
একাধিকবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়নের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবার ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্যে গেছেন লিটন দাসরা। ২০২৫ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হওয়ায়, কাজটা সহজ হওয়ারও কথা নয়।
চ্যাম্পিয়ন হতে পারে যেকোনো দল। তবে বাংলাদেশকে উপেক্ষা করলে ‘বড়’ ভুল করবে দলগুলো- টি স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপকালে গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ ক্রিকটে বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও নারী বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যূহাইরাহ মৌ।
টানা তিন সিরিজ জিতে এশিয়া কাপে পা রেখেছে বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি থাকার কথা। তবুও বর্তমানে দলের অবস্থা আসলে কেমন? এশিয়া কাপ নিয়ে দল কতটা আশাবাদী?
নাজমুল আবেদীন ফাহিম: আমার কাছে মনে হয়, এখন আমাদের যে দল, এই দলটা বেশ গোছানো এবং ওরা জানে ওদের কি করতে হবে। এটা একটা শক্তির জায়গা আমাদের দলের জন্য এবং দলটা আত্মবিশ্বাসী। এটা শুধু এই জন্য না- আমরা গত তিনটা সিরিজ জিতেছি সেজন্য না। প্রত্যেক ইন্ডিভিজুয়াল ক্যাপাসিটি ওরা এখন অনুমান করতে পারে। ওরা যে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, আমাদের দলে অনেক আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় আছে এটা তারা জানে এবং ওরা ওদের ভূমিকাগুলো জানে। আমি খুব আশাবাদী। তারপরে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ তুমি জানো না, কি কি হয়। কিন্তু আমি খুবই আশাবাদী।
কেউ কেউ এখন বাংলাদেশকে ছোট করে দেখছে। দেশের বাইরের বিভিন্ন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা খেলোয়াড়দের যোগ্যতা ও অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সে ব্যাপারে কি কিছু বলতে চান?
ফাহিম: কেউ যদি বাংলাদেশ দলকে উপেক্ষা করে তাহলে খুব ভুল করবে। এটা আমি বলতে পারি। আশা করব যে বাংলাদেশ দল ভালো করবে। আমরা একটা জিনিস কিন্তু কনসিস্টেন্টলি দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের টপ অর্ডার রান হচ্ছে। এটা কিন্তু যদি আমরা তিন মাস চার মাস ছয় মাস আগেও দেখতাম, আমরা যেহেতু সব সময় ফেল করছি। কিন্তু গত তিন মাসে বা গত দু-মাসে আমরা দেখেছি আমাদের টপ পারফর্ম করছে। আমাদের বোলারদের পারফরম্যান্স কিন্তু খুবই প্রশংসনীয়। আমি খুব আশাবাদী এখন দেখতে হবে নির্দিষ্টি দিনে আমরা কেমন করি। আমরা মানসিকভাবে কি অবস্থায় থাকি, আমি আশাবাদী।
টপ অর্ডারের রানের কথা বললেন। সবশেষ নেদারল্যান্ডস সিরিজে বড় শট দেখিয়ে প্রশংসায় ভেসেছে বাংলাদেশ দল। টপ অর্ডারও রান পাচ্ছে বেশ কিছু সময় ধরে। সত্যিই কি এখন বলা যায় যে পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি চলে এসেছে দলে?
ফাহিম: আমি কয়েক দিন আগে দেখছিলাম একটা ডাটা দেখছিলাম যেখানে বাংলাদেশের সম্প্রতি সিক্স হিটিং এবিলিটি অন্যান্য অনেক দেশের কাছাকাছি আছে। আমরা পাওয়ার হিটিংয়ে সম্প্রকি ভালো করেছি। পাওয়ার হিটিংয়ে কাজ করার আগে থেকেই। তারপরও আমি বলব, আমরা সবাই হয়তো ওই মানের পাওয়ার হিটার না। সেখানে যারা একটু পিছিয়ে আছে তাদের জন্য এই এই কাজগুলো কাজে আসবে। আমরা পাওয়ার হিটিং কোচকে নিয়ে এসে ছিলাম, তার উপস্থিতি, পাশাপাশি যারা ভালো হিট করে তারা হয়তো কিছুটা লাভবান হয়েছে।
এটাতো অনুশীলনের ব্যাপার। সব সময় চেষ্টা করার ব্যাপার এটা করতেই থাকবে। এটা হয়তো এখন আমাদের যারা কোচ আছে তাদের অধীনে ওই কোচ যা করিয়ে গেছে সেটা চালিয়ে যাবে। আমাদের ইচ্ছা আছে আমরা ভবিষ্যতে যখন সময় সুযোগ মতো যখন ওদের ট্রেনিংয়ের প্রোগ্রামগুলো চলবে, শুধু জাতীয় দল না অন্যান্য অনূর্ধ্ব-১৫ হোক এইচপি হোক তখনও এই ধরনের কোচকে নিয়ে আসব।
অল্প সময়েও পাওয়ার হিটিং কোচের সঙ্গে কাজ করে ভালোই ফল পেয়েছে দল। সামনে টাইগারদের উন্নতিতে বিসিবির এমন আরো উদ্যোগের সম্ভাবনা আছে?
ফাহিম: শুধু পাওয়ার হেটিং কোচ না স্পেশালিস্ট হয়তো একজন লেগ স্পিন কোচ খুব বড় উঁচু মানের একজন লেগ স্পিন কোচ হোক কিংবা একজন ফাস্ট বোলিং কোচ হোক, শর্ট সময়ের জন্য নিয়ে আসব। আমাদের টপ র্যাংকিং প্লেয়ার যারা আছে এলিট প্লেয়ার যারা আছে তাদেরকে নিয়ে যেন কাজ করতে পারে। আমরা ধরে নিয়েছিলাম আমাদের সিনিয়র প্লেয়ার যারা আছে এস্টাবলিশ প্লেয়ার যারা আছে ডেফিনেটলি তারা যোগ্য এবং তাদের উপরই আমাদের নির্ভরশীলতা বেশি থাকবে। অন্যরা ভালো হলেও তারা পাশে পাশেই একটা সহ অবস্থান অবস্থায় থাকবে। আসলে এভাবে একটা দল তৈরি হতে পারে না কিন্তু। ১১ জনের খেলায় ১১ জনকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। এখানে সবাই হিরো, এখানে পার্শ্বচরিত্র বলে কিছু নেই কিন্তু।
অনেক পরিচিত নাম ছাড়াই এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ। সাকিব-তামিমসহ অনেক সিনিয়র প্লেয়ারই নাই এখন দলে। তাঁদের না থাকার কোনো প্রভাব কি দেখেন দলে? সেই সিনিয়রদের দায়িত্ব কি ঠিকঠাক বর্তমান খেলোয়াড়েরা নিতে পারছে?
ফাহিম: আমার মনে হয় এই দলটাতে এখন পার্শ্বচরিত্রে কেউ নেই। এখানে তানজিম সাকিবও ওই লাস্টে গিয়ে হয়তো ১২ বলে গিয়ে যদি ২৫ রান করতে পারে তাহলে হয়তো আমরা ম্যাচ জিতবো। সে সেটা জানে এবং সেভাবে সে তৈরি হচ্ছে। সো সবাই ইম্পর্টেন্ট এখানে যে খেলছে এমনকি যে খেলছে না সেও। তো প্রত্যেকে যার যার রোল সম্পর্কে অবগত আছে এবং প্রত্যেকেই সে চেষ্টাটাই করবে এবং টিম কালচারটাই ওরকম এখন, যে কেউ সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ না। সেটা লিটন কুমার দাস ই হোক কিংবা তাওহীদ হৃদয় হোক কিংবা তাসকিন হোক। সবাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিন তিনবার ফাইনাল খেলে হৃদয়ভাঙা হার জুটেছে এশিয়া কাপে। বাংলাদেশের জন্য তাই এই মঞ্চ একটু বেশি আবেগের। বাংলাদেশ কি এবার এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে?
ফাহিম: আমি যেই আত্মবিশ্বাস দেখছি, আত্মবিশ্বাস তো এমনি এমনি হয় না। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে যে আস্থার ব্যাপারটা আছে, নিজেকে নিয়ে যে আস্থা এবং দলের যেই আবহ ড্রেসিং রুমে আবহ সবকিছু মিলে আমি আশাবাদী এই দলটাই এশিয়া কাপে ভালো খেলবে। এটা সবার ভালো লাগবে। বাংলাদেশের খেলা সবার ভালো লাগবে। ফল কি হবে এটা বলা যায় না যে আমরা কি চ্যাম্পিয়ন হতে পারব কি পারব না এটা আমি জানি না এভাবে বলাটা খুব মুশকিল।
তবে যদি ফাইনাল খেলি আমরা খুব অবাক হব না। এটা মানে হঠাৎ করে হয়ে গেল এমন হবে না। আমরা যদি ফাইনাল খেলি নিজের যোগ্যতায় আমরা ফাইনাল খেলব। সে যোগ্যতা আমাদের আছে, আমরা ফাইনাল খেলার যোগ্যতা রাখি অনেক ইভেন্টে আমরা ভারতকে অবশ্যই হারাতে পারি।
No posts available.
১২ মার্চ ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

২০১৫ সালের পর দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারল পাকিস্তান। বুধবার মিরপুরে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে শাহিন আফ্রিদিদের এই হার নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা শূল্যে চড়াচ্ছেন নির্বাচক, কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে। যার সর্বশেষ সংযোজন বাসিত আলি।
সাবেক এই ক্রিকেটার এতটাই ক্ষেপেছেন যে, রীতিমতো পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টকে গুলি করা উচিত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন,
“প্রথমেই গুলি করা উচিত সেই মানুষটিকে, যে ব্যাটসম্যানদের বলেছিল প্রথম দশ ওভারে অন্তত ৬০ রান করতে। মনে হয় সে কখনো মাঠে ক্রিকেট খেলেনি, শুধু কাগজে পরিকল্পনা লিখে দেয়। এখানকার পরিস্থিতি কি সে দেখেনি? বাংলাদেশে যে বড় বড় দলও হেরে যায়, সেটাও কি জানত না?”
পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কামরান আকমলের কাছে শাহিন আফ্রিদিদের দলকে ক্লাবের দল মনে হয়েছে। তিনি বলেন,
“মনে হচ্ছিল এক দল আন্তর্জাতিক মানের আর অন্য দলটা যেন বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন করতে নামা কোনো ক্লাব দল। আমি বাসিত আলিকে ফোন করেছিলাম, কিন্তু কী বলব বুঝতে পারছিলাম না।”
সমালোচনা সেখানেই থামাননি তিনি। তার ভাষায়,
“আল্লাহর কসম, এমন ব্যাটিং ক্লাব ক্রিকেটেও দেখা যায় না। ক্লাবের ক্রিকেটাররাও এত খারাপ ব্যাটিং করে না।”
বাসিত আলি মনে করেন, এই ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় একটি সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন,
“তরুণদের সময় দিতে হবে—এই বিতর্ক এখন শেষ করা উচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে নতুন খেলোয়াড় আসে, সে প্রস্তুত হয়েই আসে এবং প্রভাব ফেলে। আমাদের ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে, এটি কোনো স্থানীয় ক্লাবের মাঠ নয়, আন্তর্জাতিক মানের বড় ভেন্যু।”
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চারজন নতুন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দুজনই। বাসিত আলির মতে,
“নতুন খেলোয়াড় এক বা দু’জন করে আনা উচিত, একসঙ্গে চারজনকে নামানো ঠিক নয়।”
আকমল মনে করেন, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ অবস্থান খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। তিনি বলেন,
“ঘরের মাঠে দুর্বল দলের বিপক্ষে জিতে পয়েন্ট বাড়ানো যায়, কিন্তু বিদেশে গেলে বাস্তবতা দেখা যায়।”

নিউ জিল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট প্লাংকেট শিল্ডে আলো ছড়ালেন বাঁহাতি পেসার থমাস ও'কনর। দুর্দান্ত বোলিং করে নিজের বাবার ২৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিলেন ওটাগোর এই পেসার। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি নিলেন ১৩ উইকেট।
ইডেন পার্কের আউটার ওভালে বুধবার শেষ হওয়া ম্যাচে অকল্যান্ডকে একাই গুঁড়িয়ে দেন থমাস। এই টুর্নামেন্টের ১৯৯৯ সালের সংস্করণে ওটাগোর বিপক্ষেই ১২ উইকেট নিয়েছিলেন থমাসের বাবা ও নিউ জিল্যান্ডের সাবেক পেসার শেইন ও'কনর।
চমৎকার বোলিং করে অকল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৫৮ রানে ৭ উইকেট নেন থমাস। পরে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৭ রানে তিনি নেন ৬ উইকেট। সব মিলিয়ে ৮৫ রানে ১৩ উইকেট নিয়ে ওটাগোর ৯ উইকেটের জয়ের নায়ক ২১ বছর বয়সী পেসার।
১৯৯৯ সালের তৎকালীন শেল ট্রফির (বর্তমান প্লাংকেট শিল্ড) ম্যাচে অকল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন শেইন। পরে দ্বিতীয়বার তার শিকার ৬৪ রানে ৬ উইকেট। শেইনের এমন বোলিংয়ের পর ম্যাচটি ৬ উইকেটে জিতেছিল ওটাগো।
মজার ব্যাপার হলো, শেইনের ওই কীর্তির সময় জন্মই হয়নি থমাসের। ২০০৪ সালে জন্মগ্রহণ করা সেই পেসার এবার ভেঙে দিলেন বাবার রেকর্ড। দুই ম্যাচেই আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন নিউ জিল্যান্ডের বিখ্যাত আম্পায়ার বিলি বাউডেন।
ম্যাচে নেওয়া ১৩ উইকেট ওটাগোর হয়ে সব মিলিয়ে সপ্তম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। আর ১৯৮৯-৯০ মৌসুমের পর এটিই সেরা বোলিং।

ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ১০০ বলের টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের নিলাম চলছে। যুক্তরাজ্যের রাজধানী পিকিডিলি লাইটে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে শুরু হয় নিলাম। বিসিবির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিলামে আইপিএল সংশ্লিষ্ট দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কোচেরা এমন নির্দেশনার কথা অস্বীকার করেছেন।
বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়া নারী হান্ড্রেড নিলামে পাকিস্তানের কোনো নারী ক্রিকেটার দল পাননি। আজ পুরুষদের নিলামে শাহিন আফ্রিদি, হারিস রউফ ও উসমান তারিকসহ ১৭ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের নাম থাকলেও তারা দল পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার কথা বলেছেন আইপিএল মালিকানাধীন সানরাইজার্স লিডসের কোচ আদি বিরিল। তিনি জানান, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড় না নেওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার কিছু খেলোয়াড়কে নিয়ে আগ্রহ দেখা যেতে পারে।’ আরেক আইপিএল মালিকানাধীন সাউদার্ন ব্রেইভের নারী দলের কোচ জনাথন ব্যাটি বলেন, তাদেরকে সেরা দল গড়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
| ‘পাকিস্তানকে দুম্বার মতো পিটিয়েছে বাংলাদেশ’ |
|
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। নিরাপত্তার অজুহাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ২০০৯ সাল থেকেই আইপিএলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
একই ধারা দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটি-টোয়েন্টি লিগেও। সেখানে সব দলই আইপিএল মালিকানাধীন হওয়ার ফলে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় খেলেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগে এমআই লন্ডন ও সাউদার্ন ব্রেভের মালিকানাধীন দলগুলো চার মৌসুমে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার নেয়নি।
দ্য হান্ড্রেডের আট দলের মধ্যে চারটি ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ ও সানরাইজার্স লিডস—আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির মালিকানায় রয়েছে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ড্রাফটে ডাকবে না এই আশঙ্কায় গত মাস থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসিবির কর্মকর্তা ও সাবেক ক্রিকেটাররা।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রক গতমাসে বলেন, ‘দ্য হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের না থাকাটা দুঃখজনক হবে।’
গতমাসে ইসিবি এবং আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ‘জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া যাবে না।’ তবে আজ নিলামের টেবিলে শেষ পর্যন্ত যোগ্যতার লড়াই জেতে নাকি মালিকপক্ষের কৌশল— সেটিই এখন দেখার বিষয়।

লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান তামিমদের বিরুদ্ধে আগুনে বোলিং করে প্রায় এক বছর পর দারুণ এক স্বীকৃতি পেলেন তাসকিন আহমেদ। ২০২৫ সালের বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি বোলিং পারফরম্যান্সের পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার।
ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর মূল্যায়নে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয় এই পুরস্কার। তিন সংস্করণের সেরা ব্যাটিং-বোলিংসহ সব মিলিয়ে মোট ২০টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা পুরস্কার বেছে নিয়েছে তারা।
গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে মাত্র ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নেওয়া তার ওই বোলিং ফিগার বিশ্বের যে কোনো লিগের মধ্যে সেরা।
সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ে তাসকিনের অবস্থান ৪ নম্বরে। এমন পারফরম্যান্সের পর ২০২৫ সালের সেরা বোলিংয়ের পুরস্কারের জন্য তাকেই বেছে নিয়েছে ইএসপিএনক্রিকইনফো।
একনজরে সব পুরস্কার তালিকা
পুরুষদের টেস্ট ব্যাটিং
এইডেন মার্করাম - ১৩৬ রান বনাম অস্ট্রেলিয়া
পুরুষদের টেস্ট বোলিং:
মিচেল স্টার্ক — ৭/৫৮ বনাম ইংল্যান্ড
পুরুষদের ওয়ানডে ব্যাটিং:
ইব্রাহিম জাদরান — ১৭৭ রান বনাম ইংল্যান্ড
পুরুষদের ওয়ানডে বোলিং:
বরুণ চক্রবর্তী — ৫/৪২ বনাম নিউজিল্যান্ড
পুরুষদের টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ব্যাটিং:
ফিল সল্ট — অপরাজিত ১৪১ রান বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
পুরুষদের টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক বোলিং:
কুলদীপ যাদব — ৪/৩০ বনাম পাকিস্তান
পুরুষদের টি–টোয়েন্টি লিগ ব্যাটিং:
মিচেল ওয়েন — ১০৮ রান বনাম সিডনি থান্ডার
পুরুষদের টি–টোয়েন্টি লিগ বোলিং:
তাসকিন আহমেদ — ৭/১৯ বনাম ঢাকা ক্যাপিটালস
পুরুষদের অধিনায়ক:
টেম্বা বাভুমা
পুরুষদের অভিষিক্ত ক্রিকেটার:
বাউ ওয়েবস্টার
নারীদের ওয়ানডে ব্যাটিং:
জেমিমা রদ্রিগেজ — অপরাজিত ১২৭ রান বনাম অস্ট্রেলিয়া
নারীদের ওয়ানডে বোলিং:
দীপ্তি শর্মা — ৫/৩৯ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
নারীদের টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ব্যাটিং:
স্মৃতি মন্ধানা - ১১২ রান বনাম ইংল্যান্ড
নারীদের টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক বোলিং:
শ্রী চারানি - ৪/১২ বনাম ইংল্যান্ড
নারীদের টি–টোয়েন্টি লিগ ব্যাটিং:
হারমানপ্রীত কৌর — ৬৬ রান বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস
নারীদের টি–টোয়েন্টি লিগ বোলিং:
ক্রান্তি গৌর — ৪/২৫ বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস
নারীদের অধিনায়ক:
হারমানপ্রীত কৌর
নারীদের অভিষিক্ত ক্রিকেটার:
শ্রী চারানি
অ্যাসোসিয়েট দলের ব্যাটিং:
ম্যাক্স ও’ডাউড — অপরাজিত ১৫৮ রান বনাম স্কটল্যান্ড
অ্যাসোসিয়েট দলের বোলিং:
হ্যারি মানেন্তি — ৫/৩১ বনাম স্কটল্যান্ড

অতীতের সুখ স্মৃতি, রেকর্ড কিংবা ঝুঁকে থাকা পরিসংখ্যান— বুধবার হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরে বাংলায় স্টেডিয়ামে এসব যেন হয়ে ওঠেছিল থোড়াই কেয়ার। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শাহিন শাহ আফ্রিদিদের যেভাবে তটস্থ করে রেখেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা, তাতে পাকিস্তানকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন দেশটির সাবেক ফার্স্ট বোলার মোহাম্মদ আমির। তার মতে, এভাবে চলতে থাকলে পাকিস্তান সহযোগী দেশের কাতারে নেমে যাবে।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নাহিদ রানার তোপে পড়ে পাকিস্তান। শুরুর পাঁচ ব্যাটারকে ফিরিয়ে অতিথিদের ১১৪ রানে গুটিয়ে দেন বাংলাদেশি পেসার। তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর কৃতিত্বে মাত্র ১৫.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজদের কাছে এমন হার হজম করতে কষ্ট হচ্ছে আমিরের।
পাকিস্তানের এমন শোচনীয় পরাজয়ের পর নিজ দেশের খেলোয়াড়দের রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন আমির। নিজের ফেসবুক পেজে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে দুম্বার মতো করে পিটিয়েছে বাংলাদেশ। যেই উইকেটে আমরা ১১৪ রান করতে হিমশিম খেয়েছি, সেখানে ওরা মাত্র ১০-১২ ওভারেই সেই রান তাড়া করে ফেলেছে। এটা হয় নাকি?’
আরও পড়ুন
| উইন্ডিজ ক্রিকেটে ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া, নিষিদ্ধ ক্রিকেটারসহ তিনজন |
|
সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই ছিল পাকিস্তানের। ১০ ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি তারা। সাহিবজাদা ফারহানরা শুরুতে ভালো করেন। তবে নাহিদ রানা বল হাতে তুলে নিতেই দৃশ্যপট পরিবর্তন হয় যায়।
আমির বলেন, ‘নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ চমৎকার বল করেছে। বিশেষ করে নাহিদ, সে নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করছিল। আমাদের ব্যাটাররা গতি দেখলেই ভয় পায়, আজও সেটা দেখা গেছে।’
এরপর পাকিস্তান দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির বলেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারছি। আমার ভয় হচ্ছে আমরা কি তবে সহযোগী দেশের মানে নেমে যাচ্ছি?’
বুধবার চার তরুণের অভিষেক ঘটে পাকিস্তান দলে। দলে ছিলেন না ফাখার জামান, বাবর আজমের মতো তারকাদের। বড় হারের পেছনে দলে অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতিকেই দায়ী করছেন আমির।
তিনি বলেন, ‘সিনিয়রদের বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল চলে না, তাদের সঠিক নির্দেশনার জন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড় প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনার প্রশংসা করে আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ স্মার্টলি ক্রিকেট খেলেছে। আমরা ভেবেছিলাম টার্নিং উইকেট হবে, কিন্তু তারা পেস উইকেট বানিয়েছে। উইকেটে বাউন্স ছিল। যা পাকিস্তানের জন্য আউট অফ সিলেবাস প্রশ্ন।’