলে ৬ চারের সঙ্গে তিনি মারেন ১টি ছক্কা। ঝড়ো ব্যাটিং ধরে রেখে মাত্র ২১ বলে তিনি পূর্ণ করেন ফিফটি। যা চলতি আসরের দ্রুততম।
তৃতীয় উইকেটে আসে ২৮ বলে ৫৯ রানের জুটি। যেখানে ইরফান শুক্কুরের অবদান মাত্র ১১ বলে ১২ রান। এরপর ইমাদ ওয়াসিমকে নিয়ে ফের তাণ্ডব চালান নাসির। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪০ বলে ৬১ রান যোগ করেন।
শেষ পর্যন্ত ১৬ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন ইমাদ। আর ৫০ বলের ইনিংসে ১৪ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মারেন নাসির।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে নোয়াখালী। ১০ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। আরও একবার হতাশ করেন হাবিবুর রহমান সোহান (১৩ বলে ৬), সৌম্য সরকার (৬ বলে ১), মুনিম শাহরিয়ার (৬ বলে ২) ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৯ বলে ৪)।
পরে হাল ধরেন মোহাম্মদ নবী ও হায়দার আলি। দুজন মিলে গড়েন ৬৪ বলে ৯০ রানের জুটি। হায়দার ৩৬ বলে ৪৭ রান করে আউট হন। নবী অপরাজিত থাকেন ৩৩ বলে ৪২ রান করে। দুজনের চেষ্টার পরও তেমন বড় হয়নি নোয়াখালীর পুঁজি।
ঢাকার পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন হাত ঘোরানো ৬ বোলারের সবাই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৩৩/৬ (সোহান ৬, সৌম্য ১, মাজ ২৪, মুনিম ২, অঙ্কন ৪, নবী ৪২*, হায়দার ৪৭, হাশিম ০*; ইমাদ ৪-০-১৬-১, তাসকিন ৪-০-২৮-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩০-১, জিয়াউর ৪-১-২৬-১, নাসির ৩-০-২৪-১, মামুন ১-০-৬-১)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৪.১ ওভারে ১৩৪/৩ (গুরবাজ ০, মামুন ১, নাসির ৯০*, ইরফান ১২, ইমাদ ২৯*; হাসান ৩-০-১৭-২, নবী ৩-০-৩১-০, মাজ ১-০-১৮-০, রাজা ২.১-০-২৭-০, হাশিম ২-০-৮-০, জহির ৩-০-৩২-১)
ফল: ঢাকা ক্যাপিটালস ৭ উইকেটে জয়ী