
কদিন আগেই টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার কাছে ধবলধোলাই হয় বাংলাদেশ। তবে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং অনেকেরই উন্নতি হয়েছে। নারীদের টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটারদের মধ্যে দারুণ উন্নতি করেছেন শারমিন আক্তার সুপ্তা, দিলারা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। আর বোলারদের মধ্যে বড় লাফ দিয়েছেন সুলতানা খাতুন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারলেও বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স ছিল সুলতানার। ৬ উইকেট নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার ছিলেন তিনি। পুরষ্কার হিসেবে এক লাফে ৪৮ ধাপ এগিয়ে বোলারদের র্যাংকিংয়ে ৩৮তম স্থানে উঠে এসেছেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উন্নতি করেছেন সুলতানা।
বড় লাফ দিয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার শারমিন আক্তার সুপ্তা, স্বর্ণা আক্তার এবং দিলারা আক্তারও। সুপ্তা ১০ ধাপ এগিয়ে ব্যাটারদের র্যাংকিংয়ে ৩৭ নম্বরে অবস্থান করছেন। ৫ ধাপ এগিয়ে ৫৫তম স্থানে আছেন দিলারা। আর স্বর্ণা এগিয়েছেন ১৯ ধাপ। ব্যাটারদের র্যাংকিংয়ে তাঁর অবস্থান ৬২তম স্থানে।
বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারানো শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সিরিজসেরা পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন। তিন ইনিংসে ১১৫ রান ও ৪ উইকেট নেওয়ার সুবাদে অলরাউন্ডার তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠেছেন এবং বোলারদের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে ৪১তম স্থানে পৌঁছেছেন তিনি।
আরও পড়ুন
| আলভারেজ-সরলথকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় সিমিওনে |
|
এছাড়া শ্রীলঙ্কার হার্ষিতা সামারাবিক্রমা ব্যাটিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২০তম স্থানে, ইমেশা দুলানি ২৩ ধাপ এগিয়ে ৪৯তম স্থানে উঠেছেন। বোলিংয়ে কাভিশা দিলহারি ১৭তম ও মালকি মাদারা ৪৪তম স্থানে উঠে এসেছেন।
করাচিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১৬৮ রানের বিশাল জয়ের পর আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বেশ উন্নতি হয়েছে। ব্যাটারদের মধ্যে সিদরা আমিন তিন ধাপ এগিয়ে ১১তম স্থানে উঠে এসেছেন এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৮ রানের ইনিংস খেলে সাদাফ শামাস ১২ ধাপ এগিয়ে ৭২তম স্থানে পৌঁছেছেন।
বোলারদের তালিকায় নাশরা সান্ধু এক ধাপ এগিয়ে ১১তম অবস্থানে রয়েছেন এবং অধিনায়ক ফাতিমা সানা দুই ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২৬তম স্থানে উঠে এসেছেন। এ ছাড়া অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়েও দুই ধাপ এগিয়ে ১৫তম স্থান দখল করেছেন ফাতিমা সানা।
No posts available.
৫ মে ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
৫ মে ২০২৬, ৫:১১ পিএম
৪ মে ২০২৬, ৭:০৮ পিএম
৪ মে ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম

পরনে ক্রিকেটের জার্সি, হাতে ব্যাট-বল, আর চোখে একরাশ স্বপ্ন—ঠিক এই সম্বলটুকু নিয়েই এক দশকেরও বেশি সময় আগে মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিলেন মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ। তবে সেই লড়াই শুধু রান তোলা বা উইকেট নেওয়ার ছিল না। সেই লড়াই ছিল সমাজ পরিবর্তনের, পিছিয়ে পড়া তরুণদের মূল স্রোতে ফেরানোর।
আজ সেই স্বপ্ন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী সম্মাননা ‘ফ্রিডম অফ দ্য সিটি’ লাভ করে লন্ডনের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) লেভেল-৩ অ্যাডভান্সড কোচ তানভীর। কিন্তু তাঁর পরিচয় শুধু এই গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। তানভীর খেলাধুলাকে কেবল একটি বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি, তিনি একে ব্যবহার করেছেন একটি সেতু হিসেবে। লন্ডনের বৈচিত্র্যময় জনপদের তরুণদের একত্রিত করতে, তাদের মধ্যে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে গত এক দশক ধরে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন
| শ্রীলঙ্কাকে টপকে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে বাংলাদেশ |
|
তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রিকেটার তৈরি করে তাদের আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বহু তরুণ, যারা একসময় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াত, তানভীরের কোচিং ও মেন্টরশিপের ছোঁয়ায় তারা খুঁজে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস আর জীবনের নতুন মানে।
তানভীরের অর্জনের ঝুলিতে কেবল কোচের তকমা নয়, আছে নেতৃত্বের উজ্জ্বল ইতিহাসও। দুবার স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর এই সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অসাধারণ কোচিং দক্ষতার জন্য এর আগেই তিনি ইসিবি ও বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’ থেকে জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে এবারের সম্মাননাটি সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রাচীনতম ও অত্যন্ত সম্মানিত এই নাগরিক সম্মাননাটি তাঁদেরই দেওয়া হয়, যাঁরা সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশেষ কোনো অবদান রাখেন। লন্ডনের ‘ফ্রিম্যান’ হওয়ার এই গৌরব অর্জনে তানভীর মনে করিয়ে দিলেন, লক্ষ্য যদি হয় মহৎ আর পরিশ্রম যদি হয় পাহাড়সম, তবে বিদেশের মাটিতেও নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করা সম্ভব। ক্রিকেট ব্যাট হাতে একজন বাংলাদেশি কোচ আজ লন্ডনের মতো বৈশ্বিক শহরের নীতিনির্ধারক ও সুধী সমাজের মধ্যমণি।
এই অর্জন নিয়ে তানভীর নিজেও আপ্লুত। বললেন, ‘এই সম্মাননা আমার একার নয়, বরং সেই সব তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের, যারা দিনরাত পাশে থেকে ক্রিকেটকে সমাজের পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সহায়তা করেছে। এই অর্জন আমার মাতৃভূমির।’
যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এই সম্মাননাটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ১২৩৭ সাল থেকে প্রবর্তিত এই পদকটি সাধারণত এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয় যারা সমাজে দীর্ঘমেয়াদী এবং অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বার্ষিক হালনাগাদে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে একধাপ উন্নতি হলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে হটিয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে এখন আট নম্বরে আছে লিটন কুমার দাস-সাইফ হাসানরা।
চলতি বছর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখা ভারত ২৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ২৬২ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় এবং ২৫৮ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া খুব কাছাকাছি থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে। শীর্ষ সাতটি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি; নিউজিল্যান্ড (২৪৭), দক্ষিণ আফ্রিকা (২৪৪), পাকিস্তান (২৪০) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৩) যথারীতি শীর্ষ দশে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে।
র্যাঙ্কিংয়ের এই নতুন পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের মে থেকে খেলা সব ম্যাচের ১০০ শতাংশ এবং এর আগের দুই বছরের পারফরম্যান্সকে ৫০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই হালনাগাদ অনুযায়ী পুরুষদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের ব্যবধান ১৪ পয়েন্ট থেকে কমে ১৩ হয়েছে।
আরও পড়ুন
| ফেডারেশন কাপের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস |
|
র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। লঙ্কানরা ছয় রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে বাংলাদেশের নিচে নবম স্থানে নেমে গেছে এবং আফগানিস্তানের চেয়ে এখন মাত্র এক পয়েন্ট এগিয়ে আছে।
সেরা দশের বাইরে নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডকে টপকে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ ২০-এর অন্যান্য পরিবর্তনের মধ্যে নেপাল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে টপকে ১৭তম এবং ওমান কানাডাকে ছাড়িয়ে ১৯তম অবস্থানে পৌঁছেছে।
এছাড়া ইতালি ১১ পয়েন্ট পেয়ে ২৬তম থেকে ২৩তম স্থানে, স্পেন ১২ পয়েন্ট পেয়ে ৩০তম থেকে ২৬তম স্থানে এবং সাইপ্রাস ১০ পয়েন্ট পেয়ে ৬৪তম থেকে ৫৩তম স্থানে উঠে এসেছে। এছাড়া এসওয়াতিনি ১০ পয়েন্ট যোগ করে ৭৪তম থেকে ৬৫তম স্থানে নিজেদের অবস্থান উন্নীত করেছে।
নারীদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১৬টি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২৮৭ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এক নম্বরে, ২৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় এবং ২৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ভারত তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
নিউজিল্যান্ড (২৫৩), দক্ষিণ আফ্রিকা (২৪৩) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৮) যথাক্রমে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে আছে। সপ্তম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা (২৩৭) তাদের রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে ষষ্ঠ স্থানের সঙ্গে ব্যবধান মাত্র ১ পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে। একইভাবে, ৫ পয়েন্ট অর্জন করা বাংলাদেশ এখন নবম স্থানে থাকা আয়ারল্যান্ডের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্সে রোববার সকালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের উদ্বোধন করে দুপুরে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সভা করেছেন তামিম ইকবাল। যেখানে নেওয়া হয়েছে ৪টি বড় সিদ্ধান্ত।
তামিমের নেতৃত্বাধীন অ্যাড-হক কমিটির এই তৃতীয় সভা শেষ হওয়ার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বড় ৪টি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিসিবি।
তিন আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত
অ্যাড-হক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার পূর্ব ঘোষিত অ্যাডহক কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
নির্বাচনের প্রথম ধাপ: কাউন্সিলর মনোনয়ন আহ্বান
বিসিবি নির্বাচনের ডামাডোল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১২.৭ অনুযায়ী খুব শীঘ্রই সব ক্যাটাগরিতে কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রদানের জন্য নোটিশ জারি করা হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।
তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই কমিশনে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন:
আরও পড়ুন
| মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য লাউঞ্জ করছেন তামিম |
|
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে একজন প্রতিনিধি;
বিসিবি কর্তৃক মনোনীত দুইজন প্রতিনিধি
বেভারেজ পার্টনার কোকা-কোলা
মাঠের বাইরের কার্যক্রমে বিসিবির অফিশিয়াল ড্রিংকিং ওয়াটার ও বেভারেজ পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে কোকা-কোলা বাংলাদেশ। আগামী ২ বছরের জন্য বিসিবির সাথে এই চুক্তিটি অনুমোদিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাড-হক কমিটির দায়িত্ব নিয়েই দেশের সব অধিনায়ককে সম্মানিত করতে 'ক্যাপ্টেনস কার্ড' দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এবার জাতীয় দলের হয়ে খেলা সকল ক্রিকেটারের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ বানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার অ্যাড-হক কমিটির সভার পর সংবাদমাধ্যমে এই কথা জানিয়েছেন তামিম নিজেই। শুধু তাই নয়, সাবেক ক্রিকেটার বা সংগঠকদের নামে স্টেডিয়ামে বিভিন্ন স্ট্যান্ড নামকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
এরই মধ্যে হোম অব ক্রিকেটের ম্যানুয়াল স্কোরবোর্ডের পাশে শহীদ আবু সাইদ স্ট্যান্ডে (সাউদার্ন স্ট্যান্ড) দ্বিতীয় তলার কর্পোরেট বক্সগুলো ভেঙে নতুন করে লাউঞ্জ বানানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। তামিমের আশা, শিগগিরই এটির উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় ক্রিকেটারদের এই লাউঞ্জ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে বিস্তারিত জানান অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম। একইসঙ্গে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) অফিস তৈরি করার কথাও বলেন তিনি।
“বাংলাদেশের যে ১৭০-১৮০ জন (আন্তর্জাতিক) ক্রিকেটার খেলেছেন, তাদের জন্য একটা সুন্দর লাউঞ্জ বানিয়ে দিচ্ছি। সিটগুলোকে নিয়ে সংস্কার করে একটা সুন্দর ব্যালকনি হবে। বিশ্বের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে বড় ব্যালকনি থাকে, ব্যালকনিতে এসে বসে সাবেক ক্রিকেটাররা চা-কফি খায়। ওইরকম থাকবে।”
“ভেতরে লাউঞ্জ থাকবে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জনের জন্য। এটা শুধুমাত্র জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য থাকবে। এর সঙ্গে কোয়াবের একটা নিজস্ব অফিসও থাকবে। আমি যে কথাটা বলি, জাতীয় ক্রিকেটারদের ঘর এটা। আর ঘরে তো তাদের জন্য কোনো জায়গাও থাকতে হবে।”
এসময় তামিম জানান, সব জাতীয় ক্রিকেটারকে বিশেষ কার্ড করে দেওয়া হবে, যেটির মাধ্যমে লাউঞ্জ ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
“জাতীয় ক্রিকেটারদের আজীবনের জন্য এই জিনিসটা করছি। কাজের কয়েকটা কার্ড দিয়ে দেওয়া হবে এক্সেস, যেটা এখানে উনারা এক্সেস করতে পারবেন। উনারা ছাড়া কেউ এক্সেস করতে পারবেন না। প্লাস ওখানে যেটা আমি বলেছি যে কোয়াবের কিছু অফিসও এটার মধ্যে সেটআপ করা থাকবে।”
“অধিনায়কদের জন্য আমরা ক্যাপ্টেনস কার্ড করেছি, জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্যও এই জিনিসটা দিয়ে শুরু করলাম। অনেকেই দেখেছি যে (ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়ে) নাখোশ ছিলেন। তবে আমাকে তো একটু সময় দিতে হবে জিনিসগুলো করার জন্য।”

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের উদ্বোধনী দিনে রানের দেখা পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়, আশিকুর রহমান শিবলি, ইরফান শুক্কুররা। এছাড়া ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে সিটি ক্লাবকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বৃষ্টিতে ৩৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান করেছে সিটি ক্লাব। জবাবে ৩৫.২ ওভারে ম্যাচ জিতে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
রান তাড়ায় তারকাখচিত মোহামেডানের পক্ষে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৮৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন বিজয়। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এছাড়া তাওহিদ হৃদয় ৩৫ বলে ৩৪ ও ইয়াসির আলি রাব্বি ২৩ বলে ৩৬ রান করেন।
তবে হতাশ করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (৫ বলে ৫), পারভেজ হোসেন ইমন (৪ বলে ০), আফিফ হোসেন ধ্রুবরা (৫২ বলে ২৭)।
এর আগে সিটি ক্লাবকে দুইশর কাছে নিয়ে যান সাদিকুর রহমান (৬৩ বলে ৫৬), এনামুল হক (৪৪ বলে ৩৫), আহরার আমিন পিয়ান (৪১ বলে ৩১), সাজ্জাদুল হক রিপনরা (৩১ বলে ২৯)। তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
মোহামেডানের পক্ষে ৮ ওভারে মাত্র ২০ রানে ৪ উইকেট নেন দীর্ঘদেহী অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ। এর মধ্যে এক ওভারেই ৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া রিপন মন্ডল ও রিশাদ হোসেনের শিকার ২টি করে উইকেট।
রূপগঞ্জকে জেতালেন মেহেদি-শিবলি
পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ২২ রানে জিতেছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ৩৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৩ উইকেটে ২৮৩ রান করে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। জবাবে ৭ উইকেটে ২৬১ রান পর্যন্ত যেতে পারে রূপগঞ্জ টাইগার্স।
ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করে সপ্তম ওভারে হাবিবুর রহমান সোহানের উইকেট হারায় লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ। পরে ৯০ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন আশিকুর রহমান শিবলি ও ইরফান শুক্কুর।
দারুণ ব্যাটিংয়ে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ বলে ৬০ রান করে আউট হন শুক্কুর। পরে ঝড় তুলে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ২২ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন সামিউন বশির রাতুল।
ওপেনার শিবলিও একই ছন্দে এগোতে থাকেন। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, লিগের প্রথম সেঞ্চুরিটি পেয়েই যাবেন তিনি। কিন্তু শেষ দিকে শেখ মেহেদি তাণ্ডব চালালে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে যান তরুণ ওপেনার। ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৮১ বলে ৯৯ রান করেন শিবলি।
৫ ওভার বাকি থাকতে ক্রিজে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ১৬ বলে ৪৯ রান করেন মেহেদি। ৫ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারেন লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ অধিনায়ক।
বিশাল লক্ষ্যে রূপগঞ্জ টাইগার্সও দারুণ লড়াই করে। তিন নম্বরে নেমে ৭ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ৪৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন কালাম সিদ্দিকি এলিন। শেষ দিকে মুক্তার আলির ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ২৭ বলে ৫২ রান।
এছাড়া আব্দুল মজিদ (৪১), মাহমুদুল হাসান (২৭), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহরাও (২৩) ছোট ছোট ইনিংসে অবদান রাখার চেষ্টা করেন। তবে তা দলকে জেতাতে পারেনি।
বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ ও স্বাধীন ইসলাম।
আলিসের ঘূর্ণিতে প্রাইম ব্যাংকের জয়
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। বৃষ্টিতে ৩০ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৫৩ রানের অলআউট হয় অগ্রণী ব্যাংক। জবাবে ২৮.৫ ওভারে জয় পায় প্রাইম ব্যাংক।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অগ্রণী ব্যাংকের কেউই তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ৩২ রান করতে ৪৫ বল খেলেন ইমরুল কায়েস। এছাড়া মাহফিজুল ইসলাম রবিন ২২ ও নাসির হোসেন করেন ২২ রান।
প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ৬ ওভারে ২২ রানে ৪ উইকেট নেন আলিস আল ইসলাম। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
রান তাড়ায় শুরুতেই ড্রেসিং রুমে ফেরেন শাহাদাত হোসেন দীপু। পরে তানজিদ হাসান তামিম ৩২ বলে ৪৪ ও আরিফুল ইসলাম ৩৫ বলে ৩৪ রান করে দলের জয়ের পথ সুগম করে দেন।
পরে আকবর আলি (১৬ বলে ৭) হতাশ করলেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪২ বলে ২৩) ও শামীম হোসেনের (৩০ বলে ২৪*) ব্যাটে সহজেই ম্যাচ জিতে যায় প্রাইম ব্যাংক।