
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনাল ম্যাচ। শেষ দুই ওভারে ১২ বলের মধ্যে ৮টিই ইয়র্কার করলেন রিপন মন্ডল। তবু নাটকীয়তার পর ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। সেখানে পরপর দুটি ইয়র্কার করে দুই উইকেট নিলেন তরুণ পেসার। যা গড়ে দিল বাংলাদেশ 'এ' দলের জয়ের ভিত।
পরে পাকিস্তান শাহিনসের ('এ' দল) বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচেও একের পর এক ইয়র্কার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে আটকে রাখেন রিপন। মূল ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রানে নেন ৩ উইকেট। সুপার ওভারে মাত্র ৬ রানের পুঁজি নিয়েও শাহিনসকে তিনি আটকে রাখেন ৪ বল।
অল্পের জন্য এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ৫ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে রিপনই টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। ফাইনাল ম্যাচটি জিততে পারলে হয়তো এবারের টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জিততেন ২২ বছর বয়সী পেসার।
অথচ বছর দুয়েক আগেও তার বোলিং অ্যাকশন ও বডি এলাইনমেন্ট দেখে জাতীয় দলের এক নির্বাচক বলেছিলেন, 'দেখুন! কতটা এলোমেলো। অনেক কাজ করতে হবে।' সেই কাজ ঠিকই করেছেন রিপন। দুই বছরের অন্তরে নিজের এলাইনমেন্ট ঠিক করে পরিণত হয়েছে ইয়র্কার মেশিনে।
রিপনের মাঝে সম্ভাবনার ঝলক দেখা গিয়েছিল ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেই। বাংলাদেশের হতাশার টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও চমৎকার বোলিংয়ে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশেও জায়গা পেয়েছিলেন রিপন।
এরপর থেকে নিয়মিতই বিসিবির সব প্রোগ্রামে আছেন তিনি। প্রতিদানও দিয়েছেন গত বছরের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে। বাংলাদেশ এইচপি দলের হয়ে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এবার 'এ' দলের হয়েও।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সফল টুর্নামেন্ট কাটানোর পরও রিপনের আক্ষেপ অবশ্য চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায়।
“আলহামদুলিল্লাহ! খুবই ভালো! যেভাবে টুর্নামেন্টটা শুরু করেছি, শেষ করেছি, খুব ভালো। যে পরিশ্রমটা করেছি, আল্লাহ আমাকে (পুরস্কার) দিয়েছেন। দলগত পারফরম্যান্স যদি আরেকটু ভালো হতো, তাহলে আরও ভালো হতো।”
“দলগত পারফরম্যান্সও আলহামদুলিল্লাহ ভালোই হয়েছে। শুধু ফাইনালটা ভাগ্যের বিষয় ছিল। তবে যদি দুই-একজন ব্যাটার আমাদের ক্লিক করে যেতো, তাহলে দৃশ্যপট ভিন্নরকম হতে পারত।”
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে পরপর দুইটি সুপার ওভার খেলতে হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে প্রথম সেমি-ফাইনালের সুপার ওভারে দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেখানেই যেন শেষ করে দেন রিপন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালেও লড়াইটা করেন তিনি। মাত্র ৬ রানের পুঁজি থাকলেও ইয়র্কারের মেলা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। আর কিছু রান বেশি থাকলে হয়তো ফাইনালেও দলকে জিতিয়ে বের হতে পারতেন রিপন।
পরপর দুই ম্যাচে এমন চাপের সময়ে বোলিংয়ের পর রিপন বললেন, এমন মুহূর্তের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন তিনি।
“ফ্রন্টলাইন পেসার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে। আকবর ভাইয়ের সঙ্গে যেহেতু আমি এর আগেও অনেক ক্যাম্প করেছি, অনেক খেলেছি, উনি জানেন আমার স্ট্রেংন্থটা। উনি আমাকে বলেছেন, এরকম তৈরি থাকতে হবে, টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও একটা ইতিবাচক বার্তা ছিল যে, তুমি এখানে করবে। তাই আমিও রেডি ছিলাম।”
“আমি যেহেতু টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিও খেলেছি এর আগেও, ওই মাইন্ডে এশিয়া কাপ খেলেছি। তো আমি ঐদিক থেকে রেডি ছিলাম যেন এই পরিস্থিতিতে বল করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। আর অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টও আমার প্রতি বিশ্বাস ছিল। আমি অবদানটা রাখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রিপন এবার নজর কেড়েছেন মূলত একের পর এক ইয়র্কার করে। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্লক হোলে বোলিং করে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের আটকে রেখেছেন তিনি। পুরো আসরে ওভারপ্রতি তার খরচ মাত্র ৬.৭৫ রান।
ইয়র্কার করার ব্যাপারে রিপন জানালেন, নিজের ভাবনায় সবসময় স্বচ্ছ ও অটল থাকেন তিনি।
“এটায় (ইয়র্কারে) আপনার পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে ছক্কা নয় চার। এটা যদি আপনি ভেবে বল করেন, আপনি করতে পারবেন। আমি যখন বল হাতে নেই, আমি চিন্তা করি যে আমি এটা করব মানে এটাই করব। মানে আমি আমার মাঝখানে দ্বিতীয় কোনো অপশন রাখি না, যখন বোলিংটা করি।”
অথচ বছর দুয়েক আগেও বোলিং অ্যাকশন ও বডি এলাইনমেন্ট ঠিক যুতসই ছিল রিপনের। বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামে এসব নিয়ে কাজ করে এখন পুরোপুরি সোজা হয়েছে বলছেন তিনি।
“সবশেষ এইচপি ক্যাম্পে এটা নিয়ে একটু কাজ করেছি। আগের ভিডিওগুলো দেখেছি। আমার কাছে এবার মনে হলো একেবারে সোজা (এলাইনমেন্ট), একদম স্টাম্পের মতো সোজা।”
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকেই ইয়র্কার নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন রিপন। প্রায় তিন-চার বছরের এই পথচলায় দেশি ও বিদেশি কোচদের অবদানও উল্লেখ করলেন তিনি।
“আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো হয়েছে। আল্লাহ সাহায্য করেছেন আর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়েছে। এত দিন ধরে যে পরিশ্রমটা করেছি আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে... সেখানে তালহা (জুবায়ের) স্যার ছিলেন কোচ। তারপর ডলার (মাহমুদ) ভাই ছিলেন এইচপিতে, তারেক (আজিজ) ভাই ছিল আর স্পেশালি যে আমাদের এইচপির যে বোলিং ডিপার্টমেন্টে হেড ছিলেন কোরি (কলিমোর) ভাই।”
“এই কয়জন খুবই সাহায্য করেছেন আমাকে ইয়র্কারের বিষয়ে। আমি যখন যা চেয়েছি প্র্যাকটিসের পরে মানে কখনও উনারা না করেন নাই। উল্টো সবসময় আমাকে মোটিভেট করতেন উনারা। তো এইজন্য আরকি খুবই ভালো। আমার দিক থেকে মানে আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।”
No posts available.
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১০ পিএম

হঠাৎ দেখে মনে হবে বুঝি হাইলাইটস চলছে। দুই দলের ৩৯ ওভারে রান হলো ৫২৯। কেবল বাউন্ডারি থেকেই এলো ৩৯৪ রান। মোট ছক্কা ৩৩, চার ৪৯। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে আজ চার-ছক্কার মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়ে আনল দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংস।
প্রথমে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে হয়তো বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিল দিল্লি। তবে ব্যাটারদের রান উৎসবের দিনে পাঞ্জাব তো আর বসে থাকবে না! আইপিলের রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট করে দিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করল তারা।
আইপিএলে রেকর্ড বন্যার দিনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ২৬৪ রান করে দিল্লি। জবাবে ৬ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। এর আগের রেকর্ডটিও অবশ্য পাঞ্জাবেরই। এর আগে ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি।
বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ৬ চার আর ৯ ছক্কায় সাজানো দিল্লির এই ব্যাটারের টর্নেডো ইনিংসই আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু আইপিএলই নয়, টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেই ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস ইনিংস আর কারও নেই। আইপিএলে এর আগে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ ছিল অভিষেক শর্মার ১৪১।
রাহুলকে যোগ্য সঙ্গ দেন ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলা নিতিশ রানা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রানার সঙ্গে রাহুল গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা আইপিএলের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
দিল্লির রান পাহাড়ের জবাবটা যেন হেসেখেলেই দিল পাঞ্জাব। যেখানে পাওয়ার প্লেতে দিল্লির স্কোরবোর্ডে ছিল ৬৮ রান, সেখানে ৬ ওভার শেষেই ১১৬ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। ২৯২ স্ট্রাইকরেটে ২৬ বলে ৭৬ করেন প্রাভসিমরান সিং। আরেক ওপেনার প্রিয়ানশ আরিয়ার ব্যাট থেকে আস ১৭ বলে ৪৩ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাঞ্জাবকে পথ দেখান শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৬ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

আইপিএলে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আজ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফিল্ডিং করার সময় মাথায় মারাত্মক চোট পান দিল্লির দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিডি। মারাত্মক এই চোটের পরপরই মাঠের আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ম্যাচ। দ্রুত মেডিকেল টিম মাঠে প্রবেশ করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং পরে পরীক্ষার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় পুসা রোডের ম্যাক্স হাসপাতালে।
ঘটনা পাঞ্জাব কিংসের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। অক্ষর প্যাটেলের একটি স্লোয়ার ডেলিভারি মিড-অফের ওপর দিয়ে তুলে মারেন ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য। বলটি লুফে নিতে এনগিডি পেছনের দিকে দৌড়ান এবং হাত বাড়িয়েও বলের নাগাল পাননি। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে বেশ বাজেভাবে পিঠের ওপর আছড়ে পড়েন এবং মাথা সজোরে মাটিতে আঘাত করে তাঁর।
মাটিতে পড়ার পর এনগিডি বেশ কিছুক্ষণ নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন, যা সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। তবে স্বস্তির খবর হলো, মেডিকেল টিম যখন তাকে দেখছিল, তখন কিছুটা সাড়া দিচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী প্রোটিয়া পেসার । মাঠে প্রাথমিক শুশ্রূষার পর তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এনগিডি মাঠ ছাড়ার পর বিকল্প ফিল্ডার হিসেবে দুশমন্ত চামিরা মাঠে নামেন।
এবারের আইপিএলে নিলামে ২ কোটি টাকায় দলে এনগিডিকে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। চলতি মৌসুমে দিল্লির হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এনগিডি। ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে এই পেসারই ছিলেন দলের সেরা বোলার। আইপিএল ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংস, আরসিবি এবং দিল্লির হয়ে মোট ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যেখানে ৮.৫৭ ইকোনমি রেটে শিকার করেছেন ৩৬টি উইকেট।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএল ইতিহাসের এক রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স উপহার দেয়। কে এল রাহুল মাত্র ৬৭ বলে ১৫২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তাঁর অসাধারণ ইনিংস দিল্লিকে আইপিএলের ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২৬৪/২-এ পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নিতিশ রানার (৪৪ বলে ৯১ রান) সঙ্গে গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা ফ্রাঞ্চাইজিটির ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।

টানা তিন ওয়ানডে
সিরিজ জয়—বাংলাদেশ দলের জন্য অসাধারণ অর্জনই বটে। তার পরও কিছুটা দুশ্চিন্তা ভর করেছে
টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণও বেশ স্পষ্ট—হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ে বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ছিল পেসারদের, কয়েক সিরিজ ধরেই সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না স্পিনাররা।
নিউ জিল্যান্ড
সিরিজেও উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ-শরিফুলরা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ কিপটে বোলিং করলেও
তিন ওয়ানডে মিলে উইকেট পেয়েছেন ৩টি। পুরো সিরিজে বোলিং করেছেন ২৮.৫ ওভার। বোলিং গড়
৪২.৬৬, স্ট্রাইক রেট ৫৭.৬৬। রিশাদ প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে নেন ৩ উইকেট। তৃতীয় ওয়ানডের
একাদশেই জায়গা হারান।
শেষ ম্যাচে
রিশাদের জায়গায় সুযোগ পাওয়া তানভীরও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১০ ওভারে ৭০ রান
দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তান সিরিজেও মাঝের ওভারে মিরাজ-রিশাদরা ভালো অবদান রাখতে
পারেননি।
নিউ জিল্যান্ডের
বিপক্ষে আগামী পরশু থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং পরামর্শক
মুশতাক আহমেদের আশা, কুড়ি ওভারের সিরিজে স্পিন আক্রমণকেও দেখা যাবে সেরা ছন্দ, ‘আমি
বিশ্বাস করি মাঝের ওভারে স্পিনারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্পিনাররা রান আটকে
দিয়ে উইকেট নিতে পারে, তবে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।’
ওয়ানডে সিরিজের
আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) চার ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি উইকেট পেয়েছিলেন রিশাদ।
প্রত্যেক ম্যাচেই দিয়েছেন ৩৫ কিংবা তার বেশি রান। রিশাদও গা জুড়ানোর সময় নিচ্ছেন না,
নিজেকে আরও শাণিত করতে মুশতাকের বিশেষ ক্লাসে ঘাম ঝরিয়ে চলছেন।
রিশাদের বোলিংয়ে আরো বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং গুগলি আয়ত্ত নেওয়ার দীক্ষা দিচ্ছের মুশতাক,
‘হ্যাঁ, আমরা তার বৈচিত্র্য এবং ক্রিজের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছি, বিশেষ করে তার গুগলির জন্য। তার গুগলিটা আরও একটু উন্নত করতে হবে। গুগলির অ্যাঙ্গেল কেমন হবে, ডানহাতি ব্যাটারদের কোন দিকে বল করতে হবে—স্টাম্পের কাছ থেকে নাকি দূর থেকে, সেসব নিয়ে কাজ চলছে।’
মুশতাকের নিজের দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন,
‘আমি সবসময় একটি কথা বলি, একটি শক্তিশালী এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য অ্যাকশনের সঙ্গে ক্রিজ ব্যবহার করা একজন লেগ স্পিনারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন, লেগ স্পিনাররা কিছুটা খরুচে হতে পারে। তাই আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছি যাতে সে কেবল ভালো বল নয়, বরং ভালো ওভার করতে পারে। সে অনেক উন্নতি করেছে।’
ওয়ানডে সিরিজ
জয়ের পর অধিনায়ক মিরাজ বলেছিলেন, মুশতাক আহমেদের সঙ্গে - সেশনগুলো তাঁর খুব কাজে লেগেছে।
তিনি ভালো বল করছেন, তবে অনেকে মনে করেন তিনি রান আটকে রাখার বোলার। আধুনিক ক্রিকেটে
স্পিনারদের আরও বৈচিত্র্য দরকার। মিরাজ কি সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন?
মুশতাকও মনে করেন বোলিংয়ে বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ,
‘সে সেটি করে দেখিয়েছে। মাঝের ওভারে সে উইকেট পাচ্ছে। গত ম্যাচে সে লাথামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। মিরাজ উন্নতি করছে। তার কাজ এখন শুধু রান আটকে রাখা নয়। সে তার বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছে এবং এর কৃতিত্ব তার। স্পিন কোচ হিসেবে আমি মনে করি বৈচিত্র্য থাকতেই হবে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাটারদের হাত খুব দ্রুত চলে, তাই গতির পরিবর্তন করে তাদের পরাস্ত করতে হয়। ক্রিকেট হলো অ্যাঙ্গেলের খেলা। যদি আপনি ট্যাকটিক্যাল মুভ এবং ফিল্ডিং পজিশন দিয়ে ব্যাটারকে রান করা থেকে আটকাতে পারেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে আপনার জেতার সুযোগ বাড়বে।’

দারুণ
জয়ে পথচলা শুরু করে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে
আর সেই সম্ভাবনার পূর্ণতা দিতে পারলেন না নিগার সুলতানা জ্যোতি, নাহিদা আক্তাররা। ঘুরে
দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা।
রাজশাহী
বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭
উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেতে ২১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ২১
বল বাকি থাকতে জিতে যায় সফরকারীরা।
এই
জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল লঙ্কান নারীরা। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা
আরও বাড়ল বাংলাদেশের।
টস
জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার শারমিন সুলতানা (১৭) ও ফারজানা হক পিঙ্কি
(১১)। ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শারমিন আক্তার সুপ্তা (২৫)।
চাপ
সামলে চতুর্থ উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি। তবে রানের গতি
বাড়াতে পারেননি তারা। ৯০ বলে ৪০ রান করে আউট হন জ্যোতি।
এরপর
একাই দলকে এগিয়ে নেন মোস্তারি। ইনিংসের শেষ বলে আউট
হওয়ার আগে ৮ চারে ৮০ বলে ৭৪ রান করেন তিনি। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় ফিফটি।
এছাড়া
রিতু মনির ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২০ রান।
শ্রীলঙ্কার
পক্ষে ৩ উইকেট নেন কাভিশা দিলহারি। নিমাশা মাদুশানির
শিকার ২ উইকেট।
রান
তাড়ায় শুরুতেই চামারি আতাপাত্তুর উইকেট নেন মারুফা আক্তার। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৮ রানের
জুটি গড়েন হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি। ওই জুটিতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
৭৬
বলে ৫৬ রান করা দুলানিকে ফিরিয়ে
এই জুটিও ভাঙেন মারুফা। পরে হার্শিতা মাধবীর সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন হাসিনি।
তবে
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি হাসিনি। ১৩ বলে ১৩১ বলে ৯৫ রান করেন লঙ্কান ওপেনার।
আর হার্শিতা অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে।
ওয়ানডের
লড়াই শেষে এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিলেটে আগামী ২৮ এপ্রিল শুরু
হবে সিরিজ।

সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের
পর সংবামাধ্যমের সামনে এসেছেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। স্টোকসের চেহারা
দেখে রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন অনেকেই। ইংলিশ অলরাউন্ডারের এমন পরিবর্তন বিশ্বাসই হচ্ছিল
না অনেক ভক্ত-সমর্থকরা।
সম্প্রতি একটি ভিডিওতে বেন
স্টোকসকে অনেক বেশি রোগা
বা ছিপছিপে দেখা গেছে। মূলত
মুখের এক ভয়াবহ চোটের
কারণে অস্ত্রোপচার করানোর পর তাঁর চেহারায় এই
পরিবর্তন এসেছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সঙ্গে যৌথভাবে 'টয়োটা ইউকে'র অফিসিয়াল
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশিত
হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ডের তিন ফরম্যাটের নতুন
'কাস্টোর' কিট বা জার্সি
উন্মোচন করা হয়।
টয়োটা ইউকে-র শেয়ার করা সেই ভিডিও ক্লিপটিতে স্টোকসের শারীরিক পরিবর্তন ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের এতটাই রোগা দেখাচ্ছিল যে, ক্যারিয়ারের আর কোনো সময়েই তাকে এমন রূপে দেখা যায়নি। ভিডিওটিতে মার্ক উড এবং বেন ডাকেটের মতো অন্য তারকারাও ছিলেন, কিন্তু সবার নজর কেড়েছে অধিনায়কের এই নতুন লুক।
https://www.instagram.com/toyotauk/?utm_source=ig_embed&ig_rid=a5451926-5f2d-467d-aa9f-0de97e605444
মূলত বছরের শুরুর দিকে নেটে ব্যাটিং
অনুশীলনের সময় বল সরাসরি
স্টোকসের মুখে এসে লাগে।
এই ভয়াবহ চোটের কারণেই তাকে ফেসিয়াল সার্জারি
বা মুখে অস্ত্রোপচার করাতে
হয়। সেই চোট কতটা
গুরুতর ছিল, তা স্টোকসের
কথাতেই স্পষ্ট।
বিবিসি স্পোর্টসকে স্টোকস বলেন, ‘পরিস্থিতিটা সত্যিই ভয়াবহ ছিল। বলটা সরাসরি
আমার মুখে এসে লাগে।
মাত্র কয়েক ইঞ্চির এদিক-সেদিক হলে কিংবা আমি
মাথাটা না ঘোরালে হয়তো
আজ এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার
জন্য আমি বেঁচে থাকতাম
না। আমার গালের হাড়ের
নিচের অংশটা একদম তছনছ হয়ে
গিয়েছিল। আমি খুব অল্পের
জন্য বেঁচে গেছি। ভাগ্য ভালো যে আমি
এখনো এখানে আছি এবং সবকিছু
ঠিক আছে।’
আসন্ন ক্রিকেট মৌসুম স্টোকস এবং ইংল্যান্ড দলের
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে
বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগামী জুনে
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট
সিরিজ দিয়ে তারা নতুন
করে শুরু করতে যাচ্ছে।
বিপর্যয়ের মাঝেও টিম ম্যানেজমেন্টের পূর্ণ
আস্থা ধরে রেখেছেন স্টোকস
এবং টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
অ্যাশেজে দলের ভরাডুবির মধ্যেও ব্যক্তিগতভাবে স্টোকস উজ্জ্বল ছিলেন; ব্যাট হাতে ১৮৪ রান
করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছিলেন
১৫টি উইকেট। ইংল্যান্ড তাদের এই মৌসুমে প্রথমে
নিউজিল্যান্ড এবং পরে আগস্টের
শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে
তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে।