
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ সংস্করণ শুরু হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর। সময়ের হিসাবে খুব বড় প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাত্র তিন মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের ঘোষণা আসার পর থেকেই বিপিএলকে ঘিরে আলোচনা, সমালোচনা আর শঙ্কা—সবই একসঙ্গে চলেছে। একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য বড় ফ্রাঞ্চাইজি লিগ শুরু হওয়ায় তারকাসংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিপিএলের সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে চলছে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি–টোয়েন্টি এবং পাকিস্তান–শ্রীলঙ্কার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ফলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার যেসব ক্রিকেটার প্রতিবছর বিপিএলের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন, এবার তাদের অনেককেই পাওয়া যাচ্ছে না। এতে টুর্নামেন্টের জৌলুস কিছুটা হলেও কমেছে—এমন ধারণা ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় একটি অংশের।
বাস্তবতা হলো, বিপিএল একেবারেই তারকাহীন নয়। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যেই এমন কয়েকজন আছেন, যারা ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতার কারণে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। পাশাপাশি কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটারও আছেন, যারা বড় লিগে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। এবারের বিপিএলে যাদের পারফরম্যান্সের দিকে বিশেষ নজর থাকবে, সেই সাত ক্রিকেটারকে নিয়েই এই বিশেষ প্রতিবেদন—‘বিপিএলের সাত তারা’।
মোস্তাফিজুর রহমান, কাটার ও স্লোয়ারের রাজা:
বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান আজ আর শুধু দেশীয় ক্রিকেটের তারকা নন, তিনি আন্তর্জাতিক ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটেরও পরিচিত মুখ। আইপিএল, আইএলটি–টোয়েন্টি, এলপিএল—প্রায় সব জায়গাতেই তার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। কাটার আর স্লোয়ারে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করা এই পেসার বিপিএলের ১২তম আসরে খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে।
বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৮২ ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা ১০৫। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তিনি চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। সামনে সুযোগ রয়েছে রুবেল হোসেনের (১১০) এবং তাসকিন আহমেদের (১২৭) উইকেটসংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ার।
সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএলে একদিনে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দল পাওয়া কিংবা আইএলটি–টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ২০২৫–২৬ বিপিএলে মোস্তাফিজকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ বেশ উঁচুতেই।
তাসকিন আহমেদ, ইতিহাস ছোঁয়ার পথে:
২০২৪–২৫ মৌসুমে দুর্বার রাজশাহী দল হিসেবে খুব একটা সফল না হলেও তাসকিন আহমেদ ছিলেন উজ্জ্বল। জাতীয় দলের এই ডানহাতি পেসার ২৫ উইকেট নিয়ে মৌসুমসেরা হন। ধারাবাহিক গতি, আগ্রাসন আর উন্নত লাইন–লেংথ তাকে এবারের বিপিএলের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে বিবেচনায় রাখছে।
তাসকিন এবার খেলবেন রাজধানীর দল ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি এলপিএল ও আইএলটি–টোয়েন্টিতে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে। বিপিএলে সাত মৌসুমে অংশ নিয়ে তাসকিনের মোট উইকেট ১২৭টি। আর মাত্র ২৩টি উইকেট পেলেই তিনি ছাড়িয়ে যাবেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সাকিব আল হাসানকে এবং হয়ে উঠবেন বিপিএলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।
রেকর্ডের হাতছানি নিঃসন্দেহে তাসকিনকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত এই মাইলফলকও তাকে নজরকাড়া পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত করতে পারে।
নাইম শেখ, রান দিয়েই জবাব :
নাইম শেখের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়—এ কথা বাস্তব সত্য। বাংলাদেশ দলের জার্সিতে ৩৮টি টি–টোয়েন্টিতে তার গড় মাত্র ২৩.৮৮। কিন্তু বিপিএল এবং ঘরোয়া লিগে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নাইমকে দেখে ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশেষ করে ২০২৪–২৫ মৌসুমে তিনি যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন।
গত আসরে ১১ ম্যাচে ৫১১ রান করে ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি অর্ধশতক তার ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার প্রমাণ। আগের সেরা ৩৫৯ রানকে অনেক পেছনে ফেলে দেওয়া এই পারফরম্যান্সই তাকে নিলামে একমাত্র কোটি টাকার বেশি দামের খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
বন্দর নগরীর দল নাইমকে দলে ভিড়িয়েছে বড় প্রত্যাশা নিয়ে। বিপিএলে নাইমের গড় ২৭.৯৪—যা টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে মোটেও খারাপ নয়। এবারের আসরেও তার ব্যাট থেকে বড় ইনিংস প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক।
ডেভিড মালান, নির্ভরতার প্রতীক :
ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান বিশ্বের প্রায় সব বড় ঘরোয়া লিগেই পরিচিত নাম। বিপিএলেও তার আলাদা অবস্থান রয়েছে। পাঁচ মৌসুমে পাঁচটি ভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। এবারের আসরে ষষ্ঠবারের মতো রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে দেখা যাবে এই বাঁহাতি ওপেনারকে।
বিপিএলে মালানের পরিসংখ্যানই তার গুরুত্ব বোঝাতে যথেষ্ট। ৩৭ ইনিংসে ১১৮৬ রান, গড় প্রায় ৪০। একটি সেঞ্চুরি ও আটটি অর্ধশতক তার মারমুখী কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের প্রমাণ। বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাকে রংপুরের জন্য নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।
হাবিবুর রহমান সোহান, সম্ভাবনার গল্প :
রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে ৩৫ বলে অপরাজিত সেঞ্চুরি ছুঁয়ে হাবিবুর রহমান সোহান নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। পাঁচ ইনিংসে ৫৭ গড়ে ২২৮ রান করে ছিলেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার। তার সাহসী ও আগ্রাসী ব্যাটিং চোখে পড়েছে অনেকের।
২০২২–২৩ বিপিএল থেকে নিয়মিত হলেও এখনও নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি সোহান। ১২ ইনিংসে করেছেন মাত্র ১২৮ রান, সবশেষ আসরে ব্যাটিংয়ের সুযোগও পাননি। তবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস মিনি নিলামে তাকে দলে নিয়েছে বড় প্রত্যাশা নিয়ে। সাম্প্রতিক ফর্ম যদি বিপিএলে ফলাতে পারেন, সোহান হয়ে উঠতে পারেন আসরের ‘এক্স–ফ্যাক্টর’।
তানজিদ তামিম, ছক্কার রাজা :
ছক্কা আর তানজিদ তামিম—এই দুই যেন এখন সমার্থক। ২০২৫ সালে ৩৮ ম্যাচে ৭৫টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি বৈশ্বিক তালিকায় দশম, আর বাংলাদেশিদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন। আগ্রাসী ব্যাটিংই তার প্রধান শক্তি।
২০২৪–২৫ মৌসুমে তানজিদ ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। ১৪ ইনিংসে ৪২.৫৮ গড়ে ৪৮৫ রান, একটি সেঞ্চুরি ও চারটি অর্ধশতক তাকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকে পরিণত করে। গত মৌসুমে ঢাকার হয়ে খেলা এই বাঁহাতি ওপেনারকে দলে নিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স যে ঝুঁকি নেয়নি, তা আগের পারফরম্যান্সেই প্রমাণিত।
আজমতউল্লাহ ওমরজাই, অলরাউন্ড সমাধান :
আফগানিস্তানের আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২০২১–২২ আসর থেকে বিপিএলের নিয়মিত মুখ। পেস অলরাউন্ডার হওয়ায় তার চাহিদা সব লিগেই বেশি। সেই কারণেই আইপিএলের ১৯তম আসরের জন্য তাকে রিটেইন করেছে পাঞ্জাব কিংস।
আইপিএলের পাশাপাশি আইএলটি–টোয়েন্টি, এসএ টি–টোয়েন্টি ও এলপিএলেও নিয়মিত খেলছেন তিনি। বিপিএলে এবার আজমত খেলবেন সিলেট টাইটানসের হয়ে। এর আগে রংপুর ও ঢাকার জার্সিতে তাকে দেখা গেছে। বিপিএলে তার সংগ্রহ ২৬০ রান ও ২২ উইকেট—যা স্পষ্ট করে দেয়, ব্যাট কিংবা বল—দু’দিক থেকেই তিনি ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেন।
তারকাসংকট, আন্তর্জাতিক সূচির চাপ ও দীর্ঘদিনের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই সাত ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সই অনেকটা নির্ধারণ করবে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের রং, উত্তাপ, প্রতিযোগিতার মান ও দর্শক গ্রহণযোগ্যতার ভবিষ্যৎ।
No posts available.
২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১০ পিএম
২ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

জাতীয় দলে নতুন দুই কোচ নিয়োগ দিলো শ্রীলঙ্কা। রায়ান ফন নিইকার্ককে বোলিং এবং জর্ডান গ্রেগরিকে ফিল্ডিং ও স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রায়ান ফন নিইকার্ক এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের বোলিং কোচ এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়ে ডাচদের পারফরম্যান্সে ছিল দারুণ। নিইকার্ক দায়িত্বথাকালীন তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে নেদারল্যান্ডস। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের সব বিভাগের ফাস্ট বোলিং কার্যক্রম তদারকি করবেন তিনি।
জর্ডান গ্রেগরিকে জাতীয় ফিল্ডিং ও স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং দলটির বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুই কোচ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি পেসারের বাদ পড়ার তিন মাস পর মুখ খুললেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে ভিড়ায় কেকেআর। তবে ভারত ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেয় কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধুমাল।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধুমাল বলেন,
“আমি শুধু এটুকুই বলব, এটি দুঃখজনক। এর বাইরে আমার খুব বেশি ধারণা নেই।”
ধুমাল আরও বলেন,
“এটি দুঃখজনক। কখনও কখনও বিষয়গুলো এইভাবেই ঘটে। ক্রিকেটের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি না। সাধারণভাবে সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করে। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে আমাদের চারপাশে কিছু ঘটনা ঘটে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে স্বাভাবিক যুক্তি ও বিবেচনা কাজ করবে এবং এরকম পরিস্থিতি আর হবে না।”
বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রতিবাদ জানায়। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে বিসিবি। নিরাপত্তা বিষয়টি সামনে এনে তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করবে তখনই, যদি ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে চলে যায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধ প্রত্যাখান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে খেলছেন খেলছেন মোস্তাফিজ। ৬.৪৪ কোটি রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে যোগ দেন তিনি। এখন পর্যন্ত পিএসএলে দুটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার। নিয়েছেন দুটি উইকেট। সঙ্গে দুর্দান্ত ইকোনমি রেট ৪.৮৭।

আইপিএলে খেলার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) না দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দলটির পেসার নুয়ান থুশারা। এনওসি না মেলায় কলম্বো জেলা আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
এবারের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলার কথা ছিল থুশারার। তবে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় বোর্ড তাঁকে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইপিএলে খেলার সুযোগ পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এই পেসার।
থুশারার অভিযোগ, গত দুই আইপিএল মৌসুমে একই ধরনের ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল। অথচ এবার তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে না, তারপরও একই ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি আটকে দেওয়া হয়েছে।
মামলায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা, সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে, কোষাধ্যক্ষ সুজিওয়া গোডালিয়াড্ডা এবং সিইও অ্যাশলে ডি সিলভাকে বিবাদী করেছেন থুশারা। কলম্বো জেলা আদালতে গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর ৯ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় থুশারাকে এনওসি দেওয়া হয়নি। পাঁচটি মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্টের মধ্যে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৭। বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট—বিদেশি লিগে খেলতে হলে এই ফিটনেস পরীক্ষা পাস করাই বাধ্যতামূলক।
তবে থুশারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, ক্যারিয়ারজুড়েই তার ফিটনেস একই রকম রয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ আইপিএল মৌসুমে কোনো ফিটনেস ইস্যু না তুলেই তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তার এসএলসি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তিনি সেটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত আগেই বোর্ডকে জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, এসএলসির কর্মকর্তারা তাকে জানিয়ে দেন যে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তার জায়গা নেই—এমন অবস্থায় ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি না দেওয়া তার কাছে পরস্পরবিরোধী বলে মনে হচ্ছে।
থুশারা আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তাকে এনওসি পাওয়ার অধিকারী ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করেছেন, যাতে এসএলসি-কে অবিলম্বে সনদটি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে চলতি মৌসুমে বেঙ্গালুরুতে যোগ দিতে পারেন তিনি।
থুশারার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনওসি না পেলে আরসিবি বাধ্য হবে ৩১ বছর বয়সী এই পেসারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে বিকল্প খেলোয়াড় নিতে। ফলে তিনি শুধু চলতি আইপিএলের পারিশ্রমিকই হারাবেন না, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর সুযোগও হাতছাড়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আইপিএলই এখন তার আয়ের প্রধান উৎস।
আইপিএলে থুশারা এখন পর্যন্ত দুটি দলের হয়ে খেলেছেন। প্রথমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০২৪ মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। আর আরসিবির হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। গত মৌসুমে—যেখানে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য বড় সংবাদই বটে। এক যুগ পর তাদের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাবে অষ্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিতে জিম্বাবুয়ে সফর করেছিল অজিরা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবকটি হবে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হবে ১৫ সেপ্টেম্বর, এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ও ২০ সেপ্টেম্বর হবে শেষ ওয়ানডে।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নামিবিয়া। ঘরের মাঠে মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই সিরিজটি স্বাগতিকদের জন্য বড় পরীক্ষা।
অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর মাকোনি বলেন,
‘আমরা অস্ট্রেলিয়াকে আবারও জিম্বাবুয়েতে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। এই ধরনের বড় দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের দলের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এই সফরটি অমূল্য ভূমিকা রাখবে।’
এই সিরিজের আগে জুলাইয়ে ঘরের মাঠে ভারতকে স্বাগত জানাবে জিম্বাবুয়ে। সেই সিরিজে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ঘরোয়া ওয়ানডে কাপের ফাইনাল চলাকালীন দলকে মাঝপথে ফেলে যান বেয়ার্স সোয়ানেপোল। এ ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার।
গত রোববার জোহানেসবার্গে লায়ন্স ও টাইটান্সের মধ্যে ঘরোয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। সোয়ানেপোল বল হাতে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও ইনিংস শেষ হওয়ার ৮ ওভার বাকি থাকতেই মাঠ ছাড়েন।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট ধরার জন্য মূলত ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে যান সোয়ানেপোল। শুক্রবার থেকে ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে তাঁর খেলার কথা ছিল। তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে কিছুই জানত না লায়ন্স কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বাড়ানোর দাবি ইউরোপের দেশগুলোর |
|
এ ঘটনায় সোয়ানেপোলকে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার ‘অনাপত্তিপত্র’ বা ‘এনওসি’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে সোয়ানেপোলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও চুক্তিবিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওরচেস্টারশায়ার ক্লাবের ডিরেক্টর অ্যাশলে জাইলস বিষয়টিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন, ‘কেন এমনটা ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে সোয়ানেপোল সম্ভবত এখন বুঝতে পারছেন যে তিনি একটি ভুল করে ফেলেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কোনো চাপ ছিল না। মানুষ ভুল করে, সোয়ানেপোল ভালো ছেলে, কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি বড় একটি ভুল করে ফেলেছেন।’
পুরো মৌসুম খেলার কথা থাকলেও লায়ন্স দলের সাথে সোয়ানেপোলের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তাকে এনওসি না দেওয়া বিষয়টি ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ড। আইনি প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সোয়ানেপোলের।