
দশম ওভারে প্রথম বোলিংয়ে এলেন নাহিদ রানা। টানা বোলিং করে তরুণ পেসার থামলেন গিয়ে ২২তম ওভারে। মাঝের সময়ে রীতিমতো ধসিয়েই দেন পাকিস্তানের ব্যাটিং, করেন রেকর্ড গড়া বোলিং। আর ম্যাচ শেষে বললেন, দলের প্রয়োজনে টানা ১০ ওভার করতেও সবসময় প্রস্তুত তিনি।
মিরপুরে বুধবার দুপুরের ম্যাচে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। তার আগুনঝরা বোলিংয়ের পর ১১৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করে ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে নাহিদের হাতে।
ম্যাচে চতুর্থ বোলার হিসেবে দশম ওভারে প্রথম আক্রমণে আনা হয় নাহিদকে। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ২৩ বছর বয়সী। সেটি ছিল পাকিস্তান ইনিংসে ধস নামানোর শুরু।
পরের চার ওভারেও একটি করে উইকেট নেন নাহিদ। তার গতি ও বাউন্সে পরাস্ত হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। মনে হচ্ছিল, টানা ৫ ওভার বোলিং করার পর হয়তো সরিয়ে নেওয়া হবে নাহিদকে।
সেই ভাবনা ভুল প্রমাণ করে তরুণ পেসারকে আরও দুই ওভার বোলিং করান মেহেদী হাসান মিরাজ। নিজের সপ্তম ওভারে পরপর দুই বলে দুইটি সুযোগ তৈরি করেন নাহিদ। প্রথমটিতে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। আর পরের বলে ফিরতি কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি নাহিদ।
সাদা বলের ক্রিকেটে কোনো পেসারের টানা ৭ ওভারের স্পেল সচরাচর দেখা যায় না বললেই চলে। আর নাহিদের মতো গতিময় পেসারের জন্য এটি বিরল ঘটনাই বলা যায়। তবে নাহিদের ভাবনা এক্ষেত্রে আরও ভিন্ন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, দলের প্রয়োজনে টানা ১০ ওভার করতেও তৈরি তিনি।
“টানা বোলিংয়ের বিষয়টা আসলে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রত্যেকের ফিট থাকা উচিত ও যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী লম্বা বোলিংও করতে হতে পারে। দলের যদি মনে হয় যে, এক স্পেলে ৭ ওভার কিংবা যদি ১০ ওভার এক স্পেলে করা লাগে তো করতে হবে। দল যেটা ডিমান্ড করে, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সেই জিনিসটা করার জন্য ফিট থাকা উচিত।
প্রথম পাঁচ ওভারে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর আরও দুই ওভার করার পেছনে দল ও অধিনায়কের ভাবনা কী ছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেন নাহিদ।
“আসলে আমি সবসময় দলের জন্য চিন্তা করি যে আমার কাছে দল কী চায়, ওই জিনিসটা সর্বোচ্চটা দিয়ে সবসময় চেষ্টা করি। যেহেতু আমি উইকেট পাচ্ছিলাম ও আমার বোলিং খেলতে তাদের খেলতে সমস্যা হচ্ছিল, তাই এই জিনিসটা লম্বা সময় করার চেষ্টা করছিলাম। এর জন্য হয়তো অধিনায়ক চেষ্টা করেছে, আরও দুই একটা ওভার করানো যায় কিনা।”
No posts available.
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২০ পিএম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন রুবেল হোসেন। বুধবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক আবগঘন বার্তায় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার।
ফেসবুকে রুবেল রেখেন,
‘বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।’
২০০৯ সালে অভিষেক হওয়া রুবেল লাল-সবুজ জার্সিতে ১০৪ ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট শিকার করেছেন। টেস্টে ২৭ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে ৩৬ উইকেট এবং ২৮ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ২৮ উইকেট। ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেন রুবেল।
জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন রুবেল। সবশেষ ২০২৪ সালে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে তাকে মাঠে দেখা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সবশেষ স্বীকৃত ম্যাচ খেলেন রুবেল।
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে রুবেলের এক ম্যাজিকাল স্পেলে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে বাংলাদেশ। অ্যাডিলেডে ইংলিশদের বিপক্ষে তাঁর ৫৩ রানে ৪ উইকেটের সেই বিধ্বংসী স্পেল বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিল।
জাতীয় দলের জার্সিতে পথচলা থেমে গেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রুবেল। বাগেরহাট এক্সপ্রেস খ্যাত এই পেসার বলেন,
‘ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস।’

বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ডের তিন ওয়ানডের সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামী পরশু (শুক্রবার)। কিউই দলে নেই তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই। আইপিএল ও পিএসএল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতে অবশ্য বিচলিত নন নিউ জিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রিকেটারদের ছড়িয়ে থাকা তাদের ক্রিকেটের ভালো অবস্থার বহিঃপ্রকাশ।
ওয়ানডে সিরিজের আগে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াল্টার বললেন,
‘বর্তমানে আমাদের প্রায় ৫৪ জন ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন আইপিএল, পিএসএল, শ্রীলঙ্কা এবং এখানে (বাংলাদেশে) খেলছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় ইতিবাচক দিক। আমরা বিশাল সংখ্যক খেলোয়াড়কে বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছি যাতে আমাদের পুরো ক্রিকেট কাঠামো শক্তিশালী হয়, শুধু নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় নয়।’
সিরিজের ম্যাচগুলো দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে চলমান জ্বালানি সংকটে তিন ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। পুরো সিরিজই খেলতে হতে পারে তীব্র রোদে। বাংলাদেশের এই গরমকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নিউ জিল্যান্ড কোচ। সেরা তারকারা না এলেও কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ওপর আস্থা রাখছেন ওয়ালটার,
‘আমাদের এই স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে এখানে খেলে গেছে। যদিও সেটা চার দিনের ম্যাচ ছিল, কিন্তু তারা এই কন্ডিশন সম্পর্কে জানে—এটা ভালো দিক।‘
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগের দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিকেরা। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে নিয়ে তাই সাবধানী সুর ওয়াল্টারে,
‘বাংলাদেশ ভালো প্রতিপক্ষ, মানসম্পন্ন দল। তারা সম্প্রতি পাকিস্তানকে হারিয়ে সেটা প্রমাণ করেছে। আমাদের কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভিনদেশি কন্ডিশনে এমন দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জন্য বড় পাওয়া।‘
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রশংসা ঝরল ওয়াল্টারের কণ্ঠে,
‘বাংলাদেশ দলে দারুণ কিছু ফাস্ট বোলার আছে। মোস্তাফিজুর রহমান শুরু থেকেই একজন চমৎকার ফাস্ট বোলার। তাই তাদের যে শুধু স্পিন সহায়ক পিচই বানাতে হবে এমন কোনো কথা নেই, সব বিভাগেই তাদের সামর্থ্য আছে।‘
বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুরে শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হবে। শেষ ম্যাচটি হবে চট্টগ্রাম। সব ম্যাচই শুরু হবে বেলা ১১ টায়।

সম্প্রতি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানিয়েছেন, সেই বলটি আর কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হলেই তাঁর জীবন চিরতরে বদলে যেতে পারত। এমনকি প্রাণহানির শঙ্কাও ছিল।
সেই ভয়াবহ চোট নিয়ে ৩৪ বছর বয়সী স্টোকস বলেন, ‘খুবই বাজে পরিস্থিতি ছিল। তবে সত্যি বলতে, খারাপের মধ্যে এটাই বোধহয় সেরা ফলাফল। বলটা সরাসরি আমার মুখে এসে লেগেছিল। আঘাতটা যদি মাত্র কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হতো কিংবা আমি যদি মাথাটা না ঘোরাতাম, তবে আজ হয়তো আমি এখানে বসে এই সাক্ষাৎকার দিতে পারতাম না।’
চোটের কারণে স্টোকসের গালের হাড় (চিকবোন) একদম ভেঙে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা ঠিক করা হয়েছে। নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলেন, ‘সব দিক বিবেচনা করলে আমি অনেক ভাগ্যবান। গালের হাড়ের নিচে সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। বড় ধরনের ফেসিয়াল সার্জারি করাতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমি যে সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
মাঠে ফিরবেন কবে? এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে স্টোকসের স্বাভাবিক ক্রিকেটে ফেরার সূচি প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো, তিনি এখন পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে আছেন। আগামী জুনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। সেই সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে মে মাসে ডারহামের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
স্টোকস বলেন, ‘সিজন শুরুর যে পরিকল্পনা ছিল, এই চোট সব পিছিয়ে দিয়েছে। আমাকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছে। এখন লক্ষ্য হলো ডারহামের হয়ে অন্তত দুটি ম্যাচ খেলে টেস্ট সামারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। ওটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ভাগ্যক্রমে আমি এখনো বেঁচে আছি এবং সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’

ক্রিকেট ইতিহাসের এক মহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। দেড়শ বছর আগে যেখানে শুরু হয়েছিল সাদা পোশাকের লড়াই, সেই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি) আবারও সেজেছে নতুন রূপে। ২০২৭ সালের ১১-১৫ মার্চ হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট’। মেলবোর্নের ঐতিহাসিক এই মাঠে পাঁচ দিনের এই লড়াই দেখতে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ক্ষণগণনা।
তবে মেলবোর্ন শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নেই। এই উপলক্ষকে ঘিরে পুরো শহর হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও দর্শকদের জন্য থাকছে রোমাঞ্চকর সব আয়োজন। মেলবোর্নের গলি থেকে রাজপথ—সবই এখন প্রস্তুত পর্যটক আর ক্রিকেটপ্রেমীদের বরণ করে নিতে।
মেলবোর্নের সংস্কৃতি ও আভিজাত্য
ক্রিকেট ম্যাচের অবসরে পর্যটকদের জন্য মেলবোর্ন যেন এক স্বর্গরাজ্য। শহরের বিখ্যাত গলিগুলোতে (লেনওয়েজ) ছড়ানো বৈচিত্র্যময় স্ট্রিট আর্ট, সদ্য রোস্ট করা কফির সুগন্ধ আর আধুনিক বুটিক শপগুলো মুহূর্তেই মন জয় করে নেবে। যারা গান ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে চেরি বার, দ্য টোট কিংবা দ্য কর্নারের মতো আইকনিক লাইভ মিউজিক ভেন্যু।
আরও পড়ুন
| বাংলা নববর্ষে ক্রিকেট ভক্তদের সুখবর দিয়েছেন নাহিদ রানা |
|
খাবার বিলাসী দর্শকদের জন্য মেলবোর্ন যেন এক সাজানো থালা। গিমলেটের রাজকীয় পরিবেশ থেকে শুরু করে কোডার আধুনিক আয়োজন—সবই মিলবে এখানে। আর যারা একটু খোলামেলা পরিবেশে বার্গার খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য সেরা গন্তব্য হতে পারে রুফটপ জয়েন্ট ‘ইজিস’।
ভিক্টোরিয়ার পথে পথে রোমাঞ্চ
শহর ছাড়িয়ে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক এলাকাগুলোতেও রয়েছে রোমাঞ্চের হাতছানি। মেলবোর্ন থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই অপেক্ষা করছে জীবনের সেরা কিছু অভিজ্ঞতা। ইয়াররা ভ্যালির আঙুর বাগান কিংবা ভিক্টোরিয়ার প্রাচীনতম স্টিম রেলওয়ে ‘পাফিং বিলি’তে ভ্রমণ আপনার সফরের আনন্দ বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। প্রকৃতির খুব কাছে যেতে চাইলে হিলসভিল স্যাঙ্কচুয়ারিতে দেখা মিলবে কোয়ালা, ওমব্যাট আর ক্যাঙ্গারুর।
সমুদ্র সৈকত ও প্রকৃতির মেলবন্ধন
দ্বীপপুঞ্জ ও সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ফিলিপ আইল্যান্ড। মেলবোর্ন থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে পুঁচকে পেঙ্গুইনদের দলবেঁধে চলাফেরা। এ ছাড়া মার্নিংটন পেনিনসুলার উপকূলীয় সূর্যালোক আর জিওথার্মাল হট স্প্রিংয়ের উষ্ণতা পর্যটকদের দেবে অনাবিল শান্তি।
তবে সবকিছুর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকবে ‘গ্রেট ওশান রোড’। ঘন রেইনফরেস্ট, গর্জনকারী জলপ্রপাত আর চুনাপাথরের বিখ্যাত পাহাড় ‘টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস’ দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় এখন থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন, ১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে ক্রিকেট এবং মেলবোর্নের সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। এমসিজির গ্যালারি থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়।
১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্টে খেলবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটি হবে দিবারাত্রি।

দলের তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) নিয়ে ব্যস্ত। নতুনদের পরখ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)। বাংলাদেশ সফরে দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটারদের সংখ্যাই বেশি।
কারো মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ড ‘দ্বিতীয় সারির’ দল নিয়ে খেলবে, সিরিজটি কিছুটা সহজ হবে। তবে ব্যাপারটির সঙ্গে দ্বিমত মিরাজ-তামিমদের কোচ ফিল সিমন্স, ‘দ্বিতীয় সারির দল বলতে আমি কিছু বুঝি না। যেকোনো দেশের জাতীয় দলই তাদের সেরা দল। বিশেষ করে নিউ জিল্যান্ডের মতো দল, যেখানে নিয়মিত নতুন প্রতিভা উঠে আসে। মনে রাখবেন, এই খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। তারা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম খেলেছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্বিতীয় সারির দল বলে কিছু নেই।’
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিং-ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম-নাহিদ রানারা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও স্পোর্টিং উইকেটে প্রত্যাশা সিমন্সের, ‘আমরা তেমনই চাচ্ছি (পাকিস্তান সিরিজের মতোই হবে)। আমি দেখেছি, যখন আমরা ভালো উইকেটে খেলি, তখন দলের উন্নতি দ্রুত হয়। তাই আমি যতটা সম্ভব ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন
| বছর না ঘুরতেই তিন সভাপতি—অবাক হননি সিমন্স |
|
সালমান আলি আগাদের বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। পেস-স্পিনে টম লাথামরা কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে স্বাগতিকদের? সিমন্স অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে বলেই মনে করছেন। বাংলাদেশ কোচ বললেন, ‘পাকিস্তানেরও মানসম্পন্ন পেসার ছিল। দেখুন, প্রতিটি সিরিজই চ্যালেঞ্জিং। নিউ জিল্যান্ড হয়তো ভিন্নভাবে আমাদের চ্যালেঞ্জ জানাবে। আমরা সব ধরণের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, যেমনটা পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে করেছিলাম। আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি।’
বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ডের সীমিত ওভারে দুটি সিরিজই হবে দিনের আলোয়। কোনো দিবা-রাত্রির ম্যাচ নেই। কন্ডিশন বিবেচনায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশও। সিমন্স বললেন, ‘কিছুটা পার্থক্য তো থাকেই। দিনের আলোতে উইকেট কিছুটা মন্থর হতে পারে বা স্পিন ধরতে পারে। আমাদের অনুশীলনের সময়টিও এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে আমরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি।’
আগাম পরশু থেকে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। মিরপুরে শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হবে প্রথম দুই ম্যাচ। শেষ ওয়ানডে হবে চট্টগ্রাম।