২ নভেম্বর ২০২৪, ৭:৫৮ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকেই বাতাসে চাউর হচ্ছিল একটি খবর যে, তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্বই নাকি ছেড়ে দিতে চান নাজমুল হোসেন শান্ত। স্বাভাবিকভাবে তাতে ঘুরেফুরে আসছে ভবিষ্যৎ অধিনায়ক কে হবেন, সেই প্রশ্নটি। আর এই আলোচনায় সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবে অনেকেই বিবেচনা করতে চাচ্ছেন তাওহীদ হৃদয়কে। তিনি নিজে কী ভাবছেন? তরুণ এই ব্যাটার বল তুলে দিয়েছেন নির্বাচক ও টিম ম্যানেজম্যান্টের হাতে।
টেস্ট ক্রিকেটে না হলেও বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে বেশ কিছুটা সময় ধরেই নিয়মিত মুখ তাওহীদ। সাদা বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও তিনি। শান্ত যদি শেষ পর্যন্ত সব বা এক-দুটি ফরম্যাটের দায়িত্ব ছেড়ে দেন, তাই সেখানে ভালোভাবেই আসবে তাওহীদের নাম। আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের অধিনায়ক থাকছেন শান্তই।
এই সিরিজ খেলতে দলের একাংশ আজ শনিবার দেশ ছেড়েছে। তার আগে মিরপুর শের-বাংলা-স্টেডিয়ামে কথা বলেন তাওহীদ। সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে নিজের নাম প্রসঙ্গে তুলে ধরেন নিজ অবস্থান। “টি-টোয়েন্টির অধিনায়কের ব্যাপারে বিসিবি সিদ্ধান্ত নেবে। এটা আমার বিষয় নয়। তবে আমি মনে করি, এটা শুধু আমার বা দু-একজন দিয়ে হবে না। বিসিবি বা যারা দায়িত্বে আছেন, তারা ভালো জানেন। আমার মনে হয় দলের ভালোর জন্য যার কাছে যাওয়া উচিত, তাকেই অধিনায়কত্ব দেওয়া উচিত। আর যার কাছে যাবে, তার জন্য শুভকামনা।”
ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাওহীদের নেই বলার মত অধিনায়কত্ব করার মত অবস্থা। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দলের পারফরম্যান্সও খুব ভালো নয়। সামগ্রিকভাবে তাই অধিনায়ক কে হবেন, বা কে হতে পারেন সেই ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হলেন না এই ডানহাতি ব্যাটার। “আমি এই ব্যাপারে এখন কথা বলতে চাচ্ছি না। সামনে যেহেতু একটা সিরিজ আছে, সেখানেই মনোযোগ দিচ্ছি।”
গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর এক বছরে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ ম্যাচ খেলেছে বেশ কম। শেষ সিরিজে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় ধরা দিয়েছিল ২-১ ব্যবধানে। তবে এরপর কেটে গেছে সাত মাস। তাছাড়া অন্য দুই ফরম্যাটে গত কয়েক মাসে যায়নি ধারাবাহিক ভালো সময়। দুই ফরম্যাট মিলে টানা সাত ম্যাচ হারের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। আর এই কারণেই ওয়ানডে সিরিজ হলেও কিছুটা চাপ থাকবে শান্তর দলের ওপর।
তাওহীদ অবশ্য এই সিরিজ নিয়ে বেশ ইতিবাচক। “আশা করি, ভালোভাবে শুরু করতে পারবো। এই সংস্করণে যেহেতু ভালো খেলি, এবার অবশ্যই ভালোভাবে শুরু করতে চাই। আমাদের যে সামর্থ্য সে অনুযায়ী খেলতে পারলে ভালো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।”
বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের তিন ম্যাচের ওয়ানডে শুরু হবে আগামী ৬ নভেম্বর। পরের দুই ম্যাচ ৯ ও ১১ নভেম্বর। সবগুলো ম্যাচ দেখা যাবে টি-স্পোর্টস নেটওয়ার্কে।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল পাকিস্তানের। অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) খেলতে গিয়ে হাঁটুর চোটে পড়েন দলের অন্যতম সেরা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপর ফিরে আসেন দেশে। ডান হাঁটুর এই চোটে ঠিক কতদিনের জন্য তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তা ছিল সবার। তবে বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে ভালো খবর দিলেন আফ্রিদি।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসায় দ্রুতই আফ্রিদির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে দ্রুত পুনর্বাসন শুরু হওয়া সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি এই পেসার আশা করছেন আগামী সপ্তাহ থেকেই আবার বোলিংয়ে ফিরবেন।
লাহোর কালান্দার্সের ট্যালেন্ট হান্ট ইভেন্টে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আফ্রিদি নিজের চোট নিয়ে কথা বলেন। এর আগেও একবার হাঁটুর চোটে পড়েছিলেন তিনি। তবে এবার হাঁটুর এই চোট আগের মতো গুরুতর নয় বলে জানান আফ্রিদি, ‘আমার পুনর্বাসন চলছে, পিসিবি মেডিকেল টিম দেখাশোনা করছে। আমি জিম করছি এবং ব্যাটিং অনুশীলন করছি। আগামী সপ্তাহ থেকে বোলিং শুরু করব।’
আফ্রিদি আরও যোগ করেন, ‘এবারের চোট আগের মতো গুরুতর নয়। হাড়ে সামান্য ফোলাভাব আছে। এমআরআই রিপোর্ট খুব উদ্বেগজনক ছিল না, তাই এটা এক মাস নেবে না, সম্ভবত এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।’
এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় একটি টেস্ট ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় ‘পোস্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট’ চোট পান। এই চোটে প্রায় ছয় মাস মাঠের বাইরে ছিলেন পাকিস্তানি তারকা পেসার। সেই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম অংশও খেলতে পারেননি। পরে পাকিস্তানের দলের শেষপর্যায়ের খেলায় ফিরলেও, ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবার চোট পান।
বিগ ব্যাশে এবার ব্রিসবেন হিটের হয়ে আফ্রিদি চারটি ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে প্রতি ওভারে ১১.১৯ রান খরচ করে মাত্র দুই উইকেট নিয়েছেন। তবে দেশের হয়ে তিনি ভালো ছন্দেই ছিলেন। গত বছর পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ ও আবরার আহমেদ-এর পর তিনি কুড়ি ওভারের সংস্করণে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন।
আফ্রিদির দল বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় আছে। বিশ্বকাপের আগে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে আজ মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। ভারত-শ্রীলঙ্কার হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপের আগে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ।

শুরুতে ঝড় তুললেন মাহমুদুল হাসান জয়। আর শেষের সিলেট টাইটান্সের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন শেখ মেহেদি হাসান। দুজনের বিধ্বংসী দুটি ইনিংসে চলতি বিপিএলের রেকর্ড গড়ল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান করেছে চট্টগ্রাম। এবারের বিপিএলে যা সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেটের করা ১৯০ রান টপকে ১৯২ রান করেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এর ১৫ ম্যাচ পর সেটি টপকে দুইশ ছুঁইছুঁই স্কোর দাঁড় করাল চট্টগ্রাম।
রেকর্ড পুঁজির বড় কারিগর জয় ও মেহেদি। মাত্র ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন তিন নম্বরে নামা জয় আর শেষ দিকে ১৩ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মেহেদি।
চট্টগ্রামের ইনিংসে ফিফটি করতে পারেননি কেউই। বিপিএলে কোনো ব্যক্তিগত ফিফটি ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। গত বছর ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে কোনো ফিফটি ছাড়াই ২০২ রান করেছিল রংপুর রাইডার্স।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো ছিল না চট্টগ্রামের। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৫ রানে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮)। এরপর তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন জয়। অ্যাডাম রসিংটনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৬০ রান।
ফিফটির আগেই অবশ্য ফিরে যান ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারা জয়। মাত্র ১ রানের জন্য টানা চতুর্থ ফিফটি করতে পারেননি রসিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৯ রান। পরে হাসান নাওয়াজ (২০ বলে ২৫) ও আসিফ আলি (৮ বলে ১৩) তেমন কিছু করতে পারেননি।
তবে ফিনিশিংটা দুর্দান্ত করেন মেহেদি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আমির জামালকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ১৭ বলে ৩৯ রান। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ায় সিলেট দলে নেই মোহাম্মদ আমির। তার জায়গায় খেলতে নেমে ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (নাঈম ১৮, রসিংটন ৪৯, জয় ৪৪, নাওয়াজ ২৫, আসিফ ১৩, মেহেদি ৩৩*, জামাল ৬*; রুয়েল ৪-০-৪১-১, খালেদ ৪-০-৫৫-০, মইন ৪-০-২৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, ওমরজাই ৪-০-৪৭-১)

বিরাট কোহলির জনপ্রিয়তা কতটা ব্যাপক, তা নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঠে–মাঠের বাইরে, যেখানে যান সেখানেই ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যান ভারতের সাবেক অধিনায়ক। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ভাদোদরা পৌঁছানোর সময়ও ব্যতিক্রম হয়নি।
১১ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া সিরিজকে সামনে রেখে ভাদোদরা বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের তীব্র ভিড়ে পড়ে যান কোহলি। সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম—সেখানে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ‘মবের’ মতো। নিরাপত্তাকর্মীরাও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন। কোহলিকে নিরাপদেই বের করে এনেছেন তাঁরা।
লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর ভারতে কোহলিকে খুব একটা দেখা যায় না। ফলে দেশে এলেই তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য ভক্তদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। ভাদোদরায়ও ঠিক সেটাই দেখা গেছে। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুহূর্তে বিপুলসংখ্যক ভক্ত কোহলিকে ঘিরে ধরেন। চারদিক থেকে ভেসে আসে তার নামের ধ্বনি। মোবাইল ফোন উঁচিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
তীব্র ভিড়ের কারণে নিজের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতেই বেশ বেগ পেতে হয় কোহলিকে। কিছু সময়ের জন্য তাঁকে বিরক্ত ও মুখাবয়বে ছিল হতাশার প্রতিচ্ছবি। ভক্তদের চাপে কার্যত থমকে যায় তাঁর এগোনো, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার ভক্তদের ভিড়ে পড়েছেন কোহলি। কয়েক দিন আগেই বিজয় হাজারে ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে পৌঁছালে একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি। কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও সেবারও তাঁকে ঘিরে ধরেন অসংখ্য ভক্ত। তখন ভক্তরা তাঁর ফর্ম, সফরের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করেন, সেলফির আবদারও করেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখার অনুরোধ জানিয়ে কোহলি সেলফিতেও রাজি হন এবং পুরো সময়টাতেই তাঁকে হাসিখুশি দেখা যায়।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে দারুণ ছন্দেই আছেন কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর দ্রুতই নিজের চেনা রূপে ফেরেন তিনি। সিডনির ওয়ানডেতে করেন ফিফটি, তারপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা দুটি সেঞ্চুরি। সিরিজের শেষ ম্যাচেও করেন ফিফটি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পুরো সিরিজে কোহলির ব্যাট থেকে আসে ৩০২ রান। টানা চার ওয়ানডেতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কোহলি এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জে নামছেন। মাঠের পারফরম্যান্স যেমন আলোচনায়, তেমনি মাঠের বাইরে তার জনপ্রিয়তাও যে এখনও অটুট—ভাদোদরার বিমানবন্দর সেই ছবিই আবার স্পষ্ট করে দিল।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে সামনের মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এই বিষয়ে পরামর্শ করতে ও সরকারি আদেশপত্রের ব্যাপারে সবশেষ তথ্য জানতে বুধবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে দেখা করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ।
সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথাই আবারও জোর দিয়ে বলেন বুলবুল। সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মিটিংয়ের মূল ফলাফল কী? আপনাদের কি কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে আপনারা কীভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হবেন?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল: আমরা আইসিসির কাছে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে লিখেছি। আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব খেলোয়াড়দের দেখাশোনা করা হলেও, এর বাইরে সাংবাদিক, স্পন্সর এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। যেহেতু বিদেশ ভ্রমণের জন্য সরকারি আদেশের (গভর্নমেন্ট অর্ডার) প্রয়োজন হয়, তাই আমরা এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা নিচ্ছি।
যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না হয়, তবে আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়ে যাব। এটি একটি অত্যন্ত যৌক্তিক কারণ। আমরা এর আগে অনেক বিশ্বকাপ খেললেও কখনও এমন নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলিনি।
প্রশ্ন: অন্যান্য দেশও সেখানে খেলতে যাবে। তারা যদি কোনো অভিযোগ না করে, তবে আপনাদের অভিযোগ কি টিকবে বলে আপনি মনে করেন?
বুলবুল: আমরা একটি অত্যন্ত যৌক্তিক বিষয় নিয়ে কথা বলছি। উদাহরণস্বরূপ, মোস্তাফিজের মতো একজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে যখন দেখা গেল যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অসুবিধা হচ্ছে, তখন তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুরো বাংলাদেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী যখন খেলা দেখতে যাবে, সেটি একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
প্রশ্ন: এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেমন হতে পারে বলে আপনি মনে করছেন?
বুলবুল: আমরা আমাদের জাতীয় দল প্রস্তুত করছি। এরই মধ্যে স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান বিপিএল আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমাদের দলকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সঙ্গে অভ্যস্ত করা। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমরা কোনো ছাড় দিচ্ছি না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে আইসিসি আপনাদের কিছু জানিয়েছে?
বুলবুল: শ্রীলঙ্কায় খেলা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়- এমন একটি অপপ্রচার চলছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আইসিসির সঙ্গে আমাদের একবার যোগাযোগ হয়েছে। তারা জানতে চেয়েছে আমাদের সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো কী। আমরা এখন সেই বিষয়গুলো লিখিতভাবে জানাচ্ছি।
প্রশ্ন: আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। যদি নতুন সরকার আসে, তবে এর প্রভাব কী হবে?
বুলবুল: আমরা একটি ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে কাজ করি। আইসিসি বা ফিফার মতো সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। আমরা আমাদের যৌক্তিক কারণগুলো তাদের কাছে তুলে ধরি এবং সেভাবেই কাজ পরিচালনা করি।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার পরিণতি বাংলাদেশ যদি না যায় তবে তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। বিসিবি কি এই বিষয়টি বিবেচনা করবে?
বুলবুল: বিসিবি অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবে। অতীতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় ভারত পাকিস্তানে যায়নি এবং পাকিস্তানও গত কয়েকটি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসেনি। সুতরাং, আমরা একটি সঠিক সমাধানের আশা করছি। ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে যদি বিশ্বকাপ নিয়ে আপস করতে হয়, তবে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকব।

এক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফিনিশার হিসেবে দেখা হত নাসির হোসেনকে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা খুব লম্বা করতে পারেননি তিনি। অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপনে ২০১৮ সালে থমকে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। সেই থেকে নির্বাচকদের নজরে নেই নাসির হোসেন। বিপিএলের চলমান আসরে সেই নাসির ৫ম রাউন্ডে এসে সমর্থকদের দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস (৫০ বলে ১৪ চার, ২ ছক্কায় ৯০*) উপহার। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশে ইমাদ ওয়াসিমের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৪র্থ উইকেট জুটিতে ৪০ বলে ৬১ রানে ৩৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বিশাল জয় উদযাপন করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস। ৫ম ম্যাচে এটি ঢাকা ক্যাপিটালসের দ্বিতীয় জয়।
এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ড পারফরমেন্সে (২৫.১৪ গড় এবং ১১৫.৭৮ স্ট্রাইক রেটে ১৭৬ রান এবং ২৫.৮৩ গড়ে ৬ উইকেট) উজ্জীবিত নাসির হোসেন এবারের বিপিএলকে করেছেন টার্গেট। প্রথম ৪ ম্যাচের ১ টি তে পাননি ব্যাটিংয়ের সুযোগ। ৫ম রাউন্ডে এসে সতর্ক শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যাটটা করেছেন চওড়া। দ্বিতীয় ওভারে হাসান মাহামুদকে ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি পেয়ে হয়েছেন চাঙ্গা। ৪র্থ ওভারে আফগান অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীকে মেরেছেন লং অফ, লং অন, ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ এবং কাউ কর্নার দিয়ে চারটি বাউন্ডারি। রেজাউর রহমান রাজাকে লং অন দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মাত্র ২১ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১০ম ফিফটি উদযাপন করেছেন। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস ছিল ৮০, তা ছাপিয়ে বুধবার সিলেটে করেছেন ৫০ বলে ৯০। বলে-কয়ে ১৪টি বাউন্ডারি মেরেছেন। মাজ সাদাকাতকে কাউ কর্নার দিয়ে এবং জহির খানকে একই জায়গা দিয়ে তাঁর ছক্কা দুটিও ছিল অসাধারণ।
পার্টনার ইমাদ ওয়াসিম একটু হিসেবি হলে এদিন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির দেখাও পেতে পারতেন নাসির। কিন্তু ১৩তম ওভারে আফগান পেসার জহির খানকে ২ ছক্কা ১ বাউন্ডারি মেরে ইমাদ ওয়াসিম নাসিরের সেঞ্চুরির পথে বাধা হয়ে দাড়িঁয়েছেন। ইমাদ ওয়াসিম ১৬ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বিপিএলের চলমান আসরে ক্রমশ লজ্জা ভারী হচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। টানা ৫টি ম্যাচে হারের বৃত্তে সমর্থকদের এই দলটি। প্রতিটি ম্যাচেই নোয়াখালীর সহজ আত্মসমর্পন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বুধবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে দুর্যোগের কবলে (১৯/৩) পড়ে নোয়াখালী। স্কোরশিপের চেহারা এক পর্যায়ে ছিল ৪০/৫! সেখান থেকে ৬ষ্ঠ জুটিতে মোহাম্মদ নবী-হায়দার আলী যোগ করেছেন ৬৪ বলে ৯০। এই জুটির ব্যাটিংয়ে শেষ পাওয়ার প্লে-এর ৩০ বলে যোগ হয়েছে ১ উইকেটের বিপরীতে ৫০ রান।
পয়েন্টহীন কাটানো নোয়াখালী এক্সপ্রেস ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৫ম ম্যাচে ১৩৩/৬ স্কোর করেছে। আশ্চর্য হলেও সত্য, স্থানীয় ব্যাটারদের কেউ ডাবল ফিগারের দেখা পাননি! ৩৬ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় হায়দার আলীর ৪৭, ৩৩ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় মোহাম্মদ নবীর হার না মানা ৪২ এবং মাজ সাদাকাতের ১৯ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ২৪, এই তিন ব্যাটারই তাদের বিদেশী রিক্রুট।
আবু হাশিম নামের এক বাঁ হাতি স্পিন অলরাউন্ডার এদিন বিপিএলের চলমান আসরে প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ব্যাটিংয়ে তার অবদান ১ বলে ০*, বোলিংয়ে ২-০-৮-০। যেখানে প্রিমিয়ার ডিভিশনের অনেক ক্রিকেটার পায়নি বিপিএলে দল, সেখানে প্রথম বিভাগের দল উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড় আবু হাশিম পেয়েছেন ৫ম রাউন্ডে এসে খেলার সুযোগ! বিপিএলে অংশগ্রহনই কী তাহলে বড় কথা, নাকি অন্য কিছু। হারের বৃত্তে থাকা নোয়াখালী এক্সপ্রেসই এ প্রশ্নের ভাল উত্তর দিতে পারবে।