১ মার্চ ২০২৬, ৮:২৮ পিএম

ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়া মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার সকালেই দেশে ফিরে আসবেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার।
কিছু দিন আগে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুশফিক। ওমরাহ শেষ করে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার জন্য বিমানেও উঠেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
এর মাঝেই ইরানে আক্রমণ করে বসে ইসরায়েল। যে কারণে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবার জেদ্দায় ফিরে যায় মুশফিকদের বহনকারী বিমান। একদিন বিরতি দিয়ে আজ (রোববার) রাতের ফ্লাইটে আবার রওনা দেবেন তিনি।
রোববার কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে মুশফিকের ফেরার ব্যাপারে এই তথ্য জানিয়েছেন আমিনুল হক।
“আমি পরিপূর্ণভাবে এটি ওয়াকিবহাল ও নিজেই ব্যক্তিগতভাবে এটাকে মনিটর করছি। এরই মধ্যে আমার সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের কথা হয়েছে, আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি, আজকের রাতের ফ্লাইটে মুশফিকুর রহিম আগামীকাল সকালেই দেশে ফিরতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করছি।”
“এখন পর্যন্ত মুশফিক ভালো আছে, সুস্থ আছে। আমাদের অন্যান্য যারা বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে আমাদের খেলোয়াড়রা বা আমাদের যারা বাংলাদেশিরা বিভিন্নভাবে যারা এই জটিলতার কারণে আটকে আছেন, আমরা সকলকেই আহ্বান করছি, যাতে সুস্থ শরীরে সবাই দেশে ফিরে আসতে পারে। সবার প্রতি আমাদের শুভকামনা।”
এসময় মুশফিকের দেশে ফেরার ব্যাপারে আবারও নিশ্চয়তা দেন আমিনুল।
“স্পেশালি মুশফিকুর রহিমের যে স্ট্যাটাসের ওপরে যেটা আপনারা সকলেই অবগত হয়েছেন, আমরাও হয়েছি। ইনশাআল্লাহ আগামীকাল সকালবেলায়, আজকের রাতের ফিরটি ফ্লাইটে ইনশাআল্লাহ মুশফিকুর রহিম আগামীকালকে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে ফিরে আসবে সুস্থভাবে।”
এর আগে শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পোস্টে দোয়ার ইমোজি জুড়ে দিয়ে দোয়া চান মুশফিক, ‘সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’
একই পোস্টে সার্বিক পরিস্থিতিও জানান দেন তিনি।
‘সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। কয়েক দিন আগে আমি উমরাহ হজ পালনের জন্য মক্কায় এসেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, হজ সম্পন্ন করেছি এবং আজ এমিরেটস হয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম।’
‘আজ সকালে জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ইকে ০৮০৬ ফ্লাইটে উড়াল দিই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সব ফ্লাইট জেদ্দায় ফিরে এসেছে। এখন আমি হাজারো যাত্রীর সঙ্গে জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছি।’
‘সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন, কবে এবং কীভাবে আমরা অন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গে ঢাকায় ফিরতে পারব। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’
No posts available.
১ মার্চ ২০২৬, ৭:০০ পিএম
১ মার্চ ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
১ মার্চ ২০২৬, ৫:২১ পিএম

আগের দিন বিরাট কোহলির এক যুগ পুরোনো এক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান। এর ২৪ ঘণ্টা না যেতেই ভারতীয় কিংবদন্তির আরেক রেকর্ড নতুন করে লিখেছেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার ব্রায়ান বেনেট।
অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসগড়া বিশ্বকাপের বড় কারিগর বেনেট। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে তিনি করেছেন ২৯২ রান। তার গড় প্রায় অবিশ্বাস্য, ১৪৬.০০! টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক আসরে অন্তত ১০০ রান করা ব্যাটারদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড।
এত দিন এই রেকর্ডটি ছিল কোহলির। এক দশক আগে ভারতের মাঠেই হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ ইনিংসে ১৩৬.৫০ গড়ে ২৭৩ রান করেছিলেন আধুনিক ক্রিকেটের এই ব্যাটিং গ্রেট। সেবার ৩ ইনিংসে অপরাজিত থাকায় এমন অবিশ্বাস্য ছিল তার গড়।
এবার বেনেটের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। টুর্নামেন্টের ছয় ইনিংসের ৪টিতেই অপরাজিত ছিলেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার। তাই প্রায় দেড়শর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তার ব্যাটিং গড়।
প্রথম রাউন্ডের তিন ম্যাচে তাকে আউটই করতে পারেনি ওমান, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা। ওমানের বিপক্ষে ৪৮, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৪ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন বেনেট।
পরে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ রান করে আউট হন বেনেট। পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে তিনি খেলেন ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। আর শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আউট হয়েছেন ১৫ রান করে।
পুরো টুর্নামেন্টে দুবার মাত্র আউট হওয়ায় তার সার্বিক গড় ১৪৬.০০! যা ভেঙে দিয়েছে কোহলির রেকর্ড।
অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোহলির এমন অতিমানবীয় গড় ছিল আরও দুই আসরেও। ২০১৪ সালে ৬ ইনিংসে ১০৬.৩৩ গড়ে ৩১৯ রান করেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। আর ২০২২ সালে ৬ ইনিংসে ৯৮.৩৩ গড়ে তিনি করেছিলেন ২৯৬ রান।

প্রথমে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন সিকান্দার রাজা। দলকে এনে দিলেন লড়াইয়ে পুঁজি। বোলিংয়েও নিজের কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে নিলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে তিনি গড়লেন রেকর্ড। তবে তার একার লড়াই সামলে স্বস্তির জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নই হলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
দিল্লিতে রোববার বিকেলের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। রাজার বিধ্বংসী ফিফটিতে ৭ উইকেটে ১৫৩ রানের সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। জবাবে ১৩ বল বাকি রেখে ম্যাচ জেতে প্রোটিয়ারা।
সুপার এইটের প্রথম গ্রুপে তিন ম্যাচের সবকটি জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমি-ফাইনাল খেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী বুধবার প্রথম সেমি-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় গ্রুপের রানার্স-আপ নিউ জিল্যান্ড।
আগের দুই ম্যাচে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতকে ব্যাটিং করতে পাঠিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই দুই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫৪ ও ভারত করেছিল ২৫৬ রান। তাই নিজেদের শেষ ম্যাচে টস জেতার পর ফিল্ডিং করার ঝুঁকি নেয়নি জিম্বাবুয়ে।
ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ছন্দে থাকা ব্রায়ান বেনেট এদিন ১৩ বলে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে ১৪৬ গড়ে ২৯২ রান করেন বেনেট। টুর্নামেন্টের এক আসরে অন্তত ১০০ রান করা ব্যাটারদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড।
বাকিদের ব্যর্থতার দিনে একাই দলকে টেনে নেন সিকান্দার রাজা। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ বলে ফিফটি করার পরও আরও এগিয়ে যান জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ১৭তম ওভারে থামে তার ৮ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো ৪৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস।
শেষ দিকে ক্লাইভ মাদান্ডে ২৬ রান করলে দেড়শ পেরোয় জিম্বাবুয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন কিউনা মাফাকা ও করবিন বশ।
রান তাড়ায় শুরুতেই রাজার স্পিন পরীক্ষায় পড়ে প্রোটিয়ারা। প্রথম ওভারে কুইন্টন ডি কক ও পরের ওভারে এইডেন মার্করামকে আউট করে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দেন রাজা।
তবে রায়ান রিকেল্টন ২২ বলে ৩১ ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস মাত্র ১৮ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। ব্রেভিসকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন রাজা। ১০১ রানে ৫ উইকেটে কিছুটা চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ষষ্ঠ উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন ট্রিস্টান স্টাবস (২৪ বলে ২১) ও জর্জ লিন্ডা (২১ বলে ৩০)।
ব্যাট হাতে ৭৩ রানের পর বোলিংয়ে ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন রাজা। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ৭০+ রান ও ৩ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। ২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে ৭২ রানের পাশাপাশি ৩ উইকেট নিয়েছিলেন শেন ওয়াটসন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোবার্টে দুঃস্বপ্নের এক দিন কাটালেন ভারতের বোলাররা। নারী ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্পেলের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের দুই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার শ্রী চরানি ও দীপ্তি শর্মা। এর মধ্যে চরানি হয়ে গেলেন এক ইনিংসে ১০০–এর বেশি রান হজম করা প্রথম ভারতীয় নারী ক্রিকেটার।
হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৭ উইকেটে ৪০৯ রান—তাদের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। বিদায়ী ওয়ানডেতে অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি ৯৮ বলে ১৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যা নারী ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম ১৫০। অন্য প্রান্তে অপরাজিত ১০৬ (৮৪ বলে) করেন বেথ মুনি।
ভারতের পাঁচ বোলারই ওভারপ্রতি এক রানের বেশি খরচ করেন। সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন শ্রী চরানি—১০ ওভারে ১০৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। দীপ্তি ১০ ওভারে দেন ৯০ রান, নেন ১ উইকেট। এর আগে এক ইনিংসে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৮ রান দিয়েছিলেন প্রিয়া মিশ্রা, সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড পেরিয়ে এখন শীর্ষ দুই স্থানে শ্রী চরানি ও দীপ্তি।
নারী ওয়ানডেতে সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্পেলের তালিকায় শীর্ষে আছেন আয়ারল্যান্ডের কারা মারে—২০১৮ সালে ডাবলিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ওভারে ১১৯ রান দেন তিনি। তালিকার প্রথম দশটির সাতটিই আয়ারল্যান্ডের বোলারদের দখলে, যার বেশির ভাগই ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই সিরিজে।
ম্যাচে ৪০৯ রান তাড়ায় ভারত গুটিয়ে যায় ২২৪ রানে (৪৫.১ ওভার)। ১৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যায় তারা। ম্যাচসেরা হন হিলি।
২০২৫ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতের দলে থাকা শ্রী চরানি ও দীপ্তির জন্য দিনটি ছিল হতাশার। তবে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বোলিং কৌশল এবং অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী ব্যাটিং—দুই মিলেই তৈরি হয়েছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যান।

অ্যালিসা হিলি ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন। জানুয়ারিতে জানিয়ে রেখেছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় ইতি টানবেন শিগগিরই। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ বুঝি আজই এলো। হোবার্টে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ছিল হলুদ জার্সিতে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে। সাদা শুভ্র পোশাকে অসি উইকেটকিপার ব্যাটার শেষ টেস্ট খেলবেন আগামী সপ্তাহে।
আগেই সিরিজ নিশ্চিত করা অস্ট্রেলিয়া আজ সফরকারী ভারতকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবায়। ১৮৫ রানের বড় জয়ের ম্যাচে ৯৮ বলে ১৫৮ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস উপহার দেন হিলি। আগের সাত ওয়ানডে সেঞ্চুরির সঙ্গে বিদায়বেলায় যোগ হলো আরও একটি, যা গড়ে দেয় বিশ্বরেকর্ড।
অস্ট্রেলিয়ার দলপতি আজ ফিফটি স্পর্শ করেন ৪৯ বলে। পরের ৩০ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। শতক থেকে দেড়শ রানে যেতে লেগেছে মাত্র ১৬ বল। আর বাইশগজ ছাড়া হন স্নেহ রানার বলে বোল্ড হয়ে। তাঁর ইনিংসে ছিল ২৭টি চার ও ২টি ছক্কা। শুরুতে সৌম্য শান্ত মেজাজে না খেললে নিশ্চয়ই বাউন্ডারির সংখ্যা আরও বাড়ত।
ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে টানেল মাড়ানোর আগে মেয়েদের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙে দেন হিলি। ২০০৭ সালে নিজের শেষ ওয়ানডেতে ১৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহমারি লোগটেনবার্গ। ১৯ বছর ধরে রেকর্ডটি কেউ ভাঙতে পারেননি। আজ সেটা চলে গেল হিলির দখলে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১২৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন হিলি। তাঁর রান ৩ হাজার ৭৭৭। ৭টি সেঞ্চুরি ও ১৯টি অর্ধশতক রয়েছে ৩৫ বর্ষী এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলেও নেট রান রেটের সমীকরণ মেলাতে পারেনি পাকিস্তান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দলটির অধিনায়ক সালমান আলী আগাকে ধুয়ে দিচ্ছেন সাবেকরা। তীর্যক মন্তব্য করেছেন করেছেন সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।
লতিফের মন্তব্য, এই অধিনায়ককে ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস বা শোয়েব আখতারের মতো কিংবদন্তি বোলার দিলেও তিনি ম্যাচ হারবেন।
সুপার এইটের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ ছিল কঠিন। সেমিফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের নিচে আটকে রাখতে হতো তাদের। কিন্তু ২১২ রান করার পরও পাকিস্তান বোলিংয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কা ২০৭/৬ করায় নেট রানরেটে পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান, সেমিফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচে পাকিস্তান তিনটি পরিবর্তন আনে। নাসিম শাহ ও আবরার আহমেদের মতো বোলারদের দলে নেওয়া হয়। শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ ও উসমান তারিকও বোলিংয়ে ছিলেন। তবু ২০০–এর বেশি রান দিয়ে ফেলায় হতাশ লতিফ।
পাকিস্তানের জিইও টিভির শো ‘হারনা মানা হ্যায়’ লতিফ বলেন,
‘আমাদের সমস্যা ব্যাটিং নয়, বোলিং। আজ (গতকাল) সব বিশেষজ্ঞ বোলার খেলেছে, তবু ২০০–এর বেশি রান দিয়ে দিয়েছে। এই অধিনায়ককে যদি ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, শোয়েব আখতার, সাকলাইন মুশতাক, মুরালিধরন বা শেন ওয়ার্নের মতো বোলারও দাও, তবু সে হারবে।’
লতিফ বলেন, ‘শাদাব ১৫তম ওভারে বল করতে এল কেন? নাসিমের ওভারগুলো শুরুতেই খরচ করে ফেললে চলবে না। আবরার আগেই আনা উচিত ছিল। অধিনায়কের ম্যাচ–সচেতনতার অভাবই দায়ী।’
ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লতিফ। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে পরিবর্তন এনে বাবর আজমকে বাদ দেওয়া হয়। ওপেনিংয়ে নামেন ফখর জামান ও সাহিবজাদা ফারহান। দুজন মিলে ১৭৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করেন প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে। তবু শেষ দিকে ৩৬ রানে ৮ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
লতিফের ভাষায়,
‘ফারহান পুরো মৌসুমে দারুণ খেলেছে। ফখর সুযোগ পেয়ে অসাধারণ ইনিংস খেলেছে। কিন্তু এরপর আবার ব্যাটিং অর্ডার বদলানো হলো। এই কোচিং স্টাফের কৌশলই পরাজয়ের কারণ।’
অধিনায়ক আগা অবশ্য ম্যাচ শেষে শিশিরকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, টস হারার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। পাশাপাশি স্বীকার করেন, দলের মিডল অর্ডার কয়েক বছর ধরেই সমস্যায় আছে।
আগা বলেন, ‘শিশির বড় প্রভাব ফেলেছে। আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। উসমানের খারাপ দিন গেছে। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা ব্যাটিং ভালো করতে পারিনি। ১৮ ওভার ভালো ব্যাটিং করেছি, শেষ দুই ওভারে প্রতিপক্ষ ভালো করেছে। এমনকি ১৬০ রানও রক্ষা করা কঠিন হতো।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পাকিস্তান দলে নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লতিফের কঠোর মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।