১০ জানুয়ারি ২০২৫, ৯:১৩ পিএম

আগেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলতে এসেছেন ইফতিখার আহমেদ। এবার খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে, যেখানে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিময় বোলার নাহিদ রানাকে। এই মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সম্ভাবনাময় পেসার হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে তরুণ এই বোলারকে। কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় নাহিদে মুগ্ধ ইফতিখার। একই সাথে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ফিনিশিং স্কিলও পাচ্ছে তার প্রশংসা।
এখন পর্যন্ত আসরে ছয় ম্যাচ খেলে ছয়টিতেই জিতেছে রংপুর। গতির ঝড় তুলে আলোড়ন ফেলে দেওয়া নাহিদ এর মধ্যে দুই বার হয়েছেন ম্যাচ সেরা। একবার নিয়েছেন চার উইকেট, যা এই ফরম্যাটে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগারও। নিয়মিতভাবেই ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করে নাহিদ এখন সময়ের অন্যতম আলোচিত পেসার।
আরও পড়ুন
| প্রথম বলের ছক্কায় জয়ের বিশ্বাস পেয়েছেন সোহান |
|
শুক্রবার সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় নাহিদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন অলরাউন্ডার ইফতিখার। “আমার কাছে নাহিদ রানাকে এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা বোলার বলেই মনে হচ্ছে। সে ঘণ্টায় ১৫০ কিমি টাচ করছে। তার বোলিংটা আমি দারুণ উপভোগ করছি। ১৫০ গতির একটা বোলার দলে থাকলে, সেটা আপনি দারুণ উপভোগ করবেনই।”
রংপুরের শেষ ম্যাচের জয়ের নায়ক অবশ্য নাহিদ নন। সেটা ছিলেন অধিনায়ক সোহান, যিনি তার ক্যারিয়ারে ফিনিশার হিসেবে অনেক ম্যাচ আগে জিতিয়েছেন। তবে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে যা করেছেন, তা ছিল অবিশ্বাস্যই। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৬ রান। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ৩০ রান নিয়ে দলকে এনে দেন নাটকীয় এক জয়।
ক্যারিয়ারে অসংখ্য ম্যাচ খেলে ফেলা ইফতিখারের কাছে সোহানের ইনিংসটি পাচ্ছে ‘স্পেশাল’ মর্যাদা। “দেখুন, আমি ক্যারিয়ারে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। শেষ ওভারে ২৬ রান নিয়ে দলকে জিতিয়ে দেওয়া, এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা ইনিংস। পৃথিবীর যে কোনো কন্ডিশনে, যে কোনো বোলারের বিপক্ষেই এটা একটা কঠিন কাজ। এমন ফিনিশিং আমার ক্যারিয়ারের দেখা অন্যতম সেরা ছিল।”
No posts available.
২৪ মার্চ ২০২৬, ৬:০৮ পিএম
২৩ মার্চ ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল ধ্রুবতারার নাম কী ? এ প্রশ্নের উত্তরে সাকিব আল হাসানের নাম উচ্চারিত হবে সবার মুখে। ৪৪৭ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৪৭৩০ রানের পাশে ৭১২ উইকেট। অলরাউন্ড পারফরমেন্সে বিস্ময় পারফরমারের ৩৯তম জন্মবার্ষিকী আজ (২৪ মার্চ)।
১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর সাকিব আল হাসানের জন্মদিন কখনো পানসে হয়নি। মামলার ভয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে সাকিব ১৬ মাস। তারপরও সাকিবের জন্মদিন ঘটা করে হয়েছে পালিত। কাকতালীয়ভাবে সাকিবকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা-তদবির করছেন যিনি, সেই আসিফ আকবর সাকিবের উপস্থিতিতে কেক কেটে এই সুপার স্টারের ৩৯তম জন্মদিন পালন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে লন্ডন থেকে সাকিবের জন্মদিন পালনের সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।
কেক কেটে সাকিবের জন্মদিন উদযাপনটি কাকতালীয়, তা বলেছেন আসিফ আকবর-
‘ধ্রুব মিউজিকের ধ্রুব দা'র আমন্ত্রনে প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খানের একটি গানের রেকর্ডিং দেখতে গিয়েছি। এই গানটি রাহাত ফতেহ আলী খান গাইবেন বাংলায়। ধ্রুব দা গানটির প্রযোজক। এই গানটিকে ঘিরে লন্ডনে এলাহী কারবার। একটার পর একটা প্রোগাম। লন্ডনের ফ্লাইটে ওঠার আগে সাকিবের সাথে ফোনে কথা হয়েছে। মার্চের ২১ তারিখে লন্ডনে একটা শুটিং করতে আসছে সে, সেই তথ্যটা দিয়েছিল সাকিব। লন্ডনের গ্যানসিলে একটা এয়ারবিএনবিতে উঠেছি। ঠিকানাটা দিয়েছিলাম সাকিবকে। সেখানেই এসেছিলেন সাকিব। ওর জন্মদিন ২৪ মার্চ, তা জানতাম না। টুটুল নামে আমার এক ফ্রেন্ড জানতো তা। সাকিব আসবে জেনে ও একটা বার্থ-ডে কেক কিনে এনেছে। সুযোগটা যখন পেলাম, তখন কেক কেটে বাংলাদেশের গ্রেট ক্রিকেটারের জন্মদিন পালন করা হলো। কিছু প্রয়োজনীয় কথা হলো।’
রাজনৈতিক মামলার বোঝা মাথায়, এসব মামলা থেকে জামিন না নিয়ে দেশে এসে যদি বিপদে পড়েন, এই ভয়ে সাকিব ফিরতে পারছেন না দেশে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে সরকার কিংবা বিসিবির তরফ থেকে দেশে এসে নির্বিঘ্নে খেলার নিশ্চয়তা পাননি সাকিব। গত বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরে কানপুর টেস্ট খেলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পেয়েছেন ফেয়ারওয়েল। পরিস্থিতির মুখে ওই টেস্টই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের ফেয়ারওয়েল, এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন সাকিব ভক্তরা।
তবে পরিস্থিতি বদলেছে। জাতীয় নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসায় সাকিবের বিপক্ষে রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিসিবি। গত ডিসেম্বরে ইংল্যান্ড ক্রিকেটার মঈন আলীর পডকাস্ট শো-তে সাকিব তার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন। দেশের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে নিতে চান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর। তার এই ইচ্ছের কথা শুনে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের সভায় সাকিবের ইস্যুটি এনে পরিচালকদের মতামত নিয়েছেন। পরিচালনা পরিষদের সম্মতি পেয়ে সাকিবের মামলাগুলো প্রত্যাহারে বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে দৌড়-ঝাঁপ করছেন বিসিবি পরিচালক এবং জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আফিস আকবর। নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের আসন্ন বাংলাদেশ সফরে সাকিবকে বাংলাদেশ দলে ফেরানোর জন্য আইনমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পর্যন্ত ছুটে গেছেন আসিফ আকবর।
দ্রুতই মামলাগুলো থেকে সাকিব জামিন পাবেন বলে লন্ডন থেকে জানিয়েছেন আসিফ আকবর-
‘সাকিবের মামলার সব কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রানালয় এবং আইন মন্ত্রানালয়কে দেওয়া হয়েছে। ঈদ উল ফিতরের পর সরকারী অফিস তো আজ থেকে শুরু হয়েছে (২৪ মার্চ)। আশা করছি এই দুটি মন্ত্রানালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স পেলে সাকিবের দেশে ফিরতে আর বাধা থাকবে না। সামনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের ওয়ানডে সিরিজটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা বিবেচনা করে সাকিবকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে বলে আমার বিশ্বাস। ওর সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, দেশে ফেরার জন্য সাকিব খুব উদগ্রীব।’

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম সংস্করণকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এবার প্রথমবারের মতো ধারাভাষ্যকার হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও সুপরিচিত কণ্ঠস্বর আতাহার আলী খান।
ইংরেজি ধারাভাষ্য প্যানেলে আতাহার আলী খানের সাথে থাকছেন বিশ্ব ক্রিকেটের বেশ কিছু পরিচিত মুখ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অলরাউন্ডার কার্লোস ব্র্যাথওয়েট এই মৌসুমের মাধ্যমে পিএসএলে ধারাভাষ্যকার হিসেবে অভিষেক ঘটাতে যাচ্ছেন।
এছাড়াও থাকছেন অস্ট্রেলিয়ার লিসা স্থালেকার, দক্ষিণ আফ্রিকার জেপি ডুমিনি, নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল এবং ইংল্যান্ডের মার্ক বুচার ও নিক নাইট। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম, রমিজ রাজা, আমির সোহেল ও উরুজ মমতাজ খানের পাশাপাশি ইংরেজি ধারাভাষ্যে থাকছেন বাজিদ খান।
উর্দু ধারাভাষ্য প্যানেলে বড় চমক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন শোয়েব মালিক। খেলোয়াড় হিসেবে পিএসএলের আগের ১০ সংস্করণে অংশ নিলেও এবারই প্রথম ধারাভাষ্যকার হিসেবে মাইক্রোফোন হাতে নেবেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকছেন সাবেক অধিনায়ক সালমান বাট ও সানা মীর।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) শুরু হয়ে ৩ মে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের পিএসএল। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য পুরো টুর্নামেন্টই সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।
এক নজরে ইংরেজি ধারাভাষ্য প্যানেল:
আতাহার আলী খান, ওয়াসিম আকরাম, রমিজ রাজা, আমির সোহেল, বাজিদ খান, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, জেপি ডুমিনি, লিসা স্থালেকার, মার্টিন গাপটিল, ডমিনিক কর্ক, নিক নাইট, মার্ক বুচার, গ্রেগ ব্লিউয়েট, মাইকেল হেইসম্যান, উরুজ মমতাজ ও সিকান্দার বখত।
উর্দু ধারাভাষ্য প্যানেলঃ
আয়াজ চৌধুরী, মারিনা ইকবাল, সালমান বাট, সানা মীর, শাহ ফয়সাল, শোয়েব মালিক, তারিক সাঈদ।

সাকিব আল হাসানের ৩৯তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম। ভক্ত-সমর্থকদের মতো মুশফিকও চান, সাকিবের বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সমাপ্তিটা যেন দেশের মাটিতেই হয়।
আজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সাকিবের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে মুশফিক লিখেছেন, ‘দেশের মানুষের মতো ভাই হিসেবে আমিও চাই খেলার ইতি দেশের মাটিতে হোক। শুভ জন্মদিন, সাকিব… বাংলাদেশের সাকিব। সবসময় দোয়া থাকবে ভাই।‘
১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরায় জন্মগ্রহণ করেন সাকিব। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪ হাজারের বেশি রান ও ৭০০-এর বেশি উইকেট শিকার করা একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়াতে পারেননি সাকিব। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় ও টেস্ট ক্রিকেটে ইতি টানার ইঙ্গিত দিলেও গত বছরের ডিসেম্বরে অবসরের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
দেশের মাটিতে সিরিজ খেলে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা সাকিবের। তবে এই তারকার দেশে ফিরে বিদায়ী ম্যাচ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

যাঁকে নক্ষত্র ভাবা হতো, পরে দেখা গেল সে নিজেই এক ক্রিকেট আকাশ। সাকিব আল হাসান, মোটে তিনটে শব্দ। অথচ নিজেই দেশের ক্রিকেটকে এনে দিয়েছে সহস্র শব্দের উৎসব। আবার রাজনীতিতে জড়িয়ে যেন হারিয়েছেন অনেকটা।
পুরনো সাকিবকে চেনা যাক, একটু ভিন্নভাবে, কিংবা সেই একই গল্পে। যাঁকে বোঝা দায় কিংবা সহজেই বোঝা যায়। যে দূর আকাশের তারা কিংবা যেন পাশের বাড়ির ফয়সাল। যার কাছে ম্যাচ জেতানোর ছিল হাজারটা আবদার!
এক সাকিবের জীবনের গল্পের অভাব নেই। গল্প হলেও তো সত্যিই।
প্রায় ৭২ হাজার জনসংখ্যার দেশ ডমিনিকায় একজনের নাম সাকিব আল হাসান। ২০০৯ সালে যখন সাকিব ডমিনিকায় খেলতে গিয়েছিল, তখন এক ছেলের জন্ম দেশটায়। সেবার সাকিবের খেলা দেখে জনৈক ভদ্রলোকের এত ভালো লেগে গিয়েছিল, উনি ছেলের নাম রেখে দিয়েছেন ‘সাকিব আল হাসান’।
প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরের ডমিনিকা থেকে দুই হাজারেরও কম কিলোমিটারের কাশ্মীরে ফিরে যাই। সাকিব নিজেই পুরনো এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছিলেন, পরিচিত একজন একবার কাশ্মীর যায়৷ কাশ্মীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একজনের ঘরে ঝোলানো ছিল সাকিবের ছবি। ক্যারিয়ারের মাঝপথে এই ছবি কিংবা কথাগুলো সাকিবকে বেশ অনুপ্রাণিত করেছিল।
এক বন্ধুবর ক্রীড়া সাংবাদিকের মুখেই শোনা। কাশ্মীরে সাকিবের প্রতি আবেগটা আসলেই অন্যরকম। কাশ্মীর ট্যুরে যে গাড়িতে তিনি ঘুরছিলেন সেই গাড়ির চালক স্পোর্টস রিপোর্টার শুনেই তাঁর কাছে সাকিবের কথা জানতে চাইলেন। বহুবার সাকিবের সংবাদ সম্মেলন কাভার করা হয়েছে শুনেই তাঁর সে কি আবেগ। সঙ্গে সঙ্গে ১০ বছরের ছেলেকে ফোন। বললেন, বাবা তোমার পছন্দের ক্রিকেটার সাকিবের কাছাকাছি গিয়েছিল এমন একজন আমার গাড়িতে চড়ছে।
শুধু তিনি নন। ঘোড়সওয়ার তরুণটাতো আরও আবেগী। 'সাকিব স্যার' সম্বোধন ছাড়া বাংলাদেশের মহাতারকার নামটা একবারও শুধু সাকিব বলে উচ্চারণ করেননি।
মাগুরা থেকে পাশের কাশ্মীর কিংবা সূদুর ডমিনিকা। এক জীবনে সাকিব আর কী চাইতে পারতেন?
শুধু সাধারণ সমর্থকরা? সাকিবকে কিংবদন্তি মানেন, যাঁদের সঙ্গে খেলেন তারাও। কিংবদন্তিদের চোখেও সাকিব কিংবদন্তি। এই তো একবার বিপিএলে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজম মুগ্ধ হয়ে করেছেন সাকিব বন্দনা। একই দলে সেবার রংপুর রাইডার্সের আরেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবিও সাকিবকে মেনেছেন সেরা। জস বাটলারের মুখেও শুনেছি সাকিব বন্দনা। এমন কতো ক্রিকেটার।
এমনকি যুব দলের ক্রিকেটরাও মুগ্ধ এক সাকিবে। এইতো সদ্য ২০ না পেরোনো যুব এশিয়া কাপ জেতা দলের জিসান আলম কিংবা পেসার রোহানাত দৌলা বর্ষণ প্রথমবার বিপিএলের মঞ্চে নেমে সাকিবকে খুব কাছ থেকে দেখেও প্রকাশ করেছেন উচ্ছ্বাস।
গল্প ছিল আরো। ইয়ান স্মিথের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারটা ঠিক সেই অর্থে বড় হয়নি৷ তবে কমেন্ট্রি বক্সে মাইক্রোফোন হাতে বেশ নামই কামিয়েছেন৷ হুট করে নেলসনের ভদ্রলোককে মনে পড়ার কারণ বিশ্বকাপের একটা ম্যাচে কমেন্ট্রির জন্য।
সাকিব রান করেন, উইকেট নেন, দারুণ ফিল্ডিং করেন। ২০১৯ বিশ্বকাপে সর্বেসর্বা এই অলরাউন্ডার৷ একটা বিশ্বকাপে এভাবেও পারফরম্যান্স করা যায়, এই নতুন এক অবাক হওয়া ব্যাপারের সাথে সাকিব সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বাউন্ডারি সীমানার কাছে খুব চেষ্টা করেও সাকিব একটা বাউন্ডারি বাঁচাতে পারেননি৷ সাকিবও পারেনা, এমনও হয়! ইয়ান স্মিথ অবাক হয়ে, মাইক্রোফোন হাতে বলেছিলেন, 'সাকিব ইজ অফিসিয়ালি হিউম্যান...।'
নানান ইস্যুতে সাকিবের যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে, এই যে সাকিবকে অনেকেই বিশেষণে বিশেষায়িত করতে সুপারম্যান, সুপার হিউম্যান বলেন সত্যিই কী তাই? মাঝেমধ্যে মনে হয়, কাড়ি কাড়ি টাকা থাকার পরেও সাকিব নিঃসঙ্গ। নিজের অনেক কথাই বলতে পারেননা। বড় তারকাদের এমন হয়, বোঝা যায় না, বুঝতেও দেয় না। সাকিবের চেয়ে বড় তারা আর কে আছে এদেশের ক্রিকেটে? সাকিবকে বোঝে সেই সাধ্যি কার? ইয়ান স্মিথ না হয়, একটা বাউন্ডারি বাঁচানোর আক্ষেপ দেখে বলেছিলেন, 'সাকিব ইজ অফিসিয়ালি হিউম্যান...' সত্যিই তাই?
ক্রিকেটার সাকিব মাঠের তর্কাতীত সেরা, দেশের সেরা অ্যাথলেট বললেও ভুল হবে কী? স্বাধীন বাংলাদেশের সেরা অ্যাথলেট মানুষ হিসেবে কেমন? খুব খারাপ? প্রায়শই তো আলোচনায় তা উঠে আসে। তবে সাকিবের ভালো কাজগুলো কেন জানি, সামনে আসতেই চায় না।
বিকেএসপির কেউ অসুস্থ, চোটে পড়লে সাকিব এগিয়ে আসেন। আগেপরে অনেক ঘটনা আছে। কয়েক মাস আগের রামিমের ঘটনা। অনূর্ধ্ব ২১ হকি প্লেয়ার রামিম ওমানে খেলতে গিয়ে লিগামেন্টের চোটে পড়লে সাকিব শোনা মাত্রই এগিয়ে এসেছেন।
এর আগে চট্টগ্রামে এক সিরিজে দুই ম্যাচে তিনটি পুরস্কার পেয়েছিলেন সাকিব। তবে চট্টগ্রাম ছাড়ার আগে একটা পুরস্কারের অর্থ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীদের দিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এমনকি বিসিবিতে কর্মরত অফিস সহকারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং মাঠকর্মীদের ঈদ উপলক্ষে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন সাকিব।
কোভিডের সময়ে নানান সাহায্য করেছেন, নিজের রেকর্ডগড়া ব্যাট নিলামে তুলেছেন, ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের ঘটনা তো একেবারে সবশেষ।
গল্পের মতো কিন্তু সত্যি…
পিটার রোবাক, ভদ্রলোক স্বীকৃত ক্রিকেটে রান করেছেন প্রায় ২৫ হাজার। ক্রিকেটার-কোচ-সাংবাদিক-লেখক পরিচয়ের অভাব নেই অক্সফোর্ডের এই মানুষটার। তবে এক যুগ আগে স্মৃতি হওয়া ভদ্রলোককে মনে পড়ার কারণ শচীন টেন্ডুলকার। ক্রিকেটের প্রতিশব্দ এসআরটির জনপ্রিয়তা দেখে অবাকই হয়েছিলেন...
অবশ্য অবাক না হয়ে আর যাবেন কই? শিমলা থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন, ট্রেন থামল শচীনের জন্য। শচীন তখন ৯৮ রানে অপরাজিত। জীবন ইনিংসে ৫৫ বছরেই কেপটাউনে স্মৃতি হওয়া রোবাক লিখেছিলেন, 'সবাই অপেক্ষা করছিল শচীন সেঞ্চুরি করবে বলে... এই জিনিয়াস ভারতে সময়কেই থামাতে জানত...।'
হুট করে পিটার রোবাক-শচীন টেন্ডুলকার এসেছেন সাকিব প্রসঙ্গে। এইতো গেল বছর, চেমসফোর্ডে কমেন্ট্রি বক্সে বসা নেইল ও'ব্রায়েন যা বললেন, তা ছিল এমন... 'সাকিব অধিনায়ক ছিল আগের এক বিপিএলে। সাকিবের সঙ্গে মিরপুরে ব্যাটিং করছিলাম। ২৫ হাজার মানুষ ম্যাচটা দেখছিল। সাকিব আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই চলে গেলো...।'
ভিন্ন আরেকটা ঘটনা। জনপ্রিয় উপস্থাপক বিক্রম সাঠে, শচীন নিয়ে একটা দারুণ বই লিখেছিলেন। বইটার নামের বাংলা তর্জমা হচ্ছে, 'শচীন যেভাবে আমার জীবন ধ্বংস করেছে... কিন্তু জীবনের সব ক্রিকেটীয় পরীক্ষায় পাস করার অনুমতি দিয়ে গেল...'
সাকিব এই বাংলায় সময় থামাতে পারেনি, কাউকে জীবনের সব ক্রিকেটীয় পরীক্ষায় পাস করার অনুমতি দিয়ে যেতে পারেননি। তবে অনেকের শৈশবের, কৈশোরের ক্রিকেট আনন্দের নাম হয়েছেন বটে। বাড়িয়ে বললাম কি?
শুভ জন্মদিন সাকিব।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। আজ চার সদস্যের নতুন জাতীয় নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
৫৩ বছর বয়সী বাশার এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নারী ক্রিকেট দলের নির্বাচকও ছিলেন। দেশের ক্রিকেটের সফল এই অধিনায়ক প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে এই প্যানেলে থাকছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন। তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নেতৃত্বাধীন প্যানেলেও সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন।
প্যানেলে নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের দুই অভিজ্ঞ মুখ নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। ৩৯ বছর বয়সী নাঈম দুই দশকের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি রান করেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৪টি সেঞ্চুরি নিয়ে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক।
৩৮ বছর বয়সী নাদিফ চৌধুরীর ২০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অবসরের পর তিনি বিসিবির বয়সভিত্তিক নির্বাচক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
বিসিবি জানিয়েছে, নবনিযুক্ত এই প্যানেলের মেয়াদকাল থাকবে ছেলেদের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত।