
ব্যাংকার্স ক্রিকেটের ফাইনালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডকে ৬৯ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিটি ব্যাংক।
২০ ওভারের এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় সিটি ব্যাংক। ৪র্থ ওভারের মাঝেই দুই ওপেনার এস কে আরিফুজ্জামান ও ফারহান শোভোনকে হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে এরপর ৩য় উইকেট জুটিতে শরিফুল সৈকত ও শাকিল হায়দার মিলে ৭১ রান তোলেন। শাকিল আউট হয়ে ফেরেন ১৭ বলে ৩১ রান করে।
এরপর ইমন ও ক্যাপ্টেন মারুফ আহমেদ প্রায় ২০০র কাছাকাছি স্ট্রাইকরেটে খেলে সঙ্গ দিয়ে যান সৈকতকে। বাকিরা ফিরে গেলেও শেষ বল পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থাকেন সৈকত। তার ৫৫ বলে করা অপরাজিত ৯০ রানে ছিল ৮ টি চার ও ৫ টি ছক্কা। এই ঝড়ো ইনিংসে সিটি ব্যাংকের স্কোরবোর্ডে ৫ উইকেটে ওঠে ২১৯ রান।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হয়ে হাবিব তালুকদার নেন ৩ টি উইকেট। রাকেশ পাশি ও অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন রানা নেন ১ টি করে উইকেট।
২২০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। ৫ ওভারেই রান ওঠে ৫০ এর বেশি। তবে এরপর নিয়মিত ভাবে উইকেট হারাতে থাকে দল। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে তারা হারায় চার উইকেট।
ব্যাটের পর বল হাতে জাদু দেখান সিটি ব্যাংকের অধিনায়ক মারুফ আহমেদ। মাত্র ২৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ টি উইকেট। নির্জন ভদ্র ২ টি এবং শোভোন, নয়ন নেন ১ টি করে উইকেট। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হয়ে ৩৩ বলে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন দিদার ইমরান। ২য় সবোর্চ্চ ফিরোজ আহমেদের ২৩।
১৭.৪ ওভারে ১৫০ রানে অলআউট হয় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। ৬৯ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন সিটি ব্যাংক। ২১ বলে ৩৫ রান ও ৪ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার এবং ম্যাচ সেরা হন চ্যাম্পিয়ন ক্যাপ্টেন মারুফ আহমেদ। সেরা ব্যাটারের পুরস্কার ওঠে অপরাজিত ৯০ রান করা শরিফুল সৈকতের হাতে।
No posts available.
৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১২ এম
৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৬ এম

সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোয়াড নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ডেল স্টেইন। প্রোটিয়া কিংবদন্তি পেসারের মতে, সাদা বলে দেশের অন্যতম সেরা বোলার ওটনিল বার্টম্যানের বিশ্বকাপ দলে থাকা উচিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ছিলেন বার্টম্যান। ওই টুর্নামেন্টে দলের রানার্স-আপ হওয়ার পেছনে বড় অবদান তার। কিন্তু এরপর থেকে ক্রমেই দলে জায়গা হারিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী পেসার।
গত বিশ্বকাপের পর থেকে প্রোটিয়াদের ২৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১১টিতে ছিলেন বার্টম্যান। সেই ধারাবাহিকতায় সামনের বিশ্বকাপ দলেও জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ এই পেসারের।
আরও পড়ুন
| মোস্তাফিজ ‘বিন্দাস’ আছেন |
|
দক্ষিণ আফ্রিকা দলে অবশ্য ৬ জন গতিময় বোলার আছেন- কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি, করবিন বশ, কিউনা মাফাকা, মার্কো ইয়ানসেন ও আনরিখ নরকিয়া। তারা সবাই মূলত বৈচিত্রের চেয়ে গতির ওপরই বেশি নির্ভর করেন।
স্লোয়ার ও কাটারের জন্য অবশ্য এনগিডি আছেন। তবে ব্যাটারদের চমকে দেওয়ার মতো স্কিড করা ডেলিভারি করতে পারদর্শী বার্টম্যান। স্টেইনের কাছে যা দারুণ প্রতিভা। এই এক্স বার্তায় প্রোটিয়া এই কিংবদন্তি লিখেছেন, বিশ্বকাপ দলে থাকা উচিত ছিল বার্টম্যানের।
“আমাদের উচিত সাদা বলে ওটনিল বার্টম্যানকে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা। এসটোয়েন্টির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি সে। দুবার এই লিগ জিতেছে, একবার ফাইনাল খেলেছে।”
“আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, এই টুর্নামেন্টে ৪ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার (প্রায়ই ব্যাটার) এবং বাকি প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা খেলে। সেখানে সে এক নম্বর। এটি টপ কোয়ালিটি। তবু এই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সে বাড়িতে বসে থাকবে।”
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বিশ্বকাপের নতুন সংস্করণ। টুর্নামেন্টের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পথচলা শুরু হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ডি গ্রুপে তাদের অন্য তিন প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

কথায় বলে, পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে- সেই কথাটিই চলতি বিপিএলে প্রমাণ করে চলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিপিএলে একের পর এক ম্যাচে 'বুড়ো' হাড়ের ভেলকি দেখাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তাই তো এক সময়ের সতীর্থ ও রংপুর রাইডার্সের কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলছেন, গত ৩-৪ বছরের মধ্যে সেরা ছন্দে এখন মাহমুদউল্লাহ।
সিলেটে সোমবার সন্ধ্যার ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৫ উইকেটে হারায় রংপুর। ১৭০ রানের লক্ষ্যে ১৯ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বড় অবদান রাখেন মাহমুদউল্লাহ। তবে ২৫ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা ছিলেন কাইল মায়ার্স।
তবে এর আগের দুই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন ম্যান অব দা ম্যাচ। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ১৬ বলে ৩৪ ও ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে তিনি খেলেন ৪১ বলে ৫১ রানের ইনিংস। পরপর তিন ম্যাচে দলকে জেতানো ইনিংস খেলে তাই কোচের প্রশংসায় ভাসছেন ৪০ ছুঁইছুঁই ব্যাটার।
চট্টগ্রামের বিপক্ষে জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রংপুরের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।
“মাহমুদউল্লাহ এখন যে ব্যাটিং করছে, ওর গত ৩-৪ বছরের মধ্যে সেরা। ওর ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল হাতুরুসিংহের সময়, ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত। এখনও অসাধারণ সময় কাটাচ্ছে। আমাদের সৌভাগ্য তাকে পাওয়া।”
অথচ বিপিএল নিলামে শুরুতে নিজের ক্যাটাগরি থেকে দলই পাননি মাহমুদউল্লাহ। সব ক্যাটাগরির নিলাম শেষ হওয়ার পর পুনরায় নিলাম করা হলে তাকে ডেকে নেয় রংপুর। তবে আশরাফুল বললেন, শুরু থেকেই পরিকল্পনায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
আরও পড়ুন
| মোস্তাফিজ ‘বিন্দাস’ আছেন |
|
“আমরা যখন নিলামে বসেছিলাম, একজন ফিনিশার প্রয়োজন ছিল। মাহমুদউল্লাহর অভিষেক ২০০৭ সালে। তার পর থেকে আমরা সবাই জানি, এই ভূমিকাটা সে কতটা পালন করেছে। আমরা জানতাম যে, এই পজিশনে একজনকে দরকার ও মাহমুদউল্লাহর চেয়ে ভালো কেউ নেই।”
আগামী মাসে ৪০ হয়ে যাবে মাহমুদউল্লাহর বয়স। এই সময়ে এসে ফিটনেস ধরে রাখাও বেশ চ্যালেঞ্জিং যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য। তবে আশরাফুল জানালেন, সমান তালে ফিটনেস ও মানসিক কাজ করে চলেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
“মাহমুদউল্লাহ তো আমাদের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। বিশ্ব ক্রিকেটে সব মিলিয়ে যদি দেখেন, যারাই কিংবদন্তি ক্রিকেটার, বিশেষ করে যারা ব্যাটসম্যান, তাদের অল্প ব্যাটিং করলেই হয়। তারা মস্তিষ্কের কাজটাই বেশি করেন।”
“সে (মাহমুদউল্লাহ) এখন প্রচুর ফিটনেসের কাজ করে। এটা আসলে মূল ব্যাপার হওয়া উচিত। যারা ভালো ব্যাটসম্যান, তাদের বেশি বোলিং করা লাগে না, আমি মনে করি। কিন্তু সে প্রচুর ট্রেনিং করে এবং যে টুর্নামেন্ট খেলবে, সেটার জন্য ভালোমতো প্রস্তুতি নেয়। এখন নিয়মিত ফিটনেস নিয়ে কাজ করে, জিম করে এবং মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করে।”

আইপিএল নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে ভিড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে বিসিসিআইয়ের এক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পেসারকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর কেমন আছেন মোস্তাফিজ? এ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক!
মাঠের খেলা দেখে বোঝার উপায় নেই মোস্তাফিজের অবস্থা। কারণ, বিপিএলের ১২তম আসরে শীর্ষ বোলারদের রেসে তাঁর অবস্থান তৃতীয়। ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছেন ফিজ। রংপুরের শেষ তিন ম্যাচে জয়ে তাঁর অবদান অনিস্বীকার্য।
সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে সোমবার চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩২ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামকে ৫ উইকেটে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন রংপুরের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। মোস্তাফিজকে নিয়ে তিনি বলেছেন,
‘ও একদমই চিল মুডে আছে। ও এগুলো নিয়ে একদমই চিন্তিত না। এখন এখানে খেলছে রংপুর রাইডার্সের হয়ে, এটা নিয়েই ভাবছে কেবল। এটার পরে আবার যে অ্যাসাইনমেন্ট আসবে সেটা নিয়ে ভাববে। ডিফারেন্ট লেভেলের একজন মানুষ।’
পরপর তিন ম্যাচে জিতেছে রংপুর রাইডার্স। তিনটি ম্যাচেই অবদান রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের। তিন ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি পেসার।
আশরাফুল বলেছেন,
‘বিশেষ করে ঢাকার সাথে যেভাবে জিতেছি, সেটা অসাধারণ। মোস্তাফিজ শেষ দুই ওভারে বোলিং করেছে, সেটা অসাধারণ। মোস্তাফিজ এই ফরম্যাটের জন্য ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন। আমরা লাকি যে মোস্তাফিজকে ডিরেক্ট সাইনিং করতে পেরেছে। তাঁকে যে কারণে নেওয়া হয়েছিল সেরকরম পারফরম্যান্স আমরা পাচ্ছি।’
আইপিএলে মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাইরে অনেক ঘটনাই ঘটছে। এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই বলেও জানান আশরাফুল,
‘ও বিন্দাস আছে। তবে আমার কাছে মনে হয়, খারাপ লাগা থাকতেই পারে। কারণ যেটা ডিজার্ভ করে, আগেও আরও বেশি ডিজার্ভ করত। ওই জায়গা থেকে খারাপ লাগা থাকতে পারে, তবে আমার কাছে মনে হয় ও একদম ঠিক আছে।’

বুড়ো হাড়ের ভেল্কি ঠিকই দেখাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। ইংরেজি নববর্ষে শেষ বলে ১ রান নিতে না পারার আক্ষেপটা পর পর তিন ম্যাচে ভালই ঘুঁচিয়েছেন রংপুর রাইডার্সের এই লোয়ার অর্ডার। ২৪ ঘন্টা পর স্বাগতিক সিলেটের বিপক্ষে ১৬ বলে ম্যাচ উইনিং ৩৪, রোববার ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪১ বলে ম্যাচ উইনিং ৫১'র পর সোমবার রাতে ১৯ বলে ৩০ রানের হার না মানা ইনিংসে ফিনিশার মাহমুদউল্লাহ। শেষ পাওয়ার প্লে-তে তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৭ বল হাতে রেখে ১৭০ রান তাড়া করে ৫ উইকেটে জিতেছে রংপুর রাইডার্স।
দিনের প্রথম ম্যাচে যেখানে দুদলের রানের সমষ্টি ১২৩, হারিয়েছে ১৪ উইকেট। তবে উইকেটটা যে ব্যাটারদের জন্য বধ্যভূমি নয়, তা ওই দিন পরের ম্যাচেই জানিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস-রংপুর রাইডার্সের ব্যাটাররা।
শেষ পাওয়ার প্লে-তে চট্টগ্রাম ক্যাপিটালস ২ উইকেট হারিয়ে যোগ করেছে ৪৮। ম্যাচ জিততে সেখানে শেষ পাওয়ার প্লে'র ৩০ বলে রংপুর রাইডার্সের টার্গেট ৪৭। এমন একটা পরিস্থিতিতে শেষ ওভার থ্রিলারের সম্ভাবনা দেখেছে সিলেটের দর্শক। তবে শেষ ওভার থ্রিলার পর্যন্ত নিতে দেননি খুশদিল শাহ-মাহামুদউল্লাহ। ১৭তম ওভারে আমের জামালকে মাহামুদউল্লাহ'র ৩ চার, ১ ছক্কায় ২০ রান এবং শরিফুলকে মাহমুদউল্লাহর ২ চার, ১ছক্কায় পরের ওভারে ১৬ রান যোগ করায় শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচটা যায়নি। ১৭০ রান তাড়া করে ৫ উইকেটে জিতে পয়েন্ট তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে এলো রংপুর রাইডার্স (৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট)।
এই ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে এগিয়ে দিয়েছেন ক্যারিবিয়ান টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট কাইল মায়ার্স। ইনিংসের ৪র্থ ওভারে অফ স্পিনার শেখ মেহেদীকে ২চার, ১ ছক্কা মেরেছেন, পরের ওভারে আবু হায়দার রনিকে মেরেছেন এক চার, ৩ ছক্কা। যে ছক্কা তিনটির দুটি এক্সটা কভারের উপর দিয়ে, অন্যটি ডিপ মিড উইকেট দিয়ে। এই দুই ওভারে ৩৯ রানে জয়ের আবহ তৈরি হয়েছে রংপুর রাইডার্সের। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৭২/১ এ ম্যাচটা সহজ করেছে রংপুর রাইডার্স।
আমের জামালের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে কাইল মায়ার্স করেছেন ২০০.০০ স্ট্রাইক রেটে ২৫ বলে ৫ চার, ৪ ছক্কায় ৫০ রান। বিপিএলের চলমান আসরে এটাই তার প্রথম ফিফটি।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মায়ার্স-ডেভিড মালান যোগ করেছেন ১৯ বলে ৪৭ রান। শরিফুলের বলে ছক্কা মারতে যেয়ে কাউ কর্নারে ধরা পড়েছেন মালান (৩০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩০)। ১২ বলে ২২ এবং মাহামুদউল্লাহর সঙ্গে ২২ বলে ৪৭ রানের পার্টনারশিপে অবদান রেখে শরিফুলের শেষ স্পেলে খুশদিল শাহ লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ। বাকি দায়িত্বটা পালন করেছেন মাহামুদউল্লাহ ১৯ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩০ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দিয়ে।
এই ম্যাচে ম্লান হয়েছে অ্যাডাম রশিংটনের বাটিং। ৪ দিনে ৩ ম্যাচের তিনটিতেই করেছেন এই ইংলিশ ফিফটি। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৬০ রানের হার না মানা ইনিংস দিয়ে শুরু, সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৭৩ নট আউট, ২৪ ঘন্টা পর রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৫৮। বাঁ হাতি স্পিনার রাকিবুলের লো বাউন্সি ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে মেরেছেন ৪২ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৫৮। তৃতীয় উইকেট জুটিতে রশিংটন-হাসান নেওয়াজ যোগ করেছেন ৬১ বলে ৮২। মোস্তাফিজের সেকেন্ড স্পেলে (২-০-১৭-১) লং অনে থেমেছেন হাসান নেওয়াজ (৩৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৪৬)।
রংপুর রাইডার্সের দুই পেস বোলার মোস্তাফিজ (৪-০-৩২-২), আকিফ জাভেদ (৪-০-২৯-২) ২টি করে উইকেট পেয়েছেন। তবে দু'জনেই শেষ স্পেলে খেয়েছেন মার। ২ ওভারের শেষ স্পেলে ১ উইকেটের বিপরীতে মোস্তাফিজের খরচা ১৭, সেখানে ২ ওভারে ১ উইকেটের বিপরীতে আকিফ জাভেদের খরচা ২১।

চার ম্যাচে তিনটি করে জয়—নেট রান রেটে সামান্য এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শীর্ষে ছিল বন্দরনগরীর দল চট্টগ্রাম রয়্যালস। ফলে আজ রংপুর রাইডার্সের সামনে ছিল শীর্ষস্থান দখলের স্পষ্ট সুযোগ। সেই সুযোগ দুই হাতে লুফে নিয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৯ রান তোলে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ব্যাট করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে রংপুর রাইডার্স।
এই ম্যাচেও রংপুরের জয়ের নেপথ্যে মূল ভূমিকা রাখেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লোয়ার অর্ডারে নেমে ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। এর আগে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষেও দলের কঠিন সময়ে ব্যাট হাতে উদ্ধারকর্তা ছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল রংপুর রাইডার্স। এক ধাপ নেমে দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট। আর পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে বিপিএলে প্রথমবার অংশ নেওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস—এখনো কোনো ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়নি তারা।
ম্যাচের একপর্যায়ে রংপুরের জয় নিয়ে শঙ্কা জাগে। তখনই খুশদিল শাহকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। শেষদিকে খুশদিল ফিরলেও অপরাজিত থেকেই দলকে জয় বন্দরে পৌঁছে দেন রিয়াদ।
এর আগে ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৯ রানে লিটন দাসকে হারায় রংপুর। ডেভিড মালানকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা ভালোভাবেই সামাল দেন কাইল মায়ার্স। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ৫৯ রানের জুটি ভাঙে মায়ার্সের বিদায়ে। ২৫ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে ফেরেন ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটার।
এরপর দ্রুত ধাক্কা খায় রংপুর। ৮০ থেকে ১১৭—এই ৩৭ রানের ব্যবধানে মায়ার্স, তাওহীদ হৃদয় ও মালান—তিন নির্ভরযোগ্য ব্যাটারকে হারায় দলটি। তবে সেই চাপ সামলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন উইকেটকিপার ব্যাটার অ্যাডাম রসিংটন। ৪১ বলে খেলা তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। পাকিস্তানের ডানহাতি টপ অর্ডার ব্যাটার হাসান নাওয়াজ বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়েন। ৩৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে দলের স্কোর বড় করতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
রংপুরের হয়ে দুটি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। চলতি আসরে পাঁচ ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা এখন ৯। বিপিএলের সব আসর মিলিয়ে মোট উইকেট ১১৪টি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তাসকিন আহমেদের চেয়ে তাঁর উইকেট কম মাত্র পাঁচটি—ইঁদুর–বিড়াল দৌড় জমে উঠছে দুই পেসারের মধ্যে।