
সীমিত ওভারের ম্যাচে ক্যাচ ফেলে দিয়েও ম্যাচে ফেরা যায়, নিয়ন্ত্রিত বোলিংই সাদা বলের ক্রিকেটে বোলারদের মূলমন্ত্র। লাল বলের খেলায় সেখানে ক্যাচ ড্রপ পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ কম। টেস্টে যেখানে হাফ চান্স মিস করতে চাইবে না ফিল্ডাররা, সেখানে মঙ্গলবার সিলেটে পর পর তিন ওভারে বাংলাদেশ ফিল্ডারদের হাত থেকে ফসকে গেছে তিন তিনটি ক্যাচ!
স্কোরশিটে কোনো রান ওঠার আগে ওপেনিং পার্টনারশিপ ভেঙ্গে দেয়ার সে কি আনন্দ। ইনিংসের ৪র্থ বলে অধিনায়ক বালব্রিনকে লো বলে এলবিডাব্লুউতে ফেরত পাঠিয়ে সেই উদযাপনটা প্রথম ঘন্টায় আরও উৎসবমুখর হতে পারতো। চকচকে নতুন বলে দুই পেসার নাহিদ রানা-হাসান মাহমুদের গর্জনে বার বার কেঁপে ওঠা আয়ারল্যান্ড টপ অর্ডারদের ক্যাচ ফেলে দিনটাকে মিশ্র দিনে রূপ দিয়েছে বাংলাদেশ ফিল্ডাররা। প্রথম দিন আয়ারল্যান্ডের ইনিংস গুড়িয়ে দিতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম দিন শেষে সফরকারীদের স্কোর ২৭০/৮। সিলেটে শেষ সেশনে বল পড়ে যেভাবে লো করছে, তাতে প্রথম ইনিংসে লিড নেয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারের ৪র্থ বলে পেসার নাহিদ রানাকে ডিফেন্স করতে যেয়ে সেকেন্ড স্লিপে স্টার্লিং দিয়েছিলেন ক্যাচ। সাদমানের হাত থেকে ফসকে গেছে সে ক্যাচ। ৮ রানের মাথায় স্টার্লিংকে ফেরত পাঠানোর সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।
ইনিংসের ৫ম ওভারের ৪র্থ বলে আর এক পেসার হাসান মাহমুদের শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে কারমাইকেল দিয়েছিলেন মিড উইকেটে ক্যাচ। সেই ক্যাচটি হাতে নিয়েও ফেলে দিয়েছেন তাইজুল। কারমাইকেলের রান তখন ১০।
৬ষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে নাহিদ রানাকে উৎসবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মিরাজ। গালিতে ফেলে দিয়েছেন ক্যাচ। তখন স্টার্লিংয়ের রান ১০।
যে স্টার্লিং ৮ এবং ১০ রানে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন, সেই নাদুস নুদুস ক্রিকেটার ফিফটি উদযাপন করেছেন। লাঞ্চের পর নাহিদ রানার ঘন্টায় ১৪৬.৩ কিলোমিটার গতির তৃতীয় ডেলিভারিতে সেকেন্ড স্লিপে সাদমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে থেমে যাওয়ার আগে করেছেন ৬০ রান। ওয়ানডে মেজাজে ৭৬ বলে ৬০ রানের ইনিংসে মেরেছেন তিনি ৯টি চার। যার মধ্যে বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুলকে পর পর ২টি এবং হাসান মাহমুদের এক ওভারে ২টি বাউন্ডারি মেরেছেন।
যে পার্টনারশিপ থেমে যেতে পারতো ১৮ এবং ২০ রানে, ৩টি ক্যাচ ড্রপে সেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি যোগ করেছে ৯৬ রান!
টেস্ট অভিষেকে কারমাইকেলকে ফিফটি উপহার দিয়েছেন তাইজুল। ১০ রানের মাথায় এই আইরিশকে ফিরিয়ে দেয়ার সুৃযোগ হাতছাড়া করায় ইনিংস টেনে নিয়েছেন কারমাইকেল ৫৯ পর্যন্ত। টি ব্রেকের পর তৃতীয় ওভারে মিরাজের বলে রিভার্স সুইপ করতে যেয়ে কারমাইকেল দিয়েছেন ফার্স্ট স্লিপে ক্যাচ। ১২৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে শোভিত যে ইনিংসটি থামিয়েছেন শান্ত দারুণ এক ক্যাচে। লো ক্যাচটি নিশ্চিত হতে আলট্রা এজ চেক করতে হয়েছে টিভি আম্পায়ারকে।
এই কারমাইকেল দিয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৯৬ এবং চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫৩ রানে নেতৃত্ব।
৫ম উইকেট জুটিতে ক্যাম্ফার-টাকারের ৫৩ রান, ৮ম জুটিতে ম্যাকার্থি-নেইলের ৪৮ রানের পার্টনারশিপও ছিল প্রথম দিনে উল্লেখ করার মতো।
উইকেটের উপরের স্তরে ঘাস রাখা হয়েছে। তবে রোদে পুড়ে বাদামী রঙের সেই ঘাসের উপর বল প্রত্যাশিত বাউন্স পায়নি। প্রথম ঘন্টা পেরুনোর পর বলে ধরেছে টার্ন। বাঁ হাতি স্পিনার হাসান মুরাদ টেস্ট অভিষেকের দিনে পেয়েছেন যথেষ্ট টার্ন। তার একটি ডেলিভারি লেগ স্ট্যাম্প পিচ করে বেরিয়ে গেছে অফ স্ট্যাম্প ঘেঁষে! লম্বা স্পেলে বল করে কার্টিস ক্যাম্ফারকে (৯৪ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৪৪) স্ট্যাম্পিংয়ে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম টেস্ট উইকেট উদযাপন করেছেন। ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে লরকান টাকারকে ( ৮০ বলে ৩ চার, ২ ছক্কায় ৪১) ডাউন দ্য উইকেটে খেলার ফাঁদে ফেলে স্ট্যাম্পিংয়ে কেটে দিয়েছেন। ওভারপ্রতি ২.৩৫ রান খরচায় ২ উইকেট পেয়েছেন এই অভিষিক্ত (২০-৫-৪১-২)। প্রথম দিনটিতে সফল অফ স্পিনার মিরাজ (২৩-৬-৫০-৩)।
গতি দিয়ে আইরিশ ব্যাটারদের ভয় পাইয়ে দিলেও শর্ট বলের ছড়াছড়ি করেছেন নাহিদ রানা। ওভারপ্রতি ৪.৬৪ হারে রান খরচা করেছেন ( ১৪-০-৬৫-১)। সবচেয়ে অভিজ্ঞ বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুলকে এদিন উইকেট দেয়া যাবে না বলে পন করেও শেষ রক্ষা হয়নি। দিনের খেলা শেষ হতে যখন মাত্র ২ বল বাকি, তখন তাইজুলের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে এলবিডাব্লু ১৯ বছর বয়সী অভিষিক্ত জর্ডান নেইল (৬০ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩০)।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দিনের প্রথম সেশনে ৯৪ রানে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড ১ উইকেট, দ্বিতীয় সেশনে ৯০ রান যোগ করে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড ৩ উইকেট, দিনের শেষ সেশনে সেখানে ৮৬ রানে হারিয়েছে সফরকারী দল ৪ উইকেট।
এমন একটি দিনে পর পর ২টি স্ট্যাম্পিং ( টাকার, ম্যাকব্রিন) করে টেস্টে মুশফিকুর রহিমের স্ট্যাম্পিংয়ের রেকর্ড (১৫টি)-কে টপকে গেছেন লিটন দাস (১৭টি স্ট্যাম্পিং)।
No posts available.

অস্ট্রেলিয়ার ফ্রাঞ্চাইজি লিগ বিগ ব্যাশে মৌসুমেই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন রিশাদ হোসেন। বল হাতে নিয়মিত আলো ছড়িয়ে হোবার্ট হারিকেন্সকে প্লে-অফে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশি লেগ স্পিনার। দুর্দন্ত পারফরম্যান্সের পুরষ্কার হিসেবে এবার তাসমানিয়া বিগ ব্যাশ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের জন্য মনোনীত হয়েছেন রিশাদ।
সবশেষ বিগ ব্যাশের প্লে অফ থেকে বিদায় নিয়েছে হোবার্ট। আসরে ১১ ইনিংসে ১৫ উইকেট নেন রিশাদ। হ্যারিকেন্সের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী বোলার ছিলেন তিনি। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৭.৮২ রান, বোলিং গড় ২০.৮৬। ২৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট রিশাদের সেরা বোলিং। রিশাদ ছাড়াও হোবার্টের বর্ষসেরা বিগ ব্যাশ খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন নাথান এলিস, ক্রিস জর্ডান এবং নিখিল চৌধুরী।
রিশাদের বর্ষসেরা মনোনয়নের ব্যাখ্যায় ক্রিকেট তাসমানিয়া নিজেদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, ‘বেগুনি জার্সিতে নিজের প্রথম বছরেই দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন বাংলাদেশের লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন।’
বিগ ব্যাশের ২০২৫-২৬ মৌসুমে ব্যাট-বল হাতে পারফরমেন্সের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দিবে ক্রিকেট তাসমানিয়া। রিশাদের সঙ্গে বর্ষসেরা বিগ ব্যাশ খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন নাথান এলিস, ক্রিস জর্ডান এবং নিখিল চৌধুরী।
আগামীকাল বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্রিকেট তাসমানিয়া। অনুষ্ঠান চলাকালীন সামাজিক মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে। পরদিন ওয়েবসাইট এবং সদস্যদের ইমেইলের মাধ্যমেও জানানো হবে।

২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশ করেছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ)। এবারের তালিকায় ১৮ জন খেলোয়াড়কে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় চুক্তি এবং ১ জনকে হাইব্রিড চুক্তিতে রাখা হয়েছে। এই চুক্তিগুলো ১ জুন ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষ দলে মূল চুক্তি পাওয়া ১৮ জন খেলোয়াড়দের মধ্যে সাইমন হার্মার-কে হাইব্রিড চুক্তি দেওয়া হয়েছে। ডলফিনসের পেসার ওটনেইল বার্টম্যান এবং টাইটানসের অলরাউন্ডার কোরবিন বসচ প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রথম পূর্ণ জাতীয় চুক্তি পেয়েছেন ব্যাটার ম্যাথু ব্রিটজকে এবং ডিওয়াল্ড ব্রেভিস।
প্রোটিয়া নারী দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার কারাবো মেসো ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের জাতীয় চুক্তি পেয়েছেন। গত ১২ মাসে তিনি সিনিয়র দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
জাতীয় দল ও হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক এনোক এনকুয়ে জানিয়েছেন, ‘গত ১২ মাসের পারফরম্যান্স ও অবদানকে মূল্যায়ন করে এই খেলোয়াড়দের চুক্তি দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিও বিবেচনা করা হয়েছে। পুরুষ ও নারী উভয় দলের জন্য ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে, আমরা আমাদের পাইপলাইন শক্তিশালী রাখতে ‘পোনি’-এর মাধ্যমে গভীরতা তৈরি করছি এবং সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে চাই। এই দলগুলো আমাদের সেই ভিত্তি গড়তে সাহায্য করবে।’
এ মৌসুম থেকে ‘জাতীয় স্বার্থের খেলোয়াড়’ (প্লয়ারর্স অব ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট) শাখা চালু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট। এদের মধ্যে ডিভিশন-১ পুরুষ খেলোয়াড়রা অন্তর্ভুক্ত, যাদের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আসন্ন আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের সফরে প্রতিটি ফরম্যাটে দলের গভীরতা নিশ্চিত করবে এটি।
এই মৌসুমটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। টেম্বা বাভুমা-এইডেন মার্করামরা চলমান আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি ঘরের মাঠে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও শুরু করবে।
২০২৬-২৭ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা পুরুষ দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যারা :
টেম্বা বাভুমা, ডেভিড বেডিংহাম, ওটনেইল বার্টম্যান, কোরবিন বসচ, ম্যাথু ব্রিটজকে, ডিওয়াল্ড ব্রেভিস, টনি দে জোর্জি, মার্কো জ্যানসেন, কেশব মহারাজ, কোয়েনা মাফাকা, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মুল্ডার, সেনুরান মুথুসামি, লুঙ্গি এনগিদি, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, ট্রিস্টান স্টাবস, কাইল ভেরেইন, সাইমন হার্মার (হাইব্রিড চুক্তি)।

নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদির জরিমানার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন সংকটে লাহোর কালান্দার্স। বল টেম্পারিংয়ের দায়ে দলটির ওপেনার ফখর জামানকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
রোববার করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে এই বল টেম্পারিংয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনা ঘটে। ৬ বলে ১৪ রান ঠেকাতে বল হাতে নেন হারিস রউফ। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফখর জামানের হাত ঘুরে বল যায় হারিস রউফের কাছে।
হারিস রউফের হাত থেকে বল নিয়ে পরীক্ষা করেন আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি। আরেক প্রান্তের আম্পায়ার শরফুদৌল্লা ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করেন ফয়সাল। দু’জন মিলে সিদ্ধান্ত নেন, বলের আকৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক ৫ রানের পেনাল্টির শাস্তি দেওয়া হয় লাহোরকে এবং আম্পায়াররা বল পরিবর্তনের নির্দেশ দেন।
ম্যাচ রেফারি রোশান মহানামা পরিচালিত শৃঙ্খলামূলক শুনানিতে ফখর জামানকে লেভেল-৩ পর্যায়ের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পিসিবির আচরণবিধির ২.১৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য ফখর তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর রেফারি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। শুনানির সময় লাহোরের অধিনায়ক, টিম ডিরেক্টর সামীন রানা ও ম্যানেজার ফারুক আনোয়ারও উপস্থিত ছিলেন।
পিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির কাছে আপিল করার সুযোগ পাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
ওই ম্যাচে আম্পায়ারদের দেওয়া সেই ৫ রানের পেনাল্টি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৬ বলে ৯ রানে নেমে আসা ম্যাচ ৩ বল আগেই জিতে যায় করাচি।

কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের চুক্তিভঙ্গ, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে—বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা পিসিবির মিডিয়া বিভাগের পূর্বানুমতি ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে কোনো পোস্ট করতে পারবেন না। তাদের স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে উল্লেখিত সব নিয়ম—বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমের নীতিমালা—অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
এছাড়া খেলোয়াড়দের ম্যানেজারদেরও একই নির্দেশনা জানানো হয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক পোস্ট সহ্য করা হবে না। জিও নিউজের প্রতিবেদন আরও জানিয়েছে, এখন থেকে এসব ক্রিকেটারকে জনসমক্ষে বক্তব্য বা অনলাইন পোস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। বিতর্কিত কোনো পোস্ট করলে ন্যূনতম ১ কোটি পাকিস্তানি রুপি জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
সম্প্রতি পাকিস্তান জাতীয় দলের পেসার নাসিম শাহ-এর ওপর ২ কোটি রুপি জরিমানা আরোপের পরই এই কঠোর অবস্থান নেয় পিসিবি। ২৩ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নেওয়াজ-কে নিয়ে বিতর্কিত এক টুইট করে শাস্তি পান।
আরও পড়ুন
| ক্রীড়া খাতে চীনের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ |
|
পিসিবির তিন সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটির সামনে ব্যক্তিগত শুনানির পর বোর্ড জানায়, নাসিম তাঁর কেন্দ্রীয় চুক্তির একাধিক ধারা এবং সামাজিক মাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন। এই ঘটনায় নাসিম নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং তার সোশ্যাল মিডিয়া উপদেষ্টাকে বরখাস্তও করেন—যাকে পরবর্তীতে বোর্ড অন্য কোনো জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ করেছে। তবুও তাকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় চলমান পিএসএল-এর ১১তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভিকে মরিয়ম নওয়াজকে স্বাগত জানাতে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে দেখা যায়।
এর কিছুক্ষণ পরই নাসিম শাহের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে ওই দৃশ্যের একটি ছবি উদ্ধৃত করে লেখা ছিল, ‘তাঁকে কেন লর্ডসের রানির মতো সম্মান করা হচ্ছে? তাঁর এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
অবশ্য পরে নাসিম দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। তিনি লেখেন, ‘এই অ্যাকাউন্টটি সম্প্রতি হ্যাক হয়েছিল, তবে এখন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।’ পোস্টটি তার ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং নিরাপত্তা ভঙ্গের ফল বলে দাবি করেন পাকিস্তানি পেসার।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ ঘিরে আলোচিত ঘটনায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে লাহোর কালান্দার্স। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানিয়েছে, ২৮ মার্চের ঘটনাটি নিয়ে তারা গুরুত্ব সহকারে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়েছে এবং বাস্তবতা যাচাই করেছে।
তদন্ত শেষে লাহোর কালান্দার্স নিশ্চিত করেছে, দলীয় হোটেলে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেটি জনপরিসরে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত এবং প্রকৃত প্রেক্ষাপটের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছে তারা।
গত শনিবার টিম হোটেলে সিকান্দার রাজার কাছের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের টিম হোটেলে আগমন ঘিরে মূল ঘটনা। এই বিষয়ে জিম্বাবুয়ের তারকা এই অলরাউন্ডার বলেছেন, দায় মূলত তার নিজের। এক্ষেত্রে আফ্রিদির কোনো দায় নেই।
তবে ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে দলের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করেছে লাহোর ফ্র্যাঞ্চাইজি। পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও নিজেদের পর্যবেক্ষণও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে পাঠিয়েছে তারা।
লাহোর কালান্দার্স তাদের বিবৃতিতে নিরাপত্তাকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছে দলটি।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বলেছে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নিয়ম ভাঙার চেষ্টা ছিল না; বরং ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে তারা।
একই সঙ্গে এই ঘটনাকে ঘিরে অতিরিক্ত প্রচার-প্রচারণায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে লাহোর কালান্দার্স। তাদের মতে, বিষয়টি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় করে দেখা হয়েছে, যা ফ্র্যাঞ্চাইজি ও পিএসএল- দুটিরই ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।