৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:১৬ পিএম

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল ২০২৫ সাল। বছরজুড়ে ঘটন-অঘটন, আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক আর নানান ইস্যুতে ব্যস্ত ছিল দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। মাঠের ক্রিকেটে কখনও হেসেছেন, কখনও হতাশায় ডুবেছেন লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজরা। আর মাঠের বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রেখেছেন ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তামিম ইকবাল বা জাহানারা আলমরা।
সব কিছু মিলিয়ে ২০২৫ সালে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রেই ছিল ক্রিকেট। নতুন বছর শুরুর আগে একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিগত বছরে ক্রিকেটের আলোচিত সব কিছু।
মাঠে মিশ্র পারফরম্যান্স
নিজেদের প্রিয় সংস্করণ ওয়ানডেতেই বছরজুড়ে বেশি অচেনা ছিল বাংলাদেশ দল। বছর শুরু হয়েছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে। যেখানে প্রত্যাশা ছিল নতুন বছরের সূচনা হবে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে। কিন্তু পাকিস্তানে সেই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সুযোগ ছিল, প্রস্তুতিও ছিল- ফলটা আসেনি।
পুরো বছরে ওয়ানডে খেলেছে ১১টি। জয় এসেছে মাত্র তিনটিতে, হেরেছে সাত ম্যাচে, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। পরিসংখ্যানের এই খসড়া চিত্রই বলে দেয়, কীভাবে নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্রিকেটে ফলাফল তুলনামূলক ভালো দেখালেও তাতে স্বস্তি পুরোপুরি আসে না। ছয় টেস্টে তিন জয়, দুই হার ও একটি ড্র- সংখ্যার হিসেবে ভারসাম্য থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
বছরের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু, পরের টেস্টে জিতে সিরিজ সমতায় শেষ। জুনে শ্রীলঙ্কা সফরে একটি টেস্ট ড্র, অন্যটিতে হার। বছর শেষ হয়েছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে—তবে প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় সেটিও বড় অর্জন হিসেবে ধরা কঠিন।
টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের সংখ্যা আর পারফরম্যান্স- দুটোই ছিল চোখে পড়ার মতো। এক বছরে বাংলাদেশ খেলেছে ৩০টি টি-টোয়েন্টি, যা আগে কখনও হয়নি। ১৫টি জয়, ১৪টি হার ও একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত-জয়ের হার ৫১.৭২ শতাংশ। দলীয় ফলাফল ওঠানামায় ভরা হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন একাধিক ক্রিকেটার।
ব্যাটাররা মিলিয়ে করেছেন ২৩টি ফিফটি। এক বছরে সর্বোচ্চ আটটি ফিফটির রেকর্ড গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। রান করেছেন সর্বোচ্চ ৮১৪, হাঁকিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে এক বছরে সর্বোচ্চ ৪১টি ছক্কা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকালে ছক্কায় তার ওপরে ছিলেন শুধু ভারতের অভিষেক শর্মা ও পাকিস্তানের সাহিজদা ফারহান। রানেও এগিয়ে কেবল অভিষেক শর্মা ও জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট।
বোলিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক আসে মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে। সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে তিনি বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির কীর্তি গড়েন- ১৫৮ উইকেট নিয়ে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে উইকেটের ফিফটি পূরণ করেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, যা তার উত্থানের ইঙ্গিত দেয়।
অধিনায়কত্বে নাটকীয়তা
২০২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০২৫ সালের শুরুতেও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনিই ছিলেন তিন ফরম্যাটের দায়িত্বে। কিন্তু নতুন বছরের শুরুর দিকেই শান্ত জানিয়ে দেন, টি-টোয়েন্টিতে আর অধিনায়কত্ব করবেন না তিনি। পরে এই ফরম্যাটে লিটন কুমার দাসকে অধিনায়কত্ব দেয় বিসিবি।
এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যর্থতার পর তাকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে দায়িত্ব দেওয়া দেয়। সেই ক্ষোভ থেকেই হয়তো শ্রীলঙ্কা সফরের দুই টেস্ট শেষ করে লাল বলের ক্রিকেটের অধিনায়কত্বও ছেড়ে দেন শান্ত। তবে এর চার মাস পর আবার শান্তকেই টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয় বিসিবি।
ফলে তিন ফরম্যাটে এখন বাংলাদেশের অধিনায়ক তিন জন- টেস্টে শান্ত, ওয়ানডেতে মিরাজ ও টি-টোয়েন্টিতে লিটন। এছাড়া তিন ফরম্যাটে ভিন্ন তিন জন সহ-অধিনায়কও আছে এখন দলে- টেস্টে মিরাজ, ওয়ানডেতে শান্ত ও টি-টোয়েন্টিতে সাইফ হাসান।
বিসিবির নির্বাচন
ক্রিকেট মাঠের বাইরেও বছরটি ছিল অস্থিরতায় ভরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেন বোর্ডের পরিচালকেরা।
ফারুক আহমেদ পদ হারানোর পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি পূর্ণ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।
বোর্ড নির্বাচনে বুলবুল ছাড়াও জয়লাভ করেন আরও তিন সাবেক ক্রিকেটার ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও আব্দুর রাজ্জাক।
বুলবুলের অধীনে নতুন বোর্ডে প্রথম বড় ধাক্কা আসে ঘরোয়া ক্রিকেটে। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায় আটটি ক্লাব। এছাড়া ৪০টি বেশি ক্লাব ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। যা দেশের ক্রিকেট কাঠামোর ভেতরের অসন্তোষের চিত্র স্পষ্ট করে।
শত টেস্টের ক্লাবে মুশফিক
বছরের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে নভেম্বরে। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলেন মুশফিকুর রহিম। শুধু ম্যাচ খেলেই থেমে থাকেননি, ব্যাট হাতে তুলে গড়েছেন অভিজাত এক কীর্তি।
প্রথম ইনিংসে ১০৬ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানে অপরাজিত- শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা বিশ্বের মাত্র ১১তম ব্যাটার হিসেবে নিজেকে যুক্ত করেছেন অভিজাত তালিকায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই কীর্তি আলাদা করে জায়গা করে নেয়, একটি মিশ্র বছরের মাঝে হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
মাহমুদউল্লাহর বিদায়
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ করে দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দেন অভিজ্ঞ ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। এর আগেই অবশ্য টি-টোয়েন্টি (২০২৪) ও টেস্ট (২০২১) থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। গত মার্চে ওয়ানডেকেও বিদায় জানিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ।
টেস্টে ৫০ ম্যাচে ২ হাজার ৯১৪ রান, ওয়ানডেতে ২৩৯ ম্যাচে ৫ হাজার ৬৮৯ রান ও টি-টোয়েন্টিতে ১৪১ ম্যাচে ২ হাজার ৪৪৪ রান নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে মাহমুদউল্লাহর। এছাড়া বল হাতে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার ঝুলিতে আছে ১৬৬ উইকেট।
সাকিবের ইউটার্ন, অবসরের নতুন সিদ্ধান্ত
২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকেই থমকে আছে সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। গত ১৮ মাসে একবারের জন্যও দেশে আসতে পারেননি তিনি। তাই ধরেই নেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক অধ্যায় হয়তো শেষ।
তবে বছরের শেষ দিকে 'বিয়ার্ড বিফোর ক্রিকেট' পডকাস্টে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন সাকিব নিজেই। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো ফরম্যাট থেকেই অবসর নেননি। বরং দেশে ফিরে একটি করে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বিদায় নিতে চান তিনি।
মাঠেই তামিমের হার্ট অ্যাটাক, জাকি-হাসানের বিদায়
২০২৫ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচ শুরুর আগে মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করেন তামিম ইকবাল। গুরুতর অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যান বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। তবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরি ডালিম ও সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাণপন চেষ্টায় নতুন জীবন পান দেশসেরা এই ওপেনার।
তামিমের মতোই মাঠে হার্ট অ্যাটাক করেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশালের ফিজিও হাসান আহমেদ ও বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলি জাকি। গত অক্টোবরে মাঠে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেন হাসান আর ডিসেম্বরে পরপারে পাড়ি জমান জাকি।
নারী ক্রিকেটে তোলপাড়
বছরের শেষ ভাগে এসে যৌন হয়রানির ভয়াবহ ও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা পেসার জাহানারা আলম। বোর্ডের নারী ক্রিকেট বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক-ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ আনেন জাহানারা। এছাড়া নারী দলের বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও করেন তিনি।
জাহানারার দেখাদেখি জাতীয় দলের আরও কয়েকজন ক্রিকেটারও যৌন হয়রানিসহ আরও কিছু অভিযোগ করেন। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় দেশের ক্রিকেটে। আপাতত এটি নিয়ে তদন্ত করছে বিসিবি। কয়েক দফা তদন্তের মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন বছরের শুরুর দিকে হয়তো পাওয়া যেতে পারে চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
বিপিএলে নতুন আশা
অনেকটা তাড়াহুড়োর মধ্যে ২০২৫ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট আয়োজন করে সুনামের বদলে দুর্নামই কুড়িয়েছে বিসিবি। ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পারিশ্রমিক পরিশোধে গড়িমসি ও অব্যবস্থাপনার নানান অভিযোগে জর্জরিত হয় বিপিএলের ১১তম আসর।
সেসব থেকে শিক্ষা নিয়ে ১২তম সংস্করণের আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিবি। সব দলের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ও গ্যারান্টি অর্থ নিয়ে রেখেছে তারা। এর মাঝেও টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন সরে দাঁড়ায় চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে একদমই সময় নষ্ট না করে চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিয়ে নেয় বিসিবি।
এর বাইরে এবারের বিপিএলের আগে ফিরিয়ে আনা হয় নিলাম পদ্ধতি। যেখানে সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। এছাড়া ব্রডকাস্টিংয়ের মান উন্নয়নে টিপিটি গ্লোবালের সঙ্গে চুক্তি, ম্যাচ ফিক্সিং রোধে আইসিসি ও সিআইডির সহায়তা নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতিসহ আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যা বিপিএল নিয়ে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে।
No posts available.
৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম

ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়েছে ভারত। একইসঙ্গে পরপর দুই বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করার কীর্তিও দেখিয়েছে তারা। সবচেয়ে তিনটি শিরোপার মালিক এখন তারাই।
এই ইতিহাস গড়া সাফল্যের বিশ্বাস ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন থেকেই ছিল হার্দিক পান্ডিয়ার।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তা পায়নি নিউ জিল্যান্ড। রোববারের ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে ২৫৫ রানের পাহাড়ে উঠে বসে ভারত। জবাবে মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে পেরে আনন্দের সীমা নেই হার্দিকের। ম্যাচ শেষে সেই অনুভূতিরই জানান দেন ভারতের তারকা অলরাউন্ডার।
“(ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা) এটি অনেকটা ইমোশনাল। কারণ ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জেতা, সবার উত্তেজনা, রোমাঞ্চ অসাধারণ। এখন মনে হচ্ছে আমরা সহজেই জিতে গিয়েছি। কিন্তু আমরা যে এফোর্ট দিয়েছি... গতকাল থেকেই আমি জানতাম যে, আমরা চ্যাম্পিয়ন।”
গত তিন বছরের মধ্যে হার্দিকের এটি তৃতীয় আইসিসি ট্রফি। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। আর ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েই ট্রফি ঘরে তুলেছিল তারা।
এবার আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে হার্দিক জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চান তিনি।
“আমার মধ্যে আরও ১০ বছর বাকি আছে ক্রিকেট খেলার। আমার অর্ধেক ক্যারিয়ার শেষ। আরও অর্ধেক বাকি আছে। আমি অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চাই, আইসিসি ও আইপিএল মিলিয়ে। তবে আমার জন্য আইসিসি ট্রফির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।”
“আমি এরই মধ্যে ৩টি ট্রফি জিতেছি। সামনে যে টুর্নামেন্টই খেলব, আমি জিততে চাই। তো আমি মনে করি, সামনের ১০ বছরে আরও অন্তত ৫-৬টি শিরোপা আসবে। এটিই আমার লক্ষ্য।”

প্রথম পাঁচ ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একটিতে। মনে হচ্ছিল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সামনের কোনো হয়তো আর সুযোগ পাবেন না সাঞ্জু স্যামসন। এর মধ্যেই এলো রিঙ্কু সিংয়ের বাবার অসুস্থতার খবর, একাদশে ঢুকে গেলেন স্যামসন। আর এই সুযোগটিই দুই হাতে নিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
সুযোগটি শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক গড়তেই নয়, ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতেই কাজে লাগালেন ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার। নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে শিরোপা জেতার পথে ফাইনাল ম্যাচে তিনি খেলেছেন ৮৯ রানের ইনিংস। এর আগের দুই ম্যাচে ছিলেন প্লেয়ার অব ম্যাচ!
সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ৪ ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকলেও, শেষ দিকে সুযোগ পেয়ে স্যামসনই হয়ে গেলেন বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। ভারতের ইতিহাস গড়া শিরোপা জয়ে তার হাতেই উঠেছে প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট পুরস্কার।
বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে প্রথম সুযোগ পান স্যামসন। সেদিন ৮ বলে ২২ রান করলেও পরের তিন ম্যাচে আর নামানো হয়নি তাকে। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফেরা। সেদিন তিনি খেলেন ১৫ বলে ২৪ রানের ইনিংস।
তখনও বোঝার উপায় ছিল না, নিজের ঝুলিতে কী জমা রেখেছেন স্যামসন। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ভারতের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে লক্ষ্য ছিল ১৯৬ রানের। সেদিন ১২ চারের ৪ ছক্কায় ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জেতান স্যামসন।
সেই ছন্দ ধরে রাখেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল ম্যাচেও। সেদিন তার ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৪২ বলে ৮৯ রানের সৌজন্যে ২৫৩ রানে পৌঁছায় ভারত। পরে জাসপ্রিত বুমরাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ফাইনালে উঠে যায় ভারত। এই দুই ম্যাচেই স্যামসন পান ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
ধারাবাহিকতার নজির তিনি রাখেন ফাইনাল ম্যাচেও। কিউই বোলারদের পিটিয়ে ৫ চারের সঙ্গে ৮ ছক্কায় এদিন তিনি করেন ৪৬ বলে ৮৯ রান। পরপর তিন ম্যাচেই তার ব্যাট থেকে আসে ৮০ ছাড়ানো ইনিংস। বুমরাহ ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি।
তবে সব মিলিয়ে মাত্র ৫ ম্যাচে ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেট ও ৮০.২৫ গড়ে ৩২১ রান করে স্যামসনই হন এই টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার। ভারতের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি। আগের দুজন- বিরাট কোহলি (২০১৪ ও ২০১৬) ও বুমরাহ (২০২৪)।
টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটার হওয়ার পথে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন স্যামসন। বিশ্বকাপের এক আসরে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এছাড়া বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করা বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার স্যামসন। আগের দুজন শহিদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলি (২০১৪)।

পাওয়ার প্লে কিংবা ডেথ ওভার, অথবা ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে দলের প্রয়োজনের সময়- এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের যখন যেভাবে দরকার পড়েছে, সেভাবেই দলের হয়ে কাজ করে দিয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। আর এর পুরস্কার হিসেবে তার মাথায়ই উঠেছে সর্বোচ্চ উইকেটের মুকুট।
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বুমরাহ। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে তিনি করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে মাত্র ১৫ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। যার সৌজন্যে পেয়েছেন প্লেয়ার অব দা ফাইনাল পুরস্কার।
সব মিলিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে ৮ ইনিংসে ১৪ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৬.২১ রান আর প্রতি উইকেটের জন্য তার খরচ মাত্র ১২.৪২ রান।
বুমরাহর চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৪ উইকেট পেয়েছেন বরুণ চক্রবর্তীও। তবে ফাইনালসহ প্রায় সব ম্যাচে খরুচে বোলিংয়ে তিনি গড়ে ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৯.২৫ রান।
ফাইনালের আগপর্যন্ত উইকেটশিকারির তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্যাডলি ফন স্কালভিক। মাত্র ৪ ইনিংসে ১৩টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওভারপ্রতি খরচ মাত্র ৬.৮০ রান।
জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ৬ ইনিংসে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। ওভারপ্রতি তার খরচ ৭.৮৮ রান।
তালিকার পাঁচ নম্বরে থাকা আদিল রশিদের শিকার ৮ ইনিংসে ১৩ উইকেট। তিনি ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৮.১৫ রান।
এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে অন্তত ১০ উইকেট নিয়েছেন সব মিলিয়ে ১৯ জন বোলার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রোববার ঢাকায় চলে এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। যেখানে আছে সাহিবজাদা ফারহানও। কিন্তু বিশ্বকাপে তার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার রয়ে গেছে ভারতেই।
দল বাদ পড়ে গেছে সুপার এইটে, এর বাইরে একটি ম্যাচ খেলা হয়নি বৃষ্টির কারণে। তাই ফাইনালে ওঠা দুই দলের চেয়ে তিন ইনিংস কম সুযোগ পেয়েছেন সাহিবদজাদা। তবু সবাইকে ছাড়িয়ে তিনিই সবার সেরা। রান সংগ্রাহকের তালিকায় পাকিস্তানি ওপেনারকে টপকাতে পারেনি কেউ।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে ২টি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরিতে ১৬০.২৫ স্ট্রাইক রেট ও ৭৬.৬০ গড়ে ৩৮৩ রান করেছেন সাহিবজাদা। তার ধারেকাছেও নেই আর কোনো ব্যাটার।
বিশ্বকাপের এক আসরে এটি সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড। এছাড়া এক বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটারও তিনি।
দুই নম্বরে থাকা টিম সেইফার্টের চেয়ে ৫৭ রান বেশি করেছেন সাহিবজাদা। ৮ ইনিংসে ৪ ফিফটির সৌজন্যে ৩২৬ রান করেছেন নিউ জিল্যান্ডের কিপার-ব্যাটার।
প্রথম কয়েক ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর সুযোগ পেয়ে মাত্র ৫ ইনিংসে ৮০.২৫ গড় ও ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৩২১ রান করেছেন সাঞ্জু স্যামসন। সবশেষ তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯ রানের ইনিংস।
এমন ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন স্যামসন।
সর্বোচ্চ রানের তালিকায় পরের নামটি ভারতের আরেক ব্যাটার ইশান কিষানের। ৯ ইনিংসে ৩ ফিফটির সৌজন্যে ১৯৩.২৯ স্ট্রাইক রেটে ৩১৭ রান করেছেন ২৮ ছুঁইছুঁই ব্যাটার।
এবারের বিশ্বকাপে এই চার ব্যাটারই শুধু তিনশর বেশি রান করতে পেরেছেন। তালিকার পাঁচ নম্বরে আছেন নিউ জিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেন। ৮ ইনিংসে একটি করে ফিফটি ও সেঞ্চুরিতে তিনি করেছেন ২৯৮ রান।

সাঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান ও অভিষেক শর্মার তাণ্ডবে আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি পেল ভারত। এরপর যা একটু লড়াই করলেন টিম সেইফার্ট। তাকে থামিয়ে ম্যাচ আর জমতেই দিল না স্বাগতিকরা। নিউ জিল্যান্ডকে অল্পেই গুঁড়িয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারায় ভারত। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান করে ভারত। জবাবে ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে পরপর দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এছাড়াও ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দলও হয়ে গেল তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের এটি তৃতীয় শিরোপা। এর আগে ২০০৭ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই সংস্করণের বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ শিরোপার রেকর্ড। এর বাইরে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আছে ২টি করে বিশ্বকাপ ট্রফি।
এ নিয়ে দুটি ফাইনালে হারল ভারত। এর আগে ২০২১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল তারা।
ইতিহাস গড়া শিরোপাটি রেকর্ড গড়েই জিতেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে এটি ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। চলতি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বে তারা নামিবিয়াকে হারিয়েছিল ৯৩ রানে।
বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পরাজয় এটি। গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের কাছে তারা হেরেছিল ৮৪ রানে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের এটিই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। আগের রেকর্ডও ছিল ভারতের। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭৬ রান করেছিল তারা। সেদিন ৭ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
এ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সাতবার আড়াইশর বেশি রান করল ভারত। পাঁচবারের বেশি নেই আর কোনো দলের। এছাড়া এক টুর্নামেন্টে তিনবার আড়াইশ করা দ্বিতীয় দল ভারত। ২০২৪ সালের আইপিএলে তিনবার আড়াইশ করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
সাতবারের মধ্যে শুধু ২০২৬ সালেই চারবার আড়াইশর বেশি রান করেছে ভারত। যে কোনো দলের জন্য এক পঞ্জিকাবর্ষে এটিই সর্বোচ্চ।
শুধু সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরই নয়, ফাইনাল ম্যাচে বিশ্ব রেকর্ডের ছড়াছড়ি করেছে ভারত। যার বড় কারিগর ওপরের সারির তিন ব্যাটার অভিষেক, স্যামসন ও ইশান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভার রয়েসয়ে খেলেন অভিষেক ও স্যামসন। তৃতীয় ওভার থেকে শুরু হয় তাণ্ডব। তৃতীয় ও চতুর্থ ওভার মিলিয়ে তারা নেন ৩৯ রান। ৪ ওভারে পূর্ণ হয়ে যায় ভারতের পঞ্চাশ রান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে এর চেয়ে দ্রুত দলীয় পঞ্চাশের রেকর্ড নেই আর কোনো দলের।
পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারেও থামাথামির কোনো নাম নেই। একই গতিতে এগিয়ে ওই দুই ওভার থেকে আরও ৪১ রান নেন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান করে ফেলে ভারত। বিশ্বকাপের পাওয়ার প্লেতে এটিই সর্বোচ্চ স্কোর।
আগের ম্যাচগুলোতে অফফর্মে থাকা অভিষেক এদিন মাত্র ১৮ বলে করেন ফিফটি। বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে এটিই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল চলতি বিশ্বকাপেই ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেলের (১৯ বলে)।
অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলে ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রাচিন রবীন্দ্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের দুই ওপেনার কামরান আকমল ও শাহজাইব হাসানের ৪৮ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
শুরুতে তাণ্ডব চালিয়ে ৬ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কা মেরে ২১ বলে ৫২ রান করেন অভিষেক।
এরপর তিন নম্বরে নেমে অভিষেকের দেখানো পথেই এগোতে থাকেন ইশান। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা স্যামসন এদিনও পেয়ে যান পঞ্চাশের দেখা।
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করা বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার স্যামসন। আগের দুজন শহিদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলি (২০১৪)।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৭.২ ওভারেই ১০০ করে ফেলে ভারত। বিশ্বকাপের নক আউটে এটিই দ্রুততম দলীয় ১০০ রানের রেকর্ড। চলতি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭.৫ ওভারে ১০০ রান করে রেকর্ডটি ছিল নিউ জিল্যান্ডের।
দুই ওপেনারের ঝড় থামতে না দিয়ে উল্টো আরও তাণ্ডব চালিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কায় ২৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন ইশান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের প্রথম তিন ব্যাটার পেল ফিফটির স্বাদ।
স্যামসনের সঙ্গে ইশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারেই দুইশ করে ফেলে ভারত। মনে হচ্ছিল ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার করা ২৬০ রানের রেকর্ড হয়তো ভেঙে ফেলবে তারা। কিন্তু ১৬তম ওভারে স্যামসন, ইশান ও সূর্যকুমারকে আউট করে দেন জিমি নিশাম।
৫ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে ৪৬ বলে ৮৯ রান করে আউট হন স্যামসন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মাত্র ৫ ইনিংসে তার ছক্কা ২৪টি। এক বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
ইশানের ব্যাট থেকে আসে ৪টি করে চার-ছক্কায় ২৫ বলে ৫৪ রান। রানের খাতাই খুলতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। নিশামের ওই ওভারের ধাক্কা লাগে পরের তিন ওভারেও। ১৬ থেকে ১৯ ওভার পর্যন্ত ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান করতে ৪ উইকেট হারায় ভারত।
পরে শেষ ওভারে নিশামের ওপর ঝড় বইয়ে দেন শিবাম দুবে। বাঁহাতি ব্যাটার ৩ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মেরে শেষ ওভার থেকে নিয়ে নেন ২৪ রান। দলকে পার করে দেন আড়াইশ রানের ঘর। মাত্র ৮ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন দুবে।
ওভারে ৩ উইকেট নিলেও সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করে ফেলেন নিশাম। ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচ করে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে কিপটে বোলার ছিলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। আর ২ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে লকি ফার্গুসন।
রান তাড়ায় আর্শদিপ সিংয়ের প্রথম ওভারেই বিধ্বংসী ফিন অ্যালেনের ক্যাচ ছেড়ে দেন দুবে। পরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২১ রান নিয়ে নেন আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট। মনে হচ্ছিল, সেমি-ফাইনালের মতোই ঝড় তুলবেন দুই ওপেনার।
কিন্তু তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে বিপজ্জনক অ্যালেনকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। পরের ওভারের প্রথম বলেই রাচিন রবীন্দ্রকে আউট করে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। অনেকটা দৌড়ে সামনে লাফিয়ে চমৎকার ক্যাচ নেন ইশান।
নিজের পরের ওভারে গ্লেন ফিলিপ্সকে বোল্ড করে নিউ জিল্যান্ডকে আরও চাপে ফেলে দেন বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৫২ রান করতে ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কোণঠাসাই হয়ে পড়ে কিউইরা।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন সেইফার্ট। ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ২৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তবে এরপর আর ইনিংস টেনে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি।
বরুণ চক্রবর্তীর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ইশানের আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন ২৬ বলে ৫২ রান করা সেইফার্ট। তার আগেই পান্ডিয়ার বলে বোল্ড হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন মার্ক চ্যাপম্যান। মাত্র ৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে যেন ছিটকেই যায় নিউ জিল্যান্ড।
ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন স্যান্টনার ও ড্যারেল মিচেল। দুজন মিলে মাত্র ২৮ বলে গড়েন ৫২ রানের জুটি। ১৩তম ওভারে অক্ষরের প্রথম বলে স্যান্টনারের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন হার্দিক। তবে ওই ওভারেই ইশানের তৃতীয় ক্যাচ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ১১ বলে ১৭ রান করা মিচেল।
এরপর আর ম্যাচে তেমন কিছু বাকি ছিল না। নিজের শেষ স্পেলে বোলিং করতে এসে প্রথম ওভারে জিমি নিশাম ও ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করেন বুমরাহ। পরের ওভারে ৪৩ রান করা স্যান্টনারকেও বোল্ড করেন অভিজ্ঞ পেসার।
পরে ১৯তম ওভারে অভিষেকের বলে জ্যাকব ডাফি ক্যাচ আউট হলে নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের শিরোপা।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন বুমরাহ। অক্ষরের শিকার ২৭ রানে ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ (স্যামসন ৮৯, অভিষেক ৫২, ইশান ৫৪, হার্দিক ১৮, সূর্যকুমার ০, তিলক ৮*, দুবে ২৬*; হেনরি ৪-০-৪৯-১, ফিলিপ্স ১-০-৫-০, ডাফি ৩-০-৪২-০, ফার্গুসন ২-০-৪৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৩৩-০, রবীন্দ্র ২-০-৩২-১, নিশাম ৪-০-৪৬-৩)
নিউ জিল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৫৯ (সেইফার্ট ৫২, অ্যালেন ৯, রবীন্দ্র ১, ফিলিপ্স ৫, চ্যাপম্যান ৩, মিচেল ১৭, স্যান্টনার ৪৩, নিশাম ৮, হেনরি ০, ফার্গুসন ৬*, ডাফি ৩; আর্শদিপ ৪-০-৩২-০, হার্দিক ৪-০-৩৬-১, অক্ষর ৩-০-২৭-৩, বুমরাহ ৪-০-১৫-৪, বরুণ ৩-০-৩৯-১, অভিষেক ১-০-৫-১)
ফল: ভারত ৯৬ রানে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন