১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বের হতেই রমিজ রাজার সঙ্গে দেখা নাহিদ রানার। বিপিএলের ধারাভাষ্যকার ও পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথার পর তরুণ পেসারকে নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের কক্ষের দিকে হাঁটা ধরলেন রংপুর রাইডার্সের কর্মকর্তা তাসভির উল ইসলাম।
প্রেসবক্সের ঠিক পাশেই ধারাভাষ্যকারদের কক্ষে ঢুকে কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের দেখা পেয়ে গেলেন নাহিদ। পরের ১৫ মিনিটে চলল ওয়াকারের পেস বোলিং ক্লাস আর মন্ত্রমুগ্ধের মতো সব পরামর্শ শুনলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার। যেখানে ছিল ৩টি বিশেষ বার্তা- খেলা ভালোবাসো, উপভোগ করো আর জোরে বোলিং করো।
শুরুতেই ভারী ও গম্ভীর আলাপে না গিয়ে নাহিদকে ওয়াকার বলেন,
'উপভোগ করছ তো? যদি উপভোগ করো, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপভোগ করো, জোরে বল করো- এইটাই সবকিছু।'
উত্তরে নাহিদ ছোট্ট উত্তরে জানিয়ে দেন, খেলার বাইরে তেমন কিছু নিয়ে চিন্তা করেন না,
'আমি শুধু খেলতে চাই আর নিজের প্রভাব রাখতে চাই- এর বাইরে কিছু ভাবি না। যা আসার, আমার রিজিকের মধ্যেই আসবে।'
এরপর শুরু হয় বোলিং নিয়ে ওয়াকারের গভীর আলোচনা। স্কিল বাড়ানো, সাহস ধরে রাখা কিংবা নতুন কিছু করা- সব পরামর্শের ভিড়ে একটি কথা বারবার বলছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার। সেটি হলো, কোনোভাবেই ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বোলিং থেকে সরা যাবে না।
“কপালে যা লেখা আছে, কেউ সেটা কেড়ে নিতে পারে না। একভাবে না হোক, অন্যভাবে ঠিকই আসবে। তোমার গতি আছে- এটা কখনও কমাবে না। ফিট থাকো, সেটার ওপরই ফোকাস করো। যখন জোরে বল করো, শরীর কেমন লাগছে, ফুসফুস কীভাবে রিঅ্যাক্ট করছে- সেগুলো বোঝো।”
“তোমার গতি আছে, তুমি ১৫০-র বোলার। লোকজন তোমাকে ভয় পাবে। তারা সামনে এসে খেলবে না। এটা হারিও না। যদি এটা হারিয়ে ১৩৫-এ নেমে যাও, তাহলে তুমি মিডিয়াম পেসার হয়ে যাবে। তাই কিছু বদলাবে না।”
এসময় নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের উদাহরণও টেনে আনেন ওয়াকার।
“আমার ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার পিঠের চোটে পড়েছি। আমার অধিনায়ক ছিলেন ইমরান খান। তিনি বারবার বলতেন, 'যত যাই হোক, ১৫০ কিমিতে বল করবে। গতি এর চেয়ে কমলে তোমাকে নামাব না!' আমিও এটাই ভাবতাম। পিঠে সমস্যা হলে সেরে যাবে। কিন্তু গতি কমানো যাবে না।”
তবে গতির পাশাপাশি স্কিলের প্রয়োজনীয়তাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি পাকিস্তানি কিংবদন্তি।
“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তুমি কিছু জিনিস শিখে নেবে। বল করতে করতেই স্কিল আপগ্রেড হবে। কিন্তু গতি হারাবে না। আর কারও কথা শুনবে না। আমার অ্যাকশন, তোমার অ্যাকশন, ওর অ্যাকশন- সব আলাদা। আমার পথ আর তোমার পথ আলাদা।”
“যেটা তোমার জন্য কাজ করে, সেটা বদলাবে না। সব সময় হাতে একটা ক্রিকেট বল রেখো, ওটা নিয়ে খেলো। নিজেই অনেক কিছু আবিষ্কার করবে। কিন্তু নিজের স্বাভাবিকতা কখনও হারিও না।”
ওয়াকার জানতে চান, বোলিংয়ের কোন জিনিসটি সহজাতভাবে করতে পারেন নাহিদ। এর উত্তরে তরুণ গতিতারকা বলেন, নতুন বলে আউটসুইংটা এমনিতেই করতে পারেন তিনি। তাই এটি ধরে রাখার পরামর্শ দেন ওয়াকার।
অন্য কারও কথা শুনে কখনও যেন গতি না কমান, সেটি বারবার জোর দিয়ে বলেন একসময় গতির ঝড় তোলা সাবেক পেসার।
“মানুষ বলবে কিছু জিনিস বদলাতে। তুমি বদলাবে না। হাজার জন ঘিরে ধরবে- ‘এটা কাজ করছে না, ঠিক করতে হবে।’ প্লিজ, কিছু ঠিক করতে যেও না। যা নিয়ে এখানে এসেছ, এটাই তোমাকে এতদূর এনেছে। জোরে বল করতে গিয়ে আমার চোটও লেগেছে। সেটি থেকে ফিরে আসা যায়। কিন্তু ১৫০-র নিচে নামবে না। শরীরে শক্তি আছে। সাহসী হও, জোরে বল করো।”
নাহিদ তখন জানান, অন্য কারও কথায় কান দেন না তিনি। তবে নিজের কোনো সমস্যা মনে হলে তিনি ফিরে যান ছোটবেলার কোচের দুয়ারে। তার সঙ্গে কথা বলেই শুধরে নেন নিজের সমস্যা। যা ভালোভাবে স্বাগত জানান ওয়াকার।
“জোরে বল করো- বাকি সব নিজে থেকেই আসবে। সবার সঙ্গেই এমন হয়। মানুষ তোমাকে হাজারটা কথা বলবে। সেগুলো করতে গিয়ে হঠাৎ দেখবে তুমি মিডিয়াম পেসার হয়ে গেছ। তখন অনেকে বলবে, কে তাকে মিডিয়াম পেসার বানাল? আগে তো ঠিকই ছিল।”
“তুমি বললে আগে তোমার কন্ট্রোল ছিল না- এখন তো আছে, তাই না? তাহলে সময়ের সঙ্গে আসবেই। তুমি বল করতে থাকো, এটিই স্কিল এনে দেয়।”
এসময় নিজের কোচিং মেথড সম্পর্কেও ধারণা দেন ওয়াকার।
“এজন্যই আমি কোচিং করি না, মোটিভেট করি। কোচিংয়ে আমি একটাই কথা বলি- একটা বক্স আছে, সেটাকে ব্যবহার করো। মাঝখান থেকে, চওড়া লাইনে আর আম্পায়ারের কাছাকাছি থেকে বল করো। নিজের ভিডিও দেখো- কিছু করলে বল কীভাবে আচরণ করে। সেগুলো নিজেই শিখে নাও। কিন্তু গতি কমাবে না। সবসময় ১৫০ কিমি গতি ধরে রাখো।”
আলোচনা চলতে চলতে মাঠে ততক্ষণে হয়ে যায় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের টস। তাই ওঠার তাড়া দেখা যায় দুজনের মাঝেই। শেষ করার আগে নাহিদ বলেন, বল ছাড়ার সময় যখন আঙুলে ভালো অনুভূতি হয়, তখনই তিনি বুঝতে পারেন ভালো করতে পারবেন। ওয়াকারও সায় দেন, 'আঙুল থেকে বল ভালোভাবে বের হলেই তোমার দিন ভালো যাবে।'
প্রায় ১৫ মিনিটের আলোচনা শেষে দুজনের ছবি তোলার পালা। তখনও নাহিদের চোখেমুখে অন্যরকম তৃপ্তি ও ভালো লাগা আর কিংবদন্তির কাছ থেকে শিখতে পারার আনন্দের ঝিলিক!
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ২:৫৯ পিএম

ভারতের সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কুড়ি কুড়ির আসরে গ্রুপ পর্ব উৎরে সুপার এইটে পা রাখলেও শেষটা সুন্দর হয়নি একই গ্রুপে থাকা পাকিস্তানের। শেষ আট থেকে বিদায় নেয় সালমান আলী আগারা। বলা চলে একটি ব্যর্থ মিশনের সমাপ্তি হয়েছে পাকিস্তানের।
বিশ্বকাপ শেষ হলেও দম ফেলানোর ফুসরত নেই পাকিস্তানের। ১১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রবিবার ভোররাতে ঢাকায় পা রাখেন শাহীন শাহ আফ্রিদিরা। প্রথমদিন বিশ্রামে থাকলে সোমবার অনুশীলন করেন সফরকারীরা। অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রধান কোচ মাইক হেসন জানালেন সিরিজ জয়ের কথা।
পাকিস্তানের প্রধান কোচ বলেন,
‘অবশ্যই আমরা পারি (বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে)। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের কন্ডিশনে তাদের বিশেষ সম্মান করি। আবারও বলছি, এখানকার কন্ডিশন টি-টোয়েন্টি সিরিজের তুলনায় অনেক ভিন্ন হবে। আমার মনে হয় দুই দলই ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেশি ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলছে, তাই আমাদের এই দীর্ঘ ফরম্যাটের সাথে খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।’
পাকিস্তানের নিউ জিল্যান্ড কোচ এরপর যোগ করেন,
‘আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এখানকার পিচের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেয়া। আমাদের সামনে যাই আসুক না কেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, বাংলাদেশের নিজেদের কন্ডিশনে তাদের চ্যালেঞ্জ করার মতো একটি দল আমাদের আছে।’
শাহীন শাহ আফ্রিদীর নেতৃত্বে থাকা পাকিস্তানের ১৫ সদস্যের দলে ৬ জনই নতুন। অভিজ্ঞ ও নতুনের মিশেলে একটি গতিময় দল নিয়ে বাংলাদেশে সফরে পাকিস্তান। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, তারুণ্যনির্ভর দলটি বাংলাদেশে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে। তবে হেসনের মতে, তার দল বেশ সুসংগঠিত।
হেসন বলেন,
“এটা বেশ রোমাঞ্চকর একটি দল। আমাদের দলে কয়েকজন নতুন মুখ আছে, যারা ‘শাহিনস’ দলে ভালো করেছে। তারা জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে উচ্ছ্বসিত।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফল আশানুরূপ না হলেও শেষ দুটি ওয়ানডে সিরিজে ভালো করেছে পাকিস্তান। কোচ হেসনও বলছেন সে কথা,
‘আমাদের শেষ দুইটি ওয়ানডে সিরিজ খুব ভালো গেছে। আমরা দুটিতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে জিতেছি। ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা রান করেছে, যা সব সময়ই দলের জন্য সহায়ক। এবার এই সিরিজে নতুন খেলোয়াড়দের জন্যও একই কাজ করার সুযোগ থাকবে।’
আগামী ১১-১৫ মার্চ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে সিরিজের তিন ওয়ানডে। প্রায় সাড়ে চার মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলতে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তরা।

পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে বছর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ দলের। সামনে রয়েছে ব্যস্ত সূচি। নিজেদের মাঠে উজ্জ্বল শুরুর অপেক্ষায় স্বাগতিকেরা। সেটি অবশ্য সহজ হওয়ার কথা নয়। প্রায় পাঁচ মাস পর ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন লিটন-মিরাজরা। সবশেষ গত বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন।
সব মিলিয়ে সাড়ে তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। মাঝে ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো ছিল নিজেদের প্রস্তুত রাখার মঞ্চ। তবে নিজেদের সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে ছিল তাদের সুখস্মৃতি। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় কোচ সিমন্সের,
‘আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটা ভালোভাবে শেষ করেছিলাম এবং সেখান থেকে পিছিয়ে যেতে চাই না। প্রথমত, উইকেটগুলো আগের সিরিজের তুলনায় অনেক ভালো দেখাচ্ছে। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হলো উন্নতি করা এবং পরের ধাপে এগিয়ে যাওয়া।’
ব্যাটিংয়ে উন্নতির তাগিদ, পাশাপাশি মাঝের ওভারে বোলিং দুর্বলতাও খুঁজে বের করেছেন সিমন্স,
‘শেষ ম্যাচে যেভাবে ব্যাটিং করেছিলাম, সেটাকে ধরে রাখতে চাই। পাশাপাশি কিছু জায়গা ঠিক করতে হবে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে আমরা খুব ভালো করতে পারিনি। আর বোলিংয়ে মাঝের ওভারগুলোতে আরও বেশি উইকেট নিতে হবে। এই দুই জায়গাতেই আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’
আগামী পরশু মিরপুর শেরেবাংলায় প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। তাঁর আগে আজ সংবাদ সম্মেলন কক্ষে দলের অবস্থা ও পরিকল্পনার সঙ্গে সিমন্সের কাছে জানতে চাওয়া হয় সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গে।
রাজনীতি বাদ দিয়ে ক্রিকেটার সাকিবকে ফেরানো কোনো তথ্য আছে কোচের কাছে? সিমন্স অবশ্য রাখঢাক রাখলেন,
‘আমি ঠিক যতটা শুনেছি বা পড়েছি, আপনারাও ততটাই জানেন। এর বেশি কিছু বলার নেই (সাকিব সম্পর্কে)।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। বিশ্বকাপে না খেলার হতাশাও কাটতে শুরু করেছে বাংলাদেশ দলেরও। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দারুণ কিছু অর্জন করতে পারলে আবারও খোশ মেজাজে ফেরার সুযোগ লিটন-মিরাজদের।
আগামী পরশু থেকে মিরপুর শেরেবাংলায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ওয়ানডে সিরিজ। তবে বিশ্বকাপ খেলতে না পারার হতাশা ও আক্ষেপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি স্বাগতিক ক্রিকেটারদের। দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কথায় সেটি স্পষ্ট হয়।
বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা থেকে কি দল এখন বেরিয়ে এসেছে? এমন প্রশ্নে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে আজ সিমন্স বললেন, ‘খুব ভালো প্রশ্ন। আমার মনে হয় আমরা ধীরে ধীরে সেটা পেরিয়ে আসছি।’
বিশ্বকাপ না খেলতে পারার আক্ষেপে ক্রিকেটাররা পুড়েছেন সে ব্যাপারটিও উল্লেখ করেছেন সিমন্স, ‘এটা খেলোয়াড়দের জন্য খুব কষ্টদায়ক ছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা সত্যিই কষ্ট পেয়েছিল।’
বিপিএলের পর বিসিএল অদম্য টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলোয়াড়দের মানসিক সতেজতায় কিছুটা সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছেন সিমন্স। বাংলাদেশ কোচের ভাষায়, ‘বিসিএলের ছোট টুর্নামেন্টটা কিছুটা সহায়তা করেছে (হতাশা থেকে বেরোতে)। আবার ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মনোযোগ ফিরছে এবং এই তিন ম্যাচ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছি।’
প্রায় চার মাস পর আবারও ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। সবশেষ গত বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। সেই সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল স্বাগতিকেরা। সেই সুখস্মৃতি নিয়ে মিরপুরে নতুন মিশন শুরু করবে তারা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের একতরফা জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে চলছে নানা রকমের আলোচনা। অনেকেই ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও, ভিন্ন সুর শোনা গেছে পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতারের কণ্ঠে।
তার দাবি, ভারতের উত্থান মূলত ক্রিকেটকে শেষ করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তাই পায়নি নিউ জিল্যান্ড। দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ে কিউইদের ৯৬ রানে হারায় স্বাগতিকরা। এটি ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা।
বেশিরভাগ ক্রিকেট বিশ্লেষক যেখানে ভারতের নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন, সেখানে ভিন্ন পথে হাঁটলেন শোয়েব আখতার। পাকিস্তানি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ট্যাপম্যাডের অনুষ্ঠান গেম অন হ্যায় অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের দাপটকে তুলনা করেন পাড়ার খেলায় ধনী শিশুর সঙ্গে।
আরও পড়ুন
| আফঈদা-মিলিদের সমীহ করছে উজবেকিস্তান |
|
“পাড়া-মহল্লায় সবসময় একজন ধনী ছেলে থাকে, সে গরিব বাচ্চাদের ডেকে বলে- চলো ক্রিকেট খেলি, তবে জিতব কিন্তু আমিই। ভারত আমাদের সঙ্গে ঠিক সেটাই করছে।”
“আট দলের মধ্যে চারটি রাখে, তারপর আবার সেখান থেকে তিনটিকে ডাকে ও সামনে এগিয়ে যায়। শেষে বলে- দেখো, আমি জিতে গেছি। তারা পুরো ক্রিকেটটাই শেষ করে দিয়েছে।”
তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভক্তই ভারতের বড় জয়ের পর এমন মন্তব্যকে তিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
তবে ফাইনালের আগে আখতারের সুর ছিল কিছুটা ভিন্ন। ভারতকে ফেভারিট মানলেও তিনি বলেছিলেন, ক্রিকেটের স্বার্থে নিউ জিল্যান্ডের জেতা উচিত। তার মতে, ভারতের ওপর ১৫০ কোটির বেশি মানুষের প্রত্যাশার চাপ থাকে এবং বড় ফাইনালে সেই চাপ কখনও কখনও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যক্তিগত মাইলফলক উদযাপনের সময় শেষ- এমনটাই মনে করেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তার মতে, দলগত খেলায় আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত ট্রফি জেতা, ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়।
রোববার ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ভারতের ক্রিকেটে এত দিন ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তিনি যত দিন দায়িত্বে আছেন, তত দিন সেই আলোচনায় যেতে চান না।
গম্ভীরের কোচিংয়ে এরই মধ্যে দুটি আইসিসি ট্রফি ও একটি এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। গত বছরের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এসব দলীয় সাফল্য নিয়েই বেশি আলোচনা করতে চান তিনি।
“অনেক দিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে আমরা মাইলফলক নিয়ে কথা বলেছি। আমি আশা করি, আমি যত দিন আছি, তত দিন আমরা মাইলফলক নিয়ে কথা বলব না।”
আরও পড়ুন
| গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে দ. কোরিয়া, আশা বাঁচিয়ে রাখল ফিলিপাইন |
|
“আপনারা শেষ তিনটি ম্যাচ দেখলেই বুঝতে পারবেন। সঞ্জু কী করেছে- ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯। যদি সে মাইলফলকের জন্য খেলত, হয়তো আমরা ২৫০ রান পেতাম না। তাই আপনাদের (গণমাধ্যমের) কাছেও আমার অনুরোধ- মাইলফলক নয়, ট্রফি উদ্যাপন করুন।”
সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল- দুই ম্যাচেই শতকের কাছাকাছি পৌঁছে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসন। দুই দিনই তিনি শতকের মাত্র ১১ রান দূরে ছিলেন। তবে সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে দুই ম্যাচেই ভারতের দলীয় সংগ্রহ আড়াইশ ছাড়ায়।
গম্ভীরের মতে, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এই মানসিকতাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
“কেউ যদি ৯৪ রানে থাকে, সে কি পরের বলেই ছক্কা মেরে শতক করতে সাহস দেখাবে, নাকি কয়েক বল ধরে একশতে পৌঁছানোর কথা ভাববে- এই প্রতিক্রিয়াই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খেলোয়াড়েরা অসাধারণভাবে সেটা করেছে।”
এসময় বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব গম্ভীর উৎসর্গ করেছেন তার তিন সাবেক সতীর্থ- রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষণ ও অজিত আগারকারকে।
“রাহুল ভাই ভারতের ক্রিকেটকে দারুণ অবস্থায় রেখে গেছেন। তার অবদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ভিভিএস লক্ষণও নিঃশব্দে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অনেক কাজ করছেন, বিশেষ করে সেন্টার অব এক্সেলেন্সের মাধ্যমে। আর অজিত আগারকার- ও অনেক সমালোচনা সহ্য করে সততার সঙ্গে কাজ করছে।”