
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্সে রোববার সকালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের উদ্বোধন করে দুপুরে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সভা করেছেন তামিম ইকবাল। যেখানে নেওয়া হয়েছে ৪টি বড় সিদ্ধান্ত।
তামিমের নেতৃত্বাধীন অ্যাড-হক কমিটির এই তৃতীয় সভা শেষ হওয়ার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বড় ৪টি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিসিবি।
তিন আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত
অ্যাড-হক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার পূর্ব ঘোষিত অ্যাডহক কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
নির্বাচনের প্রথম ধাপ: কাউন্সিলর মনোনয়ন আহ্বান
বিসিবি নির্বাচনের ডামাডোল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১২.৭ অনুযায়ী খুব শীঘ্রই সব ক্যাটাগরিতে কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রদানের জন্য নোটিশ জারি করা হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।
তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই কমিশনে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন:
আরও পড়ুন
| মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য লাউঞ্জ করছেন তামিম |
|
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে একজন প্রতিনিধি;
বিসিবি কর্তৃক মনোনীত দুইজন প্রতিনিধি
বেভারেজ পার্টনার কোকা-কোলা
মাঠের বাইরের কার্যক্রমে বিসিবির অফিশিয়াল ড্রিংকিং ওয়াটার ও বেভারেজ পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে কোকা-কোলা বাংলাদেশ। আগামী ২ বছরের জন্য বিসিবির সাথে এই চুক্তিটি অনুমোদিত হয়েছে।
No posts available.
৪ মে ২০২৬, ৭:০৮ পিএম
৪ মে ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
৪ মে ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাড-হক কমিটির দায়িত্ব নিয়েই দেশের সব অধিনায়ককে সম্মানিত করতে 'ক্যাপ্টেনস কার্ড' দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এবার জাতীয় দলের হয়ে খেলা সকল ক্রিকেটারের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ বানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার অ্যাড-হক কমিটির সভার পর সংবাদমাধ্যমে এই কথা জানিয়েছেন তামিম নিজেই। শুধু তাই নয়, সাবেক ক্রিকেটার বা সংগঠকদের নামে স্টেডিয়ামে বিভিন্ন স্ট্যান্ড নামকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
এরই মধ্যে হোম অব ক্রিকেটের ম্যানুয়াল স্কোরবোর্ডের পাশে শহীদ আবু সাইদ স্ট্যান্ডে (সাউদার্ন স্ট্যান্ড) দ্বিতীয় তলার কর্পোরেট বক্সগুলো ভেঙে নতুন করে লাউঞ্জ বানানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। তামিমের আশা, শিগগিরই এটির উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় ক্রিকেটারদের এই লাউঞ্জ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে বিস্তারিত জানান অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম। একইসঙ্গে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) অফিস তৈরি করার কথাও বলেন তিনি।
“বাংলাদেশের যে ১৭০-১৮০ জন (আন্তর্জাতিক) ক্রিকেটার খেলেছেন, তাদের জন্য একটা সুন্দর লাউঞ্জ বানিয়ে দিচ্ছি। সিটগুলোকে নিয়ে সংস্কার করে একটা সুন্দর ব্যালকনি হবে। বিশ্বের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে বড় ব্যালকনি থাকে, ব্যালকনিতে এসে বসে সাবেক ক্রিকেটাররা চা-কফি খায়। ওইরকম থাকবে।”
“ভেতরে লাউঞ্জ থাকবে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জনের জন্য। এটা শুধুমাত্র জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য থাকবে। এর সঙ্গে কোয়াবের একটা নিজস্ব অফিসও থাকবে। আমি যে কথাটা বলি, জাতীয় ক্রিকেটারদের ঘর এটা। আর ঘরে তো তাদের জন্য কোনো জায়গাও থাকতে হবে।”
এসময় তামিম জানান, সব জাতীয় ক্রিকেটারকে বিশেষ কার্ড করে দেওয়া হবে, যেটির মাধ্যমে লাউঞ্জ ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
“জাতীয় ক্রিকেটারদের আজীবনের জন্য এই জিনিসটা করছি। কাজের কয়েকটা কার্ড দিয়ে দেওয়া হবে এক্সেস, যেটা এখানে উনারা এক্সেস করতে পারবেন। উনারা ছাড়া কেউ এক্সেস করতে পারবেন না। প্লাস ওখানে যেটা আমি বলেছি যে কোয়াবের কিছু অফিসও এটার মধ্যে সেটআপ করা থাকবে।”
“অধিনায়কদের জন্য আমরা ক্যাপ্টেনস কার্ড করেছি, জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্যও এই জিনিসটা দিয়ে শুরু করলাম। অনেকেই দেখেছি যে (ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়ে) নাখোশ ছিলেন। তবে আমাকে তো একটু সময় দিতে হবে জিনিসগুলো করার জন্য।”

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের উদ্বোধনী দিনে রানের দেখা পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়, আশিকুর রহমান শিবলি, ইরফান শুক্কুররা। এছাড়া ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে সিটি ক্লাবকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বৃষ্টিতে ৩৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান করেছে সিটি ক্লাব। জবাবে ৩৫.২ ওভারে ম্যাচ জিতে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
রান তাড়ায় তারকাখচিত মোহামেডানের পক্ষে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৮৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন বিজয়। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এছাড়া তাওহিদ হৃদয় ৩৫ বলে ৩৪ ও ইয়াসির আলি রাব্বি ২৩ বলে ৩৬ রান করেন।
তবে হতাশ করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (৫ বলে ৫), পারভেজ হোসেন ইমন (৪ বলে ০), আফিফ হোসেন ধ্রুবরা (৫২ বলে ২৭)।
এর আগে সিটি ক্লাবকে দুইশর কাছে নিয়ে যান সাদিকুর রহমান (৬৩ বলে ৫৬), এনামুল হক (৪৪ বলে ৩৫), আহরার আমিন পিয়ান (৪১ বলে ৩১), সাজ্জাদুল হক রিপনরা (৩১ বলে ২৯)। তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
মোহামেডানের পক্ষে ৮ ওভারে মাত্র ২০ রানে ৪ উইকেট নেন দীর্ঘদেহী অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ। এর মধ্যে এক ওভারেই ৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া রিপন মন্ডল ও রিশাদ হোসেনের শিকার ২টি করে উইকেট।
রূপগঞ্জকে জেতালেন মেহেদি-শিবলি
পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ২২ রানে জিতেছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ৩৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৩ উইকেটে ২৮৩ রান করে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। জবাবে ৭ উইকেটে ২৬১ রান পর্যন্ত যেতে পারে রূপগঞ্জ টাইগার্স।
ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করে সপ্তম ওভারে হাবিবুর রহমান সোহানের উইকেট হারায় লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ। পরে ৯০ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন আশিকুর রহমান শিবলি ও ইরফান শুক্কুর।
দারুণ ব্যাটিংয়ে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ বলে ৬০ রান করে আউট হন শুক্কুর। পরে ঝড় তুলে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ২২ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন সামিউন বশির রাতুল।
ওপেনার শিবলিও একই ছন্দে এগোতে থাকেন। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, লিগের প্রথম সেঞ্চুরিটি পেয়েই যাবেন তিনি। কিন্তু শেষ দিকে শেখ মেহেদি তাণ্ডব চালালে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে যান তরুণ ওপেনার। ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৮১ বলে ৯৯ রান করেন শিবলি।
৫ ওভার বাকি থাকতে ক্রিজে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ১৬ বলে ৪৯ রান করেন মেহেদি। ৫ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারেন লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ অধিনায়ক।
বিশাল লক্ষ্যে রূপগঞ্জ টাইগার্সও দারুণ লড়াই করে। তিন নম্বরে নেমে ৭ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ৪৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন কালাম সিদ্দিকি এলিন। শেষ দিকে মুক্তার আলির ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ২৭ বলে ৫২ রান।
এছাড়া আব্দুল মজিদ (৪১), মাহমুদুল হাসান (২৭), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহরাও (২৩) ছোট ছোট ইনিংসে অবদান রাখার চেষ্টা করেন। তবে তা দলকে জেতাতে পারেনি।
বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ ও স্বাধীন ইসলাম।
আলিসের ঘূর্ণিতে প্রাইম ব্যাংকের জয়
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। বৃষ্টিতে ৩০ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৫৩ রানের অলআউট হয় অগ্রণী ব্যাংক। জবাবে ২৮.৫ ওভারে জয় পায় প্রাইম ব্যাংক।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অগ্রণী ব্যাংকের কেউই তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ৩২ রান করতে ৪৫ বল খেলেন ইমরুল কায়েস। এছাড়া মাহফিজুল ইসলাম রবিন ২২ ও নাসির হোসেন করেন ২২ রান।
প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ৬ ওভারে ২২ রানে ৪ উইকেট নেন আলিস আল ইসলাম। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
রান তাড়ায় শুরুতেই ড্রেসিং রুমে ফেরেন শাহাদাত হোসেন দীপু। পরে তানজিদ হাসান তামিম ৩২ বলে ৪৪ ও আরিফুল ইসলাম ৩৫ বলে ৩৪ রান করে দলের জয়ের পথ সুগম করে দেন।
পরে আকবর আলি (১৬ বলে ৭) হতাশ করলেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪২ বলে ২৩) ও শামীম হোসেনের (৩০ বলে ২৪*) ব্যাটে সহজেই ম্যাচ জিতে যায় প্রাইম ব্যাংক।

আবাহনী ক্রিকেট টিমের অর্থায়ন করে থাকেন যারা, তাদের কেউ কারাগারে, কেউ কেউ ছেড়েছেন দেশ। এমন একটা সংকটজনক অবস্থায় পড়েও গত বছর সমর্থকদের দিয়েছে সুখবর। অর্থ সংকটে মিডিওকার টিম বানিয়েও জিতেছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ট্রফি। এবারও গত বছরের ফর্মূলা প্রয়োগে বিলম্বে দল গঠন করে বাজিমাত করতে চেয়েছে আবাহনী। তবে মিডিওকার টিম গঠনের ধাক্কাটা খেয়েছে আবাহনী শুরুতেই। প্রিমিয়ার ডিভিশনের নবাগত ঢাকা লিওপার্ডের কাছে ৫ উইকেটে হেরে লিগ শুরু করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে লিস্ট 'এ' ক্রিকেট ম্যাচের অভিষেকে আবাহনী ধাক্কা খেয়েছে শুরুতেই। বৃষ্টির কারণে দুই এন্ডের বোলিং রান আপ এবং পাশের পিচ ভেজা থাকায় নির্ধারিত সময়ের সাড়ে ৩ ঘন্টা পর শুরু হয়েছে উদ্বোধনী ম্যাচ। এমন একটা ভেজা মাঠে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েই আবাহনীকে ব্যাকফুটে নামিয়ে এনেছে ঢাকা লিওপার্ড। ৩০ ওভারের ম্যাচে ওভারপ্রতি ৬-এর উপরে স্কোর করেছে আবাহনী (১৮১/৮)। তবে রোদ্রজ্জ্বল আবহওয়ায় পিচ শুকিয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে পেরেছে ঢাকা লিওপার্ডস। প্রথম উইকেট জুটির ৩৩ বলে ৩৪, দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৪৭ বলে ৫০ এবং তৃতীয় উইকেট জুুটির ৬৭ বলে ৭৩ রানে ৫ বল হাতে রেখে আবাহনীকে ৫উইকেটে হারিয়ে ফ্লাইং স্টার্ট করেছে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের নবাগত ক্লাব ঢাকা লিওপার্ডস।
ঢাকা লিওপার্ডসের পেসার মঈন খান ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর ৬ ওভারে দিয়েছেন ঝাঁকুনি। ইনিংসেরর ৪র্থ বলে জিসান আলমকে (৪ বলে ৬) লফটেড শটে প্রলুব্ধ করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন মঈন খান। পরের ওভারে মঈন খানের শিকার সৌম্য সরকার (৬ বলে ০) থেমেছেন বোল্ড আউটে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৩ ওভারের স্পেলটি ছিল মঈন খানের ৩-০-১২-২। ইনিংসে তার শিকার সংখ্যা ৩টি (৬-০-২১-৩)।
আবাহনীর সঙ্গে এক যুগেরও বেশি সময় কাটিয়ে দেওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত প্রথম ম্যাচে হতাশ করেছেন। আল ফাহাদের বলে তুলে খেলতে যেয়ে লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ (৩৩ বলে ১১)। অঙ্কন-মেহরব তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৬ বলে ৬১ রান যোগ করে দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোরের পথ দেখিয়েছেন। ৭ম উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমান রুম্মান-মাহফুজুর রহমান বাপ্পী ২৩ বলে ৪৪ রান যোগ করলে ৩০ ওভারে নির্ধারিত ম্যাচে আবাহনীর স্কোর দাঁড়ায় ১৮১/৮।
আবাহনী ১৮১ পর্যন্ত স্কোর টেনে নিতে পেরেছে সাব্বির রহমান রুম্মানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কারণে। ২০২২-এর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা সাব্বিরের প্রয়োজন ফুরিয়েছে বিপিএলেও। সর্বশেষ বিপিএলে খেলার সুযোগই পাননি এক সময়ে জাতীয় দলের এই লোয়ার মিডল অর্ডার। সোমবার প্রিমিয়ার ডিভিশনের প্রথম ম্যাচে ইনিংসের শেষ বলে আল ফাহাদকে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কায় পূর্ণ করেছেন ফিফটি (২৯ বলে ২ চার, ৫ ছক্কায় ৫১*)। টি-২০ মেজাজে ব্যাটিংয়ে ৫টি ছক্কার ৩ টি মেরেছেন আলাউদ্দিন বাবুকে। তাঁর ব্যাটিং ঝড়ে শেষ ৪ ওভারে আবাহনী যোগ করেছে ২ উইকেট হারিয়ে ৫১।
খালেদ-রাকিবুল-সৈকত-মাহফুজুর রাব্বী, এমন বোলিং কম্বিনেশন নিয়েও ঢাকা লিওপার্ডকে চাপে ফেলতে পারেনি আবাহনী। ওপেনিং জুটিতে জাকির-জাওয়াদ আবরারের ৩৩ বলে ৩৪, দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জাকির-সৈকত আলীর ৪৭ বলে ৫০ এবং চতুর্থ উইকেট জুটিতে জাকির-মিঠুনের ৬৭ বলে ৭৩ রান ঢাকা লিওপার্ডের সহজ জয়ের পথ মসৃন করেছে। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে ৩ হাজারী ক্লাবের সদস্যপদ প্রাপ্তির ম্যাচে ওপেনার জাকির ৪৮ বলে পূর্ণ করেছেন ফিফটি। তবে ফিনিশ করে আসতে পারেননি। মাহফুজুর রহমান রাব্বীর বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন (৬৬ বলে ৬ চার, ৩ ছক্কায় ৭৪)। জয় থেকে ঢাকা লিওপার্ড যখন মাত্র ৮ রান দূরে, তখন মিঠুন ফিরেছেন জিসানের বলে এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়ে (৪০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৭)।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের নতুন মৌসুমে উড়ন্ত সূচনা পেল বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২৬ রানে হারিয়েছে তারা।
পিকেএসপির ২ নম্বর মাঠে ডিপিএলের উদ্বোধনী দিনে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৮০ রান করে বসুন্ধরা। জবাবে ২৫৪ রানে গুটিয়ে যায় গুলশান।
বসুন্ধরার জয়ের নায়ক সাইফ হাসান। অল্পের জন সেঞ্চুরি না পেলেও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১২৬ বলে ৯৬ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন জাতীয় দলের ওপেনার।
ম্যাচে রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় গুলশান। চার নম্বরে নামা শাহরিয়ার সাকিব ৪৭ রানের ইনিংসে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তাকে এলবিডব্লিউ করে থামান সাইফ।
পরে শাহাদাত হোসেন সবুজও চেষ্টা করেন দলকে এগিয়ে নিতে। কিন্তু ৫৪ বলে ৩৯ রানের বেশি করতে পারেননি। একপর্যায়ে ১৯৪ রানে ৯ উইকেট নিয়ে বড় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে বসুন্ধরা।
দশম উইকেটে জুবায়ের হোসেন ও আব্দুর রহিম ৪৪ বলে ৬০ রানের জুটি গড়ে গুলশানের পরাজয়ের ব্যবধান কমান। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৯ বলে ৭৩ রান করে আউট হন জুবায়ের। ২৬ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন রহিম।
বসুন্ধরার পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন রুয়েল মিয়া ও নাহিদুল ইসলাম।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৬ রান যোগ করেন ইমরানউজ্জামান ও সাইফ। ৮ চারে ৫৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন ইমরানউজ্জামান। এরপর ম্যারাথন জুটি গড়েন সাইফ ও ফজলে রাব্বি।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ১৩৩ রান। ২টি করে চার-ছক্কা মারলেও মন্থর ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশ করতে ৮৪ বল খেলে ফেলেন সাইফ। অন্য দিকে ফজলে রাব্বি ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৩ বলে করেন ফিফটি।
দলকে দুইশর কাছে রেখে আউট হন ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৯ বলে ৭২ রান করা ফজলে রাব্বি। এরপর দলের হাল ধরেন সাইফ ও সোহান। দুজন মিলে ৬৭ বলে গড়েন ৭১ রানের জুটি।
ইনিংসের ৪৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার তানভিরের শর্ট বল পুল করে দেন সোহান। ডিপ মিড উইকেটে লাফিয়ে ক্যাচ নেন রাফিউজ্জামান রাফি। তবে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি চলে যান সীমানার ওপারে। এর আগে অবশ্য বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন।
পরে সীমানার ভেতরে ঢোকার আগেই বাউন্ডারির বাইরে মাটিতে পা থাকা অবস্থায় ক্যাচ নেন রাফি। এর সঙ্গে সঙ্গেই আউটের উদযাপন শুরু করেন তিনি। তবে সংশয় থাকায় মাঠ ছেড়ে যাননি সোহান। বরং আম্পায়ারদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে থাকেন তিনি।
ততক্ষণে রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায়, দ্বিতীয়বার ক্যাচ নেওয়ার সময় বাউন্ডারির বাইরে মাটিতে ছিল রাফির পা। তাই নিয়ম অনুযায়ী, ছক্কাই পাওয়ার কথা সোহানের।
তবে টুর্নামেন্টে কোনো থার্ড আম্পায়ারের সুযোগ না থাকায় ফিল্ডারের কথার ওপরেই ভরসা রাখতে হয় মাঠের দুই আম্পায়ারের। আর রাফি বারবার আউটের কথা বলায় আউট ঘোষণা করা হয় সোহানকে।
২ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ বলে ৪৩ রান করে ফিরতে হয় বসুন্ধরা অধিনায়কের।
এক বল পরে লং অফের দিকে খেলে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় শেষ দিকে খানিক ধীর হয়ে যান সাইফ। তাতেই ঘটে বিপদ। বেলস ফেলে তাকে সেঞ্চুরি মিসের হতাশায় ডোবান উইকেটরক্ষক ফারজান আহমেদ আলিফ।
৩টি করে চার-ছক্কা মেরে ১২৬ বলে ৯৬ রান করেন সাইফ।
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আব্দুর রহিম ও তানভির।
ব্রাদার্সকে উড়িয়ে দিল গাজী গ্রুপ
ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে দিনের অন্য ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেডকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় খেলা। ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৩৬ ওভারে।
আগে ব্যাট করে ২৯.৪ ওভারে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স। জবাবে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪.৩ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় গাজী গ্রুপ।
জয়ের নায়ক গাজী গ্রুপের রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। ৮ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে বিপিএল জেতা স্পিনার।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একদমই সুবিধা করতে পারেনি ব্রাদার্স। শাহরিয়ার কমল (৪১ বলে ২৬) ও ফয়সাল আহমেদ রায়হান (৪৩ বলে ২১) ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
রুবেল ছাড়াও গাজী গ্রুপের আরেক স্পিনার লিওন ২০ রানে নেন ৩ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার আরিদুল ইসলাম আকাশ ৭ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৯ রানে নেন ১ উইকেট।
পরে রান তাড়ায় অল্পেই ফিরে যান মুনিম শাহরিয়ার (১৬ বলে ১১)। এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি নাঈম আহমেদ (৪৯ বলে ৪৮) ও রুবেল মিয়া (২২ বলে ১৮)।
১৫ ওভারের মধ্যে ৮ জন বোলার ব্যবহার করে ব্রাদার্স।

৬ বলে প্রয়োজন ১৪ রান। বড় শটের খোঁজে ক্যাচ আউট হয়ে গেলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে হতাশায় ব্যাট দিয়ে আঘাত করলেন মাটিতে। সেটিই কাল হয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশ অধিনায়কের জন্য। মেজাজ হারানোয় ভর্ৎসনা শুনতে হয়েছে তার।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি জানিয়েছে, আউট হয়ে মাঠে মেজাজ হারানোয় আনুষ্ঠানিক তিরস্কার করা হয়েছে জ্যোতিকে। এছাড়া তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।
আরও পড়ুন
| অনুশীলনে নেইমার ও রবিনহোর ছেলের হাতাহাতি |
|
সিলেটে শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৪ রান। চামারি আতাপাত্তুর প্রথম বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন জ্যোতি। পরে হতাশায় ব্যাট দিয়ে মাটিতে সজোরে আঘাত করেন তিনি।
যা ভালোভাবে নেননি মাঠের দুই আম্পায়ার ইলোইস শেরিডান ও সাথিরা জাকির জেসি। এছাড়া থার্ড আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা ও ফোর্থ আম্পায়ার চম্পা চাকমার সঙ্গে পরামর্শ করে জ্যোতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তারা।
পরে ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রাণী দাস আনুষ্ঠানিক তিরস্কারের পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্টের শাস্তি দেন। জ্যোতি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।