
এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ অস্ট্রেলিয়ার। গ্রুপপর্বে অসিদের শেষ ম্যাচটি হয়ে থাকল কেবল নিয়ম রক্ষার। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠতে ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়া। ২০২১ সালে শিরোপা জয়ের পর টানা তৃতীয়বার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা হলো না অসিদের।
সোমবার শ্রীলঙ্কার কাছে বড় ব্যবধানে হারের পরই অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ভাগ্য ঝুলে যায়। যদি-কিন্তু ছাড়াও অন্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় ভাগ্য। আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয় মিচেল মার্শ বাহিনীকে। অথচ আয়ারল্যান্ড জিতলে অন্তত শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আশা টিকে থাকত অসিদের।
মাত্র এক মাস আগে অ্যাশেজে দাপুটে পারফর্ম করা অস্ট্রেলিয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পড়ে গেছে চরম ব্যর্থতায়। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা, অভিজ্ঞদের ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, অস্ট্রেলিয়া আদৌ টি–টোয়েন্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?
অস্ট্রেলিয়ার দু’বারের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ম্যাথু হেইডেন বলেন,
“দল নির্বাচন আর প্রস্তুতির দিক থেকে আমাদের ভুল পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাপারটা ইংল্যান্ডের মতো—‘সব ঠিক আছে’ এ ধরনের আত্মতুষ্টি। এটা একধরনের অস্বীকার আর হয়তো দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফল।’’
ক্যামেরন গ্রিনের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন হেইডেন। আইপিএলে ইতিহাসের অন্যতম দামী বিদেশি ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপে ব্যর্থ গ্রিন।
বিষয়টি আরও একবার সামনে আনলেন হেইডেন,
“ব্যাট হাতে গ্রিন একেবারেই আত্মবিশ্বাসহীন। রেনশ এসেছে কোনো বাড়তি বোঝা ছাড়া। দেশে ওয়ানডেতে দারুণ খেলেছে। তাকে অবহেলা করা হয়েছে—টেস্ট দলেও তার জায়গা থাকা উচিত।”
হেইডেন যোগ করেন,
“ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সূচি নতুন করে ভাবা দরকার। তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ক্রিকেটারদের সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।”
No posts available.
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র চার বল করেই মাঠ ছাড়তে হয় শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাতিরানাকে। স্ক্যানের পর মাংসপেশিতে চোট ধরা পড়েছে এই পেসারের। চোট থেকে সেরে উঠতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। তাতে বিশ্বকাপ থেকে নিশ্চিতভাবে ছিটকে গেলেন পাথিরানা।
১৬ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের আগের ম্যাচে বাম পায়ের মাংসপেশিতে চোট পাওয়ায় পাতিরানা ছিটকে গেলে তার পরিবর্তে দিলশান মাধুশঙ্কার নাম ঘোষণা করা হয়। কোনো খেলোয়াড়ের বদলি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে অন্তর্ভুক্ত করার আগে ইভেন্ট টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। আইসি থেকে এই অনুমোদন পাওয়ায় পাতিরানার বিকল্প হিসেবে মাধুশাঙ্কার খেলতে কোনো বাধা নেই।
পাল্লেকেলেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে নিজের চতুর্থ বলটি করার পরই বাঁ পা চেপে ধরে মাটিতে পড়ে যান পাতিরানা। পরে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওই ইনিংসে আর বোলিংয়ে ফেরেননি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচের আগে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কনসালট্যান্ট ভিকরম রাথুর চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছিলেন,
‘আমার মনে হয় টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য তাকে আনফিট ঘোষণা করা হয়েছে। যদি সে ছিটকে যায়, সেই খবর শিগগিরই জানানো হবে। বদলি খেলোয়াড় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।’
পরীক্ষার পর জানা যায় পাথিরানার মাংসপেশিতে চোট পেয়েছেন। সুস্থ হতে অন্তত কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে আইপিএল নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হচ্ছে না ২৩ বছর বয়সী পেসারকে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া আসরে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন। লঙ্কান পেসারকে ১৮ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি।
২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে শ্রীলঙ্কা পাল্লেকেলেতে ইংল্যান্ড–এর বিপক্ষে, কলম্বিয়ায় নিউ জিল্যান্ড–এর বিপক্ষে এবং আরেকটি অনির্ধারিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফের পাল্লেকেলেতে খেলবে।

বিগ ব্যাশ লিগের আগামী মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ ভারতে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে চেন্নাইকে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা—ফিল রিগবি ও মারগট হার্লে সম্প্রতি সম্ভাব্য বিদেশি ভেন্যু পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ভারত সফর করেন। সফরে তাঁরা তামিলনাডু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরিদর্শন করেন চেন্নাইয়ের ঐতিহাসিক চিপক স্টেডিয়াম, যা আইপিএলের দল চেন্নাই সুপার কিংসের হোম ভেন্যু।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন সহজ নয়। কারণ এ ধরনের আয়োজনের জন্য চূড়ান্ত অনুমতি দিতে হবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই)। পাশাপাশি সম্প্রচার অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর সম্মতিও প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে দলটি নিজেদের ঘরের ম্যাচ হারাবে, তাদের ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে। জানা গেছে, বিদেশে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে আয়োজক ক্লাবের কাছ থেকে ম্যাচটির স্বত্ব কিনে নিতে পারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
আরও পড়ুন
| অপরাজিত থেকেই সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা |
|
বিদেশে ম্যাচ হলে ভ্রমণ দূরত্বের কারণে সূচিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও বিশ্রামের সময় নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ডিসেম্বরে চেন্নাইয়ে বর্ষা মৌসুম থাকায় বন্যার ঝুঁকিও বিবেচনায় রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য খেলায় বিদেশে ম্যাচ আয়োজনের নজির আছে। যেমন রাগবি লিগের মৌসুম শুরুর ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজন করা হয়। তবে বিগ ব্যাশের সময়সূচি মাত্র সাত সপ্তাহের—ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত, যা বিদেশি ম্যাচ আয়োজনকে আরও কঠিন করে তোলে।
বিবিএল শিগগিরই বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় বিনিয়োগকারী ও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে সিডনি থান্ডার ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের মতো দল বেসরকারি মালিকানায় বিক্রির আলোচনা চলছে বলে শোনা যাচ্ছে।
ভারতের অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন চলতি মৌসুমে থান্ডারের হয়ে খেলার কথা থাকলেও হাঁটুর চোটে নাম প্রত্যাহার করেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় বোর্ড সক্রিয় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিদেশি টি–টোয়েন্টি লিগে খেলতে দেয় না।
আগামী মৌসুমে বিবিএলের সূচি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরে পাঁচ টেস্টের সিরিজ থাকায় সেই সফরে থাকা ক্রিকেটাররা বিগ ব্যাশের শেষভাগে খেলতে পারবেন না।
বিগ ব্যাশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সূচির চাপও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে আয়োজকদের। কারণ একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সঙ্গেও সময়সূচি আংশিকভাবে মিলে যায়।
সব মিলিয়ে বিদেশে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের ধারণা এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে থাকলেও, বাস্তবায়িত হলে সেটি বিগ ব্যাশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উড়ন্ত পথচলায় আরেকটি জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেই সুপার এইট পর্বে নাম লেখাল গত বিশ্বকাপের রানার্স-আপরা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের সামনে পাত্তাই পেল না সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দিল্লিতে বুধবার দিনের প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতকে ৬ উইকেটে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে মাত্র ১২২ রান করতে পারে আমিরাত। জবাবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৩.২ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় প্রোটিয়ারা।
এ নিয়ে ডি গ্রুপে নিজেদের চার ম্যাচের সবকটি জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্য দিকে চার ম্যাচে এক জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল আমিরাত।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশ-ভারত থেকে সরে যেতে পারে বিশ্বকাপ |
|
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একদমই সুবিধা করতে পারেনি আমিরাত। শুরুতে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। তবে ১২ বলে ২২ রানের বেশি করতে পারেননি আমিরাত অধিনায়ক।
এরপর ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৫ রান করেন আলিশান শরাফু। দলের আর কোনো ব্যাটার ১৫ রান করতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট নেন করবিন বশ। ১৭ রানে ২ উইকেট নেন জর্জ লিন্ডা।
পরে রান তাড়ায় প্রোটিয়াদের কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে সবাই ঝড়ো ব্যাটিং করে আউট হন। এইডেন মার্করাম ১১ বলে ২৮, রায়ান রিকেলটন ১৬ বলে ৩০, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস করেন ২৫ বলে ৩৬ রান।
সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার তিন প্রতিপক্ষ ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তেজনা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনে। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার চলমান টানাপোড়েনের কারণে ভবিষ্যতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট ভারত থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমনটাই জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার দৈনিক দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৯ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ছেলেদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ—যেগুলো যৌথভাবে আয়োজন করার কথা ভারত ও বাংলাদেশ, সেগুলো বিকল্পভাবে অস্ট্রেলিয়াতে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এই আলোচনা সামনে এসেছে চলমান ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে। এবারের আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্ট চলাকালে পাকিস্তান প্রথমে ১৫ ফেব্রুয়ারির গ্রুপ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কারণ নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন
| হ্যাটট্রিক জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, সেমি-ফাইনালে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান |
|
তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন বন্ধু দেশের অনুরোধ ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর পাকিস্তান সরকার তাদের দলকে ম্যাচে অংশ নিতে অনুমতি দেয়। আলোচনায় অংশ নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, আইসিসি প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জানা গেছে, পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল—এ কারণেই শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলায় ইসলামাবাদ।
ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতায় থামে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরের বড় টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপ ২০২৪ থেকেই সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সেই টুর্নামেন্টে এবং সাম্প্রতিক টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচেও ভারতীয় খেলোয়াড় ও অধিনায়ক পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ম্যাচ শেষে প্রচলিত হ্যান্ডশেক করেননি, যা ক্রীড়াঙ্গনে বিরল ঘটনা হিসেবে আলোচনায় আসে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে বহুদিন। সর্বশেষ পাকিস্তান ভারত সফর করেছিল ২০১২–১৩ মৌসুমে। এরপর থেকে দিল্লি রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে তাদের দলকে পাকিস্তান সফরের অনুমতি দেয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান বোর্ড ও বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া এক ধরনের ‘হাইব্রিড মডেল’-এ সম্মত হয়। ওই ব্যবস্থায় ঠিক হয়, ২০২৪–২০২৭ সম্প্রচার চক্রে দুই দেশ একে অপরের আয়োজিত আইসিসি টুর্নামেন্টে নিজ দেশে খেলবে না; বরং নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ হবে।
আরও পড়ুন
| টিকে থাকবে তো পাকিস্তান, নাকি বাজবে বিদায়ঘণ্টা |
|
ক্রিকেট প্রশাসকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বড় আসরের সময়সূচি ও আয়োজন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই আগেভাগেই বিকল্প ভেন্যু নির্ধারণের আলোচনা চলছে।
অস্ট্রেলিয়াকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ভাবার পেছনে অতীত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। দেশটি আগে একাধিক বড় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করেছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডের অ্যাডিলেড ওভালের ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ৪১ হাজার ৫৮৭ দর্শক। আর ২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সেই সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ২৯৩।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি শুধু দ্বিপাক্ষিক সিরিজই বন্ধ করেনি, বৈশ্বিক ক্রিকেট সূচিও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে। দুই দলের মুখোমুখি হওয়া এখন প্রায় একচেটিয়াভাবে আইসিসি বা বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ওপর নির্ভরশীল।
আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে আলোচনা জোরালো—রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের বড় আসরগুলো নিরপেক্ষ বা বিকল্প দেশে সরিয়ে নেওয়ার নজির আরও বাড়তে পারে।

রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে টানা তৃতীয় ম্যাচে জয়ে হ্যাটট্রিক করে ফেলল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট 'এ' দল। একইসঙ্গে নিশ্চিত হলো তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়নশিপ। এখন সেমি-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান নারী ক্রিকেট 'এ' দল।
ব্যাংককে বুধবার সকালের ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৯০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে পুরো ২০ ওভার খেলেও ৬১ রানের বেশি করতে পারেনি মালয়েশিয়া।
এই জয়ে 'বি' গ্রুপে তিন ম্যাচের সবকটি জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ থেকে সেমি-ফাইনালের অন্য টিকেটের দৌড়ে এখন শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
আরও পড়ুন
| টিকে থাকবে তো পাকিস্তান, নাকি বাজবে বিদায়ঘণ্টা |
|
ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে বড় পুঁজি এনে দেওয়ার কারিগর লতা মন্ডল। পাঁচ নম্বরে নেমে ৪ চারে ৪৪ বলে তিনি করেন ৪৮ রান। এছাড়া শারমিন সুলতানা ২৫ বলে ৩০, ফাহিমা খাতুন ২৪ বলে ২৯ ও সাদিয়া আক্তার ১১ বলে করেন ১৯ রান।
মালয়েশিয়ার পক্ষে ২ উইকেট নেন নুর দানিয়া সুহাদা।
পরে রান তাড়ায় একদম সুবিধা করতে পারেনি মালয়েশিয়া। আট নম্বরে নেমে নুর আরিয়ানা নাটসা ২৪ বলে করেন ২২ রান। দলের আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট নেন ফাতেমা জাহান। শরিফা খাতুন ১৩ রানে নেন ২ উইকেট।
ব্যাট হাতে ৪৮ রান করার পর ব্যাটিংয়ে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন লতা মন্ডল।
আগামী শুক্রবার দুপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।