
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনাল ম্যাচ। শেষ দুই ওভারে ১২ বলের মধ্যে ৮টিই ইয়র্কার করলেন রিপন মন্ডল। তবু নাটকীয়তার পর ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। সেখানে পরপর দুটি ইয়র্কার করে দুই উইকেট নিলেন তরুণ পেসার। যা গড়ে দিল বাংলাদেশ 'এ' দলের জয়ের ভিত।
পরে পাকিস্তান শাহিনসের ('এ' দল) বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচেও একের পর এক ইয়র্কার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে আটকে রাখেন রিপন। মূল ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রানে নেন ৩ উইকেট। সুপার ওভারে মাত্র ৬ রানের পুঁজি নিয়েও শাহিনসকে তিনি আটকে রাখেন ৪ বল।
অল্পের জন্য এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ৫ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে রিপনই টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। ফাইনাল ম্যাচটি জিততে পারলে হয়তো এবারের টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জিততেন ২২ বছর বয়সী পেসার।
অথচ বছর দুয়েক আগেও তার বোলিং অ্যাকশন ও বডি এলাইনমেন্ট দেখে জাতীয় দলের এক নির্বাচক বলেছিলেন, 'দেখুন! কতটা এলোমেলো। অনেক কাজ করতে হবে।' সেই কাজ ঠিকই করেছেন রিপন। দুই বছরের অন্তরে নিজের এলাইনমেন্ট ঠিক করে পরিণত হয়েছে ইয়র্কার মেশিনে।
রিপনের মাঝে সম্ভাবনার ঝলক দেখা গিয়েছিল ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেই। বাংলাদেশের হতাশার টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও চমৎকার বোলিংয়ে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশেও জায়গা পেয়েছিলেন রিপন।
এরপর থেকে নিয়মিতই বিসিবির সব প্রোগ্রামে আছেন তিনি। প্রতিদানও দিয়েছেন গত বছরের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে। বাংলাদেশ এইচপি দলের হয়ে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার। ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এবার 'এ' দলের হয়েও।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সফল টুর্নামেন্ট কাটানোর পরও রিপনের আক্ষেপ অবশ্য চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায়।
“আলহামদুলিল্লাহ! খুবই ভালো! যেভাবে টুর্নামেন্টটা শুরু করেছি, শেষ করেছি, খুব ভালো। যে পরিশ্রমটা করেছি, আল্লাহ আমাকে (পুরস্কার) দিয়েছেন। দলগত পারফরম্যান্স যদি আরেকটু ভালো হতো, তাহলে আরও ভালো হতো।”
“দলগত পারফরম্যান্সও আলহামদুলিল্লাহ ভালোই হয়েছে। শুধু ফাইনালটা ভাগ্যের বিষয় ছিল। তবে যদি দুই-একজন ব্যাটার আমাদের ক্লিক করে যেতো, তাহলে দৃশ্যপট ভিন্নরকম হতে পারত।”
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে পরপর দুইটি সুপার ওভার খেলতে হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে প্রথম সেমি-ফাইনালের সুপার ওভারে দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেখানেই যেন শেষ করে দেন রিপন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালেও লড়াইটা করেন তিনি। মাত্র ৬ রানের পুঁজি থাকলেও ইয়র্কারের মেলা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। আর কিছু রান বেশি থাকলে হয়তো ফাইনালেও দলকে জিতিয়ে বের হতে পারতেন রিপন।
পরপর দুই ম্যাচে এমন চাপের সময়ে বোলিংয়ের পর রিপন বললেন, এমন মুহূর্তের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন তিনি।
“ফ্রন্টলাইন পেসার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে। আকবর ভাইয়ের সঙ্গে যেহেতু আমি এর আগেও অনেক ক্যাম্প করেছি, অনেক খেলেছি, উনি জানেন আমার স্ট্রেংন্থটা। উনি আমাকে বলেছেন, এরকম তৈরি থাকতে হবে, টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও একটা ইতিবাচক বার্তা ছিল যে, তুমি এখানে করবে। তাই আমিও রেডি ছিলাম।”
“আমি যেহেতু টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিও খেলেছি এর আগেও, ওই মাইন্ডে এশিয়া কাপ খেলেছি। তো আমি ঐদিক থেকে রেডি ছিলাম যেন এই পরিস্থিতিতে বল করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। আর অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টও আমার প্রতি বিশ্বাস ছিল। আমি অবদানটা রাখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রিপন এবার নজর কেড়েছেন মূলত একের পর এক ইয়র্কার করে। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্লক হোলে বোলিং করে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের আটকে রেখেছেন তিনি। পুরো আসরে ওভারপ্রতি তার খরচ মাত্র ৬.৭৫ রান।
ইয়র্কার করার ব্যাপারে রিপন জানালেন, নিজের ভাবনায় সবসময় স্বচ্ছ ও অটল থাকেন তিনি।
“এটায় (ইয়র্কারে) আপনার পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে ছক্কা নয় চার। এটা যদি আপনি ভেবে বল করেন, আপনি করতে পারবেন। আমি যখন বল হাতে নেই, আমি চিন্তা করি যে আমি এটা করব মানে এটাই করব। মানে আমি আমার মাঝখানে দ্বিতীয় কোনো অপশন রাখি না, যখন বোলিংটা করি।”
অথচ বছর দুয়েক আগেও বোলিং অ্যাকশন ও বডি এলাইনমেন্ট ঠিক যুতসই ছিল রিপনের। বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামে এসব নিয়ে কাজ করে এখন পুরোপুরি সোজা হয়েছে বলছেন তিনি।
“সবশেষ এইচপি ক্যাম্পে এটা নিয়ে একটু কাজ করেছি। আগের ভিডিওগুলো দেখেছি। আমার কাছে এবার মনে হলো একেবারে সোজা (এলাইনমেন্ট), একদম স্টাম্পের মতো সোজা।”
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকেই ইয়র্কার নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন রিপন। প্রায় তিন-চার বছরের এই পথচলায় দেশি ও বিদেশি কোচদের অবদানও উল্লেখ করলেন তিনি।
“আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো হয়েছে। আল্লাহ সাহায্য করেছেন আর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়েছে। এত দিন ধরে যে পরিশ্রমটা করেছি আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে... সেখানে তালহা (জুবায়ের) স্যার ছিলেন কোচ। তারপর ডলার (মাহমুদ) ভাই ছিলেন এইচপিতে, তারেক (আজিজ) ভাই ছিল আর স্পেশালি যে আমাদের এইচপির যে বোলিং ডিপার্টমেন্টে হেড ছিলেন কোরি (কলিমোর) ভাই।”
“এই কয়জন খুবই সাহায্য করেছেন আমাকে ইয়র্কারের বিষয়ে। আমি যখন যা চেয়েছি প্র্যাকটিসের পরে মানে কখনও উনারা না করেন নাই। উল্টো সবসময় আমাকে মোটিভেট করতেন উনারা। তো এইজন্য আরকি খুবই ভালো। আমার দিক থেকে মানে আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।”
No posts available.
৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম

ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়েছে ভারত। একইসঙ্গে পরপর দুই বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করার কীর্তিও দেখিয়েছে তারা। সবচেয়ে তিনটি শিরোপার মালিক এখন তারাই।
এই ইতিহাস গড়া সাফল্যের বিশ্বাস ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন থেকেই ছিল হার্দিক পান্ডিয়ার।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তা পায়নি নিউ জিল্যান্ড। রোববারের ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে ২৫৫ রানের পাহাড়ে উঠে বসে ভারত। জবাবে মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে পেরে আনন্দের সীমা নেই হার্দিকের। ম্যাচ শেষে সেই অনুভূতিরই জানান দেন ভারতের তারকা অলরাউন্ডার।
“(ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা) এটি অনেকটা ইমোশনাল। কারণ ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জেতা, সবার উত্তেজনা, রোমাঞ্চ অসাধারণ। এখন মনে হচ্ছে আমরা সহজেই জিতে গিয়েছি। কিন্তু আমরা যে এফোর্ট দিয়েছি... গতকাল থেকেই আমি জানতাম যে, আমরা চ্যাম্পিয়ন।”
গত তিন বছরের মধ্যে হার্দিকের এটি তৃতীয় আইসিসি ট্রফি। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। আর ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েই ট্রফি ঘরে তুলেছিল তারা।
এবার আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে হার্দিক জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চান তিনি।
“আমার মধ্যে আরও ১০ বছর বাকি আছে ক্রিকেট খেলার। আমার অর্ধেক ক্যারিয়ার শেষ। আরও অর্ধেক বাকি আছে। আমি অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চাই, আইসিসি ও আইপিএল মিলিয়ে। তবে আমার জন্য আইসিসি ট্রফির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।”
“আমি এরই মধ্যে ৩টি ট্রফি জিতেছি। সামনে যে টুর্নামেন্টই খেলব, আমি জিততে চাই। তো আমি মনে করি, সামনের ১০ বছরে আরও অন্তত ৫-৬টি শিরোপা আসবে। এটিই আমার লক্ষ্য।”

প্রথম পাঁচ ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একটিতে। মনে হচ্ছিল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সামনের কোনো হয়তো আর সুযোগ পাবেন না সাঞ্জু স্যামসন। এর মধ্যেই এলো রিঙ্কু সিংয়ের বাবার অসুস্থতার খবর, একাদশে ঢুকে গেলেন স্যামসন। আর এই সুযোগটিই দুই হাতে নিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
সুযোগটি শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক গড়তেই নয়, ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতেই কাজে লাগালেন ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার। নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে শিরোপা জেতার পথে ফাইনাল ম্যাচে তিনি খেলেছেন ৮৯ রানের ইনিংস। এর আগের দুই ম্যাচে ছিলেন প্লেয়ার অব ম্যাচ!
সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ৪ ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকলেও, শেষ দিকে সুযোগ পেয়ে স্যামসনই হয়ে গেলেন বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। ভারতের ইতিহাস গড়া শিরোপা জয়ে তার হাতেই উঠেছে প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট পুরস্কার।
বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে প্রথম সুযোগ পান স্যামসন। সেদিন ৮ বলে ২২ রান করলেও পরের তিন ম্যাচে আর নামানো হয়নি তাকে। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফেরা। সেদিন তিনি খেলেন ১৫ বলে ২৪ রানের ইনিংস।
তখনও বোঝার উপায় ছিল না, নিজের ঝুলিতে কী জমা রেখেছেন স্যামসন। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ভারতের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে লক্ষ্য ছিল ১৯৬ রানের। সেদিন ১২ চারের ৪ ছক্কায় ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জেতান স্যামসন।
সেই ছন্দ ধরে রাখেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল ম্যাচেও। সেদিন তার ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৪২ বলে ৮৯ রানের সৌজন্যে ২৫৩ রানে পৌঁছায় ভারত। পরে জাসপ্রিত বুমরাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ফাইনালে উঠে যায় ভারত। এই দুই ম্যাচেই স্যামসন পান ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
ধারাবাহিকতার নজির তিনি রাখেন ফাইনাল ম্যাচেও। কিউই বোলারদের পিটিয়ে ৫ চারের সঙ্গে ৮ ছক্কায় এদিন তিনি করেন ৪৬ বলে ৮৯ রান। পরপর তিন ম্যাচেই তার ব্যাট থেকে আসে ৮০ ছাড়ানো ইনিংস। বুমরাহ ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি।
তবে সব মিলিয়ে মাত্র ৫ ম্যাচে ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেট ও ৮০.২৫ গড়ে ৩২১ রান করে স্যামসনই হন এই টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার। ভারতের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি। আগের দুজন- বিরাট কোহলি (২০১৪ ও ২০১৬) ও বুমরাহ (২০২৪)।
টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটার হওয়ার পথে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন স্যামসন। বিশ্বকাপের এক আসরে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এছাড়া বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করা বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার স্যামসন। আগের দুজন শহিদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলি (২০১৪)।

পাওয়ার প্লে কিংবা ডেথ ওভার, অথবা ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে দলের প্রয়োজনের সময়- এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের যখন যেভাবে দরকার পড়েছে, সেভাবেই দলের হয়ে কাজ করে দিয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। আর এর পুরস্কার হিসেবে তার মাথায়ই উঠেছে সর্বোচ্চ উইকেটের মুকুট।
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বুমরাহ। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে তিনি করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে মাত্র ১৫ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। যার সৌজন্যে পেয়েছেন প্লেয়ার অব দা ফাইনাল পুরস্কার।
সব মিলিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে ৮ ইনিংসে ১৪ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৬.২১ রান আর প্রতি উইকেটের জন্য তার খরচ মাত্র ১২.৪২ রান।
বুমরাহর চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৪ উইকেট পেয়েছেন বরুণ চক্রবর্তীও। তবে ফাইনালসহ প্রায় সব ম্যাচে খরুচে বোলিংয়ে তিনি গড়ে ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৯.২৫ রান।
ফাইনালের আগপর্যন্ত উইকেটশিকারির তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্যাডলি ফন স্কালভিক। মাত্র ৪ ইনিংসে ১৩টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওভারপ্রতি খরচ মাত্র ৬.৮০ রান।
জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ৬ ইনিংসে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। ওভারপ্রতি তার খরচ ৭.৮৮ রান।
তালিকার পাঁচ নম্বরে থাকা আদিল রশিদের শিকার ৮ ইনিংসে ১৩ উইকেট। তিনি ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৮.১৫ রান।
এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে অন্তত ১০ উইকেট নিয়েছেন সব মিলিয়ে ১৯ জন বোলার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রোববার ঢাকায় চলে এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। যেখানে আছে সাহিবজাদা ফারহানও। কিন্তু বিশ্বকাপে তার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার রয়ে গেছে ভারতেই।
দল বাদ পড়ে গেছে সুপার এইটে, এর বাইরে একটি ম্যাচ খেলা হয়নি বৃষ্টির কারণে। তাই ফাইনালে ওঠা দুই দলের চেয়ে তিন ইনিংস কম সুযোগ পেয়েছেন সাহিবদজাদা। তবু সবাইকে ছাড়িয়ে তিনিই সবার সেরা। রান সংগ্রাহকের তালিকায় পাকিস্তানি ওপেনারকে টপকাতে পারেনি কেউ।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে ২টি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরিতে ১৬০.২৫ স্ট্রাইক রেট ও ৭৬.৬০ গড়ে ৩৮৩ রান করেছেন সাহিবজাদা। তার ধারেকাছেও নেই আর কোনো ব্যাটার।
বিশ্বকাপের এক আসরে এটি সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড। এছাড়া এক বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটারও তিনি।
দুই নম্বরে থাকা টিম সেইফার্টের চেয়ে ৫৭ রান বেশি করেছেন সাহিবজাদা। ৮ ইনিংসে ৪ ফিফটির সৌজন্যে ৩২৬ রান করেছেন নিউ জিল্যান্ডের কিপার-ব্যাটার।
প্রথম কয়েক ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর সুযোগ পেয়ে মাত্র ৫ ইনিংসে ৮০.২৫ গড় ও ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৩২১ রান করেছেন সাঞ্জু স্যামসন। সবশেষ তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯ রানের ইনিংস।
এমন ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন স্যামসন।
সর্বোচ্চ রানের তালিকায় পরের নামটি ভারতের আরেক ব্যাটার ইশান কিষানের। ৯ ইনিংসে ৩ ফিফটির সৌজন্যে ১৯৩.২৯ স্ট্রাইক রেটে ৩১৭ রান করেছেন ২৮ ছুঁইছুঁই ব্যাটার।
এবারের বিশ্বকাপে এই চার ব্যাটারই শুধু তিনশর বেশি রান করতে পেরেছেন। তালিকার পাঁচ নম্বরে আছেন নিউ জিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেন। ৮ ইনিংসে একটি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরিতে তিনি করেছেন ২৯৮ রান।

সাঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান ও অভিষেক শর্মার তাণ্ডবে আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি পেল ভারত। এরপর যা একটু লড়াই করলেন টিম সেইফার্ট। তাকে থামিয়ে ম্যাচ আর জমতেই দিল না স্বাগতিকরা। নিউ জিল্যান্ডকে অল্পেই গুঁড়িয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারায় ভারত। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান করে ভারত। জবাবে ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে পরপর দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এছাড়াও ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দলও হয়ে গেল তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের এটি তৃতীয় শিরোপা। এর আগে ২০০৭ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই সংস্করণের বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ শিরোপার রেকর্ড। এর বাইরে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আছে ২টি করে বিশ্বকাপ ট্রফি।
এ নিয়ে দুটি ফাইনালে হারল ভারত। এর আগে ২০২১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল তারা।
ইতিহাস গড়া শিরোপাটি রেকর্ড গড়েই জিতেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে এটি ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। চলতি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বে তারা নামিবিয়াকে হারিয়েছিল ৯৩ রানে।
বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পরাজয় এটি। গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের কাছে তারা হেরেছিল ৮৪ রানে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের এটিই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। আগের রেকর্ডও ছিল ভারতের। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭৬ রান করেছিল তারা। সেদিন ৭ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
এ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সাতবার আড়াইশর বেশি রান করল ভারত। পাঁচবারের বেশি নেই আর কোনো দলের। এছাড়া এক টুর্নামেন্টে তিনবার আড়াইশ করা দ্বিতীয় দল ভারত। ২০২৪ সালের আইপিএলে তিনবার আড়াইশ করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
সাতবারের মধ্যে শুধু ২০২৬ সালেই চারবার আড়াইশর বেশি রান করেছে ভারত। যে কোনো দলের জন্য এক পঞ্জিকাবর্ষে এটিই সর্বোচ্চ।
শুধু সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরই নয়, ফাইনাল ম্যাচে বিশ্ব রেকর্ডের ছড়াছড়ি করেছে ভারত। যার বড় কারিগর ওপরের সারির তিন ব্যাটার অভিষেক, স্যামসন ও ইশান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভার রয়েসয়ে খেলেন অভিষেক ও স্যামসন। তৃতীয় ওভার থেকে শুরু হয় তাণ্ডব। তৃতীয় ও চতুর্থ ওভার মিলিয়ে তারা নেন ৩৯ রান। ৪ ওভারে পূর্ণ হয়ে যায় ভারতের পঞ্চাশ রান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে এর চেয়ে দ্রুত দলীয় পঞ্চাশের রেকর্ড নেই আর কোনো দলের।
পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারেও থামাথামির কোনো নাম নেই। একই গতিতে এগিয়ে ওই দুই ওভার থেকে আরও ৪১ রান নেন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান করে ফেলে ভারত। বিশ্বকাপের পাওয়ার প্লেতে এটিই সর্বোচ্চ স্কোর।
আগের ম্যাচগুলোতে অফফর্মে থাকা অভিষেক এদিন মাত্র ১৮ বলে করেন ফিফটি। বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে এটিই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল চলতি বিশ্বকাপেই ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেলের (১৯ বলে)।
অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলে ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রাচিন রবীন্দ্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের দুই ওপেনার কামরান আকমল ও শাহজাইব হাসানের ৪৮ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
শুরুতে তাণ্ডব চালিয়ে ৬ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কা মেরে ২১ বলে ৫২ রান করেন অভিষেক।
এরপর তিন নম্বরে নেমে অভিষেকের দেখানো পথেই এগোতে থাকেন ইশান। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা স্যামসন এদিনও পেয়ে যান পঞ্চাশের দেখা।
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করা বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার স্যামসন। আগের দুজন শহিদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলি (২০১৪)।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৭.২ ওভারেই ১০০ করে ফেলে ভারত। বিশ্বকাপের নক আউটে এটিই দ্রুততম দলীয় ১০০ রানের রেকর্ড। চলতি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭.৫ ওভারে ১০০ রান করে রেকর্ডটি ছিল নিউ জিল্যান্ডের।
দুই ওপেনারের ঝড় থামতে না দিয়ে উল্টো আরও তাণ্ডব চালিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কায় ২৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন ইশান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের প্রথম তিন ব্যাটার পেল ফিফটির স্বাদ।
স্যামসনের সঙ্গে ইশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারেই দুইশ করে ফেলে ভারত। মনে হচ্ছিল ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার করা ২৬০ রানের রেকর্ড হয়তো ভেঙে ফেলবে তারা। কিন্তু ১৬তম ওভারে স্যামসন, ইশান ও সূর্যকুমারকে আউট করে দেন জিমি নিশাম।
৫ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে ৪৬ বলে ৮৯ রান করে আউট হন স্যামসন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মাত্র ৫ ইনিংসে তার ছক্কা ২৪টি। এক বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
ইশানের ব্যাট থেকে আসে ৪টি করে চার-ছক্কায় ২৫ বলে ৫৪ রান। রানের খাতাই খুলতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। নিশামের ওই ওভারের ধাক্কা লাগে পরের তিন ওভারেও। ১৬ থেকে ১৯ ওভার পর্যন্ত ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান করতে ৪ উইকেট হারায় ভারত।
পরে শেষ ওভারে নিশামের ওপর ঝড় বইয়ে দেন শিবাম দুবে। বাঁহাতি ব্যাটার ৩ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মেরে শেষ ওভার থেকে নিয়ে নেন ২৪ রান। দলকে পার করে দেন আড়াইশ রানের ঘর। মাত্র ৮ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন দুবে।
ওভারে ৩ উইকেট নিলেও সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করে ফেলেন নিশাম। ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচ করে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে কিপটে বোলার ছিলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। আর ২ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে লকি ফার্গুসন।
রান তাড়ায় আর্শদিপ সিংয়ের প্রথম ওভারেই বিধ্বংসী ফিন অ্যালেনের ক্যাচ ছেড়ে দেন দুবে। পরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২১ রান নিয়ে নেন আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট। মনে হচ্ছিল, সেমি-ফাইনালের মতোই ঝড় তুলবেন দুই ওপেনার।
কিন্তু তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে বিপজ্জনক অ্যালেনকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। পরের ওভারের প্রথম বলেই রাচিন রবীন্দ্রকে আউট করে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। অনেকটা দৌড়ে সামনে লাফিয়ে চমৎকার ক্যাচ নেন ইশান।
নিজের পরের ওভারে গ্লেন ফিলিপ্সকে বোল্ড করে নিউ জিল্যান্ডকে আরও চাপে ফেলে দেন বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৫২ রান করতে ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কোণঠাসাই হয়ে পড়ে কিউইরা।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন সেইফার্ট। ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ২৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তবে এরপর আর ইনিংস টেনে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি।
বরুণ চক্রবর্তীর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ইশানের আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন ২৬ বলে ৫২ রান করা সেইফার্ট। তার আগেই পান্ডিয়ার বলে বোল্ড হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন মার্ক চ্যাপম্যান। মাত্র ৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে যেন ছিটকেই যায় নিউ জিল্যান্ড।
ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন স্যান্টনার ও ড্যারেল মিচেল। দুজন মিলে মাত্র ২৮ বলে গড়েন ৫২ রানের জুটি। ১৩তম ওভারে অক্ষরের প্রথম বলে স্যান্টনারের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন হার্দিক। তবে ওই ওভারেই ইশানের তৃতীয় ক্যাচ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ১১ বলে ১৭ রান করা মিচেল।
এরপর আর ম্যাচে তেমন কিছু বাকি ছিল না। নিজের শেষ স্পেলে বোলিং করতে এসে প্রথম ওভারে জিমি নিশাম ও ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করেন বুমরাহ। পরের ওভারে ৪৩ রান করা স্যান্টনারকেও বোল্ড করেন অভিজ্ঞ পেসার।
পরে ১৯তম ওভারে অভিষেকের বলে জ্যাকব ডাফি ক্যাচ আউট হলে নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের শিরোপা।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন বুমরাহ। অক্ষরের শিকার ২৭ রানে ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ (স্যামসন ৮৯, অভিষেক ৫২, ইশান ৫৪, হার্দিক ১৮, সূর্যকুমার ০, তিলক ৮*, দুবে ২৬*; হেনরি ৪-০-৪৯-১, ফিলিপ্স ১-০-৫-০, ডাফি ৩-০-৪২-০, ফার্গুসন ২-০-৪৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৩৩-০, রবীন্দ্র ২-০-৩২-১, নিশাম ৪-০-৪৬-৩)
নিউ জিল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৫৯ (সেইফার্ট ৫২, অ্যালেন ৯, রবীন্দ্র ১, ফিলিপ্স ৫, চ্যাপম্যান ৩, মিচেল ১৭, স্যান্টনার ৪৩, নিশাম ৮, হেনরি ০, ফার্গুসন ৬*, ডাফি ৩; আর্শদিপ ৪-০-৩২-০, হার্দিক ৪-০-৩৬-১, অক্ষর ৩-০-২৭-৩, বুমরাহ ৪-০-১৫-৪, বরুণ ৩-০-৩৯-১, অভিষেক ১-০-৫-১)
ফল: ভারত ৯৬ রানে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন