৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ৭:৪৯ পিএম

নির্দিষ্ট একজন ব্যাটার বা বোলারের বিপক্ষে কোনো ক্রিকেটারের বিশেষভাবে ভালো পারফর্ম করার অসংখ্য নজির রয়েছে ইতিহাসে। আবার কিছু খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা গোটা দলকেই বানিয়ে ফেলেন ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’। ফর্ম, ম্যাচের পরিস্থিতি যেমনই হোক, সেই দলটির বিপক্ষে তার ব্যাট বা বল হাতে জ্বলে ওঠাটা যেন অনিবার্য। গত দেড় বছর ধরে ভারতের বিপক্ষে ঠিক সেই কাজটাই সব ফরম্যাটে বারবার করে অজি ব্যাটার তাই হয়ে উঠেছেন দলটির মাথাব্যথার কারণ। প্রিয় প্রতিপক্ষক ভারতকে পেলেই যেন একটু বেশি হাসছে হেডের ব্যাট।
হেডের এই ‘ভারতপ্রেমের’ শুরুটা সেই গত বছর আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল দিয়ে। প্রথম ইনিংসে খেলেন ১৭৪ বলে ১৬৩ রানের এমন ইনিংসে, যা প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবেও একদম গুঁড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত অনায়াস জয় পায় অস্ট্রেলিয়ার। ম্যাচ সেরাও হন হেড। এরপরের মঞ্চ গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল। তবে এখানে বাড়তি কিছু তথ্য যোগ করে নেওয়া যেতেই পারে।
আর সেটা হল, চোটের কারণে বিশ্বকাপের অর্ধেক মিস করা হেড প্রথম ম্যাচ খেলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। আর মাঠে নেমেই হাঁকান শতক। মানে, বাঁহাতি এই ব্যাটার স্রেফ ভারতই নন, অন্য দলের বিপক্ষেও বড় রান করতে জানেন। তবে সেটা যে রোহিত-বুমরাহদের তুলনায় একেবারেই যৎসামান্য, সেটা স্পষ্ট এক পরিসংখ্যানেই। যেখানে দেখা যাচ্ছে ২০২৩ সাল থেকে সব ফরম্যাটে ভারতের বিপক্ষে ১৯ ইনিংসে ৪টি সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে ১ হাজার ৫২ রান করেছেন হেড। গড় অবিশ্বাস্য ৬১.৯০!
আরও পড়ুন
| আইপিএলে তান্ডবে চালানো হেড চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশ্বকাপে |
|
একজন ব্যাটারের এমন গড় অবিশ্বাস্য এমনিতেই বলা যায়। তবে হেডের অন্য দলের বিপক্ষে একই সময়ের পরিসংখ্যান দেখলে আপনিও মানতে বাধ্য হবেন তার অসামান্য কীর্তি। ভারত বাদে বাকি দলের বিপক্ষে গত বছর থেকে ৫৪ ম্যাচে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৮৭৫ রান করেছেন হেড। গড়? মোটে ৩৬.৮০! ফিফটি ১০টি, আর সেঞ্চুরি ভারতের সমান ৩টিই। জার্সি সাদা হোক বা রঙ্গিন প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পেলেই হেডের এই দানবীয় ব্যাটিংয়ের দেখা মিলছে বারবার।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালেই যেমন। ২৪১ রানের টার্গেটে জাসপ্রিত বুমরাহ তোপে মাত্র ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমত ত্রাহিত্রাহি অবস্থা অস্ট্রেলিয়ার। ইনিংসের শুরুর দিকে ভারতের তারকা পেসাদের কয়েকটি ডেলিভারিতে পুরোপুরি পরাস্ত হন হেড, অল্পের জন্য হননি বোল্ড বা ক্যাচ আউট। তবে একটু সেট হওয়ার পর ক্রমেই ভারতের মুঠো থেকে ম্যাচ বের করে নেন নান্দনিক সব শটের পসরা সাজিয়ে। স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে খেলেন ১২০ বলে ১৩৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস। আসরে প্রথমবার ভারত পায় হারের দেখা। উল্লেখ্য, গ্রুপ পর্বে দুই দলের মুখোমুখি ম্যাচটি খেলেননি হেড।
তবে ফাইনালে নেমেই হয়ে যান আরও একবার ম্যাচ সেরা। ১২ বছর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ, তাও ঘরের মাটিতে - এমন মেলবন্ধনের পথে কাঁটা হয়ে যাওয়ায় আজও ভারতের কাছে হেড এক দুঃখ, আক্ষেপ ও বিভীষিকার নামই বটে। বুমরাহর ওই স্পেলেই যদি তার বিদায় হত, কে জানে হয়ত কাপটা উঠত রোহিত শর্মার হাতেই!
আরও পড়ুন
| কীভাবে এমন তাণ্ডব চালাচ্ছেন ট্রাভিস হেড? |
|
হেড এরপর চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচে আরও একবার জ্বলে ওঠেন ভারতের বিপক্ষে। মাত্র ৪৩ বলে খেলেন ৭৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। এবার অবশ্য দলকে জেতাতে পারেননি। তবে চলমান ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে যা করেছেন, সেটা হয়ত গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।
গোলাপি বলের এই ম্যাচে ভারতের বোলারদের আর একবার বেধড়ক পিটিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী মেলে ধরেন তিনি। ১৭ চার ও ৪ ছক্কায় ১৪১ বলে হেডের ব্যাট থেকে এসেছে ১৪০ রান। দ্বিতীয় দিন শেষে হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারত পিছিয়ে আছে ২৯ রানে। দলটি যদি এখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে না পেরে হেরে যায়, তাহলে সম্ভবত আরও একবার ভারতের হারের মূল কারণ হওয়ার পাশাপাশি ম্যাচ সেরাও হয়ে যাবেন হেডই। এমন প্রিয় প্রতিপক্ষ কে না চায়!
No posts available.
৩০ মার্চ ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
৩০ মার্চ ২০২৬, ১:০৩ পিএম
৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:১০ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটে নিরাপত্তা প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে সিকান্দার রাজা ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে পুরো ঘটনার দায় নিজের কাঁধেই নিলেন রাজা। সতীর্থ ও অধিনায়ক আফ্রিদিকে নির্দোষ দাবি করলেন তারকা অলরাউন্ডার।
শনিবার রাতে লাহোরে টিম হোটেলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় পাঞ্জাব পুলিশের একটি চিঠি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, লাহোর কালান্দার্সের দুই ক্রিকেটার অনুমতি ছাড়াই কিছু অতিথিকে রাজার কক্ষে নিয়ে যান।
শুধু তাই নয়, চিঠিতে বলা হয়, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক তাদের রুমে নিয়ে যান আফ্রিদি ও রাজা। যেখানে মূল দায় দেওয়া হয় শাহিন আফ্রিদিকে। তবে পুলিশের এই বর্ণনার সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেছেন রাজা।
“শাহিন কাউকে জোর করেনি। আমার বন্ধুবান্ধব ও পরিবার এসেছিল। আমার অনুরোধেই শাহীন তাদের ওপরে নিয়ে আসে। যদি এটা নিয়মবহির্ভূত হয়ে থাকে, তাহলে সেটা আমার ভুল। শাহীন শুধু আমাকে সাহায্য করেছে।”
“এখানে আমি দোষী, শাহিন আফ্রিদি নয়। সে আমার অনুরোধেই নিচে গিয়েছিল। কারণ তারা (অতিথি) আমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব ছিল। তাদের সঙ্গে আমি বিজনেস সেন্টারে দেখা করতে চাইনি। ওপরে আমরা ৪০ মিনিটের মতো ছিলাম।"
এসময় রাজা আরও জানান, দীর্ঘ ১৯ বছরের পুরোনো বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা আসায় তিনিই মূলত দেখা করতে চেয়েছিলেন। ব্যস্ত সূচিতে বছরের বেশিরভাগ সময় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে তেমন দেখা হয় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্য দিকে পুলিশের চিঠিতে দাবি করা হয়, ওই সাক্ষাৎ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলেছিল। এছাড়া পিসিবির নিরাপত্তা ও অ্যান্টি-করাপশন বিভাগের আপত্তি সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
লাহোর কালান্দার্সের ভেতরের সূত্রগুলো ঘটনাটির মূল দিকগুলো নিশ্চিত করলেও, ‘জোরপূর্বক’ কাউকে প্রবেশ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া বিভাগের প্রধান উমর ফারুক জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং পাকিস্তান সুপার লিগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
পাঞ্জাব পুলিশের চিঠিতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পিসিবি বা পিএসএলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বিপদ যেন কাটছেই না কলকাতা নাইট রাইডার্সের। চোটের মিছিলে একাধিক ফাস্ট বোলারকে হারানোর পর এবার পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের বোলিংয়েও পড়েছে নিষেধাজ্ঞা। প্রায় দুই সপ্তাহ বোলিং করতে পারবেন না কলকাতার এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা।
অথচ নিলাম থেকে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে গ্রিনকে দলে নিয়েছে কলকাতা। যা কিনা আইপিএলে বিদেশি কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ দাম। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরু থেকে তার ব্যাটিং-বোলিং একসঙ্গে পাবে না তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে ১০ বলে ১৮ রান করেন গ্রিন। পরে ২২০ রানের পুঁজি নিয়ে ফিল্ডিংয়ে নামার পর বোলিং করেননি ২৬ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। ম্যাচে মোট ৬ জন বোলার ব্যবহার করলেও, গ্রিনকে আনেননি অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে।
ম্যাচ শেষে তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, গ্রিনকে কেনো বোলিং করানো হলো না? এই প্রশ্নে কলকাতা অধিনায়ক রাহানে সরাসরি বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে জিজ্ঞেস করুন।’
আরও পড়ুন
| সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মঙ্গলবার কিছু একটা হবে, বললেন সমিত |
|
রাহানের এই মন্তব্যের পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, সামান্য পিঠের সমস্যার কারণে আপাতত ১০ থেকে ১২ দিন বল করবেন না গ্রিন। ২৬ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার ২০২৪ সালের শেষ দিকে বড় ধরনের পিঠের অস্ত্রোপচারও করিয়েছিলেন।
এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড জানায়, গ্রিন বর্তমানে ভারতে নিজের বোলিং লোড ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, ১০-১২ দিনের মধ্যে তিনি আবার বল করতে পারবেন। পাশাপাশি তারা নিশ্চিত করেছে, বিষয়টি কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও জানানো হয়েছে।
গ্রিন ছাড়াও এবারের আইপিএলে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও কাজের চাপ নিয়েও বাড়তি নজর রয়েছে। জশ হ্যাজেলউড এখনও পুরোপুরি ম্যাচ-ফিট নন। মিচেল স্টার্ক জানিয়েছেন কাঁধ ও কনুইয়ের চোট থেকে সেরে উঠছেন। প্যাট কামিন্স লাম্বার স্ট্রেস সমস্যার কারণে বাইরে।
এছাড়া নাথান এলিস ও জ্যাক এডওয়ার্ডস চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। সব মিলিয়ে, আইপিএলের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে ইনজুরির ছায়া স্পষ্ট।

প্রায় দেড় মাসের ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরে রোববার সশরীরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাজ শুরু করে দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। প্রথম দিনই জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পের খোঁজখবর নিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। এছাড়া সেরেছেন অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রম।
এর মাঝেই রোববার দুপুরে প্রথম আলো, সমকালসহ উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন বুলবুল। যেখানে গত মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।
“(বিশ্বকাপ না খেলা ভুল ছিল কি না) এ নিয়ে কিছু না বলি। তবে খুব চেষ্টা করেছি (বিশ্বকাপ খেলার)। দিন শেষে আমিও তো একজন ক্রিকেটার। (বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে তদন্ত কমিটির আলোচনা) ওটার ব্যাপারে আমার ধারণা নেই, কিছু শুনিনি। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি।”
“অনুসন্ধান তো সরকার করতেই পারে। তাদের কথা আমরা শুনব, শুনছি। আবারও বলছি, (নাজমুল আবেদীন) ফাহিম ভাইসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় দলের স্কোয়াড ঠিক করেছিল। আমাদের যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল, কোথায় খেলবে, না খেলবে- সবই নির্ধারিত ছিল। তবে সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হবে।”
আরও পড়ুন
| ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন দিগন্ত: বেতন কাঠামো ও ক্রীড়া কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী |
|
সামনের দিনগুলোতে বুলবুলের জন্য হয়তো বেশ কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কারণ স্থবির হয়ে আছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এটি আবার চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে তার।
এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে বিসিবি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বসতে হবে বিসিবি সভাপতির। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে বোর্ডের দুই পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেনের পদত্যাগ।
সব মিলিয়ে বাইরে থেকে একরকম সংকটময় পরিস্থিতিই মনে হচ্ছে বিসিবিতে। তবে বোর্ড সভাপতি বুলবুলের চোখে সংকটের কিছু নেই বিসিবিতে।
“আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না। বোর্ড নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় দল খেলছে আর মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোথাও কোনো সংকট নেই। এটা তো নির্বাচিত কমিটি। সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বোর্ড চলছে। এ ধরনের প্রশ্ন আমরা আশা করি না।”

দুই ওভারে করাচি কিংসের প্রয়োজন ২৩ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৯ রান দিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাই শেষ ওভারে বাকি থাকল ১৪ রান। কিন্তু হুট করে সেটি নেমে গেল ৬ বলে ৯ রানে। কারণ বলের আকৃতি পরিবর্তন (টেম্পারিং) করায় পেনাল্টি দেওয়া হয় লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে। তাই ৫ রান উপহার পায় করাচি।
পাকিস্তান সুপার লিগের ম্যাচে রোববার রাতে ঘটেছে এই ঘটনা। লো স্কোরিং ম্যাচে ৫ রান উপহার পেয়ে ৩ বল আগেই ম্যাচ জিতে যায় করাচি। আর বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ফেঁসে যান লাহোরের বাঁহাতি ওপেনার ফখর জামান।
আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই খবর জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তাই অন্তত ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাচ রেফারি রোশান মহানামার কাছে শুনানিতে যেতে হবে ফখরের।
পিসিবি-পিএসএলের নীতিমালা অনুযায়ী, লেভেল থ্রি অপরাধ করেছেন ফখর। এর শাস্তি হিসেবে অন্তত এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা পেতে হবে তার। আর মৌসুমের প্রথম অপরাধ হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি হবে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
আরও পড়ুন
| রোহিত-রিকেল্টনের তাণ্ডব, রেকর্ড গড়ে ১৩ বছর পর মুম্বাইয়ের জয় |
|
ম্যাচের শেষ ওভার শুরুর ঠিক আগে ঘটে এই ঘটনা। ৬ বলে ১৪ রান ঠেকাতে বোলিং প্রান্তে যান হারিস রউফ। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফখর জামানের হাত ঘুরে বল যায় রউফের কাছে।
তখন তার হাত থেকে বল নিয়ে পরীক্ষা করেন আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি। আরেক প্রান্তের আম্পায়ার শরফুদৌল্লা ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করেন ফয়সাল। দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নেন, বলের আকৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক ৫ রান পেনাল্টি উপহার পায় করাচি।
শুধু তাই নয়, ওই বল তুলে নেন দুই আম্পায়ার। নতুন বলের বক্স থেকে একটি বল বাছাই করার সুযোগ পান দুই ব্যাটার আজম খান ও খুশদিল শাহ। এই বিষয়ে ম্যাচ শেষে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি লাহোর অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি।
এছাড়া একই ম্যাচে হাসিবউল্লাহ খানের উইকেট নিয়ে আগ্রাসী উদযাপন করায় করাচির অভিজ্ঞ পেসার হাসান আলি ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়।

এক যুগের বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটাল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের দেখা পেল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দলটি। রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেল্টনের তাণ্ডবে রেকর্ড গড়েই জিতল মুম্বাই।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মুম্বাই। আগে ব্যাট করে ২২০ রানের বড় পুঁজি পায় কলকাতা। কিন্তু দুই ওপেনারের ঝড়ে ৫ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নিয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
আইপিএল ইতিহাসে এটিই মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। এর আগে ২০২১ সালের টুর্নামেন্টে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ২১৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি। আর এই জয়ে ১৩ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে আসরের প্রথম ম্যাচ জিতল তারা।
বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই কলকাতাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেল্টন। দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ৬ ওভারে ৮০ রান করে ফেলে মুম্বাই। পরে একই ছন্দে এগিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৭১ বলে ১৪৮ রান যোগ করেন তারা।
প্রায় ৯ মাস পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ২৩ বলে আইপিএল ক্যারিয়ারের ৫০তম ফিফটি করেন রোহিত। আইপিএলে এটিই তার দ্রুততম ফিফটি। অন্য প্রান্তে ঝড় তোলা রিকেল্টন ২ চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মেরে ২৪ বলে করেন ফিফটি।
দ্বাদশ ওভারে বৈভব অরোরার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন রোহিত। ৬টি করে চার-ছক্কায় ৩৮ বলে তিনি করেন ৭৮ রান। এ নিয়ে কলকাতার বিপক্ষে তার রান হলো ১ হাজার ১৬১। আইপিএলে এত দিন নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান ছিল বিরাট কোহলির, পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১ হাজার ১৫৯।
এরপর সূর্যকুমার যাদব বেশি কিছু করতে পারেননি। ৩ চারে ৮ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার। অনুকূল রায়ের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রান আউট হন রিকেল্টন। ফেরার আগে ৪ চারের সঙ্গে ৮ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রান করেন প্রোটিয়া উইকেটকিপার-ব্যাটার।
পরে জয় পেতে তেমন বেগ পায়নি মুম্বাই। ৪ চারে ১৪ বলে ২০ রান করে আউট হন তিলক বর্মা। আর ১১ বলে ১৮ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে ঝড় তোলেন কলকাতার দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও অজিঙ্কা রাহানে। দুজন মিলে মাত্র ৩২ বলে গড়েন ৬৯ রানের জুটি। ৬ চার ও ২ ছক্কায় মাত্র ১৭ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন অ্যালেন।
তিন নম্বরে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। ১০ বলে ১৮ রান করে ফিরলে ভাঙে ২১ বলে ৪০ রানের জুটি। অন্য প্রান্তে তাণ্ডব চালিয়ে যান রাহানে। ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মেরে ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন কলকাতা অধিনায়ক।
পঞ্চাশের পর অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেননি রাহানে। সব মিলিয়ে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৪০ বলে ৬৭ রান করে আউট হন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
এরপর ঝড় তোলেন আঙ্কৃশ রঘুবংশী ও রিঙ্কু সিং। দুজনের জুটিতে আসে ৩০ বলে ৬০ রান। মাত্র ২৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে আউট হন রঘুবংশী। ২১ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু।
মুম্বাইয়ের পক্ষে ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর।