১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫২ পিএম

আগামী ১০ মার্চ বাংলাদেশ সফর করবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) আয়োজনের পরিকল্পনা বিসিবির।
দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না খেলায় ক্রিকেটাররা এখন বিশ্রামে। এ সুযোগে ওয়ানডে ফরম্যাটে বিসিএল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে শেষ হবে ৪ মার্চ। ফাইনাল বাদে সবগুলো ম্যাচ হবে রাজশাহী ও বগুড়ায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা দিলেও আজ চার দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। যেখানে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদকে। আর চোটের কারণে থাকছেন না ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয়। বিপিএলের সর্বশেষ আসরে সুযোগ না পাওয়া এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক খেলবেন বিসিএলে।
বিসিএলে সাউথ জোনের দলপতি মেহেদী হাসান মিরাজ, নর্থ জোনের নাজমুল হোসেন শান্ত, ইষ্ট জোনের ইয়াসির আলী চৌধুরী এবং সেন্ট্রাল জোনের মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
বিসিএলের ৪ দলের স্কোয়াড:
ইষ্ট জোন: পারভেজ হোসেন ইমন, জাকির হাসান, অমিত হাসান, মমিনুল হক, ইয়াসির আলী রাবিব, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, শাহাদাত হোসেন দিপু, আসাদুল্লাহ আল গালিব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানজিম হাসান সাকিব, খালেদ আহমেদ, নাসুম আহমেদ, নাঈম হাসান ও নাইম হাসান সাকিব।
নর্থ জোন: তানজিদ হাসান তামিম, হাবিবুর রহমান সোহান, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, আকবর আলী, সাব্বির রহমান, শেখ মেহেদী, এসএম মেহেরব হোসেন অহিন, তাইজুল ইসলাম, নাহিদ রানা, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
সাউথ জোন: সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, জাওয়াদ আবরার, আজিজুল হাকিম তামিম, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান হোসান, সামিউন বশির রাতুল, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রবিউল হক, রেজাউর রহমান রাজা, রুয়েল মিয়া ও স্বাধীন ইসলাম।
সেন্ট্রাল জোন: সাইফ হাসান, নাইম শেখ, জিসান আলম, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইরফান শুক্কুর, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, রাকিবুল হাসান, রিজান হোসেন, আবু হায়দার রনি, ইবাদত হোসেন, রিপন মণ্ডল, মারুফ মৃধা ও ওয়াসি সিদ্দিকী।
No posts available.
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:২১ পিএম

ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। দলীয় সূত্রে এনডিটিভির প্রতিবেদন, টিম ম্যানেজমেন্ট দুই স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে একাদশ সাজাতে আগ্রহী।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ প্রধান কোচ মাইক হেসন ও অধিনায়ক সালমান আলী আগা বিশেষজ্ঞ স্পিনার আবরার আহমেদ ও উসমান তারিককে খেলাতে চান। পাশাপাশি পেস আক্রমণে থাকবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান মির্জা। প্রতিপক্ষ ও কম্বিনেশন বিবেচনায় অলরাউন্ডারদের মধ্য থেকে একজনকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রটি জানায়, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ ও ফাহিম আশরাফ—এই তিনজনের মধ্যে একজনকে বসে থাকতে হতে পারে। টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান দুশ্চিন্তা এখন এই সিদ্ধান্তই।
ব্যাটিং অর্ডারে সাইম আইয়ুব, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান র্আলী, বাবর আজম ও উসমান খানকে শীর্ষ পাঁচে ভাবা হচ্ছে। তারপর ছয় ও সাত নম্বর পজিশনে কাকে রাখা হবে, সেটিও নির্ভর করছে কোন অলরাউন্ডার বাদ পড়েন তাঁর ওপর।
দলীয় বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের দলে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় বাঁহাতি স্পিনার নওয়াজকে বসিয়ে রাখা হতে পারে। পরিবর্তে ফাহিমকে খেলালে তাঁর ভালো ব্যাটিং, পাশাপাশি প্রয়োজনে তৃতীয় পেসার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে শাদাবের লেগস্পিন বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে কার্যকর হতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ম্যাচের দিন প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেট ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর। পাকিস্তান এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার এই মাঠে খেলতে যাচ্ছে।
গত মাসে শ্রীলঙ্কায় একটি টি–টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল পাকিস্তান, যদিও ম্যাচগুলো হয়েছিল ডাম্বুলায়। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তারা নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে সিংহলিজ স্পোর্টস গ্রাউন্ডে।
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ: সাইম আইয়ুব, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, উসমান খান (উইকেটকিপার), শাদাব খান, ফাহিম আশরাফ, শাহীন শাহ আফ্রিদি, সালমান মির্জা, আবরার আহমেদ, উসমান তারিক।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মুখোমুখি হওয়ার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াইয়ে মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বৃষ্টি। শ্রীলঙ্কা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আজ কলম্বোতে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কা আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। একটি আভাস অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ৫.১ মিমি বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে তা হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে (৩.৮ মিমি) রূপ নিতে পারে। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে ম্যাচ বাতিল বা অন্তত বড় অংশ বাদ দিয়ে খেলা প্রায় নিশ্চিত।
বৃষ্টির পরিস্থিতিতে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলকে অন্তত ৫ ওভার করে খেলতে হবে। যদি কম ওভার খেলা হয়, ডি এল এস পদ্ধতিতে ফল নির্ধারণ করা হবে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হওয়ায় কোনো রিজার্ভ ডে নেই। পুরো ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করবে।
‘এ’ গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, পয়েন্ট ভাগ হলে দুই দলেরই লাভ আছে। দুই দলই এখন পর্যন্ত ২টি করে ম্যাচ জিতেছে, পয়েন্ট ৪ করে। একই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়, নেদারল্যান্ডসও সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ। নামিবিয়া ২ ম্যাচে কোনো জয় পায়নি।
পয়েন্ট তালিকা অনুযায়ী, মাত্র ১ পয়েন্ট পেলেই ভারত ও পাকিস্তান সুপার এইটে উঠতে পারবে। কারণ গ্রুপের বাকি তিন দলের কেউই সর্বোচ্চ ৫ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ বাকি আছে, সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্টের সম্ভাবনা রয়েছে। নামিবিয়াও দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে।
যদি আজকের ম্যাচ বৃষ্টি বা বাতিলের কারণে পরিত্যক্ত হয়, দুই দলই অনায়াসেই সুপার এইটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ধরে রাখতে পারবে।

দশম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাই–ভোল্টেজ লড়াই আজই। কলম্বোয় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। বহুল আলোচিত এই ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তায় ভারত—তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মাকে পাওয়া যাবে না গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে।
পেটের পীড়ায় নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি অভিষেক। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জ্বর নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিপক্ষেও অভিষেখের খেলা অনিশ্চিত। স্পিন শক্তি বাড়াতে শেষ মুর্হুতে আরও একটি পরিবর্তন আনতে পারে ভারত।
অভিষেকের অনুপস্থিতিতে আগের দিনের ওপেনিং জুটিকেই মাঠে নামাবে ভারত। অর্থাৎ ঈশান কিশনের সঙ্গে ওপেন করবেন সঞ্জু স্যামসন। উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় দেখা যাবে ঈশানকে। তিন নম্বরে ব্যাট করবেন তিলক বর্মা।
ব্যাটিং অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ চার নম্বরে থাকবেন সূর্যকুমার যাদব। পাঁচ নম্বরে নামবেন হার্দিক পান্ডিয়া—আগের ম্যাচে ব্যাট–বল দুই হাতেই যিনি অবদান রেখেছেন। ছয় নম্বরে ফিনিশারের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে শিবম দুবেকে; প্রয়োজনে বল হাতেও সহায়তা করবেন তিনি।
সাত নম্বরে থাকবেন অক্ষর পটেল। আট নম্বরে সুযোগ পেতে পারেন ওয়াশিংটন সুন্দর—স্পিন আক্রমণ শক্তিশালী করতেই রিঙ্কু সিংয়ের জায়গায় তাঁকে নেওয়ার ভাবনা।
বিশেষজ্ঞ বোলিং আক্রমণে থাকবেন কুলদীপ যাদব, জসপ্রীত বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী। পেস আক্রমণে বুমরাহর সঙ্গে থাকবেন হার্দিক ও শিবম; স্পিন বিভাগে অক্ষর ও বরুণের সঙ্গে কুলদীপ–ওয়াশিংটনের জুটি ভারতের ‘শেষ মুহূর্তের নতুন অস্ত্র’ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, দলগত ভারসাম্য আর কন্ডিশন–ভিত্তিক পরিকল্পনাই আজ ভারতের মূল চাবিকাঠি। বড় মঞ্চে ছোট সিদ্ধান্তই বড় ফল গড়ে দেয়—পাকিস্তানের বিপক্ষে সেটাই প্রমাণ করতে চাইবে ভারত।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মানসম্পন্ন স্পিন আক্রমণ থাকা দলগুলোর জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখছেন আকিব জাভেদ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হাই পারফরম্যান্স পরিচালক ও নির্বাচক আকিবের মতে, শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে স্পিনার ও অলরাউন্ডারদের পারফরম্যান্সই টুর্নামেন্টের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
হায়দরাবাদ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আকিব বলেন, ‘যে দলের স্পিনার সবচেয়ে ভালো, তাদেরই এই টুর্নামেন্ট জয়ের সম্ভাবনা বেশি।’ তিনি জানান, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান নিজেদের ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং এই দল ট্রফিও জিততে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ প্রসঙ্গে আকিব জানিয়েছেন, এবার কিছু ভিন্ন হতে পারে, কারণ পাকিস্তান এখন তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা পাকিস্তানের জন্য ভালো সময়।’
অন্যান্য দল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আকিব বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড শক্তিশালী দল হলেও এই আসরে মানসম্পন্ন স্পিনারের অভাবে কিছুটা ভুগছে। তাঁর মতে, ‘ভিন্ন দলের শক্তি ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড নিজেদের দেশে যতটা কার্যকর, এখানে ততটা মনে হচ্ছে না; পাকিস্তানের আছে মানসম্পন্ন স্পিনারের সুবিধা।’
আবরার আহমেদ, উসমান তারিক, মোহাম্মদ নওয়াজ, শাদাব খান ও সাইম আইয়ুবকে নিয়ে দুর্দান্ত স্পিন বৈচিত্র্য পাকিস্তানের।
দলের অবস্থান অনেকটাই সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে বলেও উল্লেখ করেন আকিব। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাবর আজমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। গত দুই বছরে এই ফরম্যাট অনেক বদলে গেছে। তাঁর মতে, টেস্ট বা ওয়ানডের পারফরম্যান্স দিয়ে টি–টোয়েন্টির মান বিচার করা এখন আর ঠিক নয়। বললেন, ‘আমরা আগে খেলোয়াড়ের ৭০ বা ১০০ রান গুনতাম। কিন্তু টি–টোয়েন্টি বদলে গেছে। কখনো ৯ বলে ২০ রান ৭০–৮০ রানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।’
আকিব বলেন, ‘টি–টোয়েন্টিতে ব্যক্তিগত মাইলফলক এখন আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাবর এখনও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত ও সময়োপযোগী অবদান, ফিফটি বা সেঞ্চুরি নয়।’

‘আমি যতটুকু দেখেছি, সত্যি বলতে ওকে আমার স্রেফ একজন স্লগার মনে হয়েছে।’—ভারতীয় তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মাকে নিয়ে এমন মন্তব্যই করেছিলেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের আগে আমিরের এই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার তার কড়া জবাব দিলেন সাবেক ভারতীয় স্পিন তারকা হরভজন সিং।
২৫ বছর বয়সী অভিষেকের টেকনিক নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুক্রবার আমির বলেন, ‘আমার চোখে অভিষেক স্রেফ একজন স্লগার। ওর টেকনিক খুব শক্ত মনে হয়নি। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, সব বল নিজের পছন্দের জোনে চায়।’
আমিরের এই বক্তব্যের সঙ্গে একেবারেই একমত নন হরভজন। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের আগে স্বদেশি এই তরুণের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অভিষেক অন্ধভাবে পেটানো কোনো ব্যাটসম্যান নন, তিনি একজন পরিপূর্ণ ও দক্ষ ব্যাটার।
আরও পড়ুন
| ভারত-পাকিস্তানের হাত মেলানো নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছেই |
|
টি–টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ৩৮ ইনিংসে ১,২৯৭ রান করেছেন অভিষেক, স্ট্রাইক রেট ১৯৪.৪৫। এই পরিসংখ্যানের বাইরেও তাঁর ব্যাটিংয়ের গভীরতা তুলে ধরে হরভজন বলেন, “অভিষেক শর্মা একজন মানসম্মত খেলোয়াড়। সে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে—একবার নয়, বারবার সেটা করেছে। আমি ক্রিকেট খেলেছি, তাই বুঝি কে স্লগার আর কে পরিপূর্ণ ব্যাটার। অভিষেকের সব ধরনের শট আছে, যা অনেক ব্যাটারেরই থাকে না। স্লগার হলো সে, যে শুধু বল দেখে মারে—লাগলে ভালো, না লাগলেও কিছু যায় আসে না। অভিষেক তেমন নয়। সে প্রথম বল থেকেই নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে যায় এবং যতক্ষণ ক্রিজে থাকে, প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখে।”
সমালোচকদের উদ্দেশে হরভজন আরও বলেন, “মানুষ যা খুশি বলতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয়, যারা কখনো এমন একজন ব্যাটারের সামনে বোলিংই করেনি, তাদের পক্ষে অভিষেককে স্লগার বলা অন্যায়।”
এখানেই থামেননি হরভজন। তিনি অভিষেককে মাঠেই জবাব দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “স্লগারের সংজ্ঞা দিতে গেলে অনেকেই রেগে যাবে, তাই আমি সেটা বলতে চাই না। কেউ কিছু বললেই আমরা বারবার প্রতিক্রিয়া জানাব—এই মানসিকতায় আমরা নেই। হয়তো কেউ চায় আমরা প্রতিক্রিয়া দিই। কিন্তু আমি বলব—অভিষেক, মাঠে দেখিয়ে দাও তুমি আসলে কে। আগে যা করেছ, আবারও সেটা করো। আমি ওর কাছ থেকে অনেক বড় ইনিংস আশা করছি। সে যদি লম্বা সময় ব্যাট করে, ভারত খুব বড় স্কোর পাবে।”
পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকের রেকর্ডও চোখে পড়ার মতো। গত বছর এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ১১০ রান করেছিলেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৯.৫৬। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে নামবেন এই আগ্রাসী বাঁহাতি—আর তখনই মিলবে মাঠের আসল উত্তর।