
যাঁকে নক্ষত্র ভাবা হতো, পরে দেখা গেল সে নিজেই এক ক্রিকেট আকাশ। সাকিব আল হাসান, মোটে তিনটে শব্দ। অথচ নিজেই দেশের ক্রিকেটকে এনে দিয়েছে সহস্র শব্দের উৎসব। আবার রাজনীতিতে জড়িয়ে যেন হারিয়েছেন অনেকটা।
পুরনো সাকিবকে চেনা যাক, একটু ভিন্নভাবে, কিংবা সেই একই গল্পে। যাঁকে বোঝা দায় কিংবা সহজেই বোঝা যায়। যে দূর আকাশের তারা কিংবা যেন পাশের বাড়ির ফয়সাল। যার কাছে ম্যাচ জেতানোর ছিল হাজারটা আবদার!
এক সাকিবের জীবনের গল্পের অভাব নেই। গল্প হলেও তো সত্যিই।
প্রায় ৭২ হাজার জনসংখ্যার দেশ ডমিনিকায় একজনের নাম সাকিব আল হাসান। ২০০৯ সালে যখন সাকিব ডমিনিকায় খেলতে গিয়েছিল, তখন এক ছেলের জন্ম দেশটায়। সেবার সাকিবের খেলা দেখে জনৈক ভদ্রলোকের এত ভালো লেগে গিয়েছিল, উনি ছেলের নাম রেখে দিয়েছেন ‘সাকিব আল হাসান’।
প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরের ডমিনিকা থেকে দুই হাজারেরও কম কিলোমিটারের কাশ্মীরে ফিরে যাই। সাকিব নিজেই পুরনো এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছিলেন, পরিচিত একজন একবার কাশ্মীর যায়৷ কাশ্মীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একজনের ঘরে ঝোলানো ছিল সাকিবের ছবি। ক্যারিয়ারের মাঝপথে এই ছবি কিংবা কথাগুলো সাকিবকে বেশ অনুপ্রাণিত করেছিল।
এক বন্ধুবর ক্রীড়া সাংবাদিকের মুখেই শোনা। কাশ্মীরে সাকিবের প্রতি আবেগটা আসলেই অন্যরকম। কাশ্মীর ট্যুরে যে গাড়িতে তিনি ঘুরছিলেন সেই গাড়ির চালক স্পোর্টস রিপোর্টার শুনেই তাঁর কাছে সাকিবের কথা জানতে চাইলেন। বহুবার সাকিবের সংবাদ সম্মেলন কাভার করা হয়েছে শুনেই তাঁর সে কি আবেগ। সঙ্গে সঙ্গে ১০ বছরের ছেলেকে ফোন। বললেন, বাবা তোমার পছন্দের ক্রিকেটার সাকিবের কাছাকাছি গিয়েছিল এমন একজন আমার গাড়িতে চড়ছে।
শুধু তিনি নন। ঘোড়সওয়ার তরুণটাতো আরও আবেগী। 'সাকিব স্যার' সম্বোধন ছাড়া বাংলাদেশের মহাতারকার নামটা একবারও শুধু সাকিব বলে উচ্চারণ করেননি।
মাগুরা থেকে পাশের কাশ্মীর কিংবা সূদুর ডমিনিকা। এক জীবনে সাকিব আর কী চাইতে পারতেন?
শুধু সাধারণ সমর্থকরা? সাকিবকে কিংবদন্তি মানেন, যাঁদের সঙ্গে খেলেন তারাও। কিংবদন্তিদের চোখেও সাকিব কিংবদন্তি। এই তো একবার বিপিএলে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজম মুগ্ধ হয়ে করেছেন সাকিব বন্দনা। একই দলে সেবার রংপুর রাইডার্সের আরেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবিও সাকিবকে মেনেছেন সেরা। জস বাটলারের মুখেও শুনেছি সাকিব বন্দনা। এমন কতো ক্রিকেটার।
এমনকি যুব দলের ক্রিকেটরাও মুগ্ধ এক সাকিবে। এইতো সদ্য ২০ না পেরোনো যুব এশিয়া কাপ জেতা দলের জিসান আলম কিংবা পেসার রোহানাত দৌলা বর্ষণ প্রথমবার বিপিএলের মঞ্চে নেমে সাকিবকে খুব কাছ থেকে দেখেও প্রকাশ করেছেন উচ্ছ্বাস।
গল্প ছিল আরো। ইয়ান স্মিথের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারটা ঠিক সেই অর্থে বড় হয়নি৷ তবে কমেন্ট্রি বক্সে মাইক্রোফোন হাতে বেশ নামই কামিয়েছেন৷ হুট করে নেলসনের ভদ্রলোককে মনে পড়ার কারণ বিশ্বকাপের একটা ম্যাচে কমেন্ট্রির জন্য।
সাকিব রান করেন, উইকেট নেন, দারুণ ফিল্ডিং করেন। ২০১৯ বিশ্বকাপে সর্বেসর্বা এই অলরাউন্ডার৷ একটা বিশ্বকাপে এভাবেও পারফরম্যান্স করা যায়, এই নতুন এক অবাক হওয়া ব্যাপারের সাথে সাকিব সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বাউন্ডারি সীমানার কাছে খুব চেষ্টা করেও সাকিব একটা বাউন্ডারি বাঁচাতে পারেননি৷ সাকিবও পারেনা, এমনও হয়! ইয়ান স্মিথ অবাক হয়ে, মাইক্রোফোন হাতে বলেছিলেন, 'সাকিব ইজ অফিসিয়ালি হিউম্যান...।'
নানান ইস্যুতে সাকিবের যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে, এই যে সাকিবকে অনেকেই বিশেষণে বিশেষায়িত করতে সুপারম্যান, সুপার হিউম্যান বলেন সত্যিই কী তাই? মাঝেমধ্যে মনে হয়, কাড়ি কাড়ি টাকা থাকার পরেও সাকিব নিঃসঙ্গ। নিজের অনেক কথাই বলতে পারেননা। বড় তারকাদের এমন হয়, বোঝা যায় না, বুঝতেও দেয় না। সাকিবের চেয়ে বড় তারা আর কে আছে এদেশের ক্রিকেটে? সাকিবকে বোঝে সেই সাধ্যি কার? ইয়ান স্মিথ না হয়, একটা বাউন্ডারি বাঁচানোর আক্ষেপ দেখে বলেছিলেন, 'সাকিব ইজ অফিসিয়ালি হিউম্যান...' সত্যিই তাই?
ক্রিকেটার সাকিব মাঠের তর্কাতীত সেরা, দেশের সেরা অ্যাথলেট বললেও ভুল হবে কী? স্বাধীন বাংলাদেশের সেরা অ্যাথলেট মানুষ হিসেবে কেমন? খুব খারাপ? প্রায়শই তো আলোচনায় তা উঠে আসে। তবে সাকিবের ভালো কাজগুলো কেন জানি, সামনে আসতেই চায় না।
বিকেএসপির কেউ অসুস্থ, চোটে পড়লে সাকিব এগিয়ে আসেন। আগেপরে অনেক ঘটনা আছে। কয়েক মাস আগের রামিমের ঘটনা। অনূর্ধ্ব ২১ হকি প্লেয়ার রামিম ওমানে খেলতে গিয়ে লিগামেন্টের চোটে পড়লে সাকিব শোনা মাত্রই এগিয়ে এসেছেন।
এর আগে চট্টগ্রামে এক সিরিজে দুই ম্যাচে তিনটি পুরস্কার পেয়েছিলেন সাকিব। তবে চট্টগ্রাম ছাড়ার আগে একটা পুরস্কারের অর্থ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীদের দিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এমনকি বিসিবিতে কর্মরত অফিস সহকারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং মাঠকর্মীদের ঈদ উপলক্ষে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন সাকিব।
কোভিডের সময়ে নানান সাহায্য করেছেন, নিজের রেকর্ডগড়া ব্যাট নিলামে তুলেছেন, ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের ঘটনা তো একেবারে সবশেষ।
গল্পের মতো কিন্তু সত্যি…
পিটার রোবাক, ভদ্রলোক স্বীকৃত ক্রিকেটে রান করেছেন প্রায় ২৫ হাজার। ক্রিকেটার-কোচ-সাংবাদিক-লেখক পরিচয়ের অভাব নেই অক্সফোর্ডের এই মানুষটার। তবে এক যুগ আগে স্মৃতি হওয়া ভদ্রলোককে মনে পড়ার কারণ শচীন টেন্ডুলকার। ক্রিকেটের প্রতিশব্দ এসআরটির জনপ্রিয়তা দেখে অবাকই হয়েছিলেন...
অবশ্য অবাক না হয়ে আর যাবেন কই? শিমলা থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন, ট্রেন থামল শচীনের জন্য। শচীন তখন ৯৮ রানে অপরাজিত। জীবন ইনিংসে ৫৫ বছরেই কেপটাউনে স্মৃতি হওয়া রোবাক লিখেছিলেন, 'সবাই অপেক্ষা করছিল শচীন সেঞ্চুরি করবে বলে... এই জিনিয়াস ভারতে সময়কেই থামাতে জানত...।'
হুট করে পিটার রোবাক-শচীন টেন্ডুলকার এসেছেন সাকিব প্রসঙ্গে। এইতো গেল বছর, চেমসফোর্ডে কমেন্ট্রি বক্সে বসা নেইল ও'ব্রায়েন যা বললেন, তা ছিল এমন... 'সাকিব অধিনায়ক ছিল আগের এক বিপিএলে। সাকিবের সঙ্গে মিরপুরে ব্যাটিং করছিলাম। ২৫ হাজার মানুষ ম্যাচটা দেখছিল। সাকিব আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই চলে গেলো...।'
ভিন্ন আরেকটা ঘটনা। জনপ্রিয় উপস্থাপক বিক্রম সাঠে, শচীন নিয়ে একটা দারুণ বই লিখেছিলেন। বইটার নামের বাংলা তর্জমা হচ্ছে, 'শচীন যেভাবে আমার জীবন ধ্বংস করেছে... কিন্তু জীবনের সব ক্রিকেটীয় পরীক্ষায় পাস করার অনুমতি দিয়ে গেল...'
সাকিব এই বাংলায় সময় থামাতে পারেনি, কাউকে জীবনের সব ক্রিকেটীয় পরীক্ষায় পাস করার অনুমতি দিয়ে যেতে পারেননি। তবে অনেকের শৈশবের, কৈশোরের ক্রিকেট আনন্দের নাম হয়েছেন বটে। বাড়িয়ে বললাম কি?
শুভ জন্মদিন সাকিব।
No posts available.
২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:১০ এম
২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের নতুন সংস্করণ শুরুর আগে ক্যাচ ধরা নিয়ে ফিল্ডারদের নড়াচড়া ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আয়োজকরা। অধিনায়কদের স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বল হাতে নেওয়ার পর ফিল্ডারের শরীর ও বল- দুটোর ওপরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না আনা পর্যন্ত ক্যাচ সম্পূর্ণ বলে ধরা হবে না এবং তার আগে উদযাপনও শুরু করা যাবে না।
বুধবার বিসিসিআইয়ের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে অধিনায়কদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়। প্রায় ৯০ মিনিটের ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারিং বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেখানে সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ম্যাচের কয়েকটি ভিডিও দেখানো হয়, যেগুলোতে ক্যাচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এসব উদাহরণ দেখিয়ে কর্মকর্তারা বোঝান, ফিল্ডারের শরীরের ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হলে ক্যাচ বৈধ ধরা হবে না।
আরও পড়ুন
| আইপিএলে কেন টাকা ঢালছেন আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা |
|
আইপিএলের প্লেয়িং কন্ডিশনের ধারা ৩৩.৩-এ বলা আছে, বল প্রথমবার কোনো ফিল্ডারের শরীরের সংস্পর্শে আসার মুহূর্ত থেকে ক্যাচ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফিল্ডার যখন বল ও নিজের চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনবেন, তখনই সেই প্রক্রিয়া শেষ হবে।
যদিও নিয়মটি নতুন নয়, তবে এবারের আসরে এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আগাম সতর্ক করা হয়েছে দলগুলোকে। অধিনায়কদের ব্রিফিং দেন ভারতের সাবেক পেসার ও আইসিসির ম্যাচ রেফারি জাভাগল শ্রীনাথ এবং আন্তর্জাতিক আম্পায়ার নীতিন মেনন।
আলোচনায় আসে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মও। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে জানানো হয়, এই নিয়ম অন্তত আরও দুই মৌসুম বহাল থাকবে এবং ২০২৭ সালের আগে এটি পুনর্বিবেচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। এই নিয়মে অবশ্য সব পক্ষ একমত নয়। দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন।
তার মতে, এই নিয়মের কারণে দলে অলরাউন্ডারের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। আগে ব্যাটিং ও বোলিং- দুই দিকেই অবদান রাখতে পারে এমন খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, এখন দলগুলো নির্দিষ্ট ভূমিকার ক্রিকেটারদেরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে বিসিসিআই ও আইপিএল কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট- দর্শক আকর্ষণ ও কৌশলগত বৈচিত্র্য বাড়াতে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, তাই আপাতত এটি বহাল থাকছে।

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দলে দলে পরিবর্তনের হাওয়া। এরই মধ্যে বড় এক পরিবর্তন এসেছে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ দলে। মিডল-অর্ডার ব্যাটার লরি ইভান্সের বদলে দলে নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার উসমান খাজাকে।
ইভান্সের সরে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি পিন্ডিজ। সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বার্তায় তারা নিশ্চিত করেছে, তার জায়গায় দলে যোগ দিচ্ছেন খাজা। এই দলে আছেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন ৩৯ বছর বয়সী খাজা। এরপর নিজ দেশের বিগ ব্যাশ লিগে ব্রিসবেন হিটের হয়ে তিন ইনিংসে প্রায় ১৪৮ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১০৮ রান। একই সঙ্গে শেফিল্ড শিল্ডে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে খেলে শেষ করেছেন প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার।
এবার নতুন অধ্যায়ে নাম লেখালেন পিএসএলে। এই টুর্নামেন্টে অবশ্য খাজার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগে ২০২১ মৌসুমে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। সেই আসরে সাত ইনিংসে ৪৯.২০ গড় ও ১৫২.৭৯ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ২৪৬ রান।
ওই টুর্নামেন্টে পেশাওয়ার জালমির বিপক্ষে তার অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংসের সৌজন্যে তৎকালীন পিএসএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ২৪৭ রান করে ইসলামাবাদ। যদিও টেবিলের শীর্ষে থেকে শেষ করেও দ্বিতীয় এলিমিনেটরে জালমির কাছেই হেরে বিদায় নেয় দলটি।
নতুন দলে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামতে পারেন খাজা। এর আগে জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক পিন্ডিজ স্কোয়াড থেকে সরে দাঁড়ালে তার বদলি হিসেবে দলে নেওয়া হয় নিউ জিল্যান্ডের কোল ম্যাকঙ্কিকে।
আরও পড়ুন
| অধিনায়কের সঙ্গে বাজি ধরে প্রোটিয়া তরুণের চমক |
|
অন্য দিকে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড দলে এসেছে আরেক পরিবর্তন। ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন ম্যাক্স ব্রায়ান্ট। তার বদলে অফস্পিনার ক্রিস গ্রিনকে দলে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে মুলতান সুলতান্সের হয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিলেন গ্রিন।
বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে পিএসএলের নতুন সংস্করণ। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় উদ্বোধনী ম্যাচে নতুন দল হায়দরাবাদ কিংসমেনের মুখোমুখি হবে লাহোর কালান্দার্স। লাহোরের স্কোয়াডে আছেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন।
এবারের পিএসএলে খেলবেন বাংলাদেশের মোট ৬ ক্রিকেটার। লাহোর কালান্দার্সে মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন; পেশাওয়ার জালমিতে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম এবং রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজে দেখা যাবে রিশাদ হোসেনকে।
টুর্নামেন্টের সবগুলো খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশের একমাত্র খেলাধুলার চ্যানেল টি স্পোর্টস।

নিয়মিত ক্রিকেটারদের বিশ্রামে সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করলেন কনর এস্তেহেইজেন। নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে বড় অবদান রাখলেন তরুণ ব্যাটার। আর এর পেছনে রয়েছে অধিনায়ক কেশব মহারাজের সঙ্গে অন্যরকম এক বাজি।
নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বুধবার সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৩৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলে নায়ক এস্তেহেইজেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি জিতে নিয়েছেন অধিনায়কের একটি ব্যাটও।
সব মিলিয়ে নিজের অভিষেক সিরিজটি দুই ফিফটিতে ২০০ রান করে রাঙিয়েছেন এস্তেহেইজেন। এর মধ্যে প্রথম তিন ম্যাচে তিনি করেন ৬৮ রান। আর শেষ দুইটিতে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩২ রান। সব মিলিয়ে ৫০ গড় ও ১৪৫.৯৮ স্ট্রাইক রেটে রান করে তিনিই সিরিজের সেরা।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ জেতার পর মহারাজ জানিয়েছেন বাজির কথা। শেষ ম্যাচ শুরুর আগে মহারাজ নিজ থেকে এস্তেহেইজেনকে বলেছিলেন, যদি ৭৫ রান করতে পারো, তাহলে একটি ব্যাট দেবো। যেই কথা সেই কাজ। শেষ ম্যাচে ৫ চার ও ৬ ছক্কায় ঠিক ৭৫ রানই করেন এস্তেহেইজেন।
আরও পড়ুন
| আইপিএলে কেন টাকা ঢালছেন আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা |
|
ম্যাচ শেষে ব্যাট নিতেও দেরি করেননি ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার। পরে সেই গল্পই শোনান মহারাজ।
“আমি ওকে বলেছি, যদি ৭৫ রান করতে পারো তাহলে একটি ব্যাট দেবো। যেভাবে সে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, কন্ডিশন বুঝে ব্যাটিং লাইনআপের নেতৃত্ব দিয়েছে, দারুণ ছিল। নিজের অভিষেক সিরিজে কঠিন উইকেটে ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরা হওয়া সুপার স্পেশাল ব্যাপার।”
“আজকের ইনিংসটিই তার সামর্থ্য সম্পর্কে একটা বার্তা দিয়েছে। আশা করি, সে এখান থেকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবে এবং নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বিভিন্ন ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে থাকবে।”
এসএটোয়েন্টিতে মহারাজের সঙ্গে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসে ছিলেন এস্তেহেইজেন। ওই টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারেননি তরুণ ব্যাটার। সব মিলিয়ে ১২ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ১৬৬ রান। তবে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে মনে করেন মহারাজ।
“আমি পুরো এসএটোয়েন্টি তার সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম, শুধু দেখার জন্য যে সে কীভাবে নিজের কাজটা করে। সে ভীষণ পরিশ্রমী একজন। সে এমন একজন, যাকে আমি নিজের তত্ত্বাবধানে রাখি।”
“আমার মনে হয় না খুব বেশি মানুষ মাঠে ওইভাবে ক্রিকেট শট খেলতে পারে। তার ব্যাটে বল লাগার টাইমিংটা দারুণ। তবে সবচেয়ে ভালো লাগে, সে কতটা পরিষ্কার চিন্তাধারার এবং কতটা ক্ষুধার্ত ভালো করার জন্য।”
আরও পড়ুন
| উসমান তারিককে নকলের চেষ্টা লঙ্কান বোলারের, বাধা আম্পায়ারের |
|
এসময় নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এস্তেহেইজেনের দারুণ পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব কিছুটা নিজেও নিয়ে নেন মহারাজ।
“প্রথম ম্যাচে (৪৮ রান) সে আমার পাশে বসেছিল। পরের দুই ম্যাচে (১৫ ও ৮ রান) বসেনি। চতুর্থ ম্যাচ শুরুর আগে আমি তাকে ডেকে বললাম, 'যদি রান করতে চাও, আমার পাসে বসতে হবে।' ওয়েলিংটনে সে ফিফট করল।”
“আজকের ম্যাচের আগে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'কী অবস্থা?' সে তখন যেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গে সঙ্গে রইল। আর ম্যাচের শুরু থেকেই জানত, ৭৫ রান করলে আমার থেকে ব্যাট পাবে। তাই ম্যাচ শেষে নিজ থেকেই আমার ব্যাগ থেকে ব্যাট নিয়ে চলে গেছে।”

মঙ্গলবার আইপিএলের দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি মিলিয়ে মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩.৪১ বিলিয়ন ডলার—যা ২০০৮ সালে লিগের আটটি প্রতিষ্ঠাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি মিলে যে ৭২৩.৫৯ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল, তার প্রায় পাঁচ গুণ।
মনোজ বাদালের নেতৃত্বাধীন এমার্জিং মিডিয়া কনসোর্টিয়াম রাজস্থান ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাদের শেয়ার বিক্রি করে চমকপ্রদ ২,৩৩৩ শতাংশ মুনাফা করেছে। তারা ৬৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে সেটি বিক্রি করেছে ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিশ্চিত হয়, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও নতুন মালিক পেয়েছে, যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার।
এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একটি বড় কারণ স্পষ্ট—আমেরিকান বিনিয়োগ। রাজস্থানের নতুন মালিকানায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উদ্যোক্তা কাল সোমানি, ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী রব ওয়ালটন—যিনি এনএফএল দল ডেনভার ব্রঙ্কোসের মালিকও—এবং ডেট্রয়েট লায়ন্সের মালিক হ্যাম পরিবার।
আরও পড়ুন
| উসমান তারিককে নকলের চেষ্টা লঙ্কান বোলারের, বাধা আম্পায়ারের |
|
অন্যদিকে আরসিবি কিনেছে আদিত্য বিড়লা গ্রুপ ও টাইমস গ্রুপ। তাদের সঙ্গে আছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বোল্ট ভেঞ্চারস ও ব্ল্যাকস্টোন। বোল্ট ভেঞ্চারসের নেতৃত্বে আছেন খ্যাতনামা ক্রীড়া বিনিয়োগকারী ডেভিড ব্লিটজার, যার বিনিয়োগ ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন লিগে—এনবিএর ফিলাডেলফিয়া, এনএইচএলের নিউ জার্সি ডেভিলস, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে শুরু করে এমএলএসের রিয়াল সল্ট লেক পর্যন্ত।
গত এক দশকে আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই বৈশ্বিক ক্রীড়াক্ষেত্রে, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান ফুটবল ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে, বড় আকারে বিনিয়োগ করছে। এখন সেই ধারা ছড়িয়ে পড়ছে ক্রিকেটেও।
এমলিয়ন বিজনেস স্কুলের আফ্রো-ইউরেশিয়ান স্পোর্টস অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটে আগ্রহের এই বৃদ্ধি কয়েকটি কারণে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর আমেরিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের দ্রুত বৃদ্ধি, ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলাটির বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ। চ্যাডউইক বলেছেন,
‘উত্তর আমেরিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা দ্রুত ক্রিকেটের আসন্ন বৈশ্বিক বিপ্লবের প্রাণস্পন্দনে পরিণত হয়েছে এবং তারা ক্রিকেটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করছে।’
আরও পড়ুন
| সুযোগ হয়নি খেলোয়াড় হিসেবে, ক্ষোভে কিনেই নিলেন আরসিবি |
|
সাইমন আরও বলেন,
‘গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই-এর মতো ব্যক্তিরা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে খেলাটিকে প্রচার করার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছেন। তারা বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করেছেন যে ক্রিকেটে বিনিয়োগের শক্তিশালী বাণিজ্যিক কারণ রয়েছে। ভারতীয় বাজারের আকার বিশাল, অলিম্পিকের মাধ্যমে খেলাটির বৈশ্বিক পরিচিতি আরও বাড়বে, পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের বিনিয়োগ আগ্রহও এটিকে আরও শক্তিশালী করছে।’
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্রিকেট তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। এনএফএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির গড় মূল্য $৫.১ বিলিয়ন এবং এনবিএর $৩.৯ বিলিয়ন। এই প্রেক্ষাপটে আইপিএল দলের মূল্য তুলনামূলকভাবে কমই।
ডি অ্যান্ড পি অ্যাডভাইজরির ম্যানেজিং পার্টনার সন্তোষ এন জানান, হয়তো আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিচ্ছেন না। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেছেন, ২০২১ সালে ৫,৬২৫ কোটি রুপিতে গুজরাট টাইটানসের ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে ২০২৫ সালে টরেন্ট গ্রুপকে ৬৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে সিভিসি ক্যাপিটাল প্রায় ৫,০২৫ কোটি রুপির লাভ করেছে। এভাবে তারা প্রাথমিক বিনিয়োগের বড় অংশ পুনরুদ্ধার করে ৩৩ শতাংশ শেয়ার নিজের কাছে রেখেছে। সন্তোষ বলেন,
‘এরা সাধারণত বলেন, ঠিক আছে, আমি ৫-৮ বছর ধরে ধরে রাখব… যদি বছরে ৩০ শতাংশ রিটার্ন পাই, তবে আমি বিক্রি করে বের হয়ে যাব এবং লাভ করব।’
আরও পড়ুন
| আরও কিছু ল্যান্ডমার্কের সামনে দাঁড়িয়ে মুশফিকুর রহিম |
|
ভারতীয় সংস্থার জন্য ‘ট্রফি অ্যাসেট’
যদি আইপিএলে বিনিয়োগ আমেরিকানদের জন্য দ্রুত লাভের উপায় হয়, তবে ভারতীয় মালিকদের জন্য এগুলো ‘ট্রফি অ্যাসেট’, বলছেন সন্তোষ। উচ্চ মূল্য নির্ধারণ মূলত চাহিদা-সরবরাহের বৈষম্যের ফল। তিনি বলেন,
“এটা মর্যাদার বিষয়। আমি চাই এটা। এটা আমাকে সন্তুষ্টি দেয়। এগুলো এমন সম্পদ যা আপনার অহংকে তৃপ্ত করে। সবাই জানে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের সম্পদ সবসময় লাভজনক নয়। কিন্তু ধনীদের কাছে এগুলো থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘আইপিএলে প্রবেশের সুযোগ ভারতীয় বিলিওনিয়ারদের জন্য সীমিত, কারণ মাত্র ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে এবং তার অর্ধেকই এমন সংস্থার হাতে যা বিক্রি করার সম্ভাবনা কম। এতগুলো বিলিওনিয়ার একটি দল কিনতে আগ্রহী, কিন্তু মাত্র দুই-তিনটি দলই কেনার জন্য উন্মুক্ত। ফলে বাজারে এটির জন্য বড় ধরনের অতিরিক্ত মূল্য রয়েছে।’

অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশনের কারণে আলোচনায় আসেন পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক। অনন্য বোলিং স্টাইলের কারণে নজর কেড়েছেন তিনি। এই স্পিনারের বোলিংয়ে রয়েছে নানান বৈচিত্র্য, কিন্তু তাঁর ডেলিভারির ধরণই সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়। উসমান তাঁর সাইড-আর্ম অ্যাকশনে মাঝে হঠাৎ থামেন, তারপর বল ছাড়েন। এমন বোলিং অ্যাকশন ব্যাটারদের জন্য রীতিমতো গোলকধাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে।
অন্যরকম এই বোলিংয়ে বেশ সাফল্যও পাচ্ছেন উসমান তারিক। আর তাই তো অনেক স্পিনারই এটিকে নকল করার চেষ্টাও করছেন। এমনই একটি ঘটনা দেখা গেল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ম্যাচে। উসমানের এই অ্যাকশনকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দুইবার বৈধ হিসেবে অনুমোদন দিলেও পার পেলেন না শ্রীলঙ্কান ওই স্পিনার। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সবাইকে চমকে দিয়েছে।
ঘটনা শ্রীলঙ্কার ‘লাভার্স কোয়ারেল’ প্রতিযোগিতায়। যখন রিচমন্ড কলেজ ও মহিন্দা কলেজ একে অপরের বিপক্ষে খেলছিল। রিচমন্ডের হয়ে খেলা লেফট-আর্ম স্পিনার নেথুজা বাসিথা উসমান তারিকের স্টাইল অনুকরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। বল ছাড়ার আগমুহূর্তে একমুহূর্ত থেমে যাওয়ার পর বল ছুঁড়লেন তিনি। তবে দুঃখের বিষয় আম্পায়ার সেটিকে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন।
মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের ৪১.১ ধারা অনুযায়ী, কোনও বোলার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তখন আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ঘোষণা করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বাসিথার বল করতে করতে থেমে যাওয়া, স্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের অংশ নয় বলেই মনে করেছেন আম্পায়ার। এটাকে ইচ্ছাকৃত গণ্য করা হয়েছে। এখানেই তারিকের বোলিং অ্যাকশনের সঙ্গে পার্থক্য। পাক স্পিনারের বোলিং অ্যাকশনে এই থেমে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত অংশ, তাই বৈধ বলে ধরা হয়।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান স্পিনার মূলত শান্তভাবেই টুর্নামেন্টটি পার করেছেন। দল সুপার এইটের পর সেমিফাইনালে যেতে না পারলেও তিনি ছয় ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি রেট ৭.২৩।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারিক বলেন,
‘আমি আশা করিনি যে এতটা প্রশংসা পাবো, কিংবদন্তির কাছ থেকেও এবং আপনাদের (ধারাভাষ্যকর) কাছ থেকেও। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং আমার পারফরম্যান্স উপভোগ করছি।’
উসমান জানান, তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে টেনিস বল দিয়ে খেলার সময় থেকেই অনন্য এই বোলিং অ্যাকশন রপ্ত করেছিলেন তিনি, যা তার খেলার শুরু থেকেই ছিল এবং এখনও তাকে সাফল্য এনে দিচ্ছে,
‘হ্যাঁ, এই অ্যাকশনও শুরু থেকেই তৈরি করা হয়েছিল যখন আমি টেনিস বল দিয়ে বোলিং করতাম। যদি ধীর গতিতে আমার অ্যাকশন দেখেন, আপনি দেখবেন টাইমিং এখনও আছে, তবে আমি ধীরে ধীরে মুভ করছি। আমি শুধু বোলিং অ্যাকশনের ক্ষুদ্র ফ্র্যাকশনগুলো ভাঙার চেষ্টা করি। এভাবেই এটি আমার জন্য কাজ করছে।’