১০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২০ এম

১০ নভেম্বর ২০০০। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে সাজসাজ রব, সবার মাঝে উৎসবের আমেজ। ব্লেজার পরে সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে টস করতে নামলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়। নতুন অধ্যায় শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের। সোমবার পূর্ণ হলো সেই পথচলার ২৫ বছর।
নানান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ২৫ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। ২৬তম বছরের প্রথম দিনেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলবে তারা।
ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করে সবাইকে একরকম তাক লাগিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ১৪৫ রান করেছিলেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আর সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার খেলেছিলেন ৭১ রানের ইনিংস।
শুরুর ওই ব্যাটিংয়ের আনন্দ বেশি দিন টেকেনি। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসেই বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৯০ রানে। ইতিহাসের প্রথম ম্যাচের দুই ইনিংসে বিপরীতমুখী এই চিত্র লম্বা সময় ছিল বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন।
অর্থাৎ লম্বা একটা সময় টেস্ট ম্যাচের যে কোনো এক ইনিংসেই শুধু ভালো করত বাংলাদেশ। পুরো চার ইনিংসে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলার কৌশল রপ্ত করতেই বাংলাদেশের লেগে যায় অনেক সময়। যে কারণে প্রথম ৪ বছর ও ৩৪ ম্যাচে ছিল না কোনো জয়।
অবশেষে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে হওয়া নিজেদের ৩৫তম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানে হারিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে জয়ের অনির্বচনীয় স্বাদ পায় বাংলাদেশ। পরে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করে প্রথম সিরিজ জয়েরও স্বাদ পায় বাশারের নেতৃত্বাধীন দল।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে সিরিজের দুইটি টেস্টই জেতে বাংলাদেশ। যার সৌজন্যে পায় দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট ও সিরিজ জয়ের স্বাদ। তবে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের কারণে সেই সিরিজটি মূলত দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলেছিল ক্যারিবিয়ানরা।
২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে ও দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া আর কারও বিপক্ষে জয় ছিল না বাংলাদেশের। ওই বছরই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
২০১৭ সালে নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারায় তারা। পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পায় নিজেদের ইতিহাসের সেরা জয়। ২০২২ সালে নিউ জিল্যান্ডে গিয়ে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে আসে বাংলাদেশ। আর গত বছর পাকিস্তানকে তাদেরই মাঠে করে হোয়াইটওয়াশ।
গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বেশ উন্নতি করলেও সার্বিকভাবে এই ফরম্যাটে ভালো অবস্থায় নেই বাংলাদেশ। তাই তো প্রথম ২৫ বছরে খেলা ১৫৪ ম্যাচে জয় মাত্র ২৩টি। বিপরীতে তারা হেরেছে ১১২ ম্যাচ। অর্থাৎ গড়ে একটি জয়ের বিপরীতে পরাজয় ৫টি।
টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ২৫ বছরে জয়-পরাজয়ের অনুপাতে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে শুধু জিম্বাবুয়ে ও নিউ জিল্যান্ড। নিজেদের প্রথম ২৫ বছরে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। আর ১১ জয়ের বিপরীতে ৬৫ ম্যাচ হেরেছিল জিম্বাবুয়ে।
এক নজরে সব দলের প্রথম ২৫ বছরের ফলাফল
| দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | পরাজয় | জয়-পরাজয় অনুপাত |
| অস্ট্রেলিয়া | ৬১ | ২৪ | ১০ | ২৭ | ০.৮৮৮ |
| ইংল্যান্ড | ৬৯ | ৩৫ | ১০ | ২৪ | ১.৪৫৮ |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ৪০ | ৮ | ৫ | ২৭ | ০.২৯৬ |
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ৪৭ | ১৩ | ১৭ | ১৭ | ০.৭৬৪ |
| নিউ জিল্যান্ড | ৩১ | ০ | ১৮ | ১৩ | ০.০০০ |
| ভারত | ৫২ | ৫ | ২৮ | ১৯ | ০.২৬৩ |
| পাকিস্তান | ৮৭ | ১৫ | ৪৮ | ২৪ | ০.৬২৫ |
| শ্রীলঙ্কা | ১৬৭ | ৪৭ | ৫৭ | ৬৩ | ০.৭৪৬ |
| জিম্বাবুয়ে | ১০২ | ১১ | ২৬ | ৬৫ | ০.১৬৯ |
| বাংলাদেশ | ১৫৪ | ২৩ | ১৯ | ১১২ | ০.২০৫ |
No posts available.
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৭:০৮ পিএম
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম

বোলারদের নিষ্প্রভ দিনে লক্ষ্য দাঁড়াল ১৮৩ রানের। ঘরের মাঠে কখনও ছিল না এত বেশি রান তাড়া করে জয়। ব্যাট করতে নেমে ১০.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোর দাঁড়াল ৭৭ রান। বাকি ৫৯ বলে করতে হবে আরও ১০৬ রান।
অতীতের ব্যর্থতায় চোখ দিলে বাংলাদেশ দলের ওপর চাপ ছিল অনেক। কিন্তু সেই চাপ গায়ে মাখালেন না তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন। তিন জনের চমৎকার ব্যাটিংয়ে ২ ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে গেল বাংলাদেশ।
ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের দিনে নায়ক হৃদয়। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৭ বলে তিনি খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। এছাড়া ৩ চার ও ২ ছক্কায় মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করেন শামীম। আর ইমনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ২৮ রান।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে চাপের মুখে দারুণ ব্যাটিংয়ে এই জয়ের পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন হৃদয়। সংবাদ সম্মেলনের পুরোটাই নিচে তুলে ধরা হলোঃ
পাওয়ার প্লে ভালো হয়নি। এরপর মিডল অর্ডারে আপনাদের পরিকল্পনা কী ছিল?
হৃদয়: মিডল অর্ডারে অনেক বড় টার্গেট ছিল। এটা খেলারই অংশ। একদিন পাওয়ার প্লে ভালো হবে, একদিন মিডল অর্ডার খারাপ হবে- এমনই। যেদিন পাওয়ারপ্লে ভালো হবে না, সেদিন মিডল অর্ডারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আবার যেদিন পাওয়ার প্লে ভালো করে, সেদিনও দায়িত্ব থাকে। আর এটা যেহেতু একটা দলীয় খেলা, রেগুলার সবাই ভালো করে না- এটাই খুব স্বাভাবিক। তারপরও আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।
লিটনের পর আপনি যখন নামলেন, তখন আপনার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী ছিল?
হৃদয়: আমি লিটন ভাই আউট হওয়ার পরে নামছি। আসলে পরিকল্পনা যেটা- টিম কী ডিমান্ড করছিল ওই পরিস্থিতিতে... রান দরকার ছিল, রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল যে আমি আক্রমণ করব। কারণ ওখানে যদি আক্রমণ না করতে পারি, তাহলে হয়তো কঠিন হয়ে যেত টিমের জন্য। আমি শুধু চেষ্টা করেছি যতটুকু অ্যাটাক করা যায়।
এক পাশ দিয়ে বাতাস ছিল, সেই দিকেই বেশি বাউন্ডারি হচ্ছিল- এটা কি পরিকল্পিত ছিল?
হৃদয়: না, এই সাইডেও তো (ছক্কা) হয়েছে। বাতাস এরকম আসলে কোনো কিছু ছিল না মাথায়। চেষ্টা করেছি দল কী চাহিদা করছে, পরিস্থিতি কী চায়, সেভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য।
একটা সময় ম্যাচটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। শেষ ১০ ওভারের রান চেজ নিয়ে কি আপনারা আলাদা কোনো পরিকল্পনা করেছিলেন?
হৃদয়: যেটা আগেও বললাম, টি-টোয়েন্টি খেলাটাই এমন। এক-দুই ওভার ভালো হবে, তখন দেখা যায় যে খেলাটা প্রতিপক্ষের হাতে চলে যায়। দুই ওভারের খেলা, দুই ওভার যদি ভালো ব্যাটিং করি, ভালো বোলিং করি, দুই-তিনটা উইকেট নিই; সবসময় টি-টুয়েন্টি খেলা একদিক-ওদিক যায়।
আমি সেটাই চেষ্টা করেছি যে ওই সময়টা যতটুকু অ্যাটাকিং ক্রিকেট খেলা যায়। ওই সময় মনে হয় আক্রমণাত্মক পথটাই সবচেয়ে বেস্ট অপশন ছিল দলকে জেতানোর জন্য।
শেষ ১০ ওভারে ১০৬ রান, যেটা আপনারা ৮ ওভারেই তুললেন। এত বড় চেজে আপনাদের মধ্যে প্যানিক দেখা যায়নি। এর পেছনে রহস্য কী?
হৃদয়: আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এই জায়গায় যে ক্রিকেটাররা আছে তারা সবাই অনেক অভিজ্ঞ। প্রত্যেকটা প্লেয়ার প্রায় ত্রিশটি করে ম্যাচ খেলেছে। তো এরকম ম্যাচ যদি আমরা না জেতাতে পারি, তাহলে তো এটা আমাদের জন্য একটা ভালো ব্যাপার না।
একজন ব্যাটার হিসেবে এসব দায়িত্ব নিতে হবে। নিয়মিত টপ অর্ডার থেকে ভালো হবে না। এমনও ম্যাচ হতে পারে মিডল অর্ডারও ভালো হবে না, তবে লোয়ার অর্ডার থেকে ম্যাচটা জেতায় দিতে হবে। আমরা শুধু চেষ্টা করেছি যে এই জিনিসগুলো যতটুকু দ্রুত ডেভেলপ করা যায় নিজেদের ভেতর।
গত বছর আপনি দারুণ স্ট্রাইক রেটে খেলেছেন, অনেক ছক্কাও মেরেছেন। এবার কি আরও উন্নতির ইঙ্গিত দিলেন?
হৃদয়: দেখেন, ভালোর তো শেষ নেই। সবাই সবার জায়গা থেকে যতটুকু ভালো করা যায়, চেষ্টা করে। তো আমরাও চেষ্টা করেছি। টিমটা অনেকদিন আমরা সবাই একসঙ্গে খেলছি, বোঝাপড়া অনেক ভালো আছে প্রত্যেকটা প্লেয়ারের।
আমার কাছে আজকে যেটা পজিটিভ মনে হয়েছে, আমরা চাপটা নিইনি। বা আমাদের কাছে প্রেশারটা বাইরে থেকেও বুঝতে পারিনি যে আমরা প্রেশারে আছি। তো এরকম ম্যাচ আমরা যত জেতাতে পারব, তত টিমের জন্য ভালো। ক্রিকেটার হিসেবে অনেক আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।
চার নম্বর পজিশনে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে ওয়ানডেতে নিচের দিকে নেমে খেলতে হয়েছে। ওয়ানডেতেও নিয়মিত চার নম্বরে খেললে কি আরেকটু বেশি উপভোগ করতেন?
হৃদয়: চার নম্বরে আমি খেলেছি ২০২৩ সালে। যদি খেয়াল করে দেখেন আমি কেমন করেছি... এটা আমি বলতে চাচ্ছি না, এটা হয়তোবা দেখলেই বুঝবেন। তবে খেলার তো ইচ্ছা থাকেই। আসলে সবসময় ইচ্ছা তো পূরণ হয় না, কারণ দলটা তো আমার নিজের না, দলীয় খেলা।
অবশ্যই আমি (চারে খেলতে) পছন্দ করি। কারণ অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে শুরু করে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই পজিশনে খেলেছি। তবে এখন দলের কম্বিনেশনের কারণে খেলতে পারছি না। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাকে যদি বলে সাত-আট-নয়ে ব্যাটিং করো- আমি করবো। আমার জাতীয় দলে সাত পর্যন্ত খেলার অভিজ্ঞতা আছে, শুধু ওপেন ছাড়া। আশা করি একদিন ওপেনেও ব্যাটিং করব, ইনশাআল্লাহ।

ইমন ও শামীমের ইনিংস... বিশেষ করে তাদের ইমপ্যাক্ট আপনি কীভাবে দেখছেন?
হৃদয়: দেখেন, একটা জিনিস ক্লিয়ার করতে চাই, পাঁচ-ছয় নম্বর আসলে এমন পজিশন, যেখানে ফিফটি হঠাৎ এক-দুই দিন হবে। যেদিন ওই পজিশন থেকে কেউ ফিফটি করবে, বুঝতে হবে দল ব্যাকফুটে ছিল। কারণ শুরুতেই তিন-চারটা উইকেট পড়ে গেছে।
ওই জায়গায় ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস... যেমন শামীম আজকে যেটা করেছে, আমার মনে হয় এটা ফিফটির থেকেও বড় ইনিংস। শামীম আর ইমন যেটা করেছে, এতে ম্যাচটা জেতা সহজ হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ১০ রানও ইমপ্যাক্টফুল হতে পারে- আজকে ওরা সেটা করেছে।
আপনি প্রায়ই বড় পার্টনারশিপে থাকেন। ইমনের সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে পার্টনারশিপের গুরুত্ব কতটা দেখেন?
হৃদয়: মিডল অর্ডারে খেলাটা এমন, আপনাকে মারতে হবে, আবার ইনিংস গড়তেও হবে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ইমন যে সময়টা অ্যাটাক করেছে, সেটা আমার জন্য সহজ করেছে। তখন মনে হয়েছে খেলাটা আমাদের হাতে চলে এসেছে, তাই এতটা ঝুঁকি না নিলেও হবে। অবশ্যই ইমন আর শামীম- দুজনকেই ক্রেডিট দিতে হয়, ওরা খুব ভালো ফিনিশ করেছে।
শামীমের শেষ দিকের ছক্কা, বিশেষ করে পেছন দিকে মারা শটটা কেমন লেগেছে?
হৃদয়: আমি তো অনেক উপভোগ করি ওর (শামীম) ব্যাটিং সত্যি কথা বলতে। এমন এমন শটস ও খেলে যেটা আমাদের খুব কম ব্যাটারই খেলতে পারে। ছয় নম্বরে পজিশনে এরকম ব্যাটারই দরকার যে সব দিকেই যেকোনো সময় মেরে দিতে পারবে।
বোলাররা অনেক চাপে থাকে এরকম শটস খেললে। যেমন যে ছয়টা ও মেরেছে, আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন, এরকম ছয় আমরা খুব কমই মারতে পারি। তো অবশ্যই দোয়া করি যেন ধারাবাহিকভাবে আরও ভালো কিছু করে ইনশাআল্লাহ।
লিটনের আউটের পর আপনারা হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন- এটাই কি টার্নিং পয়েন্ট?
হৃদয়: কথায় আছে, অ্যাটাক ইজ দা বেস্ট ডিফেন্স। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশি রক্ষণাত্মক হলে চলে না। ইমন খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ক্লিয়ার মাইন্ডে খেলেছে। আমি কিছু ইনফরমেশন দিয়েছি, কিন্তু এক্সিকিউশনটা ওরই দারুণ ছিল।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ডাক না পাওয়াটা কি আপনার ব্যাটিং স্টাইল বদলানোর চিন্তা তৈরি করেছে?
হৃদয়: না, যেটা আমার হাতে নেই সেটা নিয়ে চিন্তা করি না। আমি প্রসেসে ফোকাস করি, প্র্যাকটিস ও পরিশ্রম করি। বাকিটা রিজিক। ইনশাআল্লাহ ভালো করলে সুযোগ আসবে। বিভিন্ন আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশ দল ভালো করলে আরও বেশি খেলোয়াড় সুযোগ পাবে।
আগে ৭-৮ রানরেটেই চাপ দেখা যেত, এখন ৯-১০ রানরেটেও আপনারা স্বচ্ছন্দ। মাইন্ডসেট কতটা বদলেছে?
হৃদয়: মাইন্ডসেট সবসময় জেতার জন্যই থাকে। কোনোদিন হয়, কোনোদিন হয় না- এটাই খেলা। তবে আমরা দিন দিন উন্নতি করছি। আশা করি সামনে আরও ভালো হবে।
ব্যাটসম্যানরা তো ভালো করেছে বোলাররাও কামব্যাক করেছে। ঐ কামব্যাকে আপনি কার কৃতিত্ব দেবেন?
হৃদয়: আমি সবাইকেই ক্রেডিট দিতে চাই কারণ সবাই ভালো বল করেছে। রিপন স্পেশালি ওর ডেব্যু ম্যাচ ওর লাস্ট ওভারটাও ও অনেক ভালো বল করেছে, কন্ট্রোল ছিল ওর বোলিংয়ে। সব বোলারকেই ক্রেডিট দিতে চাই কারণ সবাই অনেক ক্লিয়ার মাইন্ড ছিল।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) আগামী মৌসুমের দিনক্ষণ চূড়ান্ত। বিসিবি জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ মে থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৫-২৬ ডিপিএল। বড় সিদ্ধান্ত—এবার থাকছে না সুপার লিগ পর্ব।
ছয়টি ভেন্যুতে ৩৯ দিনের লড়াই শেষে ডিপিএল শেষ হবে ১১ জুন। জানা গেছে, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি, বিকেএসপি ৩ ও ৪, পুবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (পিকেএসপি), পূর্বাচল ক্রিকেটার্স একাডেমি ও ইউ ল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হবে ম্যাচগুলো।
পূর্ণাঙ্গ সূচি বা কোন দিন কোন মাঠে খেলা হবে, তা খুব দ্রুতই জানাবে বিসিবি। লিগে বড় ধরনের পরিবর্তন—বিগত বছরগুলোতে লিগ পর্ব শেষে সেরা দলগুলো নিয়ে সুপার লিগ হলেও এবার সেই নিয়ম থাকছে না। একটি মাত্র লিগ পর্বের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে লিগের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল।
চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে সুপার লিগ না থাকলেও অবনমন পর্ব থাকছেই। লিগের নিয়মানুযায়ী নিচের সারির দলগুলো নিয়ে হবে এই পর্ব, যেখান থেকে নির্ধারিত হবে কোন দলগুলো প্রথম বিভাগে নেমে যাবে।
সব মিলিয়ে ডিপিএলে এবার ৬৯টি ম্যাচ হবে। এর মধ্যে মূল লিগ পর্বে হবে ৬৬টি ম্যাচ এবং রেলিগেশন লিগে হবে ৩টি ম্যাচ। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম লিগের দলবদলও এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

গত বছর টি-টোয়েন্টি সংস্করণটা দারুনভাবে কাটানোর পর এই সংস্করণের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে ভাল কিছুর সম্ভাবনা দেখেছে সবাই। তবে মোস্তাফিজ ইস্যুকে সামনে এনে অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং বিসিবির যৌথ সিদ্ধান্তে ভারতে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ ছিল লিটনদের। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখলো বিশ্ব সোমবার। সাগরিকায় বঙ্গোপসাগরের উত্তাল স্রোতে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রানার্স আপ নিউ জিল্যান্ডকে ডুবিয়ে মারলো বাংলাদেশ। ১৮৩ রান তাড়া করে ১২ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেটের ব্যবধানে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। অবশ্য ৫ বছর আগে মিরপুরে একই ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড আছে। তবে সেই ম্যাচে ৯৪ রান তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছে ৫ বল হাতে রেখে।
কীভাবে বাংলাদেশ এতো সহজে জিতলো ? ম্যাচ পর্যালোচনায় উঠে আসবে ডট বলের সংখ্যা। যেখানে নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসে ৩৭টি ডট এর বিপরীতে বাংলাদেশের ইনিংসে ডট বল ৩৪টি। নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসে ছক্কার সমষ্টি যেখানে ৪টি, সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ছক্কার যোগফল ৯টি!
১৮৩ রান তাড়া করতে যেয়ে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে স্কোর ৪৪/১। ইনিংসের শেষ পাওয়ার প্লে-তে বড় চাপে পড়ে যাওয়ারই কথা। তবে ইনিংসের মাঝের ৯ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯১ রান বাংলাদেশ দলের শেষ পাওয়ার প্লে'র কাজটা সহজ করে দিয়েছে। শেষ ৩০ বলে ৪৮ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে শেষ ওভার থ্রিলার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি।
বাংলাদেশের ইনিংসের ১৬ এবং ১৭ নম্বর ওভারটি বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটু বেশিই টি-টোয়েন্টি উত্তাপ দিয়েছে। এই দুই ওভারে রান উঠেছে ৪৩! ১৬ নম্বর ওভারের ৪র্থ বলে ন্যাথান স্মিথের বাউন্সারের জবাবে শামীম পাটোয়ারি উইকেট কিপারের মাথার উপর দিয়ে অদ্ভুত শটে ছক্কা মেরেছেন। ওই ওভারের শেষ বলে হৃদয় মেরেছেন স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা! ১৭তম ওভারে একটি বৈধ বল করতে ৪টি ডেলিভারি দিতে হয়েছে ফিশারকে! যার মধ্যে ২টি নো পরিনত বাউন্ডারিতে, একটি ওয়াইড, বোনাস ডেলিভারিতে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা! ২৫ রানের খরুচে ওভারে এক বলে ১৭ রান দিয়েছেন ফিশার! ফলে ম্যাচের সব উত্তাপ গেছে থেমে। শেষ ১৮ বলে ৫ রানের টার্গেট ১২ বল হাতে রেখে পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের মাটিতেও যে টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ উইকেট তৈরি করা যায়, ব্যাটাররা বড় শটে দর্শক মাতাতে পারেন, তা জানিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রামে লিটনের দল। পেসারদের কল্যানে টানা ৩টি ওডিআই সিরিজ জয়ে ব্যাটারদের ব্যাটিং নিয়ে ছিল আক্ষেপ। সোমবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাওহিদ হৃদয় (২৭ বলে ২ চার, ৩ ছক্কায় ৫১*)-শামীম পাটোয়ারি (১৩ বলে ৩ চার, ২ ছক্কায় ৩১*), পারভেজ ইমনের (১৪ বলে ১ চার, ২ ছক্কায় ২৮) ব্যাটিং ছিল সত্যিই উপভোগ্য।
চট্টগ্রামে গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৮৩ রানের হার না মানা ইনিংসের পর এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন হৃদয়। শুধু তা-ই নয়, ৪র্থ উইকেট জুটিতে পারভেজ ইমনকে নিয়ে ২৮ বলে ৫৭ এবং শামীম পাটোয়ারিকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৫ম উইকেট জুটিতে ২১ বলে ৪৯ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন হৃদয়।
টি-টোয়েন্টিতে সবার ব্যাট একসঙ্গে জ্বলে না উঠলেও চলে। তাই টপ অর্ডারদের অনুজ্জ্বল ব্যাটিংয়ের পরও বড় জয়ে হেসেছে বাংলাদেশ। তবে ওপেনার সাইফ হাসান (১৬ বলে ১৭) এবং তানজিদ হাসান তামিমের ( ২৫ বলে ২০) ব্যাটিংকে টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ বলার উপায় নেই।
এই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট স্পিনার ইস সোধির সঙ্গে পাল্লায় জিতেছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ। দু'জনেরই প্রথম স্পেল ৩ ওভারের। রিশাদের প্রথম স্পেলটি ৩-০-২২-২, ইস সোধির সেখানে ৩-০-৩৪-২। আতঙ্ক ছড়ানো দ্বিতীয় উইকেট জুটি (৫০ বলে ৬৮) বিচ্ছিন্ন করেছেন রিশাদ। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ক্লিয়েভারকে (২৮ বলে ৭ চার, ১ ছক্কায় ৫১) এলবিডাব্লুতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তৃতীয় ওভারে থামিয়েছেন টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটির মুখ দেখা ক্যাটিনে ক্লার্ককে (৩৭ বলে ৭ চার, ১ ছক্কায় ৫১)। দ্বিতীয় স্পেলে (১-০-৬-১) রিদম পাওয়া পেসার তানজিম হাসান সাকিব শিকার করেছেন জ্যাকবসকে। বাঁ হাতি পেসার শরীফুল শেষ স্পেলে (১-০-৫-১) নিক কেলিকে (২৭ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৩৯) ফাইন লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। দিনের সেরা ডেলিভারি দিয়েছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদী। তিনি সফল শেষ স্পেলে (১-০-৩-১)। ফক্সক্রফটকে বিজ্জনক হতে দেননি (২ বলে ১ রান), স্লোয়ার ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন তিনি।
আড়াই বছর আগে চিনের হানঝুতে এশিয়ান গেমসের দলে ছিলেন, খেলেছেন পেস বোলার রিপন মণ্ডল। তবে নিজেকে চিনিয়েছেন রিপন মণ্ডল এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স-এ। গত বছরের নভেম্বরে দোহায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে সর্বাধিক উইকেট শিকার করেছেন রিপন মণ্ডল। ডেথ ওভারে ভয়ংকর বোলিংয়ে ইয়র্কারের ছড়াছড়িতে নিজেকে অন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন। এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল, ফাইনাল ম্যাচ সুপার ওভারে টেনে নেয়ার নায়ক রিপন মণ্ডল বিপিএলেও নিজেকে ভালই মেলে ধরেছিলেন। এই ধারাবাহিক বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন। এই প্রথম দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে খেলার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। সৌভাগ্যের দিনটিতে শেষ ওভারে দুটি ইয়র্কার ডেলিভারিতে ঠিকই চিনিয়েছেন রিপন মণ্ডল। তবে এমন একটি প্রত্যাবর্তন ম্যাচে হতভাগ্য রিপন। ইনিংসের এবং নিজের শেষ ওভারে স্লোয়ার ডেলিভারিতে স্মিথকে শিকারের কৌশল ছিল তাঁর। স্মিথ মিড অফে দিয়েছিলেন ক্যাচ। তবে রিশাদের হাত থেকে বলটা ফসকে যাওয়ায় উইকেটহীন (৪-০-৩৯-০) কেটেছে রিপন মণ্ডলের।
তাসকিন-মোস্তাফিজ-নাহিদ রানা, সময়ের তিন সেরা পেসার ছাড়াও যে ব্যাক পেস অ্যাটাকে রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি কম নয়, শরীফুল- তানজিম হাসান সাকিব -রিপন মণ্ডলের বোলিং সে বার্তাই দিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকে।

মিডল স্টাম্পের ওপর বাউন্সার করলেন নাথান স্মিথ। কিছুটা নুয়ে বলের লাইনে স্কুপ করে দিলেন শামীম হোসেন। শট খেলে পেছনে তাকানোরও প্রয়োজন মনে করলেন না বাঁহাতি ব্যাটার। ব্যাটে লাগা মাত্রই যেন বুঝে গেলেন, বলের ঠিকানা হবে সীমানার ওপারে। হলোও তাই। ছক্কা পেল বাংলাদেশ।
উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে ‘নো লুক’ ছক্কার পাশাপাশি উইকেটের চারপাশে বাহারি শট খেলে বাংলদেশের জয়ে বড় অবদান রাখেন শামীম। ম্যাচ শেষে বাঁহাতি ব্যাটারের এই ‘৩৬০ ডিগ্রি’ ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেন নিউ জিল্যান্ডের ড্যান ক্লেভার।
চট্টগ্রামে সোমবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের করা ১৮২ রান টপকে জিতেছে বাংলাদেশ। যা ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। শেষ দশ ওভারে ১০৬ রানের সমীকরণ মাত্র ৮ ওভারেই মিলিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম।
ছয় নম্বরে নেমে ৩ চার ও ২ ছক্কা মেরে ১৩ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন শামীম। হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ৫১ রান। আর ঝড় তুলে ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হন ইমন। তিন জনের ব্যাটেই ২ ওভার বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।
৭৭ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়ে প্রথম প্রতিরোধটা গড়েন হৃদয় ও ইমন। পরে অবিছিন্ন পঞ্চম উইকেট উইকেট জুটিতে ২১ বলে ৪৯ রান যোগ করে ম্যাচে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন শামীম ও হৃদয়।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শামীম ও হৃদয়ের শেষের জুটির প্রশংসায় ভাসান ২৮ বলে ৫১ রান করা কিউই ব্যাটার ড্যান ক্লেভার।
“শেষের দিকে ওই দুই ব্যাটার (হৃদয় ও শামীম) দারুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তারা ৩৬০ ডিগ্রিতে খেলতে পেরেছে, বলের গতি ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। আর যখন দরকার হয়েছে তখন ছক্কাও মেরেছে।”
“আমার মতে, সেখানে বেশ মানসম্মত ব্যাটিং হয়েছে। বোলিংয়ের দিক থেকে আমাদের এখানে অনেক কিছু শেখার আছে। যা পরের ম্যাচে কাজে লাগাতে চাই। আমরা বিষয়গুলো নিয়ে ভাবব, বিশ্লেষণ করব এবং আশা করি পরের ম্যাচে আরও ভালো বোলিং করতে পারব।”
শামীমের ওই ‘নো লুক’ ছক্কার সময় নন স্ট্রাইক প্রান্তে ছিলেন হৃদয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও শামীমের ব্যাটিং নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
“আমি তো অনেক উপভোগ করি ওর (শামীম) ব্যাটিং সত্যি কথা বলতে। এমন এমন শটস ও খেলে যেটা আমাদের খুব কম ব্যাটারই খেলতে পারে। ছয় নম্বরে পজিশনে এরকম ব্যাটারই দরকার যে সব দিকেই যেকোনো সময় মেরে দিতে পারবে।”
“বোলাররা অনেক চাপে থাকে এরকম শটস খেললে। যেমন যে ছয়টা ও মেরেছে, আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন, এরকম ছয় আমরা খুব কমই মারতে পারি। তো অবশ্যই দোয়া করি যেন ধারাবাহিকভাবে আরও ভালো কিছু করে ইনশাআল্লাহ।”

বড়
লক্ষ্যে টপ-অর্ডারের ব্যর্থতায় চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ক্রিজে গিয়েই পাল্টা
আক্রমণ শুরু করলেন তাওহিদ হৃদয়। সঙ্গী হিসেবে পেলেন পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেনকে।
তিন জনের ঝড়ে রেকর্ড গড়া জয় পেল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. স্টেডিয়ামে সোমবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডকে
৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে কিউইরা। জবাবে ১২
বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় লিটন কুমার দাসের দল।
ঘরের
মাঠে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে
১৭১ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা। সেটিই ছিল এত দিনের রেকর্ড। আর সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ
২১৫ রান তাড়া করে জয়ের নজির আছে তাদের।
দলের
জয়ে বড় অবদান রেখেছেন হৃদয়। মাত্র ২৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস
খেলেছেন তিনি। এছাড়া শামীম ১৩ বলে ৩১ ও ইমন খেলেন ১৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস। তিন জনের
ঝড়ে শেষ ৪৭ বলে ১০৬ রান করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
রান
তাড়ায় শুরুতে দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। পাওয়ার প্লের
শেষ ওভারে নাথান স্মিথের বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। প্রথম ৬ ওভারে
আসে মাত্র ৪৪ রান।
তিন
নম্বরে নেমে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন লিটন কুমার দাস। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
ইশ সোধির বলে বোল্ড হয়ে তিনি ফেরেন ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২১ রান করে।
বাঁহাতি
ওপেনার তামিম শুরু থেকেই ধুঁকছিলেন। যার বলে বাড়ছিল রানের চাপ। ১১তম ওভারে সোধির প্রথম
বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ওয়াইড লং অফে ধরা পড়েন তামিম। ২০ রান করতে তিনি খেলেন ২৫ বল।
তখনও ৫৯ বলে প্রয়োজন ছিল ১০৬ রান।
তামিমের
বিদায় বাংলাদেশের জন্য শাপেবর হয়ে ওঠে। কারণ পঞ্চম উইকেট জুটিতে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে
পাল্টা আক্রমণ করেন তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে মাত্র ২৮ বলে গড়ে তোলেন
৫৭ রানের জুটি।
১৫তম
ওভারে জশ ক্লার্কসনের স্লোয়ারে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দেন ইমন। ১ চারের সঙ্গে
২ ছক্কায় ১৪ বলে ২৮ রান করেন ৫ নম্বরে নামা ব্যাটার। বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে
বাকি থাকে ৪৮ রান।
সেখান
থেকে একই গতিতে দলকে এগিয়ে নেন হৃদয় ও শামীম হোসেন। ১৭তম ওভারে ম্যাট ফিশারের ২টি নো
বলে বাউন্ডারিসহ মোট ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৫ রান নিয়ে নেন শামীম। ফলে হাতের মুঠোয় চলে
আসে ম্যাচ।
পরের
ওভারে সহজেই বাকি থাকা ৫ রান করে ফেলেন দুই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ২ চার ও ৩ ছক্কায়
২৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। শামীমের ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৩ বলে
৩১ রান। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ২১ বলে ৪৯ রান।
নিউ
জিল্যান্ডের পক্ষে ৪০ রানে ২ উইকেট নেন সোধি। অভিষিক্ত ম্যাট ফিশার ৪ ওভারে দেন ৫৩
রান।
এর
আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউ জিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারে তাওহিদ
হৃদয়ের চমৎকার সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে যান টিম রবিনসন (১ বলে ০)।
শুরুর
ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণ করেন কাটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। দুজন মিলে পাওয়ার
প্লেতে তোলেন ৬১ রান। পরেও ওভারপ্রতি ১০ রান করে নিতে থাকেন তারা দুজন।
ইতিবাচক
ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৭ বলে ফিফটি করেন ক্লেভার। দশম ওভারে ক্লেভারকে বোল্ড করে ৫০ বলে
৮৮ রানের জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ বলে ৫১ রান করে ফেরেন ক্লেভার।
সেখান
থেকে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ৯.৩ ওভারে ১ উইকেটে ৯৯ থেকে ১৫ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ
দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৩০ রান। অর্থাৎ ৩৩ বলে ৩১ রান করতে ৪ উইকেট হারায় তারা।
১১তম
ওভারে নিজের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন ক্লার্ক। তবে পরের ওভারেই তাকে থামিয়ে দেন রিশাদ।
৭ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫১ রান করেন কিউই ওপেনার।
বেশিক্ষণ
টিকতে পারেননি বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। ২ বলে ১ রান করে তানজিম হাসান সাকিবের
বলে আউট হন জ্যাকবস। ৩ রান করতে ৭ বলে শেখ মেহেদি হাসানের বলে বোল্ড হন ফক্সক্রফট।
দ্রুত
কয়েকটি উইকেট হারানোর পর পাল্টা আক্রমণ করেন টম ল্যাথামের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব
দেওয়া নিক কেলি। রিশাদের বলে জোড়া চারের পর রিপন মন্ডলের বলে চার-ছক্কা মেরে ১৭ ওভারে
দলের দেড়শ পূর্ণ করেন বাঁহাতি ব্যাটার।
অবশ্য
১৬তম ওভারে ফিরতে পারতেন কেলি। রিশাদের প্রথম বলে তার বিরুদ্ধে জোরালো আবেদনে সাড়া
দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিলে দেখা যায়, বল লাগত লেগ স্টাম্পের ওপরের অংশে। অর্থাৎ আম্পায়ার
আউট দিলে ১৯ রানে ফিরতে হতো কেলির।
পরে
ফ্লাডলাইট বিভ্রাটে ১৭তম ওভারের মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ফলে প্রায় ১৪ মিনিট বন্ধ
থাকে খেলা।
পুনরায়
খেলা শুরু হলে বাকি থাকা ২১ বলে ৩১ রান করে নিউ জিল্যান্ড। শরিফুল ইসলামের বলে আউট
হন ২৭ বলে ৩৯ রান করা কেলি। শেষ দিকে ঝড় তোলা জশ ক্লার্কসন খেলেন ১৪ বলে ২৭ রানের ইনিংস।
বাংলাদেশের
পক্ষে ৩২ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ। এছাড়া মেহেদি, সাকিব ও শরিফুল নেন ১টি করে উইকেট।
৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন রিপন মন্ডল।