
সাঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান ও অভিষেক শর্মার তাণ্ডবে আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি পেল ভারত। এরপর যা একটু লড়াই করলেন টিম সেইফার্ট। তাকে থামিয়ে ম্যাচ আর জমতেই দিল না স্বাগতিকরা। নিউ জিল্যান্ডকে অল্পেই গুঁড়িয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারায় ভারত। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান করে ভারত। জবাবে ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে পরপর দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এছাড়াও ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দলও হয়ে গেল তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের এটি তৃতীয় শিরোপা। এর আগে ২০০৭ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই সংস্করণের বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ শিরোপার রেকর্ড। এর বাইরে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আছে ২টি করে বিশ্বকাপ ট্রফি।
এ নিয়ে দুটি ফাইনালে হারল ভারত। এর আগে ২০২১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল তারা।
ইতিহাস গড়া শিরোপাটি রেকর্ড গড়েই জিতেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে এটি ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। চলতি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বে তারা নামিবিয়াকে হারিয়েছিল ৯৩ রানে।
বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পরাজয় এটি। গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের কাছে তারা হেরেছিল ৮৪ রানে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের এটিই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। আগের রেকর্ডও ছিল ভারতের। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭৬ রান করেছিল তারা। সেদিন ৭ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
এ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সাতবার আড়াইশর বেশি রান করল ভারত। পাঁচবারের বেশি নেই আর কোনো দলের। এছাড়া এক টুর্নামেন্টে তিনবার আড়াইশ করা দ্বিতীয় দল ভারত। ২০২৪ সালের আইপিএলে তিনবার আড়াইশ করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
সাতবারের মধ্যে শুধু ২০২৬ সালেই চারবার আড়াইশর বেশি রান করেছে ভারত। যে কোনো দলের জন্য এক পঞ্জিকাবর্ষে এটিই সর্বোচ্চ।
শুধু সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরই নয়, ফাইনাল ম্যাচে বিশ্ব রেকর্ডের ছড়াছড়ি করেছে ভারত। যার বড় কারিগর ওপরের সারির তিন ব্যাটার অভিষেক, স্যামসন ও ইশান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভার রয়েসয়ে খেলেন অভিষেক ও স্যামসন। তৃতীয় ওভার থেকে শুরু হয় তাণ্ডব। তৃতীয় ও চতুর্থ ওভার মিলিয়ে তারা নেন ৩৯ রান। ৪ ওভারে পূর্ণ হয়ে যায় ভারতের পঞ্চাশ রান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে এর চেয়ে দ্রুত দলীয় পঞ্চাশের রেকর্ড নেই আর কোনো দলের।
পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারেও থামাথামির কোনো নাম নেই। একই গতিতে এগিয়ে ওই দুই ওভার থেকে আরও ৪১ রান নেন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান করে ফেলে ভারত। বিশ্বকাপের পাওয়ার প্লেতে এটিই সর্বোচ্চ স্কোর।
আগের ম্যাচগুলোতে অফফর্মে থাকা অভিষেক এদিন মাত্র ১৮ বলে করেন ফিফটি। বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে এটিই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল চলতি বিশ্বকাপেই ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেলের (১৯ বলে)।
অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলে ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রাচিন রবীন্দ্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের দুই ওপেনার কামরান আকমল ও শাহজাইব হাসানের ৪৮ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
শুরুতে তাণ্ডব চালিয়ে ৬ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কা মেরে ২১ বলে ৫২ রান করেন অভিষেক।
এরপর তিন নম্বরে নেমে অভিষেকের দেখানো পথেই এগোতে থাকেন ইশান। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা স্যামসন এদিনও পেয়ে যান পঞ্চাশের দেখা।
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করা বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার স্যামসন। আগের দুজন শহিদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলি (২০১৪)।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৭.২ ওভারেই ১০০ করে ফেলে ভারত। বিশ্বকাপের নক আউটে এটিই দ্রুততম দলীয় ১০০ রানের রেকর্ড। চলতি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭.৫ ওভারে ১০০ রান করে রেকর্ডটি ছিল নিউ জিল্যান্ডের।
দুই ওপেনারের ঝড় থামতে না দিয়ে উল্টো আরও তাণ্ডব চালিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কায় ২৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন ইশান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের প্রথম তিন ব্যাটার পেল ফিফটির স্বাদ।
স্যামসনের সঙ্গে ইশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারেই দুইশ করে ফেলে ভারত। মনে হচ্ছিল ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার করা ২৬০ রানের রেকর্ড হয়তো ভেঙে ফেলবে তারা। কিন্তু ১৬তম ওভারে স্যামসন, ইশান ও সূর্যকুমারকে আউট করে দেন জিমি নিশাম।
৫ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে ৪৬ বলে ৮৯ রান করে আউট হন স্যামসন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মাত্র ৫ ইনিংসে তার ছক্কা ২৪টি। এক বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
ইশানের ব্যাট থেকে আসে ৪টি করে চার-ছক্কায় ২৫ বলে ৫৪ রান। রানের খাতাই খুলতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। নিশামের ওই ওভারের ধাক্কা লাগে পরের তিন ওভারেও। ১৬ থেকে ১৯ ওভার পর্যন্ত ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান করতে ৪ উইকেট হারায় ভারত।
পরে শেষ ওভারে নিশামের ওপর ঝড় বইয়ে দেন শিবাম দুবে। বাঁহাতি ব্যাটার ৩ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মেরে শেষ ওভার থেকে নিয়ে নেন ২৪ রান। দলকে পার করে দেন আড়াইশ রানের ঘর। মাত্র ৮ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন দুবে।
ওভারে ৩ উইকেট নিলেও সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করে ফেলেন নিশাম। ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচ করে নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে কিপটে বোলার ছিলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। আর ২ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে লকি ফার্গুসন।
রান তাড়ায় আর্শদিপ সিংয়ের প্রথম ওভারেই বিধ্বংসী ফিন অ্যালেনের ক্যাচ ছেড়ে দেন দুবে। পরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২১ রান নিয়ে নেন আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট। মনে হচ্ছিল, সেমি-ফাইনালের মতোই ঝড় তুলবেন দুই ওপেনার।
কিন্তু তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে বিপজ্জনক অ্যালেনকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। পরের ওভারের প্রথম বলেই রাচিন রবীন্দ্রকে আউট করে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। অনেকটা দৌড়ে সামনে লাফিয়ে চমৎকার ক্যাচ নেন ইশান।
নিজের পরের ওভারে গ্লেন ফিলিপ্সকে বোল্ড করে নিউ জিল্যান্ডকে আরও চাপে ফেলে দেন বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৫২ রান করতে ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কোণঠাসাই হয়ে পড়ে কিউইরা।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন সেইফার্ট। ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ২৩ বলে ফিফটি করে ফেলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তবে এরপর আর ইনিংস টেনে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি।
বরুণ চক্রবর্তীর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ইশানের আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন ২৬ বলে ৫২ রান করা সেইফার্ট। তার আগেই পান্ডিয়ার বলে বোল্ড হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন মার্ক চ্যাপম্যান। মাত্র ৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে যেন ছিটকেই যায় নিউ জিল্যান্ড।
ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন স্যান্টনার ও ড্যারেল মিচেল। দুজন মিলে মাত্র ২৮ বলে গড়েন ৫২ রানের জুটি। ১৩তম ওভারে অক্ষরের প্রথম বলে স্যান্টনারের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন হার্দিক। তবে ওই ওভারেই ইশানের তৃতীয় ক্যাচ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ১১ বলে ১৭ রান করা মিচেল।
এরপর আর ম্যাচে তেমন কিছু বাকি ছিল না। নিজের শেষ স্পেলে বোলিং করতে এসে প্রথম ওভারে জিমি নিশাম ও ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করেন বুমরাহ। পরের ওভারে ৪৩ রান করা স্যান্টনারকেও বোল্ড করেন অভিজ্ঞ পেসার।
পরে ১৯তম ওভারে অভিষেকের বলে জ্যাকব ডাফি ক্যাচ আউট হলে নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের শিরোপা।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন বুমরাহ। অক্ষরের শিকার ২৭ রানে ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ (স্যামসন ৮৯, অভিষেক ৫২, ইশান ৫৪, হার্দিক ১৮, সূর্যকুমার ০, তিলক ৮*, দুবে ২৬*; হেনরি ৪-০-৪৯-১, ফিলিপ্স ১-০-৫-০, ডাফি ৩-০-৪২-০, ফার্গুসন ২-০-৪৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৩৩-০, রবীন্দ্র ২-০-৩২-১, নিশাম ৪-০-৪৬-৩)
নিউ জিল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৫৯ (সেইফার্ট ৫২, অ্যালেন ৯, রবীন্দ্র ১, ফিলিপ্স ৫, চ্যাপম্যান ৩, মিচেল ১৭, স্যান্টনার ৪৩, নিশাম ৮, হেনরি ০, ফার্গুসন ৬*, ডাফি ৩; আর্শদিপ ৪-০-৩২-০, হার্দিক ৪-০-৩৬-১, অক্ষর ৩-০-২৭-৩, বুমরাহ ৪-০-১৫-৪, বরুণ ৩-০-৩৯-১, অভিষেক ১-০-৫-১)
ফল: ভারত ৯৬ রানে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন
No posts available.
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১০ পিএম

হঠাৎ দেখে মনে হবে বুঝি হাইলাইটস চলছে। দুই দলের ৩৯ ওভারে রান হলো ৫২৯। কেবল বাউন্ডারি থেকেই এলো ৩৯৪ রান। মোট ছক্কা ৩৩, চার ৪৯। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে আজ চার-ছক্কার মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়ে আনল দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংস।
প্রথমে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে হয়তো বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিল দিল্লি। তবে ব্যাটারদের রান উৎসবের দিনে পাঞ্জাব তো আর বসে থাকবে না! আইপিলের রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট করে দিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করল তারা।
আইপিএলে রেকর্ড বন্যার দিনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ২৬৪ রান করে দিল্লি। জবাবে ৬ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। এর আগের রেকর্ডটিও অবশ্য পাঞ্জাবেরই। এর আগে ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি।
বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ৬ চার আর ৯ ছক্কায় সাজানো দিল্লির এই ব্যাটারের টর্নেডো ইনিংসই আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু আইপিএলই নয়, টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেই ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস ইনিংস আর কারও নেই। আইপিএলে এর আগে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ ছিল অভিষেক শর্মার ১৪১।
রাহুলকে যোগ্য সঙ্গ দেন ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলা নিতিশ রানা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রানার সঙ্গে রাহুল গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা আইপিএলের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
দিল্লির রান পাহাড়ের জবাবটা যেন হেসেখেলেই দিল পাঞ্জাব। যেখানে পাওয়ার প্লেতে দিল্লির স্কোরবোর্ডে ছিল ৬৮ রান, সেখানে ৬ ওভার শেষেই ১১৬ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। ২৯২ স্ট্রাইকরেটে ২৬ বলে ৭৬ করেন প্রাভসিমরান সিং। আরেক ওপেনার প্রিয়ানশ আরিয়ার ব্যাট থেকে আস ১৭ বলে ৪৩ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাঞ্জাবকে পথ দেখান শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৬ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

আইপিএলে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আজ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফিল্ডিং করার সময় মাথায় মারাত্মক চোট পান দিল্লির দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিডি। মারাত্মক এই চোটের পরপরই মাঠের আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ম্যাচ। দ্রুত মেডিকেল টিম মাঠে প্রবেশ করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং পরে পরীক্ষার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় পুসা রোডের ম্যাক্স হাসপাতালে।
ঘটনা পাঞ্জাব কিংসের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। অক্ষর প্যাটেলের একটি স্লোয়ার ডেলিভারি মিড-অফের ওপর দিয়ে তুলে মারেন ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য। বলটি লুফে নিতে এনগিডি পেছনের দিকে দৌড়ান এবং হাত বাড়িয়েও বলের নাগাল পাননি। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে বেশ বাজেভাবে পিঠের ওপর আছড়ে পড়েন এবং মাথা সজোরে মাটিতে আঘাত করে তাঁর।
মাটিতে পড়ার পর এনগিডি বেশ কিছুক্ষণ নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন, যা সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। তবে স্বস্তির খবর হলো, মেডিকেল টিম যখন তাকে দেখছিল, তখন কিছুটা সাড়া দিচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী প্রোটিয়া পেসার । মাঠে প্রাথমিক শুশ্রূষার পর তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এনগিডি মাঠ ছাড়ার পর বিকল্প ফিল্ডার হিসেবে দুশমন্ত চামিরা মাঠে নামেন।
এবারের আইপিএলে নিলামে ২ কোটি টাকায় দলে এনগিডিকে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। চলতি মৌসুমে দিল্লির হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এনগিডি। ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে এই পেসারই ছিলেন দলের সেরা বোলার। আইপিএল ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংস, আরসিবি এবং দিল্লির হয়ে মোট ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যেখানে ৮.৫৭ ইকোনমি রেটে শিকার করেছেন ৩৬টি উইকেট।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএল ইতিহাসের এক রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স উপহার দেয়। কে এল রাহুল মাত্র ৬৭ বলে ১৫২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তাঁর অসাধারণ ইনিংস দিল্লিকে আইপিএলের ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২৬৪/২-এ পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নিতিশ রানার (৪৪ বলে ৯১ রান) সঙ্গে গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা ফ্রাঞ্চাইজিটির ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।

টানা তিন ওয়ানডে
সিরিজ জয়—বাংলাদেশ দলের জন্য অসাধারণ অর্জনই বটে। তার পরও কিছুটা দুশ্চিন্তা ভর করেছে
টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণও বেশ স্পষ্ট—হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ে বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ছিল পেসারদের, কয়েক সিরিজ ধরেই সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না স্পিনাররা।
নিউ জিল্যান্ড
সিরিজেও উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ-শরিফুলরা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ কিপটে বোলিং করলেও
তিন ওয়ানডে মিলে উইকেট পেয়েছেন ৩টি। পুরো সিরিজে বোলিং করেছেন ২৮.৫ ওভার। বোলিং গড়
৪২.৬৬, স্ট্রাইক রেট ৫৭.৬৬। রিশাদ প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে নেন ৩ উইকেট। তৃতীয় ওয়ানডের
একাদশেই জায়গা হারান।
শেষ ম্যাচে
রিশাদের জায়গায় সুযোগ পাওয়া তানভীরও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১০ ওভারে ৭০ রান
দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তান সিরিজেও মাঝের ওভারে মিরাজ-রিশাদরা ভালো অবদান রাখতে
পারেননি।
নিউ জিল্যান্ডের
বিপক্ষে আগামী পরশু থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং পরামর্শক
মুশতাক আহমেদের আশা, কুড়ি ওভারের সিরিজে স্পিন আক্রমণকেও দেখা যাবে সেরা ছন্দ, ‘আমি
বিশ্বাস করি মাঝের ওভারে স্পিনারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্পিনাররা রান আটকে
দিয়ে উইকেট নিতে পারে, তবে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।’
ওয়ানডে সিরিজের
আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) চার ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি উইকেট পেয়েছিলেন রিশাদ।
প্রত্যেক ম্যাচেই দিয়েছেন ৩৫ কিংবা তার বেশি রান। রিশাদও গা জুড়ানোর সময় নিচ্ছেন না,
নিজেকে আরও শাণিত করতে মুশতাকের বিশেষ ক্লাসে ঘাম ঝরিয়ে চলছেন।
রিশাদের বোলিংয়ে আরো বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং গুগলি আয়ত্ত নেওয়ার দীক্ষা দিচ্ছের মুশতাক,
‘হ্যাঁ, আমরা তার বৈচিত্র্য এবং ক্রিজের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছি, বিশেষ করে তার গুগলির জন্য। তার গুগলিটা আরও একটু উন্নত করতে হবে। গুগলির অ্যাঙ্গেল কেমন হবে, ডানহাতি ব্যাটারদের কোন দিকে বল করতে হবে—স্টাম্পের কাছ থেকে নাকি দূর থেকে, সেসব নিয়ে কাজ চলছে।’
মুশতাকের নিজের দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন,
‘আমি সবসময় একটি কথা বলি, একটি শক্তিশালী এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য অ্যাকশনের সঙ্গে ক্রিজ ব্যবহার করা একজন লেগ স্পিনারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন, লেগ স্পিনাররা কিছুটা খরুচে হতে পারে। তাই আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছি যাতে সে কেবল ভালো বল নয়, বরং ভালো ওভার করতে পারে। সে অনেক উন্নতি করেছে।’
ওয়ানডে সিরিজ
জয়ের পর অধিনায়ক মিরাজ বলেছিলেন, মুশতাক আহমেদের সঙ্গে - সেশনগুলো তাঁর খুব কাজে লেগেছে।
তিনি ভালো বল করছেন, তবে অনেকে মনে করেন তিনি রান আটকে রাখার বোলার। আধুনিক ক্রিকেটে
স্পিনারদের আরও বৈচিত্র্য দরকার। মিরাজ কি সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন?
মুশতাকও মনে করেন বোলিংয়ে বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ,
‘সে সেটি করে দেখিয়েছে। মাঝের ওভারে সে উইকেট পাচ্ছে। গত ম্যাচে সে লাথামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। মিরাজ উন্নতি করছে। তার কাজ এখন শুধু রান আটকে রাখা নয়। সে তার বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছে এবং এর কৃতিত্ব তার। স্পিন কোচ হিসেবে আমি মনে করি বৈচিত্র্য থাকতেই হবে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাটারদের হাত খুব দ্রুত চলে, তাই গতির পরিবর্তন করে তাদের পরাস্ত করতে হয়। ক্রিকেট হলো অ্যাঙ্গেলের খেলা। যদি আপনি ট্যাকটিক্যাল মুভ এবং ফিল্ডিং পজিশন দিয়ে ব্যাটারকে রান করা থেকে আটকাতে পারেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে আপনার জেতার সুযোগ বাড়বে।’

দারুণ
জয়ে পথচলা শুরু করে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে
আর সেই সম্ভাবনার পূর্ণতা দিতে পারলেন না নিগার সুলতানা জ্যোতি, নাহিদা আক্তাররা। ঘুরে
দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা।
রাজশাহী
বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭
উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেতে ২১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ২১
বল বাকি থাকতে জিতে যায় সফরকারীরা।
এই
জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল লঙ্কান নারীরা। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা
আরও বাড়ল বাংলাদেশের।
টস
জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার শারমিন সুলতানা (১৭) ও ফারজানা হক পিঙ্কি
(১১)। ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শারমিন আক্তার সুপ্তা (২৫)।
চাপ
সামলে চতুর্থ উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি। তবে রানের গতি
বাড়াতে পারেননি তারা। ৯০ বলে ৪০ রান করে আউট হন জ্যোতি।
এরপর
একাই দলকে এগিয়ে নেন মোস্তারি। ইনিংসের শেষ বলে আউট
হওয়ার আগে ৮ চারে ৮০ বলে ৭৪ রান করেন তিনি। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় ফিফটি।
এছাড়া
রিতু মনির ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২০ রান।
শ্রীলঙ্কার
পক্ষে ৩ উইকেট নেন কাভিশা দিলহারি। নিমাশা মাদুশানির
শিকার ২ উইকেট।
রান
তাড়ায় শুরুতেই চামারি আতাপাত্তুর উইকেট নেন মারুফা আক্তার। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৮ রানের
জুটি গড়েন হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি। ওই জুটিতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
৭৬
বলে ৫৬ রান করা দুলানিকে ফিরিয়ে
এই জুটিও ভাঙেন মারুফা। পরে হার্শিতা মাধবীর সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন হাসিনি।
তবে
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি হাসিনি। ১৩ বলে ১৩১ বলে ৯৫ রান করেন লঙ্কান ওপেনার।
আর হার্শিতা অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে।
ওয়ানডের
লড়াই শেষে এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিলেটে আগামী ২৮ এপ্রিল শুরু
হবে সিরিজ।

সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের
পর সংবামাধ্যমের সামনে এসেছেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। স্টোকসের চেহারা
দেখে রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন অনেকেই। ইংলিশ অলরাউন্ডারের এমন পরিবর্তন বিশ্বাসই হচ্ছিল
না অনেক ভক্ত-সমর্থকরা।
সম্প্রতি একটি ভিডিওতে বেন
স্টোকসকে অনেক বেশি রোগা
বা ছিপছিপে দেখা গেছে। মূলত
মুখের এক ভয়াবহ চোটের
কারণে অস্ত্রোপচার করানোর পর তাঁর চেহারায় এই
পরিবর্তন এসেছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সঙ্গে যৌথভাবে 'টয়োটা ইউকে'র অফিসিয়াল
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশিত
হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ডের তিন ফরম্যাটের নতুন
'কাস্টোর' কিট বা জার্সি
উন্মোচন করা হয়।
টয়োটা ইউকে-র শেয়ার করা সেই ভিডিও ক্লিপটিতে স্টোকসের শারীরিক পরিবর্তন ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের এতটাই রোগা দেখাচ্ছিল যে, ক্যারিয়ারের আর কোনো সময়েই তাকে এমন রূপে দেখা যায়নি। ভিডিওটিতে মার্ক উড এবং বেন ডাকেটের মতো অন্য তারকারাও ছিলেন, কিন্তু সবার নজর কেড়েছে অধিনায়কের এই নতুন লুক।
https://www.instagram.com/toyotauk/?utm_source=ig_embed&ig_rid=a5451926-5f2d-467d-aa9f-0de97e605444
মূলত বছরের শুরুর দিকে নেটে ব্যাটিং
অনুশীলনের সময় বল সরাসরি
স্টোকসের মুখে এসে লাগে।
এই ভয়াবহ চোটের কারণেই তাকে ফেসিয়াল সার্জারি
বা মুখে অস্ত্রোপচার করাতে
হয়। সেই চোট কতটা
গুরুতর ছিল, তা স্টোকসের
কথাতেই স্পষ্ট।
বিবিসি স্পোর্টসকে স্টোকস বলেন, ‘পরিস্থিতিটা সত্যিই ভয়াবহ ছিল। বলটা সরাসরি
আমার মুখে এসে লাগে।
মাত্র কয়েক ইঞ্চির এদিক-সেদিক হলে কিংবা আমি
মাথাটা না ঘোরালে হয়তো
আজ এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার
জন্য আমি বেঁচে থাকতাম
না। আমার গালের হাড়ের
নিচের অংশটা একদম তছনছ হয়ে
গিয়েছিল। আমি খুব অল্পের
জন্য বেঁচে গেছি। ভাগ্য ভালো যে আমি
এখনো এখানে আছি এবং সবকিছু
ঠিক আছে।’
আসন্ন ক্রিকেট মৌসুম স্টোকস এবং ইংল্যান্ড দলের
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে
বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগামী জুনে
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট
সিরিজ দিয়ে তারা নতুন
করে শুরু করতে যাচ্ছে।
বিপর্যয়ের মাঝেও টিম ম্যানেজমেন্টের পূর্ণ
আস্থা ধরে রেখেছেন স্টোকস
এবং টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
অ্যাশেজে দলের ভরাডুবির মধ্যেও ব্যক্তিগতভাবে স্টোকস উজ্জ্বল ছিলেন; ব্যাট হাতে ১৮৪ রান
করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছিলেন
১৫টি উইকেট। ইংল্যান্ড তাদের এই মৌসুমে প্রথমে
নিউজিল্যান্ড এবং পরে আগস্টের
শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে
তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে।